১. উদ্দীপক
ভিন্ন ভিন্ন বয়সে শরীরের গঠন, বৃদ্ধির হার এবং পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়; যেমন- বাড়ন্ত শিশুদের হাড় ও পেশির বৃদ্ধির জন্য বেশি প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। আবার, মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কমে যায়, তাই বৃদ্ধ বয়সে কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু সহজে হজম হয় এমন খাদ্যের প্রয়োজন পড়ে।
এছাড়াও লিঙ্গভেদে পুরুষ ও নারীর শরীরের গঠন ও হরমোনজনিত কারণে শক্তির চাহিদা আলাদা হয়। যেমন- একজন পূর্ণবয়স্ক কর্মশীল পুরুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ কিলোক্যালরি এবং নারীর ২০০০ কিলোক্যালরি শক্তি প্রয়োজন। অনেক সময় নারীদের বিশেষ শারীরিক অবস্থার (যেমন- গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকাল) কারণে সাধারণ সময়ের চেয়ে রক্ত উৎপাদনকারী উপাদান, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের বাড়তি চাহিদা থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত, সাদ্দামের বোনের রাতের বেলায় দেখতে অসুবিধা হয়। অর্থাৎ, সে রাতকানা রোগে ভুগছে। সাধারণত ভিটামিন 'A'-এর অভাবে মানুষের জেরোফথ্যালমিয়া বা রাতকানা রোগ হয়। শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ার আলসার হতে পারে। ভিটামিন 'A'-এর প্রধান কাজগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে।
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
৫. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
উদ্দীপক অনুযায়ী, সাদ্দাম উগ্র জীবনযাপন ও হতাশায় ভুগে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েছে অর্থাৎ সে মাদকাসক্ত। অন্যদিকে, তার বন্ধু সাদিদ বিদেশ থেকে ফেরার পর দেখা যাচ্ছে তার দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের গোলযোগে ভুগছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই লক্ষণগুলো মরণব্যাধি এইডস (AIDS) রোগের নির্দেশ করে। সাদ্দামের সমস্যা (মাদকাসক্তি) এবং সাদিদের সমস্যা (এইডস)-এর মধ্যে সাদ্দামের মাদকাসক্তির সমস্যাটি নিরাময়যোগ্য। নিচে কারণসহ যুক্তি দেওয়া হলো:
১. সাদ্দামের সমস্যা (মাদকাসক্তি) নিরাময়ের কারণ: মাদকাসক্তি কোনো জন্মগত বা চিরস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি সাময়িক মানসিক ও আচরণগত ব্যাধি। সঠিক পদক্ষেপ নিলে এটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। মাদকাসক্তি থেকে নিরাময় পদ্ধতিগুলো হলো:
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে হঠাৎ করে মাদক দেওয়া বন্ধ না করে ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে আনতে হয়। মাদক নিরাময় হাসপাতাল বা কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে সহানুভূতি ও ধৈর্যের সাথে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মাদকাসক্তি কমানো সম্ভব। মানসিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা: মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে মাদকসেবীদের কাছ থেকে দূরে রেখে তার মানসিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন, যেন সে মাদকের কথা ভুলে থাকতে পারে। তাকে সৃজনশীল বা গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখলে এই সমস্যা দূর হয়।
২. সাদিদের সমস্যা (এইডস) নিরাময় অযোগ্য হওয়ার কারণ : সাদিদ মরণব্যাধি এইডস (AIDS)-এ আক্রান্ত, যা HIV ভাইরাসের কারণে ঘটে। সাদিদের এই রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। এর কারণসমূহ হলো:
স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস: HIV ভাইরাস মানবদেহের রক্তস্রোতের শ্বেত রক্তকণিকার T-লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং যেকোনো সাধারণ রোগে আক্রান্ত হয়েও রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
