১. উদ্দীপক
রনির উচ্চতা = ১৫০ সে.মি. = ১.৫ মি.
রনির ওজন = ৭০ কেজি
আমরা জানি,
BMI=$\frac{\text { দেহের ওজন (কেজি) }}{\text { দেহের উচ্চতা (মিটার) }২}$
$=\frac{\text { ৭০ }}{(১ . ৫)২}=$ ৩১.১১
∴ রনির BMI হলো ৩১.১১ (প্রায়)
'গ' হতে পাই,
রনির BMI হচ্ছে ৩১.১১। ভরসূচি অনুযায়ী রনির এই অবস্থা হচ্ছে স্থূল। রনি সুস্থ দেহের অধিকারী নয়। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকের রনির BMI ৩১.১১। তিনি ভাত, মাছ, মাংস এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্য খেতে পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে তিনি শারীরিক সুস্থতার জন্য সুষম খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখেন না। তিনি শর্করা ও প্রোটিন ও চর্বিজাতীয় খাবার তালিকায় বেশি রাখেন। ফলে শরীরে অতিরিক্ত শর্করা ও প্রোটিন শরীরে জমে স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে বেশি স্থূল হয়ে পড়েছেন।
তিনি শারীরিক ব্যায়াম পরিশ্রম করতে চান না। ফলে তিনি বেশি পরিমাণে শর্করা ও প্রোটিন খাচ্ছেন কিন্তু সেটি সঠিকভাবে ব্যয় করতে পারেন না। যার জন্য শরীরে মেদ জমছে। বর্তমানে রনির এই স্থূল অবস্থা তার শারীরিক সুস্থতার জন্য হুমকিস্বরূপ। ফলে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
এটি হতে পরিত্রাণ পেতে হলে-
১. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের ডায়েট চার্ট নির্ধারণ করবেন।
২. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম যেমন ব্যায়াম করবেন।
৩. খাবারে শাক-সবজি ও ফলমূল রাখবেন।
৪. পরিমিত পানি এবং রাফেজযুক্ত খাবার গ্রহণ করবেন যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়।
উদ্দীপকের রনি যদি সুষম খাদ্য পিরামিড এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিশ্রম করেন তবে তিনি নিজেকে উন্নত জীবন ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে পারবেন।
২. উদ্দীপক
শ্বেত রক্তকণিকার নির্দিষ্ট কোন আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড়ো আকারের কোষ। শ্বেত কোষের গড় আয়ু ১-১৫ দিন। শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন না থাকায় এটিকে White Blood Cell (WBC) বলা হয়।
এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকার পরিবর্তন করতে পারে। ফ্যাগোসাইটিস প্রক্রিয়ায় এটি জীবাণু ধ্বংস করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগ হতে সুস্থ রাখে। শ্বেত রক্তকোষ দুই ধরনের যথা দানাদার এবং অদানাদার। দানাদার শ্বেত রক্তকোষ যাদের সাইটোপ্লাজম স্বচ্ছ ও দানাহীন থাকে। এরা হলো লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট। অদানাদার শ্বেত রক্তকোষ যাদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। এদের মধ্যে হলো নিউট্রোফিল, ইউসিনোফিল এবং বেসোফিল।
লোহিত রক্তকোষ দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে; নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করে। হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য লোহিত রক্তকোষ বাফার হিসেবেও কাজ করে। পক্ষান্তরে, অণুচক্রিকার কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে সাহায্য করা। দেহের আঘাতপ্রাপ্ত অংশের অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রো-থ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। থ্রমবিন পরবর্তীকালে রক্তরসের প্রোটিন-ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাঁধায়।
