নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব; তাঁদের চরিত্র ছিল নিষ্কলুষ, পুতপবিত্র ও নিষ্পাপ এবং তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ মানবজাতিকে সর্বোত্তম চরিত্রের বাস্তব শিক্ষা দিয়েছেন বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
তাঁদের চরিত্র ছিল মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ।
রিনির বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় আচার পালন করা সত্ত্বেও অন্তরে ইসলামবিরোধী চিন্তা লালন করা এবং মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার মাঝে চরম জঘন্য পাপ 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
মুখে মুসলমান দাবি করে অন্তরে কুফর গোপন রাখাই নিফাক। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। রিনির এই দ্বিমুখী আচরণ তাকে খাঁটি মুনাফিকের কাতারে শামিল করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রিতার সৌভাগ্যের আংটিকে নিজের সব সফলতার কারণ মনে করার বিশ্বাসটি ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক 'শিরক'; এ বিষয়ে তাসলিমার 'তোমার ধারণা সঠিক নয়' বক্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
ইসলামি তাওহিদের মূল ভিত্তি হলো— লাভ-ক্ষতি, ভাগ্য ও সফলতার একমাত্র একক মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। কোনো আংটি, পাথর বা জড়বস্তু মানুষের ভাগ্যে কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধনের বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখে না। জড়বস্তুকে সৌভাগ্যের কারণ মনে করা আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও তকদিরে শিরক করার শামিল।
তাসলিমা রিতার এই অন্ধবিশ্বাস দূর করে খাঁটি তাওহিদের আলোয় সঠিক ধারণা দিয়েছেন। শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।
সুতরাং, তাসলিমার বক্তব্যটি তাওহিদের মূল চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
তথ্য-১ : মামুন সাহেব বিশ্বাস করেন মাজলুম ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে এবং বিধর্মীদের ওপর মুসলমানদের, বিজয়ী করতে আল্লাহ তায়ালা আবার পয়গাম্বর প্রেরণ করবেন। ইহার প্রেক্ষিতে তার দাদা আল-কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "মুহাম্মদ (স.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রসুল এবং শেষ নবি।”
তথ্য-২ : সেলিম সাহেব নামায-রোযাসহ অন্যান্য মৌলিক ইবাদত পালন করেন। পাশাপাশি সৎভাবে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন এবং সব ধরনের পাপাচার ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে সকল কাজের জবাবদিহি করতে হবে।
কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাপী বান্দাদের মার্জনা ও জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করার বিশেষ ক্ষমতা দান করবেন বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
মহানবি (স.)-এর শাফাআত মুমিনের পরম আশ্রয়।
মামুন সাহেবের 'আল্লাহ আবার নতুন পয়গাম্বর পাঠাবেন' ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিপরীতে তাঁর দাদার সুরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-কে প্রমাণ করে।
দাদার পঠিত আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)।' রাসুলুল্লাহ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমেই নবুয়তের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে; কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি আসবেন না।
মামুন সাহেব নতুন নবির আশা পোষণ করে কুরআনের অকাট্য আকিদা লঙ্ঘন করেছিলেন, যা তাঁর দাদা নিখুঁতভাবে সংশোধন করে দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সেলিম সাহেবের পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থেকে সৎ জীবনযাপনের পেছনে আকাইদের মূল স্তম্ভ 'আখিরাতে বিশ্বাস ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি' কাজ করেছে; এর প্রভাব পাঠ্যবইয়ের আলোকে অপরিসীম।
যে ব্যক্তি মনেপ্রাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে— মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে তার জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভালো ও মন্দ প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে, সে কখনোই কোনো অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যাচার বা পাপাচারে লিপ্ত হতে পারে না।
এই পরকালীন জবাবদিহিতাই মানুষের অন্তরে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার সর্বশ্রেষ্ঠ পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। এর ফলে ব্যক্তি পুতপবিত্র জীবনের অধিকারী হয় এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
সুতরাং, আখিরাতে বিশ্বাসের কারণেই সেলিম সাহেব একজন আদর্শ ও পুণ্যবান মুমিন হতে পেরেছেন।
মুনাফিকরা প্রকাশ্য কাফিরের চেয়েও মারাত্মক বিপজ্জনক; কারণ তারা গোপনে মুসলিম সমাজের সাথে মিশে ভেতর থেকে ইসলাম ও মুসলিমদের চরম ক্ষতিসাধন ও ষড়যন্ত্র করে বলেই তারা সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকর।
মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।
জনাব রিয়াসাতের মানুষ কেবল নিজ কর্মের ওপর নির্ভরশীল মনে করে আল্লাহর সার্বিক ফায়সালাকে অস্বীকার করার বিভ্রান্তিকর ধারণা ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল স্তম্ভ 'তকদিরে বিশ্বাস'-এর পরিপন্থি।
তকদির হলো মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরম প্রজ্ঞা। মানুষ কর্ম করার চেষ্টা করবে ঠিকই, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল ও নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। আল্লাহর ক্ষমতা ও তকদিরকে বাদ দিয়ে কেবল মানুষের ইচ্ছাকে সর্বেসর্বা ভাবা আকিদাগত বড় ধরনের বিচ্যুতি।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব আনাসের নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে 'এতে দোষের কিছু নেই' মনে করার মাঝে স্পষ্ট হারামকে অস্বীকার করার 'কুফরি মনোভাব' প্রকাশ পেয়েছে; নিম্নে এর ক্ষতিকর দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আকিদাগত ক্ষতি (কুফর): ইসলামে মাদক সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মাদককে শয়তানের অপবিত্র কাজ বলেছেন (সুরা আল-মায়িদাহ: ৯০)। শরিয়তের স্পষ্ট হারামকে নির্দোষ বা হালাল মনে করা মানুষকে সরাসরি ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
২. শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি: নেশা মানুষের স্বাভাবিক বিবেক ও বুদ্ধি ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে মানুষ খুন, ব্যভিচার ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
৩. পারিবারিক ও পরকালীন ক্ষতি: মাদকাসক্তি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয় এবং হাদিস অনুযায়ী মাদক গ্রহণকারীর সালাত ও ইবাদত কবুল হয় না এবং তার ঠিকানা হয় জাহান্নাম।
সুতরাং, আনাসকে অবিলম্বে এই সর্বনাশা নেশা ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে খাঁটি তাওবা করতে হবে।
তকদির হলো মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞা; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে চরম বিপদে ধৈর্যশীল হতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন।
তকদির বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ।
জালালের সন্তানের সুস্থতার জন্য পীরের নামে গরু জবাই করা এবং পীরের কাছে রোগমুক্তি প্রার্থনা করার কাজে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' ফুটে উঠেছে।
ইসলামে পশু জবাই ও কোরবানি একমাত্র মহান আল্লাহর নামেই হতে হবে এবং রোগমুক্তি ও আরোগ্য কেবল আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। পীরের নামে পশু উৎসর্গ করা প্রকাশ্য শিরক।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— কামাল উদ্দিনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সময়মতো ঋণ পরিশোধ না করার আচরণে 'ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতের খেয়ানত' প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে সভাপতির 'আমাদের প্রত্যেকেরই কথা ও কাজের মিল থাকা উচিত' বক্তব্যটি শতভাগ যথার্থ;
ইসলামে কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করা এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব। কথা দিয়ে কথা না রাখা এবং কথায় ও কাজে গরমিল থাকা খাঁটি মুনাফিকের অন্যতম প্রধান আলামত।
সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করাকে হাদিস শরিফে স্পষ্ট 'জুলুম' বলা হয়েছে।
সুতরাং, ব্যবসায়ী সভাপতির বক্তব্যটি ইসলামি ব্যবসায়িক নীতি ও নৈতিকতার এক পরম বাস্তব মূল্যায়ন।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে সৎ ও চরিত্রবান বানায় এবং প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত রেখে পাপমুক্ত জীবন গড়তে বাধ্য করে বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের চারিত্রিক রক্ষাকবচ।
উদ্দীপকে সাদীর 'প্রকৃতির নিজস্ব ক্ষমতা নেই, সবই এক মহান সত্তার সৃষ্টি' কথায় ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'তাওহিদ' (একত্ববাদ) প্রকাশ পেয়েছে।
সাদী উপলব্ধি করেছে যে নদী, মাঠ ও প্রকৃতি স্বয়ংক্রিয় নয়; বরং একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই নিখিল বিশ্বের একক ও সার্বভৌম স্রষ্টা ও নিয়ন্তা।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রুমীর বক্তব্যে আকাইদের অন্যতম মৌলিক অকাট্য আকিদা 'খাতামুন নাবিয়্যিন বা খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি) চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে; এ বিষয়ে সাদীর বাবার বক্তব্যের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুল (স.)-এর পর আর কোনো নবি পৃথিবীতে আসবেন না; মির্জা গোলাম আহমদের মতো মিথ্যা নবুয়তের দাবিদারদের বিশ্বাস করা স্পষ্ট কুফর।
প্রকৃত মুমিন হতে হলে কুরআন ও সুন্নাহর সমস্ত অকাট্য আকিদা সামগ্রিকভাবে বিশ্বাস করতে হবে। একটি মৌলিক আকিদা অস্বীকার করলেই ঈমান নষ্ট হয়ে যায়।
সুতরাং, সাদীর বাবার বক্তব্য ইসলামি ঈমানের বিশুদ্ধতা রক্ষার এক কালজয়ী দিকনির্দেশনা।
ইসলামি শরিয়তের চারটি উৎসের মধ্যে কুরআন প্রথম, হাদিস দ্বিতীয় এবং ইজমা তৃতীয় হওয়ায় এবং কিয়াস কেবল নতুন সমস্যার ক্ষেত্রে সাদৃশ্যমূলক সমাধান দেয় বিধায় কিয়াসকে শরিয়তের স্তরগুলোর মধ্যে চতুর্থ বা সর্বশেষ উৎস বলা হয়।
কিয়াস কুরআন-সুন্নাহর অনুগামী।
ইউটিউবের বক্তার 'শুধু কুরআন জানাই যথেষ্ট, হাদিসের অনুসরণের প্রয়োজন নেই' বক্তব্যটি ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, বাতিল এবং 'সুন্নাহ অস্বীকারের কুফরি ও চরম পথভ্রষ্টতা'।
হাদিস ছাড়া সালাতের রাকাত, যাকাতের নিসাব, হজের নিয়ম ইত্যাদি কোনো মৌলিক বিধানই জানা ও পালন করা সম্ভব নয়। হাদিস অস্বীকার করলে স্বয়ং কুরআনই অকার্যকর হয়ে যায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ইমাম সাহেবের সুরা আল-হাশরের ৭ নম্বর আয়াত শুনিয়ে হাদিসের গুরুত্ব প্রমাণের বক্তব্যটি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে শতভাগ সত্য, যুক্তিযুক্ত ও অকাট্য;
১. কুরআনের অকাট্য নির্দেশ: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো' (সুরা আল-হাশর: ৭)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে— 'যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল' (সুরা আন-নিসা: ৮০)।
২. হাদিসের হুঁশিয়ারি: রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন— 'সাবধান! আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে' (আবু দাউদ)।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের বক্তব্য প্রমাণ করে যে রাসুল (স.)-এর হাদিস অনুসরণ করা স্বয়ং কুরআনেরই অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ।
আল্লাহ তায়ালা স্বীয় হক বা ইবাদত ইচ্ছা করলে মাফ করতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ কখনো ক্ষমা করেন না বলেই ইসলামে বান্দার হকের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বান্দার হক নষ্ট করা ক্ষমার অযোগ্য পাপ।
