১. উদ্দীপক
পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ক্লোরিনজাত পদার্থ ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ক্লোরিনেশন বলা হয়। এই পদ্ধতিতে পানিতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস করে পানি নিরাপদ করা হয়। সাধারণত ক্লোরিন গ্যাস ($\mathrm{Cl}_2$), ব্লিচিং পাউডার [$\mathrm{Ca(OCl)Cl}$] এবং আরও কিছু ক্লোরিনজাত পদার্থ যা জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা সেটি হলো মূলত সোডিয়াম হাইপো-ক্লোরাইট ($\mathrm{NaOCl}$)। ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন ($\mathrm{O}_2$) গ্যাস অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস করা যায়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই পানিকে জীবাণুমুক্ত করা যায়।
উদ্ভিদের উপর প্রভাব : তেল, গ্রিজ বা বালি মিশে পানি ঘোলা হয়ে পড়লে সূর্যালোক পানির নিচে থাকা উদ্ভিদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। এতে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ও খাদ্য তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়, যা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। পানির pH মান খুব কমে গেলে বা এসিডিক হয়ে পড়লে মাটির অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান (যেমন- ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম) ধুয়ে যায়, ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বা অন্য কোনো কারণে পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়লে আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং বেশিরভাগ ফসল মরে যায়। এসিড বৃষ্টির ফলে বনের অনেক গাছপালা এবং এসিড-সংবেদনশীল উদ্ভিদ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যায়।
প্রাণীর উপর প্রভাব : দূষিত পানিতে থাকা রোগজীবাণু থেকে টাইফয়েড, কলেরা, আমাশয় এবং জন্ডিসের মতো পানিবাহিত মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। এই পানি পান করলে বা এতে গোসল করলে জীবাণু সহজে প্রাণিদেহে সংক্রমিত হয়। পানিতে থাকা জৈব বর্জ্য (যেমন- গোবর, পচা গাছপালা) পচনের সময় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহার করে। এর ফলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী শ্বাসকষ্টে মারা যায়। পানিতে ডিটারজেন্ট বা সার থেকে আসা ফসফেট ও নাইট্রোজেন বেড়ে গেলে প্রচুর শ্যাওলা জন্মে। এই শ্যাওলা মরে পচে যাওয়ার সময় পানি থেকে অক্সিজেন শোষণ করে নেয়, ফলে জলাশয়টি প্রাণিশূন্য হয়ে পড়ে। কলকারখানার বর্জ্য থেকে আসা পারদ, সিসা ও আর্সেনিক মাছের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের দেহে প্রবেশ করে। এতে মস্তিষ্ক বিকল হওয়া, রক্তশূন্যতা, কিডনি নষ্ট হওয়া এমনকি ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগ হতে পারে। পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে তা জলজ প্রাণী ও মানুষের দেহে ক্যান্সার এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং, 'P' যৌগ বা পানির দূষণ একদিকে যেমন প্রাণিকুলকে বিভিন্ন মরণব্যাধি ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত করে সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।
২. উদ্দীপক
উদ্দীপকের এ উপাদানটি রক্তরস। রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে। রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% বিভিন্ন রকমের জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। নিচে রক্তরসের কাজ ব্যাখ্যা করা হলো—
১. রক্তকণিকাসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহন করে।
৩. শ্বসনের ফলে কোষে সৃষ্ট $\mathrm{CO}_2$ কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহন করে।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহন করে।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করে।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রের B উপাদানটি রক্তকণিকা বা রক্তকোষ। মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তকোষ রয়েছে। এগুলো হলো- লোহিত রক্তকোষ, শ্বেত রক্তকোষ এবং অণুচক্রিকা। এসব রক্তকোষ মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করে। যেমন—
১. লোহিত রক্তকোষ দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
২. লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করে।
৩. শ্বেত রক্তকোষ ফ্যাগোসাইটোসিস জীবাণু ধ্বংস করে এবং রক্তবাহিকায় রক্তের জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
