সুস্থতার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারের ফলে বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাববিস্তার করে। তাই পরিবেশ দূষণরোধে ব্যবসায়ীদের উচিত কোনো অবস্থাতেই কারখানার বর্জ্য নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ে না ফেলা। প্রয়োজনে কারখানার মালিক বা ব্যবসায়ীদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং তা প্রতিটি কারখানায় বাধ্যতামূলক করা।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। তাই ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী ও সেবা সরবরাহ করতে হয়, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে হয়, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং সংরক্ষণ করে সর্বোপরি ক্রেতাদের সর্বোচ্চ তৃপ্তি দানের চেষ্টা করতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব শাকিল ইলেক্ট্রনিক কোম্পানির মালিক। তিনি পণ্যের মান নিশ্চিত করা, ভোক্তার অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা এবং সবসময় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে অনলাইন সেবা চালু করেন। শাকিলের এধরনের কার্যক্রম ব্যবসায়ের ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব শাকিল ব্যবসায়ের ক্রেতা ও ভোক্তা পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করছেন।
ব্যবসায়ে উচিত এবং ন্যায়-নীতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্যদ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। এ নৈতিকতার গুণেই একজন ব্যবসায়ী সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে জনাব সাবিত নদীর ধারে একটি শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। তিনি কারখানার বর্জ্য পানিতে নিক্ষেপ করেন। এছাড়া কারখানা সম্প্রসারণের সময় নদীর ধারের অনেকগুলো বৃক্ষ নিধন করেন। স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ করায় জনাব সাবিতের কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্দীপকে জনাব সাবিত যে কাজ করছেন তা ব্যবসায় নৈতিকতার পরিপন্থি। তিনি কারখানার বর্জ্য পানিতে নিক্ষেপ করছেন, ফলে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। আবার নদীর ধারের বৃক্ষগুলো নিধন করছেন, যা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার এমন অনৈতিক কার্যক্রমের কারণেই স্থানীয় জনগণ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।
এটিএম সেবা ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকের ডা. রাফিদের ভাইয়ের সরবরাহকৃত উপাদানগুলো সেবা শিল্পকে নির্দেশ করে।
যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক ও সহজ করেছে তাকে সেবা শিল্প বলে। যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদি সেবা সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত। তাছাড়া দুগ্ধ পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানসমূহও এ ধরনের শিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে ডা. রাফিদ ও ডা. আনিকা স্বামী স্ত্রী। তারা সরকারি চাকরি না করে নিজের এলাকায় গরিব অসহায় মানুষদের চিকিৎসার লক্ষ্যে 'মমতা মেমোরিয়াল' নামক একটি হাসপাতাল গড়ে তোলেন। এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবার বাবদ নামমাত্র একটি মূল্য নেওয়া হয়। ডা. রাফিদের ভাই তার নিজের ফার্মের ডিম ও দুধ ঐ হাসপাতালে রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করেন, যা সেবা শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ডা. রাফিদের ভাইয়ের সরবরাহকৃত উপাদানগুলো সেবা শিল্পকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে "মমতা মেমোরিয়ালের" কার্যক্রম সামাজিক ব্যবসায়ের অন্তর্গত, যা ব্যবসায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।
যে ব্যবসায় গড়তে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মূলধন দেন কিন্তু তার পেছনে মুনাফা অর্জন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যই থাকে মুখ্য, তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে। প্রচলিত ব্যবসায় ধারণার বিপক্ষে সামাজিক ব্যবসায় ধারণা সারা বিশ্বে একটা নতুন আলোড়ন সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছে।
উদ্দীপকের ডা. রাফিদ ও ডা. আনিকা স্বামী স্ত্রী। তারা সরকারি চাকরি না করে নিজের এলাকায় গরিব অসহায় মানুষদের চিকিৎসার লক্ষ্যে 'মমতা মেমোরিয়াল' নামক একটি হাসপাতাল গড়ে তোলেন। এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবার বাবদ নামমাত্র একটি মূল্য নেওয়া হয়। ডা. রাফিদের ভাই তার নিজের ফার্মের ডিম ও দুধ ঐ হাসপাতালে রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করেন।
উদ্দীপকের ব্যবসায়টি একটি সামাজিক ব্যবসায়, যা সমাজের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ এরূপ ব্যবসায়ের মাধ্যমে সমাজের মানুষ স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা পায়। এছাড়াও এমন ব্যবসায়ের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হয় বিধায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এরূপ ব্যবসায় থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো মুনাফা গ্রহণ করেন না; বরং ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফা দ্বারা প্রতিষ্ঠানের প্রসার ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়। ফলে দেশ ও সমাজের মানুষের উন্নয়ন হয়। তাই বলা যায়, মমতা মেমোরিয়ালের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন। এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন ডাক্তারি ক্লিনিক, আইন চেম্বার, প্রকৌশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইত্যাদি।
রতন ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় বিক্রয়কার্য সম্পন্ন করেন।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মৌজা বামুনিয়া গ্রামের রতন নিজস্ব দক্ষতায় বিভিন্ন অলংকার ও সৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করে অনলাইনে তা বিক্রয় করেন। অল্প দিনেই তার বিক্রয় পদ্ধতিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভকরে। বিক্রয়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। এখানে দেখা যাচ্ছে, রতন আধুনিক প্রযুক্তি তথা গুগল, ইমেইল, ফেসবুক, ইউটিউব প্রভৃতির সহায়তায় বিক্রয়কার্য পরিচালনা করছেন; যা ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত 'পরিবেশকে নির্দেশ করছে।
রতনের ব্যবসায়ের ব্যর্থতার পেছনে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অন্তর্গত মূলধনের ঘাটতি রয়েছে।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয় অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মৌজা বামুনিয়া গ্রামের রতন নিজস্ব দক্ষতায় বিভিন্ন অলংকার ও সৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করে অনলাইনে তা বিক্রয় করেন। অল্প দিনেই তার বিক্রয় পদ্ধতিটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভকরে। বিক্রয়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। কিন্তু বিনিয়োগ স্বল্পতার দরুন উৎপাদনের মাত্রা সীমিত হয়। ফলে যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যোগানের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। পরিশেষে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হন। এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় মূলধন যোগান দিতে না পারার কারণে ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হন; যা ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশের অন্তর্গত।
মূলধন ব্যবসায়ের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে। যেকোনো ব্যবসায়ের চলতি এবং স্থায়ী খরচ মোটাতে মূলধন নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ব্যবসায় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও মূলধন অপরিহার্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রতন ব্যবসায় সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মূলধনের অভাবে তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি।
ব্যবসায়িক মূল্যবোধে সমাজ ও পরিবেশ উপযোগী পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সততা ও ন্যায়ের সাথে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে ব্যবসায়ীকে ন্যায়, অন্যায়, সত্য-অসত্য প্রভৃতি বিষয় মেনে ব্যবসায় করতে হয়। আর মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজের মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। সুষ্ঠু সমৃদ্ধিশালী ও স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গঠনে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সমাজের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা চিন্তা করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করাকে ব্যবসায়ের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বলে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন, জনহিতকর কাজ করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকাকে রক্ষা করা প্রভৃতি ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত শিল্পকারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় সেখানকার প্রতিটি টিনের চালায় মরিচা পড়েছে। সেখানকার শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন রোগে ভুগছে। পেপার-পত্রিকা ও ও গণমাধ্যমে গণ বারবার এর প্রতিকারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারপরেও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এখানে দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করছে না।
আমাদের দেশে শিল্পকারখানায় মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ এবং ভূমি দূষণের ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হচ্ছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত শিল্পকারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় সেখানকার প্রতিটি টিনের চালায় মরিচা পড়েছে। সেখানকার শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন রোগে ভুগছে। পেপার-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে বারবার এর প্রতিকারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তারপরেও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় আইন মান্য করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিবেশ দূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানার যেমন করণীয় রয়েছে, তেমনি সমাজ, ভোক্তাশ্রেণি, গণমাধ্যম এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থারও করণীয় রয়েছে। এসব পক্ষের আন্তরিক চেষ্টা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব। পরিবেশ দূষণ রোধ করতে না পারলে মানুষও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি অবশ্যসম্ভাবী। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদেরকে শিল্পকারখানা থেকে উদ্ভূত পরিবেশ দূষণের কারণ উদঘাটন করে তা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই দেশ ও দেশের মানুষ ভালো থাকবে।
ফ্রানসাইজিং ব্যবসায় দুটি পক্ষ থাকে, ফ্রানসাইজর ও ফ্রানসাইজি। ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: (১) ফ্রানসাইজর ও ফ্রানসাইজি-এর মধ্যে চুক্তিপত্র; (২) ব্র্যান্ডেড পণ্য বা সেবা; (৩) পণ্য বা সেবা স্বীকৃত মান ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ফ্রানসাইজার কর্তৃক মনিটরিং।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। এক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয় বলে বিবেচিত হয়। ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে আইনগত প্রতিকার পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের জনাব চয়ন চৌধুরী দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধানের বীজ উদ্ভাবন করেন। এই বীজ থেকে অতি অল্প সেচে এবং অল্প সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। তিনি বিশেষ চিহ্নবিশিষ্ট প্যাকেটে উদ্ভাবিত ধানের বীজ বাজারে বিক্রি করে থাকেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব চয়ন চৌধুরী যে চিহ্নটি ব্যবহার করেছেন, তার সাথে ট্রেডমার্কের বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, জনাব চয়ন চৌধুরীর ব্যবহৃত বিশেষ চিহ্নটি হলো ট্রেডমার্ক।
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে জনাব চয়ন চৌধুরী কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণ হলো ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন না করা।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। এক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূলবিষয় বিবেচিত হয়। ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে আইনগত প্রতিকার পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের জনাব চয়ন চৌধুরী দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধানের বীজ উদ্ভাবন করেন। এই বীজ থেকে অতি অল্প সেচে এবং অল্প সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। তিনি বিশেষ চিহ্নবিশিষ্ট প্যাকেটে উদ্ভাবিত ধানের বীজ বাজারে বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু একটি অসাধু বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তার উদ্ভাবিত বীজের অনুরূপ ধানের বীজ নকল করে বাজারজাত করছে। যথাযথ প্রমাণের অভাবে জনাব চয়ন চৌধুরী উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেননি। ফলে, ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং সৃজনশীল কাজের প্রতি তিনি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এক্ষেত্র তিনি এরূপ ক্ষতির শিকার হয়েছেন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন না করার কারণে।
কোনো প্রতীক বা মার্কের রেজিস্ট্রেশন ঐ পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রতীকটি ব্যবহারের বিষয়ে রেজিস্টার্ড মালিককে একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার প্রদান করে। রেজিস্টার্ড মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঐ প্রতীকটি ব্যবহার করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড মার্কটি সুপরিচিত হলে অন্যান্য পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রেও মালিকের এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আইন দ্বারা এ অধিকার সুরক্ষিত। এ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে উদ্দীপকের জনাব চয়ন চৌধুরী ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করেননি বলে আইনগত প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
কুটিরশিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫ এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটিরশিল্প, পরিচালিত হয়। তারা পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সময়ে উৎপাদন বা সেবা কাজে জড়িত থাকে।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে 'ক্ষুদ্র শিল্প', বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৬-৫০ জন শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এসএসসি পাস ক্রার পর জলিল আর্থিক সমস্যার কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেনি। প্রতিবেশী এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি ক্যাটারিং সার্ভিসের ওপর একটি ছয় মাসের কোর্স করেন। পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করে মনোরম পরিবেশে একটি খাবার হোটেল, দেন। তার হোটেলের সৌন্দর্য ও খাবারের মান ভালো হওয়ায় প্রচুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে তিনি তার হোটেলে শিফট চালু করেন। দুই শিফটের জন্য তিনি বর্তমানে ২০ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, শ্রমিকের সংখ্যা বিবেচনায় জলিলের সেবামূলক শিল্পটি ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় পড়েছে।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে 'ক্ষুদ্র শিল্প' বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা * কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৬-৫০ জন শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এসএসসি পাস করার পর জলিল আর্থিক সমস্যার কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেনি। প্রতিবেশী এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি ক্যাটারিং সার্ভিসের ওপর একটি ছয় মাসের কোর্স করেন। পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করে মনোরম পরিবেশে একটি খাবার হোটেল দেন। তার হোটেলের সৌন্দর্য ও খাবারের মান ভালো হওয়ায় প্রচুর বিক্রি হয়। পরবর্তীতে তিনি তার হোটেলে শিফট চালু করেন। দুই শিফটের জন্য তিনি বর্তমানে ২০ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। তার সফলতা দেখে অনেকে এখন আত্ম-কর্মসংস্থানের দিকে মনোনিবেশ করেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্প বিশেষ ভূমিকা -পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ১০ লক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ করেন। সেই সাথে ১৬-৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এরূপ ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও জলিলের সফলতা দেখে আরও অনেকে এরূপ আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে আগ্রহী হচ্ছে। এতে দেশের উৎপাদন ও ভোগ-ব্যবহার বাড়বে; যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করবে।
শহর ও গ্রামের মহিলাদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা অধিদপ্তর নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুপালন, হস্তশিল্প, বাটিকের কাজ, বুনন শিল্প, সেলাই ইত্যাদি।
দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক) এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সারাদেশে বিরাজমান তাদের শাখাগুলোর মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এসএমই খাতের উন্নয়নে একমালিকানা, অংশীদারি, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে আসছে। ব্যবসায় বা প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ঋণসীমা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা। ঋণের মেয়াদ ব্যবসায় বা প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাজশাহীর সোনালী দত্ত সিরাজগঞ্জ ও নাটোর থেকে মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি তৈরি করে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। তিনি অর্থের অভাবে তার ব্যবসায় সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। তার এক বন্ধু তাকে একটি ব্যাংকের নাম বলে যেখানে তার মতো ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি ঐ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ঋণ গ্রহণ করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, সোনালী দত্ত যেভাবে ঋণ গ্রহণ করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণগ্রহণ করেছেন।
একজন নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত হতে হলে সোনালী দত্তকে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে হবে।
একজন উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা করে। আবার, নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। নারী উদ্যোক্তা হতে হলে কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী অথবা কোম্পানির অন্যুন ৫১% শেয়ারের মালিক হতে হয়।
উদ্দীপকের সোনালী দত্ত একজন ব্যবসায়ী। তিনি সিরাজগঞ্জ ও নাটোর থেকে মাছ সংগ্রহ করে শুঁটকি তৈরি করেন। এগুলো তিনি সারাদেশে সরবরাহ করেন। বিডিবিএল থেকে ঋণ নিয়ে তিনি তার ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। তিনি অল্প দিনেই সফল ব্যবসায়ী হন। কিন্তু তাকে নারী শিল্পোদ্যোক্তা হতে হলে আরও কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
নারী শিল্পোদ্যোক্তা হতে হলে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে হবে। এক্ষেত্রে সোনালী দত্তকে তার ব্যবসায়টিকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম অনুযায়ী ব্যবসায় পরিচালিত হবে। ব্যবসায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হবেন সোনালী দত্ত। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে অংশীদারি বা যৌথ মূলধনী ব্যবসায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে, কমপক্ষে ৫১% শেয়ারের মালিক তাকে হতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ সকল যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে উদ্দীপকের সোনালী দত্ত একজন নারী শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত হবেন।
বাণিজ্য হলো ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর নিকট বণ্টন করাই ব্যবসায়ের কাজ। বাণিজ্য মূলত ব্যক্তিগত বা স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করে। বাণিজ্যের প্রধান অঙ্গ হলো ক্রয়-বিক্রয়। এর মাধ্যমে স্বত্ব বা মালিকানা হস্তান্তরিত হয়।
জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে।
অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান হিসেবে মূলধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানে অর্থনৈতিক পরিবেশের মূলধন উপাদান বিদ্যমান যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলধন হলো ব্যবসায়ের জীবনীশক্তি। কোনো ব্যবসায় শুরু করা, কিংবা সম্প্রসারণ কিংবা পরিচালনার জন্য মূলধনের বিকল্প নেই। তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মূলধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান নানাভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে থাকে।
অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, মূলধন, অর্থ ও ব্যাংকিং প্রভৃতির অনুকূল ও প্রতিকূল আচরণের ফলে একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য নানাভাবে প্রভাবিত হয় বলে আমি মনে করি।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ অর্থনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানুষের মাথাপিছু আয়ের ওপর নির্ভর করে সঞ্চয়ের পরিমাণ। দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে সঞ্চয় বাড়ে; যা পরবর্তীতে মূলধন গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিনিয়োগ বাড়ায়। তাছাড়া মূলধন অর্থনৈতিক পরিবেশের অন্যতম উপাদান যা ব্যবসায় বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে। ব্যবসায়-বাণিজ্য গঠন এবং সম্প্রসারণের জন্য মূলধন অপরিহার্য। কাম্য ও পর্যাপ্ত মূলধন ব্যতীত একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায় আরম্ভ করার জন্য যেসব কার্যক্রম সম্পাদন করেন তার সামগ্রিক রূপই হলো ব্যবসায় উদ্যোগ। লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করাই হলো ব্যবসায় উদ্যোগ। ব্যবসায় উদ্যোগের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন আর অন্যান্য উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সাজু কাকচিড়ায় একটি চিংড়ির আড়ৎ প্রতিষ্ঠা করেন কিন্তু পূর্বঅভিজ্ঞতার অভাবে প্রথমদিকে লোকসান দিতে হয়। মি. সাজুর চিংড়ির আড়ৎ যেহেতু লোকসান হয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে লাভের সম্ভাবনা কিংবা লোকসানের ঝুঁকি বিদ্যমান। মূলত মি. সাজু লাভের উদ্দেশ্যে লোকসানের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চিংড়ির আড়ৎ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই বলা যায়, মি. সাজুর চিংড়ির আড়ৎ প্রতিষ্ঠা হলো ব্যবসায় উদ্যোগমূলক চিন্তা।
মি. সাজুর গুণাবলির কারণেই উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়টি সফলতা লাভ করে।
সাধারণত একজন উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের গুণের অধিকারী হয়ে থাকে। এসব গুণ তাকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সাহায্য - করে। একটি ব্যবসায়ের শুরু থেকে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের সকল কিছুই উদ্যোক্তার ওপর নির্ভর করে বিধায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার ক্ষেত্রে উদোক্তার ভূমিকাই মুখ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সাজু কাকচিড়ায় একটি চিংড়ির আড়ৎ প্রতিষ্ঠা করেন। পূর্বঅভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথমদিকে লোকসান হলে মি. সাজু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নতুন উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনা করে সফলতা লাভ করেন। মি. সাজুর এ ব্যবসায়িক সফলতার ক্ষেত্রে তার ঝুঁকিগ্রহণ ক্ষমতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলা, পুঁজিসংস্থান ও তার যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ব্যর্থতার কারণ খোঁজে দ্বিতীয়বার নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করা, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগসহ সফল উদ্যোক্তার বেশকিছু গুণ পরিলক্ষিত হয়।
মূলত ব্যবসায়ের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা অনেকাংশে উদ্যোক্তার গুণাবলির ওপর নির্ভরশীল। তাই বলা যায়, মি. সাজুর গুণাবলির কারণেই উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়টি সফলতা লাভ করে।
মানুষের জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত শিল্প হলো সেবা শিল্প।
যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সেবামূলক কাজ করা হয়, তাকে সেবা শিল্প বলে। এ শিল্পকে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ এই চার ভাগে ভাগ করা হয়। এ শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ উৎপাদনমুখী শিল্পের তুলনায় কম হয়ে থাকে। মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটোমোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফুল চাষ, পর্যটন ও সেবা, হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রভৃতি সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
মি. রিমুর কারখানাটি উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্প বলতে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩১-১২০ জন্য শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকের মি. রিমু কক্সবাজারে 'রিমু সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' নামে একটি লবণ প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করেন। তার জমি ও কারখানার ভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকা। তিনি লবণ প্রসেসিং কারখানা যেহেতু স্থাপন করেছেন। তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য যেহেতু ৭৫ লক্ষ টাকা বা উৎপাদনমুখী ফুড শিল্পের পর্যায়ে পড়ে। সুতরাং বলা যায়, জনাব রিমুর কারখানাটি উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
কাঁচামাল প্রাপ্তির সহজলভ্যতা বিচারে মি. রিমুর কক্সবাজারকে নির্বাচন করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
সাধারণত পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় যাচাই বাছাইয়ের পর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের স্থান নির্বাচন করা হয়। এক্ষেত্রে যেখানে প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে উৎপাদিত পণ্যের কাঁচামাল সহজে পাওয়া যাবে। পণ্যের বাজার নিকটে থাকবে। পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাবে ও পরিবহণের সুযোগ-সুবিধা থাকবে তেমন স্থান বেছে নেওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে মি. রিমু কক্সবাজারে 'রিমু সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' নামে একটি লবণ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। যা সমুদ্রের পানিকে প্রসেসিং করে লবণ উৎপাদন করে। এতে তার বিনিয়োগ ৭৫ লক্ষ টাকা।
মি. রিমু তিনি লবণ তৈরির কারখানাটি কক্সবাজারে স্থাপন করেন। যার ফলে সে সহজেই কম পরিবহণ খরচে সাগরের লবণাক্ত পানি উত্তোলন করে লবণ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে। যার ফলে কম উৎপাদন খরচে অধিক লাভ করা যায়। তাছাড়া কক্সবাজারের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়াতে তার উৎপাদিন লবণ বাজারজাতকরণ সহজতর হয়।
পরিশেষে বলা যায়, কাঁচামালের সহজ প্রাপ্তির সুবাদে তিনি কক্সবাজার স্থান নির্বাচন করেন।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে।
উৎপাদিত পণ্য বা সেবার বণ্টন সংক্রান্ত কাজের সমষ্টি হলো বাণিজ্য। এটি ব্যবসায়ের পণ্য বণ্টনকারী শাখা হিসেবে বিবেচিত হয়। বাণিজ্যের কাজই হলো উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বা সেবা চূড়ান্ত ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় সকল প্রকার বাধা (স্থানগত, সময়গত, ঝুঁকিগত) দূর করা।
উদ্দীপকে হামিদের কাজটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ নিজস্ব পুঁজি অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা। এছাড়া এটি একটি স্বাধীন পেশা। যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেই তার বেকার সমস্যা দূর করতে পারেন।
উদ্দীপকে হামিদ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি গরুর খামার স্থাপন করেন যেখানে তিনি খামার স্থাপনে তার নিজস্ব জ্ঞান দক্ষতা কাজে লাগিয়ে খামারটি স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে তিনি তার কর্মসংস্থাপন সৃষ্টি করে ও বেকারত্ব দূর করে। অভাবে স্বল্প পুঁজি এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, হামিদের কাজটি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব হামিদের কাজটি অবদান রাখছে বলে আমি মনে করি। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে ব্যবসায় উন্নয়নের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান, এজন্য সফল ব্যবসায়ীরা সমাজ ও দেশের জন্য মঙ্গলকর। আত্মকর্মসংস্থানকারী নিজেই নিজের কর্মসংস্থান ও উপার্জনের পথ সৃষ্টি করেন। ফলে দেশে বেকারত্বের হার কমে ও অর্থনীতির চাকা সচল থাকে।
উদ্দীপকে জনাব হামিদ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গরুর খামারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে একটি গরুর খামার স্থাপন করেন। খামার করতে গিয়ে তিনি অনেক বাঁধার সম্মুখীন হন তবে নিজের শ্রম, দক্ষতা, সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করে তিনি সফল হন। তার কাজটি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ।
জনাব হামিদ তিনি নিচের কর্মসংস্থান নিজেই গড়ে তোলার মাধ্যমে তার আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। ভবিষ্যতে তার খামারটি বড়ো হলে সেখানে আরোও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তার উদ্যোগ দেখে অনেক বেকার যুবক-যুবতি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ শুরু করলে বেকার সমস্যা দূর হবে। তারমতো সফল ব্যবসায়ীরা নিয়মিত কর প্রদান করে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
অতএব উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব হামিদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বাণিজ্যকে ব্যবসায়ের পণ্য বা সেবাসামগ্রী বণ্টনকারী শাখা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে।
পণ্য দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কার্য যথার্থভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে অর্থগত, ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত ও তথ্যগত বাধা বা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সকল বাধা দূরীকরণে বাণিজ্যের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন-পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, বিপণন ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদির সহযোগিতার প্রয়োজন হয়।
রাজশাহীতে জনাব মজিদের সিল্ক শাড়ির ব্যবসায়ে সামাজিক পরিবেশের উপাদানের ঐতিহ্য উপাদানটি প্রাধান্য পেয়েছে।
জাতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, ভোক্তাদের মনোভাব, মানবসম্পদ, শিল্ক ও সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রভৃতি ব্যবসায়ের সামাজিক উপাদান। অতীতে এ দেশের মানুষ জাতিগত, ঐতিহ্যগত এবং সাংস্কৃতিকভাবে উদার, পরিশ্রমী এবং সৃজনশীল ছিল। তারা মসলিন কাপড় উৎপাদন করে এ দেশের প্রতিভা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছে। বর্তমানেও জামদানি শাড়ি তৈরি করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্দীপকে মজিদ রাজশাহীতে শিল্ক শাড়ির পাইকারি ব্যবসায় শুরু করেন এবং মানসম্মত শাড়ি উৎপাদকের কাছ থেকে কিনে পাইকারি বিক্রয় করেন এবং বিদেশেও রপ্তানি করেন।
সুতরাং বলা যায়, রাজশাহীতে মজিদের সিল্ক শাড়ির ব্যবসায়ে পরিবেশের সামাজিক উপাদানের ঐতিহ্য প্রধান্য পেয়েছে।
জনাব মজিদের ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যাংক আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কারণ ব্যবসা-বাণিজ্যে মূলধনের প্রয়োজনে ব্যাংক আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় গঠন ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। ব্যাংকের কার্যক্রম মূলত সেবা শিল্পের অন্তর্গত। এ শিল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকার সেবা নিশ্চিত করা। এতে মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার প্রয়োজনে ঋণ নিতে পারে।
আবার সময়মতো সে সুদসহ ব্যাংককে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে সে ব্যাংক সেবা গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি তার ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ না করতে পারে তাহলে সে ব্যাংক হতে প্রয়োজনীয় ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারবে। এতে করে একজন ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, জনাব মজিদ এম. বি. এ পাশ করার পর রাজশাহীতে সিল্ক শাড়ির পাইকারি ব্যবসায় শুরু করেন। তিনি মানসম্মতভাবে শাড়ি উৎপাদকের কাছ থেকে কিনে এইগুলো পাইকারি দামে বিক্রয় করেন এবং বিদেশেও রপ্তানি করেন। রাজশাহী সিল্ক শাড়ির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি তার ব্যবসায়কে আরও বাড়াতে চাচ্ছেন। এ জন্য তার ব্যাংকের সাহায্য প্রয়োজন।
ব্যাংক সাধারণত একজন ব্যবসায়ীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে থাকে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ মূলধন না থাকলে একজন ব্যবসায়ী ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে তার ব্যবসায়কে সম্প্রসারণ করতে পারেন। তাই বলা যায়, জনাব মজিদের সিল্ক শাড়ির ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যাংক তাকে ঋণ প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গুদামজাতকরণের মাধ্যমে বাণিজ্যের সময়গত বাধা দূর করে।
কিছু কিছু পণ্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেসব পণ্যের চাহিদা থাকে সারা বছর। পণ্য সংরক্ষণের ফলে সারা বছর তা ব্যবহার বা বিক্রি করা যায়। এভাবে গুদামজাতকরণের ফলে বাণিজ্যের সময়গত প্রতিবন্ধকতা দূর হয়।
উদ্দীপকে 'শাফি এন্ড কোং' এর ব্যবসায়িক কার্যাবলি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবা শাখার অন্তর্গত।
এ ব্যবসায়ে গ্রহাকদের সরাসরি সেবা দেওয়া হয়। এ সেবার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায়। এক্ষেত্রে সেবা দেখা বা স্পর্শ করা যায় না। কিন্তু তা মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্লিনিক ব্যবসায়, আইন ব্যবসায়, হিসাব বৃত্তি প্রভৃতি প্রত্যক্ষ সেবার অন্তর্গত।
জনাব শাফি চাটার্ড একাউন্টেন্সিতে লেখাপড়া শেষ করেন। এরপর তিনি 'শাফি এন্ড কোং' নামে একটি একাউন্টেন্সি চার্টার্ড ফার্ম স্থাপন করেন। এ ফার্মের মাধ্যমে তিনি সরাসরি গ্রাহকদের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা সেবা দিয়ে থাকেন। এর বিনিময়ে তিনি তাদের কাছ থেকে অর্থ পান। তার ব্যবসায়ের কাজগুলো প্রত্যক্ষ সেবার সাথে মিল রয়েছে। এটি ব্যবসায়ের একটি শাখা। তাই, 'শাফি এন্ড কোং'-কে ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবা শাখার অন্তর্গত বলা যায়।
জনাব শাফির সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে বিজ্ঞাপন দেয়। এতে ক্রেতারা প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্য সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ে।
উদ্দীপকে জনাব শাফি চার্টার্ড একাউন্টেসিতে পড়ালেখা শেষ করেন। এরপর তিনি 'শাফি এন্ড কোং' নামে একটি চার্টার্ড একাউন্টেন্সি ফার্ম স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানটি নতুন। তাই এটির পরিচিতি কম। এতে তার নিরীক্ষাসংক্রান্ত কাজ পেতে সমস্যা হয়।
