কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণে ইরা ব্যাংক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক।
এ ধরনের বিশেষায়িত ব্যাংক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাকে সহজ শর্তে ঋণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। রায়হানের কাঠের শো-পিস তৈরি ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প এবং ইরা ব্যাংক এ কাজে ঋণ দিয়েছে।
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ঋণ মঞ্জুরের নীতি মেনে চললে ইরা ব্যাংক সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে পারবে।
ঋণ দেওয়ার আগে উদ্যোক্তার চরিত্র, সামর্থ্য, মূলধন, জামানত, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লাভজনকতা যাচাই করা উচিত। ঋণ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তদারক এবং পরিশোধসূচি অনুসরণ করলে খেলাপির ঝুঁকি কমে। যথাযথ যাচাই ছাড়া ঋণ দেওয়াই ব্যাংকের সমস্যার কারণ; তাই নীতিগুলোর প্রয়োগ যৌক্তিক।
অঞ্চলভিত্তিক শ্রেণিতে ধরলা ব্যাংক শাখা ব্যাংক।
শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে একই নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু শাখা পরিচালিত হয়। মতিঝিলে প্রধান কার্যালয় এবং সারাদেশে বিভিন্ন কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা দেওয়া ধরলা ব্যাংকের শাখা ব্যাংকিং বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে।
হ্যাঁ, ধরলা ব্যাংকের ইলেকট্রনিক সেবা গ্রাহকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে।
ডেবিট কার্ডে নিজের আমানত থেকে ২৪ ঘণ্টা নগদ উত্তোলন ও মূল্য পরিশোধ, ক্রেডিট কার্ডে নির্ধারিত ঋণসীমায় জরুরি কেনাকাটা এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে দূর থেকে অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ ও হিসাব দেখা যায়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ কমে, নগদ বহনের ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং দ্রুত ও সহজ লেনদেন সম্ভব হয়।
তহবিল সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তহবিলের যথাযথ ব্যবহারসংক্রান্ত প্রক্রিয়াই অর্থায়ন।
অর্থায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মূলধন কাঠামো নির্ধারণ, উপযুক্ত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং লাভজনক খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সুমি ব্যবসায় অর্থায়ন করেছেন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যাবলিকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে।
উদ্দীপকে সুমি সমবায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মুরগির ফার্ম স্থাপন করে আয় ও মুনাফা অর্জন করেছেন। তাই তার অর্থায়নটি ব্যবসায় অর্থায়ন।
সুমির ফার্মটি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থায়নে অবদান রেখেছে।
ব্যবসায় অর্থায়নে সংগৃহীত তহবিল উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হলে পণ্য উৎপাদন, আয় ও সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
সুমি সমবায় ব্যাংকের ঋণ মুরগির ফার্মে বিনিয়োগ করেছেন। ফার্মের পরিধি বাড়ায় তিনি কর্মচারী নিয়োগ করেছেন; ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে।
ফার্মের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি সুমির পরিবারের সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদন ও জাতীয় আয় বাড়িয়েছে। অন্যদেরও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করেছে। অতএব, ফার্মটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে।
ব্যবসায়ের ঝুঁকি বণ্টন ও আয় বৃদ্ধির জন্য পণ্য বৈচিত্র্যায়ন করা হয়।
