১. উদ্দীপক
স্নেহ পদার্থ বা ঘি খাদ্যবস্তুর উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপ এবং জৈবিক কাজ পরিচালনার জন্য শক্তি উৎপন্ন করে। এটি দেহের কোষের পুষ্টি নিশ্চিত করে এবং শরীরের সার্বিক বৃদ্ধির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই জাতীয় খাদ্য উপাদান দেহ থেকে অভ্যন্তরীণ তাপের অপচয় বন্ধ করে এবং ভবিষ্যতের প্রতিকূল সময়ের জন্য শরীরে খাদ্যভান্ডার হিসেবে জমা থাকে। এছাড়া ঘি মানুষের ত্বকের মসৃণতা ও সজীবতা বজায় রাখে এবং বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সুষম খাদ্য পিরামিডের দিকে তাকালে ঘি বা চর্বি জাতীয় খাদ্য সবচেয়ে কম পরিমাণে গ্রহণের নির্দেশ পাওয়া যায়।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'B' উপাদানটি শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় বিশেষ কার্যকর। এটি কেবল তাপশক্তির উৎসই নয়, বরং দেহের গঠন ও চর্মরোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই শারীরিক সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সঞ্চয়ের জন্য আমাদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে ঘি বা স্নেহজাতীয় খাদ্য থাকা আবশ্যক।
একটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের মূলনীতি হলো যে খাবারগুলো পরিমাণে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেগুলোকে পিরামিডের নিচের স্তরে বা ভূমিতে রাখা। সেই হিসেবে শর্করা জাতীয় খাবার অর্থাৎ ভাত পিরামিডের একদম নিচে থাকা উচিত কারণ এটি আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রধান খাদ্য। কিন্তু উদ্দীপকের চিত্রে 'ভাত' বা শর্করাকে (A) শীর্ষে এবং চর্বি জাতীয় 'ঘি' (B) উপাদানটিকে এর ঠিক নিচে রাখা হয়েছে। পিরামিডের নিয়ম অনুযায়ী 'ঘি' বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য শরীরের জন্য সবচেয়ে কম প্রয়োজন বিধায় এটি পিরামিডের সবচেয়ে সরু অংশে বা শীর্ষে থাকা উচিত। একইভাবে আমিষ ও শাকসবজির স্তরের অবস্থানও উদ্দীপকে যথাযথ ক্রমে উপস্থাপিত হয়নি।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের পিরামিডটিতে খাদ্য উপাদানসমূহের স্তর বিন্যাস বৈজ্ঞানিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি একটি আদর্শ সুষম খাদ্য তালিকার পরিপন্থী। সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে শর্করাকে সবার নিচে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থকে সবার উপরে রেখে পর্যায়ক্রমে পিরামিডটি সাজানো উচিত ছিল। সুতরাং, সঠিক পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্দীপকের এই স্তরায়ন পরিবর্তন করে সঠিক ক্রমানুসারে সাজানো অত্যন্ত জরুরি।
২. উদ্দীপক
জামালের দেহের বর্তমান ওজন হলো ৮৫ কেজি এবং উচ্চতা ১.৬ মিটার।
আমরা জানি,
বিএমআই = $\frac{\text{দেহের ওজন (কেজি)}}{[\text{দেহের উচ্চতা (মিটার)}]^২}$
$\therefore$ জামালের বিএমআই হবে = $\frac{৮৫}{(১.৬)^২} = ৩৩.২০$ (প্রায়)।
সুতরাং জামালের বিএমআই ৩৩.২০ (প্রায়)।
বার্গার ও পিৎজার মতো ফাস্ট ফুডগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত প্রাণিজ চর্বি ও শর্করা থাকে যা শরীরে অতিরিক্ত মেদ হিসেবে জমা হয়। এই ধরনের খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরে কোলেস্টেরল, বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে জামাল ডাল ও আলুর মতো প্রয়োজনীয় খাবার কম খান, যা শরীর গঠনে আমিষ ও শক্তির জোগান দিতে সক্ষম। আঁশযুক্ত খাবার বা রাফেজ কম খাওয়ার ফলে তার কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। তাই সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে তাকে ফাস্ট ফুড বর্জন করে সুষম খাবার গ্রহণ শুরু করতে হবে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামালের বর্তমান খাদ্যাভ্যাস তার দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাসের মূল কারণ। সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে তাকে মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাবারের পরিবর্তে নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ও প্রচুর পানি পান করতে হবে। সেই সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা ও জীবন-শৃঙ্খলার মাধ্যমে তার বিএমআই স্বাভাবিক সীমায় (১৮.৫ – ২৪.৯) ফিরিয়ে আনা জরুরি। সুতরাং, জীবনসংগ্রামে শরীরকে সক্ষম হাতিয়ার হিসেবে টিকিয়ে রাখতে তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।
