অধ্যায়-১: ইতিহাস পরিচিতি

১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর 'পোড়ামাটি নীতি' বলতে বোঝায় যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন সম্পদ ধ্বংস করে ফেলা, যেন শত্রুপক্ষ দেশ দখল করলেও ব্যবহারযোগ্য কোনো সম্পদ না পায়।
উত্তর ২৫শে মার্চের কালরাতের বর্বরতম গণহত্যাকে পাকিস্তানি সেনাদের ভাষায় 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'। ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীল নকশা তৈরি করে।
উত্তর

উদ্দীপকের ছক-১ দ্বারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করে। ফলে পূর্ব বাংলার জনগণ আন্দোলনে কেটে পড়ে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত হতে থাকে। বঙ্গবন্ধু এ সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন-“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তার এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুসারে দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস, আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে।
তাই বলা যায়, ছক-১ দ্বারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের ছক-২ এর তথ্য তথা মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির ক্ষেত্রেও মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুজিবনগর সরকার কলকাতা, দিল্লি, লন্ডন ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, স্টকহোম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে। এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। মুজিবনগর সরকারের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এসব বাহিনীতে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ। এছাড়া বিভিন্ন পেশার মানুষ মুজিবনগর সরকারের প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, যার ফলাফল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার গঠন ব্যতীত ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন সম্ভব ছিল না।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-২ এর তথ্য তথা মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগররাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল, সেগুলোকে বলা হতো 'নোম'।
উত্তর গ্রিকসভ্যতার একটি সংস্কৃতির নাম হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি।
গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অ-গ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে জন্ম হয় নতুন এক সংস্কৃতি।
ইতিহাসে এ সংস্কৃতি হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি নামে পরিচিত।
উত্তর উক্ত চিত্রের সাথে প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টা নগররাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের মিল লক্ষ করা যায়।
স্পার্টা ছিল প্রাচীন গ্রিসের একটি নগররাষ্ট্র এবং সে নগররাষ্ট্র সমরতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত ছিল। স্পার্টার শাসকগোষ্ঠী সেখানকার সাধারণ মানুষদের ভূমিদাসে পরিণত করেছিল বলে তারা বিদ্রোহ করত। এ বিদ্রোহ দমন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের অন্যতম কাজ। ফলে তারা তাদের নাগরিকদের যোদ্ধা হিসেবেই তৈরি করত। সামরিক বিষয়াদিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় তাদের অন্যান্য বিষয়াদি ছিল অবহেলিত। আর এজন্যই স্পার্টাকে সামরিক নগররাষ্ট্র বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে কিছু সৈনিককে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে দেখা যাচ্ছে। উপরের বর্ণনায়ও দেখা যায়, স্পার্টানদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যুদ্ধে পারদর্শিতা। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, চিত্রের কর্মকাণ্ডের সাথে গ্রিসের স্পার্টা নগররাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
উত্তর উক্ত নগররাষ্ট্রে তথা স্পার্টা তাদের সামরিক নীতির কারণে প্রাচীন গ্রিসের অন্যান্য নগর রাষ্ট্রের অগ্রগতির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধক শক্তি ছিল।
স্পার্টা ছিল সমরতন্ত্রের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রাচীন গ্রিসের একটি শক্তিশালী নগররাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরে এ সমাজ গড়ে উঠেছিল বলে স্পার্টানদের জীবন নিয়োজিত ছিল স্পার্টা রক্ষার জন্য। প্রাচীন গ্রিসের অন্যান্য নগররাষ্ট্রগুলো সাধারণত গণতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত ছিল। আর এগুলোর সামরিক শক্তি স্পার্টানদের সমকক্ষ ছিল না। ফলে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত দ্বন্দ্বে স্পার্টানরা এগিয়ে থাকত। যেমন-গ্রিসের গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সের সাথে স্পার্টানদের ৪৬০ থেকে ৪০৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টা বিজয় লাভ করে। স্পার্টানদের সাথে যুদ্ধে এ ধরনের পরাজয় এড়াতে অন্যান্য নগররাষ্ট্রগুলোকেও সামরিক শক্তি সঞ্চয়ে মনযোগ দিতে হতো, ফলে তাদের অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতো। কোনো রাষ্ট্র সামরিক আক্রমণের শিকার হলে তাকে তা প্রতিরোধের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়। একইভাবে স্পার্টানদের সাথে সামরিক বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে গ্রিসের অন্যান্য নগররাষ্ট্রগুলোকেও সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হতো। ফলে রাষ্ট্র তার অন্যান্য কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারত না।
আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি বলা যায় যে, সামরিক শক্তিকে অন্যান্য নগররাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে থাকায় স্পার্টা অন্যান্য নগর রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক শক্তি হিসেবে কাজ করত।
৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সোমপুর বিহার নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে অবস্থিত।
উত্তর বৈদেশিক শক্তির আক্রমণে পরাজিত হওয়ায় প্রাচীন বাংলায় চন্দ্র বংশের শাসনের পতন ঘটে।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ। এ বংশের রাজারা দেড়শ বছর এ অঞ্চল শাসন করেন। গোবিন্দচন্দ্র ছিলেন এ বংশের শেষ রাজা। তাঁর রাজত্বকালে চোলরাজ রাজেন্দ্র চোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করেন। এই দুই বৈদেশিক শক্তির আক্রমণ চন্দ্র রাজার ক্ষমতা হ্রাস করে এবং বাংলায় এ বংশের পতন ঘটে।
উত্তর উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থান প্রাচীন বাংলায় স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শশাংকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
সামন্তরাজা শশাংক ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। তিনি গৌড়ে তার অধিকার স্থাপন করে প্রতিবেশী অঞ্চলে রাজ্যবিস্তার শুরু করেন। তিনি দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোদ রাজ্য ও বিহারের মগধ রাজ্য জয় করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কামরূপের রাজা শশাংকের হাতে পরাজিত হন। এরপর তিনি পশ্চিম সীমান্তের দিকে মনোযোগ দেন। উত্তর ভারতে এ সময় দুজন শক্তিশালী রাজা ছিলেন। পশ্চিম দিক থেকে কনৌজের মৌখরি শক্তি বাংলা অধিকারের জন্য বারবার চেষ্টা করছিল তদুপরি সমসাময়িক সময়ে থানেশ্বরের রাজা প্রভাবকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীর সঙ্গে কনৌজের মৌখরি রাজা গ্রহবর্মণের বিয়ে হলে কনৌজ থানেশ্বর জোট গড়ে ওঠে। এ জোটের ফলে বাংলার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শশাংকও কূটনৈতিক সূত্রে মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে স্বীয় শক্তি বৃদ্ধি করেন। শশাংক শৈবধর্মের উপাসক ছিলেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং তাকে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সর্বোপরি বলা যায়, সপ্তম শতকে বাংলার ইতিহাসে শশাংক একটি বিশিষ্ট নাম। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে তিনিই প্রথম সার্বভৌম শাসক ছিলেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি গৌড়রাজ শশাংকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
উত্তর উক্ত শাসক তথা শশাংকের মৃত্যুর পর ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়। যা ইতিহাসে মাৎস্যন্যায় হিসেবে পরিচিত।
শশাংকের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না।
ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। উত্তর ভারতের সম্রাট হর্ষবর্ধন ও কামরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের হাতে গৌড় রাজ্য ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে উঠেছিল। এসময় বাংলার সকল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিল। কারণ শক্ত হাতে কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনার মতো কেউ ছিল না। অরাজকতার এ সময়কালকেই পাল তাম্রশাসনে 'মাৎস্যন্যায়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 'মাৎস্যন্যায়' হলো পুকুরের বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো পরিস্থিতি। অর্থাৎ জোর যার মুলুক তার এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা। দীর্ঘ একশ বছরব্যাপী বাংলায় এ অবস্থা চলতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, শশাংকের মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের সংকট এবং ক্ষমতা দখলের সংঘাতের ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগ ছিল। জনসাধারণ সকল বিবাদ ভুলে গোপাল নামের এক ব্যক্তিকে রাজপদে নির্বাচিত করলে ইতিহাসের এ অন্ধকার যুগের অবসান ঘটে।
৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী।
উত্তর বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য চিত্তরঞ্জন দাস কর্তৃক যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি' নামে পরিচিত।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করে স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস এই চুক্তি সম্পাদন করেন। উক্ত চুক্তিতে মুসলমানদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করার শর্তই ছিল মূল বিষয়। এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছিল।
উত্তর উদ্দীপকে চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি অর্থাৎ মাস্টার দা সূর্য সেন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোরনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
মাস্টারদা সূর্য সেন ছিলেন একজন দুঃসাহসী বিপ্লবী। তিনি কলেজ জীবনে বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। এ সময় তিনি অনুরূপ সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন সেনের সহায়তায় একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করতে গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী। এ আত্মঘাতী বাহিনী পরে 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি' নামধারণ করে। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু এ অসম যুদ্ধে বিপ্লবীরা পরাজিত হন এবং ১৯৩৩ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন গ্রেফতার হন। অবশেষে ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মাস্টারদা সূর্যসেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হননি। আর এসব কারণেই তাকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ মাস্টারদা সূর্য সেনের ছবি উল্লেখ করা হয়েছে। উপরের আলোচনায় দেখা যায় তিনি সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের সাথেই সম্পৃক্ত।
উত্তর উদ্দীপকে চিত্র-২ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি অর্থাৎ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজের জন্য প্রেরণা উৎস ছিল।
বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের একজন দুঃসাহসী বিপ্লবী ছিলেন চট্টগ্রামের মাস্টারদা, তার আসল নাম সূর্য সেন। চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য তিনি গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী। সূর্য সেনের এই বিপ্লবী বাহিনীতে নারী যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা ১৯৩০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ডিসটিঙ্কশন নিয়ে কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ইতোমধ্যে তিনি বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং সূর্য সেনের দলের সঙ্গে যুক্ত হন। সাহসী নারী প্রীতিলতাকে চট্টগ্রামের 'পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব' আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সফল অভিযান শেষে তিনি তার সঙ্গী বিপ্লবীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে সহায়তা করেন। কিন্তু ধরা পড়ার আগে বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করেন।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সফলভাবে যে বিপ্লবী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তার সফলতাই তাঁকে পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজের প্রেরণায় পরিণত করেছিল।
৫.

