রেশমা খাতুনের কার্যক্রমে অর্থায়ন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।
ব্যবসায়ের অর্থ কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং নিজস্ব ও ঋণমূলধনের অনুপাত কেমন হবে—এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে অর্থায়ন সিদ্ধান্ত বলে। রেশমা তাঁর ‘দর্জি ঘর’ প্রতিষ্ঠার যাবতীয় ব্যয় ব্যক্তিগত অর্থ থেকে নির্বাহ করেছেন। অর্থাৎ তিনি তহবিলের উৎস হিসেবে নিজস্ব মূলধন নির্বাচন করেছেন। তাই তাঁর সিদ্ধান্তটি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।
রেশমা খাতুন বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
এই নীতি অনুযায়ী বিনিয়োগ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম একটিমাত্র পণ্য বা সেবায় সীমাবদ্ধ না রেখে একাধিক খাতে বিস্তৃত করা হয়। এতে একটি খাতের চাহিদা কমলে অন্য খাতের আয় ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
রেশমা দর্জির সেবার পাশাপাশি মহিলা ও শিশুদের তৈরি পোশাকও বিক্রি করছেন। ফলে তাঁর ক্রেতাগোষ্ঠী ও আয়ের উৎস বেড়েছে এবং শুধু সেলাইয়ের অর্ডারের ওপর নির্ভরতা কমেছে। অতএব, পণ্য ও সেবার বৈচিত্র্য এনে ঝুঁকি বণ্টন করায় তিনি বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
বর্তমান মূল্য, PV = ২,০০,০০০ টাকা
সুদের হার, i = ১০% = ০.১০
সময়, n = ৩ বছর
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = PV(1 + i)ⁿ
= ২,০০,০০০(১.১০)³
= ২,০০,০০০ × ১.৩৩১
= ২,৬৬,২০০ টাকা
অতএব, ৩ বছর পর জনাব রিমির হিসাবে মোট ২,৬৬,২০০ টাকা জমা হবে।
বর্তমান মূল্য, PV = ২,০০,০০০ টাকা
নামিক বার্ষিক হার, r = ১০% = ০.১০
৪ মাস অন্তর চক্রবৃদ্ধি হওয়ায় বছরে m = ৩ বার
সময়, n = ৫ বছর
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = PV(1 + r/m)ᵐⁿ
= ২,০০,০০০(1 + ০.১০/৩)¹⁵
= ৩,২৭,০৬৬.৮৯ টাকা (প্রায়)
অতএব, ৪ মাস অন্তর চক্রবৃদ্ধি হলে ৫ বছর পর জনাব রিমির হিসাবে প্রায় ৩,২৭,০৬৬.৮৯ টাকা জমা হবে।
প্রতি বছরের কর-পরবর্তী মুনাফা যথাক্রমে—
[৫,০০,০০০ − ১,০০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,১০,০০০ টাকা
[৬,০০,০০০ − ১,২০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,৬৬,০০০ টাকা
[৫,০০,০০০ − ১,০০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,১০,০০০ টাকা
[৭,০০,০০০ − ১,৪০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ৩,২২,০০০ টাকা
[৫,৫০,০০০ − ১,১০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,৩৮,০০০ টাকা
গড় মুনাফা = ১২,৪৬,০০০ ÷ ৫ = ২,৪৯,২০০ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (৪০,০০,০০০ + ০) ÷ ২ = ২০,০০,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = (২,৪৯,২০০ ÷ ২০,০০,০০০) × ১০০
= ১২.৪৬%
অতএব, বিনিয়োগের গড় মুনাফার হার ১২.৪৬%।
কর-পরবর্তী মুনাফার সঙ্গে ১,০০,০০০ টাকা অবচয় যোগ করলে পাঁচ বছরের নগদ প্রবাহ যথাক্রমে—
৩,১০,০০০; ৩,৬৬,০০০; ৩,১০,০০০; ৪,২২,০০০ ও ৩,৩৮,০০০ টাকা
৫ বছরে মোট নগদ প্রবাহ = ৩,১০,০০০ + ৩,৬৬,০০০ + ৩,১০,০০০ + ৪,২২,০০০ + ৩,৩৮,০০০
= ১৭,৪৬,০০০ টাকা
প্রাথমিক বিনিয়োগ = ৪০,০০,০০০ টাকা
৫ বছর শেষে অনাদায়ী বিনিয়োগ = ৪০,০০,০০০ − ১৭,৪৬,০০০
= ২২,৫৪,০০০ টাকা
প্রকল্পের উল্লেখিত ৫ বছরের মধ্যেও প্রাথমিক বিনিয়োগ ফেরত আসে না; তাই এই তথ্য দিয়ে নির্দিষ্ট পে-ব্যাক সময় নির্ণয় করা সম্ভব নয় এবং পে-ব্যাক সময় ৫ বছরের বেশি। অতএব, পে-ব্যাক পদ্ধতির ভিত্তিতে কারখানা স্থাপন যৌক্তিক নয়।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে ভৈরব ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
মুনাফার উদ্দেশ্যে আমানত সংগ্রহ, সেই অর্থ থেকে ঋণদান এবং গ্রাহকদের বহুমুখী ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। ভৈরব ব্যাংক আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও অন্যান্য সেবা পরিচালনা করছে। তাই এর কার্যাবলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্যাংক কর্মকর্তার সিদ্ধান্তটি গোপনীয়তা নীতির আলোকে যৌক্তিক।
ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবের স্থিতি, লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য তাঁর অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করতে পারে না। ভাই হলেও আরমান তাঁর ভাইয়ের হিসাবের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। তথ্য প্রকাশ করলে গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুধু গ্রাহকের লিখিত সম্মতি, আইনসম্মত আদালতের আদেশ বা বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা যায়। এমন অনুমোদনের উল্লেখ না থাকায় কর্মকর্তার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি গোপনীয়তা নীতির যথাযথ প্রয়োগ।
বার্ষিক কর-পরবর্তী নিট মুনাফা = (প্রাপ্তি − অবচয়)(১ − করহার)।
পাঁচ বছরের মুনাফা = ৪,৮০০; ৮,৮০০; ১২,৮০০; ৪,৮০০; ১৬,৮০০ টাকা
গড় মুনাফা = ৪৮,০০০ ÷ ৫ = ৯,৬০০ টাকা
গড় বিনিয়োগ = ৫০,০০০ ÷ ২ = ২৫,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = ৯,৬০০/২৫,০০০ × ১০০ = ৩৮.৪০%।
নগদ প্রবাহ = নিট মুনাফা + অবচয় = ৮,৮০০; ১২,৮০০; ১৬,৮০০; ৮,৮০০; ২০,৮০০ টাকা।
চার বছরে মোট আদায় = ৪৭,২০০ টাকা; অবশিষ্ট = ২,৮০০ টাকা
পে-ব্যাক সময় = ৪ + ২,৮০০/২০,৮০০
= ৪.১৩ বছর (প্রায়)
প্রকল্পের আয়ুষ্কাল পাঁচ বছর এবং বিনিয়োগ ৪.১৩ বছরে ফেরত আসে। তাই শুধু পে-ব্যাক মানদণ্ডে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য।
জনাব শফি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও ব্যবহারকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। তিনি জমি বিক্রির নিজস্ব অর্থ দিয়ে মুরগির খামার স্থাপন, খাবার ও মজুরিতে অর্থ ব্যয় এবং উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষণ করেছেন। এগুলো ব্যবসায়ের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবহারের কার্যক্রম।
