১. উদ্দীপক
স্নেহ জাতীয় খাবারের প্রধান কাজ হলো দেহের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় রাখা। এটি আমাদের ত্বকের নিচে মেদ হিসেবে জমা থাকে এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নরম ও সংবেদনশীল অঙ্গসমূহকে বাহ্যিক আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া স্নেহ পদার্থে দ্রবণীয় চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যথা— এ, ডি, ই এবং কে-কে শরীরের ভেতরে শোষিত হতে এটি সরাসরি সহায়তা করে। এই উপাদানটি শরীরের ত্বকের মসৃণতা ও সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বককে শুষ্ক বা খসখসে হওয়া থেকে রক্ষা করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস হিসেবে এটি শরীরে সঞ্চিত থাকে এবং প্রয়োজনে দেহে প্রয়োজনীয় ক্যালরির জোগান নিশ্চিত করে। যদিও শফিক সাহেব এটি কম গ্রহণ করেন, তবে পাঠ্যবইয়ের তথ্যমতে সুষম খাদ্যতালিকায় স্নেহ পদার্থের পরিমিত উপস্থিতি সুস্থ ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।
বিএমআই বা দেহের ভরসূচি এবং জীবনযাত্রার মান গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের মধ্যে শফিক সাহেব অধিকতর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। নিচে তা গাণিতিক বিশ্লেষণসহ ব্যাখ্যা করা হলো—
বিএমআই (BMI) বা দেহের ভরসূচি হলো মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য দেহের উচ্চতার সাথে ওজনের সামঞ্জস্য রক্ষা করার একটি বহুল ব্যবহৃত বৈজ্ঞানিক নির্দেশক।
উদ্দীপকের তথ্যমতে,
রহিম সাহেবের ওজন ৮০ কেজি এবং উচ্চতা ১৬০ সে.মি. বা ১.৬ মিটার।
আমরা জানি,
$\mathrm{BMI} = \frac{\text{দেহের ওজন (কেজি)}}{\text{[দেহের উচ্চতা (মিটার)]}^২}$
রহিম সাহেবের বিএমআই হলো = $\frac{৮০}{(১.৬)^2} = ৩১.২৫$
অন্যদিকে,
শফিক সাহেবের ওজন ৬০ কেজি এবং উচ্চতা ১৫০ সে.মি. বা ১.৫ মিটার
শফিক সাহেবের বিএমআই = $\frac{৬০}{(১.৫)^২} = ২৬.৬৭$
গাণিতিক এই ব্যবধানটিই তাদের শারীরিক অবস্থার মৌলিক পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিএমআই মানদণ্ড অনুযায়ী ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলো সুস্বাস্থ্যের আদর্শ সীমা, যেখানে শফিক সাহেব রহিমের তুলনায় এই সীমার অনেক বেশি কাছে অবস্থান করছেন। রহিম সাহেবের বিএমআই ৩০-এর উপরে হওয়ায় তিনি মূলত 'স্থূল' বা মেদবহুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রহিম সাহেবের এই অতিরিক্ত মেদ তার দেহে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং তাকে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিপরীতে, শফিক সাহেবের বিএমআই মান নির্দেশ করে যে তিনি রহিমের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়াও দেখা যায়, শফিক সাহেব নিয়মিত ব্যায়াম এবং পরিমিত স্নেহজাতীয় খাবার গ্রহণের মাধ্যমে একটি উন্নত জীবনধারা বজায় রাখছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা তার মাংসপেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ রাখছে এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। অন্যদিকে, রহিম সাহেবের উচ্চ বিএমআই তার অগোছালো জীবনযাত্রারই প্রতিফলন মাত্র। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, বৈজ্ঞানিক সূচক এবং সচেতন জীবনযাপন উভয়দিক থেকেই শফিক সাহেব তাঁর বন্ধু রহিম সাহেবের তুলনায় বেশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
২. উদ্দীপক
উদ্দীপক অনুসারে, সুমি টক ফল খেতে পছন্দ করে। যা ভিটামিন সি নামে পরিচিত। নিচে ভিটামিন সি এর কাজ ব্যাখ্যা করা হলো—
ভিটামিন সি শরীরে যেসব কাজ করে:
১. ত্বক, হাড়, দাঁত ইত্যাদির কোষসমূহকে পরস্পরের সাথে জোড়া লাগিয়ে মজবুত গাঁথুনি তৈরি করে।
২. শরীরের ক্ষত পুনর্গঠনের কাজে সাহায্য করে।
৩. দাঁত ও মাড়ি শক্ত রাখে।
৪. স্নেহ, আমিষ ও অ্যামাইনো এসিডের বিপাকীয় কাজে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. ত্বক মসৃণ এবং উজ্জ্বল রাখে।
৬. রোগ প্রতিরোধ করে।
উদ্দীপকে রুমির পছন্দ ও অপছন্দকৃত খাদ্য উপাদানের মধ্যে তার অপছন্দকৃত উপাদান অর্থাৎ আঁশযুক্ত ফল ও শাকসবজি (রাফেজ) হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি কমায়।