একটি পণ্যে ক্ষতি হলে অন্য পণ্যের মুনাফা দিয়ে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। একই সঙ্গে নতুন বাজার সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।
গড় নিট মুনাফা
= (৫৫,০০০ + ৬০,০০০ + ৭৫,০০০ + ৮৫,০০০ + ৯০,০০০) ÷ ৫
= ৭৩,০০০ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (৫,০০,০০০ + ০) ÷ ২ = ২,৫০,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = (৭৩,০০০ ÷ ২,৫০,০০০) × ১০০ = ২৯.২%
অতএব, শ্যামাসুন্দর প্রকল্পের গড় মুনাফার হার ২৯.২%।
বাৎসরিক নগদ আন্তঃপ্রবাহ = নিট মুনাফা + অবচয়
| বছর | নিট মুনাফা | অবচয় | নগদ প্রবাহ | ক্রমযোজিত নগদ প্রবাহ |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ৫৫,০০০ | ১,০০,০০০ | ১,৫৫,০০০ | ১,৫৫,০০০ |
| ২ | ৬০,০০০ | ১,০০,০০০ | ১,৬০,০০০ | ৩,১৫,০০০ |
| ৩ | ৭৫,০০০ | ১,০০,০০০ | ১,৭৫,০০০ | ৪,৯০,০০০ |
| ৪ | ৮৫,০০০ | ১,০০,০০০ | ১,৮৫,০০০ | ৬,৭৫,০০০ |
| ৫ | ৯০,০০০ | ১,০০,০০০ | ১,৯০,০০০ | ৮,৬৫,০০০ |
৩ বছর শেষে অপরিশোধিত বিনিয়োগ = ৫,০০,০০০ − ৪,৯০,০০০ = ১০,০০০ টাকা
পে-ব্যাক সময় = ৩ + (১০,০০০ ÷ ১,৮৫,০০০)
= ৩.০৫ বছর
৩.০৫ বছর প্রকল্পের ৫ বছরের আয়ুষ্কালের চেয়ে কম। তাই প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য।
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = ১০,০০,০০০ টাকা
নামিক বার্ষিক সুদের হার, r = ৭.৫% = ০.০৭৫
সময়, n = ৮ বছর; বছরে চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা, m = ৪
বর্তমান মূল্য, PV = FV ÷ (1 + r/m)ᵐⁿ
= ১০,০০,০০০ ÷ (1 + ০.০৭৫/৪)³²
= ৫,৫১,৮৬৯.১৩ টাকা (প্রায়)
অতএব, আট বছর শেষে ১০ লক্ষ টাকা পেতে জনাব নেহালকে 'সাফা' ব্যাংকে প্রায় ৫,৫১,৮৬৯.১৩ টাকা জমা রাখতে হবে।
'সুহেলা' ব্যাংকের ঋণের বর্তমান মূল্য, PV = ২২,০০,০০০ টাকা
নামিক বার্ষিক হার, r = ৮% = ০.০৮
সময়, n = ১০ বছর; ষান্মাসিক চক্রবৃদ্ধির জন্য m = ২
ভবিষ্যৎ মূল্য, FV = PV(1 + r/m)ᵐⁿ
= ২২,০০,০০০(1 + ০.০৮/২)²⁰
= ২২,০০,০০০ × ২.১৯১১২৩
= ৪৮,২০,৪৭০.৯১ টাকা (প্রায়)
'ঝুমা' ব্যাংকে মেয়াদ শেষে পরিশোধ করতে হবে ৫০,০০,০০০ টাকা। 'সুহেলা' ব্যাংকে পরিশোধ কম হবে = ৫০,০০,০০০ − ৪৮,২০,৪৭০.৯১ = ১,৭৯,৫২৯.০৯ টাকা। তাই অর্থের সময়মূল্যের ভিত্তিতে 'সুহেলা' ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া অধিক যৌক্তিক।
জনাব সাব্বিরের ঋণ গ্রহণ অর্থায়ন সিদ্ধান্তের অন্তর্গত।
প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তহবিল কোন উৎস থেকে, কত পরিমাণে এবং কী শর্তে সংগ্রহ করা হবে—এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে অর্থায়ন সিদ্ধান্ত বলে। সাব্বির ব্যবসায় সম্প্রসারণের তহবিল সংগ্রহে ৯% সুদে ১০ বছরের ব্যাংক ঋণ নির্বাচন করেছেন। তাই এটি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।
জনাব সাব্বির তারল্য বনাম মুনাফা নীতি লঙ্ঘন করেছেন।
এই নীতি অনুযায়ী ব্যবসায়ে দৈনন্দিন দায় ও চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটানোর মতো তারল্য রেখে অবশিষ্ট অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে হয়। অতিরিক্ত নগদ রাখলে মুনাফা কমে, আবার অতিরিক্ত বিনিয়োগ করলে তারল্য-সংকট হয়।
সাব্বির বিক্রীত পণ্যের সম্পূর্ণ অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে বালির দাম কম থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনে মজুদ করতে পারেননি। সস্তায় বালি কেনার সুযোগ হারিয়ে তাঁর উৎপাদন ও সম্ভাব্য মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতএব, নগদ ও বিনিয়োগের ভারসাম্য না রাখায় তাঁর কার্যক্রম তারল্য বনাম মুনাফা নীতির পরিপন্থী।
জনাব দিদারের 'গ' বিনিয়োগটি রূপান্তরযোগ্য বন্ড।
