ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৬

১. উদ্দীপক

নিচের চিত্রটি লক্ষ করো:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টির জন্য যে বিশেষ এক ধরনের খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন হয়, তাকে ভিটামিন বলে।
উত্তর আম একটি মিষ্টি ফল যাতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট বিদ্যমান থাকে। এই ফলের মধ্যে মূলত ফ্রুক্টোজ নামক এক বিশেষ ধরনের শর্করা পাওয়া যায়। ফ্রুক্টোজ মূলত বিভিন্ন মিষ্টি ফল এবং ফুলের মধুতে থাকে বিধায় একে ফল শর্করা বলা হয়। একে ইংরেজিতে 'Fruit Sugar' হিসেবেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। আমে এই শর্করার আধিক্য থাকার কারণেই মূলত আমকে ফ্রুট সুগার বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকের খাদ্য পিরামিডের 'B' চিহ্নিত স্তরটি হলো ঘি, যা মূলত একটি প্রাণিজ স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদান। স্নেহ পদার্থসমূহ মূলত ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জটিল জৈব যৌগ। মানবদেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সাধন এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদনের জন্য এই উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদানের বর্ণনা করা হলো—
স্নেহ পদার্থ বা ঘি খাদ্যবস্তুর উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপ এবং জৈবিক কাজ পরিচালনার জন্য শক্তি উৎপন্ন করে। এটি দেহের কোষের পুষ্টি নিশ্চিত করে এবং শরীরের সার্বিক বৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই জাতীয় খাদ্য উপাদান দেহ থেকে অভ্যন্তরীণ তাপের অপচয় বন্ধ করে এবং ভবিষ্যতের প্রতিকূল সময়ের জন্য শরীরে খাদ্যভান্ডার হিসেবে জমা থাকে। এছাড়া ঘি মানুষের ত্বকের মসৃণতা ও সজীবতা বজায় রাখে এবং বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সুষম খাদ্য পিরামিডের দিকে তাকালে ঘি বা চর্বি জাতীয় খাদ্য সবচেয়ে কম পরিমাণে গ্রহণের নির্দেশ পাওয়া যায়।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'B' উপাদানটি শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় বিশেষ কার্যকর। এটি কেবল তাপশক্তির উৎসই নয়, বরং দেহের গঠন ও চর্মরোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সঞ্চয়ের জন্য আমাদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ঘি বা স্নেহজাতীয় খাদ্য থাকা আবশ্যক।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্রটি একটি সুষম খাদ্য পিরামিডকে নির্দেশ করে, যেখানে মানুষের দৈনিক খাদ্য চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন উপাদানকে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে। শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে কোন ধরনের খাবার কতটুকু পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে তার একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা এই পিরামিড থেকে পাওয়া যায়। তবে উদ্দীপকে প্রদর্শিত খাদ্য উপাদানগুলোর স্তর বিন্যাস পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত আদর্শ খাদ্য পিরামিডের নিয়মের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিচে এর যথার্থতা ব্যাখ্যা করা হলো—
একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের মূলনীতি হলো যে খাবারগুলো পরিমাণে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেগুলোকে পিরামিডের নিচের স্তরে বা ভূমিতে রাখা। সেই হিসেবে শর্করা জাতীয় খাবার অর্থাৎ ভাত পিরামিডের একদম নিচে থাকা উচিত কারণ এটি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রধান খাদ্য। কিন্তু উদ্দীপকের চিত্রে 'ভাত' বা শর্করাকে (A) শীর্ষে এবং চর্বি জাতীয় 'ঘি' (B) উপাদানটিকে এর ঠিক নিচে রাখা হয়েছে। পিরামিডের নিয়ম অনুযায়ী 'ঘি' বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য শরীরের জন্য সবচেয়ে কম প্রয়োজন বিধায় এটি পিরামিডের সবচেয়ে সরু অংশে বা শীর্ষে থাকা উচিত। একইভাবে আমিষ ও শাকসবজির স্তরের অবস্থানও উদ্দীপকে যথাযথ ক্রমে উপস্থাপিত হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের পিরামিডটিতে খাদ্য উপাদানসমূহের স্তর বিন্যাস বৈজ্ঞানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি একটি আদর্শ সুষম খাদ্য তালিকার পরিপন্থী। সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে শর্করাকে সবার নিচে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থকে সবার উপরে রেখে পর্যায়ক্রমে পিরামিডটি সাজানো উচিত ছিল। সুতরাং, সঠিক পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্দীপকের এই স্তরায়ন পরিবর্তন করে সঠিক ক্রমানুসারে সাজানো অত্যন্ত জরুরি।

