প্রজনন শিল্পে পণ্য পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়।
যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমন- নার্সারি, হ্যাচারি ইত্যাদি। প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ লালন পালন করে সেগুলোকে উদ্ভিদ ও প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হয়। পোলট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য উৎপাদন, উদ্ভিদের চারা উৎপাদন ইত্যাদি প্রজনন শিল্পের উদাহরণ।
স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির জন্য জনাব সুলতান আহমেদ লিজিং কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
একস্থান থেকে দ্রব্যসামগ্রী অন্য স্থানে স্থানান্তর করার ফলে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে স্থানগত উপযোগ বলে। পরিবহণের মাধ্যমে মূলত স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব সুলতান আহমেদ নিজস্ব তাঁতের শাড়ি তৈরি করেন এবং একটি পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করেন। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তিনি আরও কয়েকটি জেলায় পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি লিজিং কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। পিকআপ ভ্যান লিজিং পদ্ধতিতে ভাড়া নিয়ে পরিবহণের মাধ্যমে তার ব্যবসায়ের পণ্য ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর উদ্দেশ্যেই মূলত তিনি লিজিং নিতে চেয়েছিলেন। কারণ ভোক্তারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকেন। পরিবহণের মাধ্যমে পণ্য সব স্থানের ভোক্তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়া যায়। ফলে ভোক্তারা নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই উৎপাদকের পণ্য ক্রয় ও ব্যবহারের সুযোগ পায়। আর এভাবে পণ্য পরিবহণের মাধ্যমে এর স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির জন্য জনাব সুলতান আহমেদ লিজিং কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
জনাব সুলতান আহমেদের কার্যক্রমে ব্যবসায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
ব্যবসায়ের ওপর পরিবেশ অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রভাব পড়ে। কোনো স্থানের ব্যবসায়ের উন্নতি বা অবনতি নির্ভর করে ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর। তাই পরিবেশের উপাদান বিবেচনা করে ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব সুলতান আহমেদ নিজস্ব তাঁতের শাড়ি তৈরি করেন এবং পিকআপ ভ্যানের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করেন। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে তিনি কয়েকটি জেলায় পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে পারেননি এবং লিজিং কোম্পানি থেকে পিকআপ ভ্যানও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
জনাব সুলতান আহমেদ তার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে দেশীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যুগ যুগ ধরে তাঁতের শাড়ি মানুষের কাছে জনপ্রিয়। তিনি বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উৎসবকে সামনে রেখে তার পণ্যকে বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দিতে চান। অর্থাৎ তার ব্যবসায়ে সামাজিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। কেননা ঐতিহ্য সামাজিক পরিবেশের উপাদান। অন্যদিকে ব্যবসায়ে মূলধনের প্রয়োজনে তিনি ব্যাংক ঋণের জন্য ব্যাংক স্বল্প সময়ের মধ্যে ঋণ প্রদানে অপারগতা জানায়, যা তার ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যাংক ঋণ অর্থনৈতিক পরিবেশের একটি অন্যতম উপাদান। তাই বলা যায়, জনাব সুলতান আহমেদের কার্যক্রমে ব্যবসায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে।
চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের মাধ্যমে অংশীদারি ব্যবসায় গঠন ও চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায় পরিচালনা করা হয়। চুক্তিই হলো এ ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি।
চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারদের মধ্যে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাকে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলে। এরূপ সম্পর্কের মাধ্যমেই এ ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়। অংশীদারদের মধ্যে অন্য সম্পর্কও থাকতে পারে, তবে ব্যবসায় পরিচালনায় সেই সম্পর্ক মুখ্য বিবেচিত হয় না, চুক্তির বিষয়বস্তুই মুখ্য বিবেচিত হয়। আর এ কারণেই বলা হয়, অংশীদারি সম্পর্ক সৃষ্টি হয় চুক্তি থেকে, মর্যাদা থেকে নয়।
উদ্দীপকে সিফাত নামমাত্র অংশীদার।
যেসকল অংশীদারগণ ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না, তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিজের সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেয় তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।
উদ্দীপকের প্রিতম, শুভ ও সিফাত সমঝোতার ভিত্তিতে রহিম গার্মেন্টস নামে একটি তৈরি পোশাক শিল্প স্থাপন করেন। সিফাত মূলধন বিনিয়োগ না করলেও ব্যবসায়ে তার যথেষ্ট সুনাম ছড়িয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সিফাতের তার সুনাম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় 'রহিম গার্মেন্টস' সেই সুনাম বা খ্যাতি ব্যবহার করে ব্যবসায় মুনাফা অর্জন করতে পারবে। তবে তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো অংশ নিতে পারবে না এবং তার দায় অন্যান্য সাধারণ অংশীদারদের মতো অসীম নয়। আর এ সকল বৈশিষ্ট্যসমূহ নামমাত্র অংশীদারদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, সিফাত একজন নামমাত্র অংশীদার।
উদ্দীপকে রহিম গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ার কারণ হলো অংশীদারের মৃত্যুতে বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪২ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কোনো ঘটনার উদ্ভদ্ধ হয়ে থাকলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন করা যায়। এ ঘটনাগুলো হলো ব্যবসায়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে, নির্দিষ্ট কাজ শেষ হলে, কোনো অংশীদারের মৃত্যু হলে অথবা কোনো অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হলে।
উদ্দীপকের 'রহিম গার্মেন্টস' একটি অংশীদারি ব্যবসায়। প্রিতম, শুভও সিফাত সমঝোতার ভিত্তিতে এই ব্যবসায়টি শুরু করেছেন। সিফাত মূলধনের পরিবর্তে তার সুনাম ব্যবসায়টিতে বিনিয়োগ করে। অপরদিকে প্রিতমের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কেননা অংশীদারি আইন অনুযায়ী কোনো অংশীদারের মৃত্যু হলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন ঘটবে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি হলো চুক্তিপত্র। এই চুক্তি অনুযায়ীই অংশীদারি ব্যবসায়টি পরিচালিত হয়। রহিম গার্মেন্টস যেহেতু একটি অংশীদারি ব্যবসায় তাই এটিও চুক্তি অনুযায়ী অংশীদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই ব্যবসায়ের একজন অংশীদার হলেন প্রিতম, যার মৃত্যুর কারণে সে আর ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে না। এছাড়া ব্যবসায়টিতে প্রিতমসহ আর একজন অংশীদার মূলধন বিনিয়োগ করেন তাই প্রিতমের মৃত্যুতে ব্যবসায়টিতে মূলধনজনিত জটিলতা দেখা দিবে। যেহেতু ব্যবসায়টির চুক্তিপত্র তিনজন অংশীদার নিয়ে সাজানো হয়েছে, তাই একজন অংশীদারের মৃত্যুতে চুক্তিপত্রটি অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন ঘটবে। তাই বলা যায়, রহিম গার্মেন্টস বন্ধের কারণটি হলো বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে এর বিলোপসাধন।
লাইসেন্স বলতে ব্যবসায় শুরু করার অনুমতিপত্রকে বোঝায়।
যে-কোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বা নিবন্ধন করতে হয়। আর এই অনুমোদনই হলো লাইসেন্স। অনুমোদন বা নিবন্ধন করার পদ্ধতি বিভিন্ন রকমের। একমালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যদি এর অবস্থান পৌর এলাকার ভিতরে হয় তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষের এবং পৌর এলাকার বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।
উদ্দীপকের জনাব সুমনের পানিসেচ যন্ত্রটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজই মেধাসম্পদ। শিল্প বা ব্যবসায় উদ্যোক্তার মেধাসম্পদ বলতে ঐসব মূল্যবান সম্পদকে বোঝায় যা সে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে উদ্ভাবন করেছে। ব্যবসায়, শিল্পে বা বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক, নাম ইত্যাদি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব সুমন একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এমন একটি সৌরশক্তিচালিত পানিসেচের যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেটি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেচযন্ত্র থেকে আলাদা। এখানে জনাব সুমন দীর্ঘ সময় ও মেধা ব্যয় করে নিজের উদ্ভাবন শক্তি ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সেচযন্ত্রটি আবিষ্কার করেছেন যা সর্বজনস্বীকৃত এবং জাতীয় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে এটি প্রথম স্থান অধিকার করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সুমনের আবিষ্কৃত যন্ত্রটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব সুমন পেটেন্ট চুক্তি না থাকায় তিনি কোনো আইনি সহায়তা পাননি।
পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ। পেটেন্টের মাধ্যমে আবিষ্কারের জন্য আবিষ্কারককে তার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে পণ্য বা সেবার উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক ও সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়। আবিষ্কারককে পেটেন্টটি প্রদানের অর্থ হলো এই নির্দিষ্ট সময়ে অন্য কেউ এটি তৈরি, ব্যবহার এবং বিক্রয় করতে পারবে না।
উদ্দীপকের জনাব সুমন একজন উদ্ভাবক। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এমন একটি সৌরশক্তিচালিত পানিসেচের যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেটি বাজারে প্রচলিত অন্যান্য সেচযন্ত্র থেকে আলাদা। তিনি এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করে বাজারে ছাড়েন এবং ব্যাপক সাড়া পান। তবে কিছুদিনের মধ্যেই অন্য একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি তার এ যন্ত্র নকল করে বাজারজাত করে। কিন্তু তিনি ঐ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেও আইনগত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
উদ্দীপকের জনাব সুমন তার উদ্ভাবিত সেচযন্ত্রটির জন্য কোনো পেটেন্ট চুক্তি গ্রহণ করেননি। শিল্পোদ্যোক্তার পরিশ্রমলব্ধ উদ্ভাবন নকল বা অন্য কোনো উপায়ে তৈরি বা বিক্রি করে যাতে আর্থিক সুবিধা অর্জন না করতে পারে তাই তার ব্যবস্থাস্বরূপ একজন শিল্পোদ্যোক্তা পেটেন্ট করে থাকেন। পেটেন্টকৃত কোনো পণ্য কেউ নকল করে বাজারজাত করলে সহজেই এর আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় এবং আইন মোতাবেক ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়। তাই বলা যায়, জনাব সুমনের আইনি সহায়তা না পাওয়ার মূল কারণ হলো তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটির পেটেন্ট করা ছিল না।
ব্যবসায় পরিবেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উপাদানটি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
শিল্প ও ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতিতে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। সাধারণত দেখা যায়, যেসকল দেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিবেশে উন্নত তারা ব্যবসা বাণিজ্যেও উন্নত। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। ফলে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত মি. কবিরের কার্যক্রম প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রজনন শিল্প বলে। যেমন- নার্সারি, হ্যাচারি ইত্যাদি। এ ধরনের শিল্পে মূলত প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সম্পদ সৃষ্টি করা হয়।
উদ্দীপকের মি. কবির বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্তরভিত্তিক মাছ চাষ শুরু করেন। এতে তিনি স্তরভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন। তার চাষকৃত ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মাছগুলো যখন বড় হবে তখন সেগুলো থেকে আবার মাছের রেণু বা পোনা উৎপাদন হবে। এভাবে চাষকৃত মাছকে পুনরায় মাছের রেণু বা পোনা উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় মূলত প্রজনন শিল্পে। এ ধরনের শিল্প প্রক্রিয়া ব্যবহার করেই মৎস্য চাষের পাশাপাশি বীজ থেকে চারা উৎপাদন, গাছপালা ও প্রাণীর বংশ বৃদ্ধি করাসহ প্রভৃতি কাজ সম্পাদন করা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মি. কবিরের কার্যক্রম প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে মি. কবিরের ব্যবসায়ের ভূমিকা অপরিসীম।