উদ্দীপক অনুসারে রুমি বার্গার ও প্যাটিসের মতো ফাস্ট ফুড খেতে পছন্দ করে এবং ফল ও শাকসবজি একদমই পছন্দ করে না। ফাস্ট ফুডে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ চর্বি ও চিনি থাকে, যা শরীরে চর্বিকলায় রূপান্তরিত হয় এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় স্থূলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে, রুমির অপছন্দকৃত আঁশ বা রাফেজ প্রধানত উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায় এবং এটি সরাসরি খাদ্যনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হতে পারে। রাফেজ শরীর থেকে অপাচ্য খাদ্য নিষ্কাশনে এবং পরিপাকে সরাসরি সহায়তা করে।
রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাবার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং বারবার ক্ষুধার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, রাফেজযুক্ত খাদ্য গ্রহণ হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করে। রুমি তার খাদ্য তালিকায় ফল ও সবজি না রাখায় সে মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ রাফেজ বা আঁশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম রাফেজ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে নিয়মিত ফাস্ট ফুড গ্রহণের ফলে তার শরীরে মেদ জমা হওয়ার এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সুতরাং, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, রুমির অপছন্দকৃত আঁশযুক্ত খাবারগুলোই একটি সুস্থ ও উন্নত জীবনধারা বজায় রাখতে এবং হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে শ্রেষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।
৩. উদ্দীপক
এই গলিত বরফের পানি নদী ও অন্যান্য উৎস হয়ে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে মিশছে, যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো বিশ্বের নিচু ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলোর ওপর। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়লে এই অঞ্চলগুলোর সরাসরি লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিতে পড়বে। সুতরাং, তাপমাত্রার এই সামান্য বৃদ্ধিও নিচু দেশগুলোর জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
স্ফুটন : এটি পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি। পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত রোগজীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। সাধারণত পানি ফুটতে শুরু করার পর আরও ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি পান করার জন্য নিরাপদ বা বিশুদ্ধ হয়। বাসাবাড়িতে খাওয়ার পানির জন্য এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি।
পরিস্রাবণ : এটি তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে অদ্রবণীয় কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। বালির স্তরের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করলে বা খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করে পানির অদ্রবণীয় ময়লা-আবর্জনা দূর করা যায়। বর্তমানে অনেক বাসাবাড়িতে উন্নত মানের ফিল্টার ব্যবহার করে পানি পরিস্রাবণ করা হয়।
ক্লোরিনেশন : যদি পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা দূর করা হয়, যাকে ক্লোরিনেশন বলে। এক্ষেত্রে ব্লিচিং পাউডার বা ক্লোরিন ট্যাবলেট (যেমন- সোডিয়াম হাইপো-ক্লোরাইট) ব্যবহার করা হয়। এর মাঝে থাকা ক্লোরিন পানিতে থাকা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। বন্যার সময় বা জরুরি অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করতে এটি বেশ কার্যকর।
সুতরাং, উদ্দীপকের সাবিনা তার সচেতনতার মাধ্যমে এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে পরিবারের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা প্রদান করছে।