নির্দিষ্ট ওষুধের অভাব: চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত এইডস রোগ পুরোপুরি নিরাময় করার মতো কোনো কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। কিছু ওষুধের মাধ্যমে রোগটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলেও রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ বা মরণব্যাধি থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয় না।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, এইডস রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকায় সাদিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু সাদ্দামকে সঠিক চিকিৎসা, পারিবারিক যত্ন, সামাজিক সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই সাদ্দাম ও সাদিদের সমস্যার মধ্যে সাদ্দামের সমস্যাটিই নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
২. উদ্দীপক
উদ্দীপকের উল্লিখিত যে উপাদানটি জীবাণুমুক্ত করা হবে সেটি হলো পানি। নিচে পানির বৈশিষ্ট্য লেখা হলো-
১. পানির গলনাঙ্ক হলো $0^{\circ} \mathrm{C}$, অর্থাৎ এই তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয়। আবার সাধারণ বায়ুচাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক প্রায় $100^{\circ} \mathrm{C}$, অর্থাৎ এই তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
২. পানি একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন পদার্থ। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। $4^{\circ} \mathrm{C}$ তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক, যা $1 \mathrm{~g/cm}^3$ বা $1000 \mathrm{~kg/m}^3$। অর্থাৎ ১ সিসি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘনমিটার পানির ভর ১০০০ কেজি।
৩. বিশুদ্ধ পানি সাধারণত তড়িৎ পরিবাহী নয়, কিন্তু এতে যদি লবণ বা এসিডের মতো পদার্থ দ্রবীভূত থাকে, তাহলে এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
৪. পানির একটি বিশেষ ধর্ম হলো এটি অনেক অজৈব ও জৈব পদার্থ দ্রবীভূত করতে পারে, এজন্য একে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
৫. পানি একটি উভধর্মী পদার্থ, অর্থাৎ এটি কখনো এসিড আবার কখনো ক্ষার হিসেবে কাজ করতে পারে। সাধারণভাবে পানির pH মান ৭, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ।
৬. পানি দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু আর একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত।
বিশাল পরিসরে উপযোগিতা: বোতলজাত পানির কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার পানি একসাথে বিশুদ্ধ করতে হয়। এত বিপুল পরিমাণ পানি ফুটিয়ে (স্ফুটন) জীবাণুমুক্ত করা অবাস্তব এবং কারখানার জন্য মোটেও লাভজনক নয়। কিন্তু ক্লোরিনেশন পদ্ধতিতে বড়ো বড়ো ট্যাংকে ব্লিচিং পাউডার [$\mathrm{Ca(OCl)Cl}$] বা সোডিয়াম হাইপো-ক্লোরাইট ($\mathrm{NaOCl}$) মিশিয়ে খুব সহজেই একসাথে অনেক পানি জীবাণুমুক্ত করা যায়।
দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: পানি ফুটানোর পর তা ঠাণ্ডা করার সময় বা বোতলে ভরে দীর্ঘদিন দোকানে রেখে দিলে তাতে পুনরায় রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু ক্লোরিনেশনের একটি বড়ো সুবিধা হলো, পানিতে ক্লোরিনের কার্যকারিতা বেশ কিছুদিন থেকে যায়। ফলে বোতলজাত করার পরও পানি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ থাকে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়: হাজার হাজার লিটার পানি স্ফুটন বা ফুটানো শুরু করার পর আরও ১৫ – ২০ মিনিট ফুটিয়ে রাখতে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস বা বৈদ্যুতিক জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এতে কারখানার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। পক্ষান্তরে, ক্লোরিনেশন একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কম খরচের প্রক্রিয়া।
সময় ও শ্রমের সাশ্রয়: স্ফুটন পদ্ধতিতে পানি ফুটানো এবং পরবর্তীতে তা ঠান্ডা করার জন্য দীর্ঘ সময় ও শ্রমের অপচয় হয়। কিন্তু ক্লোরিনেশন পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় রাসায়নিক বা কিট ব্যবহার করে খুব দ্রুত পানিকে জীবাণুমুক্ত করে বাজারজাত করা সম্ভব হয়।
