বর্নীল লি.-এর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতি অনুসরণ করা উচিত। এ নীতিতে চলতি বছরের মুনাফা কম হলেও পূর্বে গঠিত সঞ্চিতি তহবিল বা অবণ্টিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ও বাজারে সুনাম অর্জন করেছিল। চলতি বছর লভ্যাংশ বন্ধ হওয়ায় সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই আইনসঙ্গত সীমার মধ্যে সঞ্চিতি তহবিল ব্যবহার করে ধারাবাহিক লভ্যাংশ প্রদান করলে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণ হবে, শেয়ারের বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় থাকবে।
নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়:
উক্তিটি যথার্থ। জনি বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন, কারণ তাঁর বিনিয়োগে ভোটাধিকার নেই, নির্দিষ্ট পরিপক্বতার মেয়াদ আছে এবং কোম্পানি জামানত রেখেছে। অন্যদিকে আরিফের সাধারণ শেয়ারে ভোটাধিকার থাকলেও নির্দিষ্ট মেয়াদ ও জামানত নেই।
বন্ডে নির্দিষ্ট হারে সুদ ও নির্ধারিত সময়ে মূলধন ফেরতের চুক্তিগত দাবি থাকে। কোম্পানি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হলে বন্ডধারী জামানতি সম্পত্তির ওপর দাবি করতে পারেন এবং অবসায়নের সময় শেয়ারমালিকের আগেই তাঁর দাবি মেটানো হয়। সাধারণ শেয়ারের লভ্যাংশ অনিশ্চিত এবং অবসায়নে দাবি সবার পরে মেটে। তাই ঝুঁকির বিচারে জনির বন্ডে বিনিয়োগ আরিফের সাধারণ শেয়ারের তুলনায় অধিক নিরাপদ।
মেহেরিমা ব্যাংকের লকার সেবা নিলে ঘটনাটি এড়াতে পারতেন। ব্যাংক নির্ধারিত ভাড়ার বিনিময়ে গ্রাহককে সুরক্ষিত লকার দেয়, যেখানে অলংকার, মূল্যবান দলিল ও অন্যান্য সম্পদ রাখা যায়।
মেহেরিমা গহনা প্রতিবেশীর বাসায় রাখায় চুরির সঙ্গে সেগুলোও হারিয়েছে এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। গহনাগুলো ব্যাংকের লকারে রাখলে উন্নত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার পাওয়া যেত। ফলে চুরি ও পরবর্তী মনোমালিন্য—উভয়ের আশঙ্কাই অনেক কমত।
ব্যাংক ঋণমঞ্জুর নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে। ঋণ দেওয়ার আগে প্রস্তাবিত খাতের উৎপাদনশীলতা, লাভজনকতা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করা এ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাকওয়া ব্যাংক বুলবুলের ব্যবসা উৎপাদনশীল ও লাভজনক কি না যাচাই করে সন্তুষ্ট হওয়ার পর ঋণ দিয়েছে। উৎপাদনশীল প্রকল্পে ঋণ দিলে আয় সৃষ্টি হয় এবং সেই আয় থেকে ঋণ ফেরতের সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে ব্যাংক আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা ও নিজের মুনাফা—দুই দিকই বিবেচনা করেছে। তাই সিদ্ধান্তটি নীতিসংগত।
রায়হান অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করেছেন।
অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডার নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের আগে লভ্যাংশ ও অবসায়নের সময় মূলধন ফেরতের দাবি মেটানো হয়। সাধারণত তাদের ভোটাধিকার থাকে না। রায়হানের ক্ষেত্রে এসব বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।
অগ্রাধিকার শেয়ার কেনায় রায়হান নির্দিষ্ট হারে তুলনামূলক স্থিতিশীল লভ্যাংশ পাবেন। কোম্পানি মুনাফা বণ্টনের সময় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের আগে তার দাবি মেটাবে এবং কোম্পানি অবসায়িত হলে সম্পদ থেকেও সাধারণ শেয়ারের আগে মূলধন ফেরত পাওয়ার অগ্রাধিকার থাকবে।
এর বিনিময়ে সাধারণত ভোটাধিকার ও কোম্পানি পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না, এবং কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফায় অংশ সীমিত। স্থিতিশীল আয় ও দাবির অগ্রাধিকার চাইলে তার ক্রয়টি সুবিধাজনক।
দিনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গিয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকার ও অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, ব্যাংকব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক এবং জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করে। উদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠান সরকার, জনগণ ও অন্যান্য ব্যাংককে সহযোগিতা করে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করে—এসব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য।
'ক' ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক ও ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সহযোগিতা করে। এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের হিসাব ও বাধ্যতামূলক রিজার্ভ সংরক্ষণ করে, নিকাশঘরে আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা মেটায় এবং সাময়িক তারল্যসংকটে ঋণ দেয়।
এ ছাড়া লাইসেন্স, পরিদর্শন, ঋণনীতি ও নির্দেশনার মাধ্যমে নিরাপদ ব্যাংকব্যবস্থা নিশ্চিত করে। ফলে অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রম সচল ও স্থিতিশীল থাকে এবং জনগণের আস্থা বজায় থাকে।
জনসেবা প্রতিষ্ঠানটি অব্যবসায়ী বা অমুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
মানবকল্যাণ ও দরিদ্র-বঞ্চিত মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নকে অব্যবসায়ী অর্থায়ন বলে। রোকনের প্রতিষ্ঠান দরিদ্র শিশুদের সেবা করে; মুনাফা অর্জন তার মূল উদ্দেশ্য নয়। তাই এটি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন।
লোকমানের পাঠানো অর্থ রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করে। আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হলে বাণিজ্য ঘাটতি হয়। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা রপ্তানি আয় না হলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সামগ্রিক প্রাপ্তি ও রিজার্ভ বাড়ায়।
এই অর্থ দিয়ে আমদানি দায় পরিশোধ সহজ হয় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির চাপ কমে। তাই রোকনের বন্ধুর রেমিট্যান্স আমদানি-রপ্তানিজনিত বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
B ব্যাংক ঋণদানে নিরাপত্তা নীতি মেনে চলে।
এ নীতিতে ব্যাংক ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা, সততা, ঋণ পরিশোধক্ষমতা ও জামানতের পর্যাপ্ততা যাচাই করে। ঋণগ্রহীতা ব্যর্থ হলে জামানত বিক্রি করে অর্থ আদায় করা যায়। B ব্যাংক এসব বিষয় যাচাই করায় আমানতকারীর অর্থ ও ঋণের নিরাপত্তা রক্ষা হয়।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিতে A ব্যাংক একটি শিল্প ব্যাংক।
শিল্প ব্যাংক নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে ভূমি ক্রয়, কারখানা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও আধুনিকায়নের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়। A ব্যাংক ভূমি ও কারখানা নির্মাণে অর্থায়ন করে—এটি শিল্প ব্যাংকের প্রত্যক্ষ বৈশিষ্ট্য। তাই শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাংকটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
গোল্ডেন ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফার উদ্দেশ্যে আমানত গ্রহণ করে, ঋণ দেয় এবং বিভিন্ন বিনিময় ও প্রতিনিধিত্বমূলক সেবা প্রদান করে। পান্না ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদ পরিশোধ করেন, যা ব্যাংকের প্রধান আয়—এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য।
গোল্ডেন ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, বিনিময় বিল, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং হিসাব স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি করে। আমদানিকারকের ক্ষেত্রে প্রত্যয়পত্র, বৈদেশিক মুদ্রা ও দলিল সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দেনা-পাওনা মেটাতে সহায়তা করে।
