দৃশ্যকল্প-২ : রাজেশ বাবার বড় ছেলে এবং তারা চার ভাই। তাঁর বাবার তিন স্ত্রী। সৎ মায়ের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে রাজেশ স্ত্রীসহ বাবার সকল সম্পত্তি রেখে অন্যত্র চলে যান। ভাই নির্মল সঙ্গি হয়ে সব সময় ভাই রাজেশকে ছায়ার মতো ঘিরে রাখে।
দৃশ্যকল্প-২ : সম্প্রতি বন্যায় ডিমলা উপজেলার লাউতারা গ্রামের মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলিক্ষেত ও রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এমন পরিস্থিতে বিকাশ বাবু নিজ উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড় ও মোমবাতি সংগ্রহ করে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করেন।
সহজাত কিছু প্রবৃত্তি নিয়ে মানুষ জন্মগ্রহণ করে। এই প্রবৃত্তিগুলো পশু-পাখির মাঝেও থাকে। তবে মানবতা গুণ দ্বারা মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে আলাদা করা যায়। এই গুণের কারণেই মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়।
তরণীসেন এক সৎসাহসী বারো বছরের বালক। সে ছিল রাক্ষসরাজ রাবণের ভাই বিভীষণের পুত্র। রাক্ষস বাহিনীর সাথে রাম-লক্ষ্মণের ভীষণ যুদ্ধ হচ্ছে এবং এ যুদ্ধে রাক্ষস বাহিনী পরাজিত হচ্ছে- এ খবর পেয়ে বালক তরণীসেন সাহস করে রথ নিয়ে যুদ্ধ করতে আসে।
রণক্ষেত্রে তার বাণের আঘাতে রামের পক্ষের অনেক বানর সৈন্য আহত হয়।
তরণীসেনের এ সৎসাহস দেখে রামচন্দ্র বিস্মিত হন। এ কারণে রণক্ষেত্রে তরণীসেনের মৃত্যুর পর তিনি তাকে আশীর্বাদ করেন। রামচন্দ্রের আশীর্বাদে তরণীসেন রাক্ষস দেহ পরিত্যাগ করে দিব্যদেহ ধারণ করে বৈকুণ্ঠে চলে যায়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, তরণীসেন বালক হওয়া সত্ত্বেও যে সৎসাহস ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে ইতিহাসে তা অম্লান। সে দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য সৎসাহস নিয়ে রাম-লক্ষ্মণের শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে দৃঢ় চিত্তে যুদ্ধ করে। বীরের মতো লড়ে তরণীসেন প্রাণ বিসর্জন দেয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, অমীয় যে বাড়িতে পড়াতে যায় সে বাড়ি থেকে প্রায়ই গৃহপরিচারিকার কান্নাকাটির আওয়াজ শুনতে পায়। একদিন অমীয় গিয়ে দেখে সুমন বাবুর স্ত্রী সেই পরিচারিকাকে শারীরিকভাবে প্রহার করছে। তখন সে দেরী না করে সাথে সাথে প্রতিবাদ জানায়। দৃশ্যকল্প-১ এ অমীয় এর চরিত্রে সৎসাহসের দিকটি ফুটে উঠেছে। পাঠ্যপুস্তকের তরণীসেনের সৎসাহসের মতো অমীয় এর চরিত্রেও সৎসাহসের দিকটি প্রখরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
মানবতা মানুষের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ এবং এটি ধর্মের অঙ্গ। মহত্ত্বের উৎসই হচ্ছে মানবতা। মানবতার কারণেই মানুষ অন্যান্য জীবজন্তু থেকে আলাদা। অসহায়কে সাহায্য করা, নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনে বস্ত্র, তৃষ্ণার্তকে জল, দৃষ্টিহীনে দৃষ্টি, রুগ্নকে ওষুধ, গৃহহীনে গৃহ, শোকার্তকে সান্ত্বনা দান করা মানবতারই আরেক নাম। এসব কাজের মাধ্যমে মানবতা নামক গুণের প্রকাশ পায়। মানবতা গুণের দ্বারা মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। যারা এ নৈতিক গুণের অধিকারী তারা শিবজ্ঞানে জীবের সেবা করেন। তারা জানেন জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন। তাই জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়, ধর্ম সাধন হয়।
দৃশ্যকল্প-২ এ দেখা যায়, বিকাশবাবু ডিমলা উপজেলার লাউতারা গ্রামের বন্যার্ত মানুষদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি নিজ উদ্যোগে বন্যার্তদের চিড়া, মুড়ি, গুড় সংগ্রহ করে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণ করেন। বিকাশ বাবুর মধ্যে ধর্মের মানবতাবোধের তীব্র লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, বিকাশবাবু মানবতাবোধের একটি উজ্জ্বল প্রতীক।
রন্তিবর্মা নামে এক প্রজাবৎসল ও কৃষ্ণভক্ত রাজা ছিলেন। তিনি শুধু রাজা ছিলেন না, ছিলেন রাজার রাজা, মহারাজা, সম্রাট। সম্রাট হয়েও রন্তিবর্মা পার্থিব বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন। শ্রীকৃষ্ণের চরণকেই তিনি একমাত্র সম্পদ বলে জ্ঞান করেন। শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে তিনি একবার অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেন। অযাচক বৃত্তি হলো কারও কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেবে তাই দিয়েই দিন যাপন করতে হবে। অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করার পর একে একে আটচল্লিশ দিন কেটে গেছে। এই আটচল্লিশ দিনে কেউ তাঁকে কিছু দেয়নি। তিনিও খেতে চাননি। ঊনপঞ্চাশতম দিবসে একভক্ত তাকে একটি থালায় করে কিছু খাবার দিয়ে গেলেন। এবার তার উপবাস ভঙ্গ হবে। হঠাৎ তার সামনে একজন ভিক্ষুক উপস্থিত সাথে একটি কুকুর। উভয়ের শরীর খুবই কাহিল। দেখেই দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতদিন কিছুই খায়নি। ক্ষুধার্ত লোকটির করুণ অবস্থা দেখে রাজা রন্তিবর্মার চোখে জল এলো। রাজা কিছুক্ষণ পূর্বে যে খাবার ভিক্ষা পেয়েছেন এর সবটাই ভিক্ষুক ও তার কুকুরটিকে দিয়ে দিলেন। এরই নাম মানবতাবোধ।