২. উদ্দীপক

জামালের ওজন ৮৫ কেজি এবং তার উচ্চতা ১.৬ মিটার। সে নিয়মিত বার্গার, পিৎজা, কেক খায়। সে আলু, ডাল জাতীয় খাদ্য খুবই কম খায়।
উত্তর যে খাদ্যে ছয়টি উপাদানই গুণাগুণ অনুসারে উপযুক্ত পরিমাণে থাকে এবং যে খাদ্য গ্রহণ করলে দেহে স্বাভাবিক কাজ-কর্মের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ ক্যালরি ও আঁশ পাওয়া যায়, তাকে সুষম খাদ্য বলে।
উত্তর খাদ্যদ্রব্যকে দীর্ঘ সময়ের জন্য টাটকা ও খাওয়ার উপযোগী রাখতে মূলত ফ্রিজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে খাবারকে মাইনাস ১৮° সেলসিয়াস বা ০° ফারেনহাইট বা তার নিচের তাপমাত্রায় রাখা হয়। অত্যধিক নিম্ন তাপমাত্রায় অণুজীবের বংশবৃদ্ধি এবং এনজাইমের ক্রিয়া কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। ফলে মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলের পচন রোধ হয় এবং এদের গুণগত মান অটুট থাকে। কেবল কাঁচা খাদ্য নয়, বরং বিভিন্ন প্রস্তুতকৃত খাবার ও আইসক্রিম দীর্ঘকাল সংরক্ষণেও এটি সহায়ক।
উত্তর উদ্দীপক অনুসারে,
জামালের দেহের বর্তমান ওজন হলো ৮৫ কেজি এবং উচ্চতা ১.৬ মিটার।
আমরা জানি,
বিএমআই = $\frac{\text{দেহের ওজন (কেজি)}}{[\text{দেহের উচ্চতা (মিটার)}]^২}$
$\therefore$ জামালের বিএমআই হবে = $\frac{৮৫}{(১.৬)^২} = ৩৩.২০$ (প্রায়)।
সুতরাং জামালের বিএমআই ৩৩.২০ (প্রায়)।
উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত জামালের নিয়মিত বার্গার, পিৎজা ও কেক খাওয়ার অভ্যাস এবং উচ্চ বিএমআই নির্দেশ করে যে তিনি শারীরিক স্বাস্থ্যের বড়ো ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিএমআই সূচক অনুযায়ী ৩০-এর উপরে মান থাকলে তাকে স্থূলকায় বলা হয়, যা মূলত অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ফল। শরীরকে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত রাখতে তার এই বর্তমান অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দ্রুত পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। নিচে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো—
বার্গার ও পিৎজার মতো ফাস্ট ফুডগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত প্রাণিজ চর্বি ও শর্করা থাকে যা শরীরে অতিরিক্ত মেদ হিসেবে জমা হয়। এই ধরনের খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল, বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে জামাল ডাল ও আলুর মতো প্রয়োজনীয় খাবার কম খান, যা শরীর গঠনে আমিষ ও শক্তির জোগান দিতে সক্ষম। আঁশযুক্ত খাবার বা রাফেজ কম খাওয়ার ফলে তার কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। তাই সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে তাকে ফাস্ট ফুড বর্জন করে সুষম খাবার গ্রহণ শুরু করতে হবে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামালের বর্তমান খাদ্যাভ্যাস তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাসের মূল কারণ। সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে তাকে মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাবারের পরিবর্তে নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর পানি পান করতে হবে। সেই সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা ও জীবন-শৃঙ্খলার মাধ্যমে তার বিএমআই স্বাভাবিক সীমায় (১৮.৫ – ২৪.৯) ফিরিয়ে আনা জরুরি। সুতরাং, জীবনসংগ্রামে শরীরকে সক্ষম হাতিয়ার হিসেবে টিকিয়ে রাখতে তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