উপরের আলোচনায় বলা যায় যে, মানবদেহের কার্যকারিতায় লোহিত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকার কাজ ভিন্ন কিন্তু মানবদেহের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়।
৩. উদ্দীপক
১০০ Wএর ২টি সাধারণ বাল্বের ক্ষমতা = $২ \times ১০০ = ২০০W$
৬০ W এর ২টি সাধারণ বাল্বের ক্ষমতা = $২ \times ৬০ = ১২০ W$
৪০ W এর ২টি সাধারণ বাল্বের ক্ষমতা = $২ \times ৪০ = ৮০W$
$\therefore$ মোট সাধারণ বাল্বের ক্ষমতা= $(২০০+ ১২০ + ৮০)W= ৪০০$
মার্চ মাস = ৩১ দিন
$\therefore$ মোট সময় = $৩১ \times ১০ = ৩১০$ ঘণ্টা
[যেহেতু প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে বিদ্যুতে ব্যবহার করা হয়]
আমরা জানি,
ব্যয়িত তড়িৎ শক্তি = $\frac{\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ইউনিট
$= \frac{৪০০ \times ৩১০}{১০০০} = ১২৪$ ইউনিট
১ ইউনিটের বিদ্যুৎ মূল্য ১০ টাকা।
$\therefore$ ১২৪ ইউনিটের বিদ্যুৎ মূল্য = $১২৪০$ টাকা
ইমরুল সাহেব মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করায় বিলম্ব হওয়ায় বিলের ১০% অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হয়।
$\therefore$ ১২৪০ এর $১০% = ১২৪$ টাকা।
$\therefore$ বিলম্ব ফিসহ মার্চ মাসে ইমরুল সাহেবের বিদ্যুৎ বিল
$= ১২৪০ + ১২৪ = ১৩৬৪$ টাকা।
'গ' হতে পাই,
ইমরুল সাহেবের বাড়িতে সাধারণ বাল্বের মোট ক্ষমতা = $৪০০W$
এপ্রিল মাস = ৩০ দিন।
যেহেতু তারা উভয়ই ১০ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ব্যয় করে।
$\therefore$ মোট সময় = $৩০ \times ১০ = ৩০০$ ঘণ্টা
ইমরুল সাহেবের বাড়িতে সাধারণ বাল্ব দ্বারা ব্যয়িত শক্তির পরিমাণ
$= \frac{\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা/ইউনিট
$= \frac{৪০০ \times ৩০০}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা/ইউনিট
$= ১২০$ ইউনিট
$\therefore$ ১২০ ইউনিটের মূল্য = $১২০ \times ১০ = ১২০০$ টাকা
নাহিদ সাহেবের বাড়িতে,
১৫W এর ২টি এনার্জি বাল্বের ক্ষমতা = $১৫ \times ২ = ৩০ W$
৬W এর ২টি এনার্জি বাল্বের ক্ষমতা = $৬ \times ২ = ১২ W$
৫Wএর ২টি এনার্জি বাল্বের ক্ষমতা = $৫ \times ২ = ১০ W$
এনার্জি বাল্বের মোট ক্ষমতা = $(৩০ + ১২ + ১০) W= ৫২ W$
নাহিদ সাহেবের বাড়িতে এনার্জি বাল্ব দ্বারা ব্যয়িত শক্তির পরিমাণ
$= \frac{\text{ক্ষমতা} \times \text{সময়}}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা/ইউনিট
$= \frac{৫২ \times ৩০০}{১০০০}$ কিলোওয়াট-ঘণ্টা/ইউনিট = $১৫.৬$ ইউনিট
$\therefore$ ১৫.৬ ইউনিটের মূল্য = $১৫.৬ \times ১০ = ১৫৬$ টাকা
$\therefore$ ইমরুল সাহেবের সাধারণ বাল্ব দ্বারা বিদ্যুৎ বিল (১২০০ টাকা) > নাহিদ সাহেবের এনার্জি সেভিং বাল্ব দ্বারা বিদ্যুৎ বিল (১৫৬ টাকা)।
সুতরাং এপ্রিল মাসে দুই ভাইয়ের মধ্যে নাহিদ সাহেবের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ী হবে।
৪. উদ্দীপক
দেওয়া আছে, গাড়ির ভর, $= ৫০০০ কেজি$।
গাড়ির উপর প্রযুক্ত বল, $F= ১০০ নিউটন$।
আমরা জানি, $F =ma$
= ০.০২মিটার/সেকেন্ড২
$\therefore$ গাড়িটির ত্বরণ $০.০২ মিটার/সেকেন্ড ২$
ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যেতে যে বিশেষ বল কাজ করে, সেটা হলো ঘর্ষণ বল। নিচে এটি বিশ্লেষণ করা হলো :
প্রত্যেক তলে কিছু উঁচু-নিচু খাঁজ থাকে যা খালি চোখে দেখা যায় না। কোনো বস্তু যখন অপর বস্তুর ওপর দিয়ে চলার চেষ্টা করে তখন এদের তলের এ উঁচু-নিচু খাঁজ করাতের দাঁতের মতো একে অপরের সাথে আটকে যায়। ফলে একটি তলের উপর অপর তলের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ গতির বিরুদ্ধে উৎপন্ন বলটি হচ্ছে ঘর্ষণ বল।