যে-কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায় বা শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পখাতে উন্নয়ন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। যে-কোনো দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যের কাজ বিস্তৃত হয় শিল্পের প্রসার দ্বারা।
উদ্দীপকের মি. কবির বি. কম পাশ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে নিজ বাড়ির অব্যবহৃত দুই বিঘা আয়তনের পুকুরটি সংস্কার করেন এবং তিনি বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্তরভিত্তিক মাছ চাষ শুরু করেন। এতে তিনি স্তরভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। তার এই কার্যক্রম এখন অনেকেই অনুসরণ করছেন। তার এই ব্যবসায় যেমন তার উন্নয়ন ঘটাবে ঠিক তেমনি অর্থনীতিতেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মি. কবিরের ব্যবসায় স্থাপনের মাধ্যমে সে নিজের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। তার ব্যবসায়ের সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক-যুবতি চাকরির আশায় বসে না থেকে নিজ উদ্যোগে এরূপ ব্যবসায় স্থাপনে আগ্রহী হবে এবং নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। তাছাড়া মি. কবিরের ব্যবসায়ে আরও মানুষের প্রয়োজন হবে। এতে করে তার ব্যবসায়ের দ্বারা আরো লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যা হ্রাস পাবে। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাছাড়া তার চাষকৃত মাছ বিদেশে রপ্তানি করে তিনি বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবে। মি. কবির তার মাছ চাষ দ্বারা নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি তার মতো আরো অনেক বেকার যুবক-যুবতিদের উন্নয়নের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। কোনো দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে সে দেশের জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পায়। আর দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেলে সে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নে মি. কবিরের ব্যবসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বলে আমি মনে করি।
যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত থাকে, তাকে সেবা শিল্প বলে। যেমন বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি।
শ্রম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে ভোগ্যপণ্য বা চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে উৎপাদন শিল্প বলে। যেমন-আসবাবপত্র শিল্প, চিনি শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, বস্ত্র শিল্প ইত্যাদি।
উদ্দীপকের জনাব কাশেম বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করেন। অতঃপর উক্ত কাঠকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া করে দক্ষ জনবলের সাহায্যে আসবাবপত্র তৈরি করেন। তার তৈরিকৃত আসবাবপত্র বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। কাঠকে আসবাবপত্রে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শ্রম ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় যা উৎপাদন শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব কাশেম উৎপাদন শিল্পের সাথে জড়িত।
দেশে বিরাজমান কার্যকর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পের অবদান, জনগণের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মানসিকতা ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ব্যবসায় পরিবেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের জনাব কাশেম একজন আসবাবপত্র উৎপাদনকারী। তার তৈরিকৃত আসবাবপত্রের ব্যাপক চাহিদা বিদ্যমান। তাই তিনি ব্যবসায়ের পরিধি বাড়াতে চান। কিন্তু পুঁজিগত স্বল্পতার কারণে তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
জনাব কাশেম পুঁজিগত সমস্যার মধ্য দিয়ে ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উৎপাদিত আসবাবপত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই তার উচিত ব্যাংকের সাহায্য নেওয়া। কেননা ব্যাংক অর্থসংক্রান্ত বাধা দূর করে ব্যবসায়কে অগ্রসর হতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ব্যবসায়ে সফলতার জন্য জনাব কাশেমের উচিত অর্থগত বাধাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সুতরাং জনাব কাশেমের ব্যবসায় সম্প্রসারণে ব্যবসায় পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা ও সহযোগিতার উপর ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে। তাই একজন ব্যবসায়ীকে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হয়। তাছাড়া একজন ব্যবসায়ীকে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে হয় এবং পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজতর করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব মাসুদ একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ভোগ্যপণ্য পরিমিত মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখেন। ফলে সহজে মানসম্মত পণ্য ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যায়। আর এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যবসায়ে নৈতিকতা বলতে একজন ব্যবসায়ীর সততা, ন্যায়নীতি, আইন-কানুন ইত্যাদি মেনে চলাকে বোঝায়। আর ব্যবসায়ের পরিচালনাগত বিষয়ে ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মতামত প্রভৃতিকে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ বলে।
উদ্দীপকের আস্থা ট্রেডিং-এর কর্ণধার জনাব মাসুদ নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। ফলে ক্রেতা ও ভোক্তা, সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যবসায়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তা উপকৃত হয়। তাই আমি জনাব মাসুদকে সমর্থন করি।
পক্ষান্তরে মেধা ট্রেডিং এর কর্ণধার জনাব শফিক পণ্য মজুদ করেন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। তার অতি মুনাফার কারণে ক্রেতা ও ভোক্তা কষ্ট পায়। তাই তার উচিত নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করা। অন্যথায় তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং তিনি একসময় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আমি মনে করি।
বাণিজ্য হলো ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা। 'উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বা সেবা ভোক্তার কাছে পৌছানো পর্যন্ত বিভিন্ন বাধার (স্থানগত, ব্যক্তিগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, তথ্যগত) সম্মুখীন হতে হয়। এসব বাধা দূর করে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই হলো বাণিজ্যের কাজ।
উদ্দীপনামূলক সহায়তা বলতে বোঝায় বিভিন্ন প্রকার অনুপ্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিতকরণ, শিল্প স্থাপনে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার, কারিগরি ও অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহ ও পরামর্শ দানকে বোঝায়। এ ধরনের সহায়তা একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসায় গঠনে অনুপ্রেরণা দেয়।
উদ্দীপকের জনাব হাফিজের প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা, সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে ব্যবসায় শুরু করতে পারছেন না। তবে তাকে প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ধারণা দিলে তিনি ব্যবসায় উদ্যোগ নিতে উৎসাহ পাবেন যেগুলো উদ্দীপনামূলক সহায়তার আওতাভুক্ত। তাই বলা যায়, জনাব হাফিজের ব্যবসায় শুরুর জন্য উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্রয়োজন।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য জনাব নাবিলের সংরক্ষণমূলক সহায়তা প্রয়োজন যার ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়।
যে ধরনের সাহায্য একজন ব্যবসায়ী বা শিল্পোদ্যোক্তাকে ব্যবসায় টিকে থাকতে সাহায্য করে, তাকে সংরক্ষণমূলক সহায়তা বলে। ব্যবসায় আধুনিকীকরণ, সম্প্রসারণ, ঋণ ও সুদ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি ইত্যাদি সংরক্ষণমূলক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত।
জনাব নাবিল একজন উদ্যোক্তা। তিনি একটি বেকারি ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য তাঁর ব্যবসায়টি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করতে পারছেন না।
শিল্প বা ব্যবসায় স্থাপনের পরও একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। সংরক্ষণমূলক সহায়তার মাধ্যমে ব্যবসায়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হয়। জনাব নাবিলকে
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য সংরক্ষণমূলক সহায়তা নিতে হবে। উক্ত সহায়তার ফলে তিনি তার ব্যবসায়কে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হবেন।
কোনো কোনো ব্যক্তি আছে যাদের ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ে শ্রম দেওয়ার মতো সময় বা যোগ্যতা নেই তারাই ঘুমন্ত অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ে যোগদান করে। এরা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় না। তবে এরূপ অংশীদারের দায় সক্রিয় অংশীদারের ন্যায় অসীম হয়।
ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে যে শিল্প গড়ে ওঠে তাকে কুটিরশিল্প বলে।
কুটিরশিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫ এর অধিক নয়।
উদ্দীপকের সজল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শোপিস, ফুলদানি তৈরি করেন। মাটি দিয়ে ফল, ফুল, তৈজসপত্র, শোপিস, পুতুল, ফুলদানি, ফুলের টপ, কলসি ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করা মৃৎ কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত। সজল তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভর করে তার শৈল্পিক কার্যক্রম সম্পাদন করেন যা কুটিরশিল্পের বৈশিষ্ট্যের আওতায় পড়ে। তাছাড়া উক্ত কার্যক্রমেও জনবলের সংখ্যা খুবই কম যা কুটিরশিল্পের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাছাড়া মাটির তৈরি উপকরণসমূহ কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত মৃৎশিল্পের পর্যায়ে পড়ে। তাই বলা যায়, জনাব সজলের স্থাপিত - শিল্পটি কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
কর্মসংস্থান, স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৃহৎ শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আবির সাহেবের মতো উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এ ধরনের বৃহৎ শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষুদ্র শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমাদের বিপুলসংখ্যক বেকার লোকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ফলে কর্মীদের আয়ের সুযোগ ঘটেছে। ফলে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে।
উদ্দীপকের জনাব আবির ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। যেটি মূলধন বিবেচনায় বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। তিনি উক্ত শিল্পের তৈরিকৃত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবেন। উক্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। ফলশ্রুতিতে ব্যক্তিগত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে উক্ত শিল্পটি দেশের জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তাই আমি মনে করি জনাব আবিরের শিল্পটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
একজন ভালো উদ্যোক্তা নতুন কিছু সৃষ্টি করার মতো সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক মনের অধিকারী হন। এছাড়াও নতুন সৃষ্টি চিন্তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য নতুন উপায়-পদ্ধতি উদ্ভাবনের সামর্থ্যও তার থাকতে হয়, যা একজন উদ্যোক্তার সৃজনশীল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তাই ব্যবসায়ে নতুন কিছু সংযোজন করা থেকে শুরু করে নতুন বাজার সৃষ্টি সব কিছুতেই সৃজনশীলতার প্রয়োজন হয়। আর ব্যবসায় এসব সৃজনশীল কাজের উন্নয়ন ঘটায়।
শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল ও অর্ধপ্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকেই উৎপাদন শিল্প বলে। তুলা থেকে কাপড় ও বস্ত্র উৎপাদন, গম থেকে আটা ও বিস্কুট তৈরি, খনি থেকে প্রাপ্ত লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন এর সবই এই শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের বিলকিস বেগম আনারসের ফেলে দেওয়া পাতা দিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি পাতাকে প্রক্রিয়াজাত করে কুটিরশিল্প সামগ্রী প্রস্তুত করেন। বিলকিস বেগমের কুটিরশিল্প সামগ্রী প্রস্তুতের কাজটি উৎপাদন শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, বিলকিস বেগমের প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের বিলকিস বেগম আনারসের ফেলে দেওয়া পাতা দিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি পাতাকে প্রক্রিয়াজাত করে কুটিরশিল্প সামগ্রী প্রস্তুত করেন। প্রথমদিকে দক্ষ কারিগর এবং প্রচারের অভাব অনুভব করেন। তার সক্রিয় কর্মতৎপরতায় এই বাধাগুলোর অপসারণ করে ভালো মুনাফা করছেন।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের বিলকিস বেগমও অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান দ্বারা প্রথমত সমস্যায় পড়েছেন। পরবর্তীতে তিনি এই বাধাগুলো অপসারণ করে ব্যবসায়ে ভালো মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। উদ্যোগে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু 'ব্যবসায় উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। ব্যবসায় উদ্যোগ তাই মুনাফা অর্জনের উদ্দশ্য বাধ্যতামূলক। যেমন: মি. X তাঁর বাড়ির আঙিনায় কিছু গাছ লাগালেন। মি. Y মুনাফার আশায় তাঁর বাড়িতে নার্সারি তৈরি করে ফুলের চাষ করতে লাগলেন। মি. X এর গাছ লাগানো শুধু উদ্যোগ কেননা এর সাথে মুনাফার বিষয়টি জড়িত নয় এবং মি. Y এর নার্সারি তৈরি করে ফুল চাষ ব্যবসায় উদ্যোগ। কারণ এর সাথে মুনাফার বিষয়টি জড়িত। তাই বলা যায়, ব্যবসায় উদ্যোগে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য বাধ্যতামূলক।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আগাম ধারণা করতে পারার সামর্থ্যকেই দূরদৃষ্টি বলে। একজন ব্যক্তি তার নতুন চিন্তার সাফল্য সম্ভাবনা যদি বুঝতে না পারেন, সমস্যা কী হতে পারে যদি ভাবতে না পারেন তবে তার পক্ষে কখনোই ভালো উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের মোতালেব মিয়া ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করলেন পদ্মা সেতু দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসবে। এতে সবাই ভালো মানের খাবার আশা করবে। তাই তিনি একটি RENT-A-CAR ও মানসম্মত রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করলেন। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার বুঝতে পারার গুণটি উদ্যোক্তার দূরদৃষ্টি গুণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মোতালেব মিয়ার RENT-A-CAR ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্তার দূরদৃষ্টি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মোতালেব মিয়ার এমন ব্যবসায় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায় উদ্যোগের বিষয়বস্তু নতুন ব্যবসায় শুরুর সাথে সম্পর্কিত। এটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসায় হতে পারে, নতুন পণ্য বা সেবা ব্যবসায়ে সংযুক্ত করার প্রয়াস হতে পারে, নতুন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি চালু করা হতে পারে, নতুন বাজারে প্রবেশ প্রচেষ্টা হতে পারে-এর সবকিছুর সাথেই যেহেতু নতুন চিন্তা যুক্ত তাই এগুলো ব্যবসায় উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের মোতালেব মিয়া ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণ করলেন পদ্মা সেতু দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসবে। এতে সবাই ভালো মানের খাবার আশা করবে। তাই তিনি একটি RENT-A-CAR ও মানসম্মত রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করলেন।
উদ্দীপকের মোতালেব মিয়ার কার্যক্রমটি ব্যবসায় উদ্যোগ বলে বিবেচিত। ব্যবসায় উদ্যোগ ছাড়া অনুন্নত, উন্নত বা উন্নয়নশীল কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। দেশে চাকরির ক্ষেত্র সীমিত তাই কেউ যদি নিজ উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে সেক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু লোকেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তার উদ্যোগের সফলতা দেখে অনেকেই ব্যবসায় করতে এগিয়ে আসবে। যা দেশ ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মোতালেব মিয়ার এমন ব্যবসায় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোনো কোনো ব্যক্তি আছে যাদের ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ে শ্রম দেওয়ার মতো সময় বা যোগ্যতা নেই তারাই ঘুমন্ত অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ে যোগদান করে। এরা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নেয় না। তবে এরূপ অংশীদারের দায় সক্রিয় অংশীদারের ন্যায় অসীম হয়।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। নিবন্ধনপত্র পেলেও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তাদের কাজ শুরু করতে পারে না। এ ধরনের কোম্পানির মূলধনের প্রয়োজন হলে তারা বাজারে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জনাব বাবু তার দশজন বন্ধু নিয়ে ভুট্টার গাছ থেকে গরুর খাবার সাইলেজ তৈরির কারখানা দেন। শুরুতে স্থানীয় খামারিদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও তার আশেপাশের খামারিদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চাপের মধ্যে আছেন। তাই কারখানা সম্প্রসারণ করতে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একমাত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিই শেয়ার বিক্রয় করতে পারে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব বাবুর প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। এ ধরনের কোম্পানির মূলধনের প্রয়োজন হলে তারা বাজারে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জনাব বাবু তার দশজন বন্ধু নিয়ে ভুট্টার গাছ থেকে গরুর খাবার সাইলেজ তৈরির কারখানা দেন। শুরুতে স্থানীয় খামারিদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও তার আশেপাশের খামারিদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চাপের মধ্যে আছেন। তাই কারখানা সম্প্রসারণ করতে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
পাবলিক লি: কোম্পানি, জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করে। এতে তারা তাদের ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়। ফলে দেশের বেকার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়াও বৃহদায়তন ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকে জনাব বাবু কর্তৃক গঠিত পাবলিক লি. কোম্পানির শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের যৌক্তিকতা রয়েছে।
'Ethics' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নীতিশাস্ত্র বা নৈতিকতা। যা গ্রিক শব্দ 'Ethos' থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে মানব আচরণের মানদণ্ড বা নৈতিকতা। নৈতিকতা মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। নৈতিকতা বলতে যা করা উচিত তা করা এবং যা করা উচিত নয় তা থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়। অর্থাৎ ভালোকে গ্রহণ করে মন্দকে ত্যাগ করা। নৈতিকতার সঙ্গে মূল্যবোধের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
ব্যবসায়ে উচিত এবং ন্যায়-নীতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্য-দ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। আর এগুলো মেনে চললে প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সুনাম বয়ে আনে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মেঘনা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সুবিধায় মাছ চাষ করে চাষিরা স্বাবলম্বী। কিন্তু চাষিদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাও জানা গেছে। তারা বললেন শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন ডাইং কোম্পানিগুলো তাদের শিল্পবর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেয়। তাই তারা সেই সময় মাছ চাষ বন্ধ রাখেন। তাদের কর্মকাণ্ডগুলো ব্যবসায় নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মৎস্য চাষিদের ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যবসায় নৈতিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
ডাইং কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পানি দূষিত হবে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক দ্রব্য ও ময়লা-আবর্জনা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে পানির যে দূষণ হয় তাকে পানি দূষণ বলে। শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে পানিকে দূষিত করে। খনিজ পদার্থ, কারখানার বর্জ্য, সালফার, তামা, সীসা, নাইট্রেট, ফসফেট, মানুষের বর্জ্য ও ময়লা পানি নদী ও সমুদ্রের তলদেশে ভরাট প্রভৃতি কারণে পানি দূষিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মেঘনা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সুবিধায় মাছ চাষ করে চাষিরা স্বাবলম্বী। কিন্তু চাষিদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যাও জানা গেছে। তারা বললেন শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন ডাইং কোম্পানিগুলো তাদের শিল্পবর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেয়। তাই তারা সেই সময় মাছ চাষ বন্ধ রাখেন। এরূপ পরিস্থিতিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে মাছের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে বলে চাষিরা মনে করেন।
সুস্থতার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারের ফলে বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে। উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটিই এর প্রমাণ। কারণ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এতে করে নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হবে। যার ফলে নদীতে কোনো ধরনের মাছ পাওয়া যাবে না। আবার নদীর পানি ব্যবহার করার ফলে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি দেখা দিবে। তাই আমি মনে করি, ডাইং কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে পানি দূষিত হবে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ উন্নত হলে কম খরচে ও শ্রমে বেশি পণ্য উৎপাদন করা যায়। প্রযুক্তির কারণে পণ্যের গুণগত মানও ভালো হয়। এভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে।
জনাব আসাদের স্থাপিত শিল্পের ধরনটি হচ্ছে কুটির শিল্প।
কুটির শিল্পের পরিধি মূলত ছোটো পরিসরে হয়ে থাকে। কুটির শিল্প পরিবারের সদস্যদের শ্রম ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠে। এই শিল্প জমি ও কারখানা ভবন ব্যাতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে হয়। পারিবারিক সদস্যসহ জনবল ১৫-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে আসাদ মণ্ডল বেনারসি পাড়ায় ছয় বছর কারিগর হিসেবে কাজ করে পরে শিবচরে তার নিজ বাড়িতে তাঁত স্থাপন করেন। পরিবারের সবাইকে তিনি এই কাজে যুক্ত করেন। তিনি শিল্পটি ক্ষুদ্র পরিসরে সহজেই স্থাপন করতে পেরেছেন। আর এখানে তিনি তার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে পণ্য তৈরি করেন যেখানে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করে। এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে কুটির শিল্পের মিল রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, জনাব আসাদ মণ্ডলের স্থাপিত শিল্পটি হচ্ছে কুটির শিল্প।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জনাব গফুর ব্যাপারীর বৃহদায়তন শিল্পে বিশেষ অবদান রয়েছে। তার স্থাপিত শিল্পের দ্বারা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের বিশেষ করে বৃহৎ শিল্পের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের দেশে সেই ধরনের বৃহৎ শিল্পের প্রয়োজন সেখানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং অধিক উৎপাদন হবে। ফলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
উদ্দীপকে গফুর ব্যাপারী লক্ষ করলেন তার এলাকার প্রচুর লোক ঢাকায় পোশাক শিল্প কারখানায় কাজ করেন। তাই তিনি ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ শ্রমিক নিয়ে একটি গার্মেন্টস স্থাপন করেন। তার স্থাপিত শিল্পটি হচ্ছে বৃহৎ শিল্প। তার স্থাপিত শিল্পটির ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ফলে বেকার সমস্যা লাঘব হবে এবং ব্যক্তিগত, সামাজিক, জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে।
উন্নয়নশীল দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বৃহৎ শিল্প স্থাপনের দ্বারা দেশে পণ্য উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে যার ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়। শিল্প যতো বেশি স্থাপিত হবে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার মান ততোই উন্নত হতে থাকবে। তাই বলা যায়, জনাব গফুর ব্যাপারীর স্থাপিত শিল্প বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিশেষ অবদান পালন করবে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ হলো আইনগত পরিবেশ।
বাণিজ্য ও শিল্প আইন, শ্রম আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতি প্রভৃতি আইনগত পরিবেশের উপাদান। ব্যবসায়সংক্রান্ত আইন অনুকূল হলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা ব্যবসায়ে উৎসাহিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব আইন তৈরি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।