৩. উদ্দীপক

(i) $\mathrm{Na_2CO_3} + \mathrm{HCl} \longrightarrow \mathrm{X} + \mathrm{H_2O} + \mathrm{CO_2}$

(ii) '$\mathrm{Y}$' + $\mathrm{H_2SO_4} \longrightarrow \mathrm{Na_2SO_4} + \mathrm{H_2O}$

উত্তর যেসব এসিড পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয় অর্থাৎ যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো হাইড্রোজেন আয়ন ($\mathrm{H}^+$) বিমুক্ত করে না, তাদেরকে দুর্বল এসিড বলে।
উত্তর

বেকিং সোডা ($\mathrm{NaHCO_3}$) একটি লবণ কিন্তু এর জলীয় দ্রবণ এসিডিক। কারণ এটি পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন ($\mathrm{H}^+$) উৎপন্ন করে।

$\mathrm{NaHCO_3} \longrightarrow \mathrm{Na}^+ + \mathrm{H}^+ + \mathrm{CO_3}^{2-}$

উত্তর

উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটিকে পূর্ণ করে পাই,

$\mathrm{NaOH} + \mathrm{H_2SO_4} \longrightarrow \mathrm{Na_2SO_4} + \mathrm{H_2O}$

$\mathrm{Y}$

সুতরাং, '$\mathrm{Y}$' যৌগটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($\mathrm{NaOH}$), যা একটি শক্তিশালী ক্ষার। $\mathrm{NaOH}$ যৌগের বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো—
$\mathrm{NaOH}$ এটি মূলত পানিতে পুরোপুরি বিয়েয়াজিত হয়ে হাইড্রোক্সাইড আয়ন ($\mathrm{OH}^-$) উৎপন্ন করার সক্ষমতা রাখে। এই যৌগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে এবং এর জলীয় দ্রবণ পিচ্ছিল অনুভূত হয়। $\mathrm{NaOH}$ মূলত চর্বি বা তেলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্ত সাবান তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি তৈরি করে, যা মাটির এসিডিটি বা পাকস্থলীর অম্লতা দূর করতে সাহায্য করে। এর শক্তিশালী ক্ষারীয় ধর্মের কারণে এটি কাপড়ের বা শরীরের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

উত্তর

(i) নং বিক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ করে পাই,

$\mathrm{Na_2CO_3} + \mathrm{HCl} \longrightarrow \mathrm{NaCl} + \mathrm{H_2O} + \mathrm{CO_2}$

অর্থাৎ, '$\mathrm{X}$' যৌগটি হলো $\mathrm{NaCl}$, যা একটি লবণ। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে $\mathrm{NaCl}$ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

কৃষিক্ষেত্রে : মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমরা যে চুনাপাথর ব্যবহার করি তা একটি লবণ। আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করি তাদের বেশিরভাগই লবণ। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{NH_4NO_3}$), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [$(\mathrm{NH_4})_3\mathrm{PO_4}$], পটাসিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{KNO_3}$) ইত্যাদি। কপার সালফেট ($\mathrm{CuSO_4} \cdot 5\mathrm{H_2O}$) কৃষি জমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী।

শিল্প-কারখানায় : শিল্প-কারখানায় নানাকাজে লবণ অপরিহার্য। যেমন- চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে এবং ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ প্রয়োজন। রাবার প্রস্তুতিতে রাবারকে ল্যাটেক্স থেকে আলাদা করতে লবণ ব্যবহার করা হয়। ওষুধ কারখানায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহার হয়।

৪. উদ্দীপক

২৫ কেজি ভরের একটি স্থির বস্তুর উপর F বল ১০ সেকেন্ড প্রয়োগ করা হলো। ফলে বস্তুটি ২০ মিটার/সে. বেগ লাভ করে। এরপর গতিশীল বস্তুটি একটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে বিপরীত দিকে ফিরে আসে।
উত্তর একটি তলের উপর যখন অন্য একটি বস্তু গড়িয়ে বা ঘুরতে ঘুরতে চলে তখন সেটাকে আবর্ত ঘর্ষণ বলে।
উত্তর চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা গতি জড়তার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কারণ ব্রেক করে বাসকে স্থির করা হলে যাত্রীদের শরীরের বাস সংলগ্ন অংশ স্থির হয় কিন্তু শরীরের উপরের অংশ গতি জড়তার জন্য গতিশীল থাকে যার ফলশ্রুতিতে যাত্রীরা সামনে ঝুঁকে পড়ে।
উত্তর