যখন কোনো চলমান গাড়ির ব্রেক চাপা হয় তখন তা মূলত টায়ার এবং রাস্তার মধ্যকার ঘর্ষণ বল বৃদ্ধি করে। এ ঘর্ষণ বলটিই চলন্ত গাড়িকে থামিয়ে দেয়। জড়তার সূত্র হতে আমরা দেখি যে, একটি স্থির বস্তু সর্বদা স্থির থাকতে চায়, এটি হচ্ছে বস্তুর স্থিতি জড়তা এবং একটি গতিশীল বস্তু সর্বদা গতিশীল থাকতে চায়, এটি হচ্ছে বস্তুর গতি জড়তা। মূলত উক্ত ঘটনা ঘটবে যদি বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ করা না হয়। নিউটনের ১ম সূত্র অনুযায়ী, বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ করা না হলে স্থির বস্তু স্থির এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরল পথে চলতে থাকবে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের গাড়িটিতে বল প্রয়োগ করায় গতিশীল হয় এবং নিউটনের সূত্র অনুযায়ী গতিপ্রাপ্ত হওয়ায় সুষম বেগে সরল পথে চলতে থাকবে। কিন্তু রাস্তার সংস্পর্শে গাড়ির চাকায় ঘর্ষণ বল কাজ করায় গাড়িটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়।
উপরের আলোচনা হতে বলা যায়, ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি কিছুদূর গিয়ে থেমে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঘর্ষণ বল নামে একটি বিশেষ বল কাজ করে।
৫. উদ্দীপক
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি তড়িৎ কোষকে ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড ও মাঝখানে তড়িৎ বিশ্লেষ্য (ইলেকট্রোলাইট)। এ অ্যানোড ও ক্যাথোডকেই তড়িৎ বর্তনীতে সংযুক্ত করা হয়। অ্যানোড হলো ধনাত্মক এবং ক্যাথোড হলো ঋণাত্মক তড়িদ্বার। ব্যাটারিতে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে ক্যাথোডে ইলেকট্রন জমা হয়, অ্যানোডে ইলেকট্রন কম হয়। এর ফলে অ্যানোড ও ক্যাথোডের মধ্যে তড়িৎ বিভব পার্থক্য তৈরি হয়। এ অবস্থায় অ্যানোড ও ক্যাথোডকে পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করলে বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরু হয়।
উদ্দীপকের বর্তনীটি হচ্ছে সমান্তরাল বর্তনী। এই বর্তনী বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। নিচে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো :
১. সমান্তরাল বর্তনীতে তড়িৎ উপকরণ (বাল্ব, ফ্যান) সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেক উপকরণের মধ্যে বিদ্যুৎ ভিন্ন ভিন্ন পথে প্রবাহিত হয়।
২. সমান্তরাল বর্তনীতে একটি উপকরণ নষ্ট হলেও অন্য তড়িৎ উপকরণ চলবে।
৩. প্রতিটি তড়িৎ উপকরণ পৃথক পৃথকভাবে চালানো সম্ভব।
৪. প্রতিটি উপকরণের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে ফলে তড়িৎ উপকরণগুলো তড়িৎ কোষের পূর্ণ তড়িচ্চালক শক্তি পাবে।
৫. প্রতিটি তড়িৎ উপকরণ সমান তড়িৎশক্তি পাবে।
সুতরাং উদ্দীপকের সমান্তরাল বর্তনীটি বাসা-বাড়িতে ব্যবহারের জন্য যথার্থ।
৬. উদ্দীপক
উদ্দীপকের (i) নং হলো ভিটামিন-A। নিচে ভিটামিন A এর উৎস ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা করা হলো:
ভিটামিন A আমাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শরীর সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ভিটামিন A এর উৎস-
১. ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন A পাওয়া যায়।
২. কড মাছে প্রচুর ভিটামিন-A পাওয়া যায়।