পরিশেষে বলা যায় যে, ছক-১ এ প্রদত্ত কামিনী রায়ের কবিতাংশের সাথে রাজা রন্তিবর্মার মানবতার চরিত্রের মিল রয়েছে।
সৎসাহসের প্রভাবে সমাজ উপকৃত হয়। কারণ সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজের, দেশের, জাতির জন্য বিভিন্ন ধরনের কল্যাণকর বা মঙ্গলজনক কাজ করেন।
সৎসাহস একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মের অঙ্গ। নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশের মঙ্গলের জন্য বা কোনো ভালো কাজের জন্য যে ব্যক্তি নিজের শক্তি দ্বারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে বা সাহস প্রদর্শন করে তাকেই সৎসাহস বলে। সৎসাহস দ্বারা সমাজ প্রভাবিত হয়। কেননা সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার। তারা সমাজের, দেশের ও জাতির যেকোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেন না।
তারা সব সময় অন্যের জন্য কাজ করেন। অন্যের মঙ্গল চিন্তা করেন।
সৎসাহসী ব্যক্তি দুর্বলকে বা অত্যাচারিত ব্যক্তিকে অত্যাচারীর কবল থেকে রক্ষা করেন এবং অত্যাচারীকে প্রতিহত করেন। ধর্ম রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা বীরের ধর্ম। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সৎসাহস দেখানো বীরের কর্তব্য। দ্বাদশবর্ষীয় বালক হয়েও বিভীষণ পুত্র তরণীসেন যুদ্ধক্ষেত্রে সৎসাহস দেখিয়েছিলেন।
জাগো লক্ষ্মী মায়ের দল
তোমরা না জাগিলে মাগো দেশের অমঙ্গল।
মাদার তেরেসা সারা বিশ্বের কাছে অতিপরিচিত একটি নাম। তিনি আজীবন সমাজসেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে সেখানে গরীব, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের সেবা প্রদান করতেন।
চরকই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়।
স্বামী বিবেকানন্দ নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। নারীশিক্ষাকে তিনি জোরের সঙ্গে সমর্থন করতেন। বৈদিক যুগের মৈত্রেয়ী, গার্গী প্রমুখ বিদুষী নারীদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “সেই যুগে নারীরা যদি এত শিক্ষা লাভ করতে পারে, তাহলে এ যুগের নারীরা তা পারবে না কেন?” তাঁর মতে, যে জাতি নারীদের সম্মান দেয় না সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। এমনকি আধ্যাত্ম সাধনায় নারীরা যাতে সুযোগ পায় এবং এগিয়ে আসে তাঁর জন্য তিনি সারদা দেবীর পরিচালনায় নারীদের জন্য একটি মঠ প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা করেছিলেন। বাল্যবিবাহকে তিনি ঘৃণা করতেন। শুধু তা-ই নয়; তিনি বলেছেন, "ইচ্ছা না থাকলে বিবাহ না করার স্বাধীনতা সকল স্ত্রীলোকের স্বাভাবিক অধিকার বলিয়া গণ্য হওয়া উচিত।"
উদ্দীপকের মহারাজও নারী শিক্ষা, নারীর অধিকারে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি নারীদের সমাজের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করার আহবান জানান। এতে করে দেশের মঙ্গল হবে। তাই মহারাজের মতাদর্শ ও স্বামী বিবেকানন্দের মতাদর্শ সাদৃশ্যপূর্ণ।
শ্রীমা ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সাধক এবং মহীয়সী নারী। মায়ের এক অভাবনীয় পরিকল্পনা ছিল শ্রীঅরবিন্দের নামে অরোভিল নগর প্রতিষ্ঠা। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন। এর জন্য পন্ডিচেরীর উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ছয় মাইল দূরে সমুদ্র উপকূলে ১৫ বর্গমাইল ভূমি সংগ্রহ করা হয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে ফ্রেব্রুয়ারি এর ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ভিত্তিমূলে পৃথিবীর ১২৬টি দেশের মাটি এনে জড় করা হয়। ঐসব দেশের তরুণ-তরুণীরা এ মাটি নিয়ে আসেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি মায়ের শুভ জন্মদিনে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