দৃশ্যকল্প-১: রাজা প্রতাপাদিত্য সাধারণ পরিবার থেকে উঠে জনগণের সমর্থনে নিজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা হন। অরাজকতা দূর করে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তার পরবর্তী শাসকরা বংশীয়ভাবে শাসনভার নিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।

দৃশ্যকল্প- ২: লিনা টেলিভিশনে একটি পুরনো প্রামাণ্যচিত্র দেখছিল। যেখানে বার্ধক্যগ্রস্ত শাসক শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন, শত্রু রাজ্যে প্রবেশ করলো, কিন্তু তার পতনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নিল নতুন যুগের আলো, যা প্রজা ও সংস্কৃতিকে নতুন দিশা দেখালো।

উত্তর প্রাচীন বাংলার সেন বংশের রাজা' বল্লাল সেন হিন্দু সমাজে সামাজিক আচার-ব্যবহার ও বিবাহ অনুষ্ঠানাদি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদের জন্য যে বিশেষ রীতিনীতি প্রবর্তন করেছিলেন, তাকেই কৌলীন্য প্রথা বলা হয়।
উত্তর অষ্টম শতকের শেষদিকে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলার পাল, রাজপুতনার গুর্জর প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা-ই ইতিহাসে 'ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ' নামে পরিচিত। পাল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকালে এই ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষের সূচনা হয়। মূলত উত্তর ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক কেন্দ্র কান্যকুব্জ বা কনৌজ দখল করে সমগ্র উত্তর ভারতে নিজেদের আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রদর্শনের অদম্য আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই তিনটি শক্তিশালী রাজবংশ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ রাজা প্রতাপাদিত্যের কার্যক্রমের সাথে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গোপালের কার্যক্রমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় প্রায় এক শতাব্দী ধরে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল, যাকে ঐতিহাসিক পরিভাষায় 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। এই চরম অরাজকতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তৎকালীন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সাধারণ পরিবার থেকে আসা - গোপালকে রাজা নির্বাচিত করে সিংহাসনে বসান। গোপালের ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমেই বাংলায় চারশ বছরের দীর্ঘস্থায়ী পাল শাসনের -সূচনা হয় এবং রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আমরা দেখতে পাই, রাজা প্রতাপাদিত্য সাধারণ পরিবার থেকে এসে জনগণের সমর্থনে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং অরাজকতা দূর করে নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে, যা পরবর্তীতে তাঁর বংশধররা ধরে রাখেন। এই ঘটনাটি বাংলার মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে রাজা গোপালের পাল বংশ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনার হুবহু প্রতিফলন। তাই বলা যায়, প্রতাপাদিত্যের কার্যাবলির সাথে রাজা গোপালের কার্যাবলির সাদৃশ্য রয়েছে।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২ এ লিনার দেখা প্রামাণ্যচিত্রে প্রাচীন বাংলার সেন শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসনের সূচনার প্রতিফলন ঘটেছে। এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী, যার মাধ্যমে বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা হয়।

সেন বংশের বয়োবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালের শেষভাগে নানা ষড়যন্ত্র ও দুর্বলতার কারণে সাম্রাজ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। এই সুযোগে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি' নদীয়া আক্রমণ করেন। বিনা প্রতিরোধে লক্ষণ সেন পরাজিত হয়ে নদীপথে বিক্রমপুরে পালিয়ে যান এবং বাংলায় তুর্কিদের মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ লিনা এমন এক বার্ধক্যগ্রস্ত শাসকের পতন দেখতে পায়, যার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিদেশি শত্রুর প্রবেশ ঘটে এবং একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। রাজা লক্ষণ সেনের শেষ বয়সও ছিল ঠিক এমনই। তাঁর পরাজয়ের ফলে দীর্ঘদিনের সেন শাসনের পতন ঘটে এবং তুর্কিদের মাধ্যমে এক নতুন ধর্ম, সংস্কৃতি ও শাসনব্যবস্থার উন্মেষ ঘটে। এই অবসান বাংলার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেন শাসনের পতনের ফলে প্রাচীন যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং নতুন যুগের আলো হিসেবে মধ্যযুগের সূচনা হয়। নতুন এই মুসলিম শাসনে বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে, যা বাংলার প্রজাদের নতুন এক দিশা দেখায়। সুতরাং, দৃশ্যকল্পের ঘটনাটি সেন বংশের পতনের ওই সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

৬.

শিক্ষকের বক্তব্য-১ : "১৯শ শতকের বাংলার একটি গ্রামের কথা ভাবো। যেখানে কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলাতো। জমিদারদের ভূমিকর আদায়ের অধিকার স্থায়িভাবে দেওয়ার ফলে তারা নতুন পুঁজিপতি হয়ে ওঠে এবং কৃষকরা করের চাপের কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে।”

শিক্ষকের বক্তব্য-২ : "রাজ্যে অস্থিরতা ও অবিশ্বাস বাড়ছিল। বিদেশি বণিকরা রাজকার্যে হস্তক্ষেপ শুরু করে। আর রাজপরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিভক্তি। একদিনের যুদ্ধেই রাজশক্তির পতন ঘটে, বিদেশি শক্তি শাসনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। শুরু হয় নতুন যুগের পথচলা।"

উত্তর ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।
উত্তর জব চার্নক নামক একজন ইংরেজ ১৬৯০ সালে মাত্র ১২০০ - টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামক তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন। পরবর্তীকালে ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই কলকাতা নগরীর জন্ম হয়। ১৭০০ সালে এখানে ইংরেজ রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে 'ফোর্ট উইলিয়াম' দুর্গ নির্মিত হলে এটি ইংরেজদের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়।
উত্তর

শিক্ষকের বক্তব্য-১ এ বর্ণিত ব্যবস্থার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ব্যবস্থার মিল রয়েছে।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা প্রদান করে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জমিদারদের ভূমির অধিকার স্থায়ীভাবে দেওয়ার ফলে তারা নতুন পুঁজিপতি হয়ে ওঠে। পাঠ্যবই অনুসারে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে একটি অনুগত ও ধনী জমিদার শ্রেণি তৈরি হয় যারা ছিল ব্রিটিশ শাসনের প্রধান সমর্থক। তারা নির্দিষ্ট তারিখে সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা দিয়ে বংশপরম্পরায় জমির মালিকানা ভোগ করত। অন্যদিকে, এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্দীপকের বক্তব্যের মতোই কৃষকরা জমিদারের করের চাপে পড়ে দারিদদ্র্যের শিকারে পরিণত হয়। কারণ জমিতে তাদের পুরনো স্বত্ব বিলুপ্ত হওয়ায় জমিদাররা যেকোনো সময় কৃষকদের উচ্ছেদ করতে পারতেন। নায়েব-গোমস্তাদের অত্যাচার ও করের বোঝার কারণে কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদ্র ভেঙে পড়েছিল। তাই উভয় ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ট্যগুলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকেই নির্দেশ করে।

উত্তর

শিক্ষকের বক্তব্য-২ এ ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধটি হলো ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'। এই যুদ্ধটি বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান ঘটে এবং দীর্ঘ দুইশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের পথ প্রশস্ত হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মীরজাফরকে সিংহাসনে বসানো হলেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। এর ফলে বাংলার সার্বভৌমত্ব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল আরও ভয়াবহ। পলাশী যুদ্ধের পর ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায়ের অধিকার লাভ করে এবং দেশীয় বণিকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কোম্পানি ও তাদের কর্মচারীরা বিনাশুল্কে বাণিজ্যের সুযোগ পেয়ে ব্যক্তিগতভাবে ফুলেফেঁপে ওঠে। এছাড়া যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বাংলার ধন-সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হতে থাকে, যা ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবে ভূমিকা রাখলেও বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়।

পরিশেষে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলার স্বাধীনতা হারানোর সূচনা। রাজনৈতিকভাবে এটি ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে আসে এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলাকে সম্পদশালী থেকে একটি দরিদ্র ও শোষিত অঞ্চলে পরিণত করে।

৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর 'ইতিহ' শব্দের অর্থ ঐতিহ্য।
উত্তর মানব সমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। যে কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালোমন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। এভাবে ইতিহাস মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
উত্তর

তথ্য-১ ইতিহাসের অলিখিত তথা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অলিখিত উপাদান বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেই বস্তু বা উপাদানই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন সমূহ মূলত অলিখিত উপাদান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে- লিপিমালা, মুদ্রা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধ, প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, প্রচলিত বিশ্বাস বা প্রথা এবং পুঁথি। লিপিমালা মুদ্রা থেকে যুদ্ধ বিগ্রহ, ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজত্বকাল, ধর্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। প্রত্নকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন সমাধি, স্তম্ভ, স্মৃতিস্তম্ভ, প্রাচীন শিল্পকীর্তি, দেব-দেবীর মূর্তি, মৃৎশিল্প, মৃৎপাত্র ও তৈজসপত্রাদি প্রাচীন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত। যেগুলো থেকে সভ্যতার উৎকর্ষ যেমন বোঝা যায়, তেমনি এতে নাগরিক জ্ঞানের সৌন্দর্যভাব ও সাংস্কৃতিক মনোভাব ফুটে ওঠে। উদ্দীপকে ছক-১ এ মুদ্রা, স্তম্ভলিপি, ইমারত ও শিলালিপির উল্লেখ রয়েছে যা ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্য-১ ইতিহাসের অলিখিত উপাদান নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ক্রমিক-১ এর অলিখিত উপাদান ও ক্রমিক-২ তে লিখিত উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাস রচনায় অলিখিত ও লিখিত উভয় উপাদানই অত্যাবশ্যক।

তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ কারণেই ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তৎকালীন সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সবসময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, অলিখিত উপাদান যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। এসব নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। লিপিমালা মুদ্রা থেকে যুদ্ধ বিগ্রহ, ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজত্বকাল, ধর্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। তাই সঠিক ইতিহাস রচনায় ১ এর মুদ্রা, শিলালিপি, ইমারত ও ২-এর দলিলপত্র, সাহিত্য, রাজাবাদশাহদের জীবনী উভয় তথ্যসমূহ অত্যাবশ্যক।

পরিশেষে বলা যায়, কোনো বিষয়ের সঠিক ও সম্পূর্ণ ইতিহাস রচনায় তথ্য-১ এর ইতিহাসের অলিখিত উপাদান ও তথ্য-২ এর লিখিত উপাদান অত্যাবশ্যকীয়।

৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উত্তর 'The Spirit of Islam' গ্রন্থটি রচনা করেন সৈয়দ আমীর আলী।
উত্তর তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ অফিসাররা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করে। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে এ টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তা হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব।

লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। বেঙ্গল প্যাক্ট অকার্যকর হলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৯২৮ সালের আগস্ট মাসে মতিলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নেহেরু রিপোর্ট পেশ করে। নেহেরু রিপোর্ট মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের প্রথা অবসানে সুপারিশ করলে মুসলিম নেতারা দল মত নির্বিশেষে এ রিপোটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ফলে নেহেরু রিপোর্টের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সমঝোতার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত সাইমন কমিশনের রিপোর্ট সব রাজনৈতিক দল প্রত্যাখ্যান করে। এসময় রামজে ম্যাকডোনাল্ড সমস্যা সমাধানের জন্য সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষণা করেন। ১৯৩৫ সালে পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন গৃহীত হয়। জিন্নাহ এ আইনে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রবর্তন করা সম্ভব হয়নি। দলগুলোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সিন্ধুতে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভায় হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি বলে অনুধাবন করে দ্বিজাতি ঘোষণা করেন। এভাবেই লাহোর প্রস্তাবের আগেই হিন্দু-মুসলমান আলাদা জাতি- এই চিন্তা করার ফলে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের চিন্তারও প্রকাশ ঘটতে থাকে। এই অবস্থার পটভূমিতে মুসলমানদের আলাদা আবাস ভূমির দাবির জন্য ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা কর্তৃক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

