১. উদ্দীপক
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী হাবিব সাহেবের BMI নিচে নির্ণয় করা হলো—
দেওয়া আছে,
হাবিব সাহেবের দেহের ওজন = ৬৫ কেজি,
দেহের উচ্চতা = ১.৫ মিটার
আমরা জানি, দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার সূচককে বিএমআই বা ভরসূচি বলা হয়।
বিএমআই নির্ণয়ের সূত্রটি হলো—
$\mathrm{BMI} = \frac{\mathrm{দেহের~ওজন~(কেজি)}}{\mathrm(\mathrm{দেহের~উচ্চতা~(মিটার)})^২}$
এখন, হাবিব সাহেবের ওজন ও উচ্চতার মান বসিয়ে পাই,
$\mathrm{BMI} = \frac{৬৫}{(১.৫)^২}$
বা, $\mathrm{BMI} = \frac{৬৫}{২.২৫}$
বা, $\mathrm{BMI} = ২৮.৮৯$ (প্রায়)
সুতরাং, হাবিব সাহেবের BMI হলো ২৮.৮৯।
উদ্দীপকে হাবিব সাহেবের স্ত্রীর মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া ও ত্বকে ঘায়ের জন্য ভিটামিন 'সি' এবং নাতনির দাঁত উঠতে দেরি ও রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার জন্য খনিজ লবণ ক্যালসিয়াম দায়ী।
মানবদেহে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি খাদ্য উপাদানের সুনির্দিষ্ট কাজ রয়েছে, যার অভাব ঘটলে বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। হাবিব সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে পৃথক খাদ্য উপাদানের অভাবই এই অসুস্থতার মূল কারণ।
হাবিব সাহেবের স্ত্রীর শরীরে ভিটামিন 'সি' বা আসকরবিক এসিডের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার তীব্র অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ হয় । এই ভিটামিনটির অন্যতম কাজ হলো ত্বক, হাড় ও দাঁতের কোষসমূহকে জোড়া লাগিয়ে মজবুত গাঁথুনি তৈরি করা। অন্যদিকে, নাতনির দেহে ক্যালসিয়ামের অভাব রয়েছে যা প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং প্রধান খনিজ উপাদান। ক্যালসিয়ামের অভাব ঘটলে শিশুদের দাঁত উঠতে বিলম্ব ঘটে এবং এটি শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়। হাবিব সাহেবের স্ত্রীর সমস্যাটি ভিটামিনজনিত এবং নাতনির শারীরিক সমস্যাটি খনিজ লবণজনিত ঘাটতির ফল।
পরিশেষে বলা যায় যে, হাবিব সাহেবের স্ত্রী ও নাতনির উপসর্গগুলো ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো তাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ভিন্ন। নিয়মিত টাটকা শাকসবজি ও টক জাতীয় ফল গ্রহণের মাধ্যমে হাবিব সাহেবের স্ত্রীর ভিটামিন 'সি'-এর অভাব পূরণ করা সম্ভব। একইভাবে দুধ, ডিম ও মাছের মতো ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নাতনির দাঁত ও রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে। সঠিক খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই হাবিব সাহেবের পরিবারের এই পৃথক স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
২. উদ্দীপক
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিতুর শিক্ষকের বুঝানো প্রক্রিয়াটি হলো রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া। নিচে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো—
রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে এবং এর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের এই কাজ মূলত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যাকে কার্ডিয়াক চক্র বলা হয়—
অলিন্দের ডায়াস্টোল : এই ধাপে হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ বা অলিন্দ দুটি প্রসারিত হয়। তখন সারাশরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরা দিয়ে বাম অলিন্দে প্রবেশ করে।
অলিন্দের সিস্টোল : অলিন্দ দুটি রক্তে পূর্ণ হলে সেগুলো সংকুচিত হয়। ফলে ডান অলিন্দ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে পৌঁছায়।
নিলয়ের সিস্টোল : এই ধাপে নিচের প্রকোষ্ঠ বা নিলয় দুটি সংকুচিত হয়। তখন বাম নিলয় থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে চলে যায়। এই সময় কপাটিকাগুলো বন্ধ হওয়ার ফলে 'লাব' শব্দের সৃষ্টি হয়।
নিলয়ের ডায়াস্টোল : নিলয়ের সংকোচনের পরপরই সেগুলো আবার প্রসারিত হতে থাকে এবং অলিন্দ থেকে পুনরায় রক্ত এসে নিলয় পূর্ণ করতে শুরু করে। এই সময় কপাটিকা বন্ধ হওয়ার ফলে 'ডাব' শব্দের সৃষ্টি হয়।