জনাব শফির ব্যবসায়ে তারল্য ও মুনাফার ভারসাম্য নীতির যৌক্তিক প্রয়োগ হয়েছে।
সব অর্থ নগদ রাখলে বিনিয়োগ কমে মুনাফা হ্রাস পায়, আবার সব অর্থ বিনিয়োগ করলে দৈনন্দিন ব্যয় ও জরুরি দায় পরিশোধে নগদ ঘাটতি দেখা দেয়। শফি খাবার ও মজুরি পরিশোধ করে অবশিষ্ট অর্থ এমনভাবে ব্যাংকে রাখেন যাতে প্রয়োজনের সময় নগদ সংকট না হয়। এতে ব্যবসা সচল থাকে, অপ্রয়োজনীয় অলস নগদও কমে এবং মুনাফার সুযোগ বজায় থাকে।
সরকারি বিল বা ট্রেজারি বিল থেকে জনাব ওমরের প্রাপ্ত অর্থ ঝুঁকিমুক্ত আয়।
ট্রেজারি বিল সরকার ইস্যু করে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের দায় সরকার বহন করে। খেলাপির আশঙ্কা প্রায় নেই এবং আয় নির্দিষ্ট হওয়ায় পাঠ্যবইয়ের বিচারে এ আয় ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য।
প্রকল্প A-এর আয়: ৯%, ৯%, ১০%, ১১%, ১০%
গড় আয় = ৪৯% ÷ ৫ = ৯.৮%
নমুনা আদর্শ বিচ্যুতি, σA
= √[{(৯−৯.৮)² + (৯−৯.৮)² + (১০−৯.৮)² + (১১−৯.৮)² + (১০−৯.৮)²} ÷ ৪]
= √(২.৮০ ÷ ৪)
= √০.৭০
= ০.৮৪% (প্রায়)
প্রকল্প B-এর আয়: ৭%, ৮%, ১০%, ১২%, ৯%
গড় আয় = ৪৬% ÷ ৫ = ৯.২%
σB = √[{(৭−৯.২)² + (৮−৯.২)² + (১০−৯.২)² + (১২−৯.২)² + (৯−৯.২)²} ÷ ৪]
= √(১৪.৮০ ÷ ৪)
= √৩.৭০
= ১.৯২% (প্রায়)
B প্রকল্পের ঝুঁকি A প্রকল্পের চেয়ে বেশি। তাই জনাব ওমরের B প্রকল্পটি বন্ধ করা উচিত।
সঠিক মূলধন বাজেটিং, বিশেষত ঝুঁকি নিরূপণ ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের অভাবে জনাব হারুন ব্যর্থ হয়েছেন।
কারখানা স্থাপন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগের আগে কাঁচামাল, জ্বালানি, গ্যাস সংযোগ, সম্ভাব্য উৎপাদন ও বিক্রয় এবং ঋণের সুদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা না করেই ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করায় উৎপাদন বন্ধ এবং বড় ক্ষতি হয়েছে।
শান্তা প্রকল্পে প্রথম দুই বছরে ফেরত
= ২,০০,০০০ + ১,৮০,০০০
= ৩,৮০,০০০ টাকা
অবশিষ্ট বিনিয়োগ = ৫,০০,০০০ − ৩,৮০,০০০ = ১,২০,০০০ টাকা
তৃতীয় বছরে নগদ প্রবাহ = ২,০০,০০০ টাকা
পে-ব্যাক সময় = ২ + (১,২০,০০০ ÷ ২,০০,০০০)
= ২.৬০ বছর
কান্তা প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় ১ বছর। কম পে-ব্যাক সময় দ্রুত অর্থ ফেরত ও কম ঝুঁকি নির্দেশ করে। তাই জনাব রায়হানের কান্তা প্রকল্পটি বেছে নেওয়া উচিত।
সাবা শিক্ষার্থী সঞ্চয়ী বা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের টাকা জমা রেখেছে।
এ হিসাব শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে কম খরচে আমানত রাখা ও প্রয়োজনমতো সীমিত উত্তোলনের সুবিধা দেয়। সাবা একজন শিক্ষার্থী এবং বৃত্তির টাকা সঞ্চয় করেছে; তাই এ হিসাব তার জন্য উপযোগী।
উক্তিটির সঙ্গে আমি একমত; সাবা ATM সেবা ব্যবহার করছে।
ATM হলো ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংয়ের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, যার মাধ্যমে ব্যাংককর্মীর উপস্থিতি ছাড়াই কার্ড ও PIN ব্যবহার করে নগদ উত্তোলন, স্থিতি জানা এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থ জমা করা যায়। সাবা ব্যাংকে উপস্থিত না হয়েও অফিস সময়ের বাইরে অর্থ তুলতে পারে। তাই তার ATM সেবা ২৪ ঘণ্টার ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধার যথার্থ দৃষ্টান্ত।
সুরমা ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। এটি নতুন ব্যাংক বা শাখা স্থাপনের অনুমোদন দেয়, বিধি প্রণয়ন করে এবং অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। সুরমা ব্যাংক অন্য ব্যাংককে নতুন শাখা খোলার অনুমতি দেয় বলে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তিস্তা ব্যাংক শিল্প ব্যাংকের কাজ করছে এবং এর ঋণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সহায়তা করে।
শিল্প ব্যাংক যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়। তিস্তা ব্যাংকের ঋণে প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমঘন যন্ত্রপাতি কিনছে, যেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বেশি কর্মী প্রয়োজন। উৎপাদন বাড়লে কাঁচামাল, পরিবহন ও বিপণনেও নতুন কাজ সৃষ্টি হয়। তাই শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ব্যাংকটির অর্থায়ন সরকারের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক।
জনাব সুজনের অর্থায়নে আয় বা অর্থায়ন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটেছে।
কোন উৎস থেকে কত অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং নিজস্ব ও ঋণ মূলধনের অনুপাত কেমন হবে—এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে অর্থায়ন সিদ্ধান্ত বলে। সুজনের ৫০,০০০ টাকার মূলধনের মধ্যে ৩০,০০০ টাকা নিজস্ব এবং ২০,০০০ টাকা এনজিও ঋণ। অর্থাৎ তিনি মালিকানা ও ঋণ—দুই উৎসের সমন্বয়ে তহবিল সংগ্রহ করেছেন। তাই এটি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।
তুলনামূলকভাবে সুমনের ব্যবসায়ে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি, কারণ তিনি বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
সুজন শুধু সেলুন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। সেলুনের চাহিদা কমলে তাঁর আয়ের বিকল্প উৎস নেই। অন্যদিকে সুমনের মুদির দোকানে বহু নিত্যপণ্য আছে এবং তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবাও যুক্ত করেছেন। কোনো একটি পণ্যের বিক্রি কমলে অন্য পণ্য বা সেবা সেই ঘাটতি আংশিক পূরণ করতে পারে।