উদ্দীপকের নদী ও পুকুরের পানি দূষণ রোধে সরকারি কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে দেখা যায়, কলকারখানার বর্জ্য এবং গ্রামের মানুষের অসচেতন ব্যবহারের ফলে নদী ও পুকুরের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পানিদূষণ প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান কৌশল হলো দূষণের কারণগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। শিল্পকারখানার মালিকদের অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলার বিষয়ে সচেতন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন সেমিনার বা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে পুকুর বা নদীর পানিতে কাপড় কাচা বা গোসল করার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক র্যালি বা জলাভূমি পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পানি রক্ষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। পানি প্রাপ্তি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তাই এটি সংরক্ষণের দায়িত্বও সবার।
উদ্দীপকের সাবিনার মতো প্রতিটি নাগরিক যদি পানি বিশুদ্ধকরণের পাশাপাশি দূষণ রোধে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হয়, তবেই এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ এবং সঠিক প্রচারণাই পারে একটি সুস্থ ও দূষণমুক্ত উন্নত জীবনধারা নিশ্চিত করতে।
৪. উদ্দীপক
রক্তের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করা। লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে দেহের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে ফুসফুসে নিয়ে আসে। এছাড়া, রক্ত আমাদের পরিপাক হওয়া খাদ্যসার বা পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বহন করে পুষ্টি নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে দেখা যায় কবিরের ক্ষত দ্রুত ভালো হচ্ছে না, যা মূলত রক্তে শর্করার আধিক্যের কারণে হতে পারে; তবে স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা 'ফ্যাগোসাইটোসিস' প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে। রক্ত দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় এবং শরীরের বর্জ্য পদার্থ (যেমন- ইউরিয়া) নিষ্কাশনের জন্য বৃক্ক বা কিডনিতে নিয়ে যায়। এছাড়া রক্তের অণুচক্রিকা শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে সেখানে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যদিও কবিরের ক্ষেত্রে ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার বিষয়টি রক্তে ইনসুলিনের অভাব বা ডায়াবেটিস রোগের ইঙ্গিত দেয়, তবুও মানবদেহের স্বাভাবিক গঠন ও সুরক্ষায় রক্তের এই বহুমুখী ভূমিকা অপরিহার্য।
উদ্দীপকের কবির সাহেবের লক্ষণসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগে আক্রান্ত এবং এই রোগটি নিরাময়যোগ্য নয় বরং নিয়ন্ত্রণযোগ্য। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
উদ্দীপক অনুসারে, কবির সাহেবের অতিরিক্ত ওজন, মিষ্টি খাবারের প্রতি আসক্তি, ঘন ঘন তৃষ্ণা ও প্রস্রাব এবং সবচেয়ে বড়ো লক্ষণ- শরীরের কাটা স্থান দ্রুত না শুকানো; এই সবগুলোই ডায়াবেটিস রোগের সুস্পষ্ট লক্ষণ। ডায়াবেটিস হলো একটি বিপাকজনিত রোগ, যা অগ্ন্যাশয় থেকে 'ইনসুলিন' নামক হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে নিঃসৃত না হলে বা শরীর তা ব্যবহার করতে না পারলে হয়ে থাকে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা কবিরের ক্ষত শুকানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