জনাব মামুনের কাজটি ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ব্যবসায় বা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা-সামগ্রী ভোক্তা বা ক্রেতাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। মূলত বাণিজ্য উৎপাদকের নিকট থেকে পণ্য বা সেবাকর্ম ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত যেসকল বাধার (অর্থগত, ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত ও তথ্যগত) সৃষ্টি হয় সেগুলো দূরীকরণে কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব মামুন জাপান থেকে মোবাইল কিনে বাংলাদেশের সিলেটে আনেন। এরপর সেগুলো নিজস্ব শো-রুমে বিক্রয় করেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রথমে মোবাইল কেনার মাধ্যমে স্বত্বগত বাধা দূর করেন। আর জাপান থেকে সিলেটে পণ্য পরিবহণ করে আনার মাধ্যমে স্থানগত বাধা দূর করেন। পণ্য ক্রয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি তার অর্থগত বাধা দূর করেন। এছাড়া অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে নিজ দেশে আনার কারণে যে ঝুঁকি সৃষ্টি হয় তা নিরসনে তিনি বিমার ব্যবস্থা করেন, যা তার ব্যবসায়ে ঝুঁকিগত বাধা দূর করে। সারা বছর যেন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারেন তাই তিনি গুদামজাতকরণের মাধ্যমে সময়গত বাধা দূর করেন। পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য তিনি প্রচারেরও ব্যবস্থা করেন। তার এসব কার্যক্রম মূলত বাণিজ্যের কার্যাবলির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই জনাব মামুনের কাজটিকে বাণিজ্য বলা যায় যা ব্যবসায়ের একটি শাখা।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব মামুনের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর।
আজকের পৃথিবীতে যে-কোনো দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সেই দেশের ব্যবসায়। ব্যবসায়ের মাধ্যমে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সহজ হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই ব্যবসায়-বাণিজ্যকে অর্থনীতির উন্নয়নের প্রভাবক মনে করা হয়। এর প্রসার হলে পুরো দেশের উন্নতি হয়।
উদ্দীপকের জনাব মামুন একজন ব্যবসায়ী। তিনি জাপান থেকে মোবাইল আমদানি করে বাংলাদেশের সিলেটে বিক্রয় করেন। এ কাজে অর্থের প্রয়োজন হলে তা সে ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করেন। শো-রুমের পাশে তিনি একটি গোডাউন ভাড়া নেন এবং পণ্য আনার ঝুঁকি নিরসনে তিনি বিমাও করেন। এছাড়া ক্রেতার কাছে পণ্যকে আকর্ষণীয় করার জন্য তিনি বিজ্ঞাপনেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সকল কার্যাবলি সফলভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে জনাব মামুন দ্রুত তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে সক্ষম হবে এবং তার এ সফলতা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।
উদ্দীপকে জনাব মামুন স্বাধীনভাবে ব্যবসায় করছেন। তিনি এর মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান ও আয়ের ব্যবস্থা করেছেন। তার এ ব্যবসায়ে তার পাশাপাশি আরো অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া তার সফলতা আরো অনেক বেকার যুবককে তার মতো স্বাধীন ব্যবসায়ে অনুপ্রাণিত করবে। যার ফলে ব্যক্তি আয়ের পাশাপাশি জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ের ফলে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়, মূলধন গঠিত হয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। তাই বেকারত্বের সংখ্যা কমে। আর একটি দেশে যত বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে সে দেশের অর্থনীতি ততো বেশি উন্নত থাকবে। কোনো ব্যক্তির আয় জাতীয় আয়কে প্রভাবিত করে। জনাব মামুনও তার ব্যবসা দ্বারা মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে জাতীয় আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব মামুনের ভূমিকা অপরিসীম।
ব্যবসায় উদ্যোগ বলতে বুঝায় লাভবান হওয়ার আশায় লোকসানের সম্ভাবনা জেনেও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা।
ব্যবসায় উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এটি সাধারণত নতুন ব্যবসায় শুরুর সাথে সম্পর্কিত। তবে প্রতিষ্ঠানে নতুন পণ্য বা সেবা চালু করাও ব্যবসায় উদ্যোগের মধ্যে পড়ে।
জনাব ফারুকের মধ্যে উদ্যোক্তার 'ঝুঁকি' গ্রহণের ক্ষমতা গুণটি ফুটে উঠেছে।
যেব্যক্তি দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার সাথে ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও ব্যবসায় স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনা করেন তিনি ব্যবসায় বা শিল্প উদ্যোক্তা। আর ঝুঁকি হলো কোনো কাজের অনিশ্চিত ফলাফল। ব্যবসায় বাণিজ্যের সাথে ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
উদ্দীপকের জনাব ফারুক লেখাপড়া শেষ করার পর একটি গাড়ির ওয়ার্কসপে কাজ নেন। দশ বছর কাজ করার পর তিনি একটি গাড়ি সার্ভিসিং ওয়ার্কসপ দেন। চাকরির আয় নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত কিন্তু ব্যবসায়ের আয় অনির্দিষ্ট ও অনিশ্চিত। জনাব ফারুক তার নিশ্চিত আয়ের উৎস অর্থাৎ চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় স্থাপন করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার কাজে ঝুঁকি নিয়েছেন। এ ঝুঁকি থেকেই তার মুনাফা অর্জিত হবে। আর এই বিষয়টি উদ্যোক্তার ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা গুণটিকে ফুটিয়ে তোলো। তাই বলা যায়, জনাব ফারুকের মধ্যে উদ্যোক্তার ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা গুণটি বিদ্যমান রয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জনাব ফারুক জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
যিনি উদ্যোগ নেন তিনিই উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তা নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যেরও কাজের সুযোগ করে দেন বিধায় উদ্যোক্তাকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারীও বলা হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই উদ্যোক্তা দেশের অর্থনীতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব ফারুক লেখাপড়া শেষ করে একটি গাড়ির ওয়ার্কসপে কাজ করেন। দশ বছর কাজ করার পর তিনি একটি গাড়ি সার্ভিসিং ওয়ার্কসপ দেন। ব্যবসায়ে সফলতার ফলে বর্তমানে তিনি ঢাকায় দুইটি গাড়ি সার্ভিসিং ওয়ার্কসপের মালিক। এতে শুধু তিনি নিজেই উপকৃত হচ্ছেন না বরং দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন।
জনাব ফারুক তার গাড়ি সার্ভিসিং ওয়ার্কসপে নিজের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন। ফলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে। নিয়োগকৃত কর্মীদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ব্যক্তির আয় বৃদ্ধির মানে হলো দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, আর মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পায়। আবার তার দুইটি ওয়ার্কসপে প্রতিদিন অর্থের লেনদেন হচ্ছে। আর অর্থের লেনদেন বেশি হওয়ার অর্থ দেশের অর্থনীতি গতিশীল হওয়া। জনাব ফারুক উপর্যুক্তভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বলে আমি মনে করি।
মি. রায়হান জীবন বিমা চুক্তি সম্পদান করেছেন। এ ধরনের বিমার বিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষের জীবন। এ বিমায় বিমাকারী প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমা গ্রহীতাকে বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে বিমাকৃত অর্থ ফেরত দেয়। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে বা দুর্ঘটনায় উত্তরাধিকারীর আর্থিক সংকট কাটানোর জন্য জীবন বিমা করা হয়।
উদ্দীপকের মি. রায়হান একজন শিল্পপতি। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় নিজস্ব জমিতে তার একটি টেক্সটাইল মিল রয়েছে। তার মিলের শ্রমিকের নিরাপত্তার জন্য তিনি ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ এর নিকট আট কোটি টাকা মূল্যে বিমাচুক্তি সম্পাদন করেন। এক্ষেত্রে মি. রায়হান মূলত তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে জীবন বিমা করেছেন। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় কোনো দুর্ঘটনার কারণে যদি শ্রমিকদের জীবনহানি ঘটে সেক্ষেত্রে এই বিমাকৃত অর্থের টাকা শ্রমিকের মনোনীত ব্যক্তি লাভ করে থাকবেন। তবে এক্ষেত্রে বিমার প্রিমিয়ামের টাকা মিলের মালিক মি. রায়হান প্রদান করে থাকেন। তার এ বিমার ফলে শ্রমিকের পরিবার শ্রমিকের অবর্তমানেও আর্থিক নিরাপত্তা লাভ করবে। তাই বলা যায়, মি. রায়হান জীবন বিমা চুক্তি সম্পাদন করেছেন।
বিমা কোম্পানি কর্তৃক বিমা দাবি পরিশোধ না করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
যে চুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয় সম্পাদিত সম্পর্কিত কোনো ঘটনাজনিত ক্ষতির বা ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয় তাকে বিমা চুক্তি বলে। বিমাকারী প্রতিষ্ঠান বিমাকৃত ব্যক্তি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ঝুঁকি উল্লেখপূর্বক নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এই চুক্তি সম্পাদন করে থাকেন।
উদ্দীপকের মি. রায়হান একটি টেক্সটাইল মিলের মালিক। তার মিলের শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য তিনি ফারইস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ এর নিকট আট কোটি টাকা মূল্যের বিমা চুক্তি করেন। সম্প্রতি তার মিলটি ভূমিকম্পে ধসে পড়লে তিনি বিমা কোম্পানির নিকট দাবি পেশ করেন, কিন্তু বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। বিমা চুক্তিতে উল্লিখিত বিসয়বস্তুর সাথে বাস্তবে সংগঠিত বিষয়বস্তুর মিল না থাকলে বিমা কোম্পানি বিমা গ্রহীতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকে না।
মি. রায়হান তার মিলে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য জীবন বিমা চুক্তি করেছিলেন। এক্ষেত্রে তার মিলে কর্মরত শ্রমিকরা কোনো দুর্ঘটনাবশত বা অনিবার্য কোনো কারণে যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে বিমা কোম্পানি বিমা চুক্তি অনুযায়ী অর্থ প্রদানে বাধ্য থাকতো। কিন্তু এখানে তার মিলটি ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। এতে তার ব্যবসায়িক বা আর্থিক ক্ষতি হলেও শ্রমিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। অর্থাৎ তার করা বিমা চুক্তির যে বিষয় ছিল তার সাথে বাস্তবে হওয়া ঘটনার কোনো মিল নেই। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিলের ক্ষতিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো শর্ত বিমা চুক্তিতে উল্লিখিত ছিল না বলেই বিমা কোম্পানি বিমাদাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। যেহেতু বিমা চুক্তি বহির্ভূত কোনো বিষয় বা কোনো কারণের জন্য বিমা কোম্পানি বিমা দাবি পরিশোধে বাধ্য থাকে না। তাই উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি কর্তৃক বিমা দাবি পরিশোধ না করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
শিল্পোদ্যোক্তাগণ জন্মগতভাবেই শিল্পোদ্যোক্তা। এদের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। এরা প্রাথমিকভাবেই শিখে থাকে। অর্থাৎ জন্মসূত্রেই তারা বহু ব্যক্তিগত গুণের অধিকারী হয়ে থাকেন। পরবর্তীতে তারা এসব গুণ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে। তাই সকল শিল্পমালিকই উদ্যোক্তা।
যে প্রক্রিয়ায় কাউকে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে প্রশিক্ষণ বলে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এটি এমন একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কর্মীদের বিশেষ কার্যদক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং কর্মীকে অধিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে জনাব আরিফ শিক্ষকতার পাশাপাশি শখ করে বনসাই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং চাহিদা অনুসারে বিক্রয় করেন। চাহিদা থাকায় তিনি স্থানীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বনসাই চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বাসার ছাদে একটি বনসাই নার্সারি গড়ে তুলে ব্যবসায় সফল হন। জনাব আরিফ সাহেবের এমন সফলতার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ভূমিকা রেখেছে।
ব্যবসায় উদ্যোগের বিষয়বস্তু নতুন ব্যবসায় শুরুর সাথে সম্পর্কিত। এটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসায় হতে পারে, নতুন পণ্য বা সেবা ব্যবসায়ে সংযুক্ত করার প্রয়াস হতে পারে, নতুন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি চালু করা হতে পারে, নতুন বাজারে প্রবেশ প্রচেষ্টা হতে পারে- এর সবকিছুর সাথেই যেহেতু নতুন চিন্তা যুক্ত তাই এগুলো ব্যবসায় উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব আরিফ শিক্ষকতার পাশাপাশি শখ করে বনসাই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং চাহিদা অনুসারে বিক্রয় করেন। চাহিদা থাকায় তিনি স্থানীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বনসাই চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বাসার ছাদে একটি বনসাই নার্সারি গড়ে তুলেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি ২ জন কর্মচারী নিয়োগ করে বাসার সামনে আরও একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার তাকে পুরষ্কৃত করেছে।