এসব মাধ্যম নগদের বিকল্প সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে অর্থ পৌঁছায় এবং লেনদেনের রেকর্ড রাখে। ফলে পান্নার মতো গ্রাহকের আর্থিক লেনদেন দ্রুত ও নিরাপদে সম্পন্ন হয়।
রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হলে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।
বাংলাদেশ খাদ্যসামগ্রী, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও জ্বালানিসহ বহু পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে পাট, তৈরি পোশাক ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করে অর্জিত আয় আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম হলে দুইয়ের পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি হিসেবে দেখা দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে জনাব মারুফ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ব্যবসায়ের অর্থ কোন স্থায়ী সম্পদ বা দীর্ঘমেয়াদি খাতে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে সুবিধা ও আয় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলে। মেশিন বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ ক্রয় এ সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত।
কাজের চাহিদা বাড়ায় জনাব মারুফ ৫০,০০০ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন কিনেছেন। এতে বর্তমানে নগদ বহিঃপ্রবাহ হলেও মেশিনগুলো থেকে বহু বছর আয় পাওয়া যাবে। তাই তাঁর সিদ্ধান্তটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
অর্থায়নের উপযুক্ততার নীতি অনুসরণ না করাই জনাব মারুফের ব্যবসায়ের ব্যর্থতার প্রধান কারণ।
উপযুক্ততার নীতি অনুযায়ী স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি তহবিল থেকে এবং কাঁচামাল, মজুরি ও দৈনন্দিন ব্যয়ের মতো চলতি মূলধন স্বল্পমেয়াদি তহবিল থেকে সংগ্রহ করা উচিত। তহবিলের মেয়াদ ও ব্যবহারের মেয়াদ সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অর্থায়ন ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ে।
উদ্দীপকে তিনি নিজের ৫০,০০০ টাকা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ—সেলাই মেশিন—কেনায় নগদ সংকটে পড়েছেন। এরপর প্রয়োজনীয় উপকরণ, শ্রমিকের মজুরি ও দৈনন্দিন ব্যয় চালাতে পাঁচ বছর মেয়াদি NGO ঋণ নিয়েছেন। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল ঋণ দিয়ে পূরণ করেছেন।
দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন এবং মেশিন ক্রয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিলে তহবিলের ভারসাম্য বজায় থাকত। এই অসামঞ্জস্য তাঁর ঋণব্যয় ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে ব্যবসায়কে ব্যর্থ করেছে। অতএব, উপযুক্ততার নীতি লঙ্ঘনই ব্যর্থতার মূল কারণ।
ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংযোজন ও বাজারজাত করাকে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন বলে।
নতুন পণ্য চালুর আগে তার আয়ুষ্কাল, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়, বাজারের চাহিদা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন করতে হয়। মূলধন বাজেটিংয়ের মাধ্যমে এসব দীর্ঘমেয়াদি আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করে লাভজনক পণ্য বা প্রকল্প নির্বাচন করা যায়; ফলে বৈচিত্র্যায়নের ঝুঁকি কমে ও সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার নির্ণয়ে প্রথমে পাঁচ বছরের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বের করতে হবে।
১ম বছর: করযোগ্য মুনাফা = ২,৫০,০০০ − ৭৫,০০০ − ২০,০০০ − ১০,০০০ = ১,৪৫,০০০ টাকা; নিট মুনাফা = ১,৪৫,০০০ × ৬০% = ৮৭,০০০ টাকা
২য় বছর: নিট মুনাফা = (৪,০০,০০০ − ১,২০,০০০ − ২০,০০০ − ১০,০০০) × ৬০% = ১,৫০,০০০ টাকা
৩য় বছর: নিট মুনাফা = (৩,০০,০০০ − ৯০,০০০ − ২০,০০০ − ১০,০০০) × ৬০% = ১,০৮,০০০ টাকা
৪র্থ বছর: নিট মুনাফা = (২,০০,০০০ − ৬০,০০০ − ২০,০০০ − ১০,০০০) × ৬০% = ৬৬,০০০ টাকা
৫ম বছর: নিট মুনাফা = (১,৫০,০০০ − ৪৫,০০০ − ২০,০০০ − ১০,০০০) × ৬০% = ৪৫,০০০ টাকা
গড় নিট মুনাফা = (৮৭,০০০ + ১,৫০,০০০ + ১,০৮,০০০ + ৬৬,০০০ + ৪৫,০০০) ÷ ৫ = ৯১,২০০ টাকা
অবশিষ্ট মূল্য শূন্য ধরে, গড় বিনিয়োগ = (১০,০০,০০০ + ০) ÷ ২ = ৫,০০,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = (৯১,২০০ ÷ ৫,০০,০০০) × ১০০ = ১৮.২৪%
অতএব, জনাব আরমানের প্রকল্পের গড় মুনাফার হার ১৮.২৪%।
বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হওয়ায় জনাব আরমানের ব্যবসায়ে মূলধন বাজেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূলধন বাজেটিং হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রত্যাশিত আয়, ব্যয়, নগদ প্রবাহ ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া। এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিপুল অর্থ দীর্ঘ সময়ের জন্য আবদ্ধ থাকে এবং ভুল সিদ্ধান্ত সহজে সংশোধন করা যায় না।
উদ্দীপকে ব্যবসা আধুনিকায়নের জন্য ১০,০০,০০০ টাকা পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূলধন বাজেটিং প্রয়োগ করে বিক্রয়, চলতি ব্যয়, স্থায়ী ব্যয়, অবচয় ও কর বিবেচনায় প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার ১৮.২৪% পাওয়া গেছে। এতে প্রকল্পের সম্ভাব্য লাভ সম্পর্কে পরিমাপযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়।
এই বিশ্লেষণ জনাব আরমানকে বড় অঙ্কের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগ, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা আধুনিকায়নের সুফল বিচার করতে সাহায্য করবে। অতএব, তাঁর বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের যথার্থতা নিশ্চিত করতে মূলধন বাজেটিং অপরিহার্য।
ব্যাংক জনগণের ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গঠন করে।
চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী হিসাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকের তহবিল বাড়ায় এবং আমানতকারীর সঞ্চয়কে মূলধনে রূপ দেয়। ব্যাংক এই তহবিল ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে সরবরাহ করে জাতীয় মূলধন গঠনেও সহায়তা করে।
‘স্বপ্নিল ব্যাংক’-এর সামাজিক অবদান বা সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।
ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজে অবদান রাখা। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র ও মেধাবী এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করছে। মুনাফার অংশ শিক্ষাবিস্তারে ব্যয় করার মাধ্যমে ব্যাংকটি সামাজিক অবদান ও সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।
‘স্বপ্নিল ব্যাংক’-এর কার্যক্রম ব্যাংকিং ব্যবসায়ের প্রচার নীতির যথার্থ প্রয়োগ।
প্রচার নীতি অনুযায়ী ব্যাংক তার সেবা, কর্মদক্ষতা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম উপযুক্ত ও বোধগম্য মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরে। কার্যকর প্রচার গ্রাহকের আস্থা, পরিচিতি ও সুনাম বাড়ায় এবং ব্যাংকের প্রসারে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য অনলাইন নিবন্ধনের বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচার করেছে। এতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বৃত্তির খবর ও আবেদনপদ্ধতি জানতে পেরেছে; একই সঙ্গে ব্যাংকের সমাজকল্যাণমূলক কাজ দেশব্যাপী দৃশ্যমান হয়েছে।
