১. উদ্দীপক
উদ্দীপক-১:
উদ্দীপক-২:
জুনাইদ এর ওজন ৭৫ কেজি এবং উচ্চতা ১.৬৫ মিটার। সে নিয়মিত চার্ট-X জাতীয় খাবার বেশি খায় কিন্তু চার্ট-Y জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলে।
উদ্দীপকে জুনাইদ এর—
ওজন = ৭৫ কেজি
এবং উচ্চতা = ১.৬৫ মিটার
$BMI = \frac{\text{দেহের ওজন (কেজি)}}{\text{দেহের উচ্চতা (মিটার)}২}$
$= \frac{৭৫}{(১.৬৫)২}$
$= ২৭.৫৪$ (প্রায়)
অতএব, জুনাইদের BMI হলো ২৭.৫৪ (প্রায়)।
উদ্দীপকে উল্লিখিত X হলো ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড এবং Y হলো ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য। ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড হচ্ছে এমন এক ধরনের খাবার যা স্বাস্থ্যগত উপাদানের পরিবর্তে মুখরোচক স্বাদের জন্য উৎপাদন করা হয়। এগুলো খেতে খুব সুস্বাদু মনে হতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই এই খাবার শরীরের জন্য ভালো নয়। ফাস্টফুডে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে। এতে বিদ্যমান অতিরিক্ত চিনি পরবর্তীতে দেহে চর্বিকলায় রূপান্তরিত হয় এবং অধিক পরিমাণে চিনি আমাদের দাঁত ও ত্বককে নষ্ট করে দেয়।
ফাস্টফুডে আমাদের জন্য দরকারি ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের অভাব রয়েছে। ফাস্টফুড খাওয়ার কারণে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের দেহ স্থূলকায় হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য মানবদেহের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের খাদ্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া চোখ, ত্বক ও রক্তের সুস্থতা বজায় রাখতেও ভিটামিন ও খনিজ উপাদান কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে জুনাইদ ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য কম গ্রহণ করে এবং ফাস্টফুড বেশি গ্রহণ করে যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এজন্য তাকে ফাস্টফুড গ্রহণ পরিহার করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
২. উদ্দীপক
সুতরাং, মাদকাসক্তির আচরণগত পরিবর্তন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই পরিবেশ ও সমাজকে সুস্থ রাখতে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লিখিত দ্বিতীয় সমস্যাটি হচ্ছে এইডস। এইডস (AIDS) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যার এখনো সম্পূর্ণ নিরাময়ের কার্যকর চিকিৎসা নেই। তাই এই রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে এইডস হয়। একবার শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। ফলে রোগী সহজেই বিভিন্ন সংক্রমণ ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই, তবে কিছু ওষুধের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি ধীর করা যায়।
এইডস প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলা। যেমন- অপরিচিত বা একাধিক যৌন সম্পর্ক পরিহার করা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা, একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার করা এবং HIV পরীক্ষা ছাড়া রক্ত গ্রহণ না করা। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করলে এই রোগের বিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অতএব বলা যায়, এইডস একটি অনিরাময়যোগ্য ও প্রাণঘাতী রোগ হওয়ায় এর প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ।
৩. উদ্দীপক
১. পরিস্রাবণ : পরিস্রাবণ হলো তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় বালির স্তরের মধ্য দিয়ে পানিকে প্রবাহিত করা হয়, এতে করে পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করে পরিস্রাবণ করা যায়।
২. ক্লোরিনেশন : ব্লিচিং পাউডার [$\mathrm{Ca(OCl)Cl}$] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মধ্যে ক্লোরিন আছে এবং যা জীবাণু ধ্বংস করতে পারে তা ব্যবহার করে পানিকে জীবাণুমুক্ত করা যায়।
৩. স্ফুটন : পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু মরে যায়। স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ধরে স্ফুটন করলে পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার পানির জন্য এটি একটি সহজ সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।
৪. পাতন : এ প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধকৃত পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
অতএব, উক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে আমরা পানি বিশুদ্ধ করে পান করতে পারি।
