প্রাক-ইসলামি যুগে নারীদের কোনো মানবিক অধিকার বা মর্যাদা ছিল না; তাদের পণ্যদ্রব্যের মতো কেনাবেচা করা হতো এবং কন্যাশিশু জন্ম নেওয়াকে চরম অপমান মনে করে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
ইসলাম এসে নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছে।
চেয়ারম্যান মকবুল সাহেবের রাতের অন্ধকারে আটার বস্তা বহন করে ক্ষুধাত শিশুদের খাবার দেওয়া এবং প্রসব বেদনায় স্ত্রীকে দিয়ে গর্ভবতী নারীর সেবা করানোর মাঝে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা হযরত উমর (রা.) রাতের আঁধারে মদিনার অলিতে-গলিতে প্রজাদের খবর নিতেন, ক্ষুধার্তদের জন্য নিজ কাঁধে আটার বস্তা বহন করতেন এবং এক বেদুইন নারীর প্রসব বেদনায় নিজের স্ত্রী উম্মে কুলসুম (রা.)-কে নিয়ে সেবা করেছিলেন।
হ্যাঁ, আমি আবেদার 'ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি মুসলমানরা চিকিৎসা ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবদান রেখেছেন এবং বর্তমান বিশ্ব তাদের কাছে ঋণী' মন্তব্যের সাথে শতভাগ একমত; নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. ইবনে সিনা (চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক): তিনি রচিত 'আল-কানুন ফিত-তিব্ব' গ্রন্থটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বকোষ, যা শত শত বছর ধরে ইউরোপের মেডিকেল কলেজগুলোতে পাঠ্য ছিল।
২. আল-রাজি: তিনি বিশ্বের সর্বপ্রথম হাম ও বসন্ত রোগের নির্ভুল লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং 'আল-হাবি' নামক সুবিশাল মেডিকেল গ্রন্থ রচনা করেন।
৩. জুলফিকার ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক অস্ত্রোপচার: মুসলিম চিকিৎসকরাই সর্বপ্রথম চোখের ছানি অপারেশন ও রক্ত সঞ্চালনের প্রাথমিক গবেষণা করেছিলেন।
সুতরাং, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল ভিত্তিপ্রস্তর মুসলিম মনীষীদের হাতেই রচিত হয়েছিল।
দুনিয়ার প্রতিটি ভালো ও মন্দ কাজের জন্য মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে পূর্ণ হিসাব দিতে হবে এবং অনন্ত জান্নাত বা জাহান্নামের ফায়সালা হবে বিশ্বাস করলেই মানুষ পাপমুক্ত জীবন গড়তে পারে বলেই আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের চারিত্রিক মূলভিত্তি।
জনাব 'ক'-এর ভালো ফলাফলের আশায় মাজারে গিয়ে পীরের নামে ছাগল কুরবানি করার কর্মকাণ্ডে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামে কোরবানি ও পশু জবাই একমাত্র মহান আল্লাহর নামেই হতে হবে। কোনো পীর বা সৃষ্টির নামে পশু জবাই করা এবং পীরের কাছে কল্যাণ চাওয়া প্রকাশ্য শিরক, যা মানুষকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— 'খ'-এর মদপান করে 'এতে দোষের কিছু নেই' মনে করার চরম ভ্রান্ত মানসিকতায় শরিয়তের স্পষ্ট হারাম অস্বীকারের 'কুফরি মনোভাব' প্রকাশ পেয়েছে; নিম্নে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মদপানকে সম্পূর্ণ হারাম ও শয়তানের অপবিত্র কাজ ঘোষণা করেছেন (সুরা আল-মায়িদাহ: ৯০)। শরিয়তের কোনো অকাট্য হারামকে নির্দোষ বা হালাল মনে করা মানুষকে সরাসরি কাফিরে পরিণত করে।
মাদক মানুষের মস্তিষ্ক ও বিবেক ধ্বংস করে দেয় এবং সমাজে অপরাধ বাড়ায়। হাদিস অনুযায়ী মাদকাসক্ত ব্যক্তির সালাত কবুল হয় না এবং পরকালে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নামের কঠিন আজাব।
সুতরাং, 'খ'-এর উচিত অবিলম্বে এই কুফরি মনোভাব ও মাদক ত্যাগ করে খাঁটি তাওবা করা।
মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও একত্ববাদের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর প্রতিটি জাতি ও জনপদে যুগে যুগে নবি-রাসুল ও পথপ্রদর্শক প্রেরণ করেছিলেন বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে এ কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতিকে সতর্ককারী পথপ্রদর্শক ছাড়া ছেড়ে দেননি।
খবির মিয়ার লোকসমাজে মার্জিত ব্যবহার করা অথচ লোকচক্ষুর অন্তরালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং লেনদেনে কথা ও কাজের মিল না রাখার মাঝে চরম জঘন্য পাপ 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) প্রকাশ পেয়েছে।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকের তিনটি মূল লক্ষণ বর্ণনা করেছেন— 'যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। খবির মিয়া প্রকাশ্যে ভালো সেজে গোপনে অন্যায়ে লিপ্ত হয়ে খাঁটি মুনাফিকের চরিত্র ধারণ করেছে।
মুনাফিকদের এই দ্বিমুখী চরিত্র সমাজ ও ধর্মের চরম শত্রু।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দবির মিয়ার ভবিষ্যতে আবার নতুন মহামানব বা পথপ্রদর্শক আগমনের ধারণাটি আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থি; এতে বিশ্বাস রাখা ঈমানের জন্য অপরিহার্য।
খতমে নবুয়তের অকাট্য আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আগমনের মাধ্যমেই নবুয়তের ধারাক্রম চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে; কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।
দবির মিয়া কিয়ামত পর্যন্ত নতুন নবি আসার সম্ভাবনা বিশ্বাস করে কুরআনের এই অকাট্য ঐশী ঘোষণাকে অমান্য করেছে। খতমে নবুয়ত অস্বীকার করলে মানুষের সমস্ত ইমান বাতিল হয়ে যায়।
সুতরাং, রাসুলুল্লাহ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ অন্তরে বিশ্বাস করাই ইসলামের অপরিহার্য মূলভিত্তি।
তকদির হলো মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরম প্রজ্ঞা; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপদে ধৈর্যশীল হতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস করা জরুরি।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
ফাহিমের আল-কুরআনকে আল্লাহর বাণী ও শেষ নবি (স.)-এর প্রতি অবতীর্ণ হিসেবে বিশ্বাস করা এবং এর আদেশ-নিষেধ মানার মানসিকতায় আকাইদের মূল বিষয় 'আসমানি কিতাবে বিশ্বাস ও রিসালাতের আনুগত্য' প্রকাশ পেয়েছে।
আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের অন্যতম মৌলিক রুকন। কুরআন মাজিদ হলো বিশ্বমানবতার হেদায়েতের একমাত্র নির্ভুল পথনির্দেশনা। ফাহিম কুরআনের বিধান জীবনে অনুশীলনের মাধ্যমে খাঁটি মুমিনের পরিচয় দিয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নাঈমের মহাবিশ্ব পরিচালনায় আল্লাহর সহযোগীর প্রয়োজন মনে করার মানসিকতা ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক'; এ বিষয়ে খতিব সাহেবের 'জান্নাত হারাম হয়ে যাবে' উক্তিটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
মহান আল্লাহ তায়ালা একক ও অদ্বিতীয়। আসমান ও জমিনের কোনো কিছুতেই আল্লাহর কোনো সহযোগী, শরিক বা অংশীদারের প্রয়োজন নেই। আল্লাহকে সৃষ্টি পরিচালনায় মুখাপেক্ষী ভাবা সুস্পষ্ট শিরক।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম' (সুরা আল-মায়িদাহ: ৭২)।
সুতরাং, খতিব সাহেবের কঠোর সতর্কবার্তা নাঈমের চরম ঈমানবিধ্বংসী মানসিকতার বাস্তব ও অকাট্য পরিণতির প্রতিচ্ছবি।
ইমান হলো অন্তরের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস যা মাটির নিচে গাছের শিকড়ের মতো ভিত্তি তৈরি করে, আর ইসলাম হলো বাহ্যিক সৎ আমল যা গাছের কান্ড, ডালপালা ও সুমিষ্ট ফলের মতো ফুটে ওঠে বলেই এই তুলনা দেওয়া হয়েছে।
শিকড় ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না, তেমনি কাণ্ড ছাড়া গাছ অপূর্ণ।
মাহিনের ধার করা টাকা ফেরত না দিয়ে মিথ্যা বলে 'কবেই দিয়েছি' দাবি করার জঘন্য প্রতারণামূলক চরিত্র খাঁটি 'মুনাফিকি ও আমানতের খেয়ানত'-এর শামিল।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে তাতে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। মাহিন ধার করা অর্থ আত্মসাৎ করে এবং মিথ্যা বলে মুনাফিকির কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— পলাশের 'মন ভালো থাকলে নামাজ লাগে না' বলে সালাতের ফরজ বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা এবং অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ার মানসিকতা ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক 'কুফরি ও পথভ্রষ্টতা'; নিম্নে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় মূল স্তম্ভ এবং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর ফরজে আইন। শরিয়তের কোনো স্পষ্ট ফরজ ইবাদত অস্বীকার করা বা তা নিয়ে যুক্তি দেখিয়ে অবজ্ঞা করা স্পষ্ট কুফর, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
আল্লাহর অবাধ্যতা ও অবৈধ উপার্জনের কারণে মানুষের অন্তরের শান্তি চিরতরে বিনষ্ট হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন— 'যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকুচিত ও দুর্দশাগ্রস্ত' (সুরা ত্বা-হা: ১২৪)। এ কারণেই পলাশ শেষ পর্যন্ত হতাশাগ্রস্ত হয়েছে এবং পরকালেও তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠিন আজাব।
সুতরাং, পলাশের উচিত অবিলম্বে খাঁটি তাওবা করে নিয়মিত সালাত কায়েম করা।
শিরক হলো মহান আল্লাহর একক সার্বভৌমত্ব, সত্তা ও গুণাবলিতে অন্যের অংশীদারিত্ব স্থাপন করার মতো ক্ষমার অযোগ্য চরম মিথ্যা ও অবিচার; তাই তওবা ছাড়া আল্লাহ শিরকের গুনাহ কখনো ক্ষমা করেন না।
শিরক হলো সবচেয়ে বড় মহাপাপ।
জনাব রকিবের আর্থিক সাহায্য পেয়ে সেই বিত্তবান মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করার ভ্রান্ত বিশ্বাসে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা একক ও অদ্বিতীয়; কোনো সৃষ্টি বা মানুষ কখনোই আল্লাহর সমকক্ষ বা শরিক হতে পারে না। কোনো মানুষকে আল্লাহর গুণাবলির সমকক্ষ মনে করা খাঁটি তাওহিদকে চূর্ণ করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সোলেমান মেম্বারের প্রকাশ্যে ইসলামের কিছু বিধান পালন করলেও অন্তরে ইসলামকে অবজ্ঞার চোখে দেখার জঘন্য চরিত্রে 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর কুফল ও পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
মুখে ইসলাম স্বীকার করে অন্তরে ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা ও কুফর গোপন রাখাকে নিফাক বলে। মুনাফিকরা প্রকাশ্য কাফিরের চেয়েও সমাজ ও মুসলিমদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
নিফাকের কারণে মানুষের অন্তরের ঈমান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (আস-দারকুল আসফাল)' (সুরা আন-নিসা: ১৪৫)।
সুতরাং, সোলেমান মেম্বারের এই কপটতার পরিণতি উভয় জাহানেই চরম লাঞ্ছনা ও অবধারিত ধ্বংস।
মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের হেদায়েতের জন্য ওহির বাণী মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সৎপথ প্রদর্শনের পবিত্র দায়িত্বকে রিসালাত বলে।
নবি-রাসুলগণ হলেন মানবজাতির শিক্ষক।
শেফালী বেগমের আখিরাত ও পরকালীন বিচারকে অস্বীকার করে কেবল দুনিয়াতেই পুরস্কার-শাস্তি পাওয়ার ধারণার কারণে ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে তিনি খাঁটি 'কাফির' হিসেবে পরিগণিত হবেন।
আখিরাতে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ। পরকালের হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নাম ও কিয়ামতকে অস্বীকার করা স্পষ্ট কুফর। এর পরিণতিতে ব্যক্তির সমস্ত পার্থিব নেক আমল বাতিল হয়ে যায় এবং পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
হ্যাঁ, ঝরনা বেগমের 'ইসলাম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম, এর কোনো একটি বিধান অস্বীকার করলে সে কাফির হিসেবে পরিগণিত হবে' বক্তব্যটি শতভাগ সত্য ও নির্ভুল; নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
ইসলাম হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ও অখণ্ড জীবনব্যবস্থা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? তোমাদের যারা এরূপ করে তাদের পরিণতি পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন কঠিনতম আজাবে নিক্ষিপ্ত হওয়া' (সুরা আল-বাকারা: ৮৫)।
ঈমান হলো ইসলামের সমস্ত মৌলিক বিষয়কে সামগ্রিকভাবে নিঃশর্ত মেনে নেওয়া। আখিরাত অস্বীকার করার অর্থ স্বয়ং কুরআন ও আল্লাহর বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
সুতরাং, ঝরনা বেগমের বক্তব্য ইসলামি আকাইদের অকাট্য মূলনীতির এক যথার্থ প্রতিফলন।