মায়ের পরিকল্পনা ছিল, অরোভিল হবে একটি আধুনিক নগর। এখানে প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক বাস করবে। সবাই হবে এক পরিবারের সদস্য। এখানে আধুনিক নগরের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, দর্শন, আধ্যাত্মিক সাধনা সবকিছুর চর্চা হবে এখানে। অরোভিল হবে সমগ্র বিশ্বমানবের। আন্তর্জাতিক মানব-ঐক্যের জীবন ল্যাবরেটরি। এটি হবে একটি আত্মনির্ভরশীল জনপদ। এখানকার সকলেই হবে এর জীবনযাত্রা ও উন্নতির অংশীদার। তারাই নানাভাবে এর সকল কাজ করবে। কাউকে খাজনা দিতে হবে না। কাউকে খাবার ভাবনা ভাবতে হবে না। সকলকে খাওয়াবার দায়িত্ব এই প্রতিষ্ঠানই গ্রহণ করবে। সকল দেশেরই আচার-ব্যবহার ও খাদ্যরীতি সম্পূর্ণই বজায় রাখা হবে। অরোভিল হবে সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে একমাত্র সত্যের সেবা।
মায়ের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অরোভিল নগর সত্যিই গড়ে উঠেছে। ২০০৬ খ্রিষ্ঠাব্দে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেখানকার অধিবাসীরা মায়ের আদর্শকে শিরোধার্য করে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন।
আধুনিক গবেষকদের মতো সুব্রত খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন। তিনি বর্তমান বারাণসী নগরে গঙ্গার তীরে বসবাস করতেন এবং চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা করতেন। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি ও ১২০টি অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন।
নিতাই যখন নবদ্বীপে হরিনাম প্রচার করে এবং কীর্তন করে বেড়াতেন তখন গৌর নিতাইয়ের প্রেমধর্ম প্রচারে কেউ কেউ বাধা দিতে লাগলেন। তখন নবদ্বীপে জগাই-মাধাই নামে দুই মদ্যপ এবং ভয়ঙ্কর প্রকৃতির সহোদর ছিলেন। তারা নগর কোতোয়াল বলে কেউ তাদের কিছু বলার সাহস পেত না। নিতাই একদিন কৃষ্ণনাম করে ফিরছেন তখন মাধাই নিতাইয়ের দিকে কলসির কানা ছুঁড়ে মারলেন, এতে নিতাইয়ের কপাল কেটে দরদর করে রক্ত পড়তে লাগল। নিতাই এক হাতে কপাল ধরে কৃষ্ণনাম গাইতে লাগলেন। পরবর্তী সময় নিত্যানন্দ জগাই-মাধাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে তাদের কৃষ্ণনামে দীক্ষা দেন।
সুতরাং বলা যায়, সন্ন্যাসীর বৈশিষ্ট্য প্রভু নিত্যানন্দের মতাদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ।
ধর্মীয় ও পারিবারিক জীবনে সাধক রামকুমারের জীবন দর্শনের সাথে শ্রীশঙ্করাচার্যের জীবন দর্শনের মিল রয়েছে। শ্রীশঙ্কারাচার্যের জীবন দর্শন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
যে সকল ক্ষণজন্মা মনীষী তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন তাদের মধ্যে শ্রীশঙ্করাচার্য অন্যতম। পণ্ডিতরা কোষ্ঠী দেখে তার স্বল্প আয়ুর কথা বললে তিনি ব্রহ্ম সাধনায় বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ধর্মগুরু হিসেবে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন। তিনি পুণ্যধাম বারাণসীতে আসেন এবং সেখানে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তার ধর্মের মূলকথা 'অদ্বৈতবাদ'। তিনি বলেন, 'ব্রহ্ম সত্য, জগত মিথ্যা জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।'
শঙ্করাচার্য যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক জীবন যেমন বিপর্যস্ত ছিল, ধর্মীয় জীবনও তেমনি বিপর্যস্ত ছিল। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে নানা কুসংস্কার ঢুকে পড়েছিল। হিন্দুধর্মও ম্লান হয়ে পড়েছিল। সমাজে বেদের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ যাগ-যজ্ঞের প্রাধান্য বেড়ে গিয়েছিল। শঙ্কারচার্য তার অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধর্মের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন। 'জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই' এ কথা বলে তিনি মানুষের প্রতি মানুষের, এমনকি জীবের প্রতিও মানুষের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়। এটা শঙ্করাচার্যের একটা বড় অবদান। শুধু তা-ই নয়, তিনি যে ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য ও বেদান্তভাষ্য রচনা করেছেন তা হিন্দু ধর্ম ও দর্শন চর্চার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ অবদান। এছাড়া তিনি সাধারণ মানুষের জন্য মোহমুদগর, আনন্দলহরী, শিবস্তব, গোবিন্দাষ্টক প্রভৃতি গ্রন্থও রচনা করে গেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, শঙ্করাচার্য ও রামকুমারের জীবন দর্শন সমাজ ও দেশের জন্য মঙ্গলজনক ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।
আদিতে এ মহাবিশ্ব ছিল না। তখন সব ছিল অন্ধকার। তারপর এলো আলো, জল এবং জলের পরে পৃথিবী। পৃথিবীর পরে এলো গাছপালা, কীট-পতঙ্গ, জীবজন্তু, মানবকুল প্রভৃতি। এ সবকিছুর মূলে রয়েছেন ঈশ্বর। তাই ঈশ্বরকে আদি শক্তি বলা হয়।