৪. শরীরের কোনো ক্ষতস্থান হতে রক্তক্ষরণ হলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে, রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।
রক্তকোষসমূহের উপর্যুক্ত কর্মকাণ্ডগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের ফলেই মানবদেহ সুস্থ থাকে। কিন্তু এসব রক্তকোষের যেকোনোটির অনুপস্থিতিতেই মানবদেহ অসুস্থ হয়ে পড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে দেহের অনেক কার্যক্রম। কাজেই "মানবদেহের সুস্থতার জন্য রক্তকণিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”- উক্তিটি যথার্থ।
৩. উদ্দীপক
পাকস্থলীর এসিডিটি নিরাময়ে: পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বদহজম বা পেটে ব্যথা হয়। এ সময় আমরা ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড সমৃদ্ধ এন্টাসিড ওষুধ সেবন করি, যা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়তি এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে আমাদের সুস্থ করে তোলে।
কৃষিক্ষেত্রে মাটির উর্বরতা রক্ষায়: মাটির এসিডিটি বা অম্লত্ব বেড়ে গেলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। এই অম্লত্ব দূর করার জন্য মাটিতে চুন ($\mathrm{CaO}$) বা স্ন্যাকড প্রয়োগ করা হয়, যা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মাটিকে চাষোপযোগী করে তোলে।
দাঁতের সুরক্ষায়: আমরা যখন খাবার খাই, তখন মুখে এসিড তৈরি হয় যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। ক্ষারীয় টুথপেস্ট (যার pH সাধারণত ৯ – ১১) দিয়ে ব্রাশ করলে এটি মুখের এসিডকে প্রশমিত করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
পোকামাকড়ের বিষ নিরাময়ে: মৌমাছি বা বিচ্ছুর কামড়ের মাধ্যমে শরীরে এসিডিক পদার্থ প্রবেশ করে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে। এসব এসিডিক পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করতে চুন বা বেকিং সোডার মতো ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে জ্বালা নিরাময় হয়।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি হলো-
সুতরাং বিক্রিয়াটিতে X চিহ্নিত যৌগটি হলো একটি লবণ। আমাদের জীবনে লবণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিভিন্ন ক্ষেত্রে লবণের ব্যবহার উপযোগিতা বিশ্লেষণ করা হলো-
দৈনন্দিন জীবনে : দৈনন্দিন জীবনে লবণের ব্যবহার ব্যাপক। আমাদের খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে লবণ। এটি হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড ($\mathrm{NaCl}$) লবণ যা সাধারণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। এটি পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতেও ব্যবহৃত হয়। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয়, যা টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত।
কৃষিক্ষেত্রে : মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমরা যে চুনাপাথর ব্যবহার করি তা একটি লবণ। আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করি তাদের বেশির ভাগই লবণ। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{NH}_4\mathrm{NO}_3$), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [$(\mathrm{NH}_4)_3\mathrm{PO}_4$], পটাসিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{KNO}_3$) ইত্যাদি। কপার সালফেট ($\mathrm{CuSO}_4. 5\mathrm{H}_2\mathrm{O}$) কৃষি জমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী।
শিল্প-কারখানায় : শিল্প-কারখানায় নানা কাজে লবণ অপরিহার্য। যেমন- চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে এবং ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ প্রয়োজন। রাবার প্রস্তুতিতে রাবারকে ল্যাটেক্স থেকে আলাদা করা হয় লবণ ব্যবহার করে। ওষুধ কারখানায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহার হয়।
৪. উদ্দীপক
তথ্য-২ : চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করায় যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
তথ্য-৩ : সুমনের কিক করা ফুটবল সামনের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এলো।
উদ্দীপকের তথ্য-১ হতে প্রাপ্ত তথ্য;
আদিবেগ, $\mathrm{u} = ০.৫ \mathrm{~মি/সে.}$
শেষবেগ, $\mathrm{v} = ৫ \mathrm{~মি/সে.}$
সময়, $\mathrm{t} = ৫ \mathrm{~সেকেন্ড}$।
আমরা জানি, ত্বরণ, $\mathrm{a} = \frac{\text{শেষবেগ} - \text{আদিবেগ}}{\text{সময়}}$