মূলত ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা যা শরীর থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা বা নিরাময় করা সম্ভব নয়, তবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে একে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের তিনটি প্রধান উপায়ের কথা বলা হয়েছে- (ক) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, (খ) ওষুধ সেবন এবং (গ) জীবন-শৃঙ্খলা। কবির সাহেবকে মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম ও প্রয়োজনে ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, কবির সাহেব যদি নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ পরীক্ষা করেন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে তার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তবে তিনি একজন সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। সুতরাং, ডায়াবেটিস একটি আজীবন বয়ে চলা রোগ হলেও সঠিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে একে আয়ত্তে রাখা সম্ভব বলে কবিরের রোগটি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ।
৫. উদ্দীপক
উদ্দীপক হতে পাই,
বাল্বের সংখ্যা ও ক্ষমতা: ২০ ওয়াটের ৫টি।
ফ্যানের সংখ্যা ও ক্ষমতা: ৭৫ ওয়াটের ৩টি।
প্রতিদিন ব্যবহারের সময়: ৫ ঘণ্টা।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য: ১২ টাকা।
সময়কাল: জানুয়ারি মাস (৩১ দিন)।
গাণিতিক হিসাব: ব্যয়িত শক্তি (E) = (ক্ষমতা × সময়)/১০০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ইউনিট
বাল্বগুলোর দৈনিক ব্যয়িত শক্তি :
$(৫\text{টি} \times ২০ \text{ওয়াট} \times ৫ \text{ঘণ্টা}) = ৫০০ $ ওয়াট-ঘণ্টা
ফ্যানগুলোর দৈনিক ব্যয়িত শক্তি :
$(৩ \text{টি} \times ৭৫ \text{ওয়াট} \times ৫ \text{ঘণ্টা}) = ১১২৫$ ওয়াট-ঘণ্টা
মোট দৈনিক ব্যয়িত শক্তি : $৫০০ + ১১২৫ = ১৬২৫$ ওয়াট-ঘণ্টা
জানুয়ারি মাসে মোট ব্যয়িত শক্তি :
$১৬২৫ \text{ওয়াট-ঘণ্টা} \times ৩১ \text{দিন} = ৫০,৩৭৫$ ওয়াট-ঘণ্টা
মোট ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) :
$৫০,৩৭৫ / ১০০০ = ৫০,৩৭৫$ ইউনিট
বিদ্যুৎ বিল নির্ণয় : আমরা জানি, মোট বিদ্যুৎ বিল = মোট ইউনিট × প্রতি ইউনিটের মূল্য
সুতরাং, শাকিবের বাসার জানুয়ারি মাসের বিল
= $৫০,৩৭৫ \text{ইউনিট} \times ১২ \text{টাকা} = ৬০৪,৫$ টাকা
সুতরাং, উদ্দীপক অনুসারে শাকিবদের বাসায় জানুয়ারি মাসের মোট বিদ্যুৎ বিল আসবে ৬০৪.৫ টাকা।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংযোগ দুটির মধ্যে সমান্তরাল সংযোগটিই বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
সিরিজ সংযোগে একই বিদ্যুৎ প্রবাহ পাঁচটি বাল্ব ও তিনটি ফ্যানের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হবে। একটি তড়িৎ উপকরণ বিদ্যুৎপ্রবাহে যতটুকু বাধা দেয়, আটটি তড়িৎ উপকরণ তার চেয়ে বেশি বাধা দেয়। তাই একটি তড়িৎ উপকরণ যতটুকু চলবে আটটি তড়িৎ উপকরণ তার চেয়ে কম চলবে। আবার শাকিবদের বাসায় সিরিজ বর্তনীর আটটি তড়িৎ উপকরণ এর একটি তড়িৎ উপকরণ ফিউজ হয়ে গেলে সমস্ত বর্তনীর মধ্যদিয়েই বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপর তড়িৎ উপকরণটি চলে না। আবার সুইচ অন করলে একই সাথে আটটি তড়িৎ উপকরণ চলে। সুইচ অফ করলে একই সাথে আটটি তড়িৎ উপকরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তড়িৎ উপকরণ আটটিকে পৃথকভাবে চালানো যায় না।
অপরদিকে, শাকিবের বাসায় সমান্তরাল বর্তনীটির তড়িৎ উপকরণগুলোর সমান্তরাল সংযোগের ফলে প্রত্যেকটি বাল্ব ও ফ্যানের মধ্যদিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পথে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই সমান্তরাল বর্তনীর একটি তড়িৎ উপকরণ ফিউজ হলেও অন্য তড়িৎ উপকরণটি চলে। প্রতিটি তড়িৎ উপকরণই পৃথক পৃথকভাবে চালানো যায়। প্রতিটি বাল্ব ও ফ্যানের প্রান্তদ্বয়ের বিভব পার্থক্য একই থাকে। অর্থাৎ সমান্তরাল বর্তনীর প্রতিটি তড়িৎ উপকরণই বিদ্যুৎ কোষের পূর্ণ বিদ্যুচ্চালকশক্তি পায়। ফলে বর্তনীর আটটি তড়িৎ উপকরণই সমানভাবে চলে। সুতরাং বলা যায় যে, শাকিবের বাসায় সমান্তরাল বর্তনীই বেশি সুবিধাজনক।
উপরের আলোচনা হতে স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত সমান্তরাল সংযোগটিই বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য বেশি উপযোগী।
৬. উদ্দীপক
বাসের ভর, $\mathrm{m} = ১০০০$ কেজি।
বাসের ত্বরণ, $\mathrm{a} = ১০ \mathrm{~m/s^২}$
নিউটনের গতির দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী আমরা জানি,
বল, $\mathrm{F}$ = ভর, ($\mathrm{m}$) × ত্বরণ ($\mathrm{a}$)