উত্তর চিত্রের ব্যক্তি হলেন শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক। যিনি অখণ্ড বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এবং অখন্ড বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। তার সমগ্র জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্যয় করেন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৯ সালে প্রাদেশিক আইন পরিষদের নির্বাচনের পর 'নিখিল বঙ্গপ্রজা সমিতি' নামে এটি দল গঠন করেন। এ সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলার কৃষকের অবস্থার উন্নতি সাধন করা। ফলে কৃষক আন্দোলন ও রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রবর্তিত হয়। ১৯৩৫ সালে এ. কে ফজলুল হক নিখিল বঙ্গপ্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী বছর দলের নাম পরিবর্তন করে 'কৃষক-প্রজা পার্টি' নামকরণ করা হয়। এটি ছিল সম্পূর্ণ পৃথক এবং প্রদেশ পর্যায়ে গঠিত বাংলার রাজনৈতিক সংগঠন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে তার দলের বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল 'মুসলিম লীগ'। নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরতে না পারলেও ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার উল্লিখিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলার রাজনীতি নিয়ে পৃথক চিন্তাভাবনা ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গঠন ইত্যাদি বিবেচনায় ঐতিহাসিকগণ তাকে অখণ্ড বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
৯. উজিরপুর গ্রামের কৃষকেরা রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারি জমি চাষাবাদ করত, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা নির্যাতিত হতো, এমনকি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকত। এ অবস্থার পরিত্রাণের লক্ষ্যে সরকার পরবর্তীতে স্থায়ী ভূমি অধিকার নীতি চালু করে।
উত্তর ভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
উত্তর 'অন্ধকূপ হত্যা' হচ্ছে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করতে হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রচারণা। এতে বলা হয় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থ একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। যাঁর ফলে প্রচন্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয় ১২৩ জন ইংরেজ সেনার মৃত্যু হয়। এটি ছিল ইংরেজ সেনা হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা গুজব। এর কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কিত।

উদ্দীপকে দেখা যায় উজিরপুর গ্রামের কৃষকেরা রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারি জমি চাষাবাদ করত, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা নির্যাতিত হতো, এমনকি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকত। এ অবস্থার পরিত্রাণের লক্ষ্যে সরকার পরবর্তীতে স্থায়ী ভূমি অধিকার নীতি চালু করে। যা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রতি নির্দেশ করে। কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ঐ বছর ২২ শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় উচ্চহারে ডাক নিয়ে জমির বন্দোবস্ত নিলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় হতো না। পরে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় স্থায়ী নিয়ম-কানুন প্রবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ব্যবস্থা চালুর জন্য কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়। ১৭৮৯ সালে কর্নওয়ালিস জমিদারদের দশসালা বন্দোবস্ত দিতে প্রস্তুতি নেন। ১৭৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দশসালা বন্দোবস্ত বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। ১৭৯৩ সালের ২২ শে মার্চ কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেন।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত বন্দোবস্ত অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তৎকালীন সময়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কিছু অসুবিধা থাকলেও তা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল। ব্রিটিশ সরকার মনে করত যে, ভূমি ব্যবস্থা স্থায়িত্ব হলে জমিদারগণ ভূমিতে পুঁজি বিনিয়োগ করবে এবং উন্নয়নে তৎপর হবে। ফলে কৃষিতে যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধিশালী হবে। এতে জমিদারগণ সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে তারা সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে। অনুগত জমিদারগণ হবে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভিত্তি। কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কোম্পানির পাশাপাশি জমিদারদের অবস্থার উন্নতি হলেও প্রজাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। জমিদাররা তাদের ইচ্ছামতো খাজনা বাড়াত। জমিদারদের নায়েব-গোমস্তা এবং পাইক-পেয়াদারা প্রজাদের ওপর নানা প্রকার অত্যাচার উৎপীড়ন করত। জমিতে প্রজাদের কোনো অধিকার না থাকায় প্রজারা কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশেষ চেষ্টা করেনি। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি জমিদারদের হাতে বন্দি হয়। ফলে কোম্পানির লাভ হলেও এ ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের সাথে না হয়ে কৃষকদের সাথে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি হতো এবং এদেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসত। প্রতিষ্ঠিত হতো একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ।

তাই বলা যায়, কিছু অসুবিধা থাকলেও চিরস্থায়ী বন্দেবস্ত কোম্পানির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

১০. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
উত্তর সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বলতে ঐ সরকারব্যবস্থাকে বোঝায় যে সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে থকে। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি' নামেমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থাকে। মূলত সকল কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রিই সম্পাদন করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের প্রথম সরকার ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা। পরবর্তী ১৯৭২ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা।
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রটি তথা স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের অমর স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে।

১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ নাম না জানা শহিদ ও মা-বোনের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। সকল শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধের নকশা করেছিলেন স্থপতি মইনুল হোসেন। সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। সমগ্র স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কিছুই আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক। পাশেই রয়েছে গণকবর, যাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এদেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে। মূল স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া দেয়াল মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। এ রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। এ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সালের মধ্যেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নিহিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
সুতরাং বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এ স্মৃতিসৌধ।

উত্তর

উদ্দীপকটি স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধার প্রতীক- মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকের ছবিটি জাতীয় স্মৃতিসৌধের, যা মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে সাত জোড়া দেয়ালের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি বিজয়, ১৯৫৬ সালের সংবিধান, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ-এসব ঘটনাই বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। বাঙালি জাতি তাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছেন। '৫২ থেকে '৭১ সালের মহান এই মুক্তি সংগ্রামের ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। স্থপতি মইনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের মহান মুক্তিসংগ্রামে আত্মোৎসর্গের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতীক স্মৃতিসৌধ বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের প্রতীক।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধার প্রতীক।

১১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর 'ইতিহ' শব্দের অর্থ ঐতিহ্য।
উত্তর মানব সমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। যে কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালোমন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। এভাবে ইতিহাস মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
উত্তর

তথ্য-১ ইতিহাসের অলিখিত তথা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অলিখিত উপাদান বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সেই বস্তু বা উপাদানই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন সমূহ মূলত অলিখিত উপাদান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে- লিপিমালা, মুদ্রা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য ও স্মৃতিসৌধ, প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, প্রচলিত বিশ্বাস বা প্রথা এবং পুঁথি। লিপিমালা মুদ্রা থেকে যুদ্ধ বিগ্রহ, ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজত্বকাল, ধর্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। প্রত্নকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত প্রাচীন সমাধি, স্তম্ভ, স্মৃতিস্তম্ভ, প্রাচীন শিল্পকীর্তি, দেব-দেবীর মূর্তি, মৃৎশিল্প, মৃৎপাত্র ও তৈজসপত্রাদি প্রাচীন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত। যেগুলো থেকে সভ্যতার উৎকর্ষ যেমন বোঝা যায়, তেমনি এতে নাগরিক জ্ঞানের সৌন্দর্যভাব ও সাংস্কৃতিক মনোভাব ফুটে ওঠে। উদ্দীপকে ছক-১ এ মুদ্রা, স্তম্ভলিপি, ইমারত ও শিলালিপির উল্লেখ রয়েছে যা ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্য-১ ইতিহাসের অলিখিত উপাদান নির্দেশ করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ক্রমিক-১ এর অলিখিত উপাদান ও ক্রমিক-২ তে লিখিত উপাদানকে নির্দেশ করা হয়েছে। সঠিক ইতিহাস রচনায় অলিখিত ও লিখিত উভয় উপাদানই অত্যাবশ্যক।

তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ কারণেই ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তৎকালীন সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। তাছাড়া বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সবসময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, অলিখিত উপাদান যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। এসব নিদর্শন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। লিপিমালা মুদ্রা থেকে যুদ্ধ বিগ্রহ, ভূমিদান, রাজার আদেশ, রাজত্বকাল, ধর্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। তাই সঠিক ইতিহাস রচনায় ১ এর মুদ্রা, শিলালিপি, ইমারত ও ২-এর দলিলপত্র, সাহিত্য, রাজাবাদশাহদের জীবনী উভয় তথ্যসমূহ অত্যাবশ্যক।

পরিশেষে বলা যায়, কোনো বিষয়ের সঠিক ও সম্পূর্ণ ইতিহাস রচনায় তথ্য-১ এর ইতিহাসের অলিখিত উপাদান ও তথ্য-২ এর লিখিত উপাদান অত্যাবশ্যকীয়।

১২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উত্তর 'The Spirit of Islam' গ্রন্থটি রচনা করেন সৈয়দ আমীর আলী।
উত্তর তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ অফিসাররা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করে। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে এ টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
উত্তর

চিত্রে প্রদর্শিত নেতা শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তা হলো ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব।

লাহোর প্রস্তাবের ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। বেঙ্গল প্যাক্ট অকার্যকর হলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতিতে ১৯২৮ সালের আগস্ট মাসে মতিলাল নেহেরুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নেহেরু রিপোর্ট পেশ করে। নেহেরু রিপোর্ট মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের প্রথা অবসানে সুপারিশ করলে মুসলিম নেতারা দল মত নির্বিশেষে এ রিপোটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ফলে নেহেরু রিপোর্টের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম সমঝোতার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত সাইমন কমিশনের রিপোর্ট সব রাজনৈতিক দল প্রত্যাখ্যান করে। এসময় রামজে ম্যাকডোনাল্ড সমস্যা সমাধানের জন্য সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষণা করেন। ১৯৩৫ সালে পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন গৃহীত হয়। জিন্নাহ এ আইনে প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করায় যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রবর্তন করা সম্ভব হয়নি। দলগুলোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সিন্ধুতে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভায় হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন জাতি বলে অনুধাবন করে দ্বিজাতি ঘোষণা করেন। এভাবেই লাহোর প্রস্তাবের আগেই হিন্দু-মুসলমান আলাদা জাতি- এই চিন্তা করার ফলে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের চিন্তারও প্রকাশ ঘটতে থাকে। এই অবস্থার পটভূমিতে মুসলমানদের আলাদা আবাস ভূমির দাবির জন্য ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা কর্তৃক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।

উত্তর চিত্রের ব্যক্তি হলেন শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক। যিনি অখণ্ড বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী এবং অখন্ড বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। তার সমগ্র জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ব্যয় করেন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক ১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৯ সালে প্রাদেশিক আইন পরিষদের নির্বাচনের পর 'নিখিল বঙ্গপ্রজা সমিতি' নামে এটি দল গঠন করেন। এ সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলার কৃষকের অবস্থার উন্নতি সাধন করা। ফলে কৃষক আন্দোলন ও রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রবর্তিত হয়। ১৯৩৫ সালে এ. কে ফজলুল হক নিখিল বঙ্গপ্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী বছর দলের নাম পরিবর্তন করে 'কৃষক-প্রজা পার্টি' নামকরণ করা হয়। এটি ছিল সম্পূর্ণ পৃথক এবং প্রদেশ পর্যায়ে গঠিত বাংলার রাজনৈতিক সংগঠন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে তার দলের বিপরীতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল 'মুসলিম লীগ'। নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরতে না পারলেও ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার উল্লিখিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলার রাজনীতি নিয়ে পৃথক চিন্তাভাবনা ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল গঠন ইত্যাদি বিবেচনায় ঐতিহাসিকগণ তাকে অখণ্ড বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
১৩. উজিরপুর গ্রামের কৃষকেরা রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারি জমি চাষাবাদ করত, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা নির্যাতিত হতো, এমনকি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকত। এ অবস্থার পরিত্রাণের লক্ষ্যে সরকার পরবর্তীতে স্থায়ী ভূমি অধিকার নীতি চালু করে।
উত্তর ভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
উত্তর 'অন্ধকূপ হত্যা' হচ্ছে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করতে হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রচারণা। এতে বলা হয় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থ একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। যাঁর ফলে প্রচন্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয় ১২৩ জন ইংরেজ সেনার মৃত্যু হয়। এটি ছিল ইংরেজ সেনা হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা গুজব। এর কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কিত।