দৃশ্যকল্প-২: ইতিহাস পড়ে জনাব করিম জানতে পারেন যে, দীর্ঘদিন ধরে দুটো গোত্রের মাঝে যুদ্ধ চলার কারণে সৌদি আরবের একটি ভূখন্ডের শান্ত ও নির্মল পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে। অতঃপর ৬২২ খ্রি. একজন মহামানবের মধ্যস্থতায় চিরদিনের জন্য সে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। পরিশেষে সকল গোত্রের সম্মতিতে লিখিত সংবিধানের আলোকে একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠিত হয়।
পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি স্থাপন এবং পরিশ্রবণ, বাষ্পীকরণ ও বিভিন্ন মৌলিক এসিড আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান হিসেবে রূপ দিয়েছিলেন বলেই জাবির ইবনে হাইয়ানকে রসায়নের জনক বলা হয়।
তিনি বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
দৃশ্যকল্প-১ এ নবজাতক সারওয়ারকে বিশুদ্ধ ভাষা ও উত্তম পরিচর্যার জন্য প্রেরণ করার মাঝে মহানবি (স.)-এর শৈশবে 'হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর ঘরে লালনপালন ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিক্ষা' প্রকাশ পেয়েছে।
তৎকালীন কুরাইশদের প্রথা অনুযায়ী বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিক্ষা ও মরুভূমির নির্মল বাতাসে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য শিশু মুহাম্মদ (স.)-কে বনু সাদ গোত্রের বিবি হালিমার দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি পাঁচ বছর অবস্থান করে বিশুদ্ধতম আরবি ভাষা রপ্ত করেছিলেন।
হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-২ এ দীর্ঘদিন যুদ্ধরত দুই গোত্রের মাঝে মহামানবের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়া এবং ৬২২ খ্রিস্টাব্দে লিখিত সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনের ঘটনার সাথে মহানবি (স.)-এর 'মদিনায় হিজরত ও ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়ন'-এর নিখুঁত মিল রয়েছে; নিম্নে এর যৌক্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
মদিনার 'আউস' ও 'খাযরাজ' গোত্র দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী 'বুআস যুদ্ধে' লিপ্ত ছিল। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবি (স.) মদিনায় হিজরত করে তাদের মধ্যকার শত্রুতা চিরতরে নির্মূল করে দেন।
অতঃপর তিনি মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য গোত্রগুলোর সমন্বয়ে বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত রাজনৈতিক সংবিধান 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন এবং মদিনাকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
সুতরাং, দৃশ্যকল্পের বিবরণ মহানবি (স.)-এর মদিনা সনদ ও রাষ্ট্র পরিচালনার এক জীবন্ত দলিল।
চিত্র-১ : খতিব সাহেব জুমার আলোচনায় পরকালের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “সেই ভয়ানক বিভীষিকাময় দিনে সকল মানুষের মাথার ওপর সূর্য থাকবে, প্রচণ্ড গরমে সবাই ঘামতে থাকবে।”
চিত্র-২: জমির মন্ডল আল্লাহকে এক বলে জানেন। মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে যুগযুগ ধরে পথপ্রদর্শকদের আগমনকেও বিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি মনে করেন, কিয়ামত পর্যন্ত এই পথপ্রদর্শকগণের আগমন চলমান থাকবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্তা, গুণাবলি, অসীম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয়; তাঁর সাথে কোনো সৃষ্টির রূপ, আকার বা গুণের তুলনা চলে না বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— 'লাইসা কামিসলিহি শাই' অর্থাৎ কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।
আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টির রূপ ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে চিরঞ্জীব ও অতুলনীয়।
চিত্র-১ এ খতিব সাহেবের আলোচনায় সকল মানুষের মাথার ওপর সূর্যের প্রচণ্ড তাপে ঘামে হাবুডুবু খাওয়ার বিবরণে পরকালীন জীবনের 'হাশরের ময়দান ও বিচার দিবসের বিভীষিকাময় দিনের' স্তরটি ফুটে উঠেছে।
আখিরাতের বিশ্বাস অনুযায়ী— ইসরাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুৎকারে সকল মৃত মানুষ কবর থেকে পুনরুত্থিত হয়ে আল্লাহর আদালতে হিসাবের জন্য এক বিশাল ময়দানে সমবেত হবে, যাকে হাশর বলে। সেই দিন সূর্য অতি নিকটে থাকবে এবং মানুষ তার কৃতকর্মের অনুপাতে ঘামের সাগরে নিমজ্জিত থাকবে। একমাত্র আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না।
খতিব সাহেব হাশরের সেই কঠিন ও চূড়ান্ত জবাবদিহিতার ময়দানের বাস্তব দৃশ্যই বর্ণনা করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— চিত্র-২ এ জমির মন্ডলের কিয়ামত পর্যন্ত নতুন পথপ্রদর্শকদের আগমন চলমান থাকবে বলে বিশ্বাস করায় আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর বিশ্বাসের চরম ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে; ইসলামি আকাইদে এই বিশ্বাসের গুরুত্ব অপরিসীম।
খতমে নবুয়ত হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন আল্লাহ প্রেরিত নবি ও রাসুলগণের ধারাক্রমের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি; তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (খাতামুন নাবিয়্যিন)' (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।
জমির মন্ডল অন্যান্য নবিদের মানলেও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চূড়ান্ত ও সমাপ্তকারী নবুয়তকে অস্বীকার করে ভ্রষ্টতায় পতিত হয়েছে। নবুয়তের সমাপ্তি অস্বীকার করলে ব্যক্তির সামগ্রিক ইমান বাতিল হয়ে যায়।
সুতরাং, হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করাই খাঁটি ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
আল্লাহ তায়ালার পরিচয়, সঠিক ইবাদতের নিয়ম এবং পরকালীন মুক্তির পথ নবি-রাসুলগণের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পেরেছে; তাই রিসালাতে বিশ্বাস ছাড়া তাওহিদ ও সৎকর্মের কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না বলেই এতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
রিসালাতে বিশ্বাস মানুষকে সৎ, চরিত্রবান ও আদর্শবান রূপে গড়ে তোলে।
ইসমাইলের রমজানের রোজা শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত বিশেষ নামাজে অংশগ্রহণ না করে আড্ডায় সময় কাটানোর মাঝে ইসলামি শরিয়তের অন্যতম সুদৃঢ় 'ওয়াজিব' বিধান (ঈদুল ফিতরের সালাত) লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে দুই ঈদের (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করা প্রত্যেক সুস্থ ও সামর্থ্যবান মুসলিম পুরুষের ওপর ওয়াজিব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন রোজা রাখা হারাম এবং সেদিনের প্রধান ইবাদত হলো সর্বস্তরের মুসলিমদের সাথে ঈদগাহে সম্মিলিত আনন্দ ও সালাত আদায় করা।
ইসমাইল কোনো ওজর ছাড়াই শরিয়তের এই আবশ্যক ওয়াজিব হুকুম বর্জন করে গুনাহগার হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— শফিক মিয়ার সততার সাথে ব্যবসা করা এবং সঠিক ওজনে পণ্য দেওয়ার বিশ্বাস মহানবি (স.)-এর 'সত্যবাদী আমানতদার ব্যবসায়ীদের পরকালীন মর্যাদা সংক্রান্ত' হাদিসের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ; সমাজকল্যাণে এর প্রভাব অপরিসীম।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবি, সিদ্দিক ও শহীদগণের সাথে থাকবে' (তিরমিজি)। ব্যবসা একটি মহান পেশা, যদি তা সততা, নিখুঁত ওজন ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে পরিচালিত হয়।
ব্যবসায়ীরা শফিক মিয়ার মতো সৎ ও অমায়িক হলে সমাজে ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত হয়, পণ্যদ্রব্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়ার অভিশাপ দূর হয় এবং বাজারব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট ও অসাধু সিন্ডিকেটের অবসান ঘটে। এর ফলে সমাজে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও গণমানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
অতএব, ব্যবসায় সততা রক্ষা করা সমাজ থেকে অবিচার ও দুর্নীতি নির্মূলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত স্নেহ, শ্রদ্ধা, ভক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের; যেখানে শিক্ষক ছাত্রকে সন্তানের মতো স্নেহ দিয়ে নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত করবেন এবং ছাত্র শিক্ষককে আজীবন পরম শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করবে।
শিক্ষকের প্রতি বিনয় ও সম্মান প্রদর্শন ছাড়া প্রকৃত ইলমের বরকত অর্জন করা যায় না।
জনাব রফিকুল্লাহর ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে নিয়মিত আদায়কৃত ইবাদতটি হলো ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ 'সালাত' (নামাজ)।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'বান্দা এবং কুফর ও শিরকের মাঝে একমাত্র পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা' (সহিহ মুসলিম)। সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি; যা মানুষকে যাবতীয় অশ্লীল, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য দান করে।
রফিকুল্লাহ এই সর্বশ্রেষ্ঠ দৈহিক ইবাদত পালনের মাধ্যমে নিজের খাঁটি মুসলিম পরিচয় ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাফিয়া খাতুনের ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনার বিপরীতে দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন কিনে দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত' আদায় হয়েছে; জাতীয় ও পারিবারিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
যাকাত হলো একটি বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত, যার মূল লক্ষ্য সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো' (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)।
সাফিয়া খাতুন যাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের উপকরণ (সেলাই মেশিন) প্রদান করায় তারা নিজেরাই উপার্জনক্ষম হয়ে উঠেছে। এর ফলে সমাজে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ঘটে, পরনির্ভরশীলতা দূর হয় এবং জাতীয় অর্থনীতি মজবুত হয়।
সুতরাং, সঠিক পরিকল্পনায় যাকাত বণ্টন করলে সমাজ থেকে চিরতরে অভাব ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
তকদির হলো আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনে চরম বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে শেখায় এবং অপরিসীম সাফল্যেও অহংকারমুক্ত রেখে আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলশীল রাখে বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের সাতটি মৌলিক বিষয়ের অন্যতম।
হাদির রমজান মাসে রোজা ও সালাতকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা এবং আল্লাহর শাস্তিকে তোয়াক্কা না করার দাম্ভিক মানসিকতায় আকাইদের মূল বিষয় 'কুফর ও আখিরাতের জবাবদিহিতাকে অস্বীকার করার' প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি শরিয়তের কোনো ফরজ বা মৌলিক বিধানকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা কিংবা তা নিয়ে উপহাস করা সুস্পষ্ট কুফরি। আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-বাকারায় সালাত ও সাওমকে মুমিনের জন্য ফরজ করেছেন।
হাদি আল্লাহর ফরজ বিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ইসলামের মৌলিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে এবং কুফরে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাদির নিয়মিত সালাত আদায় করা সত্ত্বেও মাজারে সিজদা করা এবং জগৎ পরিচালনায় একাধিক শক্তির অস্তিত্বে বিশ্বাস করার জঘন্য পাপটি হলো 'শিরক'; এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের 'আল্লাহ এ পাপ কখনোই ক্ষমা করেন না' বক্তব্যটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ বা আল্লাহর নিরঙ্কুশ একত্ববাদ। সিজদা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর প্রাপ্য। মাজার বা কোনো সৃষ্টিকে সিজদা করা এবং আল্লাহর ক্ষমতায় অন্য শক্তিকে অংশীদার করা ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না; এছাড়া অন্য যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। তিনি আরও বলেছেন— নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচাইতে বড় জুলুম (সুরা লুকমান: ১৩)।