$\therefore$ প্রযুক্ত বল, $\mathrm{F} = ১০০০ \times ১০$
$= ১০,০০০$ নিউটন
অতএব, বাসটির ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান ১০,০০০ নিউটন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বাসযাত্রীদের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং পিছনের দিকে হেলে পড়ার মূল কারণ হলো বস্তুর জড়তা।
বস্তু যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা, তাকেই জড়তা বলে। উদ্দীপক অনুসারে, বাসটি যখন গতিশীল ছিল, তখন বাসের সাথে যাত্রীদের পুরো শরীরও গতিশীল ছিল। বাসটি হঠাৎ ব্রেক করার ফলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ যা বাসের সাথে সংলগ্ন ছিল, তা বাসের সাথে সাথেই স্থির হয়ে যায়। কিন্তু শরীরের উপরের অংশ গতি জড়তার কারণে তার আগের গতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে চায় এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এই কারণেই ব্রেক করার মুহূর্তে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
অন্যদিকে, বাসটি যখন পুনরায় চলতে শুরু করে, তখন বাসের সাথে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশও গতিশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু যাত্রীদের শরীরের উপরের অংশ স্থিতি জড়তার কারণে তার আগের স্থির অবস্থা বজায় রাখতে চায় অর্থাৎ স্থির থাকতে চায়। ফলে শরীরের নিচের অংশ সামনে এগিয়ে গেলেও উপরের অংশ পিছনের দিকে থেকে যেতে চায়, যে কারণে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বাসের গতির আকস্মিক পরিবর্তনের সাথে শরীরের সকল অংশ তাৎক্ষণিকভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। শরীরের বিভিন্ন অংশের এই গতির অসমতার মূলে রয়েছে স্থিতি জড়তা ও গতি জড়তা, যা নিউটনের গতির প্রথম সূত্রের একটি বাস্তব প্রতিফলন।
৭. উদ্দীপক
উদ্দীপকে প্রদত্ত সমীকরণটিকে সম্পূর্ণ করে পাই,
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, 'a' যৌগটি হলো সালফিউরিক এসিড ($\mathrm{H_2SO_4}$)। নিচে সালফিউরিক এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো—
১. এটি অজৈব এসিড ও খনিজ এসিড।
২. এটি শক্তিশালী এসিড।
৩. শরীরে লাগলে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং কাপড়ে লাগলে কাপড়ও পুড়ে যায় কিংবা ছিদ্র হয়ে যায়।
৪. এর সংস্পর্শে কোনো ধাতব পদার্থ এলে তাও ক্ষয় হয়ে যায়।
৫. এটি টয়লেট পরিষ্কারকের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৬. পানির সাথে মিশলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।
৭. ক্ষার ও ক্ষারক অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
৮. এটি পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন ($\mathrm{H^+}$) বিমুক্ত করে।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করলে পাই,
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, b হলো ক্যালসিয়াম সালফেট $\mathrm{CaSO_4}$, যা একটি লবণ। নিচে কৃষি ক্ষেত্রে ও শিল্প-কারখানায় লবণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো—
কৃষিক্ষেত্রে : মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আমরা যে চুন ব্যবহার করি তা একটি লবণ। আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করি তাদের বেশিরভাগই লবণ। যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{NH_4NO_3}$), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [$(\mathrm{NH_4})_3\mathrm{PO_4}$], পটাশিয়াম নাইট্রেট ($\mathrm{KNO_3}$) ইত্যাদি। কপার সালফেট ($\mathrm{CuSO_4.5H_2O}$) কৃষি জমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন দমনে খুবই কার্যকরী।
শিল্প-কারখানায় : শিল্প-কারখানায় নানা কাজে লবণ অপরিহার্য। যেমন- চামড়া শিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করতে এবং ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ ব্যবহার করা হয়। রাবার প্রস্তুতিতে রাবারকে ল্যাটেক্স থেকে আলাদা করা হয় লবণ ব্যবহার করে। ওষুধ কারখানায় স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষধেও লবণ ব্যবহার হয়।