তবে ব্যবসায়ে মুনাফা ‘সবসময়’ নিশ্চিত নয়; বাজারে অনিশ্চয়তা থাকে। বৈচিত্র্যায়ন ঝুঁকি কমিয়ে আয়কে তুলনামূলক স্থিতিশীল করে। এ কারণে সুজনের তুলনায় সুমনের ব্যবসায়ে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা বেশি।
বর্তমান মূল্য, PV = ২,০০,০০০ টাকা
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = ৪,০০,০০০ টাকা
সময়, n = ৫ বছর
FV = PV(1 + i)ⁿ
৪,০০,০০০ = ২,০০,০০০(1 + i)⁵
(1 + i)⁵ = ২
1 + i = ২^(১/৫)
= ১.১৪৮৬৯৮
i = ০.১৪৮৬৯৮
= ১৪.৮৭% (প্রায়)
অতএব, কবির আধুনিক সঞ্চয় স্কিমে বার্ষিক প্রায় ১৪.৮৭% চক্রবৃদ্ধি সুদ অর্জন করবেন।
কবিরের দ্বিতীয় কার্যক্রমটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
সেচ মেশিন ও পাওয়ার টিলার স্থায়ী সম্পদ; এগুলো একাধিক বছর কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে। সেচ মেশিন সময়মতো পানি সরবরাহ করে ফলন বাড়াবে। পাওয়ার টিলার জমি প্রস্তুতে সময় ও শ্রম ব্যয় কমাবে এবং দ্রুত চাষাবাদে সহায়তা করবে। ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদি নগদ আয় অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
অতএব, ৩ লক্ষ টাকা স্থায়ী কৃষিযন্ত্রে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি বহু বছর কার্যকর সুবিধা দেবে—মন্তব্যটি যথার্থ।
'A' ব্যাংক প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিপুল পরিমাণে ঋণদান করে পরিচিতি লাভ করে। ঋণদান ও বিনিয়োগের খাত অতিরিক্ত হওয়ায় আমানতকারীদের জমাকৃত অর্থ ফেরতদানে সমস্যা হচ্ছে। সংকট নিরসনে 'B' ব্যাংক এর দারস্থ হয়ে ৫০০ কোটি টাকা শর্ত সাপেক্ষে ঋণ নেন। এছাড়া 'B' ব্যাংকের পরিচালকপর্ষদ ভবিষ্যত নিরাপত্তার কথা ভেবে নিম্নের পরামর্শ দেন:
- ব্যাংকের আমানতের একটা অংশ অত্র ব্যাংকে জমা রাখা।
- ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কৌশলী হওয়া।
- নতুন নতুন আমানত সৃষ্টিতে পদক্ষেপ নেয়া।
কালনী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেন করে না; এটি দেশের ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যান্য ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করে। উদ্দীপকে কালনী ব্যাংকের ঠিক এসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
কালনী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং গোমতী ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু, সরকারের ব্যাংকার ও আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ, মুদ্রা ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও নিকাশঘর পরিচালনা করে। এটি সাধারণত ব্যক্তির আমানত গ্রহণ করে না।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত গ্রহণ, ঋণ ও অগ্রিম প্রদান, চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ, অর্থ স্থানান্তর এবং বিভিন্ন এজেন্সি ও ই-ব্যাংকিং সেবা দেয়। তাই সালেহীনের ব্যক্তিগত আমানত কালনী ব্যাংক না নিলেও গোমতী ব্যাংক গ্রহণ করেছে।
এখানে, ভবিষ্যৎ মূল্য FV = ২০,০০,০০০ টাকা, সুদের হার i = ১০% এবং সময় n = ৫ বছর
বর্তমান মূল্য PV = FV ÷ (১ + i)ⁿ
= ২০,০০,০০০ ÷ (১ + ০.১০)⁵
= ২০,০০,০০০ ÷ ১.৬১০৫১
= ১২,৪১,৮৪২.৬৫ টাকা
অতএব, জনাব মাহিনকে ‘ক’ ব্যাংকে বর্তমানে ১২,৪১,৮৪২.৬৫ টাকা জমা রাখতে হবে।
‘খ’ ব্যাংকে বছরে ৪ বার চক্রবৃদ্ধি হওয়ায়,
PV = FV ÷ (১ + i ÷ m)^(n × m)
= ২০,০০,০০০ ÷ (১ + ০.০৯৫ ÷ ৪)²⁰
= ২০,০০,০০০ ÷ (১.০২৩৭৫)²⁰
= ১২,৫০,৬৯৫.৮৩ টাকা (প্রায়)
‘ক’ ব্যাংকে প্রয়োজন = ১২,৪১,৮৪২.৬৫ টাকা
‘খ’ ব্যাংকে প্রয়োজন = ১২,৫০,৬৯৫.৮৩ টাকা
একই ২০ লক্ষ টাকা পেতে ‘ক’ ব্যাংকে বর্তমানে ৮,৮৫৩.১৮ টাকা কম জমা দিতে হবে। তাই জনাব মাহিনের জন্য ‘ক’ ব্যাংক অধিক লাভজনক।
জনাব সোহানার কার্যক্রমে ব্যবসায় অর্থায়ন লক্ষ করা যায়।
ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, সেই তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং দায় পরিশোধের ব্যবস্থাই ব্যবসায় অর্থায়ন। তিনি ব্যাংকের জমাতিরিক্ত উত্তোলনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ, পণ্য কেনার জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধের অর্থ জোগাড় করছেন। তাই তার কাজ ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
জনাব সোহানা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।
আর্থিক ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের অর্থের প্রয়োজন নির্ধারণ করেন, উপযুক্ত উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন, চলতি ও স্থায়ী সম্পদে তা ব্যবহার করেন এবং সময়মতো দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকে সোহানা জমাতিরিক্ত উত্তোলনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ, সরবরাহকারীকে অগ্রিম প্রদান এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধের অর্থ জোগাড় করছেন। অর্থাৎ তিনি অর্থ সংগ্রহ, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ—আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্বগুলো পালন করছেন।
বিজনা ব্যাংক নিরাপত্তার নীতি অনুসরণ করে ঋণ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা বাড়াতে জামানত ও কাগজপত্র নেয়।
ব্যাংক মূলত আমানতকারীদের অর্থ ঋণ দেয়; তাই ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সামর্থ্য, উদ্দেশ্য, সততা ও দলিল যাচাই করা জরুরি। যথাযথ জামানত থাকলে কনক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক আইনানুগভাবে জামানতি সম্পদ বিক্রি করে পাওনা আদায় করতে পারে। এতে খেলাপি ঝুঁকি কমে এবং আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকে।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে ‘BM’ ব্যাংকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের আমানত সংগ্রহ, ঋণদান এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। উদ্দীপকে ‘BM’ ব্যাংক যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ‘M’ প্রতিষ্ঠানের ঋণ আবেদন বিবেচনা করছে। ঋণদান বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজ হওয়ায় ‘BM’ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ‘M’ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া ‘BM’ ব্যাংকের জন্য যুক্তিসঙ্গত হবে না।