প্রথমত, জলাভূমি (নদী, খাল, বিল, পুকুর ইত্যাদি) রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এগুলো ভরাট বা দূষিত করা উচিত নয়, কারণ জলাভূমি পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করা উচিত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করলে পানির অপচয় কমে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় থাকে।
তৃতীয়ত, শিল্পকারখানা দ্বারা পানির দূষণ প্রতিরোধ করতে হবে। কারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ পরিশোধন ছাড়া পানিতে ফেলা যাবে না এবং এ বিষয়ে সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ জরুরি।
চতুর্থত, কৃষিজমি থেকে মাটির ক্ষয়জনিত দূষণ প্রতিরোধ করা দরকার। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার কমাতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানির সাথে মিশে জলাশয় দূষিত না হয়।
পঞ্চমত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
সুতরাং, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পানি দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে এবং জীবন রক্ষাকারী পানিসম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।
৪. উদ্দীপক
সাধারণ ক্ষেত্রে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহনকারী নালিকা হলো ধমনি। ধমনির কাজ নিম্নরূপ—
১. হৃৎপিণ্ড থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত পরিবহন করা।
২. অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ করা।
৩. রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করা।
৪. রক্ত প্রবাহকে ধারাবাহিক রাখা।
মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে প্রধানত ABO ও Rh ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। O- রক্তে A, B এবং Rh কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না। ফলে এই রক্ত অন্য যেকোনো রক্তের গ্রুপের মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধা বা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিক্রিয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এ কারণেই জরুরি অবস্থায় O- গ্রুপের রক্ত A, B, AB ও O সব ধরনের গ্রুপের মানুষকে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দুর্ঘটনা বা অপারেশনের সময় রোগীর রক্তের গ্রুপ দ্রুত জানা না গেলে O- রক্ত ব্যবহার করা হয়। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে O- গ্রুপধারী ব্যক্তিকে “সর্বজনীন দাতা” বলা হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসায় নিরাপত্তার জন্য সম্ভব হলে একই গ্রুপের রক্তই দেওয়া উত্তম।
৫. উদ্দীপক
উদ্দীপক-১ : 'Q' উপাদানটি হলো রক্তের তরল অংশ, যার ভর প্রায় রক্তের ৫৫%। এতে ৯০% পানি এবং অবশিষ্ট অংশে প্রোটিন, খনিজ লবণ ও অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান-অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য নাইট্রোজেন থাকে।
উদ্দীপক-২ : 'H' অঙ্গটি রক্ত পরিবহনে পাম্পের মতো কাজ করে। এটি ফুসফুস ও টিস্যু কোষের মধ্যে যথাক্রমে অক্সিজেনবিহীন ও অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবহন করে।
Q উপাদানটি হচ্ছে রক্তরস। রক্তের মাধ্যমে পুষ্টি, গ্যাস ও অন্যান্য উপাদান পরিবহনে রক্তরস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো—
১. রক্তকণিকাসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহন করে।
৩. শ্বসনের ফলে কোষে সৃষ্ট $\mathrm{CO_2}$ কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহন করে।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহন করে।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করে।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'H' অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্যে পর্যাপ্ত শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও কম চর্বি থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তনালিতে চর্বি জমে না। ফলে হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে। এছাড়া উদ্ভিজ্জ তেল, সামুদ্রিক মাছের তেল প্রভৃতি কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা হ্রাস করে।
নিয়মিত ব্যায়াম হৃদপেশিকে শক্তিশালী করে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতা কমাতে সাহায্য করে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া ধূমপান, মাদক ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার পরিহার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো স্বাস্থ্যকর জীবনধারা হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
অতএব, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে এবং দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
৬. উদ্দীপক
(i) $\mathrm{X} + \mathrm{H_2O} \rightarrow \mathrm{Y} + \mathrm{H_2CO_3}$
(ii)