না, জনাব 'খ' শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেননি;
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হলে মোট সম্পদের ঠিক ২.৫০% (শতকরা আড়াই টাকা) হারে যাকাত দেওয়া ফরজে আইন। জনাব 'খ'-এর ব্যাংকে জমাকৃত ৩৫,০০,০০০ (পঁয়ত্রিশ লক্ষ) টাকার ২.৫% হারে হিসাবকৃত ফরজ যাকাতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭,৫০০ (সাতাশি হাজার পাঁচশত) টাকা। অথচ তিনি দিয়েছেন মাত্র ৩০,০০০ টাকা। ফলে বাকি ৫৭,৫০০ টাকা অনাদায়ী থাকায় তাঁর ফরজ যাকাত পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হয়নি।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব নাজিমুদ্দিন সাহেবের রোজা রাখা সত্ত্বেও অফিসের সরকারি অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গড়িমসি করার পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক;
অফিসের দায়িত্ব হলো একটি পবিত্র আমানত। দায়িত্বে ফাঁকি দেওয়া ইসলামে 'আমানতের খেয়ানত ও জুলুম'। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই' (বায়হাকি)।
দায়িত্বে অবহেলা করে যে বেতন নেওয়া হয় তার মধ্যে হারামের মিশ্রণ ঘটে। মানুষের হক নষ্ট করে কেবল রোজা রেখে আল্লাহর দরবারে পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যাবে না; বরং কিয়ামতের দিন জনগণের হক আদায়ের কঠিন জবাবদিহিতা ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
সুতরাং, নাজিমুদ্দিন সাহেবকে অবিলম্বে দায়িত্বে নিষ্ঠাবান হয়ে আমানত রক্ষা করতে হবে।
সমগ্র মানবজাতিকে জাহেলিয়াত ও পাপের অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সত্য, জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত করার এক অনন্য বিশ্বশিক্ষক হিসেবে মহানবি (স.) প্রেরিত হয়েছিলেন বলেই এ কথা বলেছেন।
তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
সমাজের অধঃপতন ও অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে জনাব 'গ' সাহেবের 'ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার অভাব'-এর অভিমতটি শতভাগ বাস্তব ও যথার্থ;
ইসলামি শিক্ষা মানুষকে স্রষ্টার ভয়, পরকালের জবাবদিহিতা, হালাল-হারামের জ্ঞান এবং সত্যবাদিতা ও পরোপকার শেখায়। সমাজে যখন এই শিক্ষার চর্চা থাকে না, তখন মানুষ স্বার্থপর, দুর্নীতিগ্রস্ত, হিংসুক ও অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, যার ফলে সমাজে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব জহির স্যারের 'নৈতিক শিক্ষা ইসলামি শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ' উক্তিটি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে সম্পূর্ণ সত্য ও অনস্বীকার্য;
ইসলাম কেবল কিছু আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; বরং উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতার সমন্বিত রূপই হলো ইসলাম। মহানবি (স.) ঘোষণা করেছেন— 'উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি' (মুয়াত্তা)।
ইসলামে সালাত মানুষকে অশ্লীলতা থেকে বাঁচায়, সাওম সংযম শেখায়, যাকাত সহমর্মিতা শেখায়। অর্থাৎ প্রতিটি ইসলামি বিধানের মূল লক্ষ্যই হলো নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানো।
সুতরাং, ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষাকে কখনোই আলাদা করা যায় না; একটি অপরটির প্রাণ।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মিজান স্থাপন করে সকল বান্দার ভালো ও মন্দ কাজের সূক্ষ্ম ও নিরপেক্ষ বিচার করবেন এবং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না বোঝাতেই আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
এদিন অনুপরিমাণ কাজেরও হিসাব নেওয়া হবে।
আলিয়ার বাবার পীরের পায়ে মাথা নত করে সন্তান চাওয়া এবং পীরের নামে গরু জবাই করার মানতের মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য জঘন্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে অংশীদার করা) প্রকাশ পেয়েছে।
সন্তান দেওয়া, রোগমুক্তি দান ও কল্যাণ করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। কোনো পীর বা সৃষ্টির কাছে সন্তান চাওয়া এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করা সুস্পষ্ট শিরক ও হারাম। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)।
শিরককারী তওবা না করলে চিরকাল জাহান্নামে জ্বলবে।
তকদির হলো আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।
হামজার জন্ম-মৃত্যুকে কেবল প্রাকৃতিক নিয়ম মনে করা এবং কাউকে এর নিয়ন্ত্রক না ভেবে দায়িত্বহীন জীবনযাপনের মাঝে আকাইদের মূল স্তম্ভ 'আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও তকদিরে বিশ্বাস' চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী— প্রতিটি মানুষের জীবন, মৃত্যু, রিযিক ও ভাগ্যের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। জন্ম-মৃত্যুকে প্রাকৃতিক কাকতালীয় ঘটনা ভাবা নাস্তিক্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যা তাওহিদকে অস্বীকার করার শামিল।
হামজা ভ্রান্ত ধারণায় পতিত হয়ে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আশিকের আসরের সালাত বর্জন করা এবং সালাত পড়াকে 'সময় নষ্ট' বলে তাচ্ছিল্য করার জঘন্য কর্মে 'কুফরি ও দ্বীনের ফরজের চরম অবমাননা' ফুটে উঠেছে; এ বিষয়ে আমিরের 'এদের স্থান জাহান্নামে' উক্তিটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট ফরজ বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা বা তা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা সুস্পষ্ট কুফর, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মুদ্দাচ্ছিরে বলা হয়েছে— জান্নাতবাসীরা জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করবে: 'তোমাদের কোন জিনিসটি সাকার জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে: আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না' (আয়াত: ৪২-৪৩)।
সুতরাং, আমিরের সতর্কবাণী আশিকের চরম পাপ ও পরকালীন ভয়াবহ শাস্তির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
পবিত্র কুরআন মাজিদ মানবজাতির সামগ্রিক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনীতির হেদায়েতের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং এতে হেদায়েতের কোনো মৌলিক বিষয় বাদ রাখা হয়নি বোঝাতেই আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
কুরআন হলো সর্বকালের সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অন্তরে অবাধ্যতা ও কুফর গোপন রেখে মুখে মুসলিম দাবি করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ার মাঝে ইসলামি আকাইদের মারাত্মক বিষয় 'নিফাক' (মুনাফিকি) ফুটে উঠেছে।
মুখে ইসলাম স্বীকার করে অন্তরে অবিশ্বাস ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখাকে নিফাক বলে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— নিশ্চয়ই মুনাফিকরা প্রকাশ্য মিথ্যাবাদী এবং তাদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লাহর পরিচয় ও বিধান জানানোর মহামানবদের ধারাটি হলো 'রিসালাত'; এবং তাঁর শেষোক্ত মন্তব্য 'যার ধারা শেষ হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের মাধ্যমে' কথাটিতে আকাইদের অন্যতম মূল স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের চিরন্তন সমাপ্তি) প্রকাশ পেয়েছে; নিম্নে এর মূল্যায়ন দেওয়া হলো:
মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য হযরত আদম (আ.) থেকে নবি-রাসুল প্রেরণের যে পবিত্র ধারা শুরু করেছিলেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমেই তা পূর্ণতা লাভ করে চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আমার পর আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না' (সহিহ বুখারি)।
সুতরাং, প্রধান অতিথির মন্তব্যটি ইসলামি আকাইদের এক অকাট্য ও মৌলিক বিশ্বাসকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে।
সমাজে সকল ধর্মের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অপরিহার্য।
ইসলামে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
কিসমতের অন্যের ভালো দেখতে না পারা এবং অন্যের ক্ষতি কামনা করার জঘন্য মানসিকতায় আখলাকে যামিমাহর সর্বনাশা ব্যাধি 'হাসাদ বা হিংসা' ফুটে উঠেছে।
অন্যের নিয়ামত বা সাফল্য দেখে অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করা এবং তার ধ্বংস কামনা করাই হিংসা। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা আগুন যেমন শুকনো কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়, হিংসাও মানুষের নেক আমলসমূহকে ধ্বংস করে দেয়' (আবু দাউদ)।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— বখাটে কালুর দলবল নিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জঘন্য কার্যক্রমে সমাজে 'সন্ত্রাস, চাদাঁবাজি ও ফিতনা-ফাসাদ' ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর কুফল বর্ণনা করা হলো:
ইসলামে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করাকে চরম অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা হত্যার চেয়েও মারাত্মক ও জঘন্য' (সুরা আল-বাকারা: ১৯১)।
কালুর এহেন সন্ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে এবং সমাজে চরম ত্রাস সৃষ্টি হয়। ইসলামে নিরপরাধ মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। পরকালে সন্ত্রাসীদের জন্য রয়েছে কঠিন জাহান্নামের শাস্তি।
সুতরাং, কালুর এই সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।
মহান আল্লাহ যুগে যুগে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যে ঐশী জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ, সর্বশ্রেষ্ঠ ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য রূপ হলো ইসলাম বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
ইসলামই হলো আল্লাহর একমাত্র মনোনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন।
'ক'-এর খেলায় দ্বিতীয় হয়েও বন্ধুদের কাছে প্রথম হওয়ার মিথ্যা দাবি করার আচরণে ইসলামি চরিত্র ও আকাইদের পরিপন্থি মারাত্মক পাপ 'মিথ্যাচার' (কিযব বা অসততা) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ এবং মুনাফিকের অন্যতম প্রধান আলামত। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মিথ্যা সমস্ত পাপের মূল' এবং মিথ্যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— 'ক'-এর বড় ভাইয়ের 'কোম্পানিই আমাকে উত্তম রিজিক দিয়ে থাকে' বক্তব্যটি ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'তাওহিদ ফি সিফাত বা আল্লাহর নিরঙ্কুশ রিজিকদাতা হওয়ার আকিদা'-র সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ;
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র ও অদ্বিতীয় রিজিকদাতা হলেন মহান আল্লাহ (আর-রাজ্জাক)। চাকরি বা কোম্পানি কেবল উপার্জনের বাহ্যিক একটি মাধ্যম মাত্র, মূল রিজিকদাতা কোনো মানুষ বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে না।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহই তো একমাত্র রিজিকদাতা, পরাক্রমশালী ও মহাশক্তিধর' (সুরা আয-যারিয়াত: ৫৮)। কোম্পানিকে রিজিকদাতা মনে করা শিরকি মনোভাবের শামিল।
সুতরাং, বড় ভাইয়ের বক্তব্যটি শোধরানো এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ঈমানের অপরিহার্য দাবি।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও ক্ষমতায় সম্পূর্ণ অতুলনীয়; সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই তাঁর সমতুল্য বা সদৃশ নয় বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে (সুরা আশ-শূরা: ১১) এ কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহ একক ও লা-শরীক।
'খ'-এর বাবার পুরো জীবনটা ন্যায় ও সত্যের পথে কাটানোর মাঝে ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল বিষয় 'আখিরাত ও আল্লাহর দরবারে হিসাব-নিকাশের জবাবদিহিতা'-র প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস প্রভাব বিস্তার করেছে।
যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস করে যে দুনিয়ার প্রতিটি কাজের জন্য কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে, সে কখনো অন্যায়, সুদ বা হারাম পথে পা বাড়াতে পারে না।
হ্যাঁ, আমি মনে করি 'খ'-এর সুদ গ্রহণ করে 'আর্থিক প্রতিষ্ঠান এভাবেই চলে তাই এটি হালাল' দাবি করার বক্তব্যটি ইসলামি আকাইদের অকাট্য বিধান 'হারামকে হালাল মনে করার চরম কুফরি'-র সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক;
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট হারামকে হালাল মনে করা মানুষকে সরাসরি ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে কাফিরে পরিণত করে।
অন্যরা সুদ খাচ্ছে এই অজুহাতে হারামকে বৈধ বলা শরিয়তের ওপর চরম ধৃষ্টতা। সুদ একটি জঘন্য অর্থনৈতিক শোষণ এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
সুতরাং, 'খ'-এর বক্তব্যটি কুরআন ও ঈমানের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
ইমান হলো মহান আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমতা ও নিয়ামতকে অন্তরে গভীরভাবে উপলব্ধি করা; যখন বান্দা বোঝে যে আল্লাহই তার একমাত্র রব ও প্রতিপালক, তখন অন্তরে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ সৃষ্টি হয়।
এই অনুরাগ বান্দাকে আল্লাহর সকল আদেশের অনুগত বানায়।
ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'কুফর' (অবিশ্বাস) মানুষকে পরকালের জবাবদিহিতা ও আল্লাহর ভয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়; ফলে মানুষের মনে কোনো ঐশী ভয় থাকে না।
পরকাল ও বিচার দিবসে বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি পার্থিব ক্ষণস্থায়ী সুখের লোভে অবাধে ব্যভিচার, মদ্যপান, সুদ, ঘুষ, অবিচার ও জুলুমে লিপ্ত হয়। ফলে ব্যক্তি ও সমাজে চরম অনৈতিকতার প্রসার ঘটে এবং নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'নিফাক' (কপটতা) মানবসমাজে চরম সন্দেহ, অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে; পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর প্রভাব অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।
মুনাফিকরা মুখে মিষ্টি কথা ও বন্ধুত্বের দাবি করলেও অন্তরে শত্রুতা ও কুফর গোপন রাখে। তারা প্রকাশ্যে মুসলিমদের সাথে থাকলেও সুযোগ পেলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের চরম ক্ষতি সাধন করে। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না এবং পারস্পরিক আস্থা নষ্ট হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করেছেন এবং তাদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে ঘোষণা করেছেন (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
সুতরাং, নিফাক সমাজের সংহতি ও ভ্রাতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়।
মহানবি (স.)-এর চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব জীবন্ত রূপ এবং মহান আল্লাহ তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুপম আদর্শ (উসওয়াতুন হাসানাহ) হিসেবে পাঠিয়েছেন বলেই তাঁর জীবনাদর্শ অনুকরণীয়।
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ ছাড়া দ্বীনের সঠিক পথ পাওয়া যায় না।
ডায়াগ্রামের শেষ বিষয় 'আরবি সাহিত্য ও উচ্চাঙ্গের কাব্যচর্চা' (যেমন: সাবউল মুআল্লাকাত) প্রাচীন আরবদের অনন্য অলঙ্কার ও বিশ্বখ্যাতি অর্জনে সহায়তা করেছিল।
আরবরা ভাষা ও ছন্দোবদ্ধ কাব্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও আরবি ভাষার গভীরতা ও প্রাঞ্জল কবিতা রচনার মাধ্যমে তারা বিশ্বসাহিত্যে চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ডায়াগ্রামের প্রথম বিষয় 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) প্রাক-ইসলামি আরবের কলুষিত সমাজব্যবস্থার এক মূর্ত ও জীবন্ত প্রতীক; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা চরম অধঃপতনে নিমজ্জিত ছিল। সমাজে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা আইনের শাসন ছিল না; জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে সমাজ চলত। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, নারীদের পণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো এবং ব্যভিচার, মদ্যপান ও জুয়া সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছিল।
গোত্রে গোত্রে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দশকের পর দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগেই থাকত। এই চরম অন্ধকার ও বর্বর সমাজব্যবস্থার নিখুঁত চিত্রই হলো আইয়ামে জাহেলিয়াত।
সুতরাং, উক্তিটি প্রাক-ইসলামি আরবের চরম নৈতিক সংকটের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
দৃশ্যকল্প-১: বাংলাদেশ সরকার জনাব আমিনকে মিশরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তার অন্যতম দায়িত্ব হলো বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো বার্তা মিশর সরকারের নিকট যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব 'ক' ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনায় মুখর। তিনি সুদকে হারাম মানতে রাজি নয়। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সুদ অপরিহার্য। তার সম্পর্কে জানতে পেরে মসজিদের সম্মানিত ইমাম বলেন, “এ ধরনের চিন্তার কুফল ও পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।"
আসমানি কিতাবসমূহ হলো স্বয়ং মহান আল্লাহর পথনির্দেশনা; এতে বিশ্বাস ছাড়া হেদায়েত লাভ এবং শরিয়তের আদেশ-নিষেধ জানা সম্ভব নয় বলেই আসমানি কিতাবে বিশ্বাস অপরিহার্য।
এটি ঈমানের অন্যতম মূল রুকন।
দৃশ্যকল্প-১ এ জনাব আমিনের এক দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা অন্য দেশের নিকট অবিকল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটি ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল বিষয় 'রিসালাত' (নবি-রাসুলদের দায়িত্ব)-এর সাথে তুলনীয়।
রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা পৌঁছানো বা পয়গাম্বরি। নবি ও রাসুলগণ ছিলেন মহান আল্লাহর দূত। তাঁরা মহান আল্লাহর ওহি ও জীবনবিধান মানবজাতির কাছে অবিকল ও বিশ্বস্ততার সাথে পৌঁছে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ জনাব 'ক'-এর সুদকে হালাল ভাবা ও শরিয়তের স্পষ্ট বিধান অস্বীকার করার জঘন্য মানসিকতা ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক 'কুফর'; এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের 'এ ধরনের চিন্তার কুফল ও পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ' বক্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। শরিয়তের কোনো অকাট্য হারামকে হালাল মনে করা বা যুক্তি দিয়ে অস্বীকার করা মানুষকে সরাসরি কাফিরে পরিণত করে।
সুদি মানসিকতা সমাজ থেকে দয়া-মায়া ধ্বংস করে এবং অর্থনৈতিক শোষণ বাড়ায়। পরকালে সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং তাদের স্থান জাহান্নামের কঠিন আজাবে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের সতর্কবাণী আকাইদের অকাট্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
কৃষক যেমন জমিতে ভালো ফসল বুনলে ভালো ফসল তোলে আর আগাছা বুনলে কিছুই পায় না, মানুষও দুনিয়াতে যেমন ঈমান ও আমল করবে আখিরাতে জান্নাত বা জাহান্নামের ফল তেমনই পাবে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
দুনিয়াই হলো পরকালের পাথেয় অর্জনের একমাত্র ক্ষেত্র।
জনাব 'ম'-এর বাহ্যিকভাবে মুসলিম পরিচয় দিয়ে অন্তরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি শত্রুতা ও বিরোধিতা লালন করার জঘন্য চরিত্রে খাঁটি 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
মুখে ইসলাম স্বীকার করে অন্তরে অবিশ্বাস ও কুফর গোপন রাখাকে নিফাক বলে। মুনাফিকরা প্রকাশ্য কাফিরের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের চরিত্র সম্পর্কে মুমিনদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— বন্ধুর মাজারে নিয়ে পীরের নামে ছাগল জবাই করার কর্মকাণ্ডে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে জনাব 'ন'-এর 'এ ধরনের কাজের কুফল অত্যন্ত জঘন্য' মন্তব্যটির যথার্থতা নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসলামে পশু জবাই ও কোরবানি একমাত্র মহান আল্লাহর নামেই নিবেদিত হতে হবে। আল্লাহ ছাড়া কোনো পীর, ওলি, দরগাহ বা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ হারাম ও প্রকাশ্য শিরক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)। তিনি আরও ঘোষণা করেছেন— আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার গুনাহ কখনো ক্ষমা করেন না (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। যে ব্যক্তি শিরক অবস্থায় মারা যায়, তার জন্য জান্নাত চিরতরে হারাম হয়ে যায়।
সুতরাং, জনাব 'ন'-এর মন্তব্যটি আকাইদের মূল দলিলের আলোকে অত্যন্ত সঠিক ও সময়োপযোগী।
সালাত হলো ইসলামের প্রকাশ্য প্রধান ইবাদত; ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করা কুফরের সমতুল্য অপরাধ এবং এর মাধ্যমেই মুমিন ও কাফিরের প্রকাশ্য সীমানা নির্ধারিত হয় বলেই একে পার্থক্যকারী বলা হয়েছে।
সালাত মুমিনের ঈমানের পরিচয় বহন করে।
আসাদের সুরা আয-যারিয়াতের ১৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে সমাজ থেকে সুদ উচ্ছেদ ও বঞ্চিতের হক আদায়ের বর্ণনায় ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'যাকাত'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
যাকাত হলো ধনী ব্যক্তির উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্ধারিত গরিবের অধিকার। সমাজে নিয়মিত যাকাত ব্যবস্থার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হলে দরিদ্রদের অর্থকষ্ট দূর হয়, ফলে তাদের চড়া সুদে ঋণ নেওয়ার মুখাপেক্ষী হতে হয় না এবং সুদি প্রথা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মুসফিকের এক মাসের আত্মিক প্রশিক্ষণ এবং আল্লাহর নিজ হাতে প্রতিদান দেওয়ার ইবাদতটি হলো ইসলামের অন্যতম ফরজ স্তম্ভ 'সাওম' (রোজা); এ বিষয়ে শিক্ষকের 'এই ইবাদতের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ; নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. সহমর্মিতা ও সহানুভূতি সৃষ্টি: সাওম পালনের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিরা অনাহারী ও অভাবী মানুষের পেটের ক্ষুধার তীব্র জ্বালা প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করতে পারে, ফলে সমাজে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা জাগ্রত হয়।
২. তাকওয়া ও পাপমুক্ত সমাজ গঠন: সাওম মানুষের অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি তৈরি করে। এর ফলে মানুষ ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, মিথ্যা ও যাবতীয় অনৈতিক অপকর্ম থেকে বিরত থাকে।
সুতরাং, সাওম একটি আদর্শ, পরোপকারী ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে এক অতুলনীয় সামাজিক ইবাদত।
মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষকে উন্নত বিবেক, প্রজ্ঞা ও সর্বোত্তম অবয়ব দান করে অন্য সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন বলেই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব (আশরাফুল মাখলুকাত) বলা হয়।
মানুষের দায়িত্ব আল্লাহর খেলাফত কায়েম করা।
কালিম মিয়ার নবুয়তের ধারা এখনও বলবৎ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নবি-রাসুল আসবেন বলে মনে করার ভ্রান্ত ধারণায় ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'খাতামুন নাবিয়্যিন বা খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-কে অবিশ্বাস করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মাধ্যমে নবুয়তের ধারা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মুরতাজার বিশ্বাসটি হলো ইসলামি আকাইদের অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ 'আখিরাত' (পরকাল ও আল্লাহর দরবারে হিসাব-নিকাশ); মানবজীবনে এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাপমুক্ত জীবন গঠন: পরকালে কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং জান্নাত-জাহান্নাম ভোগ করতে হবে— এই বিশ্বাস মানুষকে গোপনেও যেকোনো পাপ, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে।