ব্যাংকের নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্য, সততা, তথ্যের সত্যতা, ঋণের উদ্দেশ্য ও জামানত যাচাই করতে হয়। ঋণ পরিশোধের আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একমাত্র বিবেচ্য নয়।
উদ্দীপকে ‘M’ প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে সক্ষম, কিন্তু জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট অমিল আছে। এই অসংগতি প্রতিষ্ঠানের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং প্রতারণা, ঋণখেলাপি বা আইনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এমন অবস্থায় এক কোটি টাকা ঋণ দিলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অতএব, অসংগতির সন্তোষজনক ব্যাখ্যা, স্বাধীন যাচাই ও যথাযথ নিরাপত্তা না পাওয়া পর্যন্ত আবেদনটি অনুমোদন করা নিরাপত্তা নীতির পরিপন্থী হবে।
‘মাসুদ স্টোর’ ব্যবসায় অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ে তহবিল সংগ্রহ ও বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ করাই ব্যবসায় অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য। কুয়াশা দোকান স্থাপন করেছেন, বিক্রয়লব্ধ অর্থের একটি অংশ সঞ্চয় করেছেন এবং গ্যাস সিলিন্ডার ও ফ্রিজের মতো ব্যবসায়িক সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। এসব সিদ্ধান্ত মুনাফামুখী ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারসংক্রান্ত। তাই এটি ব্যবসায় অর্থায়ন।
‘মাসুদ স্টোর’-এর সাফল্যের প্রধান কারণ বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির প্রয়োগ।
এই নীতি অনুযায়ী পুরো তহবিল একটি পণ্য বা খাতে বিনিয়োগ না করে একাধিক পণ্য ও সেবায় বিনিয়োগ করা হয়। এতে কোনো একটি পণ্যের চাহিদা বা বিক্রি কমলেও অন্য পণ্য থেকে আয় পাওয়া যায় এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক ঝুঁকি হ্রাস পায়।
কুয়াশা বিক্রয়লব্ধ অর্থ সম্পূর্ণ ভোগ না করে একটি অংশ ব্যাংকে রেখে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন। আবার এলাকার চাহিদা বুঝে সাধারণ দোকানপণ্যের পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ও ঠান্ডা পানীয় যুক্ত করেছেন। ফলে ক্রেতার প্রয়োজন পূরণ, বিক্রয়ের উৎস বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি বিভিন্ন পণ্যে বণ্টিত হয়েছে।
অতএব, সঞ্চিত অর্থের পরিকল্পিত পুনর্বিনিয়োগ এবং পণ্য বৈচিত্র্যায়নের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে আয় স্থিতিশীল করাই প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের কারণ।
টিনা প্রকল্পের বার্ষিক অবচয় = ১,০০,০০০ ÷ ৩
= ৩৩,৩৩৩.৩৩ টাকা
১ম বছরের কর-পরবর্তী মুনাফা = [৮০,০০০ − (৮০,০০০ × ৪০%) − ১০,০০০ − ৩৩,৩৩৩.৩৩] × ৭০%
= ৩,২৬৬.৬৭ টাকা
২য় বছরের কর-পরবর্তী মুনাফা = [১,৫০,০০০ − (১,৫০,০০০ × ৪০%) − ১০,০০০ − ৩৩,৩৩৩.৩৩] × ৭০%
= ৩২,৬৬৬.৬৭ টাকা
৩য় বছরের কর-পরবর্তী মুনাফা = [৯০,০০০ − (৯০,০০০ × ৪০%) − ১০,০০০ − ৩৩,৩৩৩.৩৩] × ৭০%
= ৭,৪৬৬.৬৭ টাকা
গড় বার্ষিক মুনাফা = (৩,২৬৬.৬৭ + ৩২,৬৬৬.৬৭ + ৭,৪৬৬.৬৭) ÷ ৩
= ১৪,৪৬৬.৬৭ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (১,০০,০০০ + ০) ÷ ২
= ৫০,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = (১৪,৪৬৬.৬৭ ÷ ৫০,০০০) × ১০০
= ২৮.৯৩% (প্রায়)
অতএব, টিনা প্রকল্পের গড় মুনাফার হার প্রায় ২৮.৯৩%।
টিনা প্রকল্পের ১ম বছরের নগদ প্রবাহ = ৩,২৬৬.৬৭ + ৩৩,৩৩৩.৩৩
= ৩৬,৬০০ টাকা
১ম বছর শেষে অনাদায়ী বিনিয়োগ = ১,০০,০০০ − ৩৬,৬০০
= ৬৩,৪০০ টাকা
২য় বছরের নগদ প্রবাহ = ৩২,৬৬৬.৬৭ + ৩৩,৩৩৩.৩৩
= ৬৬,০০০ টাকা
টিনা প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় = ১ + (৬৩,৪০০ ÷ ৬৬,০০০)
= ১.৯৬ বছর (প্রায়)
উদ্দীপক অনুসারে মিনা প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় ৩ বছর। টিনা প্রকল্পে ১.৯৬ বছরে বিনিয়োগ ফেরত আসে, যা মিনার ৩ বছরের চেয়ে কম। তাই বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার বিবেচনায় জনাব আরমানের টিনা প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = ১০,০০,০০০ টাকা; i = ১০% = ০.১০; n = ১০ বছর
বর্তমান মূল্য, PV = FV ÷ (1 + i)ⁿ
= ১০,০০,০০০ ÷ (১.১০)¹⁰
= ১০,০০,০০০ ÷ ২.৫৯৩৭৪২
= ৩,৮৫,৫৪৩.২৯ টাকা (প্রায়)
অতএব পলাশ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৩,৮৫,৫৪৩.২৯ টাকা জমা রাখতে হবে।
বেলী ব্যাংকে i = ৮.৫% = ০.০৮৫, m = ১২ এবং n = ১০।
PV = ১০,০০,০০০ ÷ (1 + ০.০৮৫/১২)¹²⁰
= ১০,০০,০০০ ÷ ২.৩৩২৫৫৪
= ৪,২৮,৭১৪.৬২ টাকা (প্রায়)
পলাশ ব্যাংকে প্রয়োজন প্রায় ৩,৮৫,৫৪৩.২৯ টাকা, কিন্তু বেলী ব্যাংকে প্রায় ৪,২৮,৭১৪.৬২ টাকা। একই ভবিষ্যৎ মূল্য পেতে পলাশ ব্যাংকে কম অর্থ জমা দিতে হয়। তাই পলাশ ব্যাংক উত্তম।
৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানিটি উক্ত অর্থ দিয়ে শীতবস্ত্র উৎপাদনে করে। এতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কিছুদিন পর প্রতিষ্ঠানটি মুনাফার অংশ দিয়ে কাঁচামাল ক্রয় করে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ ও ঘড়ি তৈরি শুরু করে। ফলে, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
জিসান কোম্পানি লি.-এর অর্থায়ন ব্যবসায় অর্থায়ন।