উদ্দীপকে দেখা যায় উজিরপুর গ্রামের কৃষকেরা রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারি জমি চাষাবাদ করত, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা নির্যাতিত হতো, এমনকি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত থাকত। এ অবস্থার পরিত্রাণের লক্ষ্যে সরকার পরবর্তীতে স্থায়ী ভূমি অধিকার নীতি চালু করে। যা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রতি নির্দেশ করে। কোম্পানির শাসন দুর্নীতিমুক্ত ও সুসংগঠিত করতে ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়। তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ঐ বছর ২২ শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় উচ্চহারে ডাক নিয়ে জমির বন্দোবস্ত নিলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আদায় হতো না। পরে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় স্থায়ী নিয়ম-কানুন প্রবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ব্যবস্থা চালুর জন্য কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়া হয়। ১৭৮৯ সালে কর্নওয়ালিস জমিদারদের দশসালা বন্দোবস্ত দিতে প্রস্তুতি নেন। ১৭৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দশসালা বন্দোবস্ত বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে। ১৭৯৩ সালের ২২ শে মার্চ কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেন।

উত্তর

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত বন্দোবস্ত অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তৎকালীন সময়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কিছু অসুবিধা থাকলেও তা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল। ব্রিটিশ সরকার মনে করত যে, ভূমি ব্যবস্থা স্থায়িত্ব হলে জমিদারগণ ভূমিতে পুঁজি বিনিয়োগ করবে এবং উন্নয়নে তৎপর হবে। ফলে কৃষিতে যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধিশালী হবে। এতে জমিদারগণ সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে তারা সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে। অনুগত জমিদারগণ হবে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভিত্তি। কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে কোম্পানির পাশাপাশি জমিদারদের অবস্থার উন্নতি হলেও প্রজাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। জমিদাররা তাদের ইচ্ছামতো খাজনা বাড়াত। জমিদারদের নায়েব-গোমস্তা এবং পাইক-পেয়াদারা প্রজাদের ওপর নানা প্রকার অত্যাচার উৎপীড়ন করত। জমিতে প্রজাদের কোনো অধিকার না থাকায় প্রজারা কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশেষ চেষ্টা করেনি। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি জমিদারদের হাতে বন্দি হয়। ফলে কোম্পানির লাভ হলেও এ ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের সাথে না হয়ে কৃষকদের সাথে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি হতো এবং এদেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসত। প্রতিষ্ঠিত হতো একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ।

তাই বলা যায়, কিছু অসুবিধা থাকলেও চিরস্থায়ী বন্দেবস্ত কোম্পানির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

১৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
উত্তর সংসদীয় সরকারব্যবস্থা বলতে ঐ সরকারব্যবস্থাকে বোঝায় যে সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে থকে। এ সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি' নামেমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থাকে। মূলত সকল কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রিই সম্পাদন করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের প্রথম সরকার ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা। পরবর্তী ১৯৭২ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা।
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রটি তথা স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের অমর স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে।

১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ নাম না জানা শহিদ ও মা-বোনের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। সকল শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধের নকশা করেছিলেন স্থপতি মইনুল হোসেন। সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। সমগ্র স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কিছুই আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক। পাশেই রয়েছে গণকবর, যাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এদেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে। মূল স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া দেয়াল মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। এ রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। এ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সালের মধ্যেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নিহিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
সুতরাং বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এ স্মৃতিসৌধ।

উত্তর

উদ্দীপকটি স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধার প্রতীক- মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকের ছবিটি জাতীয় স্মৃতিসৌধের, যা মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে সাত জোড়া দেয়ালের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি বিজয়, ১৯৫৬ সালের সংবিধান, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ-এসব ঘটনাই বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। বাঙালি জাতি তাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছেন। '৫২ থেকে '৭১ সালের মহান এই মুক্তি সংগ্রামের ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। স্থপতি মইনুল হোসেনের নকশায় নির্মিত লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের মহান মুক্তিসংগ্রামে আত্মোৎসর্গের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতীক স্মৃতিসৌধ বাঙালি জাতির অহংকার ও গৌরবের প্রতীক।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্র বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের শ্রদ্ধার প্রতীক।

১৫. ইতিহাসের শিক্ষক জনাব রায়হান সাহেব ইতিহাসের উপাদানের তালিকা তৈরি করতে বলায় ছাত্রছাত্রীরা নিম্নোক্ত তালিকাটি উপস্থাপন করে-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ঐতিহ্য হচ্ছে অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
উত্তর ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সজাগ করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
ইতিহাস হচ্ছে মানবসভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ। ফলে ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন, সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানার মাধ্যমে মানুষ ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য সহজেই অনুধাবন করতে পারে এবং নিজের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এভাবেই ইতিহাস পাঠ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
উত্তর

উদ্দীপকে উপস্থাপিত উপাদানটি ইতিহাসের লিখিত উপাদান।

ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তৎকালীন সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যেমন- বেদ, কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', কলহনের 'রাজতরঙ্গিনী', মিনহাজ-উস-সিরাজের' তবকাত-ই-নাসিরী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ইত্যাদি। বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সব সময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিবেচিত হয়েছে। যেমন- পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে বাংলায় আগত চৈনিক পরিব্রাজক যথাক্রমে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিং-এর বর্ণনা। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান পরিব্রাজক ইনে বতুতাসহ অন্যদের লেখাতেও এ অঞ্চল সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া গিয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।
উদ্দীপকের তালিকাটিতে সন্ধ্যাকর নন্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ফা হিয়েন, কৌটিল্য, রামচরিত, অসমাপ্ত, আত্মজীবনী, ফো-কুয়ো-কি, অর্থ শাস্ত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। যা ইতিহাসের লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উপস্থাপিত উপাদানটি ইতিহাসের লিখিত উপাদান।

উত্তর

উদ্দীপকের তথ্যসমূহ তথা লিখিত উপাদান ইতিহাস রচনার খণ্ডিত চিত্রেরই প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ।

ইতিহাস হলো অতীতের ঘটনাবলির বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ধারাবাহিক বিবরণ। আর যেসব তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব, তাকেই ইতিহাসের উপাদান বলা হয়। বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস রচনায় ইতিহাসের লিখিত ও অলিখিত উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিখিত উপাদান বা শুধু অলিখিত উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। কেননা, একটিমাত্র উপাদান কোনো বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে না। এ জন্য একজন ঐতিহাসিক সম্ভাব্য সমস্ত উৎস থেকে তথ্য খোঁজেন এবং সেগুলো সমন্বয় করে সঠিক ইতিহাস রচনার চেষ্টা করে থাকেন। কারণ ইতিহাসে আবেগ, অনুমান বা অতিকথনের স্থান নেই। ইতিহাসকে হতে হবে যথার্থ ও বাস্তবধর্মী। আর এ ক্ষেত্রে ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে তালিকাটিতে উপস্থাপিত লিখিত উপাদানসমূহ সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিত', বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী', ফা হিয়েন কর্তৃক রচিত 'ফো কুয়ো কি' এবং কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র' থেকে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। অপরদিকে ইতিহাসের অলিখিত উপাদান থেকেও তৎকালীন সময়ের সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এই দুই উপাদানের সমন্বয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস জানা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের লিখিত উপাদান থেকে সম্পূর্ণ ইতিহাস জানা সম্ভব নয়। লিখিত উপাদানের সাথে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় প্রয়োজন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তথ্যসমূহ ইতিহাস রচনার খণ্ডিত চিত্রেরই প্রতিফলন।

১৬. দৃশ্যকল্প-১ : বাদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি পার্ক দেখে বাদলের ব্রিটিশ ভারতের একটি সংগ্রামের কথা মনে পড়ে। এই পার্কেই অনেক সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
দৃশ্যকল্প-২ : সিসাপুর ইউনিয়ন আয়তনে বড় হওয়ায় সবদিকের উন্নয়ন একইভাবে করা সম্ভব হয় না। তাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিসাপুর ইউনিয়নকে দুই অঞ্চলে ভাগ করেন। কিন্তু ইউনিয়নের কিছু জনগণ এই বিভক্তি মেনে না নেওয়ায় চেয়ারম্যান আবার সিসাপুর ইউনিয়নের দুই অংশকে একত্রিত করেন।
উত্তর স্বত্ববিলোপ নীতি হলো ব্রিটিশ শাসক লর্ড ডালহৌসির প্রবর্তিত এমন এক নীতি যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না।
উত্তর তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য খিলাফত আন্দোলন হয়।
হিন্দু ও মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম হিসেবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খিলাফত আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলিম সমাজ এই আন্দোলন গড়ে তোলে। কেননা ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু তুরস্কের সুলতান প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশবিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করায় ভারতীয় মুসলিম সমাজ বিব্রত হয়। যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে তুরস্কের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। ফলে ভারতীয় মুসলিমরা খিলাফত আন্দোলনের ডাক দেন।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বাদলের দেখা পার্কটি ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে।

মঙ্গল পাণ্ডে নামক একজন সিপাহির গুলি ছোড়ার মধ্য দিয়ে ১৮৫৭সালের ২৯শে মার্চ এ বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। এ বিদ্রোহ পরবর্তীতে দেশটির স্বাধীনতা ও জাতীয়তার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এ বিদ্রোহে যুদ্ধরত বিদ্রোহী নেতারা প্রাণপণ লড়াই করে পরাজিত হন। অনেক বিদ্রোহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের সম্রাট বলে ঘোষণা করেন। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, অযোধ্যার বেগম হযরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গের অনেকে। এ সংগ্রামের সাথে জড়িতদের বেশিরভাগই সিপাহি যুদ্ধে শহিদ হন, বাকিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। এ যুদ্ধ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে, এ বিদ্রোহ শুধু সিপাহিদের বিদ্রোহ ছিল। কোনো কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিকের মতে, এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
উদ্দীপকে যা ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ বাদলের দেখা পার্কটি ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে।

উত্তর

"দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনায় তথা বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়"-উক্তিটি যথার্থ।

বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। মুসলিম পত্রপত্রিকাগুলোও বঙ্গ বিভাগে সন্তোষ প্রকাশ করে। নতুন প্রদেশের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল মুসলমান। সুতরাং পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায় শিক্ষাদীক্ষা এবং প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে এ আশায় তারা বঙ্গভঙ্গের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদান করে। অপরদিকে, বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় মুসলিম বিদ্বেষী বর্ণবাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। এর পিছনের কারণ সম্পর্কে কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন, উঁচুতলার মানুষ অর্থাৎ পুঁজিপতি, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, জমিদার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের মালিক, রাজনীতিবিদদের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে এরা বঙ্গভঙ্গের ঘোর বিরোধিতা শুরু করে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার কারণে হোক বা জাতীয় ঐক্যের মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হোক, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, অশ্বিনীকুমার দত্ত, বালগঙ্গাধর তিলকসহ গোখলের মতো উদারপন্থি নেতাও অংশ নেন। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি বঙ্গভঙ্গকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন। বঙ্গভঙ্গের পর থেকে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর থেকেই সাম্প্রতিক দাঙ্গার

১৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মানবসভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণই হচ্ছে ইতিহাস।
উত্তর মানুষ কর্তৃক সম্পাদিত সকল বিষয় ইতিহাসের আওতাভুক্ত।
ইতিহাসের বিস্তৃতির সীমা স্থিতিশীল নয়, ক্রমসম্প্রসারণশীল। যেমন- প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রথম পর্বের মানুষের কর্মকাণ্ড খাদ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সে সময়ের ইতিহাসের পরিসরও খাদ্য সংগ্রহমূলক কর্মকাণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সময়ের বিবর্তনে, সভ্যতার অগ্রগতির কারণে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বেড়েছে এবং ইতিহাস চর্চায়, গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাসের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিস্তৃত হচ্ছে ইতিহাসের সীমানা। ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, শিল্পকলা প্রভৃতি। এভাবে একের পর এক বিষয় ইতিহাসভুক্ত হওয়ার কারণে ইতিহাসের পরিধি ও পরিসর সম্প্রসারিত হচ্ছে।
উত্তর তথ্য-১ ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে নির্দেশ করে।
যেসব বস্তু বা উপাদান আমাদেরকে বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য জানতে সাহায্য করে তাকেই অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বলে। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন-লিপিমালা, মুদ্রা, স্থাপত্য- ভাস্কর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, প্রচলিত বিশ্বাস বা প্রথা, পুঁথি ইত্যাদি। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তথ্য-১ এ বর্ণিত বিষয়গুলো হলো- লিপিমালা, মুদ্রা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ। আর এগুলো সবই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। যেহেতু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু বলা যায় তথ্য-১ এ ইতিহাসের অলিখিত উপাদানই প্রতিফলিত হয়েছে।
উত্তর তথ্য-২ অর্থাৎ বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ ইতহাস রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- উক্তিটি যথার্থ।
ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লিখিত উপাদান। লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ, দলিলপত্র ইত্যাদি। তথ্য-২ এ বৈদেশিক বিবরণ বা বিদেশি পর্যটকদের বিবরণের বিষয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
তথ্য-২ এ ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং, ইৎসিং ও ইবনে বতুতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সব সময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিবেচিত হয়েছে। যেমন- পঞ্চম থেকে সপ্তম শতকে বাংলায় আগত চৈনিক পরিব্রাজক যথাক্রমে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিং-এর বর্ণনা। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান পরিব্রাজক ইবেন বতুতাসহ অন্যদের লেখাতেও এ অঞ্চল সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া গিয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, লিখিত উপাদানের অন্যতম উৎস হলো বৈদেশিক বিবরণ বা বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ। এসব বিবরণের মাধ্যমে সমকালীন সময়ের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায়, যা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে তথ্য-২ এ নির্দেশিত বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর “ছক-২ প্রাচীন যে জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেটি ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।”- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর প্রাচীন বাংলায় জনপদগুলোতে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। শক্তিশালী শাসকগণ তাদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে একাধিক জনপদের শাসন ক্ষমতা লাভ করতেন। এভাবে জনপদগুলো প্রাচীন বাংলায় প্রথমে ভূখণ্ডগত ইউনিট বা প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ভূমিকা পালন করে পরবর্তীতে রাজনৈতিক ঐক্য গঠনে সহায়তা করেছিল।
উত্তর ছক-১নং গৌড় জনপদকে নির্দেশ করছে।
ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। সপ্তম শতকে শশাংককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। বাংলায় তুর্কি ও পারসিক মুসলমানদের আক্রমণের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এ কর্ণসুবর্ণ ও মুর্শিদাবাদ, মালদহ দ্বারা গৌড় জনপদেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উত্তর ছক-২ প্রাচীন বাংলার পুণ্ড্র জনপদের প্রতিনিধিত্ব করছে। পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। খুব সম্বত: পুণ্ড্র বলে একটি জনগোষ্ঠী এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল। রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুণ্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসায়-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-২ এ উল্লিখিত বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী দিনাজপুর পুণ্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত। যা ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
১৯. বিষ্ণুপদ তাঁর পিতার মৃত্যুর পর অধিক বয়সে রাজ্য ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সুদক্ষ যোদ্ধা, সুপন্ডিত, বিদ্যোৎসাহী ও ধার্মিক রাজা। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার জন্য বিষ্ণুপদ রাজ্য পরিচালনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েন। এ সুযোগটি নেন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বীর যোদ্ধা আমজাদ খাঁন। তিনি অতি সহজেই বিষ্ণুপদকে পরাজিত করে তাঁর রাজ্য দখল করেন। বিষ্ণুপদ অন্য এলাকায় আশ্রয় নেন। আমজাদ খাঁন বিজিত অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
উত্তর সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ পুণ্ড্র সাম্রাজ্যের অধীনস্থ প্রত্যেকটি প্রদেশই ভুক্তি নামে পরিচিত ছিল।
উত্তর সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলা হয়।
সেনবংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে তারা ক্ষত্রিয় হয় বলে তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকে বিষ্ণুপদ এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের সেন রাজা লক্ষণ সেনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সেন বংশ ১০৬১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ বছর বাংলা শাসন করে। সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন এবং শেষ রাজা ছিলেন লক্ষণ সেন। লক্ষণ সেনের সময় তেরো শতকের প্রথমদিকে মুসলমান সেনাপতি বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন। বৃদ্ধ লক্ষণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে পূর্ববঙ্গের রাজধানী বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর আশ্রয় গ্রহণ করেন। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা বখতিয়ার খলজি সহজেই অধিকার করে নেন। লক্ষণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় অবস্থান করে লক্ষণ সেন আরও ২/৩ বছর রাজত্ব করেন। খুব সম্ভব ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। লক্ষণ সেনের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন কিছুকাল পূর্ব বাংলা শাসন করেন। এভাবে লক্ষণ সেনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় সেন শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, সুদক্ষ যোদ্ধা, সুপণ্ডিত, বিদ্যোৎসাহী ও ধার্মিক রাজা বিষ্ণুপদ তার পিতার মৃত্যুর পর অধিক বয়সে রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। একসময় বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার জন্য তিনি রাজ্য পরিচালনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েন। এই সুযোগে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বীর যোদ্ধা আমজাদ খাঁন অতি সহজেই বিষ্ণুপদকে পরাজিত করে তার রাজ্য দখল করে নেন। বিষ্ণুপদ অন্য এলাকায় আশ্রয় নেয়। উদ্দীপকে বিষ্ণুপদ এর এরূপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সেন রাজা লক্ষণ সেনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উত্তর উদ্দীপকে আমজাদ খাঁন ইতিহাসখ্যাত বখতিয়ার খলজির প্রতিনিধিত্ব করছে- উক্তিটি যথার্থ।
ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশে সেন শাসকের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। বখতিয়ার খলজি একজন উচ্চাভিলাষী তুর্কি বীর ছিলেন। তিনি বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার হয়ে নিজের ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করতে পেরেছিলেন। বখতিয়ার খলজি বাদউনের শাসনকর্তা হ্রশামউদ্দিনের অধীনে ভাগবত ও ভিউলি পরগনার জায়গিরদার হন। এ সময় তিনি পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে আক্রমণ চালিয়ে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে। এতে চারদিকে তার সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার সৈন্যবাহিনীতে অনেকে যোগ দেয়। বখতিয়ার খলজি বিহার জয় করে প্রচুর ধনরত্ন নিয়ে দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবকের দরবারে যান। কুতুবউদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে তিনি বিহারে ফিরে আসেন। এবার তিনি বাংলার দিকে চোখ দেন। এ সময় বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন লক্ষণ সেন। বাংলায় প্রবেশের জন্য দুটি পথ ছিল। তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় নামে দুটি গিরিপথ দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করতে হতো। বখতিয়ার খলজি প্রচলিত এ দুই পথ দিয়ে না এসে ঝাড়খণ্ডের ময়ূরভঞ্জের জঙ্গল পথ দিয়ে আসেন। বখতিয়ার খলজি যখন লক্ষণ সেনের প্রাসাদের ফটকের সামনে আসেন তখন তার সাথে ছিল ১৭/১৮ জন অশ্বারোহী সৈনিক। প্রাসাদ রক্ষীরা মনে করল ঘোড়া ব্যবসায়ী এসেছে। ফলে তারা গেট খুলে দিল। ভিতরে প্রবেশ করেই বখতিয়ার খলজি অতর্কিত আক্রমণ শুরু করেন। অপ্রস্তুত লক্ষণ সেনের সৈন্যরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। রাজা লক্ষণ সেন এ সময় দুপুরের খাবারে ব্যস্ত ছিলেন। সংবাদ শুনে লক্ষণ সেন পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। এভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা ঘটে। এ শাসন প্রায় ৫০০ বছরের অধিক স্থায়ী হয়েছিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের পূর্বে এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটলেও তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় মুসলিম শাসন কায়েম করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আমজাদ খাঁন ইতিহাস প্রসিদ্ধ বখতিয়ার খলজিরই প্রতিনিধিত্ব করছে।
২০. পাকভারত উপমহাদেশ এক সময় ভিনদেশিদের অধিনে চলে যায়। দেশকে শাসন-শোষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কুমুদতলার উচ্চশিক্ষিত সুমিত সাহা দল গঠন করেন এবং ভিনদেশিদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। শক্তিশালী ভিনদেশীয় শক্তির সাথে সুমিত সাহার দল পেরে উঠতে না পেরে পিছু হটে যায় এবং সুমিত সাহা গ্রেফতার হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। সুমিত সাহার দলে ছিলেন মেধাবী নারী সদস্য স্মৃতি রায়। দলের সিদ্ধান্তে স্মৃতি রায় 'কুমুদতলা ক্লাব' আক্রমণ করেন এবং সফল অভিযানের পর গ্রেফতার হওয়ার আগেই আত্মহত্যা করেন।
উত্তর বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য চিত্তরঞ্জন দাস কর্তৃক যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা 'বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি' নামে পরিচিত।
উত্তর তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য খিলাফত আন্দোলন হয়।
হিন্দু ও মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম হিসেবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খিলাফত আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলিম সমাজ এই আন্দোলন গড়ে তোলে। কেননা ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা হিসাবে শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু তুরস্কের সুলতান প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশবিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করায় ভারতীয় মুসলিম সমাজ বিব্রত হয়। যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে তুরস্কের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। ফলে ভারতীয় মুসলিমরা খিলাফত আন্দোলনের ডাক দেন।
উত্তর উদ্দীপকে সুমিত সাহার কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে অম্বিকা চক্রবর্তী, অনুরূপ সেন, নগেন সেনের সহায়তায় একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর সংগঠন এবং তিনি নিজে একের পর এক সশস্ত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বারবার গ্রেফতার হলেও প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে যান। চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী। পরে এই আত্মঘাতী বাহিনীর নাম হয় 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'। এই বাহিনী একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সরকারি অস্ত্রগার লুণ্ঠন করে। 'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভিনদেশিদের শাসন-শোষণের হাত থেকে পাক-ভারত উপমহাদেশকে রক্ষা করার জন্য কুমুদতলার সুমিত সাহা দল গঠন তাদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু শক্তিশালী ভিনদেশীয় শক্তির সাথে পেরে না ওঠায় তার দল পিছু হটে। এক পর্যায়ে সুমিত সাহা গ্রেফতার হন এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। উদ্দীপকে সুমিত সাহার এরূপ কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার উচ্চ শিক্ষিত বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
উত্তর "উদ্দীপকে স্মৃতি রায় যেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর প্রতিচ্ছবি।"-উক্তিটি যথার্থ।
বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের একজন দুঃসাহসী বিপ্লবী ছিলেন চট্টগ্রামের মাস্টারদা, তার আসল নাম সূর্য সেন। চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য তিনি গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী। সূর্য সেনের এই বিপ্লবী বাহিনীতে নারী যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা ১৯৩০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ডিসটিঙ্কশন নিয়ে কোলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ইতোমধ্যে তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং সূর্য সেনের দলের সঙ্গে যুক্ত হন। সাহসী নারী প্রীতিলতাকে চট্টগ্রামের 'পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব' আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সফল অভিযান শেষে তিনি তার সঙ্গী বিপ্লবীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে সহায়তা করেন। কিন্তু ধরা পড়ার আগে বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করেন।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে স্মৃতি রায়ের কর্মকাণ্ড প্রীতলতা ওয়াদ্দেদারের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে স্মৃতি রায় যেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতিচ্ছবি।
২১. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ব্রিটিশ শাসনামলে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার যে গোপন তৎপরতার সূত্রপাত ঘটে, তাই বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন।
উত্তর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন।
১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন পাস করে। এই আইনে যে কোনো ব্যক্তিকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই আদালতে দণ্ড দেয়ার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়। এ নিপীড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে অন্যান্য স্থানের মতো পাঞ্জাবেও আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক সভায় জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে বহু নিরস্ত্র মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে এ হত্যাকাণ্ড 'জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড' নামে পরিচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তার 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন।
উত্তর তথ্য-২ বঙ্গভঙ্গকে নির্দেশ করে। রাজনৈতিক কারণ ছিল বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৮৫৩, ১৯০৩, ১৯০৪ ও ১৯০৫ সাল বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে নির্দেশ করে। কেননা বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্যে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয় এবং অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক।
লর্ড কার্জন বাঙালির রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা থেকেই সারা ভারতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি তথা ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের মূল কারণ। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলো, অপরদিকে পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলো। এভাবেই কার্জন 'বিভেদ ও শাসন' নীতি প্রয়োগ করে যতটা না পূর্ব বাংলার কল্যাণে, তার চেয়ে বেশি ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ করেন।
উত্তর তথ্য-১ ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ তথা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে জড়িত, যার ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
মঙ্গল পাণ্ডে নামক একজন সিপাহির গুলি ছোড়ার মধ্য দিয়ে ১৮৫৭সালের ২৯শে মার্চ এ বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। এ বিদ্রোহ পরবর্তীতে দেশটির স্বাধীনতা ও জাতীয়তার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এ বিদ্রোহে যুদ্ধরত বিদ্রোহী নেতারা প্রাণপণ লড়াই করে পরাজিত হন। অনেক বিদ্রোহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের সম্রাট বলে ঘোষণা করেন। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, অযোধ্যার বেগম হযরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গের অনেকে। এ সংগ্রামের সাথে জড়িতদের বেশিরভাগই সিপাহি যুদ্ধে শহিদ হন, বাকিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। এ যুদ্ধ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। ইউরোপীয় ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে, এ বিদ্রোহ শুধু সিপাহিদের বিদ্রোহ ছিল। কোনো কোনো ভারতীয় ঐতিহাসিকের মতে, এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, এ বিদ্রোহ শুধু সিপাহি বিদ্রোহ ছিল না, এটি ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
২২. জনাব আলী আজগর শেভবন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং নামে একটি কোম্পানির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার ছোট ছেলে আলী হোসেনকে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করেন। আলী হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও আত্মীয়স্বজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
উত্তর ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, তাকে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলা হয়।
উত্তর দ্বৈতশাসন ছিল একটি দায়িত্বহীন ক্ষমতা ও ক্ষমতাহীন দায়িত্বের অদ্ভুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর ফলে বাংলার শাসনব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা ও জটলা তৈরি হয়। এই ব্যবস্থায় ইংরেজরা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা পেলেও জনকল্যাণের কোনো দায়িত্ব নেয়নি। অন্যদিকে নবাবের হাতে শাসনের দায়িত্ব থাকলেও ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ। এই চরম শোষণ ও দায়িত্বহীনতার ফলে ১৭৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা জনজীবন বিধ্বস্ত করে দেয়।
উত্তর