৮. উদ্দীপক
উদ্দীপকে শিবলি সাহেবের লক্ষণসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। নিচে শিবলি সাহেবের রোগটি প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করা হলো—
১. ডায়াবেটিস থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা: এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য জরুরি।
২. দেহের ওজন না বাড়ানো: উদ্দীপকে শিবলি সাহেবের শরীর মেদবহুল, তাই তাকে অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৩. চর্বিযুক্ত খাদ্য বর্জন করা: যেমন- ঘি, মাখন, গরু ও খাসির বা চতুষ্পদ প্রাণীর মাংস, চিংড়ি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ করা: সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পরিমিত ও সুষম খাবার খাওয়া আবশ্যক।
৫. পরিমাণের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা: শরীরের চাহিদার বেশি খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
৬. ধূমপান থেকে বিরত থাকা: হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত।
৭. নিয়মিত ব্যায়াম করা: উদ্দীপকে বলা আছে, তিনি পরিশ্রম করেন না, তাই তাকে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস করতে
হবে।
৮. দৈনিক ৭/৮ ঘণ্টা ঘুমানো: পর্যাপ্ত বিশ্রাম হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৯. মানসিক চাপমুক্ত ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা : মানসিক প্রশান্তি শারীরিক সুস্থতার অন্যতম শর্ত।
১০. খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা : উদ্দীপক অনুযায়ী শিবলি সাহেব অতিরিক্ত লবণ খান, যা তাকে অবশ্যই বর্জন করতে হবে।
উদ্দীপকে শিবলি সাহেবের রক্তে বেড়ে যাওয়া জটিল স্নেহ পদার্থটি হলো কোলেস্টেরল, যা আমাদের দেহের জন্য যেমন অপরিহার্য ও উপকারী, তেমনি এর আধিক্য শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
নিচে কোলেস্টেরলের উপকারিতা ও অপকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো—
উপকারিতা: কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড যা মানুষের শরীরের প্রায় প্রতিটি কোষ ও টিস্যুতে বিদ্যমান থাকে। এটি মানুষের যকৃৎ এবং মগজে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। কোলেস্টেরল রক্তে অন্যান্য স্নেহ পদার্থের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের গঠনগত কাজে অংশ নেয়। বিশেষ করে উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপো প্রোটিন বা HDL শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্তে HDL এর স্বাভাবিক পরিমাণ ২০০ mg/dl এর কম। রক্তে এর সঠিক মাত্রা বজায় থাকলে তা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং, মানবদেহের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কোলেস্টেরলের ভূমিকা অপরিসীম।
অপকারিতা: অন্যদিকে, রক্তে কোলেস্টেরল বা নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL)-এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একে 'মন্দ কোলেস্টেরল' বলা হয় কারণ এর আধিক্যের ফলে ধমনির দেয়ালে চর্বি জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। যেখানে এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl এর বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উদ্দীপকে দেখা যায়, শিবলি সাহেবের মেদবহুল শরীর, শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাসের কারণে তার রক্তে এই উপাদানটি বেড়ে গেছে, যা তাকে বুকে ব্যথার মতো হৃদরোগের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়াও আর্টারিওস্কেলরোসিস, সেরিব্রাল থ্রমবোসিস, করোনারি থ্রমবোসিস হতে পারে।
সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, কোলেস্টেরল আমাদের জীবনধারণের জন্য একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও এর মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। শিবলি সাহেবের ক্ষেত্রে উপাদানটি বর্তমানে অপকারই বেশি করছে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।