মুনাফার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনাকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। কোম্পানিটি শেয়ার বিক্রি করে ৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে এবং মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ করে ব্যবসা বাড়িয়েছে। তাই এটি ব্যবসায় অর্থায়ন।
জিসান কোম্পানির সম্প্রসারণে বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি গুরুত্বপূর্ণ। শীতবস্ত্রের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ ও ঘড়ি উৎপাদনে অর্থ বিনিয়োগ করায় একটি পণ্যের চাহিদা কমলে অন্য পণ্যের আয় দিয়ে ক্ষতি সামলানো যাবে।
মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ করায় ঋণ বা নতুন শেয়ার ছাড়াই অভ্যন্তরীণ তহবিল পাওয়া এবং মালিকানা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব। ফলে আয়-উৎস বাড়ে, সামগ্রিক ঝুঁকি কমে এবং প্রতিষ্ঠান স্থিতিশীলভাবে সম্প্রসারিত হয়।
ফাহিমা এন্টারপ্রাইজ সেলাই মেশিন ব্যবহারে লিজিং উৎস গ্রহণ করেছে।
লিজিংয়ে সম্পদ সরাসরি না কিনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহারের অধিকার পাওয়া যায় এবং মালিকানা লিজদাতার থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ৫০০টি মেশিন পাঁচ বছরের জন্য ৪,০০,০০০ টাকা ভাড়ায় নিয়েছে—এটি লিজিংয়ের বৈশিষ্ট্য।
তারল্যসংকট নিরসনে প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ যথার্থ। মেয়াদপূর্তির আগে বিলটি তানহা ব্যাংকে জমা দিয়ে ৫% বাট্টা বাদে তাৎক্ষণিক নগদ পাওয়া যায়। এটি স্বল্পমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন এবং বিলের পাওনা অর্থকে দ্রুত চলতি মূলধনে রূপান্তর করে।
ফলে উৎপাদন ও দৈনন্দিন ব্যয় সচল থাকে; নতুন দীর্ঘমেয়াদি দায় সৃষ্টি হয় না। তবে বাট্টার ব্যয় বিবেচনা করতে হবে। সাময়িক তারল্য ঘাটতির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি উৎসের মেয়াদ মিলেছে বলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
দেওয়া আছে, FV = ২০,০০,০০০ টাকা, নামিক বার্ষিক সুদ i = ১১%, অর্ধবার্ষিক চক্রবৃদ্ধি m = ২ এবং সময় n = ১০ বছর।
PV = FV ÷ (১ + i ÷ m)ⁿᵐ
= ২০,০০,০০০ ÷ (১ + ০.১১ ÷ ২)²⁰
= ৬,৮৫,৪৫৭.৯৩ টাকা (প্রায়)।
অতএব, মেঘনা ব্যাংকে প্রায় ৬,৮৫,৪৫৭.৯৩ টাকা জমা রাখতে হবে।
তিস্তা ব্যাংকে PV = ৭,০০,০০০ টাকা, i = ৯%, m = ৪ এবং n = ১০ বছর।
FV = ৭,০০,০০০ × (১ + ০.০৯ ÷ ৪)⁴⁰
= ১৭,০৪,৬৩২.২৮ টাকা (প্রায়)।
প্রাইভেটকারের প্রয়োজনীয় মূল্য ২০,০০,০০০ টাকা। ঘাটতি = ২০,০০,০০০ − ১৭,০৪,৬৩২.২৮ = ২,৯৫,৩৬৭.৭২ টাকা। তাই ৭ লক্ষ টাকা জমা রেখে ১০ বছর পরে তিনি গাড়িটি কিনতে পারবেন না।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিতে মোহনা ব্যাংক একটি শিল্প ব্যাংক।
শিল্প ব্যাংক কারখানা নির্মাণ, ভূমি ও যন্ত্রপাতি কেনা এবং শিল্প সম্প্রসারণে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়। মোহনা ব্যাংক শাকিলা টেক্সটাইলকে যন্ত্রপাতি কিনতে ঋণ দিয়েছে এবং প্রকল্পের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা যাচাই করে—এগুলো শিল্প ব্যাংকের কাজ।
মোহনা ব্যাংক ঋণমঞ্জুর নীতি আংশিকভাবে সঠিক অনুসরণ করেছে। উৎপাদনশীল ও লাভজনক প্রকল্প যাচাই করে ঋণ দেওয়া ঋণমঞ্জুর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ায় ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়েছে, যা নিরাপত্তা নীতিকে দুর্বল করেছে।
ব্যাংকের উচিত প্রকল্পের লাভজনকতার পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার সততা, পরিশোধক্ষমতা ও উপযুক্ত জামানত যাচাই করা। তাই উৎপাদনশীলতার মূল্যায়ন যৌক্তিক হলেও সামগ্রিক নীতিমালা পূর্ণাঙ্গ ছিল না।
M ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণ, মূল্যবান দলিলের লকার সেবা এবং রপ্তানিতে অর্থ আদায়ের প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ। M ব্যাংক সাদিয়া ড্রাগ হাউজকে এসব সেবা দিয়েছে; তাই কার্যভিত্তিক শ্রেণিতে এটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
প্রাপ্য বিল বাট্টাকরণে M ব্যাংক বাট্টা বা সুদ আয় করে। মূল্যবান দলিল নিরাপদে রাখার জন্য লকার ভাড়া বা সার্ভিস চার্জ নেয়। জারিন কোম্পানি থেকে অগ্রিম অর্থ আদায় ও রপ্তানি লেনদেনে সহায়তার জন্য কমিশন বা প্রতিনিধিত্বমূলক সেবা-চার্জ পায়।
অতএব, বিল বাট্টা, লকার ভাড়া এবং অর্থ আদায়ের কমিশন—এই তিনটি সাদিয়া ড্রাগ হাউজকে দেওয়া সেবা থেকে ব্যাংকের আয়ের উৎস।
X ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের নোট ও মুদ্রা প্রচলনের একচ্ছত্র অধিকার, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং তারল্যসংকটে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সহায়তা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ। X ব্যাংক এসব কাজ করে বলে এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
X কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং Y বাণিজ্যিক ব্যাংক। X ব্যাংক Y-এর নিয়ন্ত্রক ও অভিভাবক: ঋণনীতি নির্ধারণ, নিয়মিত বিবরণী গ্রহণ ও তদারকি করে। আবার Y-এর রিজার্ভ ও হিসাব সংরক্ষণ এবং তারল্যসংকটে ঋণ দেওয়ায় X তার ব্যাংকার ও ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল।
Y নিয়মিত প্রতিবেদন ও বিধিবদ্ধ রিজার্ভ দিয়ে X-এর নির্দেশ মেনে চলে। এ নিয়ন্ত্রণকারী, অভিভাবক এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ব্যাংকব্যবস্থার শৃঙ্খলা, তারল্য ও জনআস্থা বজায় রেখে উন্নয়ন ঘটায়।
জনাব মামুনের সিদ্ধান্তটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