উদ্দীপকের জনাব আরিফের কার্যক্রমটি ব্যবসায় উদ্যোগ বলে বিবেচিত। দেশে চাকরির ক্ষেত্র সীমিত। তাই কেউ যদি নিজ উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে সেক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু লোকেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিরাট সাফল্য এমনকি তার উদ্যোগের সফলতা দেখে অনেকেই ব্যবসায় করতে এগিয়ে আসে। যা দেশ ও দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জন্য বিরাট সাফল্য এমনকি বয়ে আনে। তাই আমি মনে করি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনাব আরিফের ব্যবসায় উদ্যোগ কার্যক্রমটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অদৃশ্যমান কোনো পণ্য বা বস্তুকে দৃশ্যমান করার প্রক্রিয়াকে নিষ্কাশন শিল্প বলে। ভূগর্ভ হতে খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, সমুদ্র রা নদনদী হতে মাছ ও জলজ সম্পদ সংগ্রহ, বন হতে কাঠ বা অন্যান্য সম্পদ সংগ্রহ ইত্যাদি নিষ্কাশন শিল্পের আওতাভুক্ত। এরূপ শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের কিছু কিছু সরাসরি ভোগের কাজে লাগলেও অধিকাংশই পরবর্তী উৎপাদনের কাজে লাগে।
যে শিল্প প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, দালান-কোঠা ইত্যাদি তৈরি করা হয় তাকে নির্মাণ শিল্প বলে। ছোটো থেকে বড়ো বিভিন্ন ধরনের নির্মাণের সাথে দেশি-বিদেশি নির্মাণ কোম্পানিসমূহ কাজ করে। বাংলাদেশে পদ্মাসেতু, উড়াল সেতু, দালানকোঠা, মেট্রোরেল, সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন ছোটো-বড়ো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর উদাহরণ।
উদ্দীপকে জনাব সবুজ বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করে আধুনিক ফ্ল্যাট তৈরির উদ্দেশ্যে ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত মূলধনে যথাযথ যোগান না হওয়ায় তিনি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে চুক্তি করেন। উক্ত ভবন তৈরির কাজটি নির্মাণ শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভবন নির্মাণ নির্মাণ শিল্পের অন্তর্গত।
দেশের সার্বভৌমত্ব, সরকারের স্থিতিশীলতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা, রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও তাদের চিন্তা-ভাবনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি মিলিয়ে যে পারিপার্শ্বিকতার জন্ম নেয় তাকে রাজনৈতিক পরিবেশ বলে। একটা দেশের ব্যবসায়ে সফলতা ও ব্যর্থতার পেছনে রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে জনাব সবুজ বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করে আধুনিক ফ্ল্যাট তৈরির উদ্দেশ্যে ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত মূলধনে যথাযথ যোগান না হওয়ায় তিনি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে চুক্তি করেন। ভবন তৈরির আগেই শ্রমিকদের অসন্তোষে কাজটি বাধাগ্রস্ত হয়।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক, উন্নয়নে পরিবেশের রাজনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসায়-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের শ্রমিক আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদান, যা ফ্ল্যাট ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তাই আমি মনে করি, জনাব সবুজের কার্যক্রমে ব্যবসায়িক পরিবেশের অন্তর্গত রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাব রয়েছে; যা তার ব্যবসায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। ক্রেতাদের কেন্দ্র করে ব্যবসায়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে হয়, পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হয়, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং সংরক্ষণ করে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ তৃপ্তি দানের চেষ্টা করতে হয়।
ব্যবসায় গঠন, পরিচালনা ও নিরাপদে টিকে থাকতে সরকার ব্যবসায়ীদের যে আইনগত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে তার বিপরীতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে রাষ্ট্রের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। এসব দায়বদ্ধতা পালন করতে গিয়েই ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রকে যথাসময়ে কর ও রাজস্ব প্রদান করে, রাষ্ট্রের নীতিমালা ও আইন অনুসরণ করে, রাষ্ট্রকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে।
উদ্দীপকে জনাব সায়মন চট্টগ্রামের জনবহুল এলাকা অক্সিজেনে সাইমন হাইড অ্যান্ড স্কিন নামে একটি চামড়াজাত দ্রব্য তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। এ কারখানায় বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর পানি দূষণ হয়। তবে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন। উক্ত কর প্রদান কার্যক্রমটি রাষ্ট্রের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নিয়মিত কর প্রদান জনাব সায়মনের রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন হিসেবে বিবেচিত হবে।
শিল্পকারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে বর্জ্য শোধন যন্ত্র বলে। বর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমে পানি দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রত্যেক কারখানায় উক্ত যন্ত্র বসানোকে বাধ্যতামূলক করেছে।
উদ্দীপকে জনাব সায়মন চট্টগ্রামের জনবহুল এলাকা অক্সিজেনে সাইমন হাইড অ্যান্ড স্কিন নামে একটি চামড়াজাত দ্রব্য তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। এ কারখানায় বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর পানি দূষণ হয়। তবে তিনি নিয়মিত কর প্রদান করেন এবং কারখানার নিকটেই শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির উচিত কারখানায় বর্জ্য শোধন যন্ত্র বসানো। এতে তার কারখানার ময়লা আবর্জনা নদীতে বা আশেপাশের জমিতে পড়বে না। এর ফলে নদী, মাটি ও বায়ুকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। আর এগুলো দূষণমুক্ত হলে পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং মানুষ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তাই আমি মনে করি, সঠিক বর্জ্য শোধনাগার থাকলে জনাব সায়মনের ব্যবসায়টি পরিপূর্ণতা পেত।
শিল্প হলো উৎপাদনের বাহন এবং ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখা। শিল্প একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সম্পদ বা সেবা প্রাথমিক অবস্থা থেকে চূড়ান্ত অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সম্পদের রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা শিল্পের কাজ। ব্যবসায়ের যাবতীয় পণ্য ও সেবাকর্ম শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। সম্পদের রূপ বা আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্প নতুন উপযোগ সৃষ্টি করে। তাই প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদ সংগ্রহ বা এর ব্যবহার করে বিক্রয়যোগ্য উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকেই শিল্প বলা হয়ে থাকে।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, আমদানি, রপ্তানি প্রভৃতি বাণিজ্য হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকের মি. নাঈম পড়ালেখা করে ঢাকার নবাবপুরে একটি কেমিক্যালের দোকান দেন। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার আমদানিকৃত কেমিক্যালের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মুনাফার পরিমাণ বাড়ে। এখানে দেখা যাচ্ছে, মি. নাঈম বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রয় ও পরিবহন কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করছেন। পরবর্তীতে তা গুদামজাতকরণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তথা ক্রেতার নিকট বিক্রয় করছেন। মি. নাঈমের এসব কাজ ব্যবসায়ের বাণিজ্য কার্যক্রমকে নির্দেশ করছে। তাই বলা যায় মি. নাঈমের কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের বাণিজ্য শ্রেণির আওতাভুক্ত।
যে সকল উপাদান দ্বারা ব্যবসায়ের অর্থ ও অর্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম প্রভাবিত হয় তাকে ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, মূলধন, অর্থ ও ব্যাংকিং প্রভৃতি ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকের মি. নাঈম পড়ালেখা করে ঢাকার নবাবপুরে একটি কেমিক্যালের দোকান দেন। তার আমদানিকৃত কেমিক্যালের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয় বাড়ে এবং মুনাফাও বাড়তে থাকে। কিন্তু, তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় 'তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছেন; যা তার প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে সাহায্য করবে।
ব্যাংক ব্যবসায় খাতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যাংক নির্দিষ্ট সুদ গ্রহণের মাধ্যমে আয় করে, তেমনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও উক্ত অর্থ ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে থাকে। মি. নাঈম ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তার ব্যবসায়ের পরিধি বাড়াতে পারবেন এবং পূর্বের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে আশা করছি। সুতরাং বলা যায়, মি. নাঈমের ব্যবসায় পরিধি বৃদ্ধিকল্পে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক এবং সঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি। এতে মি. নাঈমের ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
১. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ঋণ সুবিধা প্রদান।
২. জাতীয়, বহুজাতিক, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রশিক্ষণ, তথ্য ও পরামর্শ সেবা প্রদান।
৩. ব্যবসায় ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও গবেষণা পরিচালনা।
৪. ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতার নেটওয়ার্ক বাড়ানো।
৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনে সহায়তা করা।
একজন ব্যবসায়ীকে সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, মানসম্মত পণ্য সরবরাহ পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজতর করা, পণ্য ও বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করা প্রভৃতির মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব বাশার একজন মুদি ব্যবসায়ী। এলাকার বসবাসকারী মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের চাহিদামাফিক বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করেন। তিনি ও তার কর্মচারী ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন ও পণ্যের গুণাগুণ দেখে সবসময় পণ্য বিক্রি করেন। তিনি কখনোই মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করেন না। দেশে এক সময় সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা দিলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চড়াদামে তেল বিক্রি করেন। কিন্তু জনাব বাশার সঠিক দামেই তেল বিক্রি করেন। এই জন্য তার দোকানে ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে। | সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জনাব বাশার সমাজের ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি | দায়িত্ব পালন করছেন।
যে জ্ঞানবোধ এবং আচরণ সমাজ মূল্যবান এবং অনুকরণীয় মনে করে তাকে মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-বেঠিক ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের জনাব বাশার একজন মুদি ব্যবসায়ী। এলাকার বসবাসকারী মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের চাহিদামাফিক বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করেন। তিনি ও তার কর্মচারী ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন ও পণ্যের গুণাগুণ দেখে সবসময় পণ্য বিক্রি করেন। তিনি কখনোই মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করেন না। দেশে এক সময় সয়াবিন তেলের ঘাটতি দেখা দিলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চড়াদামে তেল বিক্রি করেন। কিন্তু জনাব বাশার সঠিক দামেই তেল বিক্রি করেন। তার এসব কার্যক্রম ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে নির্দেশ করছে।
মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ মানুষের জীবনে ইতিবাচক, মঙ্গলময় ও কল্যাণময় দিকে নির্দেশনা দেয়। অন্যায় থেকে ন্যায়, অর্ধম থেকে ধর্ম, অসত্য থেকে সত্য, অনুচিত থেকে উচিত পৃথকীকরণ বা নিরূপণের ক্ষমতা নৈতিক নীতিবোধ থেকে আসে। একটি সুন্দর ও সুখী সমাজ গঠন এবং দেশের জনগণের জন্য নৈতিক আচরণবিধি অনুসরণ একান্ত আবশ্যক যা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মেনে চলা উচিত। এক্ষেত্রে একজন ব্যবসায়ীর মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা আরও গুরুত্ব বহন করে। কেননা একজন ব্যবসায়ীর ভালো-মন্দ আচরণ দ্বারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যবসায়ী জনাব বাশারের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ব্যাপক গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পে অনগ্রসর। কতিপয় সমস্যা ও বাধার কারণে শিল্পোন্নয়নের গতি এখনও মন্থর। প্রধানত অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো যেমন- অনুন্নত রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব ও শ্রমিক অসন্তোষ ইত্যাদি কারণে শিল্পোন্নয়নের গতিধারা ব্যাহত হচ্ছে। আবার দেশের সকল এলাকা শিল্পে সমানভাবে উন্নত।