সুতরাং, সাদির এই মারাত্মক শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে অবিলম্বে খাঁটি দিলে তাওবা করে এক আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসা অপরিহার্য।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে বাহ্যিক আনুগত্য ও আমল। অন্তরে বিশ্বাস ছাড়া বাহ্যিক আনুগত্য মূল্যহীন, আবার আমল ছাড়া ঈমানের দাবি অসম্পূর্ণ।
তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ও অবিচ্ছেদ্য।
হাবিবের মাজারে গিয়ে কবর জিয়ারতের সুন্নত আদায় করা এবং মোনাজাতে একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে জ্ঞান বৃদ্ধির প্রার্থনা করার মাঝে খাঁটি 'তাওহিদ' (একত্ববাদ) ফুটে উঠেছে।
ইসলামে দোয়া ও প্রার্থনা কেবল একমাত্র মহান আল্লাহর নিকটেই করতে হয়। হাবিব কোনো সৃষ্টির কাছে সাহায্য না চেয়ে সরাসরি তাঁর রবকে একমাত্র প্রভু হিসেবে ডেকে তাওহিদের সর্বোচ্চ আদর্শের পরিচয় দিয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সাদিকের কবরের অলির কাছে মেডিকেলে চান্স ও ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষমতা চেয়ে সাহায্য প্রার্থনা করার কর্মকাণ্ডটি ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক'; নিম্নে এর ভয়াবহ পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
ইসলামি আকাইদের চূড়ান্ত ভিত্তি হলো— কল্যাণ, অকল্যাণ, জ্ঞান ও ভাগ্যের মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। কোনো মৃত মানুষ বা ওলি কারো ভাগ্য নির্ধারণ বা উপকার করার ক্ষমতা রাখেন না। আল্লাহ ছাড়া সৃষ্টির কাছে কিছু চাওয়া সরাসরি আল্লাহর গুণাবলিতে অংশীদার স্থাপন বা শিরক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। শিরককারী ব্যক্তির সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায় এবং তওবা ছাড়া মারা গেলে তার স্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
সুতরাং, সাদিকের এই শিরকি বিশ্বাস তার ঈমান ও পরকালকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে; অবিলম্বে খাঁটি তাওবা করা তার জন্য ফরজ।
তকদির হলো আল্লাহর নির্ধারিত পরম প্রজ্ঞা ও পরিমাপ; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে জীবনের কঠিন বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস জরুরি।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ।
মি. রফিকের লিবাসে ও কথায় মুমিনের ভাব দেখানো সত্ত্বেও কথার সাথে কাজের মিল না থাকা এবং অন্যের আমানত আত্মসাৎ করার মাঝে জঘন্য চারিত্রিক পাপ 'নিফাক' (কপটতা বা মুনাফিকি) ফুটে উঠেছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। রফিক খাঁটি মুনাফিকির চরিত্র ধারণ করে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মি. রহিমের গ্রামের পীরকে শেষ যামানার ঐশী সংবাদবাহক মনে করার ভ্রান্ত ধারণা আকাইদের মৌলিক স্তম্ভ 'খতমে নবুয়ত' (নবুয়তের সমাপ্তি)-এর চরম পরিপন্থি; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ইসলামি আকাইদের চূড়ান্ত আকিদা হলো— হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসুল (খাতামুন নাবিয়্যিন)। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত কোনো নবি, রাসুল বা ঐশী সংবাদবাহক আসবেন না (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।
রাসুলুল্লাহ (স.) সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'লা নাবিয়্যা বা’দী' অর্থাৎ আমার পর আর কোনো নবি নেই (সহিহ বুখারি)। কোনো পীর বা ব্যক্তিকে নতুন ঐশী বার্তাবাহক মনে করা কুরআনের অকাট্য বিধানকে অস্বীকার করার শামিল, যা মানুষকে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়।
সুতরাং, মি. রহিমের ধারণাটি মারাত্মক কুফরি আকিদা; খতমে নবুয়তের পূর্ণ বিশ্বাসই ঈমানের মূল শর্ত।
পিতামাতার মধ্যে মা সন্তানের জন্য সীমাহীন গর্ভধারণের কষ্ট ও লালন-পালনের ত্যাগ স্বীকার করেন; মায়ের সেবা, আনুগত্য ও সন্তুষ্টির মাধ্যমেই সন্তান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করতে পারে বোঝাতেই রাসুল (স.) এ কথা বলেছেন।
ইসলামে মায়ের অধিকার বাবার চেয়ে তিন গুণ বেশি।
গার্মেন্টস মালিক জনাব 'ক' সাহেবের তিন মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে গড়িমসি করার জঘন্য আচরণে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার' (হাক্কুল ইবাদ) চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
ইসলামে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দিয়েছেন— 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও' (ইবনে মাজাহ)। মালিক 'ক' শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আটকে রেখে মারাত্মক জুলুম ও পাপ করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— আরাফাত ও ফাতেমার কারখানায় নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মানজনক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়; এ বিষয়ে সাজুর বক্তব্যটি ইসলামের আলোকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও যথার্থ।
ইসলামই নারীকে পুরুষের মতো সমমর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকার দিয়েছে এবং তাদের শালীনতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের হেনস্তা বা বৈষম্য থেকে রক্ষা করতে একটি শালীন ও নিরাপদ পরিবেশ থাকা জরুরি।
আরাফাত ও ফাতেমা ইসলামি শরিয়তের নীতি অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছেন; যার ফলে কারখানায় কোনো শ্রমিক অসন্তোষ নেই এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুতরাং, সাজুর বক্তব্যটি নারীর মর্যাদা ও কর্মঅধিকার রক্ষায় ইসলামের মহান বিধানের সত্যতাই প্রমাণ করে।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের আলোকে মহান আল্লাহর বিধিনিষেধের প্রতি আত্মসমর্পণ ও বাস্তব আমল; একটি ছাড়া অপরটি অর্থহীন।
তাই ইমান ও ইসলাম পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ও অবিচ্ছেদ্য।
উদ্দীপকে দরিদ্র লোকদের দানশীল নুমান সাহেবকে রিজিকদাতা মনে করা এবং তাঁকে সিজদা করার বিশ্বাস ও কর্মে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর গুণাবলি ও অধিকারে সৃষ্টিকে শরিক করা) প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি আকাইদের মূল কথা হলো— একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই সমগ্র সৃষ্টিজগতের নিরঙ্কুশ রিজিকদাতা (আর-রাজ্জাক) এবং তিনিই একমাত্র সিজদা পাওয়ার যোগ্য সত্তা। কোনো মানুষকে রিজিকদাতা ভাবা এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা স্পষ্ট শিরক ও ঈমানবিধ্বংসী অপরাধ।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ফারহান সাহেবের মদ ও জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা উপার্জনকে অবৈধ মনে না করার মাঝে ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট হারামকে অস্বীকারের চরম 'কুফরি মনোভাব' ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর কুফল ও পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মদ ও জুয়াকে শয়তানের অপবিত্র অপকর্ম বলে চিরতরে হারাম ঘোষণা করেছেন (সুরা আল-মায়িদাহ: ৯০)। শরিয়তের অকাট্য কোনো হারাম বিধানকে বৈধ মনে করা মানুষকে সরাসরি কাফিরে পরিণত করে এবং ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।
মদ ও জুয়ার কারণে সমাজে পারিবারিক অশান্তি, খুনখারাবি ও চরম অর্থনৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। দুনিয়াতে এমন উপার্জনে কোনো বরকত থাকে না এবং আখিরাতে তওবা ছাড়া কাফিরের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নামের লেলিহান শিখা।
সুতরাং, ফারহান সাহেবের এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড ইহ ও পরকালে ধ্বংসের কারণ।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে সৎ ও চরিত্রবান বানায় এবং প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় জাগ্রত রেখে পাপমুক্ত জীবন গড়তে বাধ্য করে বলেই এতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
আখিরাত বিশ্বাসই মুমিনের নৈতিকতার মূল চাবিকাঠি।
ইমাম জনাব আলী সাহেবের বক্তব্যের প্রথম বিষয়টি (রক্ত, পুঁজ ও কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ খাওয়ানো এবং কঠোর শাস্তি) আখিরাতের চিরস্থায়ী শাস্তির স্থান 'জাহান্নাম'-এর প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করে।
জাহান্নাম হলো পাপাচারী ও কাফিরদের জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত চরম যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিনিবাস। যারা দুনিয়াতে কুফরি ও সীমালঙ্ঘন করবে, সেখানে তারা ফুটন্ত পানি, পুঁজ ও জাক্কুম নামক কাঁটাযুক্ত বিষাক্ত গাছ খেতে বাধ্য হবে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— ইমাম সাহেবের বর্ণিত দ্বিতীয় বিষয়টি (সুশীতল ছায়াতল ও মনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিয়ামত ভোগ) হলো মুমিনদের অনন্ত সুখের চিরন্তন ঠিকানা 'জান্নাত'; এই মহা পুরস্কার লাভ করার জন্য মানবমণ্ডলীর করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. খাঁটি ঈমান ও তাওহিদ: শিরক ও কুফরি বর্জন করে এক আল্লাহ, তাঁর রাসুল (স.) ও আখিরাতের প্রতি নিষ্কলুষ ঈমান আনা।
২. ফরজ ও নফল ইবাদত: নিয়মিত সালাত কায়েম করা, সাওম পালন, যাকাত প্রদান এবং যথাসময়ে হজ আদায় করা।
৩. সৎকর্ম ও তাকওয়া: অন্তরে আল্লাহভীতি বজায় রেখে পিতা-মাতা, প্রতিবেশী ও আর্তমানবতার সেবা করা এবং যাবতীয় অশ্লীলতা ও পাপ বর্জন করা।
সুতরাং, কুরআন-সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করতে পারে।
মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক মনিব-দাসের মতো নয় বরং ভাইয়ের মতো হওয়া উচিত; মালিক শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ঘাম শুকানোর পূর্বেই দেবে এবং সাধ্যের অতীত কাজ চাপাবে না।
শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ইসলামের অন্যতম মৌলিক নীতি।
ভ্যানচালক নোমান সাহেবের অসুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে বা আন্তরিকভাবে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মাঝে ইসলামি শরিয়তের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত 'আর্তমানবতার সেবা' (খিদমাতুল খালক্ব) প্রকাশ পেয়েছে।
দরিদ্র ভ্যানচালক হয়েও নোমান সাহেব মানুষের চরম বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন— যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুমিনের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন। নোমান সাহেব মানবতার এক মহান সেবক।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সিএনজিতে পড়ে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগটি খুঁজে নিয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার মাঝে ইমাম সাহেবের চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর মূল স্তম্ভ 'আমানত রক্ষা ও সততা' প্রকাশ পেয়েছে; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
অন্যের হারানো বা গচ্ছিত ধনসম্পদ নিজের কাছে এলে তার কোনো অংশ আত্মসাৎ না করে প্রকৃত প্রাপককে পৌঁছে দেওয়া শরিয়তের অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার প্রাপকদের যথাযথভাবে ফিরিয়ে দিতে' (সুরা আন-নিসা: ৫৮)।
ইমাম সাহেব লোভের বশবর্তী না হয়ে তাকওয়ার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই অনন্য সততা সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের কাজটি আদর্শ মুসলিম চরিত্রের এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন আল্লাহ প্রেরিত নবি-রাসুলগণের ধারাবাহিকতার সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি; তাঁর মাধ্যমে নবুয়তের ধারাক্রম চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে বলেই তাঁকে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' বা নবিগণের সমাপ্তকারী বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— মুহাম্মদ (স.) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবি (সুরা আল-আহযাব: ৪০)।
