দুনিয়াতে মানুষ যে ধরনের নেক আমল বা বদ আমল করবে, পরকালের আখিরাতে ঠিক সেই অনুযায়ী জান্নাতের অফুরন্ত সুখ বা জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করবে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
দুনিয়াই হলো পরকালের পাথেয় অর্জনের স্থান।
শিক্ষক শ্রেণিতে পাঠদানকালে ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ মহান আল্লাহর একত্ববাদ অর্থাৎ 'তাওহিদ' নিয়ে আলোচনা করেছেন;
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র সত্তা ও অনুপম গুণাবলিতে একক ও অদ্বিতীয়। সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ বা সদৃশ নয়। তিনিই আদি, তিনিই অনন্ত এবং নিখিল সৃষ্টির একমাত্র স্রষ্টা ও পালনকর্তা।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ইমাম সাহেব পরকালের যে স্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা হলো জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুল 'সিরাত'; নিম্নে ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করা হলো:
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশের পর জান্নাতে প্রবেশের জন্য সকল মানবজাতিকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে স্থাপিত সিরাত অতিক্রম করতে হবে। এটি চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তরবারির চেয়েও ধারালো।
মুমিনগণ তাঁদের নেক আমলের আলোতে বিদ্যুতের গতিতে সিরাত পার হয়ে জান্নাতে পৌঁছে যাবেন, আর কাফির ও পাপিষ্ঠরা নিজেদের পাপের ভারে সিরাত থেকে জাহান্নামের লেলিহান আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের বক্তব্য মুমিনকে পরকালের জন্য খাঁটি নেক আমল প্রস্তুত করার এক পরম বাস্তব তাগিদ।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে একমাত্র আল্লাহর দাসত্বে আত্মনিয়োগ করতে শিখিয়ে দুনিয়ার যাবতীয় মিথ্যা শক্তির ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করে এবং মানবজীবনে আত্মমর্যাদা ও একতা প্রতিষ্ঠা করে।
তাওহিদই ইসলামের মূলভিত্তি।
জনাব আশরাফ সাহেবের সন্তানের আরোগ্যের জন্য মাজারে গরু মান্নত করা এবং মাজারের কাছে প্রার্থনা করার কাজে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' ফুটে উঠেছে।
ইসলামে কোরবানি ও মান্নত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হতে হবে এবং রোগমুক্তি কেবল আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। মাজারের কাছে সন্তান বা রোগমুক্তি চাওয়া প্রকাশ্য শিরক।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— বারাকাত সাহেবের 'জীবনের উন্নতি ও অবনতি শুধুমাত্র কর্মের ওপর নির্ভরশীল' বিশ্বাসে ঈমানের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'তকদির' (আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য)-কে অস্বীকার করা হয়েছে; নিম্নে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
মানুষের দায়িত্ব হলো চেষ্টা করা, কিন্তু চূড়ান্ত সফলতা ও ব্যর্থতার ফয়সালা একমাত্র আল্লাহর হাতে। তকদিরকে অস্বীকার করে কেবল নিজের মেধা ও কর্মকে সফলতার মূল মনে করা চরম আত্মম্ভরিতা ও শরিয়তবিরোধী কুফরি মনোভাব।
এরূপ বিশ্বাসের কারণে মানুষ ব্যর্থতায় হতাশায় ভোগে এবং সাফল্যে অহংকারী হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া ভুলে যায়। তকদিরে বিশ্বাস ছাড়া ঈমান পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।
সুতরাং, বারাকাত সাহেবের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ত্যাগ করে তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য।
ফুজ্জারের অন্যায্য যুদ্ধ বন্ধ, মজলুমের মানবাধিকার রক্ষা এবং গোত্রীয় সংঘাত নিরসন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মহানবি (স.)-এর কৈশোরে 'হিলফুল ফুযুল' গঠিত হয়েছিল।
এটি ছিল আরবের প্রথম ঐতিহাসিক শান্তিসংঘ।
জাহাঙ্গীর সাহেবের জীবনের সাথে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর শৈশবকালের নিখুঁত সাদৃশ্য রয়েছে; নিম্নে তাঁর শৈশবকাল ব্যাখ্যা করা হলো:
মহানবি (স.) মাতৃগর্ভে থাকতেই পিতাকে হারান এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে মা আমেনাকে হারান। পরবর্তীতে দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং অতপর স্নেহের চাচা আবু তালিবের সংসারে তিনি প্রতিপালিত হন। চাচার দারিদ্র্য দূর করতে বালক মুহাম্মদ (স.) মক্কার মাঠে মেষ চরাতেন এবং ব্যবসায়িক কাফেলায় সাহায্য করতেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও ইমরান সাহেবের অত্যাচারী প্রতিবেশীকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেওয়ার মাঝে মহানবি (স.)-এর জীবনের ঐতিহাসিক 'মক্কা বিজয়ের পরম ক্ষমাশীলতা' (৮ হি.)-এর সুমহান আদর্শ ফুটে উঠেছে;
৮ম হিজরিতে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশের পর মহানবি (স.) দীর্ঘদিনের নির্যাতনকারী শত্রু কুরাইশদের সামনে পেয়েও কোনো রক্তের বদলা নেননি; বরং ঘোষণা করেছিলেন— 'আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা সবাই মুক্ত।' (সহিহ বুখারি)।
ইমরান সাহেবের এই আচরণ প্রমাণ করে যে ক্ষমার মাধ্যমে শত্রুকে জয় করাই ইসলামের শ্রেষ্ঠতম নৈতিক আদর্শ।
সুতরাং, ইমরান সাহেবের ক্ষমা মহানবি (স.)-এর অনুপম ক্ষমার এক উজ্জ্বল বাস্তব রূপ।