২. সৎকর্মে উৎসাহ ও ধৈর্য: মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে সৎ কাজের জন্য পরকালে অফুরন্ত শান্তি রয়েছে, তখন সে নিঃস্বার্থভাবে মানবসেবা ও সৎকাজে আত্মনিয়োগ করে এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করে।
সুতরাং, আখিরাতে বিশ্বাস মানবচরিত্রকে পরিশুদ্ধ ও এক আদর্শ মানবিক সমাজ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি।
মুমিন নিজের পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি দায়িত্বকে মহান আল্লাহর পবিত্র আমানত মনে করে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে বলেই কর্তব্যপরায়ণতা মুমিনের এক অনন্য গুণ।
কর্তব্যে অবহেলা মুনাফিকির লক্ষণ।
দরিদ্র কৃষক 'ক'-এর গাভির দুধ বিক্রিতে সংসার চলায় প্রতিবেশীর খারাপ মনোভাব পোষণ করা ও গাভির ধ্বংস কামনা করার মাঝে আখলাকে যামিমাহর সর্বনাশা রোগ 'হাসাদ বা হিংসা ও বিদ্বেষ' প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যের কল্যাণ বা নিয়ামত দেখে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং সেই নিয়ামত ধ্বংস হওয়ার কামনা করাই হিংসা। হাদিসে বলা হয়েছে— আগুন যেমন কাঠকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে, হিংসাও তেমনি নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— 'খ'-এর ইসলামি বক্তব্য দেওয়া সত্ত্বেও ওজনে গরমিল ও প্রতারণা করার মাঝে 'ব্যবসায় অসততা ও ভণ্ডামি' ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
ইসলামে ওজনে কম দেওয়া ও ক্রেতাকে ধোঁকা দেওয়া কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়' (সহিহ মুসলিম)।
ব্যবসায় অসততার কারণে সমাজে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে ব্যবসায় ধস নামে এবং রিজিক থেকে বরকত উঠে যায়। পরকালে এই পাপের কারণে সমস্ত ইবাদত বাতিল হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী আল্লাহর বিধান মেনে সততার সাথে ব্যবসা করাই ইহকালীন সাফল্য ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র পথ।
আরবদের সম্মানিত ও নিষিদ্ধ চার মাসে রক্তপাত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কুরাইশ ও কায়েস গোত্রের মাঝে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বলেই একে 'হারবুল ফিজার' (অন্যায় সমর) বলা হয়।
মহানবি (স.) এতে রক্তপাত বন্ধের উদ্যোগ নেন।
মেয়র জনাব আকিবের বিজয়ী হয়ে দেওয়া বক্তব্যটি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খলিফা নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ;
হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন বিনয়, সততা, দূরদর্শিতা ও পরম আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ততার মূর্ত রূপ, সত্যের অটল সমর্থক ('সিদ্দীক') এবং ইসলামের পরম ক্রান্তিলগ্নে খেলাফত ও মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করার এক নির্ভীক অভিভাবক।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— উপজেলা চেয়ারম্যান রূপম সাহেবের সন্তানকে শাস্তি দিয়ে ন্যায়বিচার কায়েম করা এবং রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে ঘুরে জনগণের খবর নেওয়ার কার্যক্রম ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাজের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
খলিফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায়বিচার ও সুশাসনের এক কালজয়ী আদর্শ। তিনি আইনের প্রয়োগে কোনো স্বজনপ্রীতি করেননি এবং অপরাধের দায়ে নিজ সন্তানকেও আইনের কঠোর আওতায় এনেছিলেন।
প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখার জন্য তিনি রাতের অন্ধকারে মদিনার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন এবং ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে খাবার তুলে দিতেন।
সুতরাং, রূপম সাহেবের কার্যক্রম খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর ইনসাফভিত্তিক সুশাসনের এক অনুপম প্রতিফলন।
দৃশ্যপট-১ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় যে, জনৈক ব্যক্তি 'ক'-কে তার অনুসারীরা সিজদা করছে।
দৃশ্যপট-২: জামান সাহেব তার সহকর্মীদের কাছ হতে কোনো কিছু ধার নিলে তা যথাসময়ে ফেরত দেন না। তার কাছে কোনো কিছু গচ্ছিত রাখলে তা যথাযথভাবে ফেরত দেন না।
তকদির হলো আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য ও পরম প্রজ্ঞা; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
দৃশ্যপট-১ এ জনৈক ব্যক্তি 'ক'-কে তার অনুসারীদের সিজদা করার মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য জঘন্যতম মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে সিজদা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কোনো মানুষ, পীর, সাধক বা সৃষ্টিকে সিজদা করা সুস্পষ্ট শিরক ও কুফর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)।
শিরককারী ব্যক্তির সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায় এবং তওবা না করলে সে চিরকাল জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যপট-২ এ জামান সাহেবের ধার করা জিনিস ফেরত না দেওয়া এবং গচ্ছিত জিনিসের খেয়ানত করার কর্মকাণ্ডে খাঁটি 'মুনাফিকি ও আমানতের খেয়ানত' ফুটে উঠেছে; সমাজজীবনে এর কুফল অত্যন্ত মারাত্মক।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)।
জামান সাহেবের মতো মানুষের কারণে সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধারকর্জের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। পরকালে আমানতের খেয়ানতকারীর জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন আজাব।
সুতরাং, জামান সাহেবের অবিলম্বে এই পাপ বর্জন করে সকলের হক ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য।
প্রেক্ষাপট-১ : মুদি দোকানি সালাম সাহেব আকাইদের এমন এক বিষয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন, যা তার দুনিয়ার সকল কাজকর্মকে সৎ ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, তার সকল কাজকর্মের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে।
প্রেক্ষাপট-২ : আকাশ ও আযাদ দুই বন্ধু। আকাশ মহানবি (স.)-কে নবি হিসেবে বিশ্বাস করলেও সর্বশেষ নবি হিসেবে বিশ্বাস করে না। পক্ষান্তরে। আকাশের বন্ধু আযাদ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ নবি ও রাসুল, তার পরে আর কোনো নবি ও রাসুল আসবেন না।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ু নির্ধারণ করেছেন; দুনিয়ার কোনো প্রাণীই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে না বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— 'কুল্লু নাফসিন যায়িক্বাতুল মাওত'।
মৃত্যুর মাধ্যমেই পরকালের চিরন্তন জীবনের সূচনা হয়।
প্রেক্ষাপট-১ এ সালাম সাহেবের দুনিয়ার সকল কাজের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে বলে বিশ্বাস করার মাঝে আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'আখিরাতে বিশ্বাস' ফুটে উঠেছে; এর গুরুত্ব অপরিসীম।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে জীবিকা অর্জনের অনুপ্রেরণা জোগায়। যে মুমিন বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি ওজনের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে, সে কখনোই পণ্যে ভেজাল দিতে বা ওজনে কম দিতে পারে না।
সালাম সাহেব এই বিশ্বাসের কারণেই একজন নীতিবান ও আদর্শ ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আকাশ ও আযাদের বিশ্বাসের মধ্যে আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিষয়টি ফুটে উঠেছে; এখানে আযাদের বিশ্বাসই শতভাগ সঠিক ও কুরআন-সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামি আকাইদের চূড়ান্ত আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। হাদিসেও রাসুল (স.) বলেছেন— 'লা নাবিয়্যা বা’দী' অর্থাৎ আমার পর কোনো নবি নেই।
আকাশ রাসুল (স.)-কে শেষ নবি না মেনে কুরআনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকার করে চরম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। খতমে নবুয়ত অস্বীকার করলে মানুষের সমস্ত ঈমান বাতিল হয়ে যায়।
সুতরাং, আযাদের ধারণকৃত খতমে নবুয়তের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসই খাঁটি ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে সৎ, চরিত্রবান ও আমানতদার হতে বাধ্য করে; কারণ সে জানে যে প্রতিটি কাজের হিসাব আল্লাহর সামনে দিতে হবে, ফলে সমাজ অনৈতিকতা ও অপরাধ থেকে মুক্ত থাকে।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের জীবনের চালিকাশক্তি।
মাওলানা সাদিক সাহেব কর্তৃক বর্ণিত মহামানবগণ হলেন আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক মানবজাতির হেদায়েতের জন্য প্রেরিত 'নবি ও রাসুলগণ'।
মানুষ নিজ বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, জান্নাত-জাহান্নাম ও পরকালের নিখুঁত সত্য জানতে পারত না। তাই মহান আল্লাহ আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত যুগে যুগে নবি-রাসুলদের পাঠিয়ে মানুষকে তাওহিদ, নৈতিকতা ও শরিয়তের জীবনবিধান শিক্ষা দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাকিবের ওয়াদা ভঙ্গ করা, আমানতের জিনিস নষ্ট করা এবং কথাবার্তায় মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার আচরণে খাঁটি 'মুনাফিকি ও নিফাকের চরিত্র' প্রকাশ পেয়েছে; নিম্নে এর কুফল বর্ণনা করা হলো:
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। নিফাক হলো অন্তরের এক মারাত্মক ব্যাধি।
মুনাফিকের কারণে সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য নষ্ট হয়, লেনদেন ও চুক্তি ভেঙে যায় এবং সমাজে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরকালে মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
সুতরাং, সাকিবের উচিত অবিলম্বে এসব বদভ্যাস বর্জন করে খাঁটি তওবার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করা।
তকদির হলো মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরম পরিমাপ; এতে বিশ্বাস মানুষকে চরম সংকটেও ধৈর্য ধরতে শেখায় এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত রাখে বলেই এতে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অপরিহার্য রুকন।
বারিকের নিঃসন্তান অবস্থায় সন্তান পাওয়ার আশায় দরবেশের দরগায় গিয়ে দরবেশের নামে দুটি ছাগল জবাই করার মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে শরিক করা) প্রকাশ পেয়েছে।
সন্তান দান করার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহর। কোনো মৃত মানুষ বা দরবেশ কাউকে সন্তান দিতে পারেন না। এছাড়া আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবাই করা স্পষ্ট হারাম ও শিরক। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম (সুরা লুকমান: ১৩)।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আতিকের আল্লাহকে একক উপাস্য বিশ্বাস করা এবং কেবল তাঁর নিকটই প্রার্থনা করার মাঝে খাঁটি 'তাওহিদ' (একত্ববাদ) প্রকাশ পেয়েছে; ইসলামে তাওহিদের গুরুত্ব অপরিসীম।
তাওহিদ হলো সমগ্র ইসলাম ও ঈমানের মূল ভিত্তি। তাওহিদ ছাড়া কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যে ব্যক্তি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক, সে কখনো কোনো সৃষ্টির সামনে মাথা নত করে না এবং সকল অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মমর্যাদাবান, নির্ভীক ও সৎকর্মশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। পরকালে তাওহিদপন্থী মুমিনের জন্যই রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত।
সুতরাং, আতিকের এই খাঁটি তাওহিদি বিশ্বাসই ইসলামের মূল চেতনা ও মুক্তির একমাত্র পথ।
কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার মধ্যে সরাসরি উল্লেখ নেই এমন নতুন ও আধুনিক ধর্মীয় সমস্যার পদ্ধতিগত ও নির্ভুল সমাধান বের করতে কিয়াসের গুরুত্ব অপরিসীম।
কিয়াসের মাধ্যমেই শরিয়ত সর্বযুগে গতিশীল থাকে।