উদ্দীপক অনুসারে,
বস্তুর ভর, $\mathrm{m} = ২৫ \mathrm{~কেজি}$
বস্তুটি যখন স্থির, তখন আদিবেগ, $\mathrm{u} = ০ \mathrm{~মি./সে}$
শেষবেগ, $\mathrm{v} = ২০ \mathrm{~মি./সে}$
সময়, $\mathrm{t} = ১০ \mathrm{~সেকেন্ড}$

আমরা জানি,
ত্বরণ, $\mathrm{a} = \frac{(\text{শেষবেগ} – \text{আদিবেগ})}{\text{সময়}}$
$= \frac{(\mathrm{v}-\mathrm{u})}{\mathrm{t}} = \frac{(২০ – ০)}{১০} = ২ \mathrm{~মি./সে}^২$

আবার, প্রযুক্ত বল $\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
বা, $\mathrm{F} = ২৫ \times ২ = ৫০ \mathrm{~নিউটন}$

উদ্দীপক অনুসারে, F এর মান ৫০ নিউটন।

উত্তর উদ্দীপকের গতিশীল বস্তুটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে বিপরীত দিকে ফিরে আসার ঘটনাটি মূলত নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের একটি বাস্তব প্রতিফলন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো—
নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রানুসারে, “প্রত্যেক ক্রিয়া বলেরই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বল আছে।” উদ্দীপকের ক্ষেত্রে ২৫ কেজি ভরের গতিশীল বস্তুটি যখন দেয়ালে সজোরে আঘাত করে, তখন সেটি দেয়ালের ওপর একটি নির্দিষ্ট মানের ‘ক্রিয়া’ বল প্রয়োগ করে। ঠিক একই সময়ে দেয়ালটিও বস্তুটির ওপর সমপরিমাণ ‘প্রতিক্রিয়া’ বল বিপরীত দিকে প্রয়োগ করে। এই বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বলের প্রভাবেই বস্তুটি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পূর্বের গতিপথের বিপরীতে ফিরে আসে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বহু ঘটনা যেমন— হাঁটা কিংবা লগি দিয়ে নৌকা চালানোর সময়ও একইভাবে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, বস্তুর দিক পরিবর্তনের এই ঘটনাটি কোনো একক বলের ফল নয়, বরং এটি দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যকার বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। দেয়াল থেকে প্রাপ্ত এই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বলই বস্তুটিকে পেছনের দিকে বা বিপরীত দিকে গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের সাথে সম্পর্কিত।