এক্ষেত্রে গ্রাহক সংখ্যা কম হওয়ার সমস্যা সমাধানে জনাব শাফির প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া জরুরি। এতে তার ফার্ম ও এর কাজ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে। তার কাজের মান সম্পর্কেও ধারণা পাবে। এভাবে তার ফার্মের পরিচিতি আরও বাড়বে। এর ফলে গ্রাহকরা তার কাছ থেকে সেবা নিতে আগ্রহী হবে। এতে ফার্মের গ্রাহক সংখ্যাও বাড়বে। এভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে জনাব শাফি তার ফার্মের পরিচিতি বাড়াতে পারেন।
নামমাত্র অংশীদারের বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো :
i. অংশীদারগণ ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না।
ii. ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না।
iii. চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিজের সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
iv. অংশীদারদের দায় সাধারণ অংশীদারদের মতো অসীম নয়।
v. তবে কোনো তৃতীয় পক্ষ যদি তাকে অংশীদার মনে করে ঋণ দেয় এবং তা প্রমাণ করতে পারে তাহলে সে ঋণের জন্য সাধারণ অংশীদারের ন্যায় দায়বদ্ধ।
মি. সামি ও তার বন্ধুদের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায়।
অংশীদারি ব্যবসায় হলো মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের মাধ্যমে গঠিত এক ধরনের ব্যবসায় যেখানে তারা সকলে অথবা তাদের মধ্য থেকে একজন সবার পক্ষে উক্ত ব্যবসায়টি পরিচালিত করে থাকে। অংশীদারদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের আলোকেই এ ব্যবসায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এরূপ চুক্তি হতে পারে মৌখিক বা লিখিত, নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত। উদ্দীপকে মি. সামি ও তার চার বন্ধু মিলে পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি তৈরি পোশাক শিল্প স্থাপন করেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসাটি হলো অংশীদারি ব্যবসায়। অংশীদারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
মি. সামিদের ব্যবসায় সংগঠনটির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিলোপসাধন ঘটবে।
অংশীাদরি ব্যবসায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, সকল অংশীদারদের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের বিলোপ সাধনই হচ্ছে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. সামি ও তার চার বন্ধু মিলে পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি তৈরি পোশাক শিল্প স্থাপন করে। ব্যবসায়টি প্রথমদিকে ভালো মুনাফা অর্জন করলেও কিছুদিন পর মি. সামি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান দিতে চাওয়ায় তাদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। এ অবস্থায় মি. সামি ব্যবসায় বিলোপের জন্য লিখিত পত্র প্রদান করেন। অংশীদারি আইনের ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার লিখিত বিজ্ঞপ্তির দ্বারা অন্য অংশীদারের কাছে ব্যবসায় বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করলে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা বিলোপসাধন হয়।
অংশীদারি আইনের বিধান অনুসারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলুপ্তি হতে পারে। মি. সামিদের ব্যবসায় সংগঠনটির ক্ষেত্রে যে বিলোপসাধন ঘটবে তা হলো বিজ্ঞপ্তির দ্বারা বিলোপসাধন। কেননা তিনি নিজেই ব্যবসায় বিলোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাই ব্যবসায়টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিলোপসাধন হবে।
ব্যক্তি তার মেধা ও মননশীলতা ব্যবহার করে যা কিছু সৃষ্টি করেন, তাকে মেধাসম্পদ বলে।
সৃজনশীল ব্যক্তি দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে মেধাসম্পদ সৃষ্টি করেন। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তার মেধাসম্পদ বিক্রি ও উন্নয়ন করতে পারে না। গল্প, নাটক, চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফ, সফটওয়্যার প্রভৃতি মেধাসম্পদের উদাহরণ। শিল্পের সব উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে মেধাসম্পদ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. নাহিদের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে একমালিকানা ব্যবসায়।
সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। একজন মালিকানায় পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এ জন্য এটিকে সবচেয়ে প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন বলা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, মি. নাহিদ নিউমার্কেট রাজশাহীতে একটি প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসায় শুরু করেন। তিনি নিজেই ব্যবসায়ের মূলধন সরবরাহ করেন এবং পরিচালনা করেন।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে যখন কোনো ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে মূলধন জোগাড় করে কোনো ব্যবসা গঠন ও পরিচালনা করে এবং উক্ত ব্যবসায়ে অর্জিত সকল লাভ নিজে ভোগ করে বা ক্ষতি হলে নিজেই তা বহন করে, তখন তাকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. জাহিদ একজন ঘুমন্ত অংশীদার।
যে অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না কিন্তু মূলধন বিনিয়োগ করে ও দায় সসীম, তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, মি. নাহিদ তার ব্যবসায়ের পরিসর বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার বন্ধু মি. জাহিদকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু মি. জাহিদ চুক্তি অনুযায়ী মূলধন বিনিয়োগ করে লাভের অংশ গ্রহণ করলেও তৃতীয় পক্ষের নিকট ব্যবসায়ের কোনো কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ এখানে মি. জাহিদ একজন ঘুমন্ত অংশীদার।
একজন ঘুমন্ত অংশীদারের মধ্যে বেশকিছু বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এ অংশীদারগণ ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে। চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ পায়। এসব অংশীদার অধিকার থাকা সত্ত্বেও সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। এসব অংশীদারদের দায় সসীম। ব্যবসায়ের কোনো কাজের জন্য এসব অংশীদার তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়বদ্ধ নয়।
উদ্দীপকে মি. জাহিদের মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় তা ঘুমন্ত অংশীদারের সাথে সাদৃশপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মি. জাহিদ একজন ঘুমন্ত অংশীদার।
একজন ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
এরূপ ব্যবসায়ের পৃথক কোনো সত্তা থাকে না। মালিকের ব্যক্তিগত সত্তাই এক্ষেত্রে মুখ্য। এ কারণে দায় বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ের দায়ের জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ হতে পারে। তাই, একমালিকানা ব্যবসায়ের দায় অসীম।
জনাব আরিফের পানিসেচ যন্ত্রটি 'মেধাসম্পদ' এর অন্তর্ভুক্ত।
মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজই মেধাসম্পদ। ব্যবসায়, শিল্পে বা বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক নাম ইত্যাদি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প বা ব্যবসায় উদ্যোক্তার মেধাসম্পদ বলতে ঐসব মূল্যবান সম্পদকে বোঝায় যা সে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে উদ্ভাবন করেছে। উদ্দীপকে জনাব আরিফ একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এমন একটি সৌরশক্তি চালিত পানিসেচের যন্ত্র আবিষ্কার করেন সেটি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেচ যন্ত্র হতে আলাদা। জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে তিনি এটি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
জনাব আরিফের উক্ত সম্পদটি হলো মেধাসম্পদ। সব উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে মেধাসম্পদ।
জনাব আরিফ যে কাজের জন্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তা হলো পেটেন্ট চুক্তি। জনাব আরিফ কোনো আইনি সহায়তা না পাওয়ার মূল কারণ পেটেন্ট চুক্তিপত্র না করা।
উদ্যোক্তা, লেখক বা শিল্প কর্তৃক তার সৃষ্টকর্মের ওপর একক অধিকার পাওয়ার জন্য আইনগত অধিকার হলো পেটেন্ট। উদ্দীপকে জনাব আরিফ একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এমন একটি সৌরশক্তি চালিত পানিসেচের যন্ত্র আবিষ্কার করেন সেটি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেচ যন্ত্র হতে আলাদা। তিনি এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করে বাজারে ছাড়েন এবং ব্যাপক সাড়া পান। কিছু দিনের মধ্যেই অন্য একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি তার যন্ত্র নকল করে বাজারজাত করেন। কিন্তু তিনি ঐ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেও আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পেটেন্ট এর উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টকর্ম নকল করা থেকে বিরত রেখে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা। পেটেন্ট আইন অনুযায়ী একজন উদ্ভাবক তার সৃষ্টকর্মের ওপর পূর্ণ অধিকার লাভ করেন। ফলে অন্য কেউ এটি নকল করতে পারে না। এর জন্য পেটেন্ট চুক্তি সম্পাদন করতে হয়। অর্থাৎ কোনো উদ্ভাবক যদি তার শিল্পকলা বা আবিষ্কারকে বাজারজাতকরণের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তি হয়, তাকেই পেটেন্ট চুক্তি বলে। চুক্তিপত্রে সময়, রয়েলটির পরিমাণ প্রভৃতি উল্লেখ থাকে। চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রি করা থাকলে চুক্তি ভঙ্গের জন্য উদ্ভাবক কোর্টে প্রতিকার চাইতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব আরিফের পেটেন্ট চুক্তিপত্র করা ছিল না বিধায় তিনি আইনি কোনো সহায়তা পাননি।
নতুন ব্যবসায় গঠন রা নতুন পণ্য, সেবা, পদ্ধতি বা বাজার সামনে রেখে একজন ব্যবসায়ীর উদ্যোগকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় কার্যক্রম গড়ে উঠে। ফলে নতুন পণ্য, সেবা, বাজার ও পদ্ধতির নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। যেখানে প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এভাবেই ব্যবসায় উদ্যোগ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যে প্রক্রিয়ায় পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাকে বিজ্ঞাপন বলে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এর মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য ও ব্যবহারবিধি ক্রেতা বা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়। ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ে।
উদ্দীপকে জনাব নীলা সরকারি চাকরি ছেড়ে 'নীলাদ্রী' নামে একটি গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবল আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সাহস ও নেতৃত্বদানের যোগ্যতা নিয়ে বিগত তিন বছরে তিনি ব্যবসায়টিকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। কিন্তু ক্রেতাদের পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তার ব্যবসায়টি বেশিদূর যায়নি। এমন অজ্ঞতার কারণ হলো জনাব নীলার প্রচার-প্রচারণা অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের অভাব। তাই বলা যায়, বিজ্ঞাপনের অভাবে জনাব নীলার 'নীলাদ্রী' প্রতিষ্ঠানটি বেশিদূর না যাওয়ার কারণ।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমাননির্ভর পথযাত্রায় যে উদ্যোক্তা তার নতুন ব্যবসায় চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে সাফল্য অর্জনে সক্ষম হন তাকেই সফল উদ্যোক্তা বলে। সফল উদ্যোক্তা নিঃসন্দেহে একজন সৃজনশীল উদ্ভাবক, উত্তম সংগঠক, যোগ্য পরিচালক ও নেতা। তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী বা ব্যবস্থাপক থেকে ভিন্নতর। বিভিন্ন গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সমাহারে তিনি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
উদ্দীপকে জনাব নীলা সরকারি চাকরি ছেড়ে 'নীলাদ্রী' নামে একটি গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবল আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সাহস ও নেতৃত্বদানের যোগ্যতা নিয়ে বিগত তিন বছরে তিনি ব্যবসায়টিকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। কিন্তু ক্রেতাদের পণ্যসামগ্রী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তার ব্যবসায়টি বেশিদূর যায়নি। বর্তমানে ব্যবসায়টি বন্ধ হওয়ার পথে।
উদ্দীপকে জনাব নীলাকে সফল উদ্যোক্তা বলা যায় না। কারণ তিনি তার একক প্রচেষ্টায় ব্যবসায়টিকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন। বর্তমানে তার ব্যবসায়টি বন্ধের পথে। অথচ তিনি যদি তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের অবহিত করতে পারতেন তবে তিনি সম্পূর্ণরূপে সফলতা অর্জন করতে পারতেন।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। এ ধরনের ব্যবসায়ে মালিক একজন থাকে বিধায় তাকে ব্যবসায়ের সমস্ত মূলধন বিনিয়োগ করে, ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। তবে ব্যবসায়ের সমস্ত লাভ তিনি একাই ভোগ করেন কিন্তু লোকসান হলে সমস্ত দায়ভার তাকে একাই বহন করতে হয়। আবার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং জনগণের নিকট শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ঘরোয়া পরিবেশে পরিচিতজনদের নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম মূলধন নিয়ে গঠিত হয়।
উদ্দীপকে সুনামগঞ্জের সানিয়া ও আফরিন প্রতিবছর সিলেটে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য একটি শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। অনলাইনে বিজ্ঞাপন, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা ব্যবসায়টিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যায়। উক্ত ব্যবসায়ে তারা দুজনেই সব শেয়ারের মালিক এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের এই ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সানিয়া ও আফরিনের ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। নিবন্ধনপত্র পেয়েও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তাদের কাজ শুরু করতে পারে না। এ ধরনের কোম্পানির মূলধনের প্রয়োজন হলে তারা বাজারে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকে সুনামগঞ্জের সানিয়া ও আফরিন প্রতিবছর সিলেটে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য একটি শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। অনলাইনে বিজ্ঞাপন, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা ব্যবসায়টিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যায়। উক্ত ব্যবসায়ে তারা দুজনেই সব শেয়ারের মালিক এবং পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমানে তারা আরও কতকগুলো পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করতে চায়। তাই জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি প্রথমত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ছিল। কিন্তু প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাজারে শেয়ার বিক্রয় করতে পারে না। এমতাবস্থায় তারা কোম্পানিটিকে প্রাইভেট থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করতে চায়। এতে তাদের মূলধনের প্রয়োজন হলে বাজারে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে এবং ব্যবসায়টিকে সম্প্রসারিত করতে পারবে। তাই আমি মনে করি, সানিয়া ও আফরিনের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে।
পণ্য বা সেবাসামগ্রীর চাহিদা প্রকল্প ধারণার জন্ম দেয়। এজন্য প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণের সময় উদ্যোক্তাকে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন- উদ্যোক্তার নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি বিষয় উদ্যোক্তাকে বিবেচনা করতে হয়।
যে বিবরণীতে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা হয় তাকে প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী বলে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য ব্যবসায় উদ্যোক্তার নগদানপ্রবাহ বিবরণী প্রাক্কলন করা প্রয়োজন। এই বিবরণী দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ উদ্দিন 'ইরানী বোরকা হাউজ' নামে একটি বোরকার দোকান দেন। ২০২৪ সালে তার দোকানের আয়-ব্যয়ের তথ্য ছিল: মালামাল ক্রয় ৬০,০০০ টাকা; কর্মচারীর বেতন ৫০,০০০ টাকা; মেশিন ক্রয় ৬০,০০০ টাকা; বিদ্যুৎ বিল ৩০,০০০ টাকা; দোকান ভাড়া ৪০,০০০ টাকা; বিক্রয় ২,৫০,০০০ টাকা; আসবাবপত্র ক্রয় ৮০,০০০ টাকা। তিনি তার ব্যবসায়ের নগদ টাকার পরিমাণ জানার জন্য প্রতিমাসে একটি বিবরণী প্রস্তুত করেন।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ উদ্দিন প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুত করেন। এ বিবরণীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ আসছে এবং কী পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা যায়। এর ফলে রমিজ উদ্দিন তার ব্যবসায়ের নগদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে। তাই আমি মনে করি, জনাব রমিজ উদ্দিনের প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুতের যথার্থতা রয়েছে।
জনাব আবুল হোসেনের কাজটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশ বিস্তারের প্রক্রিয়াকে প্রজনন শিল্প বলে। এই শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীকে পুনরায় উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন-নার্সারিতে সৃষ্ট চারা পরবর্তীতে গাছ বা ফলমূল উৎপাদন করে, পোলট্রি ফার্মে ডিম বা বাচ্চা উৎপাদিত হয়, হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদিত হয় যার সবকিছুই পরবর্তী উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব আবুল হোসেন বি. কম পাস করে পশুপালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। অতঃপর তিনি মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করেন। উক্ত বাচ্চা উৎপাদনের কাজটি প্রজনন শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব আবুল হোসেনের কাজটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
জনাব আবুল হোসেন অর্থনৈতিক পরিবেশের সহায়তা নিয়েছেন, যা ব্যবসায়ের জন্য যথার্থ বলে আমি মনে করি।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে যে * পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব আবুল হোসেন বি.কম পাস করে পশুপালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। অতঃপর তিনি মুরগির ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করেন। ব্যবসায়টি সফলতার মুখ দেখায় তিনি তার কাজে সহায়তার জন্য কয়েকজন যুবককে নিয়োগ দেন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তিনি টিউলিপ ব্যাংক থেকে দশ লক্ষ টাকা ঋণ নেন।
অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসায়-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের জনাব আবুল হোসেন তাই অর্থনৈতিক পরিবেশের অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থার সহায়তা ঋণ গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে আশা করা যায়, তিনি তার ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
বাণিজ্য হলো ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বা সেবা ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন রাধার (স্থানগত, ব্যক্তিগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, তথ্যগত) সম্মুখীন হতে হয়। এসব বাধা দূর করে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই হলো বাণিজ্যের কাজ।
যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, কাঁচামালে রূপদান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কাঁচামালকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা হয় তাকে শিল্প বলে। শিল্প প্রধানত পাঁচ প্রকার; যথা- প্রজনন, নিষ্কাশন, নির্মাণ, উৎপাদন এবং সেবা শিল্প। এক্ষেত্রে নির্মাণ শিল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়।
উদ্দীপকের জনাব আরাফ বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করে দেশের সড়কপথ তৈরির ব্যবসায় করেন। এরূপ কাজের মাধ্যমে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেতু নির্মাণ প্রভৃতি সম্পন্ন করেন; যা নির্মাণ শিল্পের অন্তর্গত। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব আরাফের শিল্পটি নির্মাণ শিল্প।
যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ব্যবসায় সংগঠনের গঠন, কার্যাবলি, উন্নতি ও অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে। ব্যবসায় পরিবেশের উপাদানগুলো হলো- প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, 'আইনগত এবং প্রযুক্তিগত।
উদ্দীপকের জনাব আরাফ বিদেশ হতে পাথর আমদানি করে দেশের সড়কপথ তৈরির ব্যবসায় করেন। জনাব আরাফের ব্যবসায় প্রথম পর্যায়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন করছিল। কিন্তু অনেক সময় বন্দরের -কর্মচারীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার জন্য কর্ম বিরতিতে যান। এছাড়া জনাব আরাফ অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়লে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহায়তায় সংকট কাটিয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ব্যবসায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবসায়কে নানাভাবে প্রভাবিত করে। উদ্দীপকের কর্মবিরতি রাজনৈতিক পরিবেশ হিসেবে ব্যবসায়কে প্রভাবিত করেছে। উক্ত সমস্যাটি জনাব আরাফ দক্ষতার সাথে সমাধান করেন। এছাড়া তিনি অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়লে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করেন; যা অর্থনৈতিক পরিবেশকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে তিনি সংকট কাটিয়ে ওঠেন। মূলত এভাবেই প্রভাবিত করা ব্যবসায় পরিবেশের উপাদানগুলোকে কাজে লাগিয়ে জনাব আরাফ সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন।
চলতি মূলধনের মেয়াদ সাধারণত এক বছর হয়ে থাকে। এ ধরনের মূলধনের দ্বারা কোনো ধরনের স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন বা ক্রয় করা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়িক দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ ধরনের মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল ক্রয়, মজুরি প্রদান, ভাড়া ও পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ খরচ, কর্মচারীর বেতন প্রভৃতি চলতি মূলধনের উদাহরণ।
সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য ব্যবসায় উদ্যোক্তাগণ যে বিবরণীর মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে হিসাব সংরক্ষণ করেন, তাকে প্রাক্কলিত নগদ-প্রবাহ বিবরণী বলে। নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি করার ফলে উদ্যোক্তা তার ব্যবসায়ের নগদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন।
উদ্দীপকের জনাব রাহুলের প্রতিষ্ঠানের যে সমস্ত লেনদেন নগদে সংঘটিত হয় তা তিনি তিনি প্রতিদিন লিপিবদ্ধ করে রাখেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রতিদিন কী পরিমাণ নগদ আসছে এবং কী পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করে রাখেন। এরূপ নগদ প্রবাহ বিবরণী তৈরি করার ফলে জনাব রাহুল তার ব্যবসায়ের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন। সুতরাং বলা যায়, জনাব রাহুল ব্যবসায়ে নগদ প্রবাহ বিবরণী প্রস্তুত করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব রফিকের সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত নগদপ্রবাহ বিবরণী প্রস্তুতকরণ এবং সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য ব্যবসায় উদ্যোক্তাগণ যে বিবরণীর মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে হিসাব সংরক্ষণ করেন, তাকে প্রাক্কলিত নগদ-প্রবাহ বিবরণী বলে। সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ ব্যবসায়ের এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন আয়-ব্যয় সমান হয়। এরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব রাহুল তার প্রতিষ্ঠানে যে সমস্ত লেনদেন নগদে সংঘটিত হয় তা প্রতিদিন লিপিবদ্ধ করে রাখেন। অপরদিকে জনাব রফিক নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে একইভাবে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া তিনি উৎপাদিত পণ্যের এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণসহ অন্যান্য হিসাবসমূহ সংরক্ষণ করেন। ফলে তিনি সহজেই প্রত্যাশিত মুনাফা সম্পর্কে ধারণা পান। বর্তমানে তিনি সফল ব্যবসায়ী।
উদ্দীপকের জনাব রফিক একই সাথে নগদপ্রবাহ বিবরণী প্রস্তুত করেন এবং সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যবসায়ের দৈনিক হিসাব সংরক্ষণ করেন এবং সঠিক উপায়ে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেন; যা তার ব্যবসায়ের সফলতাকে ত্বরান্বিত করেছে।
পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা। কোনো ব্যবসায় সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে কী কাজ কে, কীভাবে, কখন করবে তা নির্ধারণ করাই হলো পরিকল্পনা। ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন।
উদ্দীপকের জনাব সাইফ একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠনের নিমিত্তে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের নিকট হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেন। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রয় বেশি হওয়ায় কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা বিভাগীয় শহরে স্থাপন করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব সাইফ প্রথম পর্যায়ে ব্যবসায় গঠনের চিন্তা করেছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের নিকট হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এক্ষেত্রে জনাব সাইফের এরূপ কাজ ব্যবস্থাপনার কার্যাবলির অন্তর্গত পরিকল্পনা প্রণয়নকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের জনাব সাইফের মধ্যে আদর্শ নেতার সাংগঠনিক দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সাহস ও সততার গুণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সাহসও পরিলক্ষিত হয়।
যিনি নেতৃত্ব দেন তাকে নেতা বলা হয়। নেতার কাজ হচ্ছে উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উৎসাহিত ও পরিচালনা করা। নেতৃত্বদানের কঠিন দায়িত্বশীল কাজটি সম্পাদনের জন্য একজন নেতার অনেকগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব সাইফ একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠনের নিমিত্তে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের নিকট হতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করেন। প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রয় বেশি হওয়ায় কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা বিভাগীয় শহরে স্থাপন করেন। তিনি কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনাও দেন। এছাড়া কিছুদিন পরপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। কর্মীদের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাও সমাধানের চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। তার এরূপ সফলতার পেছনে সাংগঠনিক দক্ষতা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
একজন আদর্শ নেতার যেসব গুণ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে নেতার সাংগঠনিক দক্ষতার গুণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আদর্শ নেতার গুণের অংশ হিসেবে জনাব সাইফের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সাহস ও সততার গুণগুলোও তার সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। পরিশেষে বলা যায়, আদর্শ নেতার গুণাবলির সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনাব সাইফ ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করেছেন।
ব্যবসায়ে সততা বজায় রাখা একজন ব্যবসায়ীর জন্য নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন না করা, প্রতারণা না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি না করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করা, পরিবেশের ক্ষতিসাধন না করা প্রভৃতি ব্যবসায়ের নৈতিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব নৈতিকতা সততা অবলম্বনের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব।
শিল্পবর্জ্য নির্গত হওয়ার ফলে পুকুর, নদী ও জলাশয় দূষিত হওয়াকে পানি দূষণ বলে। পানি দূষিত হলে মাছসহ জলজ প্রাণী পানিতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব কবির নদীর তীরে 'প্লাস্টিকের রয়েল গ্লাগ' উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার কারখানায় বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে। ফলে এলাকার মানুষ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে পানি দূষণের মাধ্যমে মানুষ এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে; যা পানি দূষণ হিসেবে বিবেচ্য।
জনাব মাহমুদ শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন; যা সমাজ ও দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মূল্যায়ন করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করলে, তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন হয়। একজন ব্যবসায়ীকে সবসময় শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করে চলতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব মাহমুদ প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তিনি শ্রমিকদের জন্য কাজের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টিসহ উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব মাহমুদ শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করছেন।
শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে একজন ব্যবসায়ী সবসময় কর্মচারীদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও আর্থিক সুবিধা প্রদান, চাকরির নিশ্চয়তা বিধান, কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রভৃতি কাজ সম্পন্ন করে থাকেন। একজন ব্যবসায়ী এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে ব্যবসায়ে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
মানুষের জীবন মূল্যের মাপকাঠিতে নিরূপণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দানের নিশ্চয়তা দেয়। এ কারণেই জীবন বিমাকে ক্ষতিপূরণের বিমা বলা যায় না।
পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ। পেটেন্টের মাধ্যমে এরূপ আবিষ্কারের জন্য আবিষ্কারককে তার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা প্রদান করা হয়।
উদ্দীপকের জনাব সুমন একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে নতুন এক প্রকারের ধানের বীজ আবিষ্কার করেন যেটি থেকে দুই মাসের মধ্যেই ধান উৎপাদন করে। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব সুমন নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন; যা একটি মেধাসম্পদ। উক্ত মেধাসম্পদ সংরক্ষণের জন্য তিনি সরকারের সাথে পেটেন্ট চুক্তি করবেন। এতে তার মেধাসম্পদ সংরক্ষিত হবে এবং তিনি ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এক্ষেত্রে মার্ক বা প্রতীকের রেজিস্ট্রেশন ঐ পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রতীকটি ব্যবহারের বিষয়ে রেজিস্টার্ড মালিককে একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার প্রদান করে।
উদ্দীপকের জনাব সুমন একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে নতুন এক প্রকারের ধানের বীজ আবিষ্কার করেন যেটি থেকে দুই মাসের মধ্যেই ধান উৎপাদন হবে। তিনি তার পণ্য প্যাকেটজাত করে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারজাত করেন এবং ভালো সাড়া পান। F কিছুদিনের মধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান তার ধানবীজের প্যাকেটের নির্দিষ্ট চিহ্ন নকল করে বাজারজাত করে। কিন্তু তিনি এ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেও কোনো আইনগত সহায়তা পাননি।
কোনো প্রতীক বা মার্কের বিপরীতে আইনগত সহায়তা পাওয়ায় প্রথম শর্ত হচ্ছে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন। কিন্তু উদ্দীপকের জনাব সুমন ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করেননি। ফলে তার উদ্ভাবিত ধানবীজের প্যাকেটের নির্দিষ্ট চিহ্ন বা মার্ক অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নকল হলেও তিনি মামলা করে আইনগত প্রতিকার পাননি। তাই বলা যায়, জনাব সুমনের আইনি সহায়তা না পাওয়ার কারণ হলো তার মার্ক বা চিহ্নের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন না করা।
মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটো মোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ফুল চাষ ও ফুল বাজারজাতকরণ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের উদাহরণ।
কুটিরশিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটিরশিল্প পরিচালিত হয়। পাটজাত শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, মৃৎশিল্প, হস্ত শিল্প, ঝিনুক শিল্প প্রভৃতি কুটিরশিল্পের উদাহরণ।
উদ্দীপকের জনাব বাশার পরিবারের সদস্যদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ওপকরণের ওপর ভিত্তি করে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জনাব বাশার তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কাজ করছেন তা দেশের গ্রাম-বাংলার চিরকালীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে; যা কুটিরশিল্পের অন্তর্গত। তাই বলা যায়, জনাব বাশারের শিল্পটি কুটিরশিল্প।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে জনাব, আফরানের মাঝারি শিল্পটির গুরুত্ব রয়েছে।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং ৫০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১-৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব আফরান একটি শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছে। শিল্পটির উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন। তিনি শিল্পটির কয়েকটি শাখা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে জনাব আফরানের প্রতিষ্ঠানের ৩০০ জন শ্রমিক এবং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে বোঝা যায় তার প্রতিষ্ঠানটির মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত।
মাঝারি শিল্পে ক্ষুদ্র শিল্পের তুলনায় বেশি মূলধন, শ্রমিক ও সক্ষমতার প্রয়োজন হয়। ফলে এরূপ শিল্পের মাধ্যমে ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা থেকে সমাজের মানুষের আয় ও ভোগ-ব্যবহার বাড়ে। আর সমাজের আয় বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনাব আফরানের মাঝারি শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শহর ও গ্রামের মহিলাদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা অধিদপ্তর নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, হস্ত শিল্প, বাটিকের কাজ, বুনন শিল্প, সেলাই ইত্যাদি।
উদ্দীপকে খুলনা শহরের সাদিয়া আফরোজ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে থ্রিপিচের ওপর বাটিকের কাজের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি ঋণ নিয়ে ব্যবসায় শুরু করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, সাদিয়া আফরোজ একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বাটিকের কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান মহিলা অধিদপ্তর প্রদান করে থাকে। তাই বলা যায়, সাদিয়া আফরোজ সরকারি প্রতিষ্ঠান মহিলা অধিদপ্তর হতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
নতুন ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপন করা একটি সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজ। এর সাথে ঝুঁকি জড়িত থাকে। এ কারণে নতুন ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপনে কেউ এগিয়ে আসতে চায় না। এক্ষেত্রে উদ্দীপনামূলক ও সমর্থনমূলক সহায়তা উদ্যোক্তাকে আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের খুলনা শহরের সাদিয়া আফরোজ মহিলা অধিদপ্তর থেকে বাটিকের কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে তিনি বাটিকের যন্ত্র আবিষ্কার করেন। যন্ত্র আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ উদ্দীপনামূলক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে তিনি নারী আবিষ্কারক হিসেবে বিশেষ প্রণোদনা পাচ্ছেন। এছাড়াও সরকার তাকে বিভিন্ন মেয়াদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এগুলো সমর্থনমূলক সহায়তাকে নির্দেশ করে।