বিনিয়োগের মাপকাঠিতে হৃদমের প্রথম পর্যায়ের শিল্পটি হলো উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক এবং ৫০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১- ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
উদ্দীপকের হৃদম কৃষিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে পাবনায় একটি জৈব সার কারখানা স্থাপন করেন। তার কারখানায় মোট ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ২০০ জন শ্রমিক রয়েছে। এখানে দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগের মাপকাঠিতে হৃদমের প্রথম পর্যায়ের শিল্পটির সাথে মাঝারি এন্টারপ্রাইজের মূলধনের পরিমাণ ও শ্রমিকের সংখ্যার সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায় বিনিয়োগের মাপকাঠিতে হৃদমের প্রথম পর্যায়ের শিল্পটি হলো উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্প বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
উদ্দীপকের হৃদম কৃষিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে পাবনায় একটি জৈব সার কারখানা স্থাপন করেন। প্রথম দিকে তার কারখানায় মোট ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। কিন্তু পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তার কারখানাকে আরও আধুনিকায়ন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তিনি আরও ২১ কোটি টাকা ব্যয় করেন এবং ১২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেন। এর ফলে তার প্রতিষ্ঠানটি বৃহৎ শিল্পে রূপান্তরিত হয়; যা আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহদায়তন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অধিক মূলধন ও শ্রমের প্রয়োজন হয়। এতে একদিকে যেমন পণ্যের উৎপাদন বাড়ে তেমনি ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেই সাথে পণ্যের বিক্রয় ও ভোগ বৃদ্ধি পায়, মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। মূলত এসব কারণেই হৃদমের দ্বিতীয় পর্যায়ের শিল্প কারখানাটি স্থাপনের যৌক্তিকতা রয়েছে; যা দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। এক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন-ডিভাইস, ব্র্যান্ড, শিরোনাম, লেবেল, নাম, স্বাক্ষর, শব্দ ইত্যাদি।
বাংলাদেশে পণ্যমান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের নাম হলো BSTI বা Bangladesh Standards & Testing Institution। উক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
উদ্দীপকের জনাব অ্যরিফ একটি, শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। শিশুখাদ্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণে সন্তোসজনক হওয়ায় সরকার কর্তৃক একটি সনদপত্র গ্রহণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জনাব আরিফ সরকারি মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই থেকে পণ্যের মান যাচাই করে সনদপত্র গ্রহণ করেছেন।
মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঘিরে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান তার বিপক্ষে আর্থিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বিমা বলে। বিমা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন- জীবন বিমা, নৌবিমা, অগ্নিবিমা, দুর্ঘটনা বিমা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ একটি শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তিনি মানসম্মত শিশুখাদ্য প্রস্তুতের বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠান যাতে অদূর ভবিষ্যতে হুমকির সম্মুখীন না হয় সেজন্য তিনি লোকসান পূরণের, লক্ষ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এ রূপ চুক্তিবদ্ধ হওয়া বিমা কোম্পানির সাথেই সম্ভব। কেননা, এখানে লোকসান পূরণের কথা বলা হয়েছে; যা বিমা কোম্পানির সাথে অগ্নি বিমা বা প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো বিমা করা যেতে পারে।
বিমাচুক্তির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বা লোকসান পূরণের জন্য বিমাগ্রহীতা এককালীন বা কিস্তিতে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম প্রদান করবেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় বা পণ্যের কোনোরূপ ক্ষতি সংঘটিত হলে বিমাগ্রহীতা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পেলে একজন ব্যবসায়ী পুনরায় ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারেন। এতে, দেশের ব্যবসায় বাণিজ্য ও অর্থনীতির কল্যাণ সাধন হয়।
আইন অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়।
নিবন্ধন বলতে নিবন্ধকের অফিসে প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করাকে বোঝায়। অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক না করা হলেও অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়ের চেয়েও নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অধিক আইনগত সুবিধা এবং অধিক মর্যাদা লাভ করে। চুক্তিগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং পাওনা অর্থ আদায় এরূপ ব্যবসায় অধিকতর সুবিধা ভোগ করে। তাই বাধ্যতামূলক না হলেও অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন করাই উত্তম।
সহায়তা দানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অন্যতম। এ ব্যাংক সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একত্রিত হয়ে ৩ জানুয়ারি ২০১০ সাল হতে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড নামে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ছাড়াও এ ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি শিল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে জনাব মুহিবুল সাভারে বিসিক শিল্প এলাকায় 'মুহিবুল লেদার' নামে একটি উন্নতমানের ও রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপন করেন। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড; যা উপরের আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে।
নতুন ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপনে একজন উদ্যোক্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়ক সেবার প্রয়োজন হয়। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে উদ্দীপনামূলক সহায়তা, সমর্থনমূলক সহায়তা এবং সংরক্ষণমূলক সহায়তা। এক্ষেত্রে সমর্থনমূলক সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপন, পরিচালনা, সম্পদ ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব মুহিবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে সাভারে বিসিক শিল্প এলাকায় 'মুহিবুল লেদার' নামে একটি উন্নতমানের ও রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপন করেন। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন। তার কারখানায় চামড়ার তৈরি বিভিন্ন ব্যাগ, বেল্ট ও জুতা ভালো মানের হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় ২০০ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছে। জনাব মুহিবুলের ব্যবসায়ের এমন পরিস্থিতিতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থনমূলক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একজন উদ্যোক্তাকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সমর্থনমূলক সহায়তা উদ্যোক্তাকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধীকরণ পুঁজির সংস্থান, অবকাঠামোগত সহায়তা, কর অবকাশ, ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি দিয়ে থাকে। এসব সহায়তার সুষ্ঠু প্রাপ্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্দীপকের 'মুহিবুল লেদার' দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছি।
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন। এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন: ডাক্তারি ক্লিনিক, আইন চেম্বার, প্রকোশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইত্যাদি। প্রত্যক্ষ সেবা আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
যেকোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে সৃষ্ট পরিবেশকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে।
উদ্দীপকের জনাব আকিব ও সাজিদ দুই বন্ধু। তারা এইচএসসি পাসের পর গিফট ও ফাস্টফুড আইটেম তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে অর্থাৎ প্রযুক্তির সহায়তায় বিক্রি করেন। তাই বলা যায়, প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় তারা পণ্য বিক্রয় করতে পেরেছেন।
ব্যবসায় সম্প্রসারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ বা মূলধনের প্রয়োজন। এ অর্থ প্রয়োজন হয় ব্যবসায় শুরু করার জন্য, ব্যবসায় কার্যক্রম সচল রাখার জন্য এবং ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য।
ব্যবসায়ের মূলধন বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের জন্য অর্থ যোগান দিয়ে ব্যবসায়কে গতিশীল রাখে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যদি ব্যবসায়ীদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান না দিত তাহলে ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা নিঃসন্দেহে দুরূহ হয়ে পড়ত। কারণ যে কোনো উদ্যোক্তারই অর্থ যোগানের, একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। আর এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে কোনো না কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়।
উদ্দীপকের মি. আকিব ও সাজিদের বিক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে, যাওয়ায় ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য অধিক পুঁজির প্রয়োজন দেখা দেয়। আর এই আর্থিক সংকট মিটানোর জন্য তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন 'হন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ফলে তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতা না করত তাহলে 'মি. আকিব ও সাজিদের পক্ষে সময়মতো ব্যবসায় সম্প্রসারণ সম্ভব হতো না। সুতরাং বলা যায়, মি. আকিব ও সাজিদের পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
ব্যবসায় উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন কিন্তু অন্যান্য উদ্যোগের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। যেমন: মি. X তাঁর বাড়ির আঙিনায় কিছু গাছ লাগালেন। মি. Y মুনাফার আশায় তাঁর বাড়িতে নার্সারি তৈরি করে ফুলের চাষ করতে লাগলেন। দুধরনের কাজই উদ্যোগের শামিল। মি. X মুনাফা লাভের আশায় গাছ না লাগানো শুধু উদ্যোগ এবং মি. Y এর নার্সারি তৈরি করে ফুল চাষ ব্যবসায় উদ্যোগ। কারণ এর সাথে মুনাফার বিষয়টি জড়িত। সুতরাং "সকল উদ্যোগ ব্যবসায় উদ্যোগ নয়।"- উক্তিটি যথার্থ।
জনাব আসাদ মুনাফার আশায় অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে তাঁত শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন।
যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ব্যবসায় সংগঠনের গঠন, কার্যাবলি, উন্নতি, অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায়িক পরিবেশ বলে। পরিবেশ দ্বারা মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রভাবিত হয়।
উদ্দীকের জনাব আসাদ নরসিংদীর বাবুরহাটে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ দেখে অনুপ্রাণিত হন। অতঃপর তিনি আনুষ্ঠানিক পড়ালেখা শেষ করে উক্ত এলাকায় একটি তাঁত শিল্প স্থাপন করেন। উক্ত এলাকায় তাঁত শিল্প স্থাপনের অনুকূল উপাদান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজি যোগান ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এ শিল্পের প্রচুর সম্ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তাঁত শিল্প স্থাপন করেন। সুতরাং বলা যায়, জনাব আসাদের তাঁত শিল্প প্রতিষ্ঠার কারণ হলো অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশে অধিক মুনাফার প্রত্যাশা।
লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করাকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে। একজন উদ্যোক্তা নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি একাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। এতে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব আসাদ নরসিংদী জেলার বাবুরহাটে একটি তাঁত শিল্প স্থাপন করেন। ফলে উক্ত এলাকায় অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটে।
জনাব আসাদের প্রতিষ্ঠিত তাঁত শিল্পে কর্মরত ব্যক্তির আয়ের সুযোগ হয়। ফলে ব্যক্তিগত এ জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে। তাই বলা যায়, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জনাব আসাদের মতো উদ্যোক্তার গুরুত্ব অপরিসীম।