৩. উদ্দীপক
(i) $\mathrm{Na_2CO_3} + \mathrm{HCl} \longrightarrow \mathrm{X} + \mathrm{H_2O} + \mathrm{CO_2}$
(ii) '$\mathrm{Y}$' + $\mathrm{H_2SO_4} \longrightarrow \mathrm{Na_2SO_4} + \mathrm{H_2O}$
বেকিং সোডা ($\mathrm{NaHCO_3}$) একটি লবণ কিন্তু এর জলীয় দ্রবণ এসিডিক। কারণ এটি পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন ($\mathrm{H}^+$) উৎপন্ন করে।
$\mathrm{NaHCO_3} \longrightarrow \mathrm{Na}^+ + \mathrm{H}^+ + \mathrm{CO_3}^{2-}$
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটিকে পূর্ণ করে পাই,
$\mathrm{NaOH} + \mathrm{H_2SO_4} \longrightarrow \mathrm{Na_2SO_4} + \mathrm{H_2O}$
$\mathrm{Y}$
সুতরাং, '$\mathrm{Y}$' যৌগটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($\mathrm{NaOH}$), যা একটি শক্তিশালী ক্ষার। $\mathrm{NaOH}$ যৌগের বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো—
$\mathrm{NaOH}$ এটি মূলত পানিতে পুরোপুরি বিয়েয়াজিত হয়ে হাইড্রোক্সাইড আয়ন ($\mathrm{OH}^-$) উৎপন্ন করার সক্ষমতা রাখে। এই যৌগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে এবং এর জলীয় দ্রবণ পিচ্ছিল অনুভূত হয়। $\mathrm{NaOH}$ মূলত চর্বি বা তেলের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্ত সাবান তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিরপেক্ষ লবণ ও পানি তৈরি করে, যা মাটির এসিডিটি বা পাকস্থলীর অম্লতা দূর করতে সাহায্য করে। এর শক্তিশালী ক্ষারীয় ধর্মের কারণে এটি কাপড়ের বা শরীরের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
(i) নং বিক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ করে পাই,
$\mathrm{Na_2CO_3} + \mathrm{HCl} \longrightarrow \mathrm{NaCl} + \mathrm{H_2O} + \mathrm{CO_2}$
অর্থাৎ, '$\mathrm{X}$' যৌগটি হলো $\mathrm{NaCl}$, যা একটি লবণ। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে $\mathrm{NaCl}$ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
কৃষিক্ষেত্রে : মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমরা যে চুনাপাথর ব্যবহার করি তা একটি লবণ। আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করি তাদের বেশিরভাগই লবণ। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{NH_4NO_3}$), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [$(\mathrm{NH_4})_3\mathrm{PO_4}$], পটাসিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{KNO_3}$) ইত্যাদি। কপার সালফেট ($\mathrm{CuSO_4} \cdot 5\mathrm{H_2O}$) কৃষি জমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী।
শিল্প-কারখানায় : শিল্প-কারখানায় নানাকাজে লবণ অপরিহার্য। যেমন- চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে এবং ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ প্রয়োজন। রাবার প্রস্তুতিতে রাবারকে ল্যাটেক্স থেকে আলাদা করতে লবণ ব্যবহার করা হয়। ওষুধ কারখানায় স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহার হয়।
৪. উদ্দীপক
উদ্দীপক অনুসারে,
বস্তুর ভর, $\mathrm{m} = ২৫ \mathrm{~কেজি}$
বস্তুটি যখন স্থির, তখন আদিবেগ, $\mathrm{u} = ০ \mathrm{~মি./সে}$
শেষবেগ, $\mathrm{v} = ২০ \mathrm{~মি./সে}$
সময়, $\mathrm{t} = ১০ \mathrm{~সেকেন্ড}$
আমরা জানি,
ত্বরণ, $\mathrm{a} = \frac{(\text{শেষবেগ} – \text{আদিবেগ})}{\text{সময়}}$
$= \frac{(\mathrm{v}-\mathrm{u})}{\mathrm{t}} = \frac{(২০ – ০)}{১০} = ২ \mathrm{~মি./সে}^২$
আবার, প্রযুক্ত বল $\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