জনাব 'X'-এর পশুপালের লালন-পালনে একক স্রষ্টার বাইরে ফেরেশতাদের অংশীদারিত্বের কথা বলার মাধ্যমে ইসলামে চরম ক্ষমার অযোগ্য পাপ 'শিরক' (আল্লাহর ক্ষমতায় অংশীদার স্থাপন) প্রকাশ পেয়েছে।
তাওহিদ বা একত্ববাদের মূল শিক্ষা হলো— নিখিল জাহানের সৃষ্টি, লালন-পালন, নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের একক মালিক কেবল মহান আল্লাহ। ফেরেশতারা আল্লাহর সৃষ্টির হুকুমের অধীন অনুগত কর্মচারী মাত্র, তারা কখনোই স্রষ্টা বা পালনকর্তার অংশীদার হতে পারে না। আল-কুরআনে শিরককে 'সবচেয়ে বড় জুলুম' বলা হয়েছে।
জনাব 'X' স্রষ্টার রুবুবিয়্যাত বা লালন-পালনের ক্ষমতায় অংশীদার কল্পনা করে চরম ভ্রষ্টতা ও শিরকে লিপ্ত হয়েছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব 'Y'-এর ছোট ভাইকে সাইকেল কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরবর্তীতে তা পূরণ না করে গড়িমসি করার কর্মকাণ্ডে 'ওয়াদা ভঙ্গ ও মুনাফিকির চরিত্র' ফুটে উঠেছে; আখিরাত ও দুনিয়ায় এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকের তিনটি প্রধান লক্ষণ বর্ণনা করেছেন— 'যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে' (সহিহ বুখারি)। ওয়াদা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ এবং এটি ব্যক্তির সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করে দেয়।
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। পরকালে মুনাফিকদের পরিণতি হবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং আল্লাহ ঘোষণা করেছেন মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।
অতএব, জনাব 'Y'-এর উচিত অবিলম্বে ছোট ভাইয়ের কাছে কৃত ওয়াদা পূরণ করে আল্লাহর কাছে তাওবা করা।
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্তা, গুণাবলি, ক্ষমতা ও মহত্ত্বে একক ও অদ্বিতীয়; তাঁর কোনো রূপ, আকার বা বৈশিষ্ট্যের সাথে কোনো সৃষ্টির বিন্দুমাত্র সাদৃশ্য বা তুলনা চলে না বোঝাতেই বলা হয়েছে— 'লাইসা কামিসলিহি শাই' অর্থাৎ কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।
আল্লাহ তায়ালা স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে এক চিরঞ্জীব ও অতুলনীয় মহাশক্তি।
সাকিবের পিতার আকস্মিক মৃত্যু দেখে সমস্ত অপকর্ম পরিত্যাগ করে খাঁটি ও পবিত্র জীবনযাপন শুরু করার মাঝে আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'আখিরাত ও মৃত্যুর জবাবদিহিতায় দৃঢ় বিশ্বাসের' প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
মানুষ যখন উপলব্ধি করে যে পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং মৃত্যুর পর মহান আল্লাহর দরবারে প্রতিটি কাজের হিসাব দিয়ে জান্নাত বা জাহান্নামের ফয়সালা পেতে হবে, তখন সে পাপের পথ ছেড়ে পুণ্যের পথে ফিরে আসে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'জ্ঞানী সে-ই ব্যক্তি, যে নিজের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে' (তিরমিজি)।
সাকিব পিতার মৃত্যুর মাধ্যমে পার্থিব জীবনের অনিত্যতা অনুধাবন করে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের তাগিদে সৎপথে ফিরে এসেছে।
মূল্যায়ন করলে দেখা যায়— কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য, শরয়ি বিধানসম্মত ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— 'ওয়া রাত্তিলিল কুরআনা তারতিলা' অর্থাৎ আর আপনি সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে বিশুদ্ধভাবে (তাজবিদ সহকারে) কুরআন তিলাওয়াত করুন (সুরা আল-মুযযাম্মিল: ৪)। বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও তাজবিদের নিয়ম মেনে কুরআন তিলাওয়াত করা ফরজে আইন; ভুল উচ্চারণে কুরআন পড়লে অর্থের বিকৃতি ঘটে এবং সাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাকিব ও তার আত্মীয়স্বজন পিতার ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করলেও তা যদি নিয়ম না মেনে দ্রুত ও অশুদ্ধ উচ্চারণে পড়া হয়, তবে তা আল্লাহর নির্দেশের পরিপন্থী হয়। ইমাম সাহেব তাদের সেই অশুদ্ধতা শোধরে তাজবিদ মেনে শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন।
সুতরাং, কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে তাজবিদ ও তারতিলের ঐশী বিধান অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম অবক্ষয়গ্রস্ত, ব্যভিচার ও রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে নিমজ্জিত; নারীদের কোনো মানবিক অধিকার ছিল না এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
গোত্রীয় অহমিকা ও তুচ্ছ কারণে দশকের পর দশক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগেই থাকত।
সালমানের খেলার মাঠকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম হলে বুদ্ধিমত্তার সাথে সমঝোতা করে গ্রামবাসীকে রক্ষা করায় মহানবি (স.)-এর কৈশোরের গঠিত ঐতিহাসিক 'হিলফুল ফুজুল' (শান্তিসংঘ) ও কাবাঘরের 'হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকালে প্রদর্শিত প্রজ্ঞার' দিকটি ফুটে উঠেছে।
মহানবি (স.) ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত দেখে শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে মজলুমের সাহায্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হিলফুল ফুজুল গঠন করেছিলেন। এছাড়াও হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে কুরাইশদের আসন্ন যুদ্ধ তিনি চাদরে পাথর রেখে সবাইকে দিয়ে বহন করিয়ে দূর করেছিলেন।
সালমানও ঠিক একইভাবে শান্তি স্থাপন ও রক্তপাত বন্ধের মহান নবুয়তি আদর্শ বাস্তবায়ন করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব সোহানুরের ইসলামি আইন বিষয়ে পাণ্ডিত্য ও জটিল ধর্মীয় সমস্যার সমাধান দেওয়ার কর্মকাণ্ড মহান মনীষী 'ইমাম আবু হানিফা (র.)'-এর সাথে চমৎকারভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ; ইসলামি আইন শাস্ত্রে (ফিকহশাস্ত্রে) তাঁর অবদান অবিসংবাদিত।
ইমাম আবু হানিফা (র.) হলেন ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চল্লিশজন প্রখ্যাত আলেম ও মুজতাহিদের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ফিকহ একাডেমি বা আইন সম্পাদনা পরিষদ গঠন করেছিলেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর গবেষণা করে তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তৎকালীন ও ভবিষ্যৎ জীবনের প্রায় তিরাশি হাজার জটিল সমস্যার সমাধান লিপিবদ্ধ করেন।
তাঁর এই বৈপ্লবিক অবদানের কারণে ফিকহশাস্ত্র একটি সুসংবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। যার ফলে ইমাম শাফিয়ি (র.) অকপটে স্বীকার করেছেন— 'আইনশাস্ত্রে সকল মানুষই ইমাম আবু হানিফার মুখাপেক্ষী'।
সুতরাং, ইসলামি বিচারব্যবস্থা ও ফিকহশাস্ত্রের আধুনিকায়নে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর অবদান চিরকাল ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে ভাস্বর হয়ে থাকবে।
নবি-রাসুলগণ মানবজাতিকে পৌত্তলিকতা, অন্ধকার ও অজ্ঞতার পথ থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর তাওহিদ, উত্তম চরিত্র, ইনসাফ ও জান্নাতের সত্য পথের দিশা দিতেই প্রেরিত হয়েছিলেন বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।
রিসালাতের মূল লক্ষ্যই হলো মানবতার নৈতিক ও আত্মিক মুক্তি।
জনাব শামীমের এক সপ্তাহের মধ্যে চালের বাকি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছয় মাস পার হয়ে গেলেও বারবার কালক্ষেপণ করার মাঝে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 'ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতের খেয়ানত' প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামি শরিয়তে প্রতিশ্রুতি বা শর্ত রক্ষা করা ওয়াজিব। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন— 'তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে' (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'মুনাফিকের অন্যতম লক্ষণ হলো সে যখন ওয়াদা করে তখন তা ভঙ্গ করে' (সহিহ বুখারি)।
শামীম ওয়াদা ভঙ্গ করে বিক্রেতার সাথে প্রতারণা করেছে এবং কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব শাহরিয়ারের মাজারে গিয়ে মৃত অলির কাছে রোগমুক্তির আবেদন করার কাজটি ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট 'শিরক'; এ বিষয়ে মাওলানা শিহাবের 'তুমি ক্ষমার অযোগ্য পাপ করেছ, ইমান নবায়ন করতে হবে' উক্তিটি শতভাগ কুরআনসম্মত ও যথার্থ।
রোগ থেকে আরোগ্য দান, সন্তান দান এবং জীবন-মৃত্যুর একচ্ছত্র মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। কোনো মৃত মানুষ, পীর বা অলি-আউলিয়া কারো রোগ সারানোর ক্ষমতা রাখেন না। আল্লাহ ছাড়া কোনো সৃষ্টির কাছে দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া বা সন্তান-আরোগ্য কামনা করা প্রকাশ্য শিরক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। শিরক করলে বান্দার পূর্বের সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যায় এবং ঈমান বাতিল হয়ে যায়। তাই শিরকমুক্ত হতে খাঁটি তাওবা করে কালিমা পড়ে ঈমান নবায়ন করা অপরিহার্য।
সুতরাং, মাওলানা শিহাবের সতর্কবার্তা আকাইদের অকাট্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সিরাত হলো জাহান্নামের ওপর স্থাপিত অত্যন্ত পিচ্ছিল ও সূক্ষ্ম এক পুল; কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে এই পুল অতিক্রম করেই জান্নাতে পৌঁছাতে হবে, পাপীরা এতে পিছলে জাহান্নামে পতিত হবে বলেই উক্তিটি করা হয়েছে।
ঈমান ও নেক আমলের আলোতেই মুমিনরা এটি পার হবেন।
ডায়াগ্রামের ওপরের প্রশ্নবোধক চিহ্নের স্থানে পরকালের অন্যতম প্রধান স্তর 'হাশরের ময়দান ও পুনরুত্থান' প্রযুক্ত হবে।
হাশর হলো কিয়ামতের দিন ইসরাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুৎকারের পর সমস্ত মানবজাতিকে কবর থেকে জীবিত করে মহান আল্লাহর দরবারে হিসাব-নিকাশের জন্য এক বিশাল ময়দানে সমবেত করার দিবস। সেদিন সূর্য অতি নিকটে থাকবে এবং মানুষ তাদের কর্মফল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে নিমজ্জিত হবে।
ডায়াগ্রামের নিচের প্রশ্নবোধক চিহ্নের স্থানে ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল বিষয় 'মিজান' (আমল পরিমাপক দাঁড়িপাল্লা) প্রযুক্ত হবে; মানবজীবনের চূড়ান্ত পরিণামে মিজানের কার্যকারিতা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অকাট্য।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন— 'আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না' (সুরা আল-আম্বিয়া: ৪৭)। মিজানের পাল্লায় মানুষের যাবতীয় গোপন ও প্রকাশ্য নেক ও বদ আমলের ওজন নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হবে।
যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে সে চিরশান্তির জান্নাত লাভ করবে, আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নামের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে।
সুতরাং, মিজানের বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে পাপ বর্জন ও বেশি বেশি নেক আমল করার অবিরাম প্রেরণা জোগায়।
দৃশ্যপট-১ : দুবলারচর এলাকার নিরক্ষর লোকেরা কারণে-অকারণে নারী নির্যাতন করে। সন্ধ্যার পরে তারা জুয়ার আসর ও চোলাই মদ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
দৃশ্যপট-২ : আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একজন জনদরদী লোক। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য তিনি বিশেষ খেতাব লাভ করেন। বেতন-ভাতায় সংসার না চলায় তিনি হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। বাসায় কোনো কাজের লোক না থাকায় তার স্ত্রী সংসারের যাবতীয় কাজ নিজ হাতে সম্পাদন করেন।
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে মজলুমের অধিকার রক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহানবি (স.) তরুণ বয়সে যে 'হিলফুল ফুযুল' নামক শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন, তার লক্ষ্য ও আদর্শের অনুকরণেই আধুনিক যুগে বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