দেব-দেবীরা হলেন ঈশ্বরের সাকার রূপ। ঈশ্বর এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ধ্বংসকর্তা। তিনি নিরাকার, আবার প্রয়োজনে সাকার রূপও ধারণ করেন। ঈশ্বর যখন নিজের কোনো গুণ বা ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ আকার বা রূপে প্রকাশ করেন তখন তাদেরকে দেব-দেবী বলা হয়। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী ইত্যাদি। সাকার বা প্রতীক উপাসনা বিভিন্ন দেব-দেবীকে খুশি করার জন্য করা হয়। এ সময় দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি করে তার সামনে পূজা করা হয়।
উদ্দীপকে তুষার বাবুর উপাসনা পদ্ধতি বিভিন্ন দেব-দেবী বা প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়। দেব-দেবীগণ পরিপূর্ণ ঈশ্বর নন, তাঁরা হলেন ঈশ্বরের এক একটি গুণ বা শক্তি। এ ধরনের উপাসনাকে সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামে পরিচিত। সগুণরূপে ঈশ্বর সাকাররূপে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি প্রকৃতিতে প্রকাশিত পূজা করাকে সগুণ উপাসনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হ্যাঁ, পলাশ বাবুর কর্মকাণ্ড ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের সহায়ক।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পলাশ বাবু একজন পরোপকারী ব্যক্তি তিনি অসহায় পশু-পাখির যত্ন করেন, খাবার দেন ও গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করেন। তাছাড়া জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, ঈশ্বর জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়।
সাধারণ অর্থে 'সেবা' বলতে পরিচর্যা করা বোঝায়। যেমন- অতিথি সেবা, জীবসেবা, ঈশ্বর সেবা প্রভৃতি। অপরের সন্তোষ বিধানের জন্য দেহ ও মনের সমন্বয়ে কল্যাণকর যে কাজ করা হয় তাকে সেবা বলে। জীবসেবা বলতে জীবের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করাকে বোঝায়। এ ছাড়াও বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সহানুভূতি জানিয়ে, বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে নানাভাবে সেবা করা যায়। আমরা জীবের সেবা করব কেন? আমরা জানি, ঈশ্বর জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে ঈশ্বরকে সেবা করা হয়। জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। 'যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ'। অর্থাৎ যেখানে জীব সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরের কথাই বোঝানো হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন :
'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।'
এ কথার তাৎপর্য এই যে, বহুরূপে অর্থাৎ বহুজীবরূপে ঈশ্বর আমাদের সম্মুখেই আছেন। তাই তাঁকে খুঁজে বেড়ানোর দরকার নেই। যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করেন। সুতরাং বলা যায়, পলাশ বাবুর কর্মকাণ্ড ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের সহায়ক।
বর-কনের স্ব স্ব বাড়িতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত হয়। বর বা কনেকে একটি আসনের উপর বসানো হয়। বড়রা ধান, দূর্বা প্রভৃতি দিয়ে আশির্বাদ করে আর ছোটরা নমস্কার করে গালে, কপালে, হাতে হলুদ মাখিয়ে দেয়। সাথে সাথে মিষ্টিমুখও করানো হয়।
'অশৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে অশৌচ হয়। মাতা-পিতার মৃত্যুর পর অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়। এ সময় কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়। অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচ পালনের দিন সংখ্যা বেশি। ব্রাহ্মণের দশদিন, ক্ষত্রিয়ের বারো দিন, বৈশ্যের পনেরো দিন এবং শূদ্রের ত্রিশ দিন অশৌচ পালনের বিধান আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রীতমের বাবা পরলোক গমনের পর প্রীতম স্বল্প সময় ফলাহার করে একটি ঔষধি গাছ রোপণ করে তাতে পানি ও দুধ দেয়। যা অশৌচ ধারণাটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, প্রিতমের কর্মকাণ্ডে অশৌচ ধারণাটি প্রতিফলিত হয়েছে।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে মানুষের পুরো জীবনে যে দশটি সংস্কার বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে বিবাহের সংস্কারটি শ্রেষ্ঠ। কেননা বিবাহের মাধ্যমে সংসারধর্ম পালন করা যায়। সংসারধর্ম হলো ধর্মীয় জীবনের চর্চা। স্ত্রী হচ্ছে পুরুষের সহধর্মিণী। স্ত্রীকে বাদ দিয়ে পুরুষের কোনো ধর্মকার্যই সম্পন্ন হয় না। সংসারধর্ম পালনের মাধ্যমে পুরুষ সন্তানের জনকরূপে লাভ করেন পিতৃত্ব এবং নারী জননীরূপে লাভকরেন মাতৃত্ব। সংসারধর্ম পালনের মাধ্যমেই পৃথিবীর বুকে মাতা, পিতা, কন্যা নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার।