এভাবেই অলিন্দ ও নিলয়ের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ড সারাশরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তরল পদার্থটি হলো রক্ত। রক্ত একটি লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু যা মানবদেহে বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে। নিচে রক্তের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করা হলো—
শ্বাসকার্য : রক্ত ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহ করে ফুসফুসে নিয়ে আসে। লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
খাদ্যসার পরিবহন : পরিপাককৃত খাদ্যসার বা পুষ্টি উপাদানগুলো রক্তরসের মাধ্যমে দেহের প্রতিটি টিস্যু কোষে বাহিত হয়।
বর্জ্য পরিবহন : বিপাকীয় কাজের ফলে কোষে উৎপন্ন ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থগুলোকে রক্ত কিডনি বা বৃক্কে পরিবহন করে শরীর থেকে নিষ্কাশনে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধ: রক্তের শ্বেত রক্তকণিকাগুলো (WBC) দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণুকে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে।
হরমোন পরিবহন : অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন রক্তের মাধ্যমেই দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়ে শারীরিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ-করে।
রক্ত জমাট বাঁধা : দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত তঞ্চন বা জমাট বাঁধানোর মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে জীবন রক্ষা করে।
তাপমাত্রা ও pH নিয়ন্ত্রণ : রক্ত দেহের সর্বত্র তাপ ছড়িয়ে দিয়ে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। এছাড়া হিমোগ্লোবিন বাফার হিসেবে কাজ করে রক্তের অম্ল-ক্ষারের (pH) ভারসাম্য রক্ষা করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের তরল পদার্থ তথা রক্ত কেবল একটি সংবহন মাধ্যম নয়, বরং এটি দেহের পুষ্টি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান চালিকাশক্তি।
৩. উদ্দীপক
পরিপাকে সহায়তা : রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাবার পরিপাকে বিশেষ সহায়তা করে এবং পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।
ওজন ও চর্বি নিয়ন্ত্রণ : এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো গ্রহণের ফলে বারবার ক্ষুধার প্রবণতা হ্রাস পায়, যা পরোক্ষভাবে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ: নিয়মিত রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণে পিত্তথলির রোগ, খাদ্যনালি ও মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ্ব এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
স্থূলতা হ্রাস : এটি স্থূলতা বা মেদবহুলতা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'B' উপাদানগুলো শুধু পুষ্টিই সরবরাহ করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখে।
উদ্দীপকের 'A' ও 'C' গ্রুপের খাদ্যগুলোর মধ্যে 'A' গ্রুপের খাদ্যগুলোই (রুটি, ভাত, ডিম, কলা, মাছ, দুধ) অধিকতর স্বাস্থ্যসম্মত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো—
'A' গ্রুপের খাদ্যের স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব:
১. সুষম পুষ্টি : এই গ্রুপে বিদ্যমান খাদ্যগুলো একটি সুষম খাদ্য তালিকার প্রধান উপাদান। রুটি ও ভাত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস যা শরীরে কাজ করার শক্তি জোগায়।
২. দেহ গঠন ও বৃদ্ধি : মাছ ও ডিম উচ্চমানের প্রাণিজ আমিষের উৎস, যা দেহের গঠন, বৃদ্ধি এবং ক্ষয়পূরণে অত্যাবশ্যক।
৩. আদর্শ খাদ্য : দুধকে একটি আদর্শ খাদ্য বলা হয়, কারণ এতে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকটি পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে।
৪. সুরক্ষা : কলা ভিটামিন ও খনিজ লবণের জোগান দিয়ে দেহকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
'C' গ্রুপের খাদ্যের ক্ষতিকর দিক :
১. জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড: এই গ্রুপের খাবারগুলো (বার্গার, পিৎজা, চিকেন ফ্রাই) মূলত জাঙ্ক ফুড হিসেবে পরিচিত। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ, লবণ এবং সম্পৃক্ত চর্বি থাকে।