সাদিয়া আফরোজ মহিলা অধিদপ্তর থেকে সহায়তা পেয়ে উদ্যোগ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ঋণ সুবিধা নিয়ে ব্যবসায় স্থাপন করেন। এক্ষেত্রে সমর্থনমূলক সহায়তা তার উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। এছাড়া সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ প্রণোদনা তাকে ব্যবসায় সফল হতে অনুপ্রাণিত করেছে। এ ধরনের সহায়তা না পেলে তার পক্ষে ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সাদিয়া আফরোজের প্রাপ্ত উদ্দীপনামূলক ও সমর্থনমূলক সহায়তার কারণে সাদিয়া আফরোজ সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।
দিনে দিনে মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আওতাও বাড়তে থাকে। ফলে শুরু হয় পশু শিকার, খাদ্যশস্য উৎপাদন ও পণ্য বিনিময়ের মতো কর্মকাণ্ড। কিন্তু পণ্য বা দ্রব্য বিনিময় করেও প্রয়োজন মেটানো যায়নি। ফলে দ্রব্য বিনিময়ের স্থলে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণ-রৌপ্যের মুদ্রা ও পরবর্তীকালে কাগজি মুদ্রার প্রচলন হয়।
শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল ও অর্ধপ্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকেই উৎপাদন শিল্প বলে। তুলা থেকে কাপড় ও বস্ত্র উৎপাদন, গম থেকে আটা ও বিস্কুট তৈরি, খনি থেকে প্রাপ্ত লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন এর সবই এই শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব তানিয়া কলা গাছের আঁশ থেকে সুতা উৎপাদন করে নিজস্ব কারখানায় শাড়ি তৈরি করেন। শাড়িগুলো স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করে তিনি বেশ লাভবান হন। জনাব তানিয়ার শাড়ি তৈরির কাজটি উৎপাদন শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব তানিয়ার শিল্পটি উৎপাদন শিল্প।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মূলধন, অর্থ ও ব্যাংকিং প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত পরিবেশই হলো অর্থনৈতিক পরিবেশ। আর কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, প্রযুক্তির আমদানির সুযোগ ইত্যাদির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকে জনাব তানিয়া কলা গাছের আঁশ থেকে সুতা উৎপাদন করে নিজস্ব কারখানায় শাড়ি তৈরি করেন। শাড়িগুলো স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করে তিনি বেশ'লাভবান হন। বর্তমানে তার তৈরি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করতে চান। কিন্তু মূলধনের স্বল্পতা, অপ্রতুল রাস্তা-ঘাট এবং বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তার উদ্যোগটি বাধাগ্রস্ত হয়। উল্লেখ যে, মূলধনের স্বল্পতা প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়।
শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করলে উৎপাদনে নতুনত্ব আনা যায় এবং উৎপাদিত পণ্যের মান ভালো হয়। উদ্দীপকের জনাব তানিয়াও তাই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শাড়ি উৎপাদন করতে চাচ্ছেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তিনি তা করতে পারছেন না। তাই আমি মনে করি, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের কারণে জনাব তানিয়ার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়।
নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে শিল্পবর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। শিল্পবর্জ্য নির্গত তরল পদার্থ নদী-নালায় পড়ে পানি দূষিত করে। বিষাক্ত পানি মাছসহ জলজ প্রাণী বাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করে। তাছাড়া কারখানার মেশিন ও জেনারেটরের বিকট আওয়াজে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হচ্ছে। এছাড়া শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার নামে অবাধে গাছ নিধন ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষণ করা হচ্ছে। আবাসনের নামে চাষের জমি হরণ, খালবিল ভরাট করে আবাসন তৈরি, নদীভাঙন, নির্বিচারে অনুপযুক্ত যানবাহন রাস্তায় চালানো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। এতে মানুষের স্বাস্থ্যহানিতো হচ্ছেই তদুপরি জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। তাই বলা যায়, শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।
ব্যবসায় গঠন, পরিচালনা ও নিরাপদে টিকে থাকতে সরকার ব্যবসায়ীদের যে আইনগত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে তার বিপরীতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীরা যে দায়-দায়িত্ব পালন করে তাকে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বলে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কারণ সরকার যেকোনো সমাজের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থা।
উদ্দীপকের জনাব রায়হান একটি ভোগ্যপণ্য তৈরি কারখানা স্থাপন করতে চান। এইলক্ষ্যে তিনি যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে স্থাপন করেন। উৎপাদিত পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করেন এবং মুনাফার একটি অংশ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে জমা দেন। উক্ত নিয়মনীতি ও মুনাফার অংশ প্রদান কার্যক্রম সরকারের প্রতি সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই বলা যায়, জনাব রায়হান সরকারের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
উচিত এবং ন্যায়-নীতি মেনে চলাই হচ্ছে নৈতিকতা। আর কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ এ সম্পর্কিত মানুষের বোধ বা উপলব্ধিই হচ্ছে মূল্যবোধ। অর্থাৎ মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে নৈতিকতা। এ নৈতিকতার গুণেই একজন ব্যবসায়ী সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন। আর নৈতিকতার অভাবেই একজন ব্যবসায়ী অসৎ হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব রাইসুল শিশুর খাদ্যসামগ্রীর একটি কারখানা স্থাপন করেন। তিনি নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে বেশি মূল্যে বিক্রয় করেন। এছাড়াও তিনি ক্ষতিকর রং মিশিয়ে জুস তৈরি করেন এবং ২০০ গ্রামের পরিবর্তে ২৫০ গ্রামের স্টিকার লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রয় করেন। অল্প কিছুদিন তার প্রতিষ্ঠানটি চললেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সমাজের মানুষের বিভিন্ন বস্তুগত ও অবস্তুগত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই ব্যবসায়ীর কাজ। যে ব্যবসায় এরূপ অভাব পূরণে ব্যর্থ হয়, সেই ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয় এবং তার এসকল কর্মকাণ্ড নৈতিকতা বিরোধী। উদ্দীপকের জনাব রাইসুলও এমন এক ধরনের ব্যবসায়ী, যিনি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসাধু পথ অবলম্বন করেন। তাই আমি মনে করি, ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার আলোকে জনাব রাইসুলের কার্যক্রম অনৈতিক।
লাইসেন্স বলতে ব্যবসায় শুরু করার অনুমতিপত্রকে বোঝায়।
যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বা নিবন্ধন করতে হয়। আর এই অনুমোদনই হলো লাইসেন্স। অনুমোদন বা নিবন্ধন করার পদ্ধতি বিভিন্ন রকমের। একমালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যদি এর অবস্থান পৌর এলাকার ভিতরে হয় তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষের এবং পৌর এলাকার বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
উদ্দীপকের জনাব সৌমেন অনুমতির জন্য BSTI এর দ্বারস্থ হয়েছেন।
বাংলাদেশে পণ্যমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো Bangladesh Standards & Testing Institution (BSTI)। বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার জন্য যে সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মরত রয়েছে তা হলো বিএসটিআই। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত একটি সংস্থা। উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিএসটিআই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব সৌমেন কিছু ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। এক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন করতে কী কী উপাদান ব্যবহৃত হবে এর তথ্য প্রতিষ্ঠানটিকে দেন। এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং সরকার কর্তৃক নিয়োজিত। প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পেয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি জনাব সৌমেনের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। তালিকা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি তাকে জরিমানা করে। এটি বিএসটিআই-এর কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব সৌমেন অনুমতির জন্য BSTI নামক প্রতিষ্ঠানটির দারস্থ হয়েছেন।
জনাব জসিমের মতো ব্যবসায়ীদের নিকট সহযোগিতার জন্য বিমার গুরুত্ব অত্যধিক বলে আমি মনে করি।
বিমা হলো বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারীর মধ্যকার সম্পাদিত চুক্তি। এতে বিমাকারী বিমাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন। এটি ব্যবসায়ের ঝুঁকিগত বাধা দূর করে।
উদ্দীপকে জনাব জসিম একজন ব্যবসায়ী। সে তার পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। বর্তমান সে তার পণ্য বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতে চাচ্ছে। তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্যবসায় করার সাহস পাছে না। তাই বিমা কোম্পানির নিকট দারস্থ হয়।
প্রতিষ্ঠানের সাথে অর্থের বিনিময়ে জনাব জসিম বিমা চুক্তি সম্পাদন করেছে। এক্ষেত্রে এ বিনিময়কৃত অর্থ প্রিমিয়াম হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রিমিয়ামের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ নিশ্চিয়তার কারণেই সে অন্য জেলায় পণ্য পাঠাতে সাহস পাচ্ছে, যা তাকে পরবর্তীতে সফল করেছে। এখন অন্য জেলায় পণ্য পাঠানোর সময় পরিবহণগত কারণে তার পণ্যের ক্ষতি, চুরি বা বিনষ্ট হলে এর বিনিময়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে। আর এ ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে সে তার ব্যবসায় চলমান রাখতে পারবে। তাই বলা যায়, জনাব জসিমের ব্যবসায় সহযোগিতার জন্য বিমার গুরুত্ব অপরিসীম।
বিনিয়োগের মাপকাঠিতে পনিরের কারখানাটি উৎপাদনমুখী শিল্পের আওতায় একটি মাঝারি শিল্প।
মাঝারি শিল্পে মূলধনের পরিমাণ ১৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা হয়। আবার, এ শিল্পে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে পনির 'আলোকিত প্যাকেজিং' নামে একটি কারখানা স্থাপন করেন। তিনি যন্ত্রপাতি, শ্রমের সাহায্যে কাগজ প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকেট তৈরি করেন। এক্ষেত্রে পনিরের প্রতিষ্ঠানটি একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। তার এ ধরনের শিল্পে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যায়। এছাড়া এ শিল্পে সর্বনিম্ন শ্রমিকের সংখ্যা থাকে ১২১ জন। আর তার শিল্পের উপর্যুক্ত এসকল বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত সেবামূলক মাঝারি শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, বিনিয়োগের মাপকাঠিতে ও সেবার ধরন বিবেচনায় পনির কারখানা স্থাপন শিল্পটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
আলোকিত প্যাকেজিং স্থাপিত শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে বলে আমি মনে করি।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নির্ভর করে সেদেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের অগ্রসরতার ওপর। বিভিন্ন শিল্পের বিকাশ দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে। এ সকল শিল্প আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য লালন ও বিকাশে ভূমিকা রেখে থাকে।
উদ্দীপকে পনির 'আলোকিত প্যাকেজিং' নামে কাগজের প্যাকেট তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করেন। তার কারখানাটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের মধ্যে পড়ে। কারখানাটি শুরুর দিকে মুনাফা বেশি হলেও দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতা, রাস্তাঘাটের অনুন্নত অবস্থার কারণে মুনাফা কমতে থাকে।
পনিরের ভবিষ্যৎ দুচিন্তা দূরীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য তার শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, শ্রমিকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এসবের মাধ্যমে তিনি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করতে পারবেন। এছাড়াও সরকারি উদ্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এতে তিনি তার ব্যবসায়ের পণ্য বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে পারবেন।
উদ্দীপকের 'আলোকিত প্যাকেজিং' উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন কলকারখানা, তথা শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখতে সহযোগিতা করবে। ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন, মুনাফা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাগণ উৎসাহ পাবেন। ফলে দেশের কর্মসংস্থান, জাতীয় আয়, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে।
কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার এবং এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকার হলো ফ্রানসাইজিং।
ফ্রানসাইজিং ব্যবসার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ফ্রানসাইজিং চুক্তি, যা ফ্রানসাইজি ও ফ্রানসাইজরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে ফ্রানসাইজি প্রথমে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি এবং পরে বিক্রয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে মাসিক ফি প্রদান করে। প্রতিদান হিসেবে ফ্রানসাইজি ফ্রানসাইজরের পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের অধিকার পায়।
উদ্দীপকের আবরারের বইটি মেধাসম্পদের অন্তর্গত।
মনন বা মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজই মেধাসম্পদ। শিল্প বা ব্যবসায় উদ্যোক্তায় মেধাসম্পদ বলতে ঐসব মূল্যবান সম্পদকে বোঝায় যা সে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে উদ্ভাবন করেছে। ব্যবসায়, শিল্পে বা বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক, নাম ইত্যাদি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব আবরার একজন সুপরিচিত লেখক। প্রতি বছর একুশে বইমেলায় তার রচিত বই প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি বইমেলায় তিনি 'Spoken English'-এর উপর একটি বই প্রকাশ করেছেন। এই বইটি রচনা তিনি একদিনে করেননি। দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে নিজের সৃজনশীল মনন ও মেধা খাটিয়ে তিনি বইটি রচনা করেছেন। আর মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজ মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, আবরারের বইটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
প্রকাশনীর মালিকের বিরুদ্ধে আবরারের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যর্থতার কারণ হলো কপিরাইট নিবন্ধন না করা।
কপিরাইট একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ, যা রক্ষা করার ব্যবস্থা না করলে এর স্বত্বাধিকারী বা মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কপিরাইটের মাধ্যমে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য শিল্পকলা সৃষ্টিকারীকে তার সৃষ্ট মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার প্রদান করা হয়। এতে অন্য কেউ সম্পদটির নকল করে বাজারজাত করলে প্রকৃত স্বত্বাধিকারী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
উদ্দীপকের আবরার সম্প্রতি Spoken English-এর ওপর বইমেলায় একটি বই প্রকাশ করেন। বইটি সকল শ্রেণির মানুষের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে স্থান দখল করে নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য একটি প্রকাশনীর মালিক তার বইটির নকল কপি বাজারে ছাড়লে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই তিনি থানায় গিয়ে ঐ প্রকাশনীর মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করলেও কোনো আইনগত সহায়তা পাননি।
তাই বলা যায়, প্রকাশনীর মালিকের বিরুদ্ধে আবরার তার প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইট নিবন্ধন না থাকার কারণেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি।
ব্যবসায়ের পণ্য বণ্টনকারী শাখা হলো বাণিজ্য।
বাণিজ্যকে ব্যবসায়ের পণ্য বণ্টনকারী শাখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে ব্যবহৃত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কার্য যথার্থভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে অর্থগত, ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত ও তথ্যগত বাধা দেখা দিতে পারে। এসকল বাধা দূরীকরণে বাণিজ্যের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন- পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, বিপণন ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদির সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব কাজ বাণিজ্য করে থাকে বলে বাণিজ্যকে ব্যবসায়ের পণ্য বণ্টনকারী শাখা বলা হয়।
হাজেরা বানুর কর্মসংস্থানের ধরনটি হলো আত্মকর্মসংস্থান।
নিজস্ব পুঁজি অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা।
উদ্দীপকের হাজেরা বানু ঢাকার বেইলী রোডে একটি বিউটি পার্লার প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ তিনি তার নিজস্ব পুঁজি বা ঋণ করা অর্থ নিয়ে, নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায়টি স্থাপন করে নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। আর তার কাজের এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে আত্মকর্মসংস্থানের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, হাজেরা বানুর কর্মসংস্থানের ধরনটি হলো আত্মকর্মসংস্থান।
হাজেরা বানুর ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
দেশে বিরাজমান কার্যকর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পের অবদান, জনগণের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মানসিকতা ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ব্যবসায়ে পরিবেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যত উন্নত সে দেশ তত বেশি অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের হাজেরা বানু একটি বিউটি পার্লার প্রতিষ্ঠা করেন। বিউটি পার্লারের প্রত্যেক গ্রাহক তাদের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। অতিরিক্ত গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর জন্য অনেকেই পার্লরটির সংস্করণ করে আয়তন বৃদ্ধি করতে পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তিনি পার্লারটির আয়তন বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তাই তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছেন।