ফলে ব্যাংকটি শুধু সম্ভাব্য উপকারভোগীদের কাছে তথ্য পৌঁছায়নি, নিজের পরিচিতি ও ইতিবাচক ভাবমূর্তিও বাড়িয়েছে। অতএব, প্রচার নীতির আলোকে ‘স্বপ্নিল ব্যাংক’-এর কার্যক্রম যৌক্তিক ও কার্যকর।
জনাব আসিফ বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
এই নীতি অনুযায়ী মূলধন একটিমাত্র পণ্য বা সেবায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। আসিফ পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে গল্প, উপন্যাস, নাটক, ধর্মীয় বই ও স্টেশনারি পণ্য রেখেছেন। ফলে আয়ের উৎস বেড়েছে এবং একটি পণ্যের বিক্রি কমলে অন্য পণ্যের আয় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে।
কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য জনাব আসিফের ঋণ গ্রহণ যৌক্তিক, যদি প্রত্যাশিত অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ ঋণের সুদ ও কিস্তির চেয়ে বেশি হয়।
কম্পিউটার একটি দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল সম্পদ। এটি দিয়ে কম্পোজ ও প্রিন্টিং সেবা চালু হলে নতুন আয় সৃষ্টি, বিদ্যমান গ্রাহকদের অতিরিক্ত সেবা এবং ব্যবসায়ের বৈচিত্র্যায়ন হবে। নিজের তহবিল অপর্যাপ্ত হলে সম্পদের আয়ুষ্কালের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মেয়াদি ঋণ ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য।
তবে ঋণের হার, কিস্তি, সম্ভাব্য চাহিদা ও নগদ প্রবাহ যাচাই করতে হবে। উদ্দীপকে মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে; তাই উপযুক্ত মেয়াদি ঋণ ও কিস্তি পরিকল্পনায় কম্পিউটার কেনার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।
জনাব ফয়সাল স্বল্পমেয়াদি বহিঃস্থ প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হিসেবে ব্যাংক ঋণ ব্যবহার করেছেন।
কাঁচামাল চলতি মূলধনের অংশ এবং চার মাসের প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি। তিনি X ব্যাংক থেকে চার মাসের জন্য ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংক একটি প্রাতিষ্ঠানিক উৎস এবং এক বছরের কম মেয়াদের ঋণ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন; তাই উৎসটি স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ।
ফয়সালের মেশিন সংগ্রহে লিজিং ব্যবহার যথার্থ।
লিজিংয়ে সম্পদ না কিনে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। এতে বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংক ঋণ ছাড়াই উৎপাদনশীল মেশিন ব্যবহার এবং ভাড়া কিস্তিতে পরিশোধ করা সম্ভব।
ফয়সাল পাঁচ বছরের জন্য মেশিন ভাড়া নিয়ে উৎপাদন চালু রেখেছেন। মেশিনের ব্যবহারকাল ও লিজের মেয়াদ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ব্যবসায়ের নগদ তহবিল কাঁচামাল ও চলতি ব্যয়ে ব্যবহারযোগ্য থাকে। তাই মেশিন সংগ্রহে লিজিং উপযুক্ত।
মি. আতিকের বিনিয়োগ ক্ষেত্রটি বন্ড।
বন্ড হলো ঋণ মূলধন সংগ্রহের লিখিত চুক্তিপত্র, যার বিপরীতে কোম্পানি সাধারণত স্থায়ী সম্পদ বা দলিল জামানত রাখে এবং নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয়। আতিক কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তির মূল্যবান কাগজপত্র জামানত হিসেবে রেখে বিনিয়োগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাই তিনি বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন।
আরিফের বিনিয়োগটি সাধারণ শেয়ার; এতে মালিকানা পাওয়া গেলেও ঝুঁকি বেশি—উক্তিটি যথার্থ।
সাধারণ শেয়ারমালিক কোম্পানির অংশীদার হন, ভোটাধিকার পান এবং কোম্পানির আয় বাড়লে বেশি লভ্যাংশ ও মূলধনি লাভের সুযোগ পান। তাই আরিফের অধিক আয়ের প্রত্যাশার সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে লভ্যাংশ নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক নয়, বাজারদর ওঠানামা করে এবং কোম্পানি অবসায়নে সাধারণ শেয়ারমালিকের দাবি সব পাওনাদারের পরে মেটানো হয়। ফলে সম্ভাব্য আয় বেশি হলেও মূলধন ও আয়ের ঝুঁকিও বেশি।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণে স্টার ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফার উদ্দেশ্যে আমানত গ্রহণ, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণদান এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা দেয়। আদিল স্টার ব্যাংকে নিয়মিত অর্থ জমা রাখেন ও প্রয়োজনে ঋণ নেন। তাই ব্যাংকটির কার্যক্রম বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মুন ব্যাংক একটি শিল্প ব্যাংক হওয়ায় আদিলের সেখানে যাওয়া যৌক্তিক।
শিল্প ব্যাংক নতুন শিল্প স্থাপন, ভূমি ও কারখানা নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং শিল্প সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও পরামর্শ দেয়। সাবান কারখানা নির্মাণে বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি অর্থ দরকার, যা শিল্প ব্যাংকের বিশেষায়িত ক্ষেত্র।
স্টার বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণত আমানত গ্রহণ ও স্বল্প-মধ্যমেয়াদি ঋণে বেশি সক্রিয়। তাই শিল্প স্থাপনের উপযোগী অর্থায়নের জন্য স্টার ব্যাংকের পরামর্শে মুন ব্যাংকের শরণাপন্ন হওয়া যথার্থ।
জনাব আনিসের অর্থায়ন পারিবারিক অর্থায়ন।
পরিবারের আয় ও অর্থের উৎস নির্ধারণ করে সদস্যদের কল্যাণে ব্যয়, সঞ্চয় ও ঘাটতি অর্থের সংস্থান করাকে পারিবারিক অর্থায়ন বলে। আনিস চাকরি ও কৃষি থেকে আয় করেন এবং পরিবারের ব্যবহারের জন্য রেফ্রিজারেটর কিনতে ঘাটতি অর্থ ঋণ হিসেবে সংগ্রহ করেন। তাই এটি পারিবারিক অর্থায়ন।
রেফ্রিজারেটর পরিবারের দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য ও তুলনামূলক ব্যয়বহুল সম্পদ। নিজস্ব অর্থের ঘাটতি থাকলে নিয়মিত চাকরি ও কৃষি-আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিস্তিতে ঋণ নিয়ে এটি কেনা যৌক্তিক হতে পারে। এতে একবারে বড় অঙ্কের অর্থের চাপ না দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন পূরণ হয়।
তবে ঋণের মেয়াদ সম্পদের ব্যবহারকাল ও কিস্তি তার পরিশোধক্ষমতার সঙ্গে মিলতে হবে এবং সুদসহ মোট ব্যয় গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে আনিসের ঋণসংস্থান উপযুক্ততার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যৌক্তিক।
জনাব আবিদ স্বল্পমেয়াদি অর্থসংস্থান করেন।
এক বছর বা তার কম সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য অর্থ স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন। তিনি ১০ মাসের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন এবং পরে ক্রেতার কাছ থেকে ভবিষ্যৎ পণ্য সরবরাহের শর্তে অগ্রিম নিয়েছেন। ক্রেতার অগ্রিম স্বল্পমেয়াদি বহিঃস্থ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস।
অর্থের সাময়িক ঘাটতি পূরণে ক্রেতার অগ্রিম গ্রহণ কার্যকর ও যৌক্তিক। এতে ব্যাংকঋণের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দ্রুত চলতি মূলধন পাওয়া যায়, সাধারণত সুদের ব্যয় থাকে না বা কম থাকে এবং ভবিষ্যৎ বিক্রয়ও নিশ্চিত হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের দায় তৈরি হয়; ব্যর্থ হলে সুনাম ও গ্রাহক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবিদ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে তার ব্যবস্থাটি উপযোগী।
জনাব ঝন্টুকে প্রদত্ত শেয়ারটি রাইট শেয়ার।
কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করলে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার অনুপাত অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা কেনার অধিকার দেওয়া হয়। ঝন্টু পুরোনো শেয়ারমালিক হওয়ায় নতুন শেয়ার কেনায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন; তাই এটি রাইট শেয়ার।