মোড়কিকরণ পণ্যকে নষ্ট হতে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে পণ্যের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানের শিল্পজাত পণ্য যেমন: ফ্রিজ, টেলিভিশন, সাবান আবার কৃষিজাত পণ্য যেমন: পাস্তুরিত দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদির বিক্রয় ও ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে মোড়কিকরণের ওপর। তাছাড়া পণ্যের খাদ্যমান সুরক্ষায় ও পণ্যের কালগত উপযোগ সৃষ্টিতেও মোড়কিকরণ ভূমিকা রাখে।
পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণের উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে আকর্ষণীয় দর্শন-শ্রবণযোগ্য স্লাইড প্রদর্শনের ব্যবস্থা করাকে টেলিভিশন বিজ। ন বলে।
উদ্দীপকের জনাব মান্না বে ক্লথ স্টোর' এর স্বত্বাধিকারী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন। উক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি তার প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের তথ্যাবলি প্রকাশ করে ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সস্তায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য মূলত ডিস চ্যানেলকে বেছে নিয়েছেন যেটি খুবই জনপ্রিয়।
বিজ্ঞাপনের ফলে বাজার সম্প্রসারিত হয় বলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক জগতে একজন বিক্রয়কর্মীর উপর ব্যবসায়ের উন্নতি-অবনতি প্রভাবিত হয়। তাই ব্যবসায়ের উন্নতির জন্য আদর্শ বিক্রয়কর্মীর বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের জনাব মান্নান 'বে ক্লথ স্টোর' এর স্বত্বাধিকারী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন। উক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি তার প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের তথ্যাবলি প্রকাশ করে ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিজ্ঞাপনের ফলে জনাব মান্নানের প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জিত হয়।
জনাব মান্নান কর্তৃক আদর্শ বিক্রয়কর্মী হিসেবে রুমাকে নিয়োগ প্রদানের পদক্ষেপের ফলে লক্ষ্যার্জন আরও সহজ হয়। তাই বলা যায়, জনাব মান্নানের গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে বিজ্ঞাপন ও বিক্রয়কর্মী নিয়োগ যথার্থ হয়েছে।
সমাজে জনগণের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদা মিটানোর জন্য একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয় ও চলমান থাকে। ব্যবসায় সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজকে ঘিরেই এর কার্যক্রম। সমাজে বসবাসকারী জনগণের বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য এবং অন্যান্য পণ্য বা সেবার চাহিদা নিরূপণ করে তা প্রস্তুত বা সংগ্রহ করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া ব্যবসার প্রধান কাজগুলোর অন্যতম। তাই বলা যায়, ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা ও সহযোগিতার উপর ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে। তাই একজন ব্যবসায়ীকে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হয়। তাছাড়া একজন ব্যবসায়ীকে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে হয় এবং পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজতর করতে হয়।
উদ্দীপকের মি. আফজল একজন আমদানিকারক। তিনি তার আমদানিকৃত পণ্য পরিমিত মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখেন। ফলে সহজে মানসম্মত পণ্য ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যায়। আর এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যবসায়ে নৈতিকতা বলতে একজন ব্যবসায়ীর সততা, ন্যায়নীতি, আইন-কানুন ইত্যাদি মেনে চলাকে বোঝায়। আর ব্যবসায়ের পরিচালনাগত বিষয়ে ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মতামত প্রভৃতিকে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ বলে।
উদ্দীপকের সততা ট্রেডিং-এর কর্ণধার মি. আফজল নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। ফলে ক্রেতা ও ভোক্তা, সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যবসায়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তা উপকৃত হয়। তাই আমি মি. আফজলকে সমর্থন করি।
পক্ষান্তরে আলফা ট্রেডিং এর কর্ণধার জনাব শফিক পণ্য মজুদ করেন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। তার অতি মুনাফার কারণে ক্রেতা ও ভোক্তা কষ্ট পায়। তাই তার উচিত নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করা। অন্যথায় তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং তিনি একসময় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আমি মনে করি।
মানুষের জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত শিল্প হলো সেবা শিল্প।
যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে যে সকল সেবামূলক কর্ম সম্পাদিত হয় তাকে সেবা শিল্প বলে। মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটোমোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ফুলচাষ ও ফুল বাজারজাতকরণ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহণ ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের উদাহরণ।
উদ্দীপকের জনাব সরওয়ারের প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
পণ্যসামগ্রী তৈরি বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত শিল্পই হলো উৎপাদনমুখী শিল্প। এ ধরনের মাঝারি শিল্পে মূলধনের পরিমাণ ১৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা হয়। আবার, এ শিল্পে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব সরওয়ারের ইপিজেড-এ একটি তৈরি পোশাকের কারখানা রয়েছে। সেখানে সুতা, কাপড়, রং প্রক্রিয়াজাত করে পোশাক তৈরি করা হয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনমুখী শিল্প। এটি প্রতিষ্ঠায় তিনি ১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। আর তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা ১৫০ জন। মূলধন ও শ্রমিকের সংখ্যাগত এসব বৈশিষ্ট্য উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, জনাব সরওয়ারের প্রতিষ্ঠানটিকে উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প বলা হয়।
উন্নত কাঁচামাল, পর্যাপ্ত পুঁজি ও আধুনিক মেশিনারি জনাব সরওয়ারকে সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে সুবিধা দিবে বলে আমি মনে করি।
উন্নত কাঁচামাল পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করে থাকে। আর পর্যাপ্ত পুঁজি ব্যবসায়ের গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি বৃহদায়তন পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে ইপিজেড এ জনাব সরওয়ারের একটি পোশাক তৈরির কারখানা রয়েছে। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি একটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প। শুরুর দিকে ব্যবসায়টি স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদন করার পর বিদেশ থেকেও অর্ডার আসতে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়টিতে উন্নত কাঁচামাল, পর্যাপ্ত পুঁজি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে বৈদেশিক অর্ডারমাফিক পণ্য উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
জনাব সরওয়ারের ব্যবসায়টি সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রথমে দরকার উন্নত কাঁচামাল। এটির মাধ্যমে তিনি তাদের পণ্যের মান উন্নয়ন করে বৈদেশিক অর্ডার সরবরাহ করেন। আর এ কাঁচামাল সংগ্রহে তার পর্যাপ্ত পুঁজি দরকার। এছাড়া পুঁজির মাধ্যমে তিনি আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থাও করতে পারবেন। এ যন্ত্রপাতি উন্নত কাঁচামালকে কম খরচে এবং কম সময়ে বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাতকরণে সাহায্য করবে। এভাবে উক্ত বিষয়সমূহ সঠিকভাবে নিশ্চিত করা গেলে জনাব সরওয়ার সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবেন।
সরকার নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে যে সময় পর্যন্ত করের আওতার বহির্ভূত থাকার সুযোগ দেয় ঐ সময়কালই কর অবকাশ।
কর অবকাশ হলো কর মওকুফ করা। সরকার অনেক সময় কোনো বিশেষ শিল্পের উন্নয়নের জন্য অথবা কোনো এলাকায় শিল্পায়ন করার জন্য উদ্যোক্তাদের অর্জিত মুনাফার ওপর সম্পূর্ণ বা নির্দিষ্ট হারে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কর মওকুফ করে। এ ব্যবস্থাকেই বলা হয় কর অবকাশ।
উদ্দীপকে ইফতি উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্রদান করে।
উদ্দীপনামূলক সহায়তা বলতে বিভিন্ন প্রকার অনুপ্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিতকরণ, শিল্প স্থাপনে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার, কারিগরি ও অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহ ও পরামর্শ দানকে বোঝায়। এ ধরনের সহায়তা একজন উদ্যোক্তাকে নতুন ব্যবসায় স্থাপনে আগ্রহী করে তোলে।
উদ্দীপকের আবদুর রহমান তার সঞ্চিত পুঁজি দিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে চান। এজন্য তার বন্ধু ইফতি তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে সহায়তা করে। ফলে তিনি তার প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবসায় স্থাপন করেন। এতে তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার যথাযথ ব্যবহার করতে পারবেন। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্দীপনামূলক সহায়তার সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইফতি উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্রদান করেন।
আবদুর রহমানের সফলতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কম নয়-উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। দ্রুত শিল্পায়নের লক্ষ্যে নতুন শিল্প প্রকল্প স্থাপন, চালু শিল্প প্রকল্পগুলোর আধুনিকীকরণ, যন্ত্রপাতি পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ, পরামর্শদান ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান কাজ।
উদ্দীপকের আবদুর রহমান তার সঞ্চিত পুঁজি দিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে চান। এক্ষেত্রে তার বন্ধু ইফতি তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে সহায়তা করেন। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেন। ফলে তিনি তার ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করেন। বৈশিষ্ট্যানুযায়ী এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি বিডিবিএল।
এটি আবদুর রহমানকে শিল্প স্থাপনে সহায়তা করে। এছাড়া এটি তার স্থাপিত শিল্পের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। ফলে জনাব আবদুর রহমান তার ব্যবসায় গঠনগত ও পরিচালনাগত সুবিধা ভোগ করে আবার প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আর্থিক পরামর্শমূলক সহায়তার কারণে দেশের আরও শিল্পের বিকাশ হচ্ছে। ফলে আবদুর রহমানের মতো অনেকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারছেন। অতএব আবদুর রহমানের সফলতায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কম নয় বলে আমি মনে করি।
পেশাজীবীদের কর্মকাণ্ডকে প্রত্যক্ষ সেবা নামে অভিহিত করা হয়।
এ ধরনের সেবায় ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রমুখ পেশাজীবীরা অন্তর্ভুক্ত। তারা অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকেন। এটি আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সেবা পেয়ে উপকৃত হন ও তাদের সমস্যার সমাধানও হয়।
রতনের ব্যবসায়টি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
এ শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে পণ্য উৎপাদন করা হয়। এক্ষেত্রে কাঁচামাল ও অর্ধপ্রস্তুতকৃত পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর তা থেকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকে রতন তার বেকারিতে রুটি, বিস্কুট, চানাচুর ইত্যাদি উৎপাদন করেন। পণ্যের চাহিদা বাড়ায় তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। এক্ষেত্রে রতন রুটি, বিস্কুট, চানাচুর উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ময়দা ব্যবহার করেন। এরপর তিনি যন্ত্রের সাহায্যে ময়দা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করেন। আর এগুলো বিক্রি করে তিনি মানুষের খাবারের চাহিদা মেটান। এভাবে ময়দা থেকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরি করা হয়। এসব বৈশিষ্ট্য উৎপাদন শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, রতনের ব্যবসায়টি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
রতন ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এতে মাথাপিছু ও জাতীয় আয় বাড়ে। এভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ঘটে।
উদ্দীপকে রতন একটি বেকারি পরিচালনা করেন। উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ায় তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। এতে তিনি আরো দশজন কর্মী নিয়োগ দেন। এক্ষেত্রে তিনি সচ্ছলতা অর্জনের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন।