৫. উদ্দীপক

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর একটি সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃদস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড। একজন সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০ – ১০০ বার হয়। একে হার্টবিট বলে।
উত্তর রক্তের যে গ্রুপ অন্য গ্রুপবিশিষ্ট রক্ত গ্রহণ করতে পারে তাদেরকে Universal Acceptor বলা হয়। AB রক্তের প্লাজমায় কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। কোনো অ্যান্টিবডি না থাকায় A ও B রক্ত গ্রুপের অ্যান্টিজেন গ্রহীতার (AB) রক্তের সাথে কোনো বিক্রিয়া করে না। এ কারণে AB গ্রুপের রক্ত A, B, AB ও O সকল গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই AB গ্রুপের ব্যক্তিদের Universal Acceptor বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো মানবদেহের রক্ত, যা একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। এটি প্রধানত রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকণিকা- এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত। নিচে এদের গঠন ও কাজ বর্ণনা করা হলো—
রক্তের তরল অংশ রক্তরস মোট রক্তের প্রায় ৫৫% এবং রক্তকণিকাগুলো প্রায় ৪৫% স্থান দখল করে থাকে। রক্তকণিকাগুলো তিন ধরনের- লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে এবং অণুচক্রিকা রক্ত তঞ্চনে সহায়তা করে। রক্তরসের মাধ্যমে পরিপাককৃত খাদ্যসার, হরমোন ও বর্জ্য পদার্থ দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়। শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণু গ্রাস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অণুচক্রিকা রক্তনালি কেটে গেলে থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরির মাধ্যমে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধিয়ে প্রাণরক্ষা করে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ বর্ণিত রক্ত উপাদানগুলো নির্দিষ্ট গঠন ও কাজের মাধ্যমে শরীরের জীবনপ্রক্রিয়া সচল রাখে। পুষ্টি জোগান, রোগ প্রতিরোধ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রক্তের এই বহুমুখী ভূমিকা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তাই শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে রক্তের প্রতিটি উপাদানের স্বাভাবিক মান অটুট থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-২ এর অঙ্গটি হলো মানুষের হৃৎপিণ্ড, যা একটি স্বয়ংক্রিয় পাম্পের মতো কাজ করে শরীরের রক্ত সংবহনতন্ত্রকে সচল রাখে। এর নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমেই মূলত দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পৌঁছে যায়। শরীরের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের রসদ সারা শরীরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিবহনের জন্য এই অঙ্গটির সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য কারণ, এটি বন্ধ হলে শরীরের সকল কাজ থমকে গিয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে মারাত্মক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই একে সচল রাখতে দৈনিক সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ধূমপান বর্জনের মতো স্বাস্থ্যকর জীবনপ্রণালি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে প্রচুর শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার এবং সামুদ্রিক মাছের তেল গ্রহণ করা বিশেষ উপকারী। এটি কেবল রক্তে কোলেস্টেরল কমায় না বরং রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও হ্রাস করে।
হৃৎপিণ্ড হলো মানবদেহের জীবনসংগ্রামের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু যা বিরামহীনভাবে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাণশক্তি টিকিয়ে রাখে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সংবেদনশীল অঙ্গটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সুতরাং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে হৃদযন্ত্রের সঠিক যত্ন ও সময়োপযোগী পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই।

৬. উদ্দীপক

নিচের চিত্রগুলো লক্ষ করো :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো তড়িৎযন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎশক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ ক্ষমতা বলে।
উত্তর তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবণের যে দ্রবটিকে দুই ভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। $\mathrm{CuSO_4}$ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে $\mathrm{Cu}^{++}$ ও $\mathrm{SO_4}^{--}$ আয়নে বিশ্লিষ্ট হয়। তাই $\mathrm{CuSO_4}$ কে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-C হলো একটি সাধারণ ব্যাটারি সেল বা শুষ্ক কোষ, যা রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি মূলত ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো—
একটি ব্যাটারি সেলে সাধারণত তিনটি প্রধান অংশ থাকে- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে রাসায়নিক পদার্থ বা ইলেকট্রোলাইট। ব্যাটারি সেলে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে ক্রমাগত ক্যাথোডে জমা করা হয়। এর ফলে ব্যাটারির অ্যানোড এবং ক্যাথোডের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মানের তড়িৎ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায় অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে কোনো পরিবাহী তার দ্বারা সংযুক্ত করা হলে ক্যাথোডের ইলেকট্রনগুলো অ্যানোডের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে বিদ্যুৎ প্রবাহ ধরা হয় বলে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এভাবে ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়া করে খরচ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে।
রাসায়নিক শক্তি ও তড়িৎ শক্তির পারস্পরিক রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করেই চিত্র-C এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি রাসায়নিক পদার্থের জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ বিভব সৃষ্টি করে বর্তনীতে চার্জের প্রবাহ সচল রাখে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত A চিত্রে একটি সিরিজ বর্তনী এবং B চিত্রে একটি সমান্তরাল বর্তনী দেখানো হয়েছে। বর্তনী দুটির মধ্যে B চিত্রের বর্তনী অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনী বাড়িতে ব্যবহার করা অধিক সুবিধাজনক বলে আমি মনে করি। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
আমরা জানি, সিরিজ সংযোগে একই বিদ্যুৎ প্রবাহ দুটি বাল্বের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বাল্ব বিদ্যুৎপ্রবাহে যতটুকু বাধা দেয়, দুটি বাল্ব তার চেয়ে বেশি বাধা দেয়। তাই একটি বাল্ব যত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে দুটি বাল্ব তার চেয়ে কম উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। A চিত্রে সিরিজ বর্তনীর দুটি বাল্ব এর একটি বাল্ব ফিউজ হয়ে গেলে সমস্ত বর্তনীর মধ্যদিয়েই বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপর বাল্বটি জ্বলে না। আবার সুইচ অন করলে একই সাথে দুটি বাল্ব জ্বলে ওঠে। সুইচ অফ করলে একই সাথে দুটি বাল্ব নিভে যাবে। বাল্ব দুটিকে পৃথকভাবে জ্বালানো বা নিভানো যায় না।
অপরদিকে, B চিত্রের সমান্তরাল বর্তনীর বাল্বগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি বাল্বের মধ্যদিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি বাল্ব ফিউজ হলেও অন্য বাল্বটি জ্বলে। প্রতিটি বাল্বই পৃথক পৃথকভাবে জ্বালানো ও নেভানো যায়। প্রতিটি বাল্বের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি বাল্বই বিদ্যুৎ কোষের পূর্ণ বিদ্যুৎ চালকশক্তি পায়। ফলে বর্তনীর দুটি বাল্বই সমান উজ্জ্বলভাবে জ্বলে।
উপরের আলোচনা হতে স্পষ্ট যে, A ও B তড়িৎ বর্তনীর মধ্যে B তড়িৎ বর্তনী বাড়িতে ব্যবহার করা অধিক সুবিধাজনক।