বা, $\mathrm{F} = ২৫ \times ২ = ৫০ \mathrm{~নিউটন}$
উদ্দীপক অনুসারে, F এর মান ৫০ নিউটন।
নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রানুসারে, “প্রত্যেক ক্রিয়া বলেরই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বল আছে।” উদ্দীপকের ক্ষেত্রে ২৫ কেজি ভরের গতিশীল বস্তুটি যখন দেয়ালে সজোরে আঘাত করে, তখন সেটি দেয়ালের ওপর একটি নির্দিষ্ট মানের ‘ক্রিয়া’ বল প্রয়োগ করে। ঠিক একই সময়ে দেয়ালটিও বস্তুটির ওপর সমপরিমাণ ‘প্রতিক্রিয়া’ বল বিপরীত দিকে প্রয়োগ করে। এই বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বলের প্রভাবেই বস্তুটি দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পূর্বের গতিপথের বিপরীতে ফিরে আসে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বহু ঘটনা যেমন— হাঁটা কিংবা লগি দিয়ে নৌকা চালানোর সময়ও একইভাবে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল কাজ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, বস্তুর দিক পরিবর্তনের এই ঘটনাটি কোনো একক বলের ফল নয়, বরং এটি দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যকার বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। দেয়াল থেকে প্রাপ্ত এই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বলই বস্তুটিকে পেছনের দিকে বা বিপরীত দিকে গতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের সাথে সম্পর্কিত।
৫. উদ্দীপক
রক্তের তরল অংশ রক্তরস মোট রক্তের প্রায় ৫৫% এবং রক্তকণিকাগুলো প্রায় ৪৫% স্থান দখল করে থাকে। রক্তকণিকাগুলো তিন ধরনের- লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে, শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে এবং অণুচক্রিকা রক্ত তঞ্চনে সহায়তা করে। রক্তরসের মাধ্যমে পরিপাককৃত খাদ্যসার, হরমোন ও বর্জ্য পদার্থ দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়। শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণু গ্রাস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অণুচক্রিকা রক্তনালি কেটে গেলে থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরির মাধ্যমে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধিয়ে প্রাণরক্ষা করে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ বর্ণিত রক্ত উপাদানগুলো নির্দিষ্ট গঠন ও কাজের মাধ্যমে শরীরের জীবনপ্রক্রিয়া সচল রাখে। পুষ্টি জোগান, রোগ প্রতিরোধ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রক্তের এই বহুমুখী ভূমিকা মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তাই শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে রক্তের প্রতিটি উপাদানের স্বাভাবিক মান অটুট থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য কারণ, এটি বন্ধ হলে শরীরের সকল কাজ থমকে গিয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে মারাত্মক রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই একে সচল রাখতে দৈনিক সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ধূমপান বর্জনের মতো স্বাস্থ্যকর জীবনপ্রণালি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে মিষ্টি ও স্নেহজাতীয় খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে প্রচুর শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার এবং সামুদ্রিক মাছের তেল গ্রহণ করা বিশেষ উপকারী। এটি কেবল রক্তে কোলেস্টেরল কমায় না বরং রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও হ্রাস করে।
হৃৎপিণ্ড হলো মানবদেহের জীবনসংগ্রামের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু যা বিরামহীনভাবে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাণশক্তি টিকিয়ে রাখে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সংবেদনশীল অঙ্গটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি মানুষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সুতরাং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে হৃদযন্ত্রের সঠিক যত্ন ও সময়োপযোগী পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই।