ইকবাল সাহেবের গত রমজানে মুখস্থ করা ছোট আকারের এবং তাওহিদ-রিসালাতে বিশ্বাসের আহ্বান সংবলিত সুরাগুলো হলো পবিত্র কুরআনের 'মাক্কি সুরা'।
মহানবি (স.)-এর হিজরতের পূর্বে মক্কায় অবতীর্ণ সুরাগুলোকে মাক্কি সুরা বলা হয়। মাক্কি সুরাগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— এগুলো আকারে ও আয়াতে তুলনামূলকভাবে ছোট এবং এগুলোতে প্রধানত তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, কিয়ামত ও সুন্দর চরিত্রের মূল ভিত্তিগুলো জোরালোভাবে বর্ণিত হয়েছে।
না, জানাজার সালাত না পড়ার কারণে জোবায়ের সাহেব ব্যক্তিগতভাবে কোনো গুনাহগার হবেন না; ইসলামের শরিয়তের আলোকে নিম্নে এর সপক্ষে মতামত দেওয়া হলো:
মৃত মুসলিম ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায় করা শরিয়তের পরিভাষায় 'ফরজে কিফায়া'। ফরজে কিফায়ার বিধান হলো— সমাজের বা এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ যদি এই নামাজ আদায় করে নেয়, তবে সমাজের বাকি সকলের ওপর থেকে এই দায়িত্বের দায়মুক্তি ঘটে এবং কেউ গুনাহগার হয় না।
তবে এলাকার কেউই যদি জানাজা না পড়ে লাশ দাফন করে দিত, তবে সমাজের সকলেই সমানভাবে গুনাহগার হতো। যেহেতু মৃত প্রতিবেশীর জানাজায় অন্যান্য মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন, তাই জরুরি কাজে ঢাকায় চলে যাওয়ার কারণে জোবায়ের সাহেব গুনাহগার হবেন না।
মহানবি (স.)-এর ওফাতের পর ভণ্ড নবি, মুরতাদ ও যাকাত অস্বীকারকারীদের বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন করে মুসলিম উম্মাহ ও খেলাফতকে নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছিলেন বলেই হযরত আবু বকর (রা.)-কে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' বলা হয়।
তাঁর দৃঢ়তায় দ্বীন ইসলাম সুরক্ষিত হয়েছিল।
জামান যে অসীম শৌর্যবীর্য ও শক্তির অধিকারী খলিফার নাম উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) (আল-ফারুক)।
হযরত উমর (রা.) ছিলেন অসাধারণ বীর ও ন্যায়ের প্রতীক। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর মক্কার কাফিরদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হয় এবং মুসলিমরা প্রকাশ্য কাবার চত্বরে সালাত আদায় শুরু করেন। মহানবি (স.) তাঁকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে 'ফারুক' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— হাসানের যুবকদের নিয়ে এলাকায় শান্তি স্থাপনে কল্যাণ পরিষদ গঠনের মহতী উদ্যোগটি মহানবি (স.)-এর কৈশোরের গঠিত ঐতিহাসিক শান্তিসংঘ 'হিলফুল ফুযুল'-এর সাথে চমৎকারভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ; গঠিত সংঘটি সে সমাজে যেভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছিল তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে ফুজ্জার যুদ্ধের রক্তপাত বন্ধের লক্ষ্যে মহানবি (স.) মাত্র ১৫ বছর বয়সে শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' গঠন করেছিলেন।
এই সংঘটি জাহেলি সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল:
১. সমাজে সকল প্রকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ করেছিল;
২. মজলুম ও দুর্বলদের ওপর সবলদের অন্যায় জুলুম প্রতিহত করেছিল;
৩. দূরদেশ থেকে আসা বণিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল;
৪. শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরিয়ে এনেছিল।
সুতরাং, হাসানের কল্যাণ পরিষদও হিলফুল ফুযুলের সেই ঐতিহাসিক সুন্নাহর আলোকেই এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের বাস্তব বহিঃপ্রকাশ ও আল্লাহর বিধানের কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া; একটি ছাড়া অপরটি মূল্যহীন।
তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে যুক্ত।
তাযকিয়ার সালাত আদায় করা সত্ত্বেও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধিবিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার আচরণে ইসলামে মারাত্মক 'কুফর ও উপহাসপ্রসূত ঈমানচ্যুতি' প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামের কোনো বিধান বা আকিদাকে নিয়ে উপহাস করা কুফরের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? কোনো অজুহাত দেখিয়ো না; তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ' (সুরা আত-তাওবাহ: ৬৫-৬৬)।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— তাযকিয়ার আচরণের বিরুদ্ধে শিক্ষকের 'দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ, প্রাসঙ্গিক ও কোরআনসম্মত;
দ্বীন ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীর সমস্ত নেক আমল নষ্ট হয়ে যায় এবং সে কাফিরে পরিণত হয়। পার্থিব জীবনে এমন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয় এবং মানুষের কাছে আস্থা ও সম্মান হারায়।
পরকালে খাঁটি তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নামের অবমাননাকর ও মর্মান্তিক শাস্তি।
সুতরাং, শিক্ষকের সতর্কবাণী পবিত্র কুরআনের অকাট্য সতর্কবার্তারই এক বাস্তব প্রতিফলন।
দৃশকল্প-২: একদিন মারুফ তার বাবার সাথে একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে গিয়েছিল। সেখানে তারা দেখল যে, কিছু মানুষ এক মহান ব্যক্তির কবরে সিজদারত অবস্থায় প্রার্থনা করছিল। তখন তার বাবা তাকে বললেন, “এটা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।”
মুনাফিকরা প্রকাশ্য কাফিরের চেয়েও বিপজ্জনক; কারণ তারা মুসলিম বেশে ভেতর থেকে ইসলাম ও মুসলিম সমাজের চরম ক্ষতিসাধন করে এবং তাদের চেনা যায় না।
তাই মুনাফিকরা কাফিরের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর।
দৃশ্যকল্প-১ এ একাধিক প্রধান শিক্ষক থাকলে স্কুলে শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার যুক্তিতে মহান আল্লাহর এককত্বের মূল আকিদা 'তাওহিদের যৌক্তিক প্রমাণ'-এর নিখুঁত মিল রয়েছে।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'যদি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়টিই ধ্বংস ও বিশৃঙ্খল হয়ে যেত' (সুরা আল-আম্বিয়া: ২২)। মহাবিশ্বের নিখুঁত শৃঙ্খলা প্রমাণ করে যে স্রষ্টা একমাত্র একজনই।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ কবরে সিজদারত হয়ে সাহায্য চাওয়ার বিরুদ্ধে মারুফের বাবার 'এটা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ' উক্তিটি ইসলামের আলোকে শতভাগ সত্য ও সঠিক; নিম্নে এর মূল্যায়ন দেওয়া হলো:
ইসলামে সিজদা ও প্রার্থনা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যই নির্ধারিত। কোনো পীর, বুজুর্গ বা ওলির কবরে সিজদা করা এবং মৃত ব্যক্তির কাছে কিছু প্রার্থনা করা প্রকাশ্য 'শিরক'।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)। রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর ভাষায় কবরকে পূজার স্থান বা সিজদাহাগারে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন এবং এমন ব্যক্তিদের অভিসম্পাত করেছেন (সহিহ বুখারি)।
সুতরাং, মারুফের বাবার মন্তব্যটি শিরকমুক্ত খাঁটি তাওহিদ রক্ষার এক যথার্থ মূল্যায়ন।
কিয়ামতের কঠিন দিনে হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহর অনুমতি নিয়ে মুমিনদের পাপমোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বনবি (স.)-কে সুপারিশের বিশেষ ঐশী ক্ষমতা দান করা হয়েছে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
রাসুল (স.) হলেন পরম শাফাআতকারী।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে জনাব 'ক'-এর দেশের বার্তা নির্ভুলভাবে অপর রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা 'রিসালাত ও রাসুলগণের দায়িত্ব'-এর সাথে চমৎকার সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রাসুল অর্থ বার্তাবাহক। মহান আল্লাহ যুগে যুগে মহামানবদের তাঁর দূত হিসেবে মনোনীত করে মানবজাতির কাছে ওহির বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
হ্যাঁ, 'জনাব ক তার কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন' বক্তব্যটি ইসলামের দৃষ্টিতেও সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও প্রমাণিত; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
জনাব 'ক' রাষ্ট্রদূতের পবিত্র আমানতের চরম খেয়ানত করে গোপন তথ্য শত্রুর হাতে পাচার করেছেন, যা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্ট 'বিশ্বাসঘাতকতা, মুনাফিকি ও দেশদ্রোহিতা'।
ইসলাম আমানত রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। রাসুল (স.) মুনাফিকের লক্ষণ হিসেবে আমানতে খেয়ানত করাকে উল্লেখ করেছেন। মদিনা সনদের শর্ত ভেঙে বিশ্বাসঘাতকতা করায় বনু কুরাইজাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ইসলামেও রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও মারাত্মক খেয়ানতের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
সুতরাং, 'ক'-এর কৃত অপরাধের জন্য প্রাপ্ত পার্থিব সর্বোচ্চ শাস্তি সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।
কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি করে নেকি লাভ হয় এবং এটি বান্দার অন্তরের আত্মিক রোগ দূর করে পরম প্রশান্তি দান করে বলেই একে সর্বোত্তম ইবাদত বলা হয়।
কুরআন তিলাওয়াত মুমিনের অন্তরের খাদ্য।
জনাব 'ম'-এর নির্বাচনে জয়ী হতে ও জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদ-মাদ্রাসা ও দান-সদকা করার মাঝে মহানবি (স.)-এর সুপ্রসিদ্ধ 'আমলের নিয়ত ও ইখলাস সংক্রান্ত' হাদিসের শিক্ষা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই সমস্ত কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' (সহিহ বুখারি)। তিনি লোকদেখানো আমল বা 'রিয়া'-কে ছোট শিরক বলে সতর্ক করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে কৃত আমল পরকালে কোনো প্রতিদান পায় না।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব 'ন'-এর রাস্তার পাশে গাছ লাগানো প্রসঙ্গে ইমাম সাহেবের 'এই কাজে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে' মন্তব্যটি সংশ্লিষ্ট হাদিসের আলোকে শতভাগ সত্য ও যথার্থ;
সুপ্রসিদ্ধ হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মুসলমান যদি একটি ফলবান বা ছায়াদার বৃক্ষ রোপণ করে আর তা থেকে কোনো মানুষ, পশুপাখি উপকৃত হয়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে' (সহিহ বুখারি)।
বৃক্ষ একদিকে ফল, কাঠ, ছায়া ও অক্সিজেন দিয়ে দুনিয়াকে বাসযোগ্য রাখে, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও রোপণকারীর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়া হিসেবে অনন্ত সাওয়াব পৌঁছাতে থাকে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের উক্তি হাদিসের শিক্ষার এক অনুপম বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
প্রেক্ষাপট-১: জনাব 'ক' একজন আধুনিক শিক্ষিত লোক। তিনি নিয়মিত সালাত, সাওম ও যাকাত আদায় করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলদের আগমন প্রয়োজন।
প্রেক্ষাপট-২: জুমার দিন ইমাম সাহেব পরকালীন একটি স্তর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার উপর সূর্য থাকবে এবং সকল মানুষ প্রচন্ড তাপে ঘামতে থাকবে।
কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে উম্মতের পাপ মার্জনা ও জান্নাতে উচ্চমর্যাদা দানের জন্য সুপারিশ করার বিশেষ ক্ষমতা দান করবেন বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
মহানবি (স.)-এর শাফাআতের মাধ্যমেই অগণিত মুমিন মুক্তি লাভ করবে।
জনাব 'ক'-এর নিয়মিত সালাত-সাওম আদায় করা সত্ত্বেও 'প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলদের আগমন প্রয়োজন' বলে বিশ্বাস করা পাঠ্যবইয়ে আলোচিত আকাইদের অবিসংবাদিত স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
খতমে নবুয়তের অকাট্য আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।