সুতরাং বলা যায়, বাসাবাড়িতে পানের জন্য স্ফুটন বা ফুটানো একটি সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলেও, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার প্রেক্ষাপটে ক্লোরিনেশন পদ্ধতিটিই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও উপযোগী মাধ্যম।
৩. উদ্দীপক
উদ্দীপক হতে প্রাপ্ত,
স্যুটকেসের ভর, $\mathrm{m} = 25 \mathrm{~kg}$
বল, $\mathrm{F} = 30 \mathrm{~N}$
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী,
$\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
বা, $\mathrm{a} = \frac{\mathrm{F}}{\mathrm{m}} = \frac{30}{25} = 1.2 \mathrm{~m/s}^2$
সুতরাং উদ্দীপক অনুসারে উল্লেখিত স্যুটকেসটির ত্বরণ $1.2 \mathrm{~m/s}^2$
যখন কোনো তলের ওপর দিয়ে অন্য একটি বস্তু টেনে নেওয়া হয়, তখন তল দুটির সংস্পর্শে না থাকা বায়ুকণার একে অন্যের সাথে আটকে যাওয়ার কারণে গতির বিপরীতে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। স্যুটকেস চাকাবিহীন থাকায় মেঝের সাথে ঘর্ষণ বলের কারণে ঘর্ষণ অনেক বেশি কাজ করছিল, যা সব ধরনের বস্তুর সংস্পর্শে ঘটে।
অন্যদিকে, তার ভাইয়ের স্যুটকেস চাকা না থাকায় সেটি সরাসরি মেঝের ওপর দিয়ে টেনে নিতে হচ্ছিল, যার ফলে সেখানে প্রধান গতি বাধা সৃষ্টি হয়।
পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, আবর্ত ঘর্ষণ গতি ঘর্ষণের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় চাকা লাগানো স্যুটকেস টানা অনেক সহজ। কিন্তু চাকাবিহীন ভারী স্যুটকেস টেনে নেওয়ার সময় মেঝের সাথে উৎপন্ন উচ্চমাত্রার ঘর্ষণ বল গতিরোধক হিসেবে কাজ করে। মূলত এই প্রবল ঘর্ষণজনিত বাধার কারণেই শৈলির ভাইকে স্যুটকেসটি নিয়ে এগোতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল এবং বারবার থেমে যেতে হচ্ছিল। পরিশেষে বলা যায়, চাকার অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট এই গতি ঘর্ষণই ছিল শৈলির ভাইয়ের স্যুটকেস টানার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।
৪. উদ্দীপক
রক্ত হলো প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। রক্তের অন্যতম প্রধান কাজ হলো লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেওয়া এবং বিপাকীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে আনা। এছাড়া এই সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে দেহের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের রসদ ও পুষ্টি উপাদানগুলো সারা শরীরে পরিবাহিত হয়। রক্তের শ্বেতকণিকাগুলো ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় শরীরের ক্ষতিকর রোগজীবাণু সরাসরি ধ্বংস করে দেহকে বাহ্যিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এর পাশাপাশি লিম্ফোসাইট নামক শ্বেতকণিকা শরীরে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি গঠন করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। উদ্দীপকের মতো রক্তক্ষরণজনিত ঘটনায় রক্তের অণুচক্রিকাগুলো দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে শরীরের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও জীবনঝুঁকি রোধ করে।
পরিশেষে বলা যায়, রক্ত কেবল গ্যাসীয় বিনিময় বা পুষ্টি পরিবহনেই নয়, বরং দেহের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে এক অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে।
প্রথম হাতের কাটা স্থান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কারণ হলো সেখানে মূলত একটি ধমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধমনির প্রাচীর অত্যন্ত পুরু, স্থিতিস্থাপক এবং তিনটি স্তরে গঠিত হওয়ার কারণে এর অভ্যন্তরীণ গহ্বর বেশ ছোটো হয়। হৃৎপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় (সিস্টোল), তখন রক্ত অত্যন্ত উচ্চ চাপে ধমনির ভেতর দিয়ে সারাদেহে প্রবাহিত হয়। ধমনিতে কোনো কপাটিকা না থাকায় এই উচ্চ চাপের রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় না এবং রক্তনালি কেটে গেলে তা প্রবল বেগে বা ফিনকি দিয়ে নির্গত হয়।