২. পুষ্টিহীনতা: এই খাবারগুলোতে উচ্চ ক্যালরি থাকলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং আঁশ বা রাফেজের চরম অভাব থাকে।
৩. স্বাস্থ্যঝুঁকি : নিয়মিত এই খাবারগুলো গ্রহণের ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমা হয়, যা স্থূলতা বা মেদবহুলতা তৈরি করে। এর ফলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, 'C' গ্রুপের খাবারগুলো মুখরোচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিপরীতে, 'A' গ্রুপের খাবারগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে একটি রোগমুক্ত উন্নততর জীবনধারা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই 'A' গ্রুপের খাদ্যগুলোই প্রকৃত অর্থে স্বাস্থ্যসম্মত।
৪. উদ্দীপক
উদ্দীপকে কবির সাহেবের উপসর্গগুলো রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করা মূলত ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের লক্ষণ। ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে দেখা দেয়। এই রোগের প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হলো—
১. প্রস্রাবের আধিক্য : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া।
২. অত্যধিক পিপাসা : তৃষ্ণা অনেক বেড়ে যায় এবং বারবার পানি পান করার প্রয়োজন হয়।
৩. ক্ষুধা ও দুর্বলতা: প্রচুর ক্ষুধা অনুভব করা এবং শরীরে অতিমাত্রায় দুর্বলতা বোধ করা।
৪. ওজন হ্রাস : যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করার পরেও শরীরের ওজন কমতে থাকা এবং শরীর শীর্ণ হয়ে যাওয়া।
৫. দ্রুত ক্লান্তি : সামান্য কায়িক পরিশ্রমে শরীর হাঁপিয়ে ওঠা এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়া।
৬. ত্বকের সমস্যা: শরীরের চামড়া বা ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া।
৭. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা : চোখে ঝাপসা দেখা।
৮. ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব: শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা ক্ষতের সৃষ্টি হলে তা সহজে শুকাতে চায় না বা শুকাতে অনেক দেরি হয়।
মূলত শরীরে ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা এর অকার্যকারিতার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী কবির সাহেব ডায়াবেটিস এবং সাজিদ সাহেব উচ্চ রক্তচাপ রোগে আক্রান্ত। নিচে এই রোগ দুটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো—
কবির সাহেবের রোগ (ডায়াবেটিস) : নিয়ন্ত্রণযোগ্য কবির সাহেবের উপসর্গগুলো (রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং দুর্বলতা) নির্দেশ করে যে তিনি ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ যা পুরোপুরি নির্মূল বা নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ডায়াবেটিস প্রধানত তিনটি উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়:
খাদ্য নিয়ন্ত্রণ: মিষ্টি ও শর্করা জাতীয় খাবার পরিহার করে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য গ্রহণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা যায়।
ওষুধ সেবন : অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন বা ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
জীবন-শৃঙ্খলা : নিয়মিত ব্যায়াম করা, মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দেওয়া এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিও সুস্থ থাকতে পারেন।
সাজিদ সাহেবের রোগ (উচ্চ রক্তচাপ): নিরাময়যোগ্য/প্রতিকারযোগ্য
সাজিদ সাহেবের রক্তচাপ $১৭০/১২০ \mathrm{~mm~Hg}$ যা স্বাভাবিক রক্তচাপের $১২০/৮০ \mathrm{~mm~Hg}$ চেয়ে অনেক বেশি, তাই তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এটি জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিরাময় বা প্রতিকার করা সম্ভব।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বর্জন করা এবং চর্বিযুক্ত খাদ্য (ঘি, মাখন, খাসির মাংস) পরিহার করলে রক্তচাপ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
শারীরিক পরিশ্রম : নিয়মিত ব্যায়াম এবং দেহের ওজন কমানোর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