হিলফুল ফুযুল ছিল বিশ্বের প্রথম সুসংগঠিত শান্তিসংঘ।
দৃশ্যপট-১ এ দুবলারচরের নিরক্ষর লোকদের নারী নির্যাতন, জুয়ার আসর ও চোলাই মদ পানে লিপ্ত থাকার চিত্রটি প্রাক-ইসলামি আরবের কলুষিত 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ)-এর সমাজব্যবস্থার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইসলামপূর্ব যুগে আরবরা মূর্তিপূজা করত, মদ্যপান ও জুয়ায় মত্ত থাকত এবং নারীদের চরম নির্যাতন ও কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দিত। দুবলারচরের লোকদের এই আচরণ বর্বর জাহেলি সমাজব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যপট-২ এ সিরাজ চেয়ারম্যানের জনদরদী ভূমিকা, বীরত্ব, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য খামার পরিচালনা এবং স্ত্রীর নিজ হাতে সংসারের কাজ করার চরিত্রে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) এবং চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) ও খাতুনে জান্নাত ফাতিমা (রা.)-এর অনুপম আদর্শ ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শ: খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি জীবিকার জন্য নিজে ব্যবসা করতেন এবং বায়তুলমাল থেকে সামান্য ভাতায় অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে দিনাতিপাত করতেন।
২. হযরত আলী (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর আদর্শ: আমিরুল মুমিনিন হওয়া সত্ত্বেও হযরত আলী (রা.) ও হযরত ফাতিমা (রা.) কোনো খাদেম না রেখে নিজ হাতে যাতা পিষে ও কুয়া থেকে পানি তুলে সংসারের সব কাজ করতেন এবং অন্যের ওপর নির্ভর না করে হালাল শ্রমে জীবিকা চালাতেন।
সিরাজ চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করে হালাল শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করে খেলাফতে রাশেদার সেই স্বর্ণযুগের আত্মমর্যাদা ও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সুতরাং, সিরাজ চেয়ারম্যানের চরিত্র মুসলিম শাসকদের জন্য এক অনুকরণীয় আদর্শ।
তকদির হলো মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান ও পরম প্রজ্ঞা; তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে চরম বিপদে ধৈর্যশীল হতে এবং বড় সাফল্যেও অহংকারমুক্ত থাকতে শেখায় বলেই এতে বিশ্বাস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তকদিরে বিশ্বাস ঈমানের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
মি. 'ক'-এর মুসলিম পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও ইসলামের কতিপয় মৌলিক ও অকাট্য বিষয় অবিশ্বাস করার মাঝে ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে মারাত্মক 'কুফর' প্রকাশ পেয়েছে।
ইসলামের কোনো মৌলিক বিশ্বাস (যেমন: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, সালাত ইত্যাদি) অস্বীকার বা অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। শরিয়তের কোনো একটি ফরজ বা অকাট্য আকিদা অস্বীকার করলেই মানুষ ঈমানের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মি. 'খ'-এর বন্ধুর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সময়মতো পাওনা ঋণ ফেরত না দেওয়ার আচরণে 'ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতের খেয়ানত' প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের 'এ ধরনের আচরণ পরিত্যাগ না করলে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ ও হাদিসসম্মত।
ইসলামে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করাকে হাদিস শরিফে স্পষ্ট 'জুলুম' আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— ঋণ পরিশোধ না করে মারা গেলে শহীদ ব্যক্তিকেও ক্ষমা করা হয় না (সহিহ মুসলিম)।
ঋণখেলাপি ব্যক্তি মানুষের হক নষ্ট করে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। পরকালে সংশ্লিষ্ট পাওনাদারকে নেক আমল দিয়ে বা তার পাপ নিজের কাঁধে নিয়ে জাহান্নামে যেতে হবে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের সতর্কবাণী শরিয়তের অকাট্য বিধানকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে।
কুরআন মাজিদে ইসলামের মৌলিক আদেশ-নিষেধগুলো সংক্ষেপে এসেছে, আর মহানবি (স.) তাঁর হাদিসের মাধ্যমে সেগুলোর নিয়ম, পদ্ধতি ও বিস্তারিত বিবরণ ব্যাখ্যা করেছেন বলেই হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বলা হয়।
হাদিস ছাড়া কুরআনের বিধানের বাস্তব প্রয়োগ অসম্ভব।
জনাব 'ম'-এর ব্যবসা করে অর্জিত সম্পদ থেকে গরিব-এতিমদের সাহায্য করা এবং রিয়ামুক্ত খাঁটি ইখলাসে ইবাদত করার মাঝে পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর মহান শিক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা সেইসব নামাজির কঠোর নিন্দা করেছেন যারা এতিমকে তাড়িয়ে দেয়, মিসকিনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করে না এবং লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত করে। জনাব 'ম' লোকদেখানো ভাব বর্জন করে এবং এতিমদের সেবা করে এই সুরার ইতিবাচক বিধান বাস্তবায়ন করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব 'ন'-এর মাদক ব্যবসা করে অর্জিত অর্থ ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ 'হারাম উপার্জন'; এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের 'এ ধরনের উপার্জনের পরিণতি উভয় জাহানে অত্যন্ত ভয়াবহ' মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
ইসলামে মাদক উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় ও এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সম্পূর্ণরূপে হারাম ও অভিশপ্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) মাদকের সাথে জড়িত দশ শ্রেণির ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন, যার মধ্যে বিক্রেতাও অন্তর্ভুক্ত (তিরমিজি)।
হারাম উপার্জনে কোনো বরকত থাকে না, এটি পরিবার ও যুবসমাজকে ধ্বংস করে দেয় এবং হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর দিয়ে সালাত বা কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। হাদিসে বলা হয়েছে— হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার ঠিকানা জাহান্নাম।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের মূল্যায়ন কুরআন ও হাদিসের শ্বাশত সত্যকে প্রতিফলিত করেছে।
মহান আল্লাহ যুগে যুগে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য যে ঐশী জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ, সর্বশ্রেষ্ঠ ও একমাত্র সার্বজনীন রূপ হলো ইসলাম বোঝাতেই পবিত্র কুরআনে (সুরা আলে ইমরান: ১৯) এ কথা বলা হয়েছে।
ইসলামই আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন।
সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে রাসুলুল্লাহ (স.) মক্কার কুরাইশদের নিকট আল্লাহর একত্ববাদ অর্থাৎ 'তাওহিদের অমিয় বাণী এবং শিরক ও মূর্তিপূজার ভয়ংকর পরিণামস্বরূপ পরকালীন কঠিন আজাবের সতর্কবার্তা' পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তিনি কুরাইশদের সমস্ত কাল্পনিক দেব-দেবী ও প্রতিমা বর্জন করে একমাত্র লা-শরীক আল্লাহর আনুগত্য করার আহ্বান জানান।
কুরাইশদের ইবাদত ও উপাসনা শরিয়ত ও আকাইদের দৃষ্টিতে বিন্দুমাত্র সঠিক ছিল না; তাদের কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কুরাইশরা কাবাঘর তাওয়াফ করলেও পাশাপাশি লাত ও মানাতকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে সেজদা করত, যা ইসলামি আকাইদের দৃষ্টিতে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (অংশীদারিত্ব)।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করার পাপ ক্ষমা করেন না' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। মূর্তির কোনো সাহায্য করার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই।
সুতরাং, কুরাইশদের পৌত্তলিক কর্মকাণ্ড সরাসরি শিরক এবং তাদের কোনো ইবাদতই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্য-২: তানিয়া নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার শিক্ষাক্রমে অন্যান্য বিষয়ের সাথে একটি বিশেষ বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। এটি অধ্যয়ন করে সে আল্লাহ ও রাসুলের পরিচয় এবং পৃথিবীতে মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পারছে। অবশেষে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, "যদি এটি পড়ালেখার সুযোগ না পেত তাহলে সে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে যেত।
ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস, আর ইসলাম হলো সালাত, যাকাত, রোজা ও সৎকাজের মাধ্যমে সেই বিশ্বাসের ব্যবহারিক ও বাস্তব বহিঃপ্রকাশ বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
আমল ছাড়া কেবল বিশ্বাসের দাবি অর্থহীন।
তথ্য-১ এ জনাব 'ক'-এর 'মৃত্যুই জীবনের সমাপ্তি ও পরকাল বলতে কিছু নেই' বিশ্বাস ইসলামি আকাইদের অন্যতম মূল স্তম্ভ 'আখিরাত অস্বীকারের স্পষ্ট কুফরি'-র শামিল।
আখিরাত অস্বীকার করলে মানুষের মনে কোনো জবাবদিহিতা ও আল্লাহভীতি থাকে না, যা মানুষকে দুনিয়াতে পাপাচারী ও পথভ্রষ্ট করে দেয়।
তানিয়ার পঠিত বিশেষ বিষয়টি হলো 'ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা'; তাঁর 'এটি না পড়লে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ত' সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিচে নিরূপণ করা হলো:
১. সঠিক জীবনদর্শন ও চরিত্র গঠন: ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা মানুষকে স্রষ্টার পরিচয়, হালাল-হারামের সীমারেখা, শালীনতা, সত্যবাদিতা এবং পিতামাতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখায়।
২. অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা: ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাহীন মানুষ সহজেই খারাপ সঙ্গ, মাদক ও চারিত্রিক স্খলনের শিকার হয়।
সুতরাং, তানিয়ার সিদ্ধান্ত শতভাগ সত্য ও বাস্তবসম্মত; ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষাই আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার একমাত্র মূলভিত্তি।
সুন্দর ও প্রশংসনীয় চরিত্রই মানুষকে দুনিয়াতে সকলের প্রিয় বানায় এবং কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় সুন্দর চরিত্রের ওজনই সবচেয়ে ভারী হবে বিধায় সচ্চরিত্র জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
সচ্চরিত্রই খাঁটি ঈমানের প্রতিফলন।
সালেহা বেগমের কর্মচারীর দুধে পানি মেশানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জাহান্নামের আযাবকে ভয় করার মাঝে আখলাকে হামিদাহর মূল ভিত্তি 'তাকওয়া' (আল্লাহভীতি ও পরহেজগারি) প্রকাশ পেয়েছে।
তাকওয়া হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে হারাম বর্জন করা। সালেহা বেগম ক্ষতি মেনে নিয়েও তাকওয়ার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— শফিকের নাস্তা খাওয়ার কথা নির্ভয়ে স্বীকার করার মাঝে আখলাকে হামিদাহর শ্রেষ্ঠতম ভূষণ 'সত্যবাদিতা ও সততা' (সিদ্ক) প্রকাশ পায়; এ বিষয়ে আমিন সাহেবের উক্তির যথার্থতা নিচে দেওয়া হলো:
সুপ্রসিদ্ধ হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আলাইকুম বিস-সিদ্কি ফা-ইন্নাস সিদ্কা ইয়াহদি ইলাল বিররি' অর্থাৎ 'তোমরা অবশ্যই সত্যবাদিতা অবলম্বন করো; কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ প্রদর্শন করে' (সহিহ বুখারি)।
ভুল স্বীকার করে সত্য বলা মানুষকে পাপমুক্ত করে এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত নিশ্চিত করে।
সুতরাং, আমিন সাহেবের মন্তব্য সত্যবাদিতার পরকালীন মহা পুরস্কারের এক পরম সত্য মূল্যায়ন।
ব্যক্তিগত হত্যা কেবল একজনকে ধ্বংস করে, কিন্তু সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও নৈরাজ্য সমগ্র সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেয় বলেই একে হত্যার চেয়ে জঘন্য বলা হয়েছে।
ফিতনা সমাজকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়।