অপরদিকে, দ্বিতীয় হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ার অর্থ হলো সেখানে শরীরের কোনো শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিরার প্রাচীর ধমনির তুলনায় অনেক পাতলা এবং এর অভ্যন্তরীণ গহ্বরটি বেশ বড়ো থাকে। দেহের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিরা যখন কার্বন ডাইঅক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে, তখন সেই রক্ত প্রবাহের চাপ অত্যন্ত কম থাকে। এছাড়া শিরার অভ্যন্তরে কপাটিকা বিদ্যমান থাকায় রক্ত প্রবাহের গতিবেগও ধীর লয়ের হয়, যার ফলে কাটা স্থান দিয়ে রক্ত ফিনকি দিয়ে না বেরিয়ে কেবল গড়িয়ে পড়ে। ধমনি ও শিরার এই গঠনগত ও কার্যগত বৈচিত্র্যের কারণেই রাইমার ক্ষেত্রে দুই ধরনের অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং, রক্তের গতিবেগ ও নির্গমন পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব কোন রক্তনালিটি ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, হৃৎপিন্ডের পাম্পিং ক্রিয়া এবং রক্তনালির গহ্বরের আকার ও কপাটিকার উপস্থিতিই উদ্দীপকের এই ভিন্নধর্মী রক্তক্ষরণের প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ।
৫. উদ্দীপক
পানিতে সম্পূর্ণ বিয়োজন: দুর্বল জৈব এসিডগুলো (যেমন- সাইট্রিক এসিড, এসিটিক এসিড) পানিতে আংশিকভাবে বিয়োজিত হলেও, খনিজ এসিড ($\mathrm{HCl}$) পানিতে পুরোপুরি বা সম্পূর্ণভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, এর যতগুলো অণু থাকে, তার সবগুলোই ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন পরিণত হয়।
অধিক পরিমাণে $\mathrm{H}^+$ আয়ন তৈরি: পানিতে সম্পূর্ণ বিয়োজিত হওয়ার কারণে এই শক্তিশালী খনিজ এসিডটি দুর্বল এসিডের তুলনায় দ্রবণে অনেক বেশি পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন ($\mathrm{H}^+$) তৈরি বা মুক্ত করে।
তীব্র দহনকারী ও ক্ষয়কারী ধর্ম: খনিজ এসিডের অণুগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ও তীব্র দহনকারী প্রকৃতির হয়। পাকস্থলীতে এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তা ভেতরের দেয়ালে তীব্র জ্বালাপোড়া (বুকজ্বালা) এবং গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে।
নির্দেশকের রং পরিবর্তন: এই শক্তিশালী এসিডের জলীয় দ্রবণে নীল লিটমাস পেপার ডোবালে তা খুব দ্রুত এবং গাঢ় লাল বর্ণে রূপান্তরিত হয়, যা এর তীব্র অম্লীয় প্রকৃতির পরিচয় দেয়।
প্রশমন বিক্রিয়া: এই এসিডটি ক্ষার জাতীয় উপাদানের (যেমন— অ্যান্টাসিড ওষুধ) সাথে খুব দ্রুত বিক্রিয়া করে নিজের অম্লীয় বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
পরিশেষে বলা যায়, পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে প্রচুর $\mathrm{H}^+$ আয়ন তৈরি করাই হলো মিসেস জামালীর পাকস্থলীর বুকজ্বালার জন্য দায়ী এই খনিজ এসিডটির তীব্রতার মূল রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য।
জামালী সাহেবের আনা খাবারগুলোর মধ্যে চকলেট, কফি এবং বার্গার হলো এসিডিটি বৃদ্ধিকারী খাদ্য। কারণ কফিজাতীয় পানীয় ও চকলেট পাকস্থলীতে এসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। আবার বার্গারের মতো অতিরিক্ত ভাজা, তেলযুক্ত বা চর্বিজাতীয় ফাস্টফুড খাবারও পাকস্থলীর এসিডিটি ও বুকজ্বালা অনেক বৃদ্ধি করে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে থাকা সয়াদুধ, বিভিন্ন রকমের বাদাম এবং দুগ্ধজাতীয় খাবারগুলো কিছুটা ক্ষারধর্মী হওয়ায় এগুলো পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। আবার সবুজ চা পানের মাধ্যমেও অতিরিক্ত এসিড কমানো যায়। যেহেতু জামালী সাহেবের আনা খাদ্য তালিকায় একই সাথে ক্ষারধর্মী উপকারী খাবার এবং এসিডিটি বৃদ্ধিকারী ক্ষতিকর খাবার দুই-ই বিদ্যমান, তাই এই খাদ্যগুলো মিসেস জামালীর বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারবে না।
৬. উদ্দীপক
তড়িৎ প্রলেপনের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে হরফ, ব্লক মডেল ইত্যাদি তৈরি করাকে তড়িৎ মুদ্রণ বলে। তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। এর উপর ধীরে ধীরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একে তড়িৎ পরিবাহীতে রূপান্তরিত করা হয়। তারপর কপার সালফেট ($\mathrm{CuSO_4}$) দ্রবণে এটিকে ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয়। অন্যদিকে একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়তে শুরু করবে। প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ থেকে ছাড়িয়ে তা ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়।