জনাব 'ক' নতুন নবির প্রয়োজনীয়তা বিশ্বাস করে কুরআনের সুস্পষ্ট অকাট্য বিধান অস্বীকার করেছে, যা তার সমস্ত ঈমান ও আমলকে বিনষ্ট করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ইমাম সাহেবের বক্তব্যে উল্লিখিত সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ ও ঘামে নিমজ্জিত হওয়ার দিনটি হলো 'হাশরের ময়দান'; এই কঠিন দিনের ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতি লাভের কার্যকর উপায়সমূহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. খাঁটি ঈমান ও নেক আমল: শিরক ও কুফরমুক্ত খাঁটি ঈমান নিয়ে নিয়মিত সালাত, সাওম, যাকাত আদায় এবং সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
২. তাকওয়া ও পাপ বর্জন: আল্লাহর ভয়ে দুনিয়ার যাবতীয় পাপাচার, জুলুম, দুর্নীতি ও পরনিন্দা থেকে মুক্ত থাকা।
৩. আরশের ছায়া লাভের আমল: হাদিসে বর্ণিত ন্যায়পরায়ণ শাসক, যৌবনে ইবাদতকারী যুবক, মসজিদের সাথে অন্তর লেগে থাকা ব্যক্তি, গোপনে দানকারী ও নির্জনে আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীর গুণাবলি অর্জন করা; যা হাশরের দিন আরশের ছায়া এনে দেবে।
৪. রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ: রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ মেনে চলা এবং বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা, যাতে তাঁর কাওসার ও শাফাআত নসিব হয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন শত্রুর আক্রমণ থেকে সৈনিককে রক্ষা করে, সাওমও তেমনি মুমিন বান্দাকে শয়তানের প্ররোচনা, পাপ ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে বলেই হাদিসে সাওমকে ঢাল বলা হয়েছে।
সাওম অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করে।
জনাব আলিফের নির্বাচনে জনপ্রিয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদ-মাদরাসা স্থাপন ও দান-সদকা করার মাঝে মহানবি (স.)-এর সুপ্রসিদ্ধ 'নিয়তের বিশুদ্ধতা ও রিয়া বর্জন সংক্রান্ত' হাদিসের শিক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত' অর্থাৎ নিশ্চয়ই সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (সহিহ বুখারি)। কোনো ভালো কাজ যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না হয়ে লোকদেখানো বা সুনাম কুড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা রিয়া বা ছোট শিরকে পরিণত হয় এবং তার সমস্ত সাওয়াব বিনষ্ট হয়ে যায়।
আলিফ সাহেব পার্থিব স্বার্থে দান করে ধর্মীয় নীতি লঙ্ঘন করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ছগির সাহেবের সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের প্রেক্ষিতে ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি মহানবি (স.)-এর 'বৃক্ষরোপণ ও সদকায়ে জারিয়া সংক্রান্ত' হাদিসের আলোকে শতভাগ যথার্থ।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মুসলমান যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায়, অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি বা চতুষ্পদ প্রাণী ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে' (সহিহ বুখারি)। তিনি আরও বলেছেন— যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।
বৃক্ষ রোপণের ফলে দুনিয়াতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়, ছায়া ও ফল পাওয়া যায় এবং পরকালে রোপণকারীর মৃত্যুর পরও কবরে অবিরাম সাওয়াব জারি থাকে।
অতএব, বৃক্ষরোপণে দুনিয়া ও আখিরাতের অফুরন্ত কল্যাণ নিহিত থাকার বক্তব্যটি সম্পূর্ণ নির্ভুল।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা মিজান স্থাপন করে প্রতিটি মানুষের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভালো ও মন্দ কাজের নিখুঁত ও নিরপেক্ষ বিচার করবেন বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে এ কথা বলা হয়েছে।
এদিন কারো ওপর তিল পরিমাণ জুলুম করা হবে না।
জহিরের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর আদেশ ও রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে পরকালে অর্জিত শান্তির আবাসস্থলটি হলো 'জান্নাত'।
জান্নাত হলো এমন এক চিরস্থায়ী সুখের নীড় যেখানে দুধ, মধু ও সুপেয় পানির নহর প্রবাহিত। সেখানে সুন্দর প্রাসাদ, চিরসবুজ উদ্যান, সুস্বাদু ফলমূল এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর দিদার ও সন্তুষ্টি বিরাজ করবে। জান্নাতে কোনো দুঃখ, কষ্ট, বার্ধক্য বা মৃত্যু থাকবে না; মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অফুরন্ত আনন্দে বসবাস করবেন।
জহির খাঁটি মুমিনের মতো এই চিরস্থায়ী পরম প্রাপ্তির প্রতিই আশা পোষণ করেছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রমিজের ইসলাম বিরোধিতা ও পার্থিব মোহগ্রস্ততার প্রেক্ষিতে শিক্ষকের 'পরকালে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ ও কুরআন-সুন্নাহর সতর্কবাণীর সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পার্থিব মোহে অন্ধ হয়ে দ্বীন প্রত্যাখ্যানকারীদের চরম সতর্ক করে বলেছেন— 'যারা আখিরাতের চেয়ে পার্থিব জীবনকে বেশি ভালোবাসে এবং আল্লাহর পথে বাধা দেয়, তারা চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছে' (সুরা ইব্রাহিম: ৩)।
রমিজের মতো যারা আল্লাহর বিধান অস্বীকার করে এবং ইসলামের শত্রুতা করে, পরকালে তাদের একমাত্র ঠিকানা হবে জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিকুণ্ড। সেখানে তাদের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত যাক্কুম এবং পানীয় হবে ফুটন্ত পুঁজ ও পানি।
সুতরাং, শিক্ষকের মন্তব্যটি রমিজের আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তির জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সঠিক দিকনির্দেশনা।
ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট যুগ বা বিশেষ কোনো জাতির জন্য নয়; বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের সকল বর্ণ, গোত্র ও মানবজাতির জন্য সার্বজনীন পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে প্রেরিত হয়েছে বোঝাতেই একে সার্বজনীন ধর্ম বলা হয়।
এর প্রতিটি বিধান সর্বকালের উপযোগী।
জনাব 'ক'-এর দুর্ঘটনায় আহত হয়ে 'তকদিরের কোনো ভিত্তি নেই' বলে মন্তব্য করার মাঝে ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল স্তম্ভ 'তকদিরে অবিশ্বাস' প্রকাশ পেয়েছে।
তকদির হলো আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বেই নির্ধারিত ভাগ্য, পরম প্রজ্ঞা ও পরিমাপ। তকদিরে বিশ্বাস ছাড়া কোনো মানুষের ঈমান পূর্ণ হয় না। তকদিরকে অস্বীকার করা কুরআনের অকাট্য আকিদা লঙ্ঘনের শামিল।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব 'খ'-এর দেয়ালে টানানো সাধু পুরুষের ছবিকে সিজদা করে ব্যবসায়ে বের হওয়ার জঘন্য আচরণে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় ও অধিকারে সৃষ্টিকে অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে মায়ের বক্তব্যটি আকাইদের আলোকে শতভাগ সঠিক ও কুরআনসম্মত।
ইসলামে সিজদা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। কোনো মানুষ, পীর, সাধক বা ছবি-মূর্তিকে সিজদা করা প্রকাশ্য কুফর ও শিরক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— আল্লাহ শিরকের অপরাধ কখনো ক্ষমা করেন না (সুরা আন-নিসা: ৪৮)।
শিরককারী ব্যক্তি তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামের চরম যন্ত্রণাদায়ক আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।
সুতরাং, মায়ের সতর্কবাণী আকাইদের অকাট্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
দৃশ্যকল্প-১: টগর মনে করে মৃত্যু মানুষের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই।
দৃশ্যকল্প-২: রাসুলুল্লাহ্ (স.) মদিনায় হিজরতের পর আবদুল্লাহ ইবনে উবাই নামক এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি ইমান আনে এবং তাঁর অনুসরণ করে। কিন্তু গোপনে সে নবিজী (স.) ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে আল্লাহর হুকুমের সামনে আত্মসমর্পণ ও বাস্তব আমল; একটি ছাড়া অপরটি মূল্যহীন।
তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অবিচ্ছেদ্য ও পরিপূরক।
টগরের 'মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই' বলে বিশ্বাস করার মাঝে ইসলামি আকাইদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ 'আখিরাত ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস' চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
মৃত্যুই জীবনের পরিসমাপ্তি নয়; বরং তা পরকালীন অনন্ত জীবনের সূচনা। পরকালের হিসাব-নিকাশ ও কিয়ামতকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর, যা মানুষের সমস্ত বিশ্বাস ও আমল ধ্বংস করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে গোপনে মুসলিমদের ক্ষতি সাধনে ষড়যন্ত্র করার জঘন্য চরিত্রে 'মুনাফিকি' প্রকাশ পেয়েছে; পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-ই পরকালে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে নিক্ষিপ্ত হবে; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল মদিনার মুনাফিকদের সর্দার। সে মুখে ঈমানের দাবি করলেও অন্তরে ছিল ইসলামের ঘোর শত্রু। মুনাফিকরা গোপনে মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে, যা প্রকাশ্য কাফিরের চেয়েও বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের চূড়ান্ত পরিণাম সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (আস-দারকুল আসফাল) এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবে না' (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
সুতরাং, টগরের কুফরি অপেক্ষা আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কপটতা ও ষড়যন্ত্রের শাস্তি হবে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভের পূর্ব থেকেই সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা ও বিশ্বস্ততার অনন্য প্রতীক ছিলেন বলে মক্কার কাফির-কুরাইশরা ভালোবেসে তাঁকে 'আল-আমিন' (পরম বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
তিনি শত্রুর আমানতও বিশ্বস্ততার সাথে হেফাজত করতেন।
জনাব মুনিরের ছেলের অপরাধমূলক কাজকে ক্ষমতার প্রভাবে প্রশ্রয় দেওয়া এবং ব্যবস্থা না নেওয়ার অপকর্মটি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ন্যায়বিচার ও সুশাসনের আদর্শের চরম বিপরীত।
খলিফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন ইনসাফ ও আইনের শাসনের মূর্ত প্রতীক। বিচার ও শাসনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো স্বজনপ্রীতি বরদাশত করেননি; এমনকি অপরাধের ক্ষেত্রে নিজ সন্তানকেও আইনের কঠোর আওতায় এনেছিলেন। মুনির স্বজনপ্রীতি করে খেলাফতের আদর্শ লঙ্ঘন করেছেন।
না, সাব্বির সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়নি; নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
সাব্বির সাহেব পানিসংকট দূর করতে ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করে খলিফা উসমান (রা.)-এর 'বীরে রুমা' কূপ ক্রয়ের দানশীলতার অনুকরণ করেছেন ঠিকই; কিন্তু অসহায় নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুনর্বাসনে অর্থ দিতে অস্বীকার করে উসমান (রা.)-এর সার্বিক মানবকল্যাণের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।
খলিফা হযরত উসমান (রা.) ছিলেন এমন এক পরম দানবীর যিনি তাবুক যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ খরচ বহন করেছিলেন এবং মদিনার দুর্ভিক্ষের সময় নিজের সমস্ত বাণিজ্য কাফেলা মুক্তহস্তে দান করে দিয়েছিলেন। তিনি কোনো আর্তমানবতার আবেদনেই বিমুখ হননি।
সুতরাং, সাব্বির সাহেবের দান আংশিক হলেও খলিফা উসমান (রা.)-এর পূর্ণাঙ্গ বদান্যতার সমকক্ষ নয়।
প্রেক্ষাপট-২: ইসলাম-পূর্ব যুগে 'ওয়াকিয়া' নামক জনৈক ব্যক্তি স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের আশায় কাবাঘর তাওয়াফ করার পাশাপাশি মূর্তিগুলোর সামনে মাথা নত করে সাহায্য প্রার্থনা করত।
তাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও সর্বময় কর্তৃত্বে একক ও অদ্বিতীয় বিশ্বাস করা; তাঁর কোনো শরিক বা সমকক্ষ নেই— এটিই তাওহিদের মূল স্বরূপ।
তাওহিদই ইসলামের মূল ভিত্তি।