আর্থিক ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত অর্থ কোন সম্পদ বা প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেন তাকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলে। উদ্দীপকে মামুন উৎপাদনকাজে সহায়ক একটি মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেশিনটি দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সম্পদ এবং এতে অর্থ বিনিয়োগের আগে প্রত্যাশিত আয়, ব্যয় ও ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়। তাই তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বা মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত।
‘অনন্যা’ ও ‘নবরূপা’র অর্থায়নের উদ্দেশ্য ভিন্ন।
‘নবরূপা’ একটি বিউটি পার্লার, অর্থাৎ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এর অর্থায়নের উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, লাভজনক খাতে বিনিয়োগ, ব্যবসায়ের বৃদ্ধি এবং মালিকের সম্পদ সর্বাধিক করা। তাই এটি ব্যবসায় অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে ‘অনন্যা’ একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এটি মুনাফা বণ্টনের জন্য নয়, সমাজকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার জন্য অনুদানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে। তাই এর অর্থায়ন অব্যবসায়িক বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন।
অতএব, নবরূপার অর্থায়নের মুখ্য উদ্দেশ্য মুনাফা ও সম্পদ বৃদ্ধি, আর অনন্যার উদ্দেশ্য জনকল্যাণমূলক সেবা প্রদান; ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির অর্থায়নের উদ্দেশ্য এক নয়।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে ‘ক’ ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের মুদ্রা ও ব্যাংকব্যবস্থার শীর্ষ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে। এটি এককভাবে নোট ইস্যু ও মুদ্রা প্রচলন করে, ঋণ ও মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে, সরকারের ব্যাংকার এবং অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকে ‘ক’ ব্যাংক নোট-মুদ্রা প্রচলন এবং মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌলিক কাজ। তাই ‘ক’ ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
‘খ’ ব্যাংকের ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল না, কারণ এটি ব্যাংকের নিরাপত্তা নীতি লঙ্ঘন করেছে।
নিরাপত্তা নীতি অনুসারে ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সততা, আর্থিক সচ্ছলতা, ঋণ পরিশোধক্ষমতা ও ঋণের উদ্দেশ্য যাচাই করতে হয় এবং প্রয়োজনমতো পর্যাপ্ত জামানত নিতে হয়। এতে আমানতকারীর অর্থ ও ব্যাংকের ঋণ উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।
কিন্তু ‘খ’ ব্যাংক রনির আর্থিক অবস্থা যাচাই না করে এবং কোনো জামানত না নিয়েই বড় অঙ্কের ঋণ দিয়েছে। রনি দেউলিয়া হওয়ায় ঋণটি অনাদায়ী হয়েছে; ফলে ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সুনাম হারাচ্ছে। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি তারল্য ও সুনামের নীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অতএব, যথাযথ ঋণ বিশ্লেষণ ও জামানত ছাড়া রনিকে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ব্যাংকের মূলনীতির পরিপন্থী ও অযৌক্তিক।
বন্ধুর পরামর্শ গ্রহণ করা বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির আলোকে যৌক্তিক। এলাকার অধিকাংশ মানুষের আয় কম হওয়ায় শুধু বিরিয়ানি বিক্রি করে মুসাব্বির সফল হননি। সাদাভাত, রুটি, ডাল ও সবজি যোগ করলে ভিন্ন আয়শ্রেণির ক্রেতার চাহিদা পূরণ হবে এবং বিক্রয় বাড়বে।
একাধিক পণ্যে মূলধন নিয়োজিত থাকলে কোনো একটি পণ্যের বিক্রয় কমে গেলে অন্য পণ্যের আয় দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। ফলে ব্যবসায়ের ঝুঁকি বণ্টিত ও হ্রাস পায় এবং স্থিতিশীল মুনাফার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই নূরের পরামর্শ বাস্তবসম্মত ও অর্থায়নের নীতিসংগত।
মাহিমের রূপান্তরযোগ্য বন্ডকে সাধারণ শেয়ারে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অধিক মুনাফার লক্ষ্য বিবেচনায় যৌক্তিক। বন্ডে নির্দিষ্ট সুদ ও তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও আয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারিত। সাধারণ শেয়ারে কোম্পানির মুনাফা বাড়লে বেশি লভ্যাংশ ও মূলধনি লাভের সুযোগ থাকে এবং ভোটাধিকারও পাওয়া যায়।
তবে রূপান্তরের পর জামানত, নির্দিষ্ট সুদ ও পাওনা আদায়ে বন্ডধারীর অগ্রাধিকার হারিয়ে যাবে; আয় অনিশ্চিত ও ঝুঁকি বেশি হবে। তাই কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় ও নিজের ঝুঁকি গ্রহণক্ষমতা যাচাই করে রূপান্তর করলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
বর্তমান লভ্যাংশ, D₀ = ১৮ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার, g = ৩% = ০.০৩
পরবর্তী বছরের লভ্যাংশ, D₁ = D₀(1 + g)
= ১৮(১.০৩) = ১৮.৫৪ টাকা
শেয়ারের বাজারমূল্য, P₀ = ৩০৫ টাকা
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়, Kₑ = (D₁/P₀ + g) × ১০০
= (১৮.৫৪/৩০৫ + ০.০৩) × ১০০
= ৯.০৮% (প্রায়)
অতএব সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় প্রায় ৯.০৮%।
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় = ৯.০৮%
অগ্রাধিকার শেয়ারের বার্ষিক লভ্যাংশ = ১০০ × ৭% = ৭ টাকা
অগ্রাধিকার শেয়ার মূলধন ব্যয় = (৭ ÷ ১৮০) × ১০০ = ৩.৮৯%
কর-পরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = ৯% × (১ − ০.৪০) = ৫.৪০%
তুলনায় অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় ৩.৮৯%, ঋণের ব্যয় ৫.৪০% এবং সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ৯.০৮%। তাই শুধু প্রদত্ত মূলধন ব্যয়ের মানদণ্ডে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করে নতুন মূলধন সংগ্রহ করা উচিত। এতে সর্বনিম্ন ব্যয়ে তহবিল পাওয়া যাবে।