অবণ্টিত মুনাফার বিপরীতে শেয়ার বিতরণ করা বোনাস শেয়ার বা স্টক লভ্যাংশ প্রদান, যা যৌক্তিক হতে পারে। এতে নগদ অর্থ ব্যবসায়ে থেকে যায়, ফলে সম্প্রসারণ ও জরুরি প্রয়োজনের তহবিল মেলে; একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডাররা অতিরিক্ত শেয়ার পান।
বক কোম্পানি নগদ মুনাফা না বিলিয়ে শেয়ার দেওয়ায় তার তারল্য রক্ষা ও নিজস্ব মূলধন বৃদ্ধি পাবে। তবে বিনিয়োগকারীর তাৎক্ষণিক নগদ আয়ের চাহিদা থাকলে এটি কম সুবিধাজনক। ব্যবসার পুনর্বিনিয়োগ প্রয়োজন থাকলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
এসিসি প্রতিষ্ঠানটি কার্যভিত্তিক শ্রেণিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ দেয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে মুনাফা অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটি হিমেলের কাছ থেকে ৭% সুদে ২,০০,০০০ টাকা নিয়ে ১০% সুদে ১,০০,০০০ টাকা দিয়েছে—এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত গ্রহণ ও ঋণদানের বৈশিষ্ট্য।
রপ্তানিকারককে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রত্যয়পত্র ও দলিলের শর্ত অনুযায়ী ব্যাংক রপ্তানিকারককে পণ্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা বা অর্থায়ন দিলে সে নিশ্চিন্তে পণ্য উৎপাদন ও প্রেরণ করতে পারে।
এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের মধ্যে আস্থা তৈরি, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ হয়। ব্যাংক কমিশন ও বৈদেশিক মুদ্রা সেবার আয়ও পায়। তাই এসিসির ভূমিকা যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
সৈকত সাহেব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরি করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের নোট ও মুদ্রা প্রচলন করে এবং অন্যান্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের নীতি নির্ধারণ করে। তার প্রতিষ্ঠান নোট-মুদ্রা প্রচলন করে এবং B ব্যাংকের গঠন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে—তাই সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
B ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সৈকত সাহেবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবেদনকারীর মূলধন, পরিচালনা পর্ষদ, আর্থিক সক্ষমতা ও আইনগত শর্ত যাচাই করে লাইসেন্স দেয়; প্রতিষ্ঠার পর সংরক্ষণ অনুপাত, ঋণনীতি ও গ্রাহকস্বার্থ তদারক করে।
B ব্যাংক সর্বনিম্ন ২ ও সর্বোচ্চ ১৩ পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেসরকারি ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এটি আইনসম্মত ও নিরাপদভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে পারে না। তাই শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ব্যাংকব্যবস্থা গঠনে এ ভূমিকা যৌক্তিক।
রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হলে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেয়।
বাংলাদেশ খাদ্যসামগ্রী, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও জ্বালানিসহ বহু পণ্য আমদানি করে। বিপরীতে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি করে যে আয় হয়, তা আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম হওয়ায় প্রতিবছর বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
‘শাহেদপুর এন্টারপ্রাইজ’ একটি অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে মূলধন সরবরাহ করে এবং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে যে ব্যবসায় পরিচালনা করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এ ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি হলো অংশীদারদের পারস্পরিক আস্থা ও চুক্তি।
উদ্দীপকে করিম, রহিম ও তাদের আরও পাঁচ বন্ধু পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তি চুক্তিভিত্তিকভাবে যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেছেন। তাই ‘শাহেদপুর এন্টারপ্রাইজ’ অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
‘শাহেদপুর এন্টারপ্রাইজ’-এর সাফল্যের কারণ হলো অর্থায়নের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করা।
এ নীতি অনুযায়ী সব অর্থ একটি খাতে বিনিয়োগ না করে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প বা সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। এতে কোনো একটি প্রকল্পে ক্ষতি হলে অন্য প্রকল্পের আয় দিয়ে তা আংশিক বা সম্পূর্ণ পুষিয়ে নেওয়া যায় এবং সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি ১২ লক্ষ টাকা একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে তিনটি ভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। ফলে বিনিয়োগের ঝুঁকি একাধিক প্রকল্পে বণ্টিত হয়েছে এবং একটি প্রকল্পের প্রতিকূল ফল পুরো ব্যবসায়কে বিপর্যস্ত করতে পারেনি।
এই বৈচিত্র্য প্রতিষ্ঠানটির আয়ের স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে ও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনে সহায়তা করেছে। অতএব, বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির যথাযথ প্রয়োগই ‘শাহেদপুর এন্টারপ্রাইজ’-এর সাফল্যের প্রধান কারণ।
পারিবারিক অর্থায়নে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলো পূরণ করা হয়।
পরিবারের আয় সীমিত হলেও প্রয়োজন ও ব্যয়ের খাত অনেক। তাই পারিবারিক অর্থায়নের মাধ্যমে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো জরুরি ব্যয়কে আগে স্থান দিয়ে আয় বণ্টন করা হয় এবং সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করা হয়।
জনাব সাদমানের সিদ্ধান্তটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
ব্যবসায়ের সংগৃহীত বা উদ্বৃত্ত অর্থ কোন সম্পদ বা খাতে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ আয় পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলে। এতে প্রত্যাশিত আয়, ঝুঁকি ও মেয়াদ বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে আর্থিক ব্যবস্থাপক সাদমান ব্যবসায়ের ১,০০,০০০ টাকা উদ্বৃত্ত মুনাফা পাঁচ বছরের জন্য কোন ব্যাংকে জমা রাখবেন তা নির্ধারণ করছেন। উদ্বৃত্ত অর্থ লাভজনক খাতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
দুটি প্রস্তাব তুলনা করতে ‘খ’ ব্যাংকে জমার ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
বর্তমান মূল্য, PV = ১,০০,০০০ টাকা
বার্ষিক নামিক সুদের হার, i = ১০% = ০.১০
মাসিক চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা, m = ১২
মেয়াদ, n = ৫ বছর
$FV = PV(1 + i/m)^{nm}$
$FV = ১,০০,০০০(1 + ০.১০/১২)^{৫×১২}$
$= ১,০০,০০০(১.০০৮৩৩৩)^{৬০}$
$= ১,৬৪,৫২৭.৬০$ টাকা
‘ক’ ব্যাংক পাঁচ বছর পর দেবে ১,৫০,০০০ টাকা, কিন্তু ‘খ’ ব্যাংকে পাওয়া যাবে ১,৬৪,৫২৭.৬০ টাকা। অর্থাৎ ‘খ’ ব্যাংকে ১৪,৫২৭.৬০ টাকা বেশি পাওয়া যাবে। তাই জনাব সাদমানের ‘খ’ ব্যাংকে টাকা জমা রাখা উচিত।
যে নীতির আলোকে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখে, তাকে গোপনীয়তার নীতি বলে।
গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখতে ব্যাংক সাধারণত তাঁর অনুমতি ছাড়া হিসাবের স্থিতি বা লেনদেনের তথ্য অন্য কারও কাছে প্রকাশ করে না। তবে আইন বা আদালতের নির্দেশের মতো স্বীকৃত ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশ করা যায়।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণে ‘বরেন্দ্র ব্যাংক লি.’ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ ঋণ ও বিনিয়োগে ব্যবহার করে মুনাফা অর্জন করে। এটি শাখার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সাধারণ ব্যাংকিং সেবাও দেয়।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি সারা দেশে ৪৫২টি শাখার মাধ্যমে আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব বৈশিষ্ট্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ‘বরেন্দ্র ব্যাংক লি.’ একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ‘বরেন্দ্র ব্যাংক লি.’-এর নিরাপত্তার নীতি অনুসরণ করা উচিত।
নিরাপত্তার নীতি অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংক ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য, সততা, সুনাম ও ব্যবসায়ের অবস্থা যাচাই করে। পাশাপাশি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত ও সহজে নগদায়নযোগ্য জামানত গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা যাচাই করতে এবং পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে চায়। এসব পদক্ষেপ ঋণ ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখে।
ঋণগ্রহীতা সচ্ছল ও সৎ হলে সময়মতো ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা বাড়ে; কোনো অনাদায় ঘটলে জামানত থেকে পাওনা উদ্ধার করা যায়। অতএব, উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার নীতি অনুসরণ করাই ব্যাংকটির জন্য যৌক্তিক।
বর্নীল লি.-এর রেখে দেওয়া অংশটি সঞ্চিতি তহবিল।
নিট মুনাফার যে অংশ শেয়ারমালিকদের মধ্যে বিতরণ না করে ভবিষ্যৎ বিপর্যয়, ব্যবসায় সম্প্রসারণ বা অন্যান্য প্রয়োজন মোকাবিলার জন্য সংরক্ষণ করা হয়, তাকে সঞ্চিতি তহবিল বলে। এটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফাভিত্তিক অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের উৎস।
সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্নীল লি.-এর স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতি অনুসরণ করা উচিত।
স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতিতে প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর শেয়ারপ্রতি তুলনামূলক স্থির অঙ্কের লভ্যাংশ দেয়। মুনাফা বেশি হলে উদ্বৃত্তের একটি অংশ সঞ্চিতি তহবিলে রাখা হয় এবং মুনাফা কম হলে সেই তহবিলের অনুমোদিত অংশ ব্যবহার করে যুক্তিসংগত লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়।
বর্নীল লি. ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের জন্য তহবিল রেখেছে, কিন্তু এ বছর মুনাফা কম হওয়ায় লভ্যাংশ না দেওয়ায় বাজারে সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিরাপত্তা নষ্ট না করে সঞ্চিতি তহবিল থেকে লভ্যাংশ দিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে শেয়ারমালিকের আস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।
জনাব সুমন সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।
সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগকারী কোম্পানির মালিকানা ও ভোটাধিকার পান। এর লভ্যাংশ নির্দিষ্ট নয়; কোম্পানির আয় বাড়লে বেশি আয় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আবার মুনাফা কমলে আয় কমে বা বন্ধ হতে পারে। উদ্দীপকে সুমনের বিনিয়োগে ঝুঁকি ও অধিক আয়ের সম্ভাবনা—উভয়ই থাকায় এটি সাধারণ শেয়ার।
উক্তিটি যথার্থ; রিমনের বন্ডে বিনিয়োগ সুমনের সাধারণ শেয়ারের তুলনায় অধিক নিরাপদ।
সাধারণ শেয়ারের আয় অনির্দিষ্ট এবং কোম্পানি অবসায়নে সাধারণ শেয়ারমালিকের দাবি সবার শেষে মেটানো হয়। তাই সুমনের অধিক আয়ের সম্ভাবনার সঙ্গে ঝুঁকিও বেশি।
বন্ড সাধারণত স্থায়ী সম্পদ বা দলিলের জামানতে ইস্যু হয়, নির্দিষ্ট সুদ দেয় এবং অবসায়নে বন্ডধারীর দাবি শেয়ারমালিকের আগে পরিশোধ করা হয়। তাই আয় তুলনামূলক কম হলেও মূলধন ফেরতের নিশ্চয়তা বেশি। সুতরাং রিমনের বন্ডে বিনিয়োগ অধিক নিরাপদ।
জনাব জাহিদের অর্থায়ন ব্যবসায় অর্থায়ন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়াকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। জাহিদ নিজস্ব অর্থ ও ব্যাংক ঋণ সংগ্রহ করে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং মুনাফা অর্জন করেছেন। তাই এটি ব্যবসায় অর্থায়ন।
জনাব জাহিদ বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
এই নীতি অনুযায়ী তহবিল একটিমাত্র পণ্য বা খাতে না রেখে একাধিক পণ্য বা খাতে বিনিয়োগ করা হয়। এতে একটি পণ্যের বিক্রি কমলে অন্য পণ্যের আয় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে এবং সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
দুধ বিক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় জাহিদের বিক্রি কমেছিল। তিনি দুধের পাশাপাশি বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি শুরু করে আয়ের উৎস বাড়িয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পেয়েছেন। তাই তাঁর পদক্ষেপটি বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির যথার্থ প্রয়োগ।
হিমালয় ব্যাংকের কার্যক্রমে তারল্য নীতির প্রকাশ ঘটেছে।
তারল্য নীতি অনুযায়ী ব্যাংককে এমন পরিমাণ নগদ ও সহজে নগদায়নযোগ্য সম্পদ রাখতে হয়, যাতে গ্রাহকের দাবি যথাসময়ে পরিশোধ করা যায়। ব্যাংকটি আমানতের একটি অংশ সবসময় সংরক্ষণ করে গ্রাহকের প্রয়োজনমতো অর্থ ফেরত দিচ্ছে। তাই এটি তারল্য নীতির প্রয়োগ।
ঋণ প্রদানে হিমালয় ব্যাংক নিরাপত্তার নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে।
নিরাপত্তার নীতি অনুযায়ী ঋণ দেওয়ার আগে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা, সততা, ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্য জামানত যাচাই করতে হয়। এতে খেলাপির আশঙ্কা কমে এবং আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষিত থাকে।
হিমালয় ব্যাংক ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা পরীক্ষা করে এবং পর্যাপ্ত জামানত নিয়ে ঋণ দেয়। ঋণ ফেরত না এলে জামানত বিক্রি করে পাওনা আদায়ের সুযোগ থাকে। তাই পদক্ষেপটি নিরাপত্তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যৌক্তিক।
রাহাত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন।
ক্রেডিট কার্ডে ব্যাংক গ্রাহককে নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণসুবিধা দেয়। এ কার্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আমানতি হিসাব থাকা আবশ্যক নয়; গ্রাহক কেনাকাটা করে পরে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করেন। রাহাতের ব্যাংক হিসাব না থাকলেও তিনি কার্ডে মূল্য দিয়েছেন—তাই এটি ক্রেডিট কার্ড।
ফাহাদের কার্ডটি ডেবিট কার্ড এবং পর্যাপ্ত হিসাব-স্থিতি না থাকায় লেনদেনটি ব্যর্থ হয়েছে।
ডেবিট কার্ড ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থের বিপরীতে ব্যবহার করা যায়; এতে স্বয়ংক্রিয় ঋণসুবিধা নেই। কেনাকাটার মূল্য হিসাবের উপলভ্য স্থিতির বেশি হলে ব্যাংক অনুমোদন দেয় না।
অন্যদিকে রাহাতের ব্যাংক হিসাব না থাকলেও ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত ঋণসীমা থেকে মূল্য পরিশোধ হয়েছে। এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, ফাহাদের ডেবিট কার্ডে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকাই মূল্য পরিশোধে ব্যর্থতার কারণ।
কার্যভিত্তিক শ্রেণি অনুযায়ী কাবেরী ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
মুনাফার উদ্দেশ্যে জনগণের আমানত গ্রহণ, ঋণদান, অর্থ উত্তোলন-স্থানান্তর এবং ব্যবসায়িক ও বৈদেশিক বাণিজ্যসেবা প্রদানকারী ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। কাবেরী ব্যাংক শাখার মাধ্যমে আমানত, উত্তোলন ও ব্যবসায়িক সেবা দেয় এবং আমদানিতে সহায়তা করে। তাই এটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