বিদ্যুৎ শক্তি আধুনিক সভ্যতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পারিবারিক খাতে প্রভাব : পারিবারিক জীবনে বিদ্যুৎ শক্তি মানুষের জীবনকে সহজ, আরামদায়ক ও আধুনিক করেছে। বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল চার্জারসহ নানা যন্ত্র পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা রাতে পর্যাপ্ত আলোতে পড়াশোনা করতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, যা তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কৃষিখাতে প্রভাব : কৃষিখাতে বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। সেচ পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে জমিতে সহজে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ফলাফলস্বরূপ, বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করা যায়। এছাড়া সার কারখানা, ধান মাড়াই, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিযন্ত্র পরিচালনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
স্বাস্থ্যখাতে প্রভাব : স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যুৎ শক্তির ভূমিকা অপরিসীম। অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অক্সিজেন সরবরাহ ও বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্র বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতেও বিদ্যুৎ শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হয় এবং জীবন রক্ষা সহজতর হয়।
৭. উদ্দীপক
শুষ্ককরণ : খাদ্যবস্তুকে রোদে বা কৃত্রিম উপায়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার প্রাচীন ও অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি হলো শুষ্ককরণ।
কার্যপ্রণালী : এই পদ্ধতিতে খাদ্যবস্তু থেকে ভেতরের সমস্ত পানি বা আর্দ্রতা শুকিয়ে সম্পূর্ণ বের করে দেওয়া হয়। পানি না থাকায় খাদ্যবস্তুর ভেতরে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীবগুলো জন্মাতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
এনজাইম প্রতিরোধ: পানি অপসারণের ফলে খাদ্যের নিজস্ব এনজাইমের ক্রিয়াও প্রতিহত বা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খাদ্য সহজে পচে না এবং শস্যদানা, ফলমূল বা সবজি অনেক দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
ফ্রিজিং: ফ্রিজিং পদ্ধতিতে খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্যকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় রেখে দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
কার্যপ্রণালী : এই পদ্ধতিতে খাদ্যবস্তুকে $0^{\circ}$ ফারেনহাইট বা মাইনাস $18^{\circ}$ সেলসিয়াস ($-18^{\circ}\mathrm{C}$) অথবা তারও নিচের তাপমাত্রায় রাখা হয়।
অণুজীব নিষ্ক্রিয়করণ : এত কম তাপমাত্রায় খাদ্য পচনের জন্য দায়ী জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং এনজাইমের কার্যকারিতাও বন্ধ থাকে।
ছক-১ এর উপাদানসমূহের উপযোগিতা (লবণ ও ভিনেগার) লবণের ঘন দ্রবণকে ব্রাইন বলে। এটি বহু বছর পূর্ব থেকে খাদ্যসংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবণের ঘন দ্রবণ “বহি-অভিস্রবণ (Exosmosis)” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যে থাকা পচনকারী অণুজীব বা জীবাণুর শরীর থেকে পানি বের করে নেয়। ফলে অণুজীবগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং খাদ্য পচন থেকে রক্ষা পায়। ভিনেগার হলো মূলত “এসিটিক এসিডের $4 – 10\%$ জলীয় দ্রবণ।” এটি আমাদের অতিপরিচিত এবং আচার, চাটনি, সস প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয়। ভিনেগারের অম্লীয় পরিবেশ খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীবের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি রোধ করে খাদ্যকে দীর্ঘদিনের জন্য ভালো রাখে।
