১. উদ্দীপক
মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রচেষ্টা নিম্নরূপ-
১. মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে ঘৃণা না করে সহানুভূতির সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
২. মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ও তার পরিবারকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক সঠিক পরামর্শ দেওয়া।
৩. পুনর্বাসন করে সমাজের স্বাভাবিক স্রোতে এনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।
দুধ ও ফলমূলে থাকা ভিটামিন-A, ভিটামিন-C, ভিটামিন-D ইত্যাদি দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেহেতু এসব ভিটামিন জীবজ উৎস বা উদ্ভিদজাত খাদ্য থেকে পাওয়া যায় এবং এদের রাসায়নিক গঠন জৈব যৌগের মতো, তাই ভিটামিনকে জৈব প্রকৃতির যৌগিক পদার্থ বলা হয়।
উদ্দীপকে T ও S অর্থাৎ ভাত, রুটি এবং মাছ, ডিম হলো যথাক্রমে শর্করা ও আমিষ জাতীয় খাদ্য। দেহ গঠনের জন্য আমিষ অধিক উপযোগী। মাছ ও ডিমে প্রচুর পরিমাণে আমিষ বা প্রোটিন থাকে। আমিষ দেহের কোষ, টিস্যু, পেশি, হাড় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন এবং ক্ষয়প্রাপ্ত কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেহকোষের গঠন বস্তুর বেশিরভাগই আমিষযুক্ত। দেহের অস্থি, পেশি, লোম প্রভৃতি আমিষ দিয়ে তৈরি হয়। দেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% আমিষ। শিশু-কিশোরদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্যও আমিষ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই আমিষ জাতীয় খাদ্যকে দেহ গঠনকারী খাদ্য বলা হয়।
অন্যদিকে ভাত, রুটি মূলত শর্করাজাতীয় খাদ্য। এতে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, যা শরীরে শক্তি ও তাপ উৎপাদন করে দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা দেয়। তবে এগুলো দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণে তুলনামূলক কম ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য মাছ ও ডিম অর্থাৎ S অধিক উপযোগী।
২. উদ্দীপক
এনার্জি সেভিং বাল্বের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ-
১. সাধারণ বাল্বের চেয়ে ৩ থেকে ২৫ গুণ বেশি সময় টিকে।
২. ২০ – ৮০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
৩. শক্তির অপচয় কমানো যায়।
৪. এনার্জি সেভিং বাল্ব পরিবেশবান্ধব।
উদ্দীপকের A চিত্রে উল্লিখিত—
বাল্ব দুটির মোট ক্ষমতা = (৪০ + ১০০) ওয়াট = ১৪০ ওয়াট
আমরা জানি, জানুয়ারি মাস = ৩১ দিন
∴ মোট সময় = (৬ × ৩১) ঘণ্টা = $১৮৬$ ঘণ্টা
∴ ব্যয়িত শক্তি $=\frac{\text { ক্ষমতা × সময় }}{\text { ১০০০ }}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
$=\frac{১৪০ \times ১৮৬}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা
= ২৬.০৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা= ২৬.০৪ ইউনিট
অতএব, A চিত্রের বাল্ব দুটি দৈনিক ৬ ঘণ্টা ব্যবহৃত হলে জানুয়ারি মাসে ২৬.০৪ ইউনিট শক্তি ব্যয়িত হবে।
উদ্দীপক উল্লিখিত A ও B চিত্রে যথাক্রমে সমান্তরাল ও সিরিজ বর্তনী দেখানো হয়েছে। বর্তনী দুটির মধ্যে সমান্তরাল বর্তনী গৃহে ব্যবহার সুবিধাজনক। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
আমরা জানি, সিরিজ সংযোগে একই বিদ্যুৎ প্রবাহ দুটি বাল্বের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়। একটি বাল্ব বিদ্যুৎপ্রবাহে যতটুকু বাধা দেয়, দুটি বাল্ব তার চেয়ে বেশি বাধা দেয়। তাই একটি বাল্ব যত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে দুটি বাল্ব তার চেয়ে কম উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। চিত্র-B সিরিজ বর্তনীর দুটি বাল্ব এর একটি বাল্ব ফিউজ হয়ে গেলে সমস্ত বর্তনীর মধ্যদিয়েই বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপর বাল্বটি জ্বলে না। আবার সুইচ অন করলে একই সাথে দুটি বাল্ব জ্বলে ওঠে। সুইচ অফ করলে একই সাথে দুটি বাল্ব নিভে যাবে। বাল্ব দুটিকে পৃথকভাবে জ্বালানো বা নিভানো যায় না।
অপরদিকে, চিত্র-A সমান্তরাল বর্তনীটির বাল্বগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি বাল্বের মধ্যদিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি বাল্ব ফিউজ হলেও অন্য বাল্বটি জ্বলে। প্রতিটি বাল্বই পৃথক পৃথকভাবে জ্বালানো ও নেভানো যায়। প্রতিটি বাল্বের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি বাল্বই বিদ্যুৎ কোষের পূর্ণ বিদ্যুৎ চালকশক্তি পায়। ফলে বর্তনীর দুটি বাল্বই সমান উজ্জ্বলভাবে জ্বলে।
উপরের বর্ণনার আলোকে স্পষ্ট যে, চিত্র-A ও চিত্র-B এর মধ্যে চিত্র-A এর সমান্তরাল বর্তনীটি গৃহে ব্যবহার অধিক সুবিধাজনক।
৩. উদ্দীপক
Y → ধমনি
Z → মানব হৃৎপিণ্ড
উদ্দীপকে উল্লিখিত X, Y ও Z হলো যথাক্রমে শিরা, ধমনি ও মানব হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সঞ্চালন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ, যার কাজ হলো সারা দেহে রক্ত পাম্প করা। হৃৎপিণ্ড অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দেয় এবং দূষিত রক্ত পুনরায় সংগ্রহ করে ফুসফুসে পাঠায়, বিশুদ্ধ করার জন্য। এ গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে শিরা ও ধমনির প্রয়োজন হয়।