বন্ডে বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট হারে সুদ পান এবং সাধারণত সম্পদ বা দলিলের জামানতের কারণে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। রূপান্তরযোগ্য বন্ডের শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতে বন্ডকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করতে পারেন। নিশ্চিত আয়, জামানত ও শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ—তিনটি বৈশিষ্ট্যই 'গ' বিনিয়োগে থাকায় এটি রূপান্তরযোগ্য বন্ড।
জনাব দিদারের জন্য 'খ' অর্থাৎ অগ্রাধিকার শেয়ারে বিনিয়োগ বেশি উপযুক্ত।
'ক' হলো সাধারণ শেয়ার; এতে ভোটাধিকার ও মালিকানা-নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকলেও লভ্যাংশ অনির্দিষ্ট। 'খ' হলো অগ্রাধিকার শেয়ার; এর মালিকরা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান এবং লভ্যাংশ বণ্টন ও কোম্পানি অবসায়নের সময় সম্পদ ফেরতে সাধারণ শেয়ারমালিকদের আগে অগ্রাধিকার পান।
উদ্দীপকে দিদার নিশ্চিত আয় প্রত্যাশা করেন। এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে অগ্রাধিকার শেয়ারের নির্দিষ্ট লভ্যাংশ ও অগ্রাধিকারমূলক দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই 'ক'-এর তুলনায় 'খ' শেয়ার তাঁর জন্য অধিক উপযুক্ত।
তৃতীয় ধাপের মুদ্রার সৃষ্টি ও ব্যবহারের সঙ্গে চতুর্থ ধাপের ব্যাংক ব্যবস্থার প্রবর্তনের পরিপূরক সম্পর্ক রয়েছে।
মুদ্রার প্রচলনে লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থের নিরাপদ সংরক্ষণ, স্থানান্তর, ঋণদান ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির জন্য ব্যাংকের প্রয়োজন হয়। আবার ব্যাংক আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মুদ্রাকে আরও সচল করে। মুদ্রা ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চলে না, আর ব্যাংক ছাড়া বৃহৎ পরিসরে মুদ্রার নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার কঠিন। তাই ধাপ দুটি পরস্পর নির্ভরশীল।
মুদ্রা সর্বজনগ্রাহ্য বিনিময়ের মাধ্যম হওয়ায় দ্রব্যের বিনিময়ে দ্রব্য দেওয়ার প্রয়োজন দূর করেছে। ফলে চাহিদার দ্বৈত সমাপতন ছাড়াই যে কেউ মুদ্রা দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা কিনতে পারে।
মুদ্রা মূল্যের পরিমাপক হিসেবে বিভিন্ন পণ্যের দাম একই এককে প্রকাশ ও তুলনা করতে সাহায্য করে। এটি মূল্য সঞ্চয়ের বাহন হওয়ায় বর্তমান আয় ভবিষ্যতের জন্য রাখা যায়; স্থগিত দেনা পরিশোধের মান হিসেবেও ভবিষ্যৎ লেনদেন সহজ করে। পাশাপাশি মূল্য স্থানান্তরের মাধ্যমে দূরবর্তী লেনদেনও সম্ভব হয়। তাই মুদ্রার কার্যাবলি দ্রব্য বিনিময়কে দ্রুত, সহজ ও সাবলীল করেছে।
'সুরভী ব্যাংক'
➤ ঋণ গ্রহণের জন্য গ্রাহককে হিসাব খুলতে বলেন।
➤ গ্রাহক সুমি তার হিসাব থেকে ছেলের হিসাবে টাকা পাঠালেন।
➤ গ্রাহকের জীবন বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ।
'মালতী ব্যাংক'
➤ 'মালতী' ব্যাংক 'সুরভী' ব্যাংকের ঋণের সুদ ৯% নির্ধারণ করে দেন।
➤ বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ প্রদানে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
➤ মূল্যস্তর কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায় তা নিয়ে সেমিনার আয়োজন করেন।
'সুরভী' ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
মুনাফার উদ্দেশ্যে আমানত গ্রহণ, ঋণদান, অর্থ স্থানান্তর ও গ্রাহকের পক্ষে বিভিন্ন অর্থ পরিশোধকারী ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। সুরভী ব্যাংক হিসাব খুলে ঋণ দেয়, এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ পাঠায় এবং গ্রাহকের বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। এসবই বাণিজ্যিক ব্যাংকের মৌলিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ।
মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে 'মালতী' ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার ও ঋণনীতি নির্ধারণ, বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্দেশনা, মুদ্রা ও ঋণের জোগান নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখার কাজ করে। উদ্দীপকে মালতী ব্যাংক সুরভী ব্যাংকের ঋণের সুদ ৯% নির্ধারণ করছে, অন্যান্য ব্যাংকের ঋণদানে নির্দেশনা দিচ্ছে এবং মূল্যস্থিতি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছে।
এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় খাতে ঋণপ্রবাহ এবং ব্যাংকব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তাই দেশের মুদ্রাবাজার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মালতী ব্যাংকের ভূমিকা অপরিহার্য।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণে 'আধুনিক' ব্যাংক একটি পরিবহন ব্যাংক।
পরিবহন খাতের উন্নয়নে যানবাহন নির্মাণ বা ক্রয়, যন্ত্রাংশ আমদানি, মেরামত ও আধুনিকীকরণের জন্য বিশেষায়িত ঋণদানকারী ব্যাংককে পরিবহন ব্যাংক বলে। রায়হানের নতুন ট্রাক তৈরি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ কেনার জন্য আধুনিক ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। তাই এর কার্যক্রম পরিবহন ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'আধুনিক' ব্যাংক নিরাপত্তার নীতি ও সেবার নীতি অনুসরণ করেছে।
নিরাপত্তার নীতি অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার সততা, ব্যবসায়িক দক্ষতা, সুনাম, লাভজনকতা ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য যাচাই করতে হয়। আধুনিক ব্যাংক রায়হানের এসব বিষয় যাচাই করে ঋণ অনুমোদন করেছে; ফলে ঋণ ফেরত পাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।
সেবার নীতি অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিংয়ে গ্রাহককে প্রয়োজনোপযোগী, দ্রুত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। ব্যাংকটি ঋণের পাশাপাশি রায়হানকে আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধাও দিয়েছে। তাই এর কার্যক্রমে নিরাপত্তা ও সেবা—উভয় নীতির যথাযথ প্রয়োগ ঘটেছে।
আদনান সাহেবের প্রাথমিক কার্যক্রম ঝুঁকি বণ্টন ও বৈচিত্র্যায়ণ নীতির পরিপন্থী ছিল।
এ নীতিতে সব অর্থ একটি পণ্য বা সম্পদে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন পণ্য বা সম্পদে বণ্টন করা হয়। তিনি শুরুতে শুধু চিকিৎসাবিষয়ক বই বিক্রি করায় একটি পণ্যের চাহিদার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন হন।
আদনান সাহেবের পরবর্তী পদক্ষেপ যৌক্তিক, কারণ তিনি পণ্য বৈচিত্র্যায়ণের মাধ্যমে ঝুঁকি বণ্টন করেছেন।
চিকিৎসাবিষয়ক বইয়ের পাশাপাশি কবিতা, গল্প, ধর্মীয় ও শিক্ষণীয় বই রাখায় ভিন্ন রুচি ও প্রয়োজনের বেশি ক্রেতা আকৃষ্ট হয়েছে। কোনো এক শ্রেণির বইয়ের বিক্রয় কমলে অন্য শ্রেণির বিক্রয় সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। ফলে মোট বিক্রয় ও মুনাফা বেড়েছে এবং একক পণ্যের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি কমেছে।
সাকি সাহেবের অর্থায়ন বহিস্থ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন।
গ্রামীণ মহাজনের ঋণ ব্যবসায়ের বাইরের উৎস থেকে আসে এবং সাধারণত অল্প মেয়াদের জন্য উচ্চ সুদে নেওয়া হয়। তিনি ১০% সুদে মহাজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ের চলতি পণ্য কিনেছেন; তাই এটি বহিস্থ স্বল্পমেয়াদি তহবিলের উৎস।
সাকি সাহেব তারল্য বনাম মুনাফা নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি।
এ নীতিতে দৈনন্দিন দায় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় নগদ রেখে অবশিষ্ট অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে হয়। তিনি প্রতিদিনের বিক্রয়লব্ধ অর্থের বেশিরভাগ পুনরায় পণ্যে বিনিয়োগ করছেন, কিন্তু পরিচালন ব্যয় ও জরুরি দায়ের জন্য কাম্য নগদ রাখার তথ্য নেই। এতে মুনাফার সম্ভাবনা বাড়লেও নগদ সংকট ও ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যর্থতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