উক্তিটি যথার্থ। A কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং B তার অনুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তালিকাভুক্ত ব্যাংককে আইন, নীতি ও নির্দেশনা মানতে বাধ্য করে।
B ব্যাংক কাশেমকে ঋণ দেওয়ার পর সময়মতো অর্থ আদায় করতে পারেনি, যা ঋণের নিরাপত্তা যাচাইয়ে দুর্বলতা নির্দেশ করে। ঋণগ্রহীতার চরিত্র, সামর্থ্য, জামানত, ব্যবসার লাভজনকতা ও অর্থ ফেরতের উৎস যাচাই করে ঋণ দেওয়া নিরাপত্তা নীতির অংশ। আমানতকারীর অর্থ রক্ষা ও অনাদায়ী ঋণ কমাতে B ব্যাংকের এ নীতি মানা জরুরি। তাই A ব্যাংকের পরামর্শ মেনে চলা অপরিহার্য।
উদ্দীপকের পত্রটি প্রত্যয়পত্র বা Letter of Credit (L/C)। আমদানিকারকের অনুরোধে ব্যাংক নির্ধারিত দলিল ও শর্ত পূরণ হলে রপ্তানিকারককে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দিয়ে এ পত্র ইস্যু করে।
অন্তরা ইন্টারন্যাশনাল ও ডেনমার্কের রপ্তানিকারক পরস্পরের কাছে অপরিচিত হওয়ায় বিক্রেতা অর্থ না পাওয়ার এবং ক্রেতা পণ্য না পাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। একতা ব্যাংকের প্রত্যয়পত্র রপ্তানিকারককে মূল্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে, তাই তারা দ্রুত পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে। এভাবে ব্যাংক উভয় পক্ষের আস্থা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে আমদানি-রপ্তানিকারকের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করে।
মি. মাহমুদের ব্যবসায়ে বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি পরিলক্ষিত হয়।
একটি পণ্য বা ক্রেতাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পণ্যে অর্থ বিনিয়োগ করলে চাহিদা কমার ঝুঁকি বিভিন্ন খাতে বণ্টিত হয়। তিনি নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন ক্রেতার জন্য প্যান্ট, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি রেখেছেন। ফলে বিক্রয় ও মুনাফার সুযোগ বেড়েছে এবং একক পণ্যের ঝুঁকি কমেছে।
নতুন দোকান ক্রয় ও ডেকোরেশন দীর্ঘদিন সুবিধা দেবে এবং বড় অঙ্কের স্থায়ী বিনিয়োগ। নিজস্ব তহবিল যথেষ্ট না হওয়ায় মি. মাহমুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বহিঃস্থ অর্থায়ন—যেমন মেয়াদি ব্যাংকঋণ—উপযুক্ত।
উপযুক্ততার নীতি অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি উৎসে অর্থায়ন করলে স্বল্পমেয়াদি পরিশোধচাপ পড়ে না এবং কিস্তি সম্পদ থেকে ভবিষ্যৎ আয় দিয়ে মেটানো যায়। তবে ঋণের সুদ ও কিস্তি প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার জ্ঞান থাকলে একজন ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ স্বল্প ব্যয়ে সংগ্রহ ও সঠিক খাতে ব্যবহার করতে পারেন।
এ জ্ঞান তহবিলের পরিমাণ, উৎস, মেয়াদ ও ব্যয় নির্ধারণে সহায়তা করে। ফলে তারল্য ও মুনাফার ভারসাম্য বজায় রাখা, আর্থিক ঝুঁকি কমানো এবং সংগৃহীত অর্থের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
জনাব আলীম দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
সাধারণত পাঁচ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য সংগৃহীত তহবিলকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, স্থায়ী সম্পদ ক্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যবহার করা হয়; ব্যাংকঋণ, শেয়ার ও বন্ড এর উল্লেখযোগ্য উৎস।
উদ্দীপকে জনাব আলীম ব্যবসায়ের আয়তন বাড়ানোর জন্য ব্যাংক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ নিয়েছেন। ঋণের মেয়াদ ও সম্প্রসারণমূলক উদ্দেশ্য—দুই বৈশিষ্ট্যই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তিনি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
জনাব আলীম তারল্য বনাম মুনাফা নীতি অনুসরণ করে ব্যবসায়ের অর্থ ব্যবস্থাপনা করছেন।
এ নীতি অনুযায়ী ব্যবসায়ে এমন পরিমাণ নগদ অর্থ রাখতে হয় যাতে দৈনন্দিন ব্যয় ও স্বল্পমেয়াদি দায় সময়মতো পরিশোধ করা যায়, আবার অতিরিক্ত নগদ অলস রেখে সম্ভাব্য মুনাফাও নষ্ট না হয়। অর্থাৎ তারল্য ও মুনাফার মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।
উদ্দীপকে তিনি দৈনিক বিক্রয়ের সব অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে পরিচালন ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অংশ হাতে রাখেন। এতে ব্যাংক আমানত থেকে কিছু সুদ কম পেলেও উপকরণ, মজুরি ও অন্যান্য চলতি ব্যয় নির্বাহে নগদ ঘাটতি হয় না।
হাতে প্রয়োজনীয় নগদ রাখা ব্যবসায়ের কার্যক্রম সচল ও স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধে সহায়ক; অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে রাখায় আয়ও হয়। অতএব, জনাব আলীম তারল্য ও মুনাফার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য রেখে অর্থায়নের নীতিটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করেছেন।
ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংযোজন ও বাজারজাত করাকে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন বলে।
নতুন পণ্যের আয়ুষ্কাল, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়, বাজারের চাহিদা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ মূলধন বাজেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়। এতে লাভজনক পণ্য নির্বাচন, ঝুঁকি বণ্টন এবং বৈচিত্র্যায়নের সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ৪ কোটি বা ৪০০ লক্ষ টাকা এবং আয়ুষ্কাল ৪ বছর। অবশিষ্ট মূল্য শূন্য ধরে বার্ষিক অবচয় = ৪০০ ÷ ৪ = ১০০ লক্ষ টাকা।
১ম বছর: করযোগ্য মুনাফা = ২৪০ − ৪৮ − ১০০ = ৯২ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ৯২ × ৭০% = ৬৪.৪ লক্ষ টাকা