৬. উদ্দীপক
একটি ব্যাটারি সেলে সাধারণত তিনটি প্রধান অংশ থাকে- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে রাসায়নিক পদার্থ বা ইলেকট্রোলাইট। ব্যাটারি সেলে সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যানোড থেকে ইলেকট্রন সরিয়ে ক্রমাগত ক্যাথোডে জমা করা হয়। এর ফলে ব্যাটারির অ্যানোড এবং ক্যাথোডের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মানের তড়িৎ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায় অ্যানোড এবং ক্যাথোডকে কোনো পরিবাহী তার দ্বারা সংযুক্ত করা হলে ক্যাথোডের ইলেকট্রনগুলো অ্যানোডের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে বিদ্যুৎ প্রবাহ ধরা হয় বলে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এভাবে ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়া করে খরচ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে।
রাসায়নিক শক্তি ও তড়িৎ শক্তির পারস্পরিক রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করেই চিত্র-C এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি রাসায়নিক পদার্থের জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ বিভব সৃষ্টি করে বর্তনীতে চার্জের প্রবাহ সচল রাখে।
আমরা জানি, সিরিজ সংযোগে একই বিদ্যুৎ প্রবাহ দুটি বাল্বের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বাল্ব বিদ্যুৎপ্রবাহে যতটুকু বাধা দেয়, দুটি বাল্ব তার চেয়ে বেশি বাধা দেয়। তাই একটি বাল্ব যত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে দুটি বাল্ব তার চেয়ে কম উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। A চিত্রে সিরিজ বর্তনীর দুটি বাল্ব এর একটি বাল্ব ফিউজ হয়ে গেলে সমস্ত বর্তনীর মধ্যদিয়েই বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপর বাল্বটি জ্বলে না। আবার সুইচ অন করলে একই সাথে দুটি বাল্ব জ্বলে ওঠে। সুইচ অফ করলে একই সাথে দুটি বাল্ব নিভে যাবে। বাল্ব দুটিকে পৃথকভাবে জ্বালানো বা নিভানো যায় না।
অপরদিকে, B চিত্রের সমান্তরাল বর্তনীর বাল্বগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি বাল্বের মধ্যদিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি বাল্ব ফিউজ হলেও অন্য বাল্বটি জ্বলে। প্রতিটি বাল্বই পৃথক পৃথকভাবে জ্বালানো ও নেভানো যায়। প্রতিটি বাল্বের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি বাল্বই বিদ্যুৎ কোষের পূর্ণ বিদ্যুৎ চালকশক্তি পায়। ফলে বর্তনীর দুটি বাল্বই সমান উজ্জ্বলভাবে জ্বলে।
উপরের আলোচনা হতে স্পষ্ট যে, A ও B তড়িৎ বর্তনীর মধ্যে B তড়িৎ বর্তনী বাড়িতে ব্যবহার করা অধিক সুবিধাজনক।
৭. উদ্দীপক
উদ্দীপক অনুযায়ী,
বাল্বটির ক্ষমতা $\mathrm{P} = ১০০ \mathrm{~Watt}$
প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে এক মাস অর্থাৎ ৩০ দিন জ্বললে, মোট সময় $\mathrm{t} = (৬ \times ৩০) = ১৮০ \mathrm{~ঘণ্টা}$।
অতএব, ব্যয়িত শক্তি, $\mathrm{E} = \frac{\mathrm{P} \times \mathrm{t}}{১০০০}$
$= \frac{১০০ \times ১৮০}{১০০০} = ১৮ \mathrm{~ইউনিট}$
$\therefore$ A বাল্বটি প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে জ্বললে এক মাসে মোট ১৮ ইউনিট বিদ্যুৎশক্তি ব্যয় হবে।
সাধারণ বাল্বে ফিলামেন্ট উত্তপ্ত করে আলো তৈরি করা হয় বলে এতে প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় ঘটে। অপরদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব প্রযুক্তির কল্যাণে অত্যন্ত স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ করে উচ্চ মানের উজ্জ্বলতা প্রদানে সক্ষম হয়।