৭. উদ্দীপক

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোনো দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
উত্তর সাধারণত চাহিদার তুলনায় তড়িতের উৎপাদন কম হলে সব জায়গায় একই সাথে তড়িৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে লোডশেডিং হয়। এছাড়া বিদ্যুতের সিস্টেম লস, বিদ্যুতের অপচয়, বিদ্যুতের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানাবিধ কারণে বৈদ্যুতিক লোডশেডিং করা হয়।
উত্তর

উদ্দীপক অনুযায়ী,
বাল্বটির ক্ষমতা $\mathrm{P} = ১০০ \mathrm{~Watt}$
প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে এক মাস অর্থাৎ ৩০ দিন জ্বললে, মোট সময় $\mathrm{t} = (৬ \times ৩০) = ১৮০ \mathrm{~ঘণ্টা}$।

অতএব, ব্যয়িত শক্তি, $\mathrm{E} = \frac{\mathrm{P} \times \mathrm{t}}{১০০০}$
$= \frac{১০০ \times ১৮০}{১০০০} = ১৮ \mathrm{~ইউনিট}$
$\therefore$ A বাল্বটি প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে জ্বললে এক মাসে মোট ১৮ ইউনিট বিদ্যুৎশক্তি ব্যয় হবে।

উত্তর উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত ১০০ ওয়াটের সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্ব এবং 'B' চিহ্নিত এনার্জি সেভিং বাল্বের মধ্যে 'B' বাল্বটির ব্যবহার সার্বিকভাবে লাভজনক। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
সাধারণ বাল্বে ফিলামেন্ট উত্তপ্ত করে আলো তৈরি করা হয় বলে এতে প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় ঘটে। অপরদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব প্রযুক্তির কল্যাণে অত্যন্ত স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ করে উচ্চ মানের উজ্জ্বলতা প্রদানে সক্ষম হয়।
এনার্জি সেভিং বাল্বের মধ্যে সি.এফ.এল এবং এল.ই.ডি বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের তুলনায় ২০ – ৮০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। এই বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের চেয়ে ৩ থেকে ২৫ গুণ বেশি সময় টিকে থাকে, ফলে বারবার বাল্ব পরিবর্তনের ঝামেলা ও কেনার খরচ বাঁচে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসে, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক। এছাড়া এই বাল্বগুলো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পরিত্যক্ত বাল্বের সংখ্যা কমে যায়, যা পরিবেশের ওপর আবর্জনা ব্যবস্থাপনার চাপ কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পরিবারে একটি করে সাধারণ বাল্বের বদলে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করলে যে পরিমাণ শক্তি বাঁচে তা দিয়ে প্রতি বছরে ৩০ লক্ষ নতুন পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায় যে, দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষার বিচারে এনার্জি সেভিং বাল্বই শ্রেষ্ঠ। এটি কেবল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত খরচই কমায় না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, A ও B বাল্বের মধ্যে B বাল্বের ব্যবহার সার্বিকভাবে লাভজনক।