২য় বছর: করযোগ্য মুনাফা = ২৮০ − ৫৬ − ১০০ = ১২৪ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ১২৪ × ৭০% = ৮৬.৮ লক্ষ টাকা
৩য় বছর: করযোগ্য মুনাফা = ৪০ − ৮ − ১০০ = −৬৮ লক্ষ টাকা; কর-সুবিধাসহ নিট ক্ষতি = −৬৮ × ৭০% = −৪৭.৬ লক্ষ টাকা
৪র্থ বছর: করযোগ্য মুনাফা = ১৬০ − ৩২ − ১০০ = ২৮ লক্ষ টাকা; নিট মুনাফা = ২৮ × ৭০% = ১৯.৬ লক্ষ টাকা
গড় নিট মুনাফা = (৬৪.৪ + ৮৬.৮ − ৪৭.৬ + ১৯.৬) ÷ ৪ = ৩০.৮ লক্ষ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (৪০০ + ০) ÷ ২ = ২০০ লক্ষ টাকা
গড় মুনাফার হার = (৩০.৮ ÷ ২০০) × ১০০ = ১৫.৪%
অতএব, প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার ১৫.৪%।
জনাব আদনানের বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রকল্পে মূলধন বাজেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূলধন বাজেটিংয়ের গড় মুনাফার হার, পে-ব্যাক সময় ও নিট বর্তমান মূল্য প্রভৃতি পদ্ধতি দিয়ে প্রত্যাশিত আয়, ব্যয়, নগদ প্রবাহ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়। এতে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য কি না বিনিয়োগের আগেই জানা যায়।
উদ্দীপকে আধুনিক যন্ত্র কেনার জন্য ৪ কোটি টাকা চার বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে এবং জনাব আদনান ২৫% মুনাফা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পের গড় মুনাফার হার মাত্র ১৫.৪%, যা তাঁর প্রত্যাশিত ২৫%-এর চেয়ে ৯.৬ শতাংশ পয়েন্ট কম।
মূলধন বাজেটিং প্রয়োগ না করলে তিনি কম লাভজনক প্রকল্পে বিপুল অর্থ আবদ্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতেন। এই বিশ্লেষণ প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা বা বর্জনের যৌক্তিক ভিত্তি দিয়েছে। তাই তাঁর বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে মূলধন বাজেটিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
একটি বিনিয়োগ নির্বাচন করার ফলে পরবর্তী সর্বোত্তম বিকল্প থেকে যে আয় ত্যাগ করতে হয়, তাকে সুযোগ ব্যয় বলে।
যেমন, জমিতে বিনিয়োগের কারণে ৮% সুদদায়ী ব্যাংক আমানতের সুযোগ ত্যাগ করা হলে জমিতে বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় হলো ত্যাগ করা ৮% আয়। সুযোগ ব্যয় সরাসরি নগদ ব্যয় না হলেও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে তা বিবেচ্য।
আলফা ব্যাংকে বর্তমানে কত টাকা জমা রাখতে হবে তা বর্তমান মূল্য সূত্রে নির্ণয় করতে হবে।
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = ২,০০,০০০ টাকা
বার্ষিক নামিক হার, i = ৮% = ০.০৮
ষান্মাসিক চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা, m = ২
মেয়াদ, n = ৪ বছর
$PV = rac\{FV\}\{(1 + i/m)^{nm}\}$
$PV = rac\{২,০০,০০০\}\{(1 + ০.০৮/২)^{৪×২}\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{(১.০৪)^৮\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{১.৩৬৮৫৬৯\}$
$= ১,৪৬,১৩৮.০৪$ টাকা প্রায়
অতএব, জনাব তাহমিদকে আলফা ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১,৪৬,১৩৮.০৪ টাকা জমা রাখতে হবে।
একই ২,০০,০০০ টাকা ভবিষ্যৎ মূল্য পেতে যে ব্যাংকে বর্তমানে কম অর্থ জমা দিতে হবে, সেটিই অধিক লাভজনক।
গামা ব্যাংকের ক্ষেত্রে FV = ২,০০,০০০ টাকা, i = ৮.৫% = ০.০৮৫, m = ৪ এবং n = ৪ বছর
$PV = rac\{FV\}\{(1 + i/m)^{nm}\}$
$PV = rac\{২,০০,০০০\}\{(1 + ০.০৮৫/৪)^{৪×৪}\}$
$= rac\{২,০০,০০০\}\{(১.০২১২৫)^{১৬}\}$
$= ১,৪২,৮৬২.০৫$ টাকা প্রায়
আলফা ব্যাংকে প্রয়োজন ১,৪৬,১৩৮.০৪ টাকা, আর গামা ব্যাংকে প্রয়োজন ১,৪২,৮৬২.০৫ টাকা। গামা ব্যাংকে প্রায় ৩,২৭৫.৯৯ টাকা কম জমা দিয়েই একই ভবিষ্যৎ মূল্য পাওয়া যাবে। তাই জনাব তাহমিদের জন্য গামা ব্যাংকে টাকা জমা রাখা অধিক লাভজনক।
ব্যাংক জনগণের ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গঠন করে।
বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের তহবিল বাড়ায় এবং আমানতকারীর সঞ্চয়কে মূলধনে রূপ দেয়। ব্যাংক এ অর্থ ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে সরবরাহ করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশের মূলধন গঠনে সহায়তা করে।
‘পায়রা ব্যাংক লি.’-এর সামাজিক অবদান বা সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।
ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়া। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র ও মেধাবী এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করছে। মুনাফার অংশ শিক্ষাবিস্তারে ব্যয় করার মাধ্যমে পায়রা ব্যাংক সামাজিক অবদানের উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।
‘পায়রা ব্যাংক লি.’-এর কার্যক্রম ব্যাংকিং ব্যবসায়ের প্রচার নীতির যথার্থ প্রয়োগ।
প্রচার নীতি অনুযায়ী ব্যাংক তার সেবা, দক্ষতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম উপযুক্ত ও বোধগম্য মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরে। কার্যকর প্রচার গ্রাহকের আস্থা, পরিচিতি ও সুনাম বাড়িয়ে ব্যাংকের প্রসারে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য অনলাইন নিবন্ধনের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচার করেছে। এতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বৃত্তির তথ্য পেয়েছে এবং ব্যাংকের সমাজকল্যাণমূলক কাজ দেশব্যাপী পরিচিত হয়েছে।
ফলে বিজ্ঞাপনটি একই সঙ্গে জনসেবা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছিয়েছে এবং ব্যাংকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও পরিচিতি বৃদ্ধি করেছে। অতএব, প্রচার নীতির আলোকে পায়রা ব্যাংকের কার্যক্রম যৌক্তিক ও কার্যকর।