অর্থাৎ, $\mathrm{a} = \frac{\mathrm{v}-\mathrm{u}}{\mathrm{t}}$
ত্বরণ, $\mathrm{a} = \frac{৫-০.৫}{৫} = \frac{৪.৫}{৫} = ০.৯ \mathrm{~মি/সে}^২$
সুতরাং, তথ্য-১ হতে শিপনের ত্বরণ ০.৯ $\mathrm{মি/সে}^২$।
তথ্য-২ এর বিশ্লেষণ: তথ্য-২ এ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করায় যাত্রীদের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া মূলত পদার্থের গতি জড়তাকে নির্দেশ করে, যা নিউটনের গতির প্রথম সূত্রের একটি বাস্তব উদাহরণ। নিউটনের প্রথম সূত্রানুসারে, গতিশীল বস্তু সর্বদা সুষম দ্রুতিতে সরলপথে গতিশীল থাকতে চায়। বাসটি যখন গতিশীল ছিল, তখন যাত্রীদের শরীরও বাসের সাথে গতিশীল ছিল। বাসটি হঠাৎ ব্রেক করার ফলে শরীরের নিচের অংশ স্থির হয়ে গেলেও উপরের অংশ গতি জড়তার কারণে আগের গতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং সামনে এগিয়ে যেতে চায়। এই কারণেই যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তথ্য-৩ এর বিশ্লেষণ: তথ্য-৩ এ সুমনের কিক করা ফুটবল দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসা নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রকে সমর্থন করে। এই সূত্রানুসারে, "প্রত্যেক ক্রিয়া বলেরই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বল আছে"। এখানে ফুটবলটি যখন দেয়ালে আঘাত করে তখন সেটি দেয়ালের ওপর একটি 'ক্রিয়া' বল প্রয়োগ করে। বিনিময়ে দেয়ালটিও ফুটবলের ওপর সমান ও বিপরীতমুখী একটি 'প্রতিক্রিয়া' বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলের কারণেই ফুটবলটি সুমনের দিকে ফিরে আসে।
সুতরাং বলা যায় যে, তথ্য-২ জড়তার ধারণা প্রদানের মাধ্যমে নিউটনের প্রথম সূত্রকে এবং তথ্য-৩ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বলের মাধ্যমে নিউটনের তৃতীয় সূত্রকে সমর্থন করে।
৫. উদ্দীপক
Q চিত্রের M ও N বাল্ব দুটির মোট ক্ষমতা
$\mathrm{P} = (১০০ + ৬০) \mathrm{~W} = ১৬০ \mathrm{~W}$
আমরা জানি, ১ মাস = ৩০ দিন
$\therefore$ মোট সময়, $\mathrm{t} = (৩০ \times ৬)$ ঘণ্টা
$\therefore$ ব্যয়িত শক্তি = $\frac{(\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়})}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= $\frac{\mathrm{P} \times \mathrm{t}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= $\frac{১৬০ \times ৩০ \times ৬}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= ২৮.৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= ২৮.৮ ইউনিট
$\therefore$ Q চিত্রের বাল্ব দুটি দৈনিক ৬ ঘণ্টা ব্যবহৃত হলে মাসে ২৮.৮ ইউনিট বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয়িত হবে।
আমরা জানি, সিরিজ সংযোগে একই বিদ্যুৎপ্রবাহ সবগুলো বাল্বের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বাল্ব বিদ্যুৎপ্রবাহে যতটুকু বাধা দেয়, পরবর্তী বাল্ব তার চেয়ে বেশি বাধা দেয়। তাই একটি বাল্ব যত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে পরবর্তী বাল্ব তার চেয়ে কম উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। চিত্র-P এর সিরিজ বর্তনীর দুটি বাল্ব এর একটি বাল্ব ফিউজ হয়ে গেলে সমস্ত বর্তনীর মধ্যদিয়েই বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপর বাল্বটি জ্বলে না। আবার সুইচ অন করলে একই সাথে দুটি বাল্ব জ্বলে ওঠে। সুইচ অফ করলে একই সাথে দুটি বাল্ব নিভে যাবে। বাল্ব দুটিকে পৃথকভাবে জ্বালানো বা নিভানো যায় না।
অপরদিকে, চিত্র-Q এর সমান্তরাল বর্তনীটির বাল্বগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি বাল্বের মধ্যদিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি বাল্ব ফিউজ হলেও অন্য বাল্বটি জ্বলে। প্রতিটি বাল্বই পৃথক পৃথকভাবে জ্বালানো ও নেভানো যায়। প্রতিটি বাল্বের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি বাল্বই বিদ্যুৎ কোষের পূর্ণ বিদ্যুৎ চালকশক্তি পায়। ফলে বর্তনীর দুটি বাল্বই সমান উজ্জ্বলভাবে জ্বলে।
উপরের আলোচনা হতে স্পষ্ট যে, P ও Q এর মধ্যে চিত্র-Q এর সমান্তরাল বর্তনীটি গৃহে বিদ্যুতায়নের জন্য বেশি সুবিধাজনক।
৬. উদ্দীপক
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। নিচে এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক রকম পাম্প যন্ত্রবিশেষ। মানুষের হৃৎপিণ্ডটি বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার উপরে অবস্থিত। হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি উপরের দিকে এবং সুচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা বেষ্টিত থাকে।
উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে যা হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। মানুষের হৃৎপিণ্ডটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয় বলে। অলিন্দ দুটি আন্তঃঅলিন্দ পর্দা দিয়ে এবং নিলয় দুটি আন্তঃনিলয় পর্দা দিয়ে পৃথক থাকে। অলিন্দের প্রাচীর পাতলা। নিলয়ের প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল। ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি ফুসফুসীয় শিরা যুক্ত থাকে। ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপন্ন হয়।
হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন বা প্রবাহ মূলত চারটি ধাপের সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যাকে কার্ডিয়াক চক্র বলা হয়। ধাপগুলো হলো-
অলিন্দের ডায়াস্টোল : এই ধাপে হৃৎপিণ্ডের অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। ফলে সারা শরীরের কার্বন ডাই-অক্সাইড ($\mathrm{CO}_2$) যুক্ত রক্ত ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। একই সময়ে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন ($\mathrm{O}_2$) সমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।
অলিন্দের সিস্টোল : অলিন্দ দুটি রক্তপূর্ণ হলে এগুলো সংকুচিত হয়। এতে ডান অলিন্দ থেকে $\mathrm{CO}_2$ যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ থেকে $\mathrm{O}_2$ সমৃদ্ধ রক্ত বাম নিলয়ে স্থানান্তরিত হয়।
নিলয়ের সিস্টোল : নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ হওয়ার পর সংকুচিত হয়। এই সময়ে ডান নিলয় থেকে $\mathrm{CO}_2$ যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে যায় এবং বাম নিলয় থেকে $\mathrm{O}_2$ সমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। নিলয়ের এই সিস্টোল বা সংকোচনের সময় কপাটিকাগুলো বন্ধ হওয়ার ফলে হৃৎপিণ্ডে 'লাব' শব্দের সৃষ্টি হয়।
নিলয়ের ডায়াস্টোল : নিলয়ের সংকোচনের পরপরই এটি প্রসারিত হয় এবং পুনরায় অলিন্দ থেকে রক্ত এসে নিলয় পূর্ণ হতে থাকে। এই সময়ে সেমিলুনার ভালভ বন্ধ হওয়ার সময় হৃৎপিণ্ডে দ্বিতীয় শব্দের সৃষ্টি হয়, যাকে 'ডাব' বলে।
সুতরাং, হৃৎপিণ্ড একটি স্বয়ংক্রিয় পাম্পের মতো ছন্দের তালে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীর থেকে দূষিত রক্ত সংগ্রহ করে ফুসফুসে পাঠায় এবং ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত সারা দেহে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহের নিরবচ্ছিন্ন গতিপথ নিশ্চিত করে।
৭. উদ্দীপক
অর্থাৎ $\mathrm{pH} = – \log [\mathrm{H}^+]$
শ্বাসকার্য পরিচালনা: মাছের মতো জলজ প্রাণীরা তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে তারা ফুলকার সাহায্যে এই অক্সিজেন নিয়ে শ্বাসকার্য চালায়। মাছের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
শারীরিক গঠন: মাছের শরীরের শতকরা ৬০ থেকে ৯০ ভাগই হলো পানি। তাই মাছের দেহের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ সচল রাখতে পানি অত্যাবশ্যক।
pH-এর ভারসাম্য রক্ষা : মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানির pH মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পানির pH ৬ থেকে ৮-এর মধ্যে থাকলে তা মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য উপযোগী হয়। pH-এর মান ৫-এর কম হলে মাছের ডিম নষ্ট হয়ে যায় এবং চরম অবস্থায় মাছ মারা যেতে পারে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, যা মাছের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। স্থিতিশীল তাপমাত্রা মাছের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ : পানি মাছের জন্য পুষ্টি উপাদান ও খাদ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে। পানির স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঠিক থাকে, যা মাছের জন্য অক্সিজেন ও খাদ্য নিশ্চিত করে।
সুতরাং, শ্বাসকার্য থেকে শুরু করে দৈহিক বৃদ্ধি এবং বংশবিস্তার পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিত্র 'B' বা মাছের টিকে থাকা সম্পূর্ণরূপে পানির গুণাগুণ ও উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
অক্সিজেন সরবরাহ : মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন অপরিহার্য। জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরির সময় পানিতে অক্সিজেন ত্যাগ করে। মাছ এই অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায়। যদি পানিতে পর্যাপ্ত জলজ উদ্ভিদ না থাকে, তবে অক্সিজেনের অভাবে মাছ মারা যেতে পারে।