৮. উদ্দীপক

পলাশ নরসিংদী শহরে বাস করে। ইদানীং তার বাসায় পানির লাইনে ময়লাযুক্ত পানি আসছে যা ব্যবহার অনুপযোগী। সে লক্ষ করলো যে, অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা স্থাপন ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এবং শহরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
উত্তর বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয় সে তাপমাত্রাই হলো ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
উত্তর মাছের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ভূমিকা অপরিসীম কারণ মাছ ফুলকার সাহায্যে পানি থেকেই অক্সিজেন গ্রহণ করে। জলজ প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনপ্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য প্রতি ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন। কোনো কারণে পানিতে এই অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর শ্বাসকার্যে ব্যাঘাত ঘটে এবং তারা মারা যায়। বিশেষ করে ময়লা-আবর্জনা পচনের সময় রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে মাছের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। সুতরাং পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি মাছের শ্বসন, জীবনধারণ এবং বংশবৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশের বাসার ময়লাযুক্ত পানি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য রাসায়নিক পদ্ধতি হিসেবে ক্লোরিনেশন অত্যন্ত কার্যকর। নিচে পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো—
পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকলে তা দূর করার জন্য মূলত বিভিন্ন জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ক্লোরিনেশন পদ্ধতিতে ব্লিচিং পাউডার [$\mathrm{Ca(OCl)Cl}$] কিংবা সোডিয়াম হাইপো-ক্লোরাইট ($\mathrm{NaOCl}$)-এর মতো রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে মেশানো হয়। এসব পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান ক্লোরিন পানিতে থাকা রোগজীবাণুকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করে পানিকে জীবাণুমুক্ত করে। এছাড়া বন্যার সময় বা জরুরি অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট ক্লোরিন ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করাও একটি প্রচলিত রাসায়নিক পদ্ধতি। বড়ো পরিসরে বা বোতলজাত পানির কারখানায় ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমেও পানিকে রাসায়নিকভাবে বিশুদ্ধ ও জীবাণুমুক্ত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, পলাশ তার বাসার লাইনের পানিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্লিচিং পাউডার বা হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করে খুব সহজেই তা জীবাণুমুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে। তবে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ ও যথাযথ সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তর উদ্দীপকের পানির উৎসটি হলো শীতলক্ষ্যা নদী, যা নরসিংদী শহরে অবস্থিত। নদীটি অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই অমূল্য পানিসম্পদ রক্ষা এবং নদীটিকে ব্যবহারের উপযোগী করতে অর্থাৎ দূষণ প্রতিরোধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি—
শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ : নদীর তীরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোর বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি কারখানায় বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি (ETP) স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্জ্য শোধন করার পরেই তা নিষ্কাশিত হয়।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহরের গৃহস্থালি ও পয়ঃবর্জ্য যাতে ড্রেন বা নালা হয়ে সরাসরি নদীতে না পড়ে, সে জন্য আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে এই দূষণ ঠেকানো অসম্ভব।
পরিকল্পিত নগরায়ন : যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা বা আবাসন প্রকল্প নির্মাণ না করে পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নগরায়ন করতে হবে। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে পানির উৎস যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা : পানি দূষণ রোধে প্রচলিত পরিবেশ আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য নিক্ষেপ না করে।
কৃষিজ দূষণ রোধ : বৃষ্টির পানির সাথে মিশে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক যাতে নদীতে এসে না পড়ে, সে জন্য কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, শীতলক্ষ্যার মতো নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে সরকার, শিল্প মালিক এবং সাধারণ নাগরিক- সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেই কেবল এই জলাধারটি জলজ প্রাণীর বসবাসের এবং মানুষের ব্যবহারের উপযোগী থাকবে।