এই সংসারকে কেন্দ্র করেই প্রেম-প্রীতি, স্নেহ, বাৎসল্য প্রভৃতি মানবমনের সুকুমার বৃত্তিগুলো পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হয়। সংসারধর্ম বলতে বিবাহের পরবর্তী জীবনকেই বোঝায়। এই সময় স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সকলের প্রতি পুরুষের প্রেম-প্রীতি, ইত্যাদি প্রকাশ পায়। সংসারধর্ম পালনের সময় পিতা-মাতাকে পরিবারের ভরণ-পোষণের সমস্ত দায়িত্ব নিতে হয়। এর মধ্য দিয়ে সংসারের প্রতি তাদের সকল দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। তাই সংসারধর্ম পালনের সময় একজন মানুষের মানবিকতার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটে। আর এভাবে গড়ে ওঠে আলোকিত মানুষ।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বিবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিবাহের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের পূর্ণতা আসে।
নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তাকে ধ্যান বলা হয়।
ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তাঁর আর কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তাঁর আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।
গরুড়াসন অনুশীলনকালে দেহভঙ্গি গরুড়-এর মতো হয় বলে একে গরুড়াসন বলা হয়। এ আসন অনুশীলন পদ্ধতিটি হলো- দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে। এবার বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে। তারপর স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হবে। এ অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। হাত পা বদল করে আসনটি ৪ বার অভ্যাস করতে হবে এবং শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। চিত্র-১ এর চিত্রটির সাথে গরুড়াসন অনুশীলনকালের দেহভঙ্গির মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, চিত্র-১ এ নির্দেশিত আসনটি হলো গরুড়াসন। এ আসন অনুশীলনের অনেক উপকারিতা রয়েছে।
য হলাসন নিয়মিত অনুশীলনে শারীরিক সমস্যা দূরীভূত হয় এবং সুস্থ, সুন্দর, জীনযাপন করা যায়। নিয়মিত হলাসন অনুশীলনে মেরুদণ্ড নমনীয় ও সুস্থ থাকে, মেরুদণ্ডের স্থিতি স্থাপকতা বজায় থাকে, স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদণ্ডের দু'পাশে পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়। পিঠে ব্যথা থাকলে তা দূর হয়, কাঁধ শক্ত হয়ে গেলে হলাসন চর্চা করলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ডায়াবেটিকস থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, বৃক্কের ও পেটের বিভিন্ন সমস্যার থেকে মুক্তি হয়। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, হলাসন চর্চার মাধ্যমে দেহের সুস্থতা অর্জন করা যায় এবং এতে উপকারিতা পাওয়া রয়েছে। এর ফলে শরীর সুস্থ থাকবে পাশাপাশি মন সতেজ থাকবে এবং সকল কাজ কর্মে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, সঠিক নিয়মে হলাসন চর্চা করে শারীরিক ও মানসিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন ও আত্মিক প্রশান্তি অনুভব সম্ভব।
দৃশ্যকল্প-২ : অনিক কিছুদিন যাবৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় বন্ধুদের নিকট শিক্ষক জানতে পারেন, সে শ্বাসকষ্টজনিত বক্ষরোগে আক্রান্ত হয়ে বক্ষরোগ নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসারত আছে।
কোনো বিষয়ে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না পাওয়া গেলে মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সে পথেই চলতে হবে। আবহমান কাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুশীলিত আচরণই সদাচার। ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে সদাচার তৃতীয় প্রমাণ।
সততা একটি ব্যক্তির গৌরবের মুকুট স্বরূপ। সৎ ব্যক্তিকে সকলে ভালোবাসে। শ্রদ্ধা করে। অসৎ ব্যক্তিকে সকলে ঘৃণা করে। কেউ তাকে ভালোবাসে না। সততা ও ন্যায়পরায়ণতার চর্চা যে দেশে হয়, সে দেশ সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারে। সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা। একথা আমরা মনে রাখব এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততার পরিচয় দেব।