কারখানায় সাভারে উৎপাদিত দেশি প্রসাধনী দ্রব্যের গায়ে 'Made in America' মিথ্যা লেবেল লাগিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করার পদ্ধতি আখলাকে যামিমাহর মারাত্মক জঘন্য দিক 'ব্যবসায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসততা'-র শামিল।
রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়' (সহিহ মুসলিম)।
ম্যানেজার জহিরের রিপোর্ট বন্ধ করার জন্য সাংবাদিককে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার প্রস্তাবে আখলাকে যামিমাহর জঘন্য অপরাধ 'ঘুষ প্রদান' (রিশওয়াত) ফুটে উঠেছে; ইমাম সাহেবের মন্তব্যের যথার্থতা নিচে নিরূপণ করা হলো:
ইসলামে অন্যায় ঢাকতে বা অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে অর্থ প্রদান করা স্পষ্ট ঘুষ। রাসুলুল্লাহ (স.) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'আর-রাশি ওয়াল মুরতাশি ক্বিলাহুমা ফিন নার' অর্থাৎ 'ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়েই জাহান্নামি' (তিরমিজি)।
ঘুষ গ্রহণের চেষ্টা সত্যকে গোপন করে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে। এই পাপের মাধ্যমে জহির জাহান্নামের পথকেই সুগম করেছে।
সুতরাং, ইমাম সাহেবের উক্তি হাদিসের অকাট্য দলিলে শতভাগ সত্য ও যথার্থ।
বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠা, মজলুমের মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধ প্রতিরোধে আধুনিক জাতিসংঘ যে মূলনীতিতে গঠিত হয়েছে, মহানবি (স.)-এর কৈশোরে গঠিত 'হিলফুল ফুযুল'-এর আদর্শই ছিল তার ঐতিহাসিক দিশারি।
এটি ছিল বিশ্বের প্রথম সার্বজনীন শান্তিসংঘ।
আতিককে মধ্যযুগের আধুনিক শল্যচিকিৎসার (সার্জারি) অবিসংবাদিত জনক মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী 'আবুল কাসিম আল-জাহরাভি' (৯৩৬-১০১৩ খ্রি.)-এর যুগান্তকারী অবদান গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে;
আল-জাহরাভি রচিত সুবিশাল বিশ্বকোষ 'আত-তাসরিফ' গ্রন্থে তিনি প্রায় দুই শতাধিক সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির চিত্র ও নিখুঁত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনিই সর্বপ্রথম পশুর অন্ত্র থেকে ক্যাটগাট (অস্ত্রোপচারের সুতা) আবিষ্কার করেছিলেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মেয়র জনাব আদনানের নিজ সন্তান মদ্যপান করায় কোনো স্বজনপ্রীতি না করে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘটনা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবনীর সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ; নিম্নে এর মূল্যায়ন দেওয়া হলো:
খলিফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক। অপরাধের ক্ষেত্রে তিনি কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি; এমনকি নিজ সন্তান আবু শাহমা মদ্যপানের অপরাধে অভিযুক্ত হলে তিনি শরিয়তের নির্ধারিত দণ্ড স্বহস্তে কার্যকর করেছিলেন।
আদনান সাহেবের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার কায়েম করতে হলে আইনের চোখে সবাইকে সমান বিবেচনা করতে হবে।
সুতরাং, জনাব আদনানের কর্মকাণ্ড খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার এক অনন্য প্রতিফলন।
মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স.) তাঁর ওপর দীর্ঘ বছর ধরে বর্বর নির্যাতনকারী চরম শত্রু কুরাইশদের কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে নিঃশর্ত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিশ্ব ইতিহাসে ক্ষমার শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
তিনি ছিলেন রহমাতুল্লিল আলামিন।
পাঠাগার স্থাপনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের উপক্রম হলে নওশাদের ভারসাম্যের সাথে সমাধানের মাঝে মহানবি (স.)-এর ৩৫ বছর বয়সে 'কা'বা পুনর্নির্মাণকালে পবিত্র হাজরে আসওয়াদ স্থাপনসংক্রান্ত রক্তক্ষয়ী বিরোধ মীমাংসা'-র জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
কুরাইশ গোত্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার মুহূর্তে মহানবি (স.) একটি চাদরে পাথরটি রেখে সকল গোত্রপ্রধানকে দিয়ে চাদরটি বহন করিয়ে পরম প্রজ্ঞার সাথে ঐতিহাসিক সমাধান করেছিলেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— উদ্বোধনী ভাষণে নওশাদের বিশ্বমানবতার সার্বিক দিকনির্দেশনা ধারণ করার পরামর্শ বিশ্বনবি (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ' (১০ হি.)-এর আলোকে শতভাগ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক;
বিদায় হজের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (স.) সমগ্র মানবজাতির সাম্য, বর্ণবৈষম্য বিলোপ, নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা, শ্রমিকের মর্যাদা, জানমালের পবিত্রতা এবং সুদ প্রথা নিষিদ্ধকরণের এক অমর সনদ ঘোষণা করেছিলেন।
যেকোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
সুতরাং, নওশাদের পরামর্শ একটি আদর্শ ও সংঘাতমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের এক পরম রূপরেখা।
ইমান হলো অন্তরের বিশ্বাস আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের বাস্তব ও ব্যবহারিক রূপ; একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ বলেই ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।
ইমান ও ইসলাম একে অপরের পরিপূরক।
জনাব 'ক'-এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলার অজুহাতে সুদকে 'অবশ্যই হালাল' দাবি করার মনোভাবে ইসলামি আকাইদের অন্যতম অকাট্য আকিদা 'হারামকে হালাল মনে করার চরম কুফরি' প্রকাশ পেয়েছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। শরিয়তের স্পষ্ট হারামকে হালাল মনে করা মানুষকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— 'ক'-এর বাবা সম্পর্কে মায়ের 'আখিরাতে জবাবদিহিতার ভয় আছে বলেই বাবা সারা জীবন সততায় কাটিয়েছেন' মূল্যায়নটি শতভাগ সত্য ও অত্যন্ত যৌক্তিক;
ইসলামি আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হলো 'আখিরাত ও আল্লাহর দরবারে হিসাব প্রদান'-এ বিশ্বাস। যে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে দুনিয়ার প্রতিটি কাজের জন্য কিয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে, সে কখনোই হারাম, সুদ বা প্রতারণায় লিপ্ত হতে পারে না।
এই বিশ্বাসই মানুষকে নির্জনেও সৎ থাকতে বাধ্য করে এবং সমাজে ইনসাফ কায়েম করে।
সুতরাং, মায়ের মূল্যায়ন আখিরাতে বিশ্বাসের চারিত্রিক প্রভাবের এক পরম বাস্তব রূপ।
শরিয়ত মানুষকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সৎ ও ইনসাফভিত্তিক পথপ্রদর্শন করে এবং ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন অনন্ত মুক্তির পথ সুগম করে বিধায় এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
শরিয়ত হলো এক পূর্ণাঙ্গ ঐশী জীবনবিধান।
চরম কষ্ট ও পত্রিকা বিক্রির মতো কঠিন দারিদ্র্য পেরিয়ে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে মিজানের বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার সফলতায় পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সুরা 'সুরা আল-ইনশিরাহ'-এর মর্মার্থের প্রতিফলন দেখা যায়।
সুরা আল-ইনশিরাহের ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি, অবশ্যই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।' মিজান কষ্টের সময় সবর করায় আল্লাহ তাকে এই সাফল্য দান করেছেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— মিজানের সৎকাজ মানুষকে সম্মানিত করে আর অসৎকাজ মানুষকে হীনতম পর্যায়ে নামিয়ে দেয় বক্তব্যটি পবিত্র কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর মহান শিক্ষার আলোকে শতভাগ সংগতিপূর্ণ ও যথার্থ;
সুরা আত-তীনের ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে; অতঃপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি হীনতমদের নিম্নতম পর্যায়ে, তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে।'
বাহ্যিক রূপ যতই সুন্দর হোক না কেন, সৎ আমল না থাকলে মানুষের চরিত্র পশুদের চেয়েও অধম হয়ে যায়। কেবল ঈমান ও সচ্চরিত্রই মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদায় ধরে রাখে।
সুতরাং, মিজানের বক্তব্য সুরা আত-তীনের ঐশী দর্শন ও নৈতিকতার এক পরম বাস্তব প্রতিফলন।
তাওহিদ মানুষকে বিশ্বাস করায় যে সকল মানুষ এক আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁরই বান্দা; এটি মানুষের মাঝে জাতি, বর্ণ ও গোত্রীয় বিভেদ দূর করে সার্বজনীন ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করে।
তাওহিদই হলো বিশ্বভ্রাতৃত্বের মূলভিত্তি।
রাব্বির পরিপূর্ণ ও সার্বজনীন জীবনব্যবস্থার ধারণাটি মহান আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম 'ইসলাম'-এর সঠিক স্বরূপ প্রকাশ করে;
ইসলাম কোনো সীমাবদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক জীবনের নিখুঁত ও শাশ্বত ঐশী বিধান।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নয়নের 'নিয়তি আল্লাহর হাতে এবং মানুষ চাইলেই সবকিছু করতে পারে না' বিশ্বাসে ইসলামি আকাইদের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ 'তকদির' (আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্য) ফুটে উঠেছে;
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি, জীবন-মৃত্যু সবকিছুর চূড়ান্ত নিয়ামক একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ। মানুষের দায়িত্ব হলো সৎকাজের আন্তরিক চেষ্টা করা, আর ফল নির্ধারণের মালিক আল্লাহ।
তকদিরে বিশ্বাস মানুষকে বিপদে ধৈর্যশীল এবং সাফল্যে বিনয়ী করে তোলে। এই বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তির ঈমান পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।
সুতরাং, নয়নের বিশ্বাস কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত খাঁটি ঈমানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে অপরাধী মুমিনদের ক্ষমা ও নেককারদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নবি-রাসুলদের সুপারিশকে 'শাফায়াত' বলে।
শাফায়াত মুমিনের নাজাতের অন্যতম আশা।
'ক'-এর মদ, জুয়া, সুদ ও ঘুষকে মানুষের জন্য বৈধ মনে করা এবং এগুলোর ব্যবসার মাঝে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ 'হারামকে হালাল মনে করার স্পষ্ট কুফর ও হারাম উপার্জন' প্রকাশ পেয়েছে।
আল্লাহ কর্তৃক স্পষ্ট হারামকৃত বিষয়কে হালাল বা বৈধ মনে করা ঈমান ধ্বংসকারী কুফরি এবং হারাম উপার্জনে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— 'খ'-এর সম্পদ বৃদ্ধি ও সন্তানের সফলতার জন্য পীরের পায়ে সিজদা করার কাজটি ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন); নিম্নে এর পরিণতি বিশ্লেষণ করা হলো:
ইসলামে সিজদা ও প্রার্থনা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। কোনো পীর, অলি বা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সিজদা করা বা তাদের কাছে সন্তান/সম্পদ চাওয়া প্রকাশ্য শিরক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩) এবং 'আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার গুনাহ কখনো ক্ষমা করেন না' (সুরা আন-নিসা: ৪৮)। শিরককারী ব্যক্তি তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামের কঠিন আগুনে জ্বলবে।
সুতরাং, 'খ'-এর এই পৌত্তলিক আচরণ অবিলম্বে বর্জন করে খাঁটি তওবা করা অপরিহার্য।
তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে একমাত্র আল্লাহর সামনে মাথা নত করতে শিখিয়ে দুনিয়ার যাবতীয় ভয়ভীতি ও মিথ্যা শক্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আত্মমর্যাদাবান ও নির্ভীক করে তোলে।
তাওহিদ মানুষকে মুক্তিকামী বানায়।
মহান আল্লাহ সম্পর্কে ঈসার 'আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় এবং তিনিই সমগ্র বিশ্ব নিখুঁতভাবে পরিচালনা করছেন' বক্তব্যটি ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'তাওহিদ' (একত্ববাদ)-এর নিখুঁত ব্যাখ্যা;
মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও সর্বময় কর্তৃত্বে একক ও লা-শরীক। নিখিল বিশ্বের প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্র ও প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একমাত্র তাঁরই অমোঘ কুদরতে আবর্তিত ও পরিচালিত হচ্ছে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— সজিবের 'ফেরেশতাদের সাহায্য ছাড়া এসব পরিচালনা করা আল্লাহর পক্ষে সম্ভব নয়' উক্তিটি ইসলামি আকাইদের অকাট্য আকিদা 'আল্লাহর নিরঙ্কুশ কুদরত ও আস-সামাদ (অমুখাপেক্ষিতা)'-র সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক ও ত্রুটিপূর্ণ;
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন— 'আল্লাহুস সামাদ' অর্থাৎ 'আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, বরং সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী' (সুরা আল-ইখলাস: ২)। আল্লাহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বশক্তিমান (ক্বাদির)। তিনি যা ইচ্ছা করেন কেবল 'কুন' (হও) বললেই তা হয়ে যায়।
ফেরেশতাগণ আল্লাহর আদেশের অনুগত সেবক মাত্র, আল্লাহর কোনো সহকারী বা অংশীদার নন। আল্লাহকে কোনো সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল মনে করা তাওহিদবিরোধী ভ্রান্ত আকিদা।
সুতরাং, সজিবের বক্তব্য অবিলম্বে বর্জনীয় এবং আল্লাহর একক কুদরতে বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য।
জ্ঞান মানুষকে স্রষ্টার পরিচয়, সত্য-মিথ্যার পার্থক্য, হালাল-হারামের বিধান এবং মানবকল্যাণের পথ প্রদর্শন করে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয় বলেই জ্ঞানার্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইলমই হলো হেদায়েতের আলো।
জনাব কাওছারের শ্রমিকদের ঠিকমতো বেতন পরিশোধ না করা এবং খারাপ আচরণ করার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়তের মৌলিক বিধান 'শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার' (বান্দার হক) চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন— 'শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও' (ইবনে মাজাহ)। শ্রমিকের পাওনা আটকে রাখা জুলুম ও কবিরা গুনাহ।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব বশিরের বিশেষ মাসে সমুদয় সম্পদের হিসাব করে একটি অংশ দরিদ্র শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হলো ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ফরজ 'যাকাত'; এর সামাজিক গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও সম্প্রীতি: যাকাত ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে দিয়ে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে। এর ফলে সমাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং সম্পদের প্রবাহ সচল থাকে।
২. শ্রমিক অসন্তোষ দূরীকরণ: মালিক যখন শ্রমিককে নিজের ভাইয়ের মতো দেখে এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করে, তখন কারখানায় শান্তি ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং, যাকাত সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের শ্রেষ্ঠ ঐশী বিধান।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে হিজরতের পর মহানবি (স.) মদিনার সকল সম্প্রদায় ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে যে লিখিত সনদ প্রণয়ন করেন, তাকে মদিনা সনদ বলে।
এটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
ইকবাল হোসেনের দুই এলাকার সংঘাত নিরসনে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে 'যুব সংঘ' প্রতিষ্ঠা করে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাঝে মহানবি (স.)-এর কৈশোরে গঠিত 'হিলফুল ফুযুল' (শান্তিসংঘ)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
মহানবি (স.) আরবের অন্যায় ফুজ্জারের যুদ্ধ বন্ধ করতে বিভিন্ন গোত্রের নেতাদের নিয়ে শান্তি ও মজলুমের অধিকার রক্ষার জন্য হিলফুল ফুযুল শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রাফির সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিজ ভাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় কোনো স্বজনপ্রীতি না করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত; নিম্নে তাঁর চরিত্র বিশ্লেষণ করা হলো:
খলিফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন সততা, নির্ভীকতা ও কঠোর ন্যায়বিচারের কালজয়ী প্রতীক। আইনের চোখে তিনি আমির-ফকির, আপন-পর কোনো ভেদাভেদ করেননি।
তাঁর শাসনকালে নিজ সন্তানও অপরাধে লিপ্ত হলে তিনি কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে শরিয়তের নির্ধারিত শাস্তি কঠোরভাবে কার্যকর করেছিলেন। তাঁর এই নিরপেক্ষ ইনসাফের কারণেই সমাজে সুশাসন ও চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
সুতরাং, রাফির কর্মকাণ্ড খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর নিরপেক্ষ ও ইনসাফভিত্তিক সুশাসনের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।
মহান আল্লাহ যুগে যুগে মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ হেদায়েতের জন্য যে ঐশী জীবনব্যবস্থা পাঠিয়েছেন তার সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশেষ ও একমাত্র অবিকৃত রূপ হলো ইসলাম বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
ইসলামই হলো আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন।
আরমান সাহেবের শরিয়তের বিধানাবলি অন্তর থেকে বিশ্বাস করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার চেষ্টার মাঝে ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'ইমান' ফুটে উঠেছে;
ইমান হলো ইসলামি শরিয়তের মৌলিক বিষয়সমূহকে অন্তরে সুদৃঢ় বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং বাস্তব জীবনে সেই অনুযায়ী আমল করা।
ইমরান সাহেবের ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অস্বীকার করা এবং সন্দেহ পোষণ করার মনোভাব ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট 'কুফর ও নিফাক';
ইসলামি আকাইদের যেসকল বিষয় অকাট্য (যেমন: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি), সেগুলোর কোনো একটিকে অবিশ্বাস করা বা সন্দেহ করা মানুষকে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের করে দেয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— কাফির ও সন্দেহ পোষণকারীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে তারা চিরকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে।
সুতরাং, আরমান সাহেবের সতর্কবাণী কুরআন ও হাদিসের আলোকে শতভাগ সত্য ও যথার্থ।
মানুষের যেসব চারিত্রিক নীতিবোধ মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সাম্য ও সহানুভূতি শেখায়, তাকে মানবিক মূল্যবোধ বলে।
মানবিক মূল্যবোধই মানুষকে উত্তম মানুষ বানায়।
আমজাদ সাহেবের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে 'সবই এক মহান সত্তার সৃষ্টি এবং তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়' বক্তব্যের মাঝে ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'তাওহিদ' (আল্লাহর একত্ববাদ) ফুটে উঠেছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা নিখিল সৃষ্টির একক ও সার্বভৌম স্রষ্টা এবং সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ বা সদৃশ নয়।
আরিফ সাহেবের মাজারের পীরের নামে ছাগল জবাই করার কর্মকাণ্ডে ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ 'শিরক' প্রকাশ পেয়েছে; এ বিষয়ে রফিক সাহেবের 'আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে পশু জবাই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ' বক্তব্যটি শতভাগ সত্য ও যথার্থ;
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— 'সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন' (সুরা আল-কাওসার: ২)। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো পীর, মাজার বা সৃষ্টির নামে পশু জবাই করা স্পষ্ট শিরক এবং এর গোশত খাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম।
শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম, যা মানুষের সমস্ত নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।
সুতরাং, রফিক সাহেবের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সতর্কবাণী প্রদান খাঁটি তাওহিদেরই এক নিখুঁত প্রকাশ।
কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশের পর জান্নাতে যাওয়ার জন্য প্রত্যেক বান্দাকে জাহান্নামের ওপর স্থাপিত তরবারির চেয়ে ধারালো ও চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম পুল পার হতে হবে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
সিরাত পার হওয়া ঈমান ও নেক আমলের ওপর নির্ভরশীল।
হ্যাঁ, রিমার 'আল্লাহ সকল গুণের আধার এবং সমস্ত প্রার্থনা ও ইবাদত একমাত্র তাঁরই জন্য' বিশ্বাসটি ইসলামি আকাইদের আলোকে শতভাগ সঠিক, নিখুঁত ও যথার্থ;
ইসলামি আকাইদের মূল কথাই হলো তাওহিদ। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই সর্বময় ক্ষমতার মালিক ও আরোগ্যদাতা। সুরা আল-ফাতিহায় ঘোষণা করা হয়েছে— 'আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।' রিমার বিশ্বাস খাঁটি তাওহিদের বাস্তব রূপ।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— কারিমার সফলতা পীর-মুরুব্বিদের ওপর নির্ভরশীল মনে করা এবং পরীক্ষার জন্য মাজারে গিয়ে তবারক বিতরণের ভ্রান্ত ধারণায় ইসলামে চরম 'শিরক ও কুসংস্কার' ফুটে উঠেছে; নিম্নে এর কুফল বিশ্লেষণ করা হলো:
সাফল্য ও ব্যর্থতার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টি বা পীরের কাছে কল্যাণ কামনা করা বা মানত করা প্রকাশ্য শিরক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম' (সুরা লুকমান: ১৩)।
শিরকের কারণে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং পূর্ববর্তী সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায়। তওবা ছাড়া শিরকের গুনাহ আল্লাহ কখনো ক্ষমা করেন না।
সুতরাং, কারিমাকে অবিলম্বে এই শিরকি মনোভাব ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে।
কাফির ব্যক্তি আল্লাহর রহমত ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না বলে পার্থিব কোনো চরম বিপদ বা ব্যর্থতায় সে মানসিক সান্ত্বনা খুঁজে পায় না এবং চূড়ান্ত হতাশায় ভোগে।
আল্লাহর ওপর ভরসাই মুমিনের প্রধান শক্তি।
ছকে 'গ' চিহ্নিত বিষয়টি হলো শরিয়তের বাস্তব অনুশীলন ও চরিত্র গঠনমূলক 'আখলাক বা ইবাদতের বাস্তব সুফল'; মানবজীবনে এর প্রভাব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
ইমান ও ইসলামের বাস্তব আমল মানুষের ভেতরে তাকওয়া, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সংযম ও পরোপকারের মানসিকতা তৈরি করে। এটি ব্যক্তিকে যাবতীয় অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে রক্ষা করে সমাজে স্থায়ী শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।
হ্যাঁ, 'ক' (ইমান) এবং 'খ' (ইসলাম) চিহ্নিত বিষয় দুটি একে অপরের পরিপূরক— এই বক্তব্যের সাথে আমি শতভাগ একমত; নিম্নে এর স্বপক্ষে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. ইমান ও ইসলামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক: ইমান হলো অন্তরের সুদৃঢ় বিশ্বাস (যেমন: তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত ইত্যাদি), আর ইসলাম হলো সেই বিশ্বাসের বাহ্যিক আনুগত্য ও বাস্তব আমল (যেমন: সালাত, যাকাত, সাওম ইত্যাদি)।
২. একটি ছাড়া অপরটি অর্থহীন: অন্তরে বিশ্বাস ছাড়া কেবল বাহ্যিক আমল করলে তা মুনাফিকি হয়, আবার বাস্তব আমল ছাড়া কেবল মুখের দাবি কোনো ফল বয়ে আনে না। গাছ ও তার ফলের মতো ইমান ও ইসলাম পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
সুতরাং, ইমান ও ইসলাম একে অপরের পরিপূরক হয়েই একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিনের বিকাশ ঘটায়।
কুরাইশরা হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করায় ৮ম হিজরিতে মহানবি (স.) দশ হাজার সাহাবি নিয়ে রক্তপাতহীন এক মহাবিজয়ের মাধ্যমে মক্কা জয় করেছিলেন।
মক্কা বিজয় ছিল সত্যের এক অবিস্মরণীয় বিজয়।