উদ্দীপকের আলী হোসেনের সাথে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার চারিত্রিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলী আজগর তার মৃত্যুর আগে ছোট ছেলে আলী হোসেনকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রিয় দৌহিত্র, যিনি তরুণ বয়সে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রেও দেখা যায় তার নানা আলিবর্দি খাঁ তাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। আলী হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর যেমন কর্মকর্তা ও আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের শিকার হন, সিরাজউদ্দৌলাও সিংহাসনে বসার পর একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা ঘসেটি বেগম ও খালাতো ভাই শওকতজঙ্গ তার বিরুদ্ধে তীব্র ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তাদের সাথে হাত মেলায় মীরজাফরের মতো বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিরা। আলী হোসেনের মতো সিরাজউদ্দৌলাকেও পরিবারের ভেতর ও বাইরের প্রভাবশালীদের বাধা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। তাই উত্তরাধিকার মনোনয়ন এবং আপনজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ার প্রেক্ষিতে আলী হোসেনের সাথে সিরাজউদ্দৌলার মিল সুস্পষ্ট।

উত্তর

আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত আলী হোসেনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের জন্য কেবল আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রই যথেষ্ট ছিল না; বরং দেশি-বিদেশি বণিকদের স্বার্থ এবং নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতাও সমানভাবে দায়ী ছিল।

সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূলে ছিল বহুমুখী ষড়যন্ত্র। আত্মীয়দের মধ্যে ঘসেটি বেগমের ঈর্ষা যেমন ছিল, তেমনি ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ধূর্তামি ছিল প্রধান প্রভাবক। এছাড়া জগৎ শেঠ ও উমিচাঁদের মতো প্রভাবশালী বণিকশ্রেণি নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ইংরেজদের পক্ষ নিয়েছিল, যা নবাবের শক্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। নবাবের নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতাও তার পতনের পথ সুগম করেছিল। তরুণ নবাবের অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার অভাব ছিল লক্ষণীয়। তিনি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানলেও বারবার তার ওপরই নির্ভর করেছেন এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে পিছু হটে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইংরেজদের উন্নত রণকৌশল' ও রবার্ট ক্লাইভের 'কূটবুদ্ধির মোকাবিলা করার মতো দূরদর্শিতা নবাব দেখাতে পারেননি।

পরিশেষে বলা যায়, আত্মীয়দের ষড়যন্ত্র ছিল যুদ্ধের কেবল একটি প্রেক্ষাপট। কিন্তু ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা, দরবারের প্রভাবশালী অমাত্যদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং নবাবের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের ব্যর্থতা মিলেই মূলত সিরাজউদ্দৌলার চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত করেছিল।

২৩.

দৃশ্যকল্প-১: করিম জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে প্রাচীন বাংলার একটি মানচিত্র দেখতে পায়। করিমের বাবা বলে এই মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য জনপদ রয়েছে, সেটি গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত।

দৃশ্যকল্প-২: শর্মিলা বগুড়ার মহাস্থানগর বেড়াতে যায়। সেখানে সে প্রাচীন বাংলার অনেক নিদর্শন দেখতে পায়। পাথরের তৈরি চাকতিতে খোদাই করা লিপি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়।

উত্তর গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এে গড়ে ওঠে তাই হেলেনিক সংস্কৃতি। হির এথেন্সকে কেন্দ্র করে যে সংস্কৃতি
উত্তর নীলনদ লেক ভিক্টোরিয়া থেকে নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে এসে পড়েছে। নীলনদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীলনদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হতো। জমে থাকা পলিমাটিতে নানা ধরনের ফসল জন্মাত। তাই মিশরের উপর অপরিসীম প্রভাবের কারণে ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন, 'মিশর নীলনদের দান'।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১-এ উল্লিখিত মানচিত্রে প্রাচীন বাংলার সমতট জনপদের নির্দেশ রয়েছে।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান। প্রাচীন বাংলার জনপদ গুলোর মধ্যে সমতট ছিল অন্যতম। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে সমতটের অবস্থান। সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। গঙ্গা, ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্র কূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা ছিল এর রাজধানী এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত। কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শালবন বিহার তাদের অন্যতম।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ করিম জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে প্রাচীন বাংলার একটি মানচিত্র দেখতে পায়। করিমের বাবা বলে এই মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য জনপদ রয়েছে, সেটি গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত। যা সমতটকে নির্দেশ করে। কেননা সমতট জনপদ গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে মেঘনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উত্তর

দৃশ্যকল্প-২-এ যে জনপদের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ শর্মিলা বগুড়ার মহাস্থানগড় বেড়াতে যায় এবং অনেক নিদর্শন দেখতে পায়। যা পুণ্ড জনপদের অন্তর্ভুক্ত। পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু। আর এটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। বস্তুতপক্ষে প্রাচীন প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। । বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী পুণ্ড জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বগুড়া শহর থেকে সাত মাইল উত্তরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতগণ অনুমান করেন। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ গুলোর মধ্যে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদাই পাথর ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, শীলাদেবীর ঘাট প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ষষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র নগরী বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। রাজশাহীর পাহাড়পুরের বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির আকর্ষণীয় নিদর্শনসমূহ এ নগরীর অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়পুরের ধ্বংসাবশেষ গুলোর মধ্যে সোমপুর বিহার, স্নানঘাট, গন্ধেশ্বরীর মন্দির, সত্যপীর ভিটা, প্রস্তরমূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান। পাহাড়পুরের সোমপুর বিহারটি তৎকালীন বাংলার বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রচার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।

অতএব, উদ্দীপকের শর্মিলার বেড়াতে যাওয়া পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ জনপদ।

২৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উত্তর ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থি অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলে।
উত্তর তমদ্দুন মজলিস ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন গঠিত হয় তমদ্দুন মজলিস। এটি ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রটি বাঙালির ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ আন্দোলনে নারীরা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের প্রত্যক্ষ এবং সক্রিয় অংশ গ্রহণ ছিল। মিছিল, স্নোগান, সভা-সমিতিতে তারাও পুরুষের পাশাপাশি সংগ্রাম করেছেন। ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা মিছিল মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে নাদিরা বেগমসহ আরও অনেকে পোস্টার, ফেস্টুন লিখন এবং নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ঢাকার বাইরে যশোরে হামিদা রহমান, বগুড়ায় রহিমা খাতুন, সালেহা খাতুনরা ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। সিলেটের নারীরাও ছিলেন সক্রিয়। পোস্টার ও প্রচারপত্রের কাজে গ্রেফতার হন লিলি চক্রবর্তী। সংগ্রামী ভূমিকা রাখেন হাজেরা মাহমুদ, যোবেদা খাতুন চৌধুরীসহ অনেকে। অনেকে ভাষা আন্দোলন কারীদের সহযোগিতা করেছেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি যারা পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের অধিবেশন বর্জন করেন, তাদের মধ্যে আনোয়ারা খাতুন ছিলেন অন্যতম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে ছাত্রীরাও দুঃসাহসী ভূমিকা রাখেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙায় যারা সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন তারা হলেন শামসুন্নাহার, রওশন আরা, সুফিয়া ইব্রাহিমসহ অনেকে।

সুতরাং, উদ্দীপকে চিত্রিত ভাষা আন্দোলনে নারীদের গরত্বপর্ণ ভূমিকা ছিল।

উত্তর

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। ঐতিহাসিকগণ মনে করেন ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ নিহিত ছিল।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ। ১৯৪৭সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, বঞ্চনা ও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মধ্যে জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তীকালে সব বৈষম্যের প্রতিবাদ করে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক মুসলিম লীগকে পরাজিত করার প্রেরণা তারা ভাষা আন্দোলন থেকেই নিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে যে প্রতিবাদী ও দাবি আদায়ের মানসিকতা বাঙালি ধারণ করেছে তা অব্যাহত রাখে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৯৫২ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে বীজ বপিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে তা একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়।

২৫. জনাব 'ক' স্বীয় কর্ম শক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তার শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় ছিল না। তাই লক্ষ্য অর্জনে বারবার ব্যর্থ হন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। উচ্চাভিলাষী জনাব 'ক' তার অদম্য সাহস ও বুদ্ধিমত্তার কারণে ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ খুঁজে পান এবং একজন কর্মকুশলী শাসকে পরিণত হন।
উত্তর কষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে যে সকল জমিদার স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তারাই 'বারো ভূঁইয়া'।
উত্তর তিতুমির হজব্রত পালন করে দেশে ফিরে ধর্ম সংস্কারে আত্মনিয়োগ করে। তার এ আন্দোলনে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে সাড়া দেয়। বিশেষ করে ইংরেজ সরকার, জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমিরের আন্দোলনে যোগ দেয়। ফলে তার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। মূলত তিতুমির ধর্মীয় সংস্কার 'আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'ক'-এর সাথে মধ্যযুগে বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' স্বীয় কর্মশক্তিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তার শারীরিক গঠন আকর্ষণীয় ছিল না। তাই তিনি লক্ষ্য অর্জনে বারবার ব্যর্থ হন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। উচ্চাভিলাষী জনাব 'ক' তার অদম্য সাহস ও বুদ্ধিমত্তার কারণে ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ খুঁজে পান এবং একজন কর্মকুশলী শাসকে পরিণত হন। যা বখতিয়ার খলজিকে নির্দেশ করে। কেননা বখতিয়ার খলজির জীবনে অনুরূপ ঘটনা দেখা যায়। বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশিরের অধিবাসী ছিলেন। ১১৯৫ সালে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। সেখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরির সৈন্য বিভাগে চাকরি প্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। খাটো, লম্বা হাত ও কুৎসিত চেহারার জন্য বখতিয়ার সেনাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হন। বারবার চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিনের নিকট মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত হন। উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনভোগী পদে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানে তিনি নিজ যোগ্যতা গুণে ভগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গির লাভ করেন। অতঃপর তিনি মাত্র ১৭/১৮ জন সৈন্য নিয়ে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জয় করেন।
অতএব, উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর সাথে মধ্যযুগের বাংলার শাসক বখতিয়ার খলজির মিল রয়েছে।
উত্তর উক্ত শাসক তথা বখতিয়ার খলজির প্রচেষ্টার ফলেই বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
বখতিয়ার খলজি বিহার জয় করার পর নবদ্বীপ বা নদীয়া আক্রমণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সময় নদীয়া অবস্থান করছিল বাংলার রাজা লক্ষণ সেন। বখতিয়ার অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে সৈন্যদের খন্ড খন্ড ভাবে ভাগ করে অগ্রসর হতে থাকেন। নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হলে তখন তার সাথে মাত্র ১৭ থেকে ১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য ছিল। আর মূল সেনাবাহিনীর বাকি অংশ তার অনেক পশ্চাতে ছিল। বখতিয়ারের এ ক্ষুদ্রবাহিনী রাজপ্রাসাদের সম্মুখে এসে হঠাৎ প্রাসাদ রক্ষীদের হত্যা করলে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। লক্ষণ সেন পিছনের দরজা দিয়ে সপরিবারে খালি পায়ে পালিয়ে যান। এভাবে বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন। এ শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচ শত বছরের অধিককাল স্থায়ী হয়েছিল। রাজ্যজয় করেই বখতিয়ার খলজি ক্ষান্ত ছিলেন না। বিজিত অঞ্চলে তার শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তার নিজ ধর্ম ইসলামের বিকাশের জন্য তিনি বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বহু মাদ্রাসা, মক্তব, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল। বখতিয়ার খলজি ইসলাম ধর্ম প্রসারে কাজ করেছিলেন। সর্বোপরি বখতিয়ার খলজির বাংলা জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায় এবং ইসলাম ধর্মের প্রসার হয়। পরিশেষে বলা যায়, বখতিয়ার খলজির উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কর্মকুশলতা ও সাহসিকতার কারণে বাংলায় মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উত্তর 'অন্ধকূপ হত্যা' হচ্ছে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করতে হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রচারণা। এতে বলা হয় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থ একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হলে ১২৩ জন ইংরেজের মৃত্যু হয়।
উত্তর ইংরেজদের একের পর এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে নবাব কোলকাতা দখল করেন। পরবর্তীতে ইংরেজরা নবাবের সেনাপতি মানিকচাঁদকে পরাজিত করে কোলকাতা পুনরায় দখল করে নেয়। নবাব তার চারদিকে ষড়যন্ত্র ও শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে ইংরেজদের সঙ্গে আলীগড়ে নতজানু ও অপমানজনক সন্ধি করতে বাধ্য হন। এ সন্ধি ইতিহাসে আলীনগর সন্ধি নামে পরিচিত।
উত্তর উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবই-এর পলাশীর যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ইংরেজরা এদেশে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ বণিকরা তাদের শক্তিসামর্থ্য বৃদ্ধি করতে থাকে এবং এতদাঞ্চলে সাম্রাজ্য বিস্তারের ফন্দি আঁটে। ১৭৪০-১৭৫৬ সাল পর্যন্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব ছিলেন আলীবর্দি খান। তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তার মৃত্যুর পর ইংরেজরা আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ সময় বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সিংহাসনে বসার পর থেকেই তাকে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। তার প্রথম সমস্যা ছিল পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্র। তাদের সাথে মিলে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির আম্রকাননে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে নবাবের বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই নবাবের সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়। মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজরা এ সুযোগে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যার অনিবার্য পরিণতি নবাবের পরাজয়।
অতএব, উদ্দীপকের চিত্রে পলাশীর যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
উত্তর 'উক্ত যুদ্ধ তথা পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের ফলেই বাংলা তথা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলায় কেবল সিরাজের মৃত্যু ও স্বাধীন শাসনের অবসানই ঘটেনি, তা ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে। এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা মীর জাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও তিনি ছিলেন নামেমাত্র নবাব, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল বরার্ট ক্লাইভের হাতে। এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলে ইংরেজ বণিকেরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায় বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে। তারা বিনা শুল্কে ব্যবসায় করার ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একই সাথে ফরাসি বণিকরাও এদেশ থেকে বিদায় নেয়। যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে থাকে। বাংলার স্থানীয় শিল্প ও বাণিজ্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। এ যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। আর এভাবেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। আর এর পরিণতিতে দীর্ঘ দুইশত বছর বাংলাকে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের শিকার হতে হয়।
২৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর সম্মিলিত বিরোধী দল বা কপ (COP) হলো ১৯৬৫ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানে গঠিত একটি বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক জোট। COP এর পূর্ণরূপ হলো- Combined Opposition Party.
উত্তর ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান জন্ম নিলেও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বৈরিতার সূত্রপাত হয়। উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। আইয়ুব খানের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ভারত আক্রমণ করে কাশ্মীর দখল করা। ১৯৬৫ সালে কাশ্মীরি নেতা শেখ আব্দুল্লাহকে ভারত সরকার গ্রেফতার করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইয়ুব খান এ সুযোগ গ্রহণ করেন। ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উত্তর

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানির প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯০০। ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে।
অন্যদিকে সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন্য কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন। এক্ষেত্রে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য ছিল ২০৪৭ জনের।
পাকিস্তান শাসনামলে সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি প্রণয়ন করে।

উত্তর

"ছকের বৈষম্যগুলো পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচায়ক"- উক্তিটি যথার্থ।

পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯০০। ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক শাসনের একটি ক্ষেত্র ছিল সামরিক বৈষম্য। সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। প্রথম থেকেই সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদ পাঞ্জাবিরা দখল করে রেখেছিল। তারা বাঙালিদের সামরিক বাহিনী থেকে দূরে রাখার নীতি গ্রহণ করে। সামরিক বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে যে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তাতে ৬০% পাঞ্জাবি, ৩৫% পাঠান এবং মাত্র ৫% পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য অংশ ও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাঙালির দাবির মুখে সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা ছিল নগণ্য। ১৯৫৫ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিলেন মাত্র ৮২ জন। ১৯৬৬ সালে সামরিক বাহিনীর ১৭ জন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ১ জন ছিলেন বাঙালি। আইয়ুব খানের শাসনামলে মোট বাজেটের ৬০% সামরিক বাজেট ছিল। এর সিংহভাগ দায়ভার বহন করতে হতো পূর্ব পাকিস্তানকে, অথচ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার প্রতি অবহেলা দেখানো হতো।
সুতরাং বলা যায়, ছকের বৈষম্যগুলো পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অবহেলা ও উদাসীনতার পরিচায়ক।

২৮. (ⅰ) 'ভাগ কর ও শাসন কর'।
(ii) প্রথম ব্যাপক ও জাতীয়ভিত্তিক গণআন্দোলন।
উত্তর 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি' একটি আত্মঘাতী বাহিনীর নাম, যা মাস্টারদা সূর্য সেন গঠন করেন।
উত্তর চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য মাস্টারদা সূর্য সেন গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী। পরে এই আত্মঘাতী বাহিনীর নাম হয় 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'।
এই বাহিনী একের পর এক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সরকারি অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে। 'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের (i) নং অনুচ্ছেদে উল্লিখিত 'ভাগ কর ও শাসন কর' উক্তিটি ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।

লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা করা হয় এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়। এই পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুঁড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। এ প্রদেশগুলোর রাজধানী হয় ঢাকা। অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কলকাতা। মূলত শাসনকার্যের সুবিধার্থেই বাংলাকে বিভক্ত করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের (i) নং অনুচ্ছেদের বিষয়টি ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।

উত্তর

উদ্দীপকের (ii) নং অনুচ্ছেদে ইঙ্গিতকৃত গণআন্দোলন হলো ১৮৫৮ সালের সিপাহী বিদ্রোহ তথা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ।

পলাশি যুদ্ধের প্রায় একশত বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘসময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সবই এই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামক এক সিপাহি। দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহীতে এই বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এই বিদ্রোহের অধিকাংশ সিপাহি শহিদ হন অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এই বিদ্রোহের প্রকৃতি ছিল ব্যাপক। এর ফলে কোম্পানি শাসনের অবসান হয়। এরপর থেকে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের (ii) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রথম ব্যাপক ও জাতীয় ভিত্তিক গণ-আন্দোলন। যা ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম বা সিপাহী বিদ্রোহকে নির্দেশ করে। যা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

২৯. নিচের ছবিগুলো দেখো :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিষ্টীয় ছয় শতক পর্যন্ত সময়কালকে আদি ঐতিহাসিক যুগ বলা হয়।
উত্তর প্রাচীন যুগে বাংলা বর্তমান বাংলাদেশের মতো একক ও অখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্যভিত্তিক বা কেন্দ্রীয়শাসন শুরু হওয়ার আগে বাংলা ছোটো ছোটো অনেকগুলো অঞ্চলে বিভক্ত ও স্থানীয়ভাবে শাসিত হতো। প্রাচীন বাংলার জনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর এই ছোটো ছোটো অঞ্চলগুলোকেই বলা হয় জনপদ।
উত্তর

প্রাচীন পুন্ড্র জনপদের সাথে ছবি-২ তথা শালবন বিহারের তুলনা করা হলো-

প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র। বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল। পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
অন্যদিকে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান। সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট। কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শালবন বিহার এদের অন্যতম।
উল্লিখিত জনপদ দুটি তুলনা করে দেখা যায়, অবস্থানগত ও বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে কিছু অমিল রয়েছে।

উত্তর

"ছবি-১ তথা সোমপুর বিহার, ছবি-২ তথা শালবন বিহার, ছবি-২ তথা শালবন বিহার ও মহাস্থানগড় সবগুলোই প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে"- উক্তিটি যথার্থ।

প্রাচীন বাংলার জনপদগুলো থেকে তখনকার বাংলার ভৌগোলিক অবয়ব, সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক অবস্থা ও সমৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। যার ফলে তখনকার বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। প্রাচীন যুগে বাংলা বর্তমান বাংলাদেশের মতো একক ও অখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্যভিত্তিক বা কেন্দ্রীয় শাসন শুরু হওয়ার আগে বাংলা ছোট ছোট অনেকগুলো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল এবং স্থানীয়ভাবে শাসিত হতো। প্রাচীনকালে প্রাপ্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদান হতে বিভিন্ন জনপদ যেমন- বঙ্গ, গৌড়, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট এগুলোর নাগরিকদের জীবনযাত্রা, অবস্থান, বিস্তৃতি, সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের পরিবর্তন সম্পর্কে আংশিক ধারণা লাভ করা যায়।
প্রাচীন বাংলার সোমপুর বিহার, শালবন বিহার ও মহাস্থানগড় থেকে আমরা তখনকার বাংলার ভৌগোলিক অবয়ব, সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভ করতে পারি।
সুতরাং বলা যায়, “ছবি-১, ছবি-২ ও মহাস্থানগড় সবগুলোই প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে"- উক্তিটি যথার্থ।

৩০. সীমার দাদু বলেন, মানবসমাজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রার অগ্রগতির ইতিহাস থেকে জানা যায়। অপরদিকে 'সীমা বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উত্তর আইন-ই-আকবরী খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত মুঘল সম্রাট আকবরের প্রশাসনের বিস্তারিত বর্ণনাসমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ। এ গ্রন্থের রচয়িতা আবুল ফজল।
উত্তর ইতিহাস দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে শিক্ষণীয় দর্পণ বলা হয়।
ইতিহাস হচ্ছে মানবসভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ। অপরদিকে জগৎ, জীবন, মানুষের সমাজ; তার চেতনা এবং জ্ঞানের প্রক্রিয়া প্রভৃতি মৌল বিধানের আলোচনা হচ্ছে দর্শন। মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে। ইতিহাসের শিক্ষা বর্তমানের প্রয়োজনে কাজে লাগানো যেতে পারে। আর এজন্যই ইতিহাসকে শিক্ষণীয় দর্পণ বলা হয়।
উত্তর

সীমার দাদুর বক্তব্যের আলোকে ইতিহাসের বিষয়বস্তুর দিকটি ফুটে উঠেছে।

ইতিহাস হলো মানবসমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রমাণ ও লিখিত দলিল। ঐতিহাসিক ভিকো মনে করেন, মানবসমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপত্তি ও বিকাশই হচ্ছে ইতিহাসের বিষয়বস্তু। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যা মানবসমাজ ও সভ্যতার উন্নতি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে তা সবই ইতিহাসভুক্ত বিষয়। যেমন- শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ, ধর্ম, আইন, প্রভৃতি বিষয় সামগ্রিকভাবে যা কিছু সমাজ সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে তাই ইতিহাসের বিষয়বস্তু।
উদ্দীপকে সীমার দাদু বলেন, মানব সমাজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায়। অর্থাৎ মানবসমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তথা মানব সভ্যতার উৎপত্তি অগ্রগতি ও বিকাশই হচ্ছে ইতিহাসের মূল বিষয়বস্তু।

উত্তর

"দেশ ও জাতির উন্নয়নে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"- উক্তিটি যথার্থ।

জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব অত্যধিক। ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা মানবসমাজের ক্রমবিকাশ ও সভ্যতার বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জানতে পারি। আবার অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম, গৌরবময় ঐতিহ্যের তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। এ জন্যই উদ্দীপকের তপন স্যার তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন। ইতিহাস জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালোমন্দের পার্থক্যটা সহজেই বুঝতে পারে। ফলে ব্যক্তি তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন
থাকে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৩১. রফিক সাহেব একজন সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। অবসর সময়ে ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন, প্রাচীনকালের তালপাতার লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা, বিভিন্ন রাজাদের জীবন সংবলিত পুস্তক দেখতে পান। এছাড়া তিনি তাঁর সন্তানদেরকে নিজ দেশের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করেন এবং বলেন দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থে ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন।
উত্তর ইতিহাস শব্দের অর্থ আগের দিনের কাহিনী।
উত্তর ইতিহাসের জ্ঞান মানুষকে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সজাগ করার মাধ্যমে সচেতন করে তোলে। তাই ইতিহাস পাঠ করা সকলের জন্য প্রয়োজন।
ইতিহাস হচ্ছে মানবসভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক ও সত্যনিষ্ঠ বিবরণ। ফলে ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন, সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানার মাধ্যমে মানুষ ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য সহজেই অনুধাবন করতে পারে এবং নিজের কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। এ কারণেই সকলের ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন।
উত্তর উদ্দীপকে ইতিহাসের লিখিত ও অলিখিত উপাদানকে ইঙ্গিত করে।
ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র ও দেশি-বিদেশি উল্লেখযোগ্য অতীত ঘটনার বিবরণ। বিশ্বের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থও জাতীয় গণগ্রন্থাগারে রক্ষিত আছে যেমন- অর্থশাস্ত্র, তবকাত ই-নাসিরী, আইন-ই-আকবরী ইত্যাদি।
অন্যদিকে, ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বলতে বোঝায় সেসব বস্তু বা উপাদান যা থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই। যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, পাণ্ডুলিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত ইত্যাদি। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ফলে সে সময়ের অধিবাসীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। উদ্দীপকের রফিক সাহেব একজন সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। অবসর সময়ে ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন, প্রাচীনকালের তালপাতার লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা, বিভিন্ন রাজাদের জীবন সংবলিত পুস্তক দেখতে পান। যা ইতিহাসের লিখিত ও অলিখিত উপাদানকে ইঙ্গিত করে।
উত্তর "দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন"-উক্তিটির পক্ষে আমি একমত।
ইতিহাস হচ্ছে মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ। যে কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক বই পড়া প্রয়োজন। ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে মানুষ নিজের ও নিজ দেশের মঙ্গল-অমঙ্গল সম্পর্কে পূর্বাভাস পেতে পারে। তাই অতীতকে জানতে এবং বর্তমান চলার পথকে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ করার জন্য প্রত্যেককে ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন। ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে জানা যায়, একটি দেশ পূর্বে কেমন ছিল বর্তমান কেমন আছে, ওই দেশের জনসংখ্যা, তাদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি কেমন ছিল বর্তমানে কেমন আছে। কোনো জাতির উত্থান-পতন এবং পতনের কারণগুলো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকে। ইতিহাস মানুষকে সফল সংগ্রামী, গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক এবং দেশপ্রেমী, আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করে। সর্বোপরি দেশ ও জাতির উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থে এবং জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সুতরাং বলা যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
৩২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
উত্তর ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজগার্ডেনে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়।
'আওয়ামী' শব্দের অর্থ আমজনতা এবং লীগ শব্দের অর্থ দল। তাই আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা। শুরু থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিল অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী। তাই দলের নাম থেকে সাম্প্রদায়িক 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। ১৯৫৫ সালে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নাম পরিবর্তন করে 'আওয়ামী লীগ' নাম ধারণ এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য এর দ্বার খুলে দেওয়া হয়।
উত্তর উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত বহন করে।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি গণবিক্ষোভ শুরু হয়। জনতা শহিদদের জন্য শোক মিছিল বের করে। আবারও মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে। এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহিদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন। যে স্থানে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সেখানে ছাত্ররা সারারাত জেগে ২৩শে ফেব্রুয়ারি একটি স্মৃতিস্তম্ভ বা শহিদ মিনার নির্মাণ করেন। পরে পুলিশ শহিদ মিনারটি ভেঙে দেয়। ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী শহিদ মিনারের স্থলে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশা ও পরিকল্পনায় শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহিদ মিনার ভেঙে দিলে ১৯৭২ সালে সে নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিবছর ভাষা শহিদদের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে আমরা ভাষা শহিদদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
উত্তর উদ্দীপকের নির্দেশিত আন্দোলন অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের মাঝেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল- এ উক্তির সাথে আমি একমত।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল, পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। ভাষা আন্দোলনের পথ পেরিয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০-এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এ দেশের সূর্য সন্তানরা। ভাষা আন্দোলন যে বীজমন্ত্র বপন করেছিল তা স্বাধীনতা আন্দোলনে আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে প্রবল স্বজাত্যবোধ জাগিয়ে তুলেছিল। এ চেতনার ফলে জাগ্রত হয়েছিল বাঙালির জাতীয়তাবোধ।
১৩২টি প্রশ্নের মধ্যে ৩২টি দেখানো হচ্ছে
আর কোনো প্রশ্ন নেই