দৃশ্যকল্প-১: কৃষাণু দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ বাবু কৃষাণুকে চাকরি দেন তার অফিসে। মালিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে তার অফিসের সকল টাকা-পয়সার লেনদেন নিষ্ঠার সহিত পালন করেন। যা পাঠ্যবইয়ের সততা গুণটির সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, কৃষাণুর চরিত্রে সততা গুণটি ফুটে উঠেছে।
পারিবারিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে অনিককে মাদকাসক্তি প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পরিবারই সমাজের প্রথম স্তর। পারিবারিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ গোটা পরিবারের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। পরিবারের সকল সদস্যকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে আমাদের দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করছেন। সুতরাং এ দেহ ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের মন্দির। তাকে কোনোভাবেই অপবিত্র করা চলবে না। দ্বিতীয়ত, হিন্দুধর্ম অনুসারে মাদকাসক্তি ঘোরতর পাপ সমূহের অন্যতম। কেবল মাদকাসক্তই পাপী নন, যাঁরা তাঁর সঙ্গ করেন, তাঁরাও পাপী। কারণ মাদকাসক্তের পাপ তাঁদেরও স্পর্শ করে।
মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনাও একটি পারিবারিক কর্তব্য। সন্তানদের গড়ে তোলা পিতা-মাতার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই লক্ষ রাখা প্রয়োজন সন্তানেরা কেমন করে তাদের দৈনন্দিন জীবনটা অতিবাহিত করছে। সন্তানদের কেবল শাসন নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
উদ্বুদ্ধ করতে হবে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে। আমরা ধর্মীয় কল্যাণ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মহত্তর সাধনায় লিপ্ত থাকব। পারিবারিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের আলোকে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জীবন হবে পবিত্রতার আলোকে উদ্ভাসিত। তবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে কেবল শাসনের আকারে নয়, দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। তাকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়। মানুষের চিকিৎসা শুরুর অল্প কিছুদিনের মধ্যে চরক সুচিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। চরকই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। চরক এ-ও বলেছেন- রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি।
শ্রীরামকৃষ্ণ মানুষের জাতি, কুল, মান, শিক্ষা প্রতিপত্তি ইত্যাদি দেখতেন না। তিনি দেখতেন মানুষের অন্তর। তাই তার কাছে উঁচু-নীচু সব শ্রেণির মানুষ আসত। তাইতো দক্ষিণেশ্বর মন্দির সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তার বাণী শুধু মুখের কথা নয় সেগুলো তার জীবনচর্চায় রূপায়িত সত্য। তিনি অহংকারশূন্য হয়ে জীবকে শিবজ্ঞানে সেবা করেছেন। দরিদ্রদের দেখলে তার মন কাঁদত। একবার তিনি তীর্থ দর্শনে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে রানি রাসমণির জামাতা মথুরবাবু। তারা তখন দেওঘরে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে শ্রীরামকৃষ্ণ মনে খুব ব্যথা পেলেন। তিনি মথুরবাবুকে বললেন, দরিদ্র নারায়ণের সেবার ব্যবস্থা করতে। শ্রীরামকৃষ্ণের এই যে উদার মনোভাব, এর দ্বারা ভারতের লোকজন দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তার কাছে এসেছেন। তার অমৃত বাণী শ্রবণ করেছেন। অন্তরে পরম শান্তি পেয়েছেন।
উদ্দীপকে সঞ্জয় বাবু মাতৃমূর্তির সাধনা করেন। তার কাছে জাতি বা বর্ণভেদের প্রাধান্য ছিল না। তিনি সবসময় মাতৃ আরাধনায় মগ্ন থাকতেন। এসব কর্মকাণ্ড শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, সঞ্জয় বাবুর সাথে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের মিল রয়েছে।
মীরাবাঈয়ের জীবনের শিক্ষাটি পাঠ্যপুস্তকে আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে তুলি দেবীর ধনাঢ্য পরিবারে বিয়ে হয়েছে। স্বামীর প্রচুর সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে ভগবানের গুণগান করে জীবন অতিবাহিত করেন। যা মীরাবাঈ এর সাথে মিল রয়েছে। বালিকা বয়সের মীরা ভক্তিরসাত্মক ভজন রচনায় অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দেন। একবার এক সাধু মীরাকে একটি গিরিধারী গোপালের বিগ্রহ দেন। তিনি প্রতিদিন বিগ্রহে পূজা দিতেন। তাই ছোটবেলা থেকেই কৃষ্ণের প্রতি মীরার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। মীরার শ্বশুর বাড়িতে কোনো কিছুর অভাব নেই। রাণা সংগ্রামসিংহের মতো শ্বশুর। ভোজরাজের মতো সুযোগ্য স্বামী। অতুল ঐশ্বর্য। অসংখ্য দাস-দাসী। কিন্তু এসবের প্রতি মীরার কোনো আসক্তি নেই। জীবনে তাঁর একমাত্র কাম্য বস্তু হলো কৃষ্ণপ্রেম আর গিরিধারীলালের সাক্ষাৎ লাভ। তিনি শুধু সাধন-ভজন নিয়েই থাকেন। ক্রমশ মীরার মধ্যে কৃষ্ণপ্রেমের ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পায়। মীরাবাঈয়ের স্বামী ভোজরাজ মারা যাওয়ার পর তিনি বৃন্দাবনে চলে আসেন। বৃন্দাবনে এসে মীরা তীব্রভাবে প্রেমভক্তিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দিকে দিকে তাঁর নাম প্রচারিত হয়।