খতিব সাহেবের স্ত্রীদের সাথে সদয় আচরণ, অধীনস্তদের প্রতি সদ্ব্যবহার এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশনা বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ' (১০ হি.)-এর সাথে হুবহু সংগতিপূর্ণ।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবি (স.) নারীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা, অধীনস্তদের মানবিক মর্যাদা প্রদান এবং ধর্মে চরমপন্থা পরিহার করার কালজয়ী ঘোষণা দিয়েছিলেন।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— চেয়ারম্যান জাহিদ সাহেবের বক্তব্যটি ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খলিফা নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক ভাষণের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ; নিম্নে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর হযরত আবু বকর (রা.) জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— 'আমি যতদিন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করব আপনারা ততদিন আমাকে অনুসরণ করবেন; আর যদি আমি আল্লাহর অবাধ্য হই তবে আমার আনুগত্য করা আপনাদের ওপর ওয়াজিব নয়।'
এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় শাসক কোনো স্বৈরশাসক নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর অনুগত এক বিনয়ী সেবক মাত্র।
সুতরাং, জাহিদ সাহেবের বক্তব্য খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক সুশাসনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে সৎ ও চরিত্রবান বানায় এবং প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত রেখে পাপমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে বলেই এতে বিশ্বাস রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের চারিত্রিক রক্ষাকবচ।
আতিকের বিশ্বাস অনুযায়ী পরকালে মুমিন বান্দাদের জন্য নির্ধারিত শান্তির চিরন্তন আবাসস্থল হলো 'জান্নাত' (বেহেশত);
জান্নাত হলো এমন এক মনোরম সুরম্য স্থান যা চোখ কখনো দেখেনি, কান কখনো শোনেনি এবং মানব হৃদয় কখনো কল্পনা করতে পারেনি। সেখানে রয়েছে দুধ, মধু ও সুপেয় পানির নহর, সুস্বাদু ফলমূল এবং চিরস্থায়ী অফুরন্ত সুখ-শান্তি। জান্নাতীদের কোনো দুঃখ, রোগ বা মৃত্যু থাকবে না।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— নাদিমের পিতা নাদিমের সীমা লঙ্ঘন ও পরকাল অস্বীকারের কারণে যে আবাসস্থলের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা হলো চিরশাস্তির স্থান 'জাহান্নাম' (দোজখ); নিম্নে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
যারা দুনিয়াতে আল্লাহর তাওহিদ অস্বীকার করে, নবিজির সুন্নাহ অমান্য করে এবং ইসলাম ও শরিয়তের বিরোধিতা করে, তাদের জন্য পরকালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাহান্নামের লেলিহান আগুন।
জাহান্নামে পাপীদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানি, কাঁটাযুক্ত জাক্কুম ফল এবং ভয়ংকর শারীরিক ও আত্মিক শাস্তি।
সুতরাং, নাদিমের পিতার দৃষ্টিতে নাদিম তার বর্তমান সীমালঙ্ঘনের পথ না ছাড়লে পরকালে অবশ্যই জাহান্নামের কঠিন আজাব ভোগ করবে।
দৃশ্যকল্প-২: জনাব 'খ' সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন। তিনি এতিমদের প্রতি রূঢ় আচরণ করেন। এমনকি কোনো ভিক্ষুক বা মিসকিন কোনো কিছু চাইলে তিনি তাদেরকে ফিরিয়ে দেন।
সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের চাহিদা মেটাতে, রাসুল (স.) ও সাহাবিগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং মানবজাতিকে ধাপে ধাপে সহজে মুখস্থ ও আমল করার সুযোগ দিতেই কুরআন দীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে।
ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হওয়ায় বিধানগুলো বাস্তবায়ন সহজ হয়েছিল।
দৃশ্যকল্প-১ এ জনাব 'ক'-এর বর্ণনায় পবিত্র আল-কুরআনের ৯৫তম সুরা 'সুরা আত-তীন'-এর মহান শিক্ষা ফুটে উঠেছে;
সুরা আত-তীনের ৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন— 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে।' আল্লাহ মানুষকে চমৎকার শারীরিক ও মানসিক সৌন্দর্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে হলে ঈমান ও নেক আমল অপরিহার্য।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— দৃশ্যকল্প-২ এ জনাব 'খ'-এর সালাতে উদাসীন থাকা এবং এতিম ও মিসকিনকে তাড়িয়ে দেওয়ার আচরণে পবিত্র কুরআনের ১০৭তম সুরা 'সুরা আল-মাউন'-এর শিক্ষার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়;
সুরা আল-মাউনে আল্লাহ তায়ালা সেইসব নামাজির কঠিন ধ্বংস ও শাস্তি ঘোষণা করেছেন যারা নিজেদের সালাতের ব্যাপারে উদাসীন, লোকদেখানোর জন্য কাজ করে এবং এতিম-মিসকিনকে খাদ্য দিতে নিরুৎসাহিত করে ও তাড়িয়ে দেয়।
জনাব 'খ' এতিমের হক নষ্ট করে ও নামাজে ফাঁকি দিয়ে মূলত সুরা আল-মাউনের অকাট্য নির্দেশ অমান্য করেছেন।
সুতরাং, জনাব 'খ'-কে অবিলম্বে সুরা আল-মাউনের শিক্ষা গ্রহণ করে তওবা করতে হবে।
প্রেক্ষাপট-২: জনাব জেড নিজেকে একজন মুসলিম হিসেবে দাবি করেন। তিনি এর পাশাপাশি হযরত ঈসা (আ.) কে আল্লাহর পুত্র এবং হযরত মরিয়ম (আঃ)-কে আল্লাহর স্ত্রী বলে বিশ্বাস করেন।
মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে তৎকালীন আরব সমাজ অজ্ঞতা, বর্বরতা, মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও চরম পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল বলেই সেই যুগকে 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' (অজ্ঞতার যুগ) বলা হয়।
এটি ছিল চরম অন্ধকারের যুগ।
প্রেক্ষাপট-১ এ নবিজিকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও আল-কুরআনে ভুল ধরার ঔদ্ধত্যে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে চরম 'কুফর, নবুয়তের অবমাননা ও কুরআনের স্পষ্ট অস্বীকৃতি' প্রকাশ পেয়েছে।
পবিত্র কুরআন হলো আল্লাহর অলৌকিক ও নির্ভুল কালাম এবং মহানবি (স.) হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নিষ্পাপ রাসুল। তাঁদের অবমাননা করা স্পষ্ট কুফর, যা মানুষকে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের করে চিরস্থায়ী জাহান্নামি করে।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— প্রেক্ষাপট-২ এ জনাব জেড-এর ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র এবং মরিয়ম (আ.)-কে আল্লাহর স্ত্রী বিশ্বাস করার মাঝে মারাত্মক পাপ 'শিরক ফিদ-জাত ও ত্রিত্ববাদী কুফরি' ফুটে উঠেছে;
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ। মহান আল্লাহ তায়ালা পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। সুরা আল-ইখলাসে আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন— 'তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি; আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।'
আল্লাহর সাথে সন্তান বা স্ত্রী সম্পর্কিত করা ক্ষমার অযোগ্য শিরক। শিরকের কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যায়। তওবা না করলে এর পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
সুতরাং, জনাব জেড-এর বিশ্বাস সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী ও ঈমানবিধ্বংসী।
দুনিয়াতে মানুষ যেভাবে নেক আমল বা বদ আমলের বীজ রোপণ করবে, পরকালের আখিরাতে ঠিক সেই অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নামের ফল লাভ করবে বোঝাতেই এ কথা বলা হয়েছে।
দুনিয়াই হলো পরকালের প্রস্তুতি নেওয়ার একমাত্র ক্ষেত্র।
ধর্মীয় শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমানের বক্তব্যে ইসলামের মূল ভিত্তি 'ইমান' (বিশ্বাস)-এর স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে;
ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহ, তাঁর রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, আখিরাত ও তকদিরের প্রতি অন্তরে সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, মুখে তা স্বীকার করা এবং বাস্তব জীবনে সেই অনুযায়ী আমল করাই হলো প্রকৃত ইমান।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— জনাব আব্দুল জব্বারের 'একমাত্র আল্লাহই সবকিছু রক্ষা ও ধ্বংস করার মালিক' মন্তব্যটিতে ইসলামি আকাইদের মূল স্তম্ভ 'তাওহিদ' (একত্ববাদ) প্রকাশ পেয়েছে; এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবিচল তাওয়াক্কুল ও মানসিক শান্তি: এই বিশ্বাস মানুষের অন্তর থেকে সকল প্রকার অন্ধভীতি ও কুসংস্কার দূর করে দেয় এবং যেকোনো বিপদাপদে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে অবিচল থাকতে সাহায্য করে।
২. অহংকারমুক্তি ও বিনয়: সম্পদ, বাড়িঘর বা ক্ষমতা পেয়ে মানুষ অহংকারী হয় না; বরং সে সর্বদা নিজেকে আল্লাহর মুখাপেক্ষী অনুগত বান্দা মনে করে।
সুতরাং, এই বিশ্বাস মুমিন বান্দার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মানসিক শান্তির পরম নিশ্চয়তা।
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে প্রতিটি গোপন ও প্রকাশ্য কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি দেয়, যা তাকে দুনিয়াতে সকল পাপ বর্জন করে সৎকাজে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
আখিরাত বিশ্বাস মুমিনের চারিত্রিক রক্ষাকবচ।
জনির কেবল শেষ নবিকে বিশ্বাস করে পূর্ববর্তী অন্যান্য নবি-রাসুলদের বিশ্বাস করার প্রয়োজন নেই মনে করার ধারণায় শরিয়তের অন্যতম মৌলিক আকিদা 'ঈমান বির-রুসুল বা সমস্ত নবি-রাসুলের প্রতি বিশ্বাস' অস্বীকারের বিভ্রান্তি ফুটে উঠেছে।
ইসলামি আকাইদ অনুযায়ী আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত আল্লাহ প্রেরিত সকল নবি-রাসুলের ওপর সমভাবে ঈমান আনা ফরজে আইন; কোনো একজনকে অস্বীকার করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়।
চিহ্নিত করলে দেখা যায়— রনির বক্তব্যে হাশরের ময়দানের অন্যতম সুসংবাদ ও অকাট্য আকিদা 'শাফায়াত' (নবি-রাসুলদের সুপারিশ)-কে অস্বীকার করা হয়েছে; নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শাফায়াত একটি অকাট্য সত্য: কিয়ামতের কঠিন দিনে মহান আল্লাহর অনুমতি নিয়ে পাপী মুমিনদের ক্ষমা এবং নেককারদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.) 'শাফায়াতে কুবরা' ও 'শাফায়াতে সুগরা' করবেন।
২. কেবল নিজের আমলে নাজাত অসম্ভব: রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— 'আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ ছাড়া কেবল নিজের আমল দিয়ে কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না' (সহিহ বুখারি)।
সুতরাং, শাফায়াত অস্বীকার করা ভ্রান্ত আকিদা এবং শাফায়াতের আশা নিয়ে নবিজির খাঁটি সুন্নাহ অনুসরণ করাই মুমিনের কর্তব্য।
আল-বিরুনি একাধারে ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও চিকিৎসাবিদ্যায় গভীর পাণ্ডিত্য ও যুগান্তকারী গবেষণার স্বাক্ষর রেখেছিলেন বলেই তাঁকে 'মহামান্য শিক্ষক' (আল-উস্তায) বলা হয়।
তিনি ছিলেন মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ বহুবিদ্যাবিশারদ।
প্রধান অতিথি চিকিৎসায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিশারি হিসেবে যে অবিসংবাদিত মুসলিম মনীষীর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের রাজপুত্র 'ইবনে সিনা' (৯৮০-১০৩৭ খ্রি.);
ইবনে সিনা রচিত সুবিখ্যাত গ্রন্থ 'আল-কানুন ফিত-তিব্ব' (চিকিৎসা শাস্ত্রের কানুন) মধ্যযুগে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রধান পাঠ্যপুস্তক হিসেবে শত শত বছর ধরে পড়ানো হয়েছে।
মেডিকেল ছাত্র অনিকের উল্লিখিত হাম, বসন্ত ও শিশু-চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মহান লেখক হলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানী 'আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া আল-রাজি' (৮৬৫-৯২৫ খ্রি.); শল্যচিকিৎসায় তাঁর অবদান নিচে নিরূপণ করা হলো:
১. বসন্ত ও হামের চিকিৎসা: আল-রাজিই বিশ্বের সর্বপ্রথম চিকিৎসক যিনি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে হাম ও বসন্তের লক্ষণ ও সফল চিকিৎসা আবিষ্কার করেন।
২. শল্যচিকিৎসায় অবদান: তিনি অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই করার জন্য পশুর অন্ত্রের সুতা এবং চিকিৎসার জন্য তুলার ব্যবহার প্রবর্তন করেন।
সুতরাং, আল-রাজির বৈপ্লবিক গবেষণা বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অমর মাইলফলক।