আদিলের অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা খরচ না হওয়া সত্ত্বেও 'সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে' বলে মিথ্যা দাবি করে চাঁদার অর্থ আত্মসাৎ করার কাজে মারাত্মক 'আমানতের খেয়ানত ও মিথ্যাচার' প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যের গচ্ছিত সম্পদ সঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া বা ব্যয় করা আমানতদারির দাবি। আমানতের খেয়ানত করা মুনাফিকির অন্যতম প্রধান লক্ষণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আমানত যথাযথভাবে রক্ষার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রাক-ইসলামি যুগে ওয়াকিয়া নামক ব্যক্তির আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য মূর্তির সামনে মাথা নত করে সাহায্য প্রার্থনার কাজে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর কুফল ও পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামনে সিজদা করা বা সাহায্য চাওয়া তাওহিদকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
শিরকের ফলে মানুষের পূর্ববর্তী সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায়। তওবা না করে শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে মহান আল্লাহ তাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না এবং তার চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নামের লেলিহান শিখা (সুরা আন-নিসা: ৪৮)।
সুতরাং, ওয়াকিয়ার কর্মকাণ্ড ছিল চরম পথভ্রষ্টতা ও আত্মবিনাশের কারণ।
প্রেক্ষাপট-২: ইমাম সাহেব জুমার দিনের আলোচনায় পরকালীন একটি স্তর নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার উপর সূর্য থাকবে এবং সকল মানুষ প্রচন্ড তাপে ঘামতে থাকবে।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়ার সকল কাজে জবাবদিহিতার অনুভূতি দেয় এবং পাপকাজ বর্জন করে সৎ ও নৈতিক জীবনযাপন করতে বাধ্য করে বলেই এতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের চরিত্রের মানদণ্ড।
জনাব 'ক' প্রত্যেক যুগেই নবি-রাসুলের আগমন প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে অনেকেই রিসালাতের দায়িত্ব পালন করবে বিশ্বাস করে ইসলামের অন্যতম মৌলিক অকাট্য আকিদা 'খাতামুন নাবিয়্যিন বা খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-কে অস্বীকার করেছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুল (স.)-এর পর আর কোনো নবি আসবেন না।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ইমাম সাহেব পরকালীন জীবনের যে স্তরে মাথার ওপর সূর্যের প্রচণ্ড তাপে সকল মানুষ ঘামে ভাসতে থাকবে বলে আলোচনা করেছেন, তা হলো 'হাশর বা কিয়ামতের মহা ময়দান'; পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
হাশর হলো কিয়ামতের পর সমগ্র মানবজাতিকে পুনরুত্থিত করে হিসাব-নিকাশের জন্য এক বিশাল ময়দানে সমবেত করার দিবস। সেই ভয়ানক দিনে সূর্য মানুষের মাত্র সোয়া এক হাত উপরে নেমে আসবে এবং জমিন তপ্ত তামায় পরিণত হবে।
মানুষ নিজ নিজ পাপের পরিমাণ অনুযায়ী ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খেতে থাকবে। সেই কঠিন দিনে একমাত্র আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না এবং একমাত্র বিশ্বনবি (স.)-এর শাফাআতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ হিসাব গ্রহণ শুরু করবেন।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের আলোচনা মুমিনদের আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণে এক শক্তিশালী সতর্কবার্তা।
মহানবি (স.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের বাস্তব রূপ এবং তাঁর অনুপম চরিত্র ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানুষ ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন জান্নাত লাভ করতে পারে বলেই তাঁর আদর্শ অনুকরণীয়।
তিনি হলেন বিশ্বজগতের জন্য রহমত।
জনাব হাফিজের তাড়াপুর এলাকার মানুষের তুচ্ছ বিষয়ে মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং মানুষের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা না থাকার অবস্থাকে প্রাক-ইসলামি আরবের চরম বর্বরতার যুগ 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ)-এর সাথে তুলনা করা যায়।
জাহেলিয়াত যুগে সামান্য ঘোড়াদৌড় বা পানি পানের মতো তুচ্ছ বিষয়ে গোত্রে গোত্রে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (যেমন: ফুজ্জার ও বাসুস যুদ্ধ) বছরের পর বছর চলত এবং মানুষের জানমালের কোনো মূল্য ছিল না।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব নাদিমের অধীনস্তদের সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং নিজে যা খান তাদেরও তা খাওয়ানোর মহতী কর্মে মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ' (১০ হি.)-এর প্রতিফলন ঘটেছে; আদর্শ সমাজ গঠনে উক্ত ভাষণের তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
বিদায় হজের ভাষণে বিশ্বনবি (স.) অধীনস্ত ও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কালজয়ী ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন— 'তোমাদের অধীনস্তদের প্রতি খেয়াল রাখবে; তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে, যা পরবে তাদেরও তা পরাবে।' একইসাথে তিনি বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুদ নিষিদ্ধের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
একটি সমাজে যদি অধীনস্তদের এই মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা যায়, তবে সমাজে শোষণ, শ্রেণিবিদ্বেষ ও অসন্তোষ চিরতরে বন্ধ হয়ে এক শান্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়।
সুতরাং, বিদায় হজের ভাষণ একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের চিরন্তন দিকনির্দেশনা।
প্রেক্ষাপট-১ : আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মহানবি (স.)-এর সাথে আন্তরিকভাবে চলাফেরা করে উহুদ যুদ্ধেও যায়। সে মহানবি (স.)-কে যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা দিয়েও যুদ্ধ শুরুর পূর্বেই কিছু লোক নিয়ে মদিনায় ফিরে আসে।
প্রেক্ষাপট-২ : জাহেদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার বাবা জনৈক সাধকের কাছে গিয়ে তার পা ধরে লুটিয়ে পড়ে বলে, "আপনিই একমাত্র আমার সন্তানকে সুস্থ করে দিতে পারেন।"
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়ায় জবাবদিহিমূলক, সত্যবাদী ও পাপাচারমুক্ত পবিত্র জীবনযাপনে বাধ্য করে এবং চরম ত্যাগের মধ্যেও ন্যায়নিষ্ঠ থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় বলেই এতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
পরকালের বিশ্বাস ছাড়া মানুষ লাগামহীন হয়ে পড়ে।
প্রেক্ষাপট-১ এ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মহানবি (স.)-এর সাথে আন্তরিকতার ভান করা সত্ত্বেও উহুদ যুদ্ধের মুখে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনশত লোক নিয়ে ফিরে যাওয়ার আচরণে চরম 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল মদিনার মুনাফিকদের সর্দার। সে মুখে ইসলামের কথা বললেও অন্তরে চরম কুফর ও মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করত। সংকটের মুহূর্তে মুসলমানদের ত্যাগ করে সে খাঁটি মুনাফিকের লক্ষণ প্রকাশ করেছে।
পবিত্র কুরআনে মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (দারকুল আসফাল) ঘোষণা করা হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রেক্ষাপট-২ এ জাহেদের বাবার অসুস্থ সন্তানের রোগমুক্তির জন্য একজন সাধকের পায়ে লুটিয়ে পড়ে 'আপনিই একমাত্র সুস্থ করতে পারেন' বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বিভ্রান্তিকর এবং ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক শিরক।
ইসলামে জীবন-মৃত্যু, রোগ-শোক ও রোগমুক্তির নিরঙ্কুশ মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। কোনো পীর, সাধক বা সৃষ্টি রোগমুক্তি দেওয়ার অসীম ক্ষমতার অধিকারী নয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন— 'আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে সুস্থতা দান করেন' (সুরা আশ-শুআরা: ৮০)।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির পায়ে সিজদার মতো লুটিয়ে পড়া এবং তাকে রোগদাতা মনে করা তাওহিদের মূলে কুঠারাঘাত। শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।
সুতরাং, জাহেদের পিতার উচিত অবিলম্বে এই শিরকি বিশ্বাস থেকে তওবা করে একমাত্র আল্লাহর কাছে সন্তানের সুস্থতার জন্য দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা।
আল্লাহ তায়ালা মানুষের বাহ্যিক আমলের চেয়ে অন্তরের খাঁটি উদ্দেশ্য ও ইখলাস বিবেচনা করে প্রতিদান দান করেন; নিয়ত ভালো না হলে কোনো নেক আমলের সাওয়াব মেলে না বলেই রাসুলুল্লাহ (স.) এ কথা বলেছেন।
খাঁটি নিয়তই সফলতার চাবিকাঠি।
জনাব ফারুক তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারে দেশ পরিচালনার জন্য পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধানের অনুরূপ যে সনদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো মহানবি (স.) কর্তৃক প্রণীত ঐতিহাসিক 'মদিনা সনদ' (৬২২ খ্রি.)।
মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সমঅধিকার ও নিরাপত্তার জন্য ৪৭টি ধারাসংবলিত এক ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষর করেন। এটি ছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের সংবিধান।
জনাব ফারুক এই সনদের অনুকরণে সর্বজনীন সুশাসন কায়েমের অঙ্গীকার করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব নাসিরের বক্তব্যে মহানবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর মানবাধিকারের মূল বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটলেও নিজের নতুন মতবাদ প্রতিষ্ঠার দাবিটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ।
১০ম হিজরিতে আরাফাতের ময়দানে মহানবি (স.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে সুস্পষ্ট মানবাধিকারের রূপরেখা দেন। তিনি বলেন— অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সকল মানুষ ভাই ভাই, নারীর অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে এবং কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে চলতে হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে তিনি দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে গেছেন।
জনাব নাসির বিদায় হজের সাম্য ও সম্প্রীতির কথা বললেও নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার যে ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, তা নবুয়তের পূর্ণাঙ্গতা ও সুন্নাহর সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনবিধান; এতে নতুন কোনো মানবীয় মতবাদের প্রয়োজন নেই।
সুতরাং, বিদায় হজের শ্বাশত আদর্শ ধারণ করে সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করাই একমাত্র সঠিক পথ।
গাছপালা প্রাণিকুলকে অক্সিজেন, ফলমূল ও ছায়া দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করে এবং রাসুলুল্লাহ (স.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া ও মহৎ সাওয়াবের কাজ ঘোষণা করেছেন বলেই বৃক্ষরোপণ পুণ্যের কাজ।
রোপিত বৃক্ষ থেকে কেউ উপকৃত হলে রোপণকারী কবরেও সাওয়াব পায়।
ত্রাণ সহায়তাকারীর 'বিপদ দূর করে আল্লাহ শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে দিবেন' আশাবাদী মন্তব্যে পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সুরা 'সুরা আল-ইনশিরাহ' (বা আশ-শারহ)-এর মহান শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
সুরা আল-ইনশিরাহে মহান আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সান্ত্বনা ও সুসংবাদ দিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে' (আয়াত: ৫-৬)।
ত্রাণকর্মী এই সুরার শ্বাশত বার্তার মাধ্যমেই চরম সংকটেও আল্লাহর রহমত ও আসন্ন শান্তির গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— উদ্দীপকের শেষাংশে 'আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি অথচ কৃতকর্মের কারণে পশুত্বের স্তরে নেমে যাই' মন্তব্যে পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতের অন্তর্নিহিত শিক্ষা ফুটে উঠেছে।