ছক-৩ এর উপাদানসমূহ খুবই ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ (ফরমালিন ও কালটার)। ফরমালিন একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খাদ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে মানুষের বদহজম, পাতলা পায়খানা, পেটের নানা পীড়া, শ্বাসকষ্ট এবং হাঁপানির মতো জটিলতা দেখা দেয়। এটি মানবদেহের লিভার ও কিডনি অকেজো করে দেয় এবং ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করে। এমনকি নারীদের দীর্ঘমেয়াদি ফরমালিন ব্যবহারের ফলে গর্ভজাত সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্ত হতে পারে।
কালটার হলো এক ধরণের হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। আম যেন দ্রুত না পাকে এবং পরিপক্ক অবস্থায় গাছে দীর্ঘদিন থাকে, সেজন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এটি গাছে স্প্রে করে। কৃত্রিম উপায়ে ফলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহতকারী এই রাসায়নিকটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।
পরিশেষে বলা যায়, খাদ্য সংরক্ষণে ছক-১ এর নিরাপদ উপাদানগুলোর ব্যবহার যেমন আমাদের পুষ্টির ঘাটতি মেটায়, তেমনি ছক-৩ এর রাসায়নিকগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার মানবসভ্যতাকে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই খাদ্য সংরক্ষণে ছক-১ এর উপাদানের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী।
৮. উদ্দীপক
একটি বাল্বের ক্ষমতা = $১০০$ ওয়াট ($\mathrm{W}$)
অতএব, ৫টি বাল্বের মোট ক্ষমতা, $P= (১০০ \times ৫) = ৫০০$ ওয়াট
বাল্বগুলো প্রতিদিন গড়ে চালানো হয়, $t = ৬$ ঘণ্টা।
জুলাই মাসের মোট দিন সংখ্যা = $৩১$ দিন।
সুতরাং, জুলাই মাসে বাল্বগুলো মোট ব্যবহারের সময় = $(৬\times ৩১) = ১৮৬$ ঘণ্টা।
আমরা জানি,
$\therefore$ ব্যয়িত তড়িৎ শক্তি = $\frac{\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ইউনিট
= $\frac{৫০০ \times 186}{১০০০}$ ইউনিট
= $\frac{৯৩০০০}{১০০০}$ ইউনিট
= $৯৩$ ইউনিট
সুতরাং, জুলাই মাসে ফজলুল হক সাহেবের মোট ৯৩ ইউনিট বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয় হবে।
ফজলুল হক সাহেবের আর্থিক ক্ষতি লাঘবের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো ১০০ ওয়াটের সাধারণ বাল্বগুলোর পরিবর্তে এল.ই.ডি (LED) বা এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করা।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় : ১০০ ওয়াটের একটি সাধারণ বাল্ব যে পরিমাণ আলো দেয়, সমপরিমাণ আলো পেতে মাত্র ২০ ওয়াটের একটি এনার্জি সেভিং বাল্বই যথেষ্ট। এল.ই.ডি বাল্ব সাধারণ বাল্বের তুলনায় প্রায় ২০ – ৮০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে।
ব্যয় সংকোচন : গাণিতিকভাবে দেখা যায়, ১০০ ওয়াটের বদলে ২০ ওয়াটের বাল্ব ব্যবহার করলে তাঁর বিদ্যুৎ বিল সরাসরি ৫ গুণ কমে আসবে। যেখানে মাসে ৯৩ ইউনিট খরচ হতো, সেখানে সমপরিমাণ ব্যবহারের জন্য মাত্র ১৮.৬ ইউনিট খরচ হবে, যা তাকে বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয় করবে।
দীর্ঘস্থায়িত্ব : সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্ব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু এল.ই.ডি বাল্ব সাধারণ বাল্বের চেয়ে ৩ থেকে ২৫ গুণ বেশি সময় পর্যন্ত টিকে থাকে অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে বাল্ব বারবার কেনার বাড়তি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমে যায়।
তাপ উৎপাদন হ্রাস : সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে তড়িৎ শক্তির অপচয় ঘটায়, যা এল.ই.ডি বাল্বের ক্ষেত্রে ঘটে না। এছাড়া সঠিক মানের ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করে তিনি তড়িৎ দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ঝুঁকিও এড়াতে পারেন।
পরিশেষে বলা যায়, ফজলুল হক সাহেব যদি ১০০ ওয়াটের বাল্বগুলো পরিবর্তন করে ২০ ওয়াটের এল.ই.ডি বাল্ব লাগান এবং প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তবেই তিনি কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্থই বাঁচাবে না, বরং জাতীয় পর্যায়ে তড়িৎ শক্তির অপচয় রোধেও সহায়ক হবে।