কাবেরী ব্যাংক প্রত্যয়পত্র ও বৈদেশিক লেনদেনসেবার মাধ্যমে মাহাদীর মেশিন আমদানিতে সহায়তা করেছে।
প্রত্যয়পত্রে আমদানিকারকের ব্যাংক নির্ধারিত দলিল ও শর্ত পূরণ হলে বিদেশি রপ্তানিকারককে পণ্যমূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয়। এতে চীনা বিক্রেতা মেশিন পাঠাতে আস্থা পায় এবং মাহাদীর বাণিজ্যিক ঝুঁকি কমে।
ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও রূপান্তর, আমদানি দলিল প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেয়। ফলে কাবেরী ব্যাংক আর্থিক মধ্যস্থতাকারী ও প্রতিনিধি হিসেবে মেশিন ক্রয় ও আমদানি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রাজুর জন্য ট্রেজারি বিল বা সরকারি বন্ড উপযোগী।
সরকার ইস্যুকৃত এসব সিকিউরিটিতে নির্দিষ্ট হারে আয় পাওয়া যায় এবং আসল ও সুদ পরিশোধের পেছনে সরকারের দায় থাকে। তাই খেলাপির ঝুঁকি অত্যন্ত কম। রাজু ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বলে তার জন্য এ ধরনের ঝুঁকিমুক্ত বা স্বল্পঝুঁকির বিনিয়োগই উপযুক্ত।
সাজুর জন্য বিচার-বিশ্লেষণ করে সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।
ঝুঁকি ও প্রত্যাশিত আয়ের মধ্যে সাধারণত ধনাত্মক সম্পর্ক থাকে। সাধারণ শেয়ারের লভ্যাংশ ও বাজারমূল্য নিশ্চিত নয় বলে ঝুঁকি বেশি, কিন্তু সফল কোম্পানির ক্ষেত্রে উচ্চ লভ্যাংশ ও মূলধনি লাভের সম্ভাবনাও বেশি। সাজু অধিক লাভের আশায় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত—এ ঝুঁকি গ্রহণের সামর্থ্য তার বিনিয়োগ-পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ঝুঁকি কমাতে তাকে কোম্পানি বিশ্লেষণ ও বৈচিত্র্যায়ন করতে হবে।
হিজল প্রকল্পে চলতি খরচ বিক্রয়ের ৪০%, স্থায়ী খরচ ৫০,০০০ টাকা, অবচয় ২০,০০০ টাকা এবং করহার ৩০%।
১ম বছরের নিট মুনাফা = {২,০০,০০০ − ৮০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = ৩৫,০০০ টাকা।
২য় বছরের নিট মুনাফা = {২,৫০,০০০ − ১,০০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = ৫৬,০০০ টাকা।
৩য় বছরের নিট মুনাফা = {১,৫০,০০০ − ৬০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = ১৪,০০০ টাকা।
গড় মুনাফা = (৩৫,০০০ + ৫৬,০০০ + ১৪,০০০) ÷ ৩ = ৩৫,০০০ টাকা।
গড় বিনিয়োগ = ৫,০০,০০০ ÷ ২ = ২,৫০,০০০ টাকা।
গড় মুনাফার হার = (৩৫,০০০ ÷ ২,৫০,০০০) × ১০০ = ১৪%।
তমাল প্রকল্পের নিট মুনাফা যথাক্রমে:
১ম বছর = {১,০০,০০০ − ৪০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = −৭,০০০ টাকা।
২য় বছর = {২,০০,০০০ − ৮০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = ৩৫,০০০ টাকা।
৩য় বছর = {৩,০০,০০০ − ১,২০,০০০ − ৫০,০০০ − ২০,০০০} × ০.৭০ = ৭৭,০০০ টাকা।
গড় মুনাফা = (−৭,০০০ + ৩৫,০০০ + ৭৭,০০০) ÷ ৩ = ৩৫,০০০ টাকা।
গড় বিনিয়োগ = ২,৫০,০০০ টাকা; তাই তমালের গড় মুনাফার হারও ১৪%। হিজলের হারও ১৪%। কেবল গড় মুনাফার হার বিবেচনায় দুটি প্রকল্প সমান গ্রহণযোগ্য; তাই জনাব তুহিন যেকোনোটি নিতে পারেন। অন্য ঝুঁকি বা নগদ প্রবাহের তথ্য থাকলে তা দিয়ে চূড়ান্ত নির্বাচন করা উচিত।
জনাব নিবিড় ক্রেতার অগ্রিম নামের স্বল্পমেয়াদি অপ্রাতিষ্ঠানিক তহবিল ব্যবহার করেন।
বিশ্বস্ত ক্রেতা ভবিষ্যতে পণ্য নেওয়ার আগে মূল্যের সম্পূর্ণ বা একটি অংশ বিক্রেতাকে দিলে তা ক্রেতার অগ্রিম। সাদিয়া ট্রেডার্সের অগ্রিম অর্থ দিয়ে নিবিড় সাময়িক নগদ ঘাটতি মেটান; তাই এটি চলতি মূলধনের স্বল্পমেয়াদি উৎস।
পাঁচ বছরের জন্য ভাড়ায় ট্রাক নেওয়া লিজিং এবং প্রদত্ত পরিস্থিতিতে তা যৌক্তিক।
লিজিংয়ে বড় অঙ্কের অর্থ একবারে ব্যয় না করেও নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ব্যবহার করা যায়; সম্পদের মালিকানা লিজদাতার থাকে। নিবিড়ের সাময়িক নগদ ঘাটতি আছে, অথচ পণ্য সরবরাহে ট্রাক প্রয়োজন। ট্রাক কিনলে তারল্যের ওপর চাপ পড়ত; লিজে নিলে সীমিত অর্থে ট্রাক ব্যবহার ও পণ্য সরবরাহ চালু রাখা যায়। তবে মোট ভাড়া ও শর্ত ক্রয়ের ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ঝিনুক ব্যাংক তারল্য নীতি লঙ্ঘন করেছে।
তারল্য নীতি অনুযায়ী আমানতকারীর চাহিদামতো অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংককে পর্যাপ্ত নগদ ও দ্রুত নগদায়নযোগ্য সম্পদ রাখতে হয়। ব্যাংকটি আমানতের বড় অংশ বিনিয়োগ করায় আয় বাড়লেও চাহিবামাত্র অর্থ দিতে পারছে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণ না করাই সংকটের কারণ।
অগ্রগতি ব্যাংকের সহায়তা যৌক্তিক, কারণ এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 'ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল' ভূমিকা পালন করছে।
সাময়িক তারল্যসংকটে কোনো তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় ঋণ বা পুনঃঅর্থায়ন দিয়ে ব্যাংকব্যবস্থার স্থিতি রক্ষা করে। ঝিনুক ব্যাংকের ব্যর্থতা ছড়িয়ে পড়লে আমানতকারীর আস্থা ও আর্থিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শর্তসাপেক্ষ সহায়তা যৌক্তিক; পাশাপাশি অগ্রগতি ব্যাংকের উচিত ঝিনুক ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা সংশোধন ও তদারক করা।
ধানসিঁড়ি ব্যাংক প্রত্যয়পত্র বা Letter of Credit (L/C) ইস্যু করে জনাব নাঈমকে সহায়তা করে।
প্রত্যয়পত্রে ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে রপ্তানিকারককে প্রতিশ্রুতি দেয় যে নির্ধারিত শর্ত ও দলিল পূরণ হলে পণ্যমূল্য পরিশোধ করা হবে। রায় ট্রেডার্স অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়েছে এবং ব্যাংক নাঈমের পক্ষে সেই নিশ্চয়তা দিয়েছে; তাই এটি প্রত্যয়পত্র সেবা।
উদ্দীপকে ধানসিঁড়ি ব্যাংক প্রত্যয়পত্র ও লকার—দুটি বিশেষ সেবা দিয়েছে, যা ব্যাংকের অ-সুদভিত্তিক আয়ের উৎস।
প্রত্যয়পত্র ইস্যু করে ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয় এবং এর বিনিময়ে কমিশন বা সার্ভিস চার্জ নেয়। মূল্যবান দলিল নিরাপদে রাখার জন্য লকার সুবিধা দিয়ে নির্ধারিত ভাড়া আদায় করে। তাই নাঈমের আমদানি সহায়তা থেকে কমিশন এবং দলিল সংরক্ষণ থেকে লকার ভাড়া—উভয়ই ধানসিঁড়ি ব্যাংকের আয় বাড়ায়।
সবুর মিয়ার ব্যবসা বৈচিত্র্যায়ণ ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির অন্তর্ভুক্ত।
এ নীতি অনুযায়ী সব অর্থ একটি পণ্য বা খাতে না রেখে বিভিন্ন পণ্য বা সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। তিনি মুদি দোকানে নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করেন; কোনো পণ্যের বিক্রয় কমলে অন্য পণ্যের মুনাফা দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। ফলে সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
দৈনন্দিন বিক্রয়লব্ধ আয় দিয়ে দোকানের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা উপযুক্ততার নীতির যৌক্তিক প্রয়োগ।
চলতি পণ্য কেনা ও দোকান পরিচালনার ব্যয় স্বল্পমেয়াদি চলতি মূলধনের প্রয়োজন। উপযুক্ততার নীতি অনুযায়ী এ প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি উৎস, যেমন বিক্রয়লব্ধ নগদ, থেকে মেটানো উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অতিরিক্ত সুদ ও মেয়াদ-অসামঞ্জস্য এড়ানো যায় এবং ব্যবসায়ের নগদচক্র সচল থাকে।
জলিলের এতিমখানাটি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য মুনাফা নয়, বরং মানবকল্যাণ; এটি অনুদান, চাঁদা ও সহায়তা সংগ্রহ করে সেবামূলক কাজে ব্যয় করে। এতিমখানাটি নিজস্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এবং এতিমদের কল্যাণে পরিচালিত—তাই এর অর্থায়ন অব্যবসায়ী।