৩. ক্যারোটিনসমৃদ্ধ শাকসবজি যেমন- লালশাক, পুঁইশাক, কলমি শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর ভিটামিন A থাকে।
৪. বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠালে ভিটামিন-A পাওয়া যায়।
কার্যাবলি :
১. দেহের স্বাভাবিক বর্ধন ও গঠনে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে।
২. দেহের আবরণীকলা সতেজ রাখে।
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
৪. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
ভিটামিন B দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পানিতে দ্রবণীয় ১২ প্রকার ভিটামিন B রয়েছে। ভিটামিনের এ গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। B কমপ্লেক্সের মধ্যে ভিটামিন-B₁ ও ভিটামিন B₁₂ শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। থায়মিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়াও স্নায়ুর দুর্বলতা, খাদ্যে অরুচি, মানসিক ক্লান্তি দেখা যায়। থায়মিনের উৎসগুলো হলো ঢেঁকিছাটা চাল, আটা, ডাল, যকৃৎ, ডিম, দুধ।
ভিটামিন-১২ যাকে সায়ানোকোবালামিন বলা হয়। এটির অভাবে রক্ত স্বল্পতা দেখা যায় এবং স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। এটি যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, পনির প্রভৃতিতে পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ভিটামিন-C শাকসবজি এবং টাটকা ফলে পাওয়া যায়। শাকসবজির মধ্যে মুলাশাক, লেটুস, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, করলা এবং ফলের মধ্যে আমলকী, লেবু, টমেটো, আনারস, পেয়ারা ইত্যাদিতে ভিটামিন C এর উৎস। ভিটামিন C শরীরের ক্ষত পুনর্গঠন; ত্বক, হাড়, দাঁতের কোষগুলোকে জোড়া লাগিয়ে মজবুত করে। এটি স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকীয় কাজে ভূমিকা রাখে। এটি ত্বক মসৃণ এবং উজ্জ্বল রাখে। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ করে। এর অভাবে স্কার্ভি হয় এবং অস্থির গঠন মজবুত হয় না। ভিটামিন-C অভাব হলে ত্বকের ঘা সহজে শুকায় না।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, ভিটামিন-C সহজলভ্য এবং এটি ভিটামিন B₁ এবং ভিটামিন B₁₂ এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৭. উদ্দীপক
দৃশ্যকল্প-২: রাহেলা বেগমের স্বামী আফসার আলী তাঁর ওষুধ শিল্পে এবং পানি বোতলজাত কারখানায় অন্য পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করেন।
পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু উপস্থিত থাকে। এ পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু মরে যায়। এজন্য পানির স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ধরে ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। পানি বিশুদ্ধকরণের এ পদ্ধতিটিই হলো স্ফুটন প্রক্রিয়া। এ পদ্ধতি বাসাবাড়িতে খাওয়ার পানি বিশুদ্ধকরণের সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায়। আর এ পদ্ধতিতেই উদ্দীপকে রাহেলা বেগম পানি বিশুদ্ধ করেন।