মানসিক প্রশান্তি : ধূমপান বর্জন করা এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন করলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি বা প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
কবির সাহেবের ডায়াবেটিস রোগটি একবার হলে তা শরীর থেকে পুরোপুরি দূর হয় না, বরং সারাজীবন শৃঙ্খলার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। অন্যদিকে, সাজিদ সাহেবের উচ্চ রক্তচাপ রোগটি সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাভাবিক সীমায় নামিয়ে আনা এবং এর জটিলতা থেকে নিরাময় লাভ করা সম্ভব।
সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বলা যায় যে, কবির সাহেবের রোগটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সাজিদ সাহেবের রোগটি নিরাময়যোগ্য।
৫. উদ্দীপক
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি পূর্ণ করে পাই—
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'A' যৌগটি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [$\mathrm{Ca}(\mathrm{OH})_2$], যা সাধারণত চুনের পানি বা স্ল্যাক লাইম নামে পরিচিত। নিচে 'A' যৌগ তথা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো—
ক্ষারকীয় ধর্ম: এটি একটি শক্তিশালী ক্ষারক এবং এটি পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় একে ক্ষার বলা হয়। এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল বর্ণে রূপান্তরিত করে।
আয়ন উৎপাদন : ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোক্সাইড আয়ন ($\mathrm{OH}^-$) প্রদান করে।
প্রশমন ক্ষমতা : এটি এসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
মাটির অম্লত্ব দূরীকরণ : মাটিতে এসিডিটি বেড়ে গেলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা মিল্ক অব লাইম মাটিতে প্রয়োগ করলে তা প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মাটির এসিডিটি দূর করে উর্বরতা ফিরিয়ে আনে।
pH মান : ক্ষারীয় পদার্থ হওয়ায় এর জলীয় দ্রবণের pH মান সব সময় ৭-এর বেশি থাকে।
উদ্দীপকের রাসায়নিক বিক্রিয়াটি হলো—
সুতরাং প্রদত্ত বিক্রিয়ায় প্রথম বিক্রিয়ক যৌগটি হলো নাইট্রিক এসিড ($\mathrm{HNO}_3$)। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি খনিজ এসিড, যা আমাদের প্রাত্যহিক ও শিল্পজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো—
সার উৎপাদন : কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সার কারখানায় নাইট্রিক এসিডের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। এটি ব্যবহার করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{NH}_4\mathrm{NO}_3$) নামক অতি প্রয়োজনীয় সার তৈরি করা হয়। এই সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং অধিক ফসল উৎপাদনে সরাসরি সহায়তা করে।
পরিষ্কারক হিসেবে: বাসাবাড়িতে টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত শক্তিশালী পরিষ্কারকসমূহের অন্যতম মূল উপাদান হলো নাইট্রিক এসিড। এটি টয়লেটের কঠিন দাগ ও জীবাণু দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার: নাইট্রিক এসিড একটি শক্তিশালী বিক্রিয়ক হওয়ায় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ও গবেষণাগারে নানা প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ধাতু নিষ্কাশন এবং স্বর্ণালংকার পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও এই এসিডের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
৬. উদ্দীপক
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী সৌরভদের বাসার জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল নিচে নির্ণয় করা হলো—
দেওয়া আছে,
১টি টেলিভিশনের ক্ষমতা = ২০০ ওয়াট
$ herefore$ ৫টি বাতির ক্ষমতা = ($৫ \times ৬০$) = ৩০০ ওয়াট
৪টি ফ্যানের ক্ষমতা = ($৪ \times ৭৫$) = ৩০০ ওয়াট
সুতরাং, সৌরভদের বাসার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মোট ক্ষমতা
($\mathrm{P}$) = (২০০ + ৩০০ + ৩০০) = ৮০০ ওয়াট।
প্রতিদিন চলার সময় ($\mathrm{t}$) = ৬ ঘণ্টা
জুলাই মাসের দিন সংখ্যা = ৩১ দিন
আমরা জানি,
$\therefore$ ব্যয়িত শক্তি ($\mathrm{E}$) = $\frac{(\mathrm{মোট~ক্ষমতা} \times \mathrm{দৈনিক~সময়} \times \mathrm{দিন~সংখ্যা})}{১০০০} \mathrm{~ইউনিট}$