মীরাবাঈয়ের জীবনী থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে, যাঁরা প্রকৃত সাধক তাঁরা জাগতিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যান। দৈহিক রূপ-লাবণ্য, পার্থিব বিষয়-আশয়, সুখ-সাচ্ছন্দ্য তাঁদের চিত্তকে আকর্ষণ করে না। সবকিছু ছেড়ে তাঁরা কাম্য বস্তুকে লাভ করার জন্য একাগ্রচিত্তে সাধনা করেন। সে সাধনায় তাঁরা সফলও হন।
উপরে বর্ণীত তুলি দেবীর জীবনের শিক্ষা ও মীরাবাঈ-এর জীবনী পড়লে আমরা ভক্তিবাদের যে শিক্ষা পাই তা মূলত একই সূত্রে গাঁথা।
চরকই প্রথম মানব দেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন। তিনি শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনটি 'দোষ' বা উপাদানের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো- বাত, পিত্ত ও কফ। এই তিনটির সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়। আর সামঞ্জস্য ফিরে এলে শরীর সুস্থ হয়। চরক এ-ও বলেছেন রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। তিনি রোগীর চিকিৎসার পূর্বে রোগের কারণসমূহ এবং পরিবেশ সম্পর্কে যথার্থরূপে ভাবতে বলেছেন।
যে সকল ক্ষণজন্মা মনীষী তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন তাদের মধ্যে শ্রীশঙ্করাচার্য অন্যতম। পণ্ডিতরা কোষ্ঠী দেখে তার স্বল্প আয়ুর কথা বললে তিনি ব্রহ্ম সাধনায় বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ধর্মগুরু হিসেবে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন। তিনি পুণ্যধাম বারাণসীতে আসেন এবং সেখানে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তার ধর্মের মূলকথা 'অদ্বৈতবাদ'। তিনি বলেন, 'ব্রহ্ম সত্য, জগত মিথ্যা জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।'
শঙ্করাচার্য যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক জীবন যেমন বিপর্যস্ত ছিল, ধর্মীয় জীবনও তেমনি বিপর্যস্ত ছিল। জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে নানা কুসংস্কার ঢুকে পড়েছিল। হিন্দুধর্মও ম্লান হয়ে পড়েছিল। সমাজে বেদের কর্মকাণ্ড অর্থাৎ যাগ-যজ্ঞের প্রাধান্য বেড়ে গিয়েছিল। শঙ্কারচার্য তার অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধর্মের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন। 'জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই' এ কথা বলে তিনি মানুষের প্রতি মানুষের, এমনকি জীবের প্রতিও মানুষের ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়। এটা শঙ্করাচার্যের একটা বড় অবদান। শুধু তা-ই নয়, তিনি যে ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য ও বেদান্তভাষ্য রচনা করেছেন তা হিন্দু ধর্ম ও দর্শন চর্চার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ অবদান। এছাড়া তিনি সাধারণ মানুষের জন্য মোহমুদগর, আনন্দলহরী, শিবস্তব, গোবিন্দাষ্টক প্রভৃতি গ্রন্থও রচনা করে গেছেন।
১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বিবেকানন্দ আমেরিকা যান এবং শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতা দেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, 'হিন্দুধর্ম পৃথিবীর সকল ধর্মকে সমান সত্য মনে করে। সব ধর্মেরই লক্ষ্য এক। নদীসমূহ যেমন এক সাগরে গিয়ে মিলিত হয়, তেমনি সকল ধর্মেরই লক্ষ্য এক-ঈশ্বরলাভ। তাই বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়, সমন্বয় ও শান্তি।' তিনি আরো বলেন, 'খ্রিষ্টানকে হিন্দু বা বৌদ্ধ হতে হবে না; অথবা হিন্দু বা বৌদ্ধকে খ্রিষ্টান হতে হবে না; কিন্তু প্রত্যেক ধর্মই অন্যান্য ধর্মের ভাগগুলো গ্রহণ করে পুষ্টিলাভ করবে এবং নিজস্ব বিশেষত্ব বজায় রেখে নিজ প্রকৃতি অনুসারে বিকাশলাভ করবে।' বিবেকানন্দের এই বক্তৃতায় সবাই মুগ্ধ হন। ধর্মসভার বিচারে তিনি হন শ্রেষ্ঠ বক্তা।
বিবেকানন্দের বিপুল অধ্যাত্মশক্তি ও কর্মব্রতের মধ্য দিয়ে ভারতের আত্মা সেদিন জেগে উঠেছিল। দেশের ধর্মক্ষেত্রে ও সমাজজীবনে জেগেছিল এক নতুন প্রাণস্পন্দন। আত্মবিস্মৃত জাতি সেদিন দেশের সনাতন ধর্মজীবন থেকে প্রাণরস আহরণে প্রবৃত্ত হয়ে উঠেছিল। ভারতের অন্তর্নিহিত ঐক্যবোধ জাতীয় জীবনে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, ভারতবাসীর জীবন ও হিন্দুধর্ম প্রচারে স্বামী বিবেকানন্দের অবদান অনস্বীকার্য।