বিশেষ গ্রাহকভিত্তিক শ্রেণিতে CV ব্যাংক ভোক্তা ব্যাংক।
ভোক্তা ব্যাংক নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোক্তাকে ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের মাধ্যমে বাকিতে পণ্য কিনে পরে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেয়। CV ব্যাংক গ্রাহকদের বাকিতে কেনাকাটার জন্য প্লাস্টিক কার্ড দেয়—যা ভোক্তা ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
আয় সিদ্ধান্তের অপর নাম অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।
অর্থায়ন সিদ্ধান্তে তহবিলের বিভিন্ন উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত উৎস নির্বাচন করা হয়। সাধারণত চলতি প্রয়োজনের জন্য স্বল্পমেয়াদি এবং স্থায়ী প্রয়োজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস বেছে নেওয়া হয়।
জুলি ক্লথ স্টোরসের ব্যবসায়ে বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ নীতি অনুযায়ী সমুদয় অর্থ একটি পণ্য বা খাতে বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন পণ্য বা খাতে বিনিয়োগ করা হয়। এতে একটি খাতের ক্ষতি অন্য খাতের মুনাফা দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যায় এবং সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
জুলি প্রথমে শুধু পুরুষের পোশাক বিক্রি করলেও পরে শিশু ও নারীদের পোশাক যোগ করেছেন। একাধিক পণ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ঝুঁকি বণ্টন করেছেন।
জুলি ক্লথ স্টোরসের ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংকঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষে যৌক্তিক।
নিজস্ব তহবিল অপর্যাপ্ত হলে ঋণ নিয়ে নতুন পণ্য সংযোজন ও বাজার সম্প্রসারণ করা যায়। সঠিকভাবে ব্যবহৃত ঋণ বিক্রয়, মুনাফা ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়াতে পারে।
জুলি পুরুষ, নারী ও শিশুদের পোশাক বিক্রয়ে বৈচিত্র্য এনে লাভবান হয়েছেন। এখন প্রসাধনী পণ্য বিক্রির জন্য নতুন দোকান চালু করলে গ্রাহক ও আয়ের উৎস আরও বাড়তে পারে।
তবে ঋণের সুদ, কিস্তি পরিশোধক্ষমতা ও প্রসাধনীর বাজারচাহিদা যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণ পরিশোধ সম্ভব হলে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো স্থায়ী সম্পদ ব্যবহারের অধিকার দেওয়াকে লিজিং বলে।
ব্যাংক গ্রাহকের অনুরোধে সম্পদ কিনে ব্যবহারের জন্য দেয়; গ্রাহক নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করেন এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেয়াদ শেষে সম্পদ ফেরত দেন বা মালিকানা গ্রহণ করেন।
কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণ অনুযায়ী ‘M’ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্প সুদে জনগণের আমানত সংগ্রহ করে তুলনামূলক বেশি সুদে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে মুনাফা অর্জন করে।
উদ্দীপকে ‘M’ ব্যাংক আমানত গ্রহণ করে সেই অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করছে। তাই এর কার্যক্রম বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
মি. মিজানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘M’ ব্যাংকের নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ যৌক্তিক।
আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষিত রাখতে ব্যাংককে ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধক্ষমতা, সততা ও সুনাম যাচাই করতে হয় এবং প্রয়োজনমতো জামানত নিতে হয়।
উদ্দীপকে ব্যাংকটি মিজানের আর্থিক সচ্ছলতা, সুনাম, সততা ও সরবরাহকৃত তথ্য যাচাই করে পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ মঞ্জুর করেছে।
এতে ঋণখেলাপির ঝুঁকি কমে এবং পরিশোধে ব্যর্থ হলে জামানত থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকে। ফলে ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপ নিরাপত্তার নীতির যথাযথ প্রয়োগ।
মিসেস শিরীন রহমান সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।
সাধারণ শেয়ার ক্রেতা কোম্পানির অংশীদার বা মালিক হন, ভোটাধিকার পান এবং কোম্পানির লাভ অনুযায়ী পরিবর্তনশীল লভ্যাংশ লাভ করেন। শিরীন রহমান শেয়ার কিনে কোম্পানির মালিকানা ও অধিক আয়ের সুযোগ পেয়েছেন। এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণ শেয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কোম্পানিটি প্রথমে স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশ নীতি এবং পরে লভ্যাংশ প্রদান অনুপাত নীতি অনুসরণ করেছে।
স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশ নীতিতে প্রতিবছর শেয়ারপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের লভ্যাংশ দেওয়া হয়। কোম্পানিটি পূর্ববর্তী বছরগুলোতে শেয়ারপ্রতি ১৫ টাকা করে দেওয়ায় তখন এই নীতি অনুসৃত হয়েছিল।
লভ্যাংশ প্রদান অনুপাত নীতিতে নিট মুনাফার পূর্বনির্ধারিত অংশ লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হয়। এ বছর কোম্পানি অর্জিত মুনাফার ৫০% বিতরণ করেছে; তাই বর্তমান বছরের নীতিটি লভ্যাংশ প্রদান অনুপাত নীতি।
প্রাথমিক বিনিয়োগ = ২০,০০,০০০ টাকা; বার্ষিক অবচয় = ১,০০,০০০ টাকা; করের হার = ৩০%
চলতি খরচ বিক্রয়ের ২০% হওয়ায় পাঁচ বছরের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা—
১ম বছর = [৫,০০,০০০ − ১,০০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,১০,০০০ টাকা
২য় বছর = [৬,০০,০০০ − ১,২০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,৬৬,০০০ টাকা
৩য় বছর = [৫,০০,০০০ − ১,০০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,১০,০০০ টাকা
৪র্থ বছর = [৭,০০,০০০ − ১,৪০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ৩,২২,০০০ টাকা
৫ম বছর = [৫,৫০,০০০ − ১,১০,০০০ − ১,০০,০০০] × ৭০% = ২,৩৮,০০০ টাকা
গড় নিট মুনাফা = ১২,৪৬,০০০ ÷ ৫ = ২,৪৯,২০০ টাকা
গড় বিনিয়োগ = (২০,০০,০০০ + ০) ÷ ২ = ১০,০০,০০০ টাকা
গড় মুনাফার হার = (২,৪৯,২০০ ÷ ১০,০০,০০০) × ১০০ = ২৪.৯২%
অতএব, বিনিয়োগের গড় মুনাফার হার ২৪.৯২%।
নিট মুনাফার সঙ্গে বার্ষিক ১,০০,০০০ টাকা অবচয় যোগ করলে পাঁচ বছরের নগদ আন্তঃপ্রবাহ—
৩,১০,০০০; ৩,৬৬,০০০; ৩,১০,০০০; ৪,২২,০০০ ও ৩,৩৮,০০০ টাকা
৫ বছরে মোট নগদ আন্তঃপ্রবাহ = ১৭,৪৬,০০০ টাকা
প্রাথমিক বিনিয়োগ = ২০,০০,০০০ টাকা
৫ বছর শেষে অনাদায়ী বিনিয়োগ = ২০,০০,০০০ − ১৭,৪৬,০০০ = ২,৫৪,০০০ টাকা
প্রদত্ত পাঁচ বছরের মধ্যেও সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ফেরত আসে না। ষষ্ঠ বছরের নগদ প্রবাহ দেওয়া না থাকায় নির্দিষ্ট পে-ব্যাক সময় নির্ণয় করা যায় না; তবে তা ৫ বছরের বেশি। তাই প্রকল্পের পাঁচ বছরের আয়ুষ্কাল বিবেচনায় পে-ব্যাক পদ্ধতি অনুযায়ী কারখানা স্থাপন যৌক্তিক নয়।
জনাব মিরাজ বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি অনুসরণ করেছেন।
এই নীতি অনুযায়ী তহবিল একটিমাত্র পণ্য বা সেবায় সীমাবদ্ধ না রেখে একাধিক আয়সৃষ্টিকারী খাতে বিনিয়োগ করা হয়। মিরাজ লাইব্রেরির সঙ্গে কম্পিউটার ও ফটোকপি সেবা যুক্ত করেছেন। এতে আয়ের উৎস বেড়েছে, একটি খাতের দুর্বলতা অন্য খাতের আয় দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বিক্রি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থায়নের শ্রেণিবিভাগে ইফাজের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত রেমিট্যান্স।