হাজেরা বানু তার ব্যবসায়ের সম্প্রসারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার কথা চিন্তা করে। এক্ষেত্রে তিনি যদি সহজ শর্তে ঋণ সংগ্রহ করতে পারেন তবে তিনি সেই সংগৃহীত ঋণের অর্থ দ্বারা খুব সহজেই তার ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারবেন। প্রত্যেক ব্যবসায়ের জন্য অর্থ হলো তার প্রাণস্বরূপ। অর্থের নিরবচ্ছিন্ন আগমন ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বহাল রেখে ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর পর্যাপ্ত অর্থের অভাব ব্যবসায়ের সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করে এমনকি এই কারণে ব্যবসায় বন্ধ পর্যন্ত হয়ে যায়। তাই ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থের অভাবে যেন কোনো ব্যবসায় বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত না হয় সে উদ্দেশ্যে দেশে বিরাজমান অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা কাজ করে যায়। আর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা হলো অর্থনৈতিক পরিবেশের একটি উপাদান। তাই বলা যায়, হাজেরা বানুর ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
"ময়দা থেকে বিস্কুট তৈরি” উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
উৎপাদন শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে ময়দা হলো কাঁচামাল আর বিস্কুট হলো চূড়ান্ত পণ্য। ময়দার সাথে আরও অন্যান্য কাঁচামালের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কারখানার কর্মীদের শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজতকরণ করে বিস্কুটে রূপান্তর করা হয়। তাই ময়দা থেকে বিস্কুট তৈরি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
রহিমা খানম ব্যবসায় পরিবেশের প্রযুক্তিগত উপাদানটির সহায়তা গ্রহণ করেছেন।
শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতিতে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। সাধারণত দেখা যায়, যেসকল দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে উন্নত তারা ব্যবসায়-বাণিজ্যেও উন্নত। বাংলাদেশের ব্যবসায় পরিবেশের প্রযুক্তিগত উপাদানগুলো অনেকক্ষেত্রেই অনুকূল।
উদ্দীপকের রহিমা খানম তার কাপড়ের ব্যবসায়ে দেশীয় পণ্যের সাথে বিদেশি শাড়ি, থ্রিপিস, বোরকা ইত্যাদি বিক্রয় করেন। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদিতে আইডি খুলে লাইভ-এ এসে তার পণ্য বিক্রয় করেন। তার ব্যবহৃত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রযুক্তির এক অভিনব আবিষ্কার। এর মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ের পণ্যটিকে একস্থানে থেকেই পৃথিবীর সকল স্থানের ভোক্তা বা ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। মূলত প্রযুক্তিগত উন্নয়নই এই অসাধ্যকে সাধ্য করে গোটা পৃথিবীকে একজন ব্যবসায়ীর হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। তাই বলা যায়, রহিমা খানম প্রযুক্তিগত উপাদানটির সহায়তা গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রহিমা খানমের কাজ অর্থাৎ ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায়ের গুরুত্বের কোনো জুড়ি নেই। আজকের পৃথিবীতে সেসকল দেশ উন্নতির চরম শিখরে অবস্থান করছে যে দেশগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত। তাই যে-কোনো দেশের উন্নয়নে সেদেশের ব্যবসায় খাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের রহিমা খানম প্রযুক্তিগত উপাদানকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবাহর করে তার ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তার সরবরাহকৃত পণ্যের মান ভালো হওয়ায় চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তিনি প্রতিবছর কর প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়া বেকার সমস্যা সমাধানে তিনি কয়েকজন বেকার ছেলে-মেয়েকে তার প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন।
রহিমা বেগমের ব্যবসায়টি দেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে। ব্যবসায়ের মুনাফা থেকে কর প্রদানের মাধ্যমে তিনি দেশ পরিচালনায় সরকারকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছেন। কেননা জনগণের প্রদত্ত কর সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যয় করে থাকেন। তাছাড়া ব্যবসায়ের মাধ্যমে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সহজ হয়। সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়, মূলধন গঠিত হয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ব্যবসায় পরিচালনায় অনেক লোকের প্রয়োজন হয় বিধায় অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এতে দেশের বেকারত্বের সংখ্যা হ্রাস পায়। ব্যবসায় গবেষণা ও সৃজনশীল কাজেরও উন্নয়ন ঘটায়। সর্বোপরি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নে ব্যবসায় অনেক তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে থাকে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস পার্টি-২০২৫ উদযাপন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সম্ভাব্য কত টাকা খরচ হবে সে অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কে কোন দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে করবে, কখন করবে ইত্যাদি বিষয়গুলো তারা আগে থেকেই ঠিক করে নিয়েছে। উক্ত বিষয়গুলো পরিকল্পনার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রমের প্রক্রিয়াটিকে পরিকল্পনা বলা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস পার্টি-২০২৫ উদযাপন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সম্ভাব্য কত টাকা খরচ হবে সে অনুযায়ী টাকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কে কোন দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে করবে, কখন করবে ইত্যাদি বিষয়গুলো তারা আগে থেকেই ঠিক করে নিয়েছে। যে যার মতো পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব পালন করায় তাদের অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে শেষ হয়।
পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর ওপর ভিত্তি করেই যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে। উদ্দীপকে ক্লাস পার্টি করার জন্য দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উক্ত পরিকল্পনার খুব চিন্তা-ভাবনা করে গ্রহণ করায় তাদের ক্লাস পার্টিটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াটি 'ক্লাস পার্টি' উদযাপনকে সার্থক করেছে।
উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই নৈতিকতা বলে। নৈতিকতা মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে জড়িত। যেমন- একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠু পাঠ দান করা যা নৈতিকতার আওতাভুক্ত। অন্যদিকে, শিক্ষকের ন্যায় ছাত্র-ছাত্রীদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-যথাসময়ে স্কুলে যাওয়া, বাড়ির কাজ করা এবং শিক্ষকের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। ক্রেতাদের কেন্দ্র করে ব্যবসায়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার স্বার্থে তাদের চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী ও সেবা সরবরাহ করতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব সৈকত রোগীদের কথা বিবেচনা করে সদর হাসপাতালের কাছে ফলের দোকান দেন। তার দোকানের ফলগুলো ফরমালিনমুক্ত, ওজনে সঠিক হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। ফলে প্রচুর বিক্রয় ও মুনাফা হয়। জনাব সৈকতের ব্যবসায়িক কার্যক্রমটি ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব সৈকতের কাজের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে।
ব্যবসায়ে সমাজ ও সমাজের মানুষগুলো যে সহযোগিতা করে থাকে তার বিপরীতে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীরা যে দায়-দায়িত্ব পালন করে তাকে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বলে। এই দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে: জাতীয় দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো; এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপন; গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট সুবিধা প্রদান ইত্যাদি।
উদ্দীপকে জনাব সৈকত রোগীদের কথা বিবেচনা করে সদর হাসপাতালের কাছে ফলের দোকান দেন। তার দোকানের ফলগুলো ফরমালিনমুক্ত, ওজনে সঠিক হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। ফলে প্রচুর বিক্রয় ও মুনাফা হয়। অন্যদিকে, তার বন্ধু শাকিল একজন বড় ব্যবসায়ী। তিনি তার এলাকার গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ও বৃত্তি প্রদান করেন।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই সমাজের মানুষের বিভিন্ন বস্তুগত ও অবস্তুগত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই ব্যবসায়ীর কাজ। যে ব্যবসায় এরূপ অভাব পূরণে ব্যর্থ হয়, সেই ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। উদ্দীপকের শাকিলও তাই মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের মানুষের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে সমাজের নিকট তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর নিকট বণ্টন করাই বাণিজ্যের কাজ। বাণিজ্য মূলত ব্যক্তিগত বা স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করে। বাণিজ্যের প্রধান অঙ্গ হলো ক্রয়-বিক্রয়। এর মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয় বিধায় বাণিজ্যকে ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখাও বলা হয়।
যে শিল্প প্রচেষ্টায় শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল বা অর্থ প্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করা হয় ঐ শিল্পকে উৎপাদন শিল্প বলে। যেমন- তুলা থেকে কাপড় ও বস্ত্র উৎপাদন, খনি থেকে প্রাপ্ত লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন।
উদ্দীপকে জনাব মফিজ ইটভাটার মালিক। তার ইটভাটার ইটের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বেশি বিক্রয় হয়। উক্ত ইট তৈরিতে শ্রম ও যন্ত্রের ব্যবহার রয়েছে, যা উৎপাদন শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব মফিজের ইটভাটার ব্যবসায়টি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকে জনাব মফিজ ইটভাটার মালিক। তার ইটভাটার ইটের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বেশি বিক্রয় হয়। তবে বর্ষা মৌসুমে তার কাজ বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প হিসেবে অন্য কাজে অংশগ্রহণ করে।
শ্রমিকদের দক্ষতার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করলে উৎপাদনে নতুনত্ব আনা যায় এবং উৎপাদিত পণ্যের মান ভালো হয়। উদ্দীপকের জনাব মফিজের ইটভাটাটি বর্ষা মৌসুমে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনি যদি প্রযুক্তির ব্যবহার করতেন তবে বর্ষা মৌসুমেও ইটভাটাটি চালু রাখতে পারতেন। এতে সারাবছরব্যাপী ইট তৈরি করে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের চাহিদা মেটাতে পারতেন।
কতিপয় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সমমনা পেশাজীবী ব্যক্তি নিজেদের আর্থিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য স্বেচ্ছায় মিলিত হয়ে যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে সমবায় সমিতি বলে। সাধারণত সমমনা পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ এ জাতীয় সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সমিতির উদ্দেশ্য হচ্ছে সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নসাধন করা।
যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমন- নার্সারি, হ্যাচারি, পশুপালন খামার ইত্যাদি।
উদ্দীপকের জনাব সজল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে একটি পশুপালন খামার দেন। এ খামার থেকে তিনি দুধ এবং মাংস আহরণ করে তা আশেপাশের মানুষের খাবারের চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তার খামার থেকে পশু তথা ছাগল ও গাভির বাচ্চা উৎপাদন হয়; যা প্রজনন শিল্পকে নির্দেশ করছে। তাই বলা যায়, জনাব সজলের পশুপালন খামারটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
জনাব সজলের খামার স্থাপনে পরিবেশের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
পরিবেশ দ্বারা মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং ব্যবসা প্রভাবিত হয়। পরিবেশ হলো কোনো অঞ্চলের জনগণের জীবনধারা ও অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে এমন সব উপাদানের সমষ্টি। পারিপার্শ্বিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, পাহাড়, বনভূমি, জাতি, ধর্ম, শিক্ষা-ইত্যাদি।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে, জনাব সজলের একটি পশুপালন খামার আছে। জনবহুল স্থান হওয়ায় সেখানে মাংসের প্রচুর চাহিদা আছে। নদীর তীরে খামার স্থাপন করায় পরিবহন সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া বিস্তীর্ণ চরে সুলভে সবুজ ঘাস পাওয়া যায়। আশেপাশে ব্যাংক থাকায় সহজে ঋণ সুবিধাও পাওয়া যায়। পরিবেশের এসব উপাদান জনাব সজলের ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবসায়-বাণিজ্যকে নানানভাবে প্রভাবিত করে। এখানে উদ্দীপকের সজলের পশুপালন খামার পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান দ্বারা সুবিধা পেয়েছে। এক্ষেত্রে জনবহুল স্থান, নদীর তীরবর্তী স্থান, পরিবহন সুবিধা, সবুজ ঘাসের সুবিধা এবং ব্যাংকিং সুবিধা খুব সহজেই অর্জন করেছেন। এর ফলে তার ব্যবসায়টির সফলতা লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাই বলা যায়, জনাব সজলের খামার স্থাপনে পরিবেশের প্রভাব ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক।
একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে।
এরূপ ব্যবসায় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বিবেচনায় পরিচালিত হয় বলে মূলধন এবং ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। তাই একমালিকানা ব্যবসায় ক্ষুদ্র আয়তনের হয়ে থাকে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের মাধ্যমে যে ব্যবসায় গঠিত হয়, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। চুক্তির শর্তের ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের আদিত্য বড়ুয়া তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাচীন ব্যবসায়টি পরিচালনা করে আসছিলেন। বর্তমানে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়টি আধুনিকায়নের জন্য বন্ধু মি. অনিককে চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করেন। মি. অনিক ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে মুনাফার অংশ নিলেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন না।
সুতরাং ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বলা যায়, আদিত্য বড়ুয়ার পরিবর্তিত ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় সংগঠন।
একজন ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় সংগঠনকে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। অপরদিকে, সম্পর্কের মাধ্যমে যে ব্যবসায় গঠিত হয়, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। চুক্তির শর্তের ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের আদিত্য বড়ুয়া তাদের পূর্বপুরুষদের প্রাচীন ব্যবসায়টি পরিচালনা করে আসছিলেন। বর্তমানে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়টি আধুনিকায়নের জন্য বন্ধু মি. অনিককে চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এরূপ অন্তর্ভুক্তির ফলে তাদের ব্যবসায়ে মূলধন এবং পরিচালনা সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে তাদের ব্যবসায়ের মূলধন ও আয়তন বাড়বে।
একমালিকানা ব্যবসায়ের তুলনায় অংশীদারি ব্যবসায়ে অধিক মূলধন ও সামর্থ্যের সমাবেশ ঘটে। এতে বেশকিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়; যা তাদের আয় ও ভোগ-ব্যবহার বৃদ্ধি করে। সর্বোপরি একমালিকানা ব্যবসায়ের তুলনায় অংশীদারি ব্যবসায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায়, আদিত্য বড়ুয়ার একমালিকানা ব্যবসায় থেকে অংশীদারি ব্যবসায়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন বিবেচনায় সঠিক ও যথার্থ হয়েছে।
ব্যবসায়িক নৈতিকতা বলতে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের মাঝে থেকে সততার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করাকে বোঝায়। ব্যবসায়িক নৈতিকতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার, আদর্শ, সততা, বিশ্বস্ততা, আইনগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করা যায়। কারণ ব্যবসায়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ সচেতন নয়। এক্ষেত্রে নৈতিকতা হলো ন্যায়নীতির পথপ্রদর্শক যা ব্যবসায়ীকে অন্যায়, অবৈধ ও নীতি বিবর্জিত কাজ থেকে বিরত রাখে।
যত্রতত্র ময়লা নিক্ষেপ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার ধোঁয়ার ফলে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের যে ক্ষতিসাধন হয়, তাকে বায়ুদূষণ বলে।
উদ্দীপকের গাজীপুরের সালনায় কিছু শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকায় উক্ত এলাকার মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে তারা নানা রোগে ভুগছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে এসব শিল্পকারখানা দ্বারা পরিবেশের বায়ুদূষণ করা হচ্ছে; যা বায়ুদূষণের অন্তর্গত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে গাজীপুরে বায়ুদূষণের চিত্র ফুটে ওঠেছে।
সমাজের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করে সমাজকল্যাণমূলক কাজকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করাকে ব্যবসায়ের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বলে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুতদারি না করা এবং পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকাকে রক্ষা করা ব্যবসায়ের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের গাজীপুরের সালনায় কিছু শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেছে। এসব শিল্পকারখানার ধোঁয়া যথাযথভাবে পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকায় উক্ত এলাকার মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে তারা নানা রোগে ভুগছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতি' তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন না করার কারণে।