= $\frac{(৮০০ \times ৬ \times ৩১)}{১০০০} \mathrm{~ইউনিট}$
= $\frac{১৪৮৮০০}{১০০০} \mathrm{~ইউনিট}$
= ১৪৮.৮ ইউনিট
সুতরাং, সৌরভদের বাসায় জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল হবে ১৪৮.৮ ইউনিট।
আরাফ সাহেবের উক্তিটি হলো- "দেশের উন্নয়নে শক্তির ভূমিকা অনেক বেশি”। উক্ত উক্তিটি আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো—
উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি : আধুনিক বিশ্বে একটি দেশ কতটুকু উন্নত, সেটি বোঝার প্রথম ও প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিদ্যুৎ বা শক্তি ব্যবহারের পরিমাণকে বিবেচনা করা হয়। শক্তির ব্যবহার যত বেশি হবে, দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বেশি গতিশীল হবে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার : বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার ল্যাব এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার শক্তির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। বিদ্যুৎ শক্তি ছাড়া আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার গতি ব্যাহত হয়।
কৃষি খাতের উন্নয়ন : বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তির ভূমিকা অপরিসীম। জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য সেচ পাম্প চালানো, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার ব্যবহার এবং উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাত করতে প্রচুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তির প্রয়োজন হয়। এছাড়া সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া প্রয়োজনীয় সার উৎপাদন সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য ও শিল্পায়ন : আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় জীবন রক্ষাকারী অপারেশন থিয়েটার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি।
শক্তির অপচয় রোধ ও উন্নয়ন : যেহেতু শক্তির উৎস (যেমন- প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা) সীমিত এবং এগুলো নিঃশেষ হয়ে গেলে উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়বে। তাই ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেলে সেই উদ্বৃত্ত শক্তি জাতীয় উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিল্প- প্রতিটি মৌলিক খাতের চাকা সচল রাখতে শক্তির কোনো বিকল্প নেই। তাই জাতীয় উন্নয়নের জন্য শক্তিকে অপরিহার্য বিবেচনা করে বলা যায়, আরাফ সাহেবের দেওয়া উক্তিটি যথার্থ।
৭. উদ্দীপক
তথ্য-১ : আমরা হাঁটার সময় জুতার তলা এবং মেঝের সাথে এক ধরনের বলের সৃষ্টি হয়।
তথ্য-২ : মি. কাদের ১৫০ কেজি ভরের একটি ড্রাম ১০৫০ নিউটন বলে সামনের দিকে গড়িয়ে দিল।
উদ্দীপকের তথ্য-২ অনুযায়ী,
বস্তুটির ভর, $\mathrm{m} = ১৫০ \mathrm{~কেজি}$
প্রযুক্ত বলের মান, $\mathrm{F} = ১০৫০ \mathrm{~নিউটন}$
আমরা জানি,
নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে,
$\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
বা, $\mathrm{a} = \frac{\mathrm{F}}{\mathrm{m}}$
বা, $\mathrm{a} = \frac{১০৫০}{১৫০} \mathrm{~মি./সে.}^২$
$ herefore$ ত্বরণ, $\mathrm{a} = ৭ \mathrm{~মি./সে.}^২$
সুতরাং, মি. কাদেরের গড়িয়ে দেওয়া বস্তুটির ত্বরণ ৭ $\mathrm{মি./সে.}^২$।
উদ্দীপকের তথ্য-১-এ উল্লিখিত বলটি হলো ঘর্ষণ বল। হাঁটার সময় জুতার তলা ও মেঝের ঘর্ষণের ফলে যে বল তৈরি হয়, তা আমাদের চলাচলের জন্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি বিভিন্ন কারণে একে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা প্রয়োজন। নিচে এর প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো—
চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য: হাঁটার সময় আমরা পা দিয়ে মেঝের ওপর পেছনের দিকে বল প্রয়োগ করি। ঘর্ষণ বলের কারণে মেঝে আমাদের ওপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে, যার ফলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। ঘর্ষণ না থাকলে বা খুব কম হলে (যেমন- পিচ্ছিল মেঝে বা পিচ্ছিল রাস্তায়) আমরা পিছলে পড়ে যেতাম।