$\mathrm{Na_2CO_3} + 2\mathrm{H_2O} \rightarrow 2\mathrm{NaOH} + \mathrm{H_2CO_3}$
(X) (Y)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বিক্রিয়াটিতে X ও Y হলো যথাক্রমে $\mathrm{Na_2CO_3}$ এবং $\mathrm{NaOH}$। $\mathrm{Na_2CO_3}$ এর জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় এবং সেটি লাল লিটমাসকে নীল করে। এর কারণ হলো, সোডিয়াম কার্বোনেট পানিতে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($\mathrm{NaOH}$) ও কার্বোনিক এসিড ($\mathrm{H_2CO_3}$) তৈরি করে। এখানে উৎপন্ন $\mathrm{NaOH}$ তীব্র ক্ষার হওয়ায় তা জলীয় দ্রবণে পুরোপুরি আয়নিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে $\mathrm{OH}^-$ মুক্ত করে। অন্যদিকে $\mathrm{H_2CO_3}$ অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তা খুব কম পরিমাণে আয়নিত হয়। ফলে $\mathrm{H^+}$ এর তুলনায় $\mathrm{OH}^-$ আয়নের আধিক্য ঘটে, যা দ্রবণের ক্ষারীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
সমীকরণ: $\mathrm{HCl} + \mathrm{NaOH} \rightarrow \mathrm{NaCl} + \mathrm{H_2O}$
এসিড ক্ষার লবণ পানি
এখানে, দেখা যাচ্ছে, $\mathrm{HCl}$ একটি এসিড,
$\mathrm{NaOH}$ একটি ক্ষার,
$\mathrm{NaCl}$ একটি লবণ এবং $\mathrm{H_2O}$ হচ্ছে পানি।
সুতরাং বলা যায় প্রদত্ত বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার পরস্পরকে প্রশমিত করায় উৎপন্ন দ্রবণের pH প্রায় 7 হয়। তাই R এর প্রকৃতি নিরপেক্ষ হবে।
৭. উদ্দীপক
উদ্দীপক-১: নিহান টেবিলের উপর একটি খেলনা গাড়ি চালাচ্ছে। গাড়িটি প্রথমে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করে থেমে যায়। পরবর্তীতে টেবিলের উপরে তেল লাগানোর পর গাড়িটি চালালে তা আগের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।
উদ্দীপক-২: ৫০ কেজি ও ৪০ কেজি ভরের দুটি বস্তুর উপর আলাদাভাবে ২০০ নিউটন বল প্রয়োগ করা হলো।
সুতরাং, উদ্দীপকে-১ এ উল্লিখিত ঘটনাটি ঘর্ষণ বলের প্রভাবের একটি বাস্তব উদাহরণ।
উদ্দীপক-২ এ ৫০ কেজি ও ৪০ কেজি ভরের দুটি বস্তুর উপর সমানভাবে ২০০ নিউটন বল প্রয়োগ করা হয়েছে। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, $\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
অর্থাৎ, ত্বরণ, $\mathrm{a} = \frac{\mathrm{F}}{\mathrm{m}}$
এখানে বল স্থির থাকলে ত্বরণ ভরের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ যে বস্তুর ভর কম হবে, তার ত্বরণ বেশি হবে এবং যে বস্তুর ভর বেশি হবে, তার ত্বরণ কম হবে।
৫০ কেজি ভরের বস্তুর ত্বরণ,
এবং ৪০ কেজি ভরের বস্তুর ত্বরণ,
অতএব, ৪০ কেজি ভরের বস্তুটি বেশি ত্বরণ লাভ করবে এবং দ্রুত গতিশীল হবে, আর ৫০ কেজি ভরের বস্তুটি কম ত্বরণ লাভ করবে এবং কম গতিশীল হবে। তাই বলটি দুটি বস্তুর গতির উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলবে।
৮. উদ্দীপক
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী
প্রতিটি বাল্বের ক্ষমতা ৬০ ওয়াট
এবং প্রতিটি ফ্যানের ক্ষমতা = ৭০ ওয়াট
$\therefore$ ৩টি বাল্ব ও ২টি ফ্যানের মোট ক্ষমতা = $(৬০ \times ৩ + ৭০ \times ২)$ ওয়াট
= $(১৮০ + ১৪০)$ ওয়াট
= ৩২০ ওয়াট
আমরা জানি, জুলাই মাস = ৩১ দিন
$\therefore$ মোট সময় = $(৭ \times ৩১)$ ঘণ্টা
সুতরাং ব্যয়িত বিদ্যুৎ শক্তি = $\frac{\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= $\frac{৩২০ \times ৭ \times ৩১}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= ৬৯.৪৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= ৬৯.৪৪ ইউনিট
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা
$\therefore$ ৬৯.৪৪ ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য = $(৬৯.৪৪ \times ১০)$ টাকা = ৬৯৪.৪ টাকা
অতএব, উল্লিখিত বাড়িতে জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল হবে ৬৯৪.৪ টাকা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যন্ত্রগুলো হলো ৩টি বাল্ব এবং ২টি ফ্যান। এ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে নাঈমের বাড়ির জন্য উপযোগী বর্তনীর চিত্র অর্থাৎ, সমান্তরাল বর্তনীর চিত্র অঙ্কনপূর্বক এর উপযোগিতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—
সমান্তরাল বর্তনীটির তড়িৎ উপকরণগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি উপকরণের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি তড়িৎ উপকরণ ফিউজ হলেও অন্য তড়িৎ উপকরণগুলো চলবে। প্রতিটি তড়িৎ উপকরণই পৃথক পৃথকভাবে চালানো সম্ভব হবে। প্রতিটি উপকরণের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি তড়িৎ উপকরণই তড়িৎ কোষের পূর্ণ তড়িচ্চালক শক্তি পায়। ফলে বর্তনীর পাঁচটি তড়িৎ উপকরণই সমান তড়িৎশক্তি পাবে।