সমাজ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেই ব্যবসায়ের উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটে। এজন্য ব্যবসায়কে কতকগুলো সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, গাজীপুরের সালনায় অবস্থিত শিল্পকারখানা দ্বারা বায়ুদূষণসহ নানানভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এভাবে পরিবেশ দূষণ করা ব্যবসায়ের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিপন্থি। যেহেতু সমাজ এবং সমাজের মানুষকে নিয়ে ব্যবসায় পরিচালিত হয়, তাই ব্যবসায়কে অবশ্যই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতামূলক কাজ করতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফলতা অর্জন করা যাবে না। এমতাবস্থায় গাজীপুরের সালনার শিল্পমালিকদেরকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবগুলো পূরণে সচেষ্ট হওয়া জরুরি।
সহায়ক সেবা মূল কার্যক্রমের অংশ না হলেও, এগুলোর মাধ্যমে প্রধান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। যেমন, বিদ্যালয়ের, মূল কার্যক্রম পাঠদানকে কার্যকর ও সফল করতে সহায়ক সেবা হিসেবে ছাত্রদের জন্য পরামর্শদান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।
ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং পারিবারিক সহযোগিতায় ওপর যে শিল্প গড়ে উঠে, তাকে কুটিরশিল্প বলে। নানা রকমের কুটিরশিল্প আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। বাঁশ ও বেত শিল্প, মৃৎশিল্প, তাত ও বস্ত্রশিল্প, হস্তশিল্প প্রভৃতি কুটিরশিল্পের উদাহরণ।
উদ্দীপকের মিস ম্যাচিং চাকমা স্থানীয় NGO থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গৃহস্থালি ও সৌখিন পণ্য তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। কাঁচামালের সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করে বেতের ঝুড়ি, খেলনা, চেয়ার ও বাঁশের চাটাই এবং গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও বিক্রি করে উপার্জন শুরু করেন। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাকে সাহায্য করছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, মিস ম্যাচিং চাকমা নিজস্ব নৈপুণ্য এবং পরিবারের সহায়তায় শিল্পটি পরিচালনা করছেন; যা কুটিরশিল্পের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং পারিবারিক সহযোগিতায় ওপর যে শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে কুটির শল্প বলে। নানা রকমের কুটিরশিল্প আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। বাঁশ ও বেতশিল্প, মৃৎশিল্প, তাত ও বস্ত্রশিল্প, হস্তশিল্প প্রভৃতি কুটিরশিল্পের উদাহরণ।
উদ্দীপকের মিস ম্যাচিং চাকমা স্থানীয় NGO থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গৃহস্থালি ও সৌখিন পণ্য তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। কাঁচামালের সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করে বেতের ঝুড়ি, খেলনা, চেয়ার ও বাঁশের চাটাই এবং গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও বিক্রি করে উপার্জন শুরু করেন। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাকে সাহায্য করছেন। এসব কাজের মাধ্যমে মিস ম্যাচিং চাকমার মতো অসংখ্য পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
কুটিরশিল্প স্থানীয় কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাই দেখা যায়, যেসব এলাকায় যে ধরনের কাঁচামাল বা শিল্পসামগ্রী পাওয়া যায় সেসব এলাকায় ঐ ধরনের শিল্প গড়ে ওঠে। এতে স্থানীয় শিল্পের ওপর নির্ভর করে অসংখ্য পরিবার নিজেদের আর্থিক সংস্থান করতে পারে এবং স্বাবলম্বী হয়। এভাবে উদ্দীপকের রাঙামাটির মতো দেশের বিভিন্ন জেলায় স্ব স্ব কাঁচামাল বা ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এধরনের কুটিরশিল্প গড়ে ওঠে যা দেশের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
"বস্তুত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকই উদ্যোক্তা"- উক্তিটি যথার্থ।
যিনি উদ্যোগ নেন মূলত তিনিই উদ্যোক্তা। উদ্যোগ দুই ধরনের যথা-(১) জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, (২) ব্যবসায় উদ্যোগ। জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে হোক আর ব্যবসায়ের উদ্দ্যেশ্যে হোক যিনি উদ্যোগ নেন তিনিই উদ্যোক্তা। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকগণ লাভের আশায় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই বলা যায়, বস্তুত সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকই উদ্যোক্তা।
ব্যবসায় উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এটি সাধারণত নতুন ব্যবসায় শুরুর সাথে সম্পর্কিত। তবে প্রতিষ্ঠানে নতুন পণ্য বা সেবা চালু করাও ব্যবসায় উদ্যোগের মধ্যে পড়ে।
উদ্দীপকের জনাব মামুন নাটোরের হালতি বিলের পাশে বিশ একর জমি নিয়ে মনোরম পরিবেশে একটি পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠায় মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। মূলত মুনাফার আশায় লোকসানের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি উক্ত পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠা করেন। তাই বলা যায়, মামুন সাহেবের পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠার কাজকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলা যায়।
একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপন নির্ভর করে ঐ দেশের উদ্যোক্তাদের ওপর। বাংলাদেশ একটি স্বল্পায়তনের জনবহুল দেশ। এদেশে এখনও অর্থনৈতিকভাবে আশানুরূপ উন্নয়ন সাধিত হয়নি। এদেশে বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠার মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যথেষ্ট প্রাচুর্য রয়েছে; শুধু ব্যবসায়ের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।
উদ্দীপকের জনাব মামুন নাটোরের হালতি বিলের পাশে একটি পিকনিক স্পট প্রতিষ্ঠা করেন এবং দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার এ অবদানের প্রেক্ষিতে বিশেষ করে সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, স্বাবলম্বিতা অর্জন, কর্মসংস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি, জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিসহ রাজস্ব আয় বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।
জনাব মামুন তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। ফলে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিনি তথা তার প্রতিষ্ঠান অবদান রাখছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনাব মামুনের মতো উদ্যোক্তার প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।
যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ব্যবসায় সংগঠনের গঠন, কার্যাবলি, উন্নতি, অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায়িক পরিবেশ বলে।
পরিবেশ দ্বারা মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রভাবিত হয়। সাধারণত কোনো স্থানের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নতি নির্ভর করে ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর। ব্যবসায়িক পরিবেশের সার্বিক অবস্থা অনুকূল হলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি সাবলীল হয়। আবার যদি ব্যবসায়িক সার্বিক পরিবেশ প্রতিকূল হয় তবে ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
জনাব আলমের কাজটি ব্যবসায়ের স্থানগত বাধা দূর করে।
বিশ্বায়নের এ যুগে পৃথিবীর এক প্রান্তে পণ্য উৎপাদিত হয় আর তা ব্যবহার বা ভোগ করছে পৃথিবীর নানান প্রান্তের মানুষ। পরিবহন স্থানগত বাধা দূর করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় প্রকার বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব আলম একজন আমদানিকারক। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বিলাসজাত দ্রব্য কিনে এনে তা বিভিন্ন শহরতলিতে বিক্রয় করেন। আর কাজটি মূলত পরিবহনের সাহায্যে স্থানগত বাধা দূর করে।
ক্রেতা বা ভোক্তাদের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ীকে পণ্য নির্বাচন করতে হয়। কারণ একেক ধরনের ক্রেতার চাহিদা একেক রকমের হয়। আর প্রত্যেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করে। উদ্দীপকের জনাব আলম আমদানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তিনি চীন থেকে বিলাসজাত দ্রব্য ক্রয় করে তা এদেশের বিভিন্ন শহরতলিতে বিক্রয় করেন। কিন্তু তাতে তিনি লাভবান হতে পারছেন না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরতলিতে সাধারণত নিম্ন আয়ের লোকজন বাস করে। তাদের অধিকাংশই রক্ষণশীল পরিবারের সদস্য। প্রথমত নিম্ন আয়ের মানুষের জনাব আলমের আমদানিকৃত বিলাসজাত দ্রব্য ক্রয়ের সামর্থ্য বা ইচ্ছা কোনোটিই নেই। অন্যদিকে রক্ষণশীল পরিবারের সদস্যরা এসব বিলাস দ্রব্য ক্রয় করতে আগ্রহী হয় না। তিনি ক্রেতাদের অবস্থা বিবেচনা না করেই এসব পণ্য আমদানি করেন। এতে তার বিক্রয় বাড়ছে না, লাভও হচ্ছে না। তাই জনাব আলম তার ব্যবসায়ে লাভবান হতে পারছেন না।
ব্যবসায়িক মূল্যবোধে সমাজ ও পরিবেশ উপযোগী পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সততা ও ন্যায়ের সাথে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে ব্যবসায়ীকে ন্যায়, অন্যায়, সত্য-অসত্য প্রভৃতি বিষয় মেনে ব্যবসায় করতে হয়। আর মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজের মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। সুষ্ঠু সমৃদ্ধিশালী ও স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গঠনে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্যবসায়ের নৈতিকতা হলো ব্যবসায়ীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা যেটি তাদেরকে সঠিক পথে, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় সহায়তা করে।
উদ্দীপকের জনাব সুরুজ একজন সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ফল ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। তিনি ফরমালিন ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত ফল ক্রয়-বিক্রয় করেন না। তিনি সততার সাথে ব্যবসায় করেন। কারো কাছ থেকে ধার নিলে তা সময়মতো ফেরত দেন। ক্রেতা ও ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা না করা, মানহীন ও ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করা ব্যবসায়ের নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, জনাব সুরুজ ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিকট ফরমালিনমুক্ত ফল সরবরাহ করেন এবং সততার সাথে ব্যবসায় করেন বিধায় তার ব্যবসায়ে নৈতিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে মুনাফা অর্জনের সাথে সমাজে কিছু মঙ্গলময় বা কল্যাণকর কাজ করাকে বোঝায়। ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সমাজকে ঘিরেই এর কার্যক্রম। সমাজের প্রয়োজনে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং বণ্টনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজে এগিয়ে আসা সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
উদ্দীপকে জনাব সুরুজ একজন ফল ব্যবসায়ী। তিনি অত্যন্ত সৎ ব্যবসায়ী। তিনি ফর 'ন ও রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত ফল ক্রয়-বিক্রয় করেন না। এছ। ও তিনি মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ, পারবেশবান্ধব কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। এতে তার সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ পায়।
পরিশেষে বলা যায়, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে জনাব সুরুজ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করেন উক্তিটি যথার্থ।
পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি ক্রেতা জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের উপায় বা কৌশলকে বিজ্ঞাপন বলা হয়।
পণ্যের বিজ্ঞাপন পণ্যকে ক্রেতা সাধারণের নিকট পরিচিতি করিয়ে দেয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতা সাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। পণ্যের প্রচারে গতিশীলতা আনে বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য, ব্যবহারবিধি প্রভৃতি ক্রেতা সাধারণের নিকট তুলে ধরা হয়। ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়।
বকুল মিয়ার কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত।
কুটির শিল্প পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় স্থাপন করা হয়। স্বল্প মূলধন ও সীমিত আয়োজনে এবং ব্যক্তিগত সৃজনশীলতায় এ শিল্প গড়ে ওঠে। জমি এবং কারখানা ভবন ছাড়াই এর স্থায়ী মূল্য ১০ লক্ষ টাকার কম হয়।
উদ্দীপকের মি. বকুল মিয়া যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পরিবারের সহযোগিতায় বাঁশের পাখা, কুলা, ঝাঁকা তৈরি করেন। তৈরি করা পণ্য বিক্রি করে তিনি অর্থ উপার্জন করেন। এ কাজে তাকে তার পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করে। তার এ কাজের মূল উপকরণ হলো বাঁশ। এটি তিনি তার সৃজনশীলতার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপ দিয়েছেন। এর সাথে কুটির শিল্পের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে। সুতরাং মি. বকুল মিয়ার কাজটি কুটির শিল্পের কাজের সাথে জড়িত।
দরিদ্রতা বিমোচনে মি. বকুল মিয়ার শিল্প বেকার যুবকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি সঠিক।
শিল্প, বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ সেবা হলো আধুনিক ব্যবসায়ের তিনটি ভাগ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হলেও ব্যবসায় যেকোনো দেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। ব্যক্তিগত চেষ্টা ও কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং প্রশিক্ষণ থাকলে সহজেই কুটির শিল্প গঠন করা যায়। এজন্য যে কেউ সৃজনশীলতা ও উদ্যোগের সাহায্যে এটি স্থাপন করতে পারেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাস করতে পারেন।
মি. বকুল মিয়া বাঁশের পাখা, কুলা, ঝাঁকা তৈরি করে তিনি তার সৃজনশীলতা, নৈপুণ্য, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান দিয়ে এ কাজটি করছেন। এ কাজে তার পরিবারের সদস্যরাও যুক্ত আছে। এজন্য বর্তমানে তার পরিবারে আর কোনো অভাব নেই।
মি. বকুলের এ শিল্পের মাধ্যমে তার পরিবারের উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও সাধিত হবে। তার পরিবার এ কাজটিতে যুক্ত থাকায় পণ্য বিক্রিয় আয় তারও ভোগ করছে। এতে পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে।
তাছাড়া মি. বকুল মিয়ার ব্যবসায় সম্প্রসারিত হওয়ায় তার নিজের আয় বৃদ্ধি ছাড়াও সেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশে বিভিন্ন রকম ব্যবসায় ও শিল্পের সংখ্যা বাড়বে। দেশের বেকারত্ব ও দরিদ্রতা হ্রাস পাবে। তাই বলা যায়, মি. বকুল মিয়ার শিল্পটি বেকার জনগোষ্ঠীকে দরিদ্র ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করবে।
যে ধরনের সাহায্য একজন ব্যবসায়ী বা শিল্পোদ্যোক্তাকে ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে, তাকে সংরক্ষণমূলক সহায়তা বলে।
শিল্প বা ব্যবসায় স্থাপনের পরও একজন উদ্যোক্তা উৎপাদনকার্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। এ সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজন হয় সংরক্ষণমূলক সহায়তার। ব্যবসায় আধুনিকীকরণ, সম্প্রসারণ, ঋণ ও সুদ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি ইত্যাদি সংরক্ষণমূলক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত।
হালিমা বেগম 'মহিলা অধিদপ্তর' সংস্থা থেকে ঋণ ও পরামর্শ নিয়ে তার বাড়িতে ছোটো একটি শিল্প স্থাপন করেন।
এ প্রতিষ্ঠান নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ প্রশিক্ষণের মধ্যে আছে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, হস্ত শিল্প, বাটিকের কাজ, বুনন শিল্প, সেলাই প্রভৃতি। এসব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
উদ্দীপকে হালিমা বেগম আর্থিক সচ্ছলতা আনার লক্ষ্যে মহিলা অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া চৈতী ব্যবসায় শুরু করার জন্য ঋণ সুবিধা নেন। তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মহিলা অধিদপ্তর সহায়তা করে আসছে। এ সংস্থাটি হালিমা বেগমের মতো নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা, কারিগরি সহায়তা ও ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। এসব কাজ মহিলা অধিদপ্তর-এর অন্তর্ভুক্ত। অতএব বলা যায়, হালিমা বেগম ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলা অধিদপ্তরের ভূমিকা অপরিসীম।
শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে হালিমা বেগমের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
ব্যবসায় উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিল্প উদ্যোগ গ্রহণের কারণে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়। সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেও দেশে শিল্পকারখানা স্থাপন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণ হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে নিত্যনূতন কর্মসংস্থানের উদ্ভব ঘটে।
উদ্দীপকের হালিমা বেগম একজন সফল উদ্যোক্তার নাম। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ছোটো একটি শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের অর্থনৈতিক সংকটাপন্ন অবস্থা দূরীভূত করেন এবং যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হালিমা বেগমের শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে দেশে বেকার সমস্যা কিছুটা লাঘব হয়েছে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার কারণে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যায়। যার ফলে জাতীয় উৎপাদন এবং আয় বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও হালিমা বেগমের মতো অনেকে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ হবেন। ফলে বেকার সমস্যা হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। অতএব উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্জনে হালিমা বেগমের মতো নারী উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্যোক্তাগণ জন্মগতভাবেই কতিপয় গুণের অধিকারী হয়ে থাকেন।