গোধূলি প্রকল্পের গড় আয়
= (২৫% + ৩০% + ২০% + ১৫% + ২৫%) ÷ ৫
= ২৩%
নমুনা আদর্শ বিচ্যুতি, σ
= √[{(২৫−২৩)² + (৩০−২৩)² + (২০−২৩)² + (১৫−২৩)² + (২৫−২৩)²} ÷ ৪]
= √[(৪ + ৪৯ + ৯ + ৬৪ + ৪) ÷ ৪]
= √৩২.৫
= ৫.৭০% (প্রায়)
অতএব, গোধূলি প্রকল্পের ঝুঁকি প্রায় ৫.৭০%।
সন্ধ্যা প্রকল্পের গড় আয়
= (২০% + ২৫% + ১৫% + ২০% + ২৫%) ÷ ৫
= ২১%
σ = √[{(২০−২১)² + (২৫−২১)² + (১৫−২১)² + (২০−২১)² + (২৫−২১)²} ÷ ৪]
= √[(১ + ১৬ + ৩৬ + ১ + ১৬) ÷ ৪]
= √১৭.৫
= ৪.১৮% (প্রায়)
গোধূলির ঝুঁকি ৫.৭০% এবং সন্ধ্যার ঝুঁকি ৪.১৮%। কম আদর্শ বিচ্যুতি কম ঝুঁকি নির্দেশ করে; তাই সন্ধ্যা প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে সাফা ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের সঞ্চয় আমানত হিসেবে গ্রহণ করে, ঋণ দেয় এবং চেক ও ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মুদ্রা সৃষ্টি বা প্রচলন করে। গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষের আমানত গ্রহণ এবং পরোক্ষ মুদ্রা প্রচলন—দুটি বৈশিষ্ট্যই সাফা ব্যাংকে রয়েছে।
সাফা ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মারওয়া ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক; তাদের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রক, সহযোগী ও পারস্পরিক নির্ভরশীল।
মারওয়া ব্যাংক নোট ও মুদ্রা ইস্যু করে, সাফাকে অনুমোদন ও তত্ত্বাবধান করে, নগদ সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, নিকাশঘরে আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা মেটায় এবং শেষ আশ্রয়ের ঋণদাতা হিসেবে সহায়তা দেয়। সাফা ব্যাংক আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও আমানত-মুদ্রা সৃষ্টি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা ও ঋণনীতি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।
GT ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক—বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক হিসেবে নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংককে লাইসেন্স ও তালিকাভুক্তি দেয় এবং আইন ও বিধি মানা হচ্ছে কি না যাচাই করে। বৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে চালু হওয়া GT ব্যাংক তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠিত।
নিরাপত্তার নীতি অনুসারে মি. বরুনকে ঋণ দেওয়া যুক্তিসংগত।
ব্যাংক ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার আয় ও পরিশোধক্ষমতা, ঋণের উদ্দেশ্য এবং জামানতের দলিল যাচাই করে। বরুনের সক্ষমতা যাচাই হয়েছে এবং গৃহনির্মাণ ঋণের বিপরীতে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। তিনি খেলাপি হলে ব্যাংক আইনানুগভাবে জামানতি সম্পদ বিক্রি করে পাওনা আদায় করতে পারবে। ফলে ঋণের নিরাপত্তা ও আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
জনাব তাহসিনের চলতি হিসাব রয়েছে।
চলতি হিসাবে প্রয়োজনমতো বহুবার অর্থ জমা ও উত্তোলন করা যায় এবং এটি ব্যবসায়ীদের ঘন ঘন লেনদেনের জন্য উপযোগী। তাহসিন ব্যবসায়ী এবং নিজের হিসাব থেকে যতবার ইচ্ছা টাকা তুলতে পারেন—এগুলো চলতি হিসাবের বৈশিষ্ট্য।
বোর্ড ব্যাংকের এনি ব্রাঞ্চ বা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ করে।
দেশব্যাপী অনলাইন-সংযুক্ত শাখা থাকলে একটি শাখায় হিসাবধারী গ্রাহক অন্য জেলার শাখা থেকেও অর্থ উত্তোলন, জমা ও স্থানান্তর করতে পারেন। তাহসিন কুয়াকাটায় গিয়ে স্থানীয় শাখার মাধ্যমে সময়মতো সস্তা পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পেরেছেন। এতে নগদ বহনের ঝুঁকি কমে, দ্রুত সুযোগ কাজে লাগানো যায় এবং ব্যবসায়িক লেনদেন অব্যাহত থাকে।