ধমনি হলো সেই রক্তনালি যা হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করে। সাধারণত ধমনির মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের কোষে পৌঁছে যায়। এর ফলে কোষগুলো প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করতে পারে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় এটি উচ্চচাপে রক্ত পরিবহন করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, শিরা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত দূষিত রক্ত সংগ্রহ করে হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। এরপর হৃৎপিণ্ড সেই রক্ত ফুসফুসে পাঠায়, যেখানে রক্ত অক্সিজেন গ্রহণ করে পুনরায় বিশুদ্ধ হয়। শিরার মধ্যে কপাটিকা থাকায় রক্ত উল্টো দিকে প্রবাহিত হতে পারে না এবং সঠিকভাবে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।
এভাবে হৃৎপিণ্ড, শিরা ও ধমনি একসাথে কাজ করে দেহে রক্ত সঞ্চালন অব্যাহত রাখে, অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে এবং দেহকে সুস্থ ও সচল রাখতে সাহায্য করে।
৪. উদ্দীপক
(A) (B)
$2\mathrm{KOH}+ \mathrm{H}_2\mathrm{SO}_4 \rightarrow \mathrm{K}_2\mathrm{SO}_4 + 2\mathrm{H}_2\mathrm{O}$
এটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া। কারণ, এখানে ক্ষারক KOH ও এসিড H₂SO₄ পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ K₂SO₄ এবং পানি H₂O উৎপন্ন করেছে। আমরা জানি, এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি হলে তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলা হয়। যেহেতু উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষারক বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাই বিক্রিয়াটি প্রশমন বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
H₂SO₄ বা সালফিউরিক এসিডকে শিল্পের “রাজা” বলা হয়। এটি সার শিল্প, ব্যাটারি তৈরি, পেট্রোলিয়াম পরিশোধন, রং, ঔষধ, বিস্ফোরক ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। একটি দেশের শিল্পোন্নয়ন অনেকাংশে সালফিউরিক এসিডের ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।
অন্যদিকে KOH (পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড) সাবান, ক্ষারীয় ব্যাটারি ও কিছু রাসায়নিক দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও এর ব্যবহার H₂SO₄ এর তুলনায় সীমিত।
তাই বলা যায়, শিল্পক্ষেত্রে KOH অপেক্ষা H₂SO₄ এর ব্যবহার অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৫. উদ্দীপক
উদ্দীপকের A উপাদানটি রক্তরস। রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে। রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% বিভিন্ন রকমের জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। নিচে রক্তরসের কাজ ব্যাখ্যা করা হলো—
১. রক্তকণিকাসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহন করে।
৩. শ্বসনের ফলে কোষে সৃষ্ট CO₂ কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহন করে।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহন করে।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করে।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রের B উপাদানটি রক্তকণিকা বা রক্তকোষ। মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তকোষ রয়েছে। এগুলো হলো- লোহিত রক্তকোষ, শ্বেত রক্তকোষ এবং অণুচক্রিকা। এসব রক্তকোষ মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন করে।
১. লোহিত রক্তকোষ দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
২. লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করে।
৩. শ্বেত রক্তকোষ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে এবং রক্তবাহিকায় রক্তের জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।
৪. শরীরের কোনো ক্ষতস্থান হতে রক্তক্ষরণ হলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে, রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।
রক্তকোষসমূহের উপর্যুক্ত কর্মকাণ্ডগুলো যথাযথভাবে সম্পাদনের ফলেই মানবদেহ সুস্থ থাকে। কিন্তু এসব রক্তকোষের যেকোনোটির অনুপস্থিতিতেই মানবদেহ অসুস্থ হয়ে পড়বে। বন্ধ হয়ে যাবে দেহের অনেক কার্যক্রম।
সুতরাং, রক্তকোষ মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৬. উদ্দীপক
B → পানির লবণাক্ততা
C → জনসচেতনতা বাড়ানো
সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদনদী, খালবিল, পুকুর, ভূগর্ভস্থ পানি আর হ্রদের পানিতে মিশে যাবে। এক কথায় পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়বে। পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলে মিঠা পানিতে বসবাসরত জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তার কারণ, পানির তাপমাত্রা বাড়লে যেরকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, ঠিক সেরকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যায়। যার ফলে জলজ প্রাণীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। আবার জলজ উদ্ভিদের বড়ো অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে।
উদ্দীপকের A হলো জলাভূমি এবং C হলো জনসচেতনতা বাড়ানো। জলাভূমি আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া জলাভূমি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পকারখানার বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং জলাভূমি ভরাটের কারণে এসব জলাভূমি ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই জলাভূমি রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মানুষ জলাভূমির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে এবং এগুলো সংরক্ষণে আগ্রহী হবে। সচেতন মানুষ জলাভূমিতে বর্জ্য ফেলবে না, অবৈধভাবে ভরাটের বিরোধিতা করবে এবং পরিবেশ রক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব।
অতএব, জলাভূমি রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া কোনোভাবেই জলাভূমি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, জলাভূমি রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
৭. উদ্দীপক
(ii) স্থির বাস চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনের দিকে হেলে যায় কিন্তু চলন্ত বাস ব্রেক কষলে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
উদ্দীপক (i) অনুযায়ী,
বস্তুর ভর, $\mathrm{m} = 200~\mathrm{kg}$
প্রয়োগকৃত বল, $\mathrm{F} = 800~\mathrm{N}$
ত্বরণ, $\mathrm{a} = ?$
আমরা জানি,
$\mathrm{F} = \mathrm{ma}$
বা, $\mathrm{a} = \frac{\mathrm{F}}{\mathrm{m}} = \frac{800~\mathrm{N}}{200~\mathrm{kg}} = 4~\mathrm{ms}^{-2}$
অতএব, উদ্দীপক (i) এর বস্তুটির ত্বরণ $4~\mathrm{ms}^{-2}$।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা বলে। স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পেছনের দিকে হেলে পড়ল স্থিতি জড়তার কারণে। গাড়িটি যখন স্থিতিশীল ছিল তখন আরোহীদের সমস্ত দেহই স্থিতিশীল ছিল। বাসটি আবার চলতে শুরু করার সাথে সাথে যাত্রীদের দেহের নিম্নাংশ গতিশীল হয় কিন্তু শরীরের উপরের অংশ স্থিতি জড়তার কারণে স্থির থাকতে চায়। ফলে শরীরের নিচের অংশ থেকে উপরের অংশ পিছিয়ে পড়ে। এজন্য যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়ল।
আবার, গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলে। চলন্ত বাসটিতে ড্রাইভার হঠাৎ ব্রেক চাপার কারণে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল গতি জড়তার কারণে। গাড়িটি গতিশীল থাকায় আরোহীদের সমস্ত দেহই গতিশীল ছিল অর্থাৎ চলন্ত অবস্থায় বাসের সাথে যাত্রীরাও একই গতি প্রাপ্ত হয়। কিন্তু ব্রেক চাপার ফলে গাড়ি থামার সাথে সাথে যাত্রীদের দেহের নিম্নাংশ স্থির অবস্থায় থাকে, কিন্তু দেহের উপরের অংশ গতি জড়তার প্রভাবে গতি বজায় রাখতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এজন্য বাসটি হঠাৎ ব্রেক চাপায় যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল।
৮. উদ্দীপক
(ii) পলাশ ও শিমুল দুই বন্ধু হলেও পলাশ মাংস, পোলাও ও বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করে এবং শিমুল ছোটো মাছ, শাকসবজি খেতে পছন্দ করে।
১. শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
২. শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
৩. বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।
দেওয়া আছে, সেলিম সাহেবের ওজন = ৬৫ কেজি
এবং উচ্চতা = ১৬০ সে. মি. = ১.৬ মিটার
$= \frac{৬৫}{(১.৬)^২}$
$= ২৫.৩৯$
অতএব সেলিম সাহেবের BMI ২৫.৩৯।
উদ্দীপকে শিমুল ও পলাশের খাদ্যাভ্যাসের তুলনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিমুলের পছন্দের খাদ্য অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ শিমুল ছোটো মাছ ও শাকসবজি খেতে পছন্দ করে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ছোটো মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ লবণ থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ছোটো মাছের কাঁটাসহ খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়। শাকসবজিতে ভিটামিন, খনিজ লবণ ও খাদ্যআঁশ থাকে, যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
অন্যদিকে, পলাশ মাংস, পোলাও ও বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করে। এসব খাবারে অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও ক্যালরি থাকে। এগুলো বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার হজমের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।
সুতরাং, পুষ্টিগুণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখার দিক থেকে শিমুলের পছন্দের খাদ্য পলাশের খাদ্যের তুলনায় অধিক স্বাস্থ্যসম্মত।