দৃশ্যকল্প-২ : দুর্গাপুর গ্রামে শান্ত নামে এক ছেলে জন্মগ্রহণ করে। ছাত্র হিসেবে তার ছিল অসাধারণ মেধা। ধর্মের প্রতি তার ছিল প্রচণ্ড অনুরাগ। মাত্র ১২ বছর বয়সে সে সংসার ত্যাগ করে এক সাধুর সাথে সন্ন্যাস যাত্রা করে।
মীরা ছিলেন তাঁর পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। তাই খুব আদর-যত্নে তিনি লালিত-পালিত হচ্ছিলেন। কিন্তু মাত্র আট বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান। ফলে তাঁর জীবনে একটা ছন্দপতন ঘটে। পিতা রত্নসিংহ মেয়েকে নিয়ে অনেকটা বিপদে পড়েন। তখন পিতামহ রাও দুধাজী মীরাকে নিজের কাছে নিয়ে যান। পরম যত্নে তাঁকে লালন-পালন করতে থাকেন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মজীবনের একটা আদর্শ মীরার হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায়। বালিকা বয়সেই মীরা ভক্তিরসাত্মক ভজন রচনায় অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দেন। চতুর্ভুজজীর মন্দিরের দেয়ালে মীরার কয়েকটি উৎকৃষ্ট ভজন উৎকীর্ণ আছে। মীরার শ্বশুরবাড়িতে কোনো কিছুর অভাব নেই। রাণা সংগ্রামসিংহের মতো শ্বশুর। ভোজরাজের মতো সুযোগ্য স্বামী। অতুল ঐশ্বর্য। অসংখ্য দাস-দাসী। কিন্তু এ-সবের প্রতি মীরার কোনো আসক্তি নেই। জীবনে তাঁর একমাত্র কাম্য বস্তু হলে কৃষ্ণপ্রেম আর গিরিধারীলালের সাক্ষাৎ লাভ। তিনি শুধু সাধন-ভজন নিয়েই থাকেন। প্রসাদে কোনো সাধু-সন্ত এলে ছুটে যেতেন তাঁর কাছে। একমনে হরিকথা শুনতেন। কখনো কখনো ভাবাবিষ্ট হয়ে নিজের কণ্ঠেই শুরু করতেন ভজন গান। শেষ পর্যন্ত মীরা বৃন্দাবনে চলে যান। বৃন্দাবনে এসে মীরা তীব্রভাবে প্রেমভক্তিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দিকে দিকে তাঁর নাম প্রচারিত হয়। রাজস্থানও উত্তর-পশ্চিম ভারতে মীরার নাম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। কৃষ্ণ ভক্তিপরায়ণা মীরাবাঈ ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ভগবান প্রাপ্তির পথপ্রদর্শন করেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সীমা দেবীর সাথে পাঠ্যবইয়ের মীরাবাঈ এর চরিত্র একেবারে সাদৃশ্যপূর্ণ।
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত মহাপুরুষ হলে প্রভু নিত্যানন্দ। নিম্নে মহাপুরুষের সাধন জীবন বিশ্লেষন করা হলো-
নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। ছাত্র হিসেবে তিনি মেধাবী ছিলেন। কিন্তু পড়াশোনায় তাঁর একদম মন ছিল না। ধর্মকথা শুনতে তিনি খুব ভালোবাসতেন। খেলার পরিবর্তে মন্দিরে গিয়ে বসে থাকতেন। সর্বদা কৃষ্ণের কথা ভাবতেন। কীভাবে কৃষ্ণকে পাওয়া যাবে সর্বক্ষণ এটাই ছিল তার ভাবনা। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি পিতামাতার অনুমতি নিয়ে গৃহত্যাগ করেন। অনেক অরণ্য, পাহাড়-পর্বত, তীর্থস্থান ঘুড়ে বেড়াতে লাগলেন। এভাবে একদিন উপস্থিত হলেন কাঙ্ক্ষিত বৃন্দাবনে। তিনি ব্যাকুল হয়ে পাগলের মতো শ্রীকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। হঠাৎ একদিন কৃষ্ণ তাকে স্বপ্নে সাক্ষাৎ দেন এবং তাকে নির্দেশ দেন নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে প্রেমভক্তি প্রচারে যোগ দিতে। নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের গৃহে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে তার সাক্ষাৎ হয় এবং দুজনে নেচে গেয়ে জাতিধর্ম নির্বিশেষে হরিনাম বিলাতে লাগলেন। ফলে দলে দলে লোক তাদের অনুসারী হলো। জগাই-মাধাইয়ের মতো অসংখ্য পাপীকে তিনি কৃষ্ণনামের দ্বারা উদ্ধার করেন। গৌরাঙ্গের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে নিত্যানন্দ গৌড়রাজ্যে, বিশেষ নবদ্বীপে কৃষ্ণনাম ও প্রেমধর্ম প্রচার করতে লাগলেন। তিনি কৃষ্ণনামের সাথে একীভূত করে দেন শ্রীগৌরাঙ্গের নাম। গৌরাঙ্গ প্রবর্তিত প্রেমধর্মের এক মহাপ্রচারকরূপে গৌড়দেশে আবির্ভূত হন নিত্যানন্দ। সকলে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে এক সারিতে এসে দাঁড়ায়। সার্থক হয় শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমভক্তি ও কৃষ্ণনামের আন্দোলন। নিত্যানন্দও চির অমর হয়ে থাকেন গৌড়বাসীর অন্তরে।
পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ এর শান্ত প্রভু নিত্যানন্দের জীবনকেই ইঙ্গিত করছে। পাঠ্যবইয়ের সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আমরা প্রভু নিত্যানন্দের সাথেই মিল খুঁজে পাই।