উদ্দীপকের আফসার আলী তার ঔষধ শিল্পে এবং বোতলজাত কারখানায় ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো যথাক্রমে পাতন পদ্ধতি ও ক্লোরিনেশন পদ্ধতি। যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে (বন্যা, দুর্যোগ) দূষিত পানি থেকে তাৎক্ষণিক নিরাপদ পানি উৎপাদনে কার্যকর। ফার্মাসিউটিক্যালস, ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশুদ্ধ পানির চাহিদা রয়েছে। যা পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা সম্ভব। এছাড়াও পাতন প্রক্রিয়ায় ন্যানো-প্রযুক্তি সম্ভাবনার দাঁড় উন্মোচন করেছে। কিন্তু পাতন পদ্ধতিটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ক্লোরিনেশন পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজবোধ্য, দ্রুত ও সাশ্রয়ী। আমাদের দেশে বন্যার সময় দ্রুত এবং সাশ্রয়ভাবে পানি বিশুদ্ধকরণে ক্লোরিনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বাজারে এটি কীট বা ট্যাবলেট হিসেবে পরিচিত। সাধারণত হোটেল, রেস্তোরাঁ, পানীয় শিল্পে বড়ো আকারে বোতলজাত পানির প্রয়োজন হয়। এজন্য বোতলজাত কারখানায় দ্রুত ও সহজলভ্য প্রক্রিয়ায় ক্লোরিনেশন পদ্ধতি ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করা হয়।
সুতরাং আফসার আলীর ব্যবহৃত পাতন ও ক্লোরিনেশন পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতিগুলোর রাষ্ট্রীয় ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে ভূমিকা অপরিসীম।
৮. উদ্দীপক
পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য আমাদের হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। সাধারণত আমাদের পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য HCI নিজে থেকেই নিঃসৃত হয়। কিন্তু যদি HCI বেশি নিঃসৃত হয় তখন এসিডিটি হয়। HCI বেশি নিঃসৃত হওয়ার মূল কারণ হলো খাদ্য দ্রব্য। অম্লীয় পানীয় বা ফলের রস খালি পেটে পান করলে HCI বেড়ে যায়।
এছাড়াও বেশি ভাজা, তেলযুক্ত এবং চর্বিজাতীয় খাবার খেলে পেটে HCI বেশি নিঃসৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ এবং অতিরিক্ত মসলা দেওয়া খাবার, চকলেট এগুলোও এসিডিটি তৈরি করে। যেহেতু লিটন তার বন্ধুর বিয়েতে পর্যাপ্ত বিরিয়ানি, মাংস ও অন্যান্য খাবার খেলেন যা অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত ছিল। এজন্য লিটনের পেটে HCI এর পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এসিডিটি হয়।
লিটনের শরীরে উদ্দীপকের সমস্যা (পেট ব্যথা, বদ হজম) সমাধানে সঠিক খাদ্য নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো :
আমরা জানি যে, পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয় এবং এটি নিজে থেকেই আমাদের পাকস্থলীতে তৈরি হয়। যখন এটি বেশি মাত্রায় তৈরি হয় তখন এসিডিটি হয়। যার ফলে পেট ব্যথা ও বদ হজমের মতো সমস্যা তৈরি হয়।
HCI বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ যেহেতু খাদ্যবস্তু। সেহেতু সঠিক খাদ্যবস্তু নির্বাচন করা উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য খুবই যুক্তিসঙ্গত।
এজন্য-
১. যেসব খাদ্যদ্রব্য বা পানীয়ের কারণে এসিডিটি হয়, সেগুলো অতিরিক্ত গ্রহণ না করে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন ক্ষেত্রে ঐ খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. বেশ কিছু খাদ্যদ্রব্য আছে যেগুলো কিছুটা ক্ষারধর্মী এবং ফলে এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে পারে। ঐ সব খাদ্য গ্রহণ করে এসিডিটি দূর করতে পারি। এসব খাদ্যের রয়েছে বেশির ভাগ শাকসবজি যেমন- ব্রকলি, পালংশাক, গাজর, শিম ইত্যাদি।
৩. বেশ কিছু খাদ্যশস্য আছে যা এসিডিটি কমাতে সহায়তা করে। যেমন- সয়া মাখন, সয়া দুধ, বাদাম দুধ প্রভৃতি।
সুতরাং লিটনের সমস্যা সমাধানে সঠিক খাদ্য নির্বাচনের যৌক্তিকতা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।