এনার্জি সেভিং বাল্বের মধ্যে সি.এফ.এল এবং এল.ই.ডি বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের তুলনায় ২০ – ৮০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। এই বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের চেয়ে ৩ থেকে ২৫ গুণ বেশি সময় টিকে থাকে, ফলে বারবার বাল্ব পরিবর্তনের ঝামেলা ও কেনার খরচ বাঁচে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসে, যা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক। এছাড়া এই বাল্বগুলো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পরিত্যক্ত বাল্বের সংখ্যা কমে যায়, যা পরিবেশের ওপর আবর্জনা ব্যবস্থাপনার চাপ কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পরিবারে একটি করে সাধারণ বাল্বের বদলে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করলে যে পরিমাণ শক্তি বাঁচে তা দিয়ে প্রতি বছরে ৩০ লক্ষ নতুন পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায় যে, দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষার বিচারে এনার্জি সেভিং বাল্বই শ্রেষ্ঠ। এটি কেবল ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত খরচই কমায় না, বরং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, A ও B বাল্বের মধ্যে B বাল্বের ব্যবহার সার্বিকভাবে লাভজনক।
৮. উদ্দীপক
পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকলে তা দূর করার জন্য মূলত বিভিন্ন জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ক্লোরিনেশন পদ্ধতিতে ব্লিচিং পাউডার [$\mathrm{Ca(OCl)Cl}$] কিংবা সোডিয়াম হাইপো-ক্লোরাইট ($\mathrm{NaOCl}$)-এর মতো রাসায়নিক দ্রব্য পানিতে মেশানো হয়। এসব পদার্থের মধ্যে বিদ্যমান ক্লোরিন পানিতে থাকা রোগজীবাণুকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করে পানিকে জীবাণুমুক্ত করে। এছাড়া বন্যার সময় বা জরুরি অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট ক্লোরিন ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করাও একটি প্রচলিত রাসায়নিক পদ্ধতি। বড়ো পরিসরে বা বোতলজাত পানির কারখানায় ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমেও পানিকে রাসায়নিকভাবে বিশুদ্ধ ও জীবাণুমুক্ত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, পলাশ তার বাসার লাইনের পানিতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্লিচিং পাউডার বা হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করে খুব সহজেই তা জীবাণুমুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে। তবে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ ও যথাযথ সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ : নদীর তীরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোর বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি কারখানায় বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি (ETP) স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বর্জ্য শোধন করার পরেই তা নিষ্কাশিত হয়।
পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: শহরের গৃহস্থালি ও পয়ঃবর্জ্য যাতে ড্রেন বা নালা হয়ে সরাসরি নদীতে না পড়ে, সে জন্য আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে এই দূষণ ঠেকানো অসম্ভব।
পরিকল্পিত নগরায়ন : যেখানে-সেখানে শিল্প-কারখানা বা আবাসন প্রকল্প নির্মাণ না করে পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত উপায়ে নগরায়ন করতে হবে। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে পানির উৎস যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা : পানি দূষণ রোধে প্রচলিত পরিবেশ আইনগুলোর কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সেই সাথে নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা নদীতে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য নিক্ষেপ না করে।
কৃষিজ দূষণ রোধ : বৃষ্টির পানির সাথে মিশে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক যাতে নদীতে এসে না পড়ে, সে জন্য কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, শীতলক্ষ্যার মতো নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে সরকার, শিল্প মালিক এবং সাধারণ নাগরিক- সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেই কেবল এই জলাধারটি জলজ প্রাণীর বসবাসের এবং মানুষের ব্যবহারের উপযোগী থাকবে।