বিদেশে কর্মরত ব্যক্তি বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে যে অর্থ পাঠান, তাকে রেমিট্যান্স বলে। ইফাজ মালয়েশিয়া থেকে তাঁর উপার্জিত অর্থ পরিবারের কাছে সঠিক চ্যানেলে পাঠিয়েছেন। এতে পরিবারের আয় ও সঞ্চয় বাড়ে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তহবিল জমা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা, মূলধন গঠন এবং বিনিয়োগে সহায়তা করে। ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইফাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে নিরাপদ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাংকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্যাংক বিভিন্ন হিসাবে গ্রাহকের অর্থ নিরাপদে জমা রাখে এবং প্রয়োজনমতো উত্তোলনের সুযোগ দেয়। আবার লকার বা নিরাপদ হেফাজত সেবায় দলিলপত্র, গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ করে। তুলি ব্যাংক ও লকার ব্যবহার করলে ডাকাতিতে তাঁর অর্থ ও সম্পদ হারানোর ঝুঁকি অনেক কমত।
ব্যাংক ও মুদ্রার মধ্যে পরিপূরক সম্পর্ক রয়েছে।
মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের বাহন; ব্যাংকের আমানত গ্রহণ, ঋণদান, অর্থ স্থানান্তর ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির মূল উপাদানও মুদ্রা। তাই মুদ্রা ছাড়া ব্যাংকের মৌলিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে না।
অন্যদিকে ব্যাংক মুদ্রাকে নিরাপদে সংরক্ষণ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর এবং চেক, কার্ড ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুত ব্যবহার সম্ভব করে। আমানত সংগ্রহ ও ঋণদানের মাধ্যমে মুদ্রার গতিশীলতাও বাড়ায়। তাই মুদ্রা ব্যাংকের ভিত্তি এবং ব্যাংক মুদ্রার নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে।
জনাব আমিনের অধিকাংশ সময়ের অর্থায়নের উৎসটি সংরক্ষিত মুনাফা বা অভ্যন্তরীণ তহবিল নির্দেশ করে।
ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফার যে অংশ মালিক উত্তোলন বা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করে ব্যবসায়ে পুনর্বিনিয়োগ করেন, তাকে সংরক্ষিত মুনাফা বলে। উদ্দীপকে জনাব আমিন অর্থের প্রয়োজন হলে সাধারণত ব্যবসায়ের লাভ থেকেই অর্থায়ন করেন। তাই এটি ব্যবসায়ের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তহবিল।
জনাব আমিনের দ্বিতীয় উৎসটি হলো ব্যাংক ঋণ। অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে দ্রুত ও প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল পাওয়া যায় বলে এটি বহুল ব্যবহৃত বহিঃস্থ অর্থায়নের উৎস।
ব্যাংক ঋণ স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘ মেয়াদে নেওয়া যায়; পরিশোধসূচি ব্যবসায়ের নগদ প্রবাহ অনুযায়ী নির্ধারণ করা সম্ভব; ঋণের সুদ করযোগ্য আয় থেকে বাদ যায় বলে কর-সুবিধা পাওয়া যায়; এবং নতুন অংশীদার বা শেয়ারহোল্ডার যুক্ত না হওয়ায় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ন হয় না। তবে সুদ ও কিস্তি সময়মতো পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে। এসব সুবিধার কারণে ব্যাংক ঋণ জনপ্রিয়।
স্বপ্ন কোং লি.-এর অর্থায়ন ব্যবসায় অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও বণ্টন-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে ২২,০০,০০০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে এবং উৎপাদন কার্যক্রমে তা বিনিয়োগ করেছে। তাই এর অর্থায়ন ব্যবসায় অর্থায়ন।
স্বপ্ন কোং লি.-এর সিদ্ধান্তটি বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির আলোকে যৌক্তিক।
একটি পণ্যে সব অর্থ বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন পণ্য বা খাতে বিনিয়োগ করলে একটি খাতের ক্ষতি অন্য খাতের আয় দিয়ে আংশিক বা সম্পূর্ণ পুষিয়ে নেওয়া যায়। ঢেউটিনের বিক্রি কমার আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠানটি রড, সিমেন্ট ও হার্ডওয়্যার সামগ্রী উৎপাদনেও বিনিয়োগ করবে। এতে আয় একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, সামগ্রিক ঝুঁকি কমবে এবং স্থিতিশীল মুনাফার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
মিসেস কানিজ ফাতেমার হিসাবটি সঞ্চয়ী হিসাব।
সঞ্চয়ী হিসাবে নিয়মিত অর্থ জমা করা গেলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ উত্তোলনের সংখ্যা বা পরিমাণে কিছু বিধিনিষেধ থাকে এবং জমার ওপর সুদ দেওয়া হয়। উদ্দীপকে তিনি সপ্তাহে দুইবারের বেশি টাকা তুলতে পারেন না, যা সঞ্চয়ী হিসাবের বৈশিষ্ট্য।
আমি উক্তিটির সঙ্গে একমত। মানহা ব্যাংক তাকে এনি ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা দিয়েছে।
এ সেবায় একটি শাখায় হিসাব থাকা গ্রাহক একই ব্যাংকের অন্য শাখা থেকেও লেনদেন করতে পারেন। ঢাকায় হিসাব থাকা সত্ত্বেও মিসেস ফাতেমা রাজশাহীর শাখা থেকে চেকের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে শাড়ি কিনতে পেরেছেন; কার্ডের প্রয়োজন হয়নি। ফলে দূরবর্তী স্থানে দ্রুত অর্থ পাওয়া, সময় ও যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয় এবং নিরাপদ লেনদেন সম্ভব হয়েছে। তাই সেবাটি দৈনন্দিন কাজ সহজ করেছে।
কম্পিউটার কেনার জন্য ছয় বছর মেয়াদি ঋণ গ্রহণ অর্থায়নের উপযুক্ততার নীতির অন্তর্গত।
কম্পিউটার একটি স্থায়ী সম্পদ, যা বহু বছর আয় সৃষ্টি করবে। উপযুক্ততার নীতি অনুযায়ী স্থায়ী সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি উৎস এবং চলতি সম্পদ স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে অর্থায়ন করা উচিত। মাসুম দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়ে স্থায়ী সম্পদ কিনেছেন বলে সম্পদের আয়ুষ্কাল ও তহবিলের মেয়াদের সামঞ্জস্য হয়েছে।
উক্তিটির সঙ্গে আমি একমত; একাধিক সেবা চালু করলে মাসুমের ব্যবসায় বৈচিত্র্যায়ণ ঘটবে এবং ঝুঁকি কমবে।
ফটোকপি, মোবাইল রিচার্জ, কম্পোজ ও প্রিন্টিংয়ের চাহিদা এক সময়ে সমানভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কোনো একটি সেবার আয় কমলে অন্য সেবার আয় ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে। একই গ্রাহক একাধিক সেবা নেওয়ায় বিক্রয় ও মুনাফাও বাড়তে পারে। তাই বৈচিত্র্যায়ণ তার মোট ব্যবসায়িক ঝুঁকি হ্রাস করবে।
এখানে, FV = ১০,০০,০০০ টাকা, i = ৯% এবং n = ৫ বছর
PV = FV ÷ (১ + i)ⁿ
= ১০,০০,০০০ ÷ (১ + ০.০৯)⁵
= ১০,০০,০০০ ÷ ১.৫৩৮৬২৩৯৫
= ৬,৪৯,৯৩১.৩৯ টাকা (প্রায়)
অতএব, তরী ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৬,৪৯,৯৩১.৩৯ টাকা রাখতে হবে।
সেতু ব্যাংকে মাসিক চক্রবৃদ্ধিতে,
PV = FV ÷ (১ + i ÷ m)^(n × m)
= ১০,০০,০০০ ÷ (১ + ০.০৮ ÷ ১২)⁶⁰
= ৬,৭১,২১০.৪৪ টাকা (প্রায়)
তরী ব্যাংকে প্রয়োজন = ৬,৪৯,৯৩১.৩৯ টাকা
সেতু ব্যাংকে প্রয়োজন = ৬,৭১,২১০.৪৪ টাকা
পার্থক্য = ২১,২৭৯.০৫ টাকা
একই ১০ লক্ষ টাকা পেতে তরী ব্যাংকে বর্তমানে কম অর্থ জমা দিতে হবে। তাই তরী ব্যাংকে টাকা রাখা হাসানের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।
রনি ও জনির অর্থায়ন ব্যবসায় অর্থায়ন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও ব্যবহারকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। তারা চুক্তিভিত্তিক অংশীদারি গঠন করে নিজস্ব অর্থে পাইকারি ওষুধের দোকান চালু করেছেন এবং লাভ-লোকসান সমভাবে বণ্টন করছেন—এগুলো ব্যবসায় অর্থায়নের বৈশিষ্ট্য।
জনির পরামর্শ তারল্য বনাম মুনাফা নীতির যথার্থ প্রয়োগ।
সব বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংকে রাখলে সুদ পাওয়া গেলেও পণ্য কেনা, মজুরি ও দৈনন্দিন দায় মেটাতে নগদ সংকট হবে। আবার সব অর্থ হাতে রাখলে সুদ আয় হারাতে হবে। প্রয়োজনীয় নগদ রেখে অবশিষ্ট অর্থ ৯% সুদে জমা দিলে ব্যবসায়ের তারল্য বজায় থাকবে এবং অলস অর্থ থেকে আয় হবে। তাই পরামর্শটি যৌক্তিক।