খাদ্যের উৎস : অনেক মাছ সরাসরি জলজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। আবার ছোটো ছোটো জলজ কীটপতঙ্গ এবং অণুজীব এই উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, যা পরোক্ষভাবে মাছের প্রধান খাদ্য হিসেবে কাজ করে।
আশ্রয় ও প্রজনন কেন্দ্র : জলজ উদ্ভিদ মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। মাছ শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এসব উদ্ভিদের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। এছাড়া অনেক মাছ জলজ উদ্ভিদের গায়ে বা ঝোপের মধ্যে তাদের ডিম পাড়ে এবং পোনা মাছগুলো সেখানে নিরাপদে বেড়ে ওঠে।
পানির ভারসাম্য রক্ষা : জলজ উদ্ভিদ পানি থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান (যেমন-- অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ও ফসফেট) শোষণ করে পানির গুণাগুণ রক্ষা করে। এটি পানির pH মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে, যা মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
পরিবেশের ভারসাম্য : জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে এক নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও খাদ্য সরবরাহ করে জলজ পরিবেশের বাস্তুসংস্থান সচল রাখে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মাছের শ্বাসকার্য, পুষ্টি এবং বংশবিস্তারের প্রতিটি ধাপেই চিত্র 'A' বা জলজ উদ্ভিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রয়েছে। তাই চিত্র 'B' বা মাছের টিকে থাকার জন্য 'A' চিত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৮. উদ্দীপক
উদ্দীপক হতে প্রাপ্ত তথ্য,
শিমুলের ওজন = $৭০$ কেজি।
শিমুলের উচ্চতা = $১৬৫$ সে.মি. = $১.৬৫$ মিটার।
আমরা জানি, বিএমআই (BMI) = $=\frac{\text { দেহের ওজন (কেজি) }}{[\text { দেহের উচ্চতা (মিটার)] }}$
শিমুলের BMI = $\frac{৭০}{(১.৬৫)^২} = \frac{৭০}{২.৭২২৫} = ২৫.৭১$
উদ্দীপক অনুসারে শিমুলের সমস্যা দুটি হলো- দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এবং রাতে দেখতে না পাওয়া বা রাতকানা রোগ। এই সমস্যা দুটির জন্য দায়ী ভিটামিন দুটি হলো যথাক্রমে ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-এ। নিচে শিমুলের সমস্যা নিরসনে এই ভিটামিন দুটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
ভিটামিন-এ এর গুরুত্ব :
দৃষ্টিশক্তি রক্ষা : ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। শিমুল যেহেতু রাতে দেখতে পায় না, তাই তার শরীরে এই ভিটামিনের অভাব স্পষ্ট।
শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধি : এটি দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করে।
ত্বক ও কলার সুরক্ষা : দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক এবং চোখের কর্নিয়াকে সজীব ও স্বাভাবিক রাখতে এটি অপরিহার্য।
রোগ প্রতিরোধ : শরীরে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন-সি এর গুরুত্ব :
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা : ভিটামিন-সি দাঁত ও মাড়ি শক্ত রাখে এবং মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া বা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে। শিমুলের দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার মূল কারণ হলো তার শরীরে ভিটামিন-সি এর অভাব।
কোষীয় গঠন ও ক্ষত নিরাময় : এটি ত্বক, হাড় ও দাঁতের কোষসমূহকে পরস্পরের সাথে জোড়া লাগিয়ে শরীরে মজবুত গাঁথুনি তৈরি করে এবং শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
বিপাকীয় কাজ : শরীরে স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকীয় কাজে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্ন : এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে।
উদ্দীপকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিমুল আপাতদৃষ্টিতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মনে হলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাবে সে শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। তাই তার রাতকানা রোগ দূর করতে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- কলিজা, মাছের তেল, গাজর, পাকা পেঁপে) এবং মাড়ির সমস্যা দূর করতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল (যেমন- লেবু, আমলকী, আমড়া) গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।