সুরা আত-তীনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'লাক্বাদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বওয়ীম, ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন' অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়ব ও গঠনে, অতঃপর তাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্টতম অধম স্তরে (যদি সে পাপাচার করে)।
মানুষ যখন তার বিবেক, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে হিংসা ও কলহে লিপ্ত হয়, তখন সে পশুর চেয়েও অধম স্তরে পতিত হয়। একমাত্র ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমেই মানুষ তার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারে।
সুতরাং, সুরা আত-তীনের আলোকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে নৈতিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানোই প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।
রোজা এমন এক গোপন ইবাদত যাতে কোনো রিয়া বা লোকদেখানোর সুযোগ নেই; বান্দা একমাত্র আল্লাহর ভালোবাসায় ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করে বলেই আল্লাহ স্বয়ং এর সীমাহীন প্রতিদান দান করবেন ঘোষণা করেছেন।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ সাওমের এই অনন্য মর্যাদার কথা ব্যক্ত করেছেন।
'ক'-এর বিশ্বকাপ খেলা দেখে সালাত বর্জন করা এবং সালাত পড়াকে 'অযথা সময় নষ্ট' বলায় আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'কুফর ও দ্বীনের ফরজ বিধানকে উপহাস করার জঘন্য পাপ' প্রকাশ পেয়েছে।
সালাত হলো ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ও ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট ফরজ বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা বা তা নিয়ে তাচ্ছিল্য করা সুস্পষ্ট কুফরি, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
'ক' তার অজ্ঞতা ও দাম্ভিকতার কারণে আল্লাহর ফরজের অবমাননা করে মারাত্মক গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ড. ইউসুফ কারযাভীর ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন পথপ্রদর্শক বা নবি না আসার প্রেক্ষিতে 'না' বলা আকাইদের অবিসংবাদিত ভিত্তি 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর আলোকে শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
খতমে নবুয়ত হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস যে— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও বলেছেন— 'লা নাবিয়্যা বা’দী' অর্থাৎ আমার পর আর কোনো নবি নেই।
ড. কারযাভী নব্য মুসলিমদের আকাইদের এই মৌলিক সত্যটিই দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। নবুয়তের সমাপ্তি স্বীকার করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
অতএব, খতমে নবুয়তের অকাট্য আকিদা অনুযায়ী ড. কারযাভীর বক্তব্য সম্পূর্ণ নির্ভুল ও যুক্তিযুক্ত।
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাপী মুমিনদের ক্ষমা ও জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশের বিশেষ অধিকার দান করবেন বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
মহানবি (স.)-এর শাফাআত উম্মতের জন্য পরম রহমত।
সাবিলার হযরত ঈসা (আ.)-কে মহান আল্লাহর পুত্র মনে করার ভ্রান্ত বিশ্বাসে ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর সত্তায় অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে।
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ইখলাসে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনিও কারো থেকে জন্ম নেননি; আর তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।' ঈসা (আ.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল ছিলেন। তাঁকে আল্লাহর পুত্র দাবি করা তাওহিদকে অস্বীকার করার স্পষ্ট শিরক।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ফারিহার সালাত ও সাওমসহ ইসলামের মৌলিক ফরজ ইবাদত অস্বীকার করার অহংকারী মনোভাব ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে প্রকাশ্য 'কুফর'; এ বিষয়ে শ্রেণিশিক্ষকের 'একদিন কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে' মন্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
সালাত ও সাওম ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো অকাট্য ফরজ বিধানকে অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা মানুষকে সরাসরি কাফিরে পরিণত করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই যারা কাফির হয়েছে এবং আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে' (সুরা আল-বাকারা: ৩৯)।
সুতরাং, শ্রেণিশিক্ষকের সতর্কবাণী ফারিহার কুফরি মনোভাবের পরকালীন চরম পরিণতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
কৃষক যেমন জমিতে ভালো বীজ বপন করলে ফসল ঘরে তোলে আর আগাছা লাগালে কিছুই পায় না, মানুষও তেমনি দুনিয়াতে যেমন ঈমান ও আমল করবে আখিরাতে জান্নাত বা জাহান্নামের ফল ঠিক তেমনই ভোগ করবে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
দুনিয়াই হলো পরকালের সম্বল অর্জনের একমাত্র ক্ষেত্র।
মাহির সাহেবের সালাত ও হজ পালন সত্ত্বেও কথায় ও কাজে মিল না থাকা এবং কথায় কথায় মিথ্যা বলার জঘন্য চরিত্রে আকাইদের মারাত্মক বিষয় 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) ফুটে উঠেছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। মাহির সাহেব বাহ্যিক ইবাদত করলেও অন্তরে কপটতা ও মিথ্যাচার ধারণ করে মুনাফিকের কাতারে শামিল হয়েছেন।
না, আমি উপস্থিত মুসল্লির 'পথপ্রদর্শক প্রেরণের এ ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত' মন্তব্যের সাথে একমত নই; নিম্নে এর সপক্ষে অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে যুক্তি দেওয়া হলো:
ইসলামি আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের চিরন্তন সমাপ্তি)। মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.) থেকে নবি-রাসুল প্রেরণের যে ধারা শুরু করেছিলেন, তা হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করে চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)। রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট বলেছেন— 'আমার পর আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না' (সহিহ বুখারি)।
সুতরাং, মুসল্লির বক্তব্যটি ইসলামি আকাইদের সম্পূর্ণ বিরোধী ও ভুল।
পোশাক যেমন মানুষের লজ্জা নিবারণ করে ও সৌন্দর্য বাড়ায়, স্বামী ও স্ত্রীও তেমনি একে অপরের দোষত্রুটি গোপন রেখে প্রেম-ভালোবাসা ও নিরাপত্তার সুরক্ষাকবচ হয়ে থাকে বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে এই চমৎকার রূপক ব্যবহার করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য পরিপূরক।
মেয়ে পরীক্ষায় ভালো ফল করায় সাইফুল সাহেবের ওয়াদা অনুযায়ী তাকে বই উপহার দেওয়ার মাঝে আখলাকে হামিদাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ 'ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা' প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে ওয়াদা পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। তিনি পিতার দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রক্ষা করে আদর্শের পরিচয় দিয়েছেন।
হ্যাঁ, সাইফুল সাহেবের টাকাভর্তি খাম দেখে ফাইল ছুড়ে ফেলে কর্মচারীকে ধমক দেওয়ার প্রতিক্রিয়াটি শরিয়তের দৃষ্টিতে শতভাগ যথার্থ ও সময়োপযোগী; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ফাইলে টাকা দিয়ে দ্রুত বা বেআইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হলো স্পষ্ট 'ঘুষ' (রিশওয়াত)। ইসলামি শরিয়তে ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (স.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি' (তিরমিজি)।
সাইফুল সাহেব ঘুষের প্রস্তাবকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে নিজের ঈমান ও চাকরিকে হারাম থেকে রক্ষা করেছেন এবং কর্মচারীকে পরকালের আজাব সম্পর্কে সঠিক সতর্কবাণী শুনিয়েছেন।
সুতরাং, সাইফুল সাহেবের সততা ও সাহসী প্রতিবাদ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
ইবনে সিনা রচিত 'আল-কানুন ফিত-তিব্ব' গ্রন্থে মানবদেহের রোগব্যাধি, ঔষধবিজ্ঞান, শারীরস্থান ও জটিল অস্ত্রোপচারের সামগ্রিক বিষয়ের বিজ্ঞানসম্মত পূর্ণাঙ্গ বিবরণ থাকায় একে চিকিৎসাশাস্ত্রের বৃহৎ বিশ্বকোষ বলা হয়।
এটি শত শত বছর ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল।
আবদুল গণি সাহেবের বন্যার্তদের পানির সংকট দূর করতে নিজ খরচে নলকূপ স্থাপন এবং বিধ্বস্ত মসজিদ পুনর্নির্মাণের মহতী কর্মকাণ্ডে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) (যুন্নুরাইন)-এর অনন্য জীবনদর্শনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
হযরত উসমান (রা.) মদিনায় মুসলিমদের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে নিজ অর্থে 'বীরে রুমা' নামক কূপ কিনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ ও নির্মাণে বিপুল অর্থ দান করেছিলেন। আবদুল গণি খলিফা উসমান (রা.)-এর সেই সুন্নাহরই অনুসরণ করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— চেয়ারম্যান দবির সাহেবের নিজ ছেলের ত্রাণের চাল চুরির অপরাধে কোনো স্বজনপ্রীতি না করে শাস্তিস্বরূপ সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পদক্ষেপে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর অটল ন্যায়বিচারের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে; নিম্নে এর মূল্যায়ন দেওয়া হলো:
খলিফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের এক কালজয়ী প্রতীক। বিচার ও আইনের প্রয়োগে তিনি আত্মীয়-অনাত্মীয়, ধনী-দরিদ্রের কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি; এমনকি অপরাধের ক্ষেত্রে নিজ সন্তানকেও তিনি ক্ষমা করেননি।
দবির চেয়ারম্যান রক্ত বা আত্মীয়তার মোহকে প্রাধান্য না দিয়ে আমানতের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। তাঁর এই আপসহীন পদক্ষেপ দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত সমাজ গঠনের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
সুতরাং, চেয়ারম্যানের ভূমিকা খেলাফতে রাশেদার ন্যায়পরায়ণতার এক বাস্তব জীবন্ত দলিল।
আল-কুরআন মানুষের অন্তর ও সমাজ থেকে কুফর, শিরক ও অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে ঈমান, হিদায়াত ও নৈতিকতার আলোয় মানবজাতিকে আলোকিত করে বলেই একে 'আন-নূর' (মহা জ্যোতি) বলা হয়।
কুরআন হলো মানবজাতির আলোকবর্তিকা।
জনাব আ. রহিমের আলোচনায় পথভোলা মানুষদের সঠিক পথ প্রদর্শনে যুগে যুগে মহামানব প্রেরণের মাঝে ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল বিষয় 'রিসালাত' (নবি-রাসুলদের দায়িত্ব ও আগমন) ফুটে উঠেছে।
মানুষ নিজ বুদ্ধি দিয়ে স্রষ্টার সঠিক পরিচয় ও জীবনবিধান জানতে পারত না। তাই আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে হযরত আদম (আ.) থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত অসংখ্য নবি-রাসুল পাঠিয়ে মানুষকে তাওহিদের আলো দেখিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব রিফাতের আলোচনায় কিয়ামতের ময়দানে বিচার কাজ শুরুর জন্য মহানবি (স.)-এর আবেদনের বিষয়টি হলো 'শাফাআতে কুবরা' (সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশ); এ বিষয়ে ছাত্র তমালের 'সেই দিনের মহানবি (স.)-এর অনুরোধ এক বিশেষ নিয়ামত' মতামতের মূল্যায়ন নিচে দেওয়া হলো:
কিয়ামতের দিন সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপ ও হাশরের ময়দানের অসহনীয় যন্ত্রণায় মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়বে, তখন হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সকল নবি অপারগতা প্রকাশ করবেন। অবশেষে সমগ্র মানবজাতি বিশ্বনবি (স.)-এর শরণাপন্ন হবে।
মহানবি (স.) তখন মহান আল্লাহর আরশের নিচে সিজদায় পড়ে উম্মতের বিচার শুরুর সুপারিশ করবেন, যা আল্লাহ কবুল করবেন। একেই 'মাকামে মাহমুদ' বা শাফাআতে কুবরা বলা হয়।
সুতরাং, তমালের বক্তব্যটি হাশরের ময়দানে মহানবি (স.)-এর রহমতের বিশেষ নিয়ামতের এক নিখুঁত মূল্যায়ন।