অনেকে মনে করেন উদ্যোক্তাগণ জন্মগতভাবে উদ্যোক্তা। আত্মবিশ্বাস, উদ্যম, সৃজনশীলতা, কৃতিত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, উদ্ভাবনী শক্তি, নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা, কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা প্রভৃতি গুণ অনেকে জন্মগতভাবে পেয়ে থাকেন, যা তাদের সফলতা অর্জনের পথকে সুগম করে। বর্তমান সময়ে অবশ্যই শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায়। তবে জন্মগত উদ্যোক্তা বলতে শুধু তাদেরকে বোঝায় যারা জন্মগতভাবে উপর্যুক্ত গুণাবলির অধিকারী হয়ে থাকেন।
পণ্যের দাম ও বেতন পরিশোধের মাধ্যমে জয় মারমার মধ্যে উদ্যোক্তার 'পুঁজি সংগ্রহের ক্ষমতা' গুণটি ফুটে উঠেছে।
যে ব্যক্তি ঝুঁকি আছে জেনেও লাভের আশায় ব্যবসায় পরিচালনা করেন, তাকে ব্যবসায় উদ্যোক্তা বলা হয়। ব্যবসায় সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য একজন উদ্যোক্তাকে বহুবিধ গুণের অধিকারী হতে হয়। এ সকল গুণের মধ্যে পুঁজি সংগ্রহের ক্ষমতা উদ্যোক্তার একটি অন্যতম গুণ।
উদ্দীপকের জয় মারমা বিভিন্ন অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও একটি খাবার হোটেল স্থাপন করেন। পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের মোচা সংগ্রহের জন্য কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন। বাঁশের মোচার দাম এবং কর্মীদের বেতন মেটানোর উদ্দেশ্যে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণকৃত এই অর্থ দ্বারা তিনি সহজেই ব্যবসায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে পারবে। আর একজন উদ্যোক্তা তখনই ব্যবসায়ের প্রয়োজনে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে যখন তার মধ্যে অর্থ বা পুঁজি সংগ্রহের ক্ষমতা থাকে, তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জয় মারমার মধ্যে উদ্যোক্তার পুঁজি সংগ্রহের ক্ষমতা গুণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্যের আলোকে জয় মারমার উদ্যোগ সকলের নিকট দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করা হলো ব্যবসায় উদ্যোগ। আর যেব্যক্তি এই ঝুঁকি গ্রহণ করে নিজের শ্রম দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করেন তিনি হলেন ব্যবসায় উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তাগণ নিজেদের ব্যবসায়ের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে সকলের নিকট উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের জয় মারমার পর্যটকরা বান্দরবানে গিয়ে বাঁশের মোচা দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পছন্দ করে- এই ধারণা থেকে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও একটি খাবার হোটেল স্থাপন করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মোচা সংগ্রহের অর্থ ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করেন। হোটেলের আয় থেকে তিনি অনাথ শিশুদের খাবার ও পড়ালেখার খরচ বহন করেন। পাহাড়ি এলাকায় জয় মারমার এই উদ্যোগ বর্তমানে অনেকের কাছে দৃষ্টান্ত।
জয় মারমা ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার অধিকারী। এই ক্ষমতার গুণেই তিনি তার ব্যবসায়টি স্থাপন করেন। তার এই ব্যবসায়টির মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। তার হোটেলে তিনি তার পাশাপাশি আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। ফলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে। তিনি তার ব্যবসায়ে অদক্ষ কর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করছেন। এতে তাদের পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এছাড়া জয় মারমার তার আয় থেকে অনাথ শিশুদের খাবার ও পড়ালেখার খরচ বহন করার মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজের প্রতি তার দায়িত্বও পালন করেছেন। তার ব্যবসায়ের উপর্যুক্ত এ সকল বিষয় অন্যান্য পেশাজীবী ও বেকার জনগোষ্ঠীকেও তার মতো ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণে ও সমাজের প্রতি দায়দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে। তাই বলা যায়, উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্যের আলোকে জয় মারমার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার।
শ্রমিক-কর্মচারীদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
একজন ব্যবসায়ীকে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি বিবিধ দায়বদ্ধতা পালন করতে হয়। শ্রমিক ও কর্মচারীদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই ব্যসায়ে মুনাফা অর্জিত হয়। ব্যবসায়ের উন্নতির সাথে তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বোনাস প্রদান করা এবং তাদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া তাদের কাজের স্থানে এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত যেন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কাজ সম্পাদন করতে পারে। এছাড়াও চাকরির নিরাপত্তা বিধান, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রভৃতি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
দেশীয় মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির পিছনে ব্যবসায়ী হিসেবে জনাব আতিকের সমাজের প্রতি দায়িত্ববদ্ধতার ঘাটতি রয়েছে।
সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেই ব্যবসায়ের উন্নতি ও সমৃদ্ধি ঘটে। তাই ব্যবসায়ীদেরও সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, পণ্যের মজুতদারি না করা প্রভৃতি সমাজের প্রতি ব্যবসায়ের দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব আতিক একজন মাছ ব্যবসায়ী। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে থাকেন। তিনি নদী ও বিলের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে ছোটো-বড়ো ঘের তৈরি করে মাছ চাষের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি খেয়াল করেন তার খামারের আশে পাশের নদী এবং বিলে দেশীয় মাছের প্রজাতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। জনাব আতিকের নদী ও বিলে বাঁধ তৈরি করার ফলে নদী ও বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বসবাসে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। মাছ আমিষের একটি অন্যতম উৎস হওয়ায় জনাব আতিকের উক্ত কাজ দ্বারা সমাজের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হচ্ছে। আর সমাজের মানুষের প্রয়োজনে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা একজন ব্যবসায়ীর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্তর্গত।
তাই বলা যায়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ঘাটতি থাকায় জনাব আতিকের ব্যবসায় দ্বারা দেশীয় প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি ঘটছে।
"ব্যবসায়ীর আচরণের মানদণ্ডে জনাব আতিক উত্তীর্ণ”- উক্তিটি সঠিক।
মানব আচরণের মানদণ্ড বলতে নৈতিকতাকে বোঝায়। এটি মানুষের ভালোমন্দের বিচার-বিশ্লেষণ করার সাথে জড়িত। একটি ব্যবসায়ের সকল কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। সাথে সাথে ব্যবসায় নৈতিকতা একজন ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিক পথে পরিচালনা করে।
উদ্দীপকের জনাব আতিক সমাজে প্রতিষ্ঠিত একজন মাছ ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ের আয় থেকে তিনি এলাকার স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক কিনে দেন। তার খামারে কর্মরত ৩০ জন শ্রমিকের কাজের সুবিধার্থে তিনি কর্মঘণ্টা ঠিক করে দেন। খামারে উৎপাদিত মাছ সতেজ রাখার জন্য ফরমালিন মেশাতে তিনি নিষেধ করেন। নদী ও বিলে বাঁধ দেওয়ার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে গেলে তিনি এ সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ নেন।
একজন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসায় নৈতিকতা মেনে চলা ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করা আবশ্যিক একটি বিষয়। জনাব আতিক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পোশাক কিনে দিয়ে একটি জনহিতকর কাজ করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি তার সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে পালন করেছেন। তার খামারে ৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উক্ত কাজটি দ্বারা তিনি রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন। শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করার মাধ্যমে তিনি শ্রমিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়বদ্ধতাও পালন করেছেন। নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে তিনি জনগণের স্বাস্থ্যহানি ঘটে এমন কাজ অর্থাৎ মাছে ফরমালিন মিশানো থেকে বিরত থেকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন। সকল দায়বদ্ধতা পালনের পরও অজ্ঞতাবশত বাঁধ তৈরির ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ হ্রাস পেলে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তার মধ্যে মানব আচরণের মানদণ্ড বা ভালোমন্দের বিচার করার ক্ষমতা থাকার কারণেই তিনি তার এই ভুল সংশোধন করার পদক্ষেপ নেন। তাই বলা যায়, ব্যবসায়ীর আচরণের মানদণ্ডে অর্থাৎ নৈতিকতার মানদণ্ডে জনাব আতিক উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তথ্যগত বাধা দূর করার উপায় হলো বিজ্ঞাপন।
বিজ্ঞাপন হচ্ছে পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি উপায় বা কৌশল। এটি পণ্যের তথ্য ও প্রচার সংক্রান্ত বাধা দূর করে। বাজারে যখন কোনো নতুন পণ্যের আবির্ভাব ঘটে তখন ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যটি সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না, তাই ক্রেতা ও ভোক্তাদের পণ্যটি সম্পর্কে ধারণা দিতে পণ্যটির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিকট পণ্যের মান, মূল্য, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারবিধি তুলে ধরা হয়। ফলে ক্রেতা ও ভোক্তাদের পণ্যসম্পর্কিত তথ্যগত বাধা দূর হয়।
ফারহানা বেগমের প্রতিষ্ঠানটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
যে শিল্প প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রজনন শিল্প বলা হয়। এ ধরনের শিল্পে প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সম্পদ সৃষ্টি করা হয়। নার্সারি, হ্যাচারি, পোলটি ফার্ম প্রভৃতি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকের ফারহানা বেগম ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় একটি মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার খামারের উৎপাদিত ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর প্রকল্প হাতে নেন। এক্ষেত্রে ফারহানা বেগম তার খামারে উৎপাদিত ডিমকে প্রথমে প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাচ্চা মুরগিতে পরিণত করবে। এ বাচ্চা মুরগিগুলোকে সে আবার পরিচর্যার মাধ্যমে বড়ো করে তুলবে। বড়ো হবার পর পুনরায় সে মুরগি থেকে ডিম উৎপাদন করবে বা বিক্রি করবে। তার এ কার্যক্রম শিল্পের একটি ভাগ প্রজনন শিল্পের কার্যক্রমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, ফারহানা বেগমের প্রতিষ্ঠানটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
উল্লিখিত প্রকল্পে ব্যবসায় পরিবেশের প্রযুক্তিগত উপাদানের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতিতে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। সাধারণত দেখা যায়, যেসকল দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে উন্নত তারা ব্যবসা-বাণিজ্যেও উন্নত। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
উদ্দীপকের ফারহানা বেগম একটি মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা করেন। তার খামারের উৎপাদিত ডিম থেকে প্রজনন শিল্পের মাধ্যমে বাচ্চা ফুটানোর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষায় একজন দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। উন্নত যন্ত্রপাতির সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করেন। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানটি প্রচুর মুনাফা অর্জন করছে।
শিল্প ও ব্যবস্থায়-বাণিজ্যের উন্নতিতে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। ফারহানা বেগমের খামারে উন্নত যন্ত্রপাতির সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করায় প্রজননের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন প্রক্রিয়া অনেক সহজতর হবে। নিজে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করায় সে প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান আহরণ করে দক্ষ হয়ে উঠবে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ তার এই উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। তারা তাদের দক্ষতা দ্বারা উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে পরিচালনা ও ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে তার প্রতিষ্ঠানের সম্পদের সদ্ব্যবহার হবে। তার প্রতিষ্ঠানের এসকল প্রযুক্তিগত উপাদান তার খামারের উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান বৃদ্ধি করবে এবং তার খামারে আশানারূপ সাফল্য বয়ে আনবে। তাই বলা যায়, ফারহানা বেগমের প্রকল্পে ব্যবসায় পরিবেশের প্রযুক্তিগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
ব্যবসায়ের সাফল্য লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক পণ্য নির্বাচন।
কোনো পণ্য বা সেবা বাজারে ছাড়ার পূর্বে উক্ত পণ্য বা সেবার ক্রেতা বাজারে আছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। কেননা ক্রেতার চাহিদা নেই এমন পণ্য বা সেবা বাজারজাত করলে পণ্যটির ব্যবসায়ী ব্যর্থতার মুখ দেখবে। বাজার জরিপ ও অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের সঠিক চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ীর তার ব্যবসায়ের পণ্যটি নির্বাচন করা দরকার। এতে তার ব্যবসায়ের ঝুঁকি কমবে ও সফলতা অর্জন সহজতর হবে।
উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসংস্থানটি হলো- আত্মকর্মসংস্থান।
নিজস্ব পুঁজি অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলা হয়। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা।
উদ্দীপকের রাফি মোবাইলের যন্ত্রাংশ এবং সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে এবং জানার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সামান্য অর্থ নিয়ে তিনি একটি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান দেন। তার ছোট ভাই কাফি তাকে এই কাজে সাহায্য করে। একসময় কাফি দক্ষ হয়ে গেলে আলাদা করে একটি দোকান দেন। এক্ষেত্রে রাফি ও কাফি উভয়ে স্বল্প পুঁজি ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের ব্যবসায়টি স্থাপন করে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আর এই বিষয়টি আত্মকর্মসংস্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রাফি ও কাফির কর্মসংস্থানের ধরনটি হলো আত্মকর্মসংস্থান।
কর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র বিবেচনায় কাফি সফল হলেও রাফি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
আত্মকর্মসংস্থানমূলক ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচনের ওপর। তাই আত্মকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র নির্বাচনের সময় কতিপয় কিছু বিষয়ের ওপর লক্ষ রাখতে হয়। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে ব্যবসায় স্থাপন করলে ব্যবসায় সফলতা অর্জন সহজতর হয়।
উদ্দীপকের রাফির মোবাইলের প্রতি আগ্রহ। তাই সে মোবাইলের যন্ত্রাংশ এবং সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকে এবং জানার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সামান্য অর্থ নিয়ে রাস্তা থেকে বেশ ভিতরে নিজ বাসার সামনে একটি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান দেন। তার ছোট ভাই কাফি এ কাজে তাকে সাহায্য করে। পরবর্তীতে কাফি দক্ষ হয়ে উঠলে জনাকীর্ণ এলাকার একটি দোকান স্থাপন করেন এবং সেখানে উক্ত কাজে পারদর্শী ২জন কর্মী নিয়োগ দেন। মোবাইল সার্ভিসিং করতে আসা ব্যক্তিদের ব্লুটুথ, মোবাইল কাভার, হেডফোন ইত্যাদির চাহিদার কথা বিবেচনা করে তিনি বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে দোকানের জন্য মালামাল সংগ্রহ করেন।
রাফি ও কাফি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। রাফি নিজ চেষ্টায় মোবাইলের যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে মূল রাস্তার থেকে বেশ ভিতরে তার দোকানটি স্থাপন করেন। কিন্তু তিনি কোনোরূপ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেননি। এছাড়া তিনি এমন একটি স্থানে তার ব্যবসায়টি স্থাপন করেছেন যেখানে মানুষের আসা-যাওয়া কম। এরূপ স্থানে দোকান দেওয়ায় তার দোকানে ক্রেতাসমাগম কম হবে। সঠিক স্থানে ব্যবসায়টি স্থাপন করলে তিনি তার দোকানের যাবতীয় মালামালও সহজে আনয়ন করতে পারতেন। এছাড়া তিনি তার দোকানে কোনো দক্ষকর্মী নিয়োগ না দিয়ে ব্যবসায়ের সফলতা অর্জনকে কঠিন করেছেন। অন্যদিকে কাফি নিজের ভাইয়ের দোকানে কাজ করে দক্ষতা অর্জন করে জনাকীর্ণ এলাকায় দোকান স্থাপন করেছেন। এতে তিনি সহজেই তার দোকানে মালামাল আনয়ন করতে পারবেন এবং তার দোকানে ক্রেতা সমাগমও বেশি হবে। দক্ষকর্মী নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তার দোকানের জন্য সঠিক কর্মী নির্বাচন করেছেন, যা তার সফলতা অর্জনের পথকে ত্বরান্বিত করবে। ক্রেতা ও ভোক্তাদের চাহিদা নির্ধারণ করে সে দোকানে মালামাল সংগ্রহ করেছে বিধায় তার দোকানটি ক্রেতাদের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
তাই বলা যায়, রাফি কর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্র যেমন- অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা, সঠিক কর্মী নির্বাচন ও ব্যবসায়ের স্থান নির্বাচনকে বিবেচনা করেননি, যার ফলে তার পক্ষে সফলতা অর্জন খুব দুরূহ একটি ব্যাপার হবে। কিন্তু কাফি এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যবসায় স্থাপন করেছেন বিধায় তার সফলতা অর্জন সহজ হবে।