ক্ষয় রোধ করা: ঘর্ষণের কারণে জুতার তলা এবং মেঝের উপরিভাগ ক্রমাগত ক্ষয় হয়। যদি এই ঘর্ষণ বলকে সীমিত না রাখা যায়, তবে জুতা ও মেঝের স্থায়িত্ব কমে যাবে এবং অল্প সময়েই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
শক্তির অপচয় কমানো: ঘর্ষণের ফলে যান্ত্রিকশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত শক্তির অপচয়। এটি কমাতে হবে। অতিরিক্ত ঘর্ষণ অপ্রয়োজনীয় তাপ সৃষ্টি করে পরিবেশের এবং সংশ্লিষ্ট বস্তুর ক্ষতি করতে পারে।
গতির স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা: ঘর্ষণ গতির বিপরীত দিকে কাজ করে গতিরোধ করে। ঘর্ষণকে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমিত রাখলে পেশি বা ইঞ্জিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, ঘর্ষণ আমাদের জীবনের একটি 'প্রয়োজনীয় উপদ্রব'। এটি ছাড়া আমরা যেমন হাঁটতে পারতাম না বা কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে পারতাম না, তেমনি এর মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হলে তা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও শক্তির অপচয় ঘটায়। তাই জীবনের স্বাভাবিক গতিধারা বজায় রাখতে ঘর্ষণ বলকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৮. উদ্দীপক
উদ্দীপকে উল্লিখিত নদীর পানি দূষণের প্রধান কারণ হলো চামড়ার কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য। নিচে এই দূষণের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো—
শিল্প বর্জ্য নিক্ষেপ : উদ্দীপক অনুযায়ী সালেহার বাড়ির পাশে অবস্থিত চামড়ার কারখানাগুলো প্রতিদিন তাদের উৎপাদিত বর্জ্য সরাসরি নদীর পানিতে ফেলছে। শিল্প-কারখানায় সৃষ্ট বর্জ্য নদ-নদীর পানি দূষণের সবচেয়ে বড়ো কারণ।
বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে বা ট্যানিং শিল্পে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয়। এই অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং কালো হয়ে যায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়।
দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব: কারখানার এই জৈব ও অজৈব বর্জ্যগুলো পচনের সময় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পরিশেষে বলা যায়, কল-কারখানার বর্জ্য পরিশোধনের যথাযথ ব্যবস্থা না করে সরাসরি নদীতে নিক্ষেপ করাই উদ্দীপকে বর্ণিত নদী দূষণের মূল কারণ।
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে, সালেহা চামড়ার কারখানার বর্জ্যে দূষিত নদীর পানি ব্যবহারের পূর্বে বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিশোধন করেন। সালেহার ব্যবহৃত সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
পরিস্রাবণ: নদীর পানিতে থাকা অদ্রবণীয় ময়লা, বালু এবং মাটির কণা দূর করার জন্য সালেহা পরিস্রাবণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এটি মূলত ছাঁকন প্রক্রিয়া, যেখানে বালুর স্তর বা ফিল্টার পেপারের মাধ্যমে পানিকে পরিষ্কার করা হয়।
ক্লোরিনেশন: বন্যা বা অতি দূষণের সময় পানি ফোটানো সম্ভব না হলে সালেহা ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন ট্যাবলেট (যেমন- হ্যালোজেন ট্যাবলেট) ব্যবহার করতে পারেন। এটি পানির ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ধ্বংস করে পানিকে নিরাপদ করে।
স্ফুটন : পানিকে পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো স্ফুটন। পানিকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটালে এতে থাকা অধিকাংশ রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায় এবং পানি ব্যবহারের উপযোগী হয়।
পাতন: যদি সালেহার অত্যন্ত বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়, তবে তিনি পাতন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে পানিকে বাষ্পীভূত করে পুনরায় ঘনীভূত করার মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। ঔষধ তৈরি বা গবেষণাগারে সাধারণত এই পানি ব্যবহৃত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, নদীর শিল্প বর্জ্য মিশ্রিত পানিকে নিরাপদ করতে সালেহা তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী উপরের পদ্ধতিগুলো এককভাবে বা পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করে থাকেন।