রতন একটি উৎপাদনমুখী ব্যবসায়ের মালিক। তিনি ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ করেন। ব্যবসায় সম্প্রসারণের কারণে তিনি অধিকসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেন। এতে সমাজের বেকারত্বের হার কমছে। তাছাড়াও তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সরকারকে অধিক পরিমাণে কর দেয়। এর মাধ্যমে সরকারি আয় বাড়ছে। আর এসবকিছু দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, রতন ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
পণ্যের বণ্টনকারী শাখা হলো বাণিজ্য।
পণ্য উৎপাদনের পর তা ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজন হয়। এতে পণ্যসামগ্রী ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিপণনকারীকে বিভিন্ন বাধার (স্থানগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, তথ্যগত প্রভৃতি) সম্মুখীন হতে হয়। এসব বাধা দূর করে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই বাণিজ্যের কাজ। এজন্য বাণিজ্যকে পণ্যের বণ্টনকারী শাখাও বলা হয়।
জনাব হাশেমের শিল্পটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
উৎপাদন শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়। এতে পণ্যের নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয়। এভাবে তা মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব হাশেম নিজ গ্রামে উৎপাদিত উন্নতমানের টমেটো সংগ্রহ করেন। সংগৃহীত টমেটো থেকে তিনি সস তৈরি করেন। তিনি তৈরিকৃত সস দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করেন। এক্ষেত্রে তিনি টমেটোকে প্রক্রিয়াজাত করে সস তৈরি করেন। এ থেকে সস মানুষের খাওয়ার উপযোগী। আর প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে টমেটো সস তৈরি কাজটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত। তাই বলা যায়, জনাব হাশেমের শিল্পটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
জনাব হাশেমের সফলতায় প্রাকৃতিক পরিবেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা উৎপাদনের সমন্বয়ে গঠিত। মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। কোনো স্থানের উৎপাদিত ফসলের মান নির্ভর করে ঐ স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটির ধরনের ওপর।
উদ্দীপকে জনাব হাশেম নিজ গ্রামে উৎপাদিত উন্নতমানের টমেটো থেকে সস তৈরি করেন। তিনি তৈরিকৃত সস নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তিনি উৎপাদিত সস ভুটানে রপ্তানি করতে শুরু করেন।
প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে কোনো স্থানের মাটি উর্বর বা অনুর্বর হয়। উর্বর মাটিতে খুব সহজেই উন্নতজাতের ফসল উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে জনাব হাশেমের গ্রামের উন্নতজাতের টমেটো উৎপাদনও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে হয়েছে। আর এই উন্নতজাতের টমেটো থেকে উৎপন্ন সসের গুণগত মান ভালো হচ্ছে। এছাড়া জনাব হাশেম প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান নদীপথে পণ্য সরবরাহ করেন। এতে সঠিক সময়ে ও অল্প খরচে পণ্য সরবরাহ করা যায়। ফলে তিনি ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন। সুতরাং, জনাব হাশেমের ব্যবসায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় মূলত মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।
বিশেষ করে গ্রামের দুস্থ, শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। এটি উদ্যোগী মহিলাদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।
জনাব হারুন আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করেছেন।
আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজি ও ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করে। এর মাধ্যমে যে-কোনো ব্যক্তি সহজে তার বেকারত্ব দূর করতে পারে।
উদ্দীপকের জনাব হারুন স্থানীয় কলেজ থেকে বিএ পাশ করে চাকরিপ্রার্থী ছিলেন। কিন্তু চাকরিতে অনেক প্রতিযোগিতা দেখে তিনি চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন। এরপর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারপর নিজেদের জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফলমূল ও শাকসবজি চাষ করেন। এক্ষেত্রে তিনি নিজের দক্ষতা ও স্বল্প পুঁজি নিয়ে অল্পদিনেই ব্যাপক সাফল্য পান। অর্থাৎ, তিনি নিজেই নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
তাই বলা যায়, জনাব হারুনের কাজ আত্মকর্মসংস্থানমূলক।
"দেশকে এগিয়ে নিতে চাকরির বিকল্প ভাবনাটা জরুরি”- জনাব হারুনের উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
বর্তমানে বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্র খুবই কম। প্রতিবছর যে পরিমাণ জনসংখ্যা বাড়ছে সেই পরিমাণে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয় না। এক্ষেত্রে চাকরির বিকল্প হিসেবে আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব হারুন বিএ পাশ করে চাকরি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চাকরিপ্রার্থীর আধিক্য দেখে তিনি আশা ছেড়ে দেন। এরপর চাকরির বিকল্প হিসেবে জনাব হারুন নিজেই নিজের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। 'যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি নিজ জমিতে ফলমূল ও শাকসবজি চাষ শুরু করেন। নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অল্পদিনেই তিনি সফলতা লাভ করেন।
আমাদের দেশে চাহিদা অনুযায়ী চাকরি নেই। তাছাড়া চাকরিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও নেই। অন্যদিকে জনাব হারুন আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। তাছাড়া আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে জনাব হারুন তার আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন, যা চাকরির ক্ষেত্রে সীমিত। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আরও দশজন তাদের পরিবার চালাচ্ছে। জনাব হারুন নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছেন। এভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে। সুতরাং, দেশকে এগিয়ে নিতে চাকরির বিকল্প চিন্তা করা উচিত।
পূর্বনির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হলো পর্যায়িতকরণ।
সাধারণত ওজন, আকার ও গুণাগুণ অনুযায়ী পণ্য পর্যায়িতকরণ করা হয়। এর ফলে পণ্য বিক্রি করা সহজ হয়। এছাড়া পর্যায়িতকরণের কারণে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ক্রেতাদের কাছে বাড়ে এবং সহজে ক্রেতা সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
শিক্ষকদের দুপুরের নাশতা সরবরাহ করে আরিফা খাতুন বিজ্ঞাপনের 'নমুনা বিতরণ' মাধ্যমটি ব্যবহার করেছেন।
এধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিতরণ করা হয়। পণ্যটি ব্যবহার করে ক্রেতারা এর উপকরণ, মান ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারে। সাধারণত ওষুধ, পুস্তক ও প্রসাধনসামগ্রীর নমুনা বিতরণ করা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের আরিফা খাতুন তুরস্কে বেড়াতে যান। সেখানে তিনি 'বাকা লাভা' নামের একটি সুস্বাদু খাবার খান। তার এ খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তাই তিনি এটি তৈরির খুঁটিনাটি বিষয়ে জেনে নেন। এরপর ঢাকায় এসে বাণিজ্যিকভাবে 'বাকা লাভা' উৎপাদন শুরু করেন। একদিন তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুপুরের নাশতার জন্য পণ্যটি সরবরাহ করেন। এজন্য তিনি তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেন না। মূলত 'বাকা লাভা' পণ্যটির প্রচারের জন্যই তিনি এ কাজটি করেন। প্রচারের জন্য বিনামূল্যে 'বাকা লাভা' বিতরণ এক্ষেত্রে নমুনা বিতরণকেই নির্দেশ করে।
“আরিফা খাতুনের ব্যবসায়ে বিজ্ঞাপন অপরিহার্য”- উক্তিটি যথার্থ।
পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ক্রেতারা পণ্যের ধরন, মান, মূল্য, ব্যবহারবিধি প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। এতে পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায়। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, নমুনা বিতরণ প্রভৃতি বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম।
উদ্দীপকের আরিফা খাতুন তুরস্কে বেড়াতে গিয়ে 'বাকা লাভা' খান।এটি অত্যন্ত সুস্বাদু একটি খাবার। তিনি এটি তৈরির খুঁটিনাটি বিষয়ে জেনে নেন। এরপর দেশে ফিরে বাণিজ্যিকভাবে 'বাকা লাভা' তৈরি শুরু করেন। তিনি পত্র-পত্রিকা, রেডিও ও টেলিভিশনে এটির প্রচার করেন।এর পাশাপাশি শহরের কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুপুরের নাশতার জন্য 'বাকা লাভা' সরবরাহ করেন।
আরিফা খাতুনের 'বাকা লাভা' পণ্যটি বাংলাদেশে নতুন। এটি সম্পর্কে তিনি ভোক্তাদের জানাতে চান। এজন্য তিনি পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনের মতো বিজ্ঞাপনের মাধ্যম বেছে নিয়েছেন। এতে করে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ এ খাবারটির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠবে। ফলে আরিফা খাতুনের বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের 'বাকা লাভা' সরবরাহের কারণে পণ্যটির পরিচিতি বাড়বে। এ ধরনের নমুনা বিতরণের ফলে শিক্ষকরা পরবর্তীতে এটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করবে। সুতরাং, 'বাকা লাভা' পণ্যটি নতুন হওয়ায় এর পরিচিতিতে বিজ্ঞাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এটিএম সেবা ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকের ডা. রাফিদের ভাইয়ের সরবরাহকৃত উপাদানগুলো সেবা শিল্পকে নির্দেশ করে।
যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক ও সহজ করেছে তাকে সেবা শিল্প বলে। যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদি সেবা সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত। তাছাড়া দুগ্ধ পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানসমূহও এ ধরনের শিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে ডা. রাফিদ ও ডা. আনিকা স্বামী স্ত্রী। তারা সরকারি চাকরি না করে নিজের এলাকায় গরিব অসহায় মানুষদের চিকিৎসার লক্ষ্যে 'মমতা মেমোরিয়াল' নামক একটি হাসপাতাল গড়ে তোলেন। এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবার বাবদ নামমাত্র একটি মূল্য নেওয়া হয়। ডা. রাফিদের ভাই তার নিজের ফার্মের ডিম ও দুধ ঐ হাসপাতালে রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করেন, যা সেবা শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ডা. রাফিদের ভাইয়ের সরবরাহকৃত উপাদানগুলো সেবা শিল্পকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে "মমতা মেমোরিয়ালের" কার্যক্রম সামাজিক ব্যবসায়ের অন্তর্গত, যা ব্যবসায়ের জন্য খুবই প্রয়োজন।
যে ব্যবসায় গড়তে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ মূলধন দেন কিন্তু তার পেছনে মুনাফা অর্জন বা লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো উদ্দেশ্য থাকে না; বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যই থাকে মুখ্য, তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে। প্রচলিত ব্যবসায় ধারণার বিপক্ষে সামাজিক ব্যবসায় ধারণা সারা বিশ্বে একটা নতুন আলোড়ন সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছে।
উদ্দীপকের ডা. রাফিদ ও ডা. আনিকা স্বামী স্ত্রী। তারা সরকারি চাকরি না করে নিজের এলাকায় গরিব অসহায় মানুষদের চিকিৎসার লক্ষ্যে 'মমতা মেমোরিয়াল' নামক একটি হাসপাতাল গড়ে তোলেন। এই চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবার বাবদ নামমাত্র একটি মূল্য নেওয়া হয়। ডা. রাফিদের ভাই তার নিজের ফার্মের ডিম ও দুধ ঐ হাসপাতালে রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করেন।
উদ্দীপকের ব্যবসায়টি একটি সামাজিক ব্যবসায়, যা সমাজের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ এরূপ ব্যবসায়ের মাধ্যমে সমাজের মানুষ স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা পায়। এছাড়াও এমন ব্যবসায়ের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা হয় বিধায় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এরূপ ব্যবসায় থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো মুনাফা গ্রহণ করেন না; বরং ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফা দ্বারা প্রতিষ্ঠানের প্রসার ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়। ফলে দেশ ও সমাজের মানুষের উন্নয়ন হয়। তাই বলা যায়, মমতা মেমোরিয়ালের কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পের উন্নয়নে প্রধান বাধা হলো পরিবেশ দূষণ।
প্রকৃতিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। বিশেষত শিল্পের কালো ধোঁয়া একদিকে যেমন বায়ু দূষণ করছে অন্যদিকে এর বর্জ্য নদ-নদীতে মিশে পানি দূষণ করছে। এছাড়াও পলিথিনজাতীয় শিল্পদ্রব্য ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। আবার শিল্প স্থাপনের জন্য গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষিত করা হচ্ছে। এমনকি শিল্পকারখানার মেশিন ও জেনারেটরের বিকট শব্দে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হচ্ছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
জনাব জাহিদ ব্যবসায়ের শ্রমিক-কর্মচারী পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করছেন।
ব্যবসায়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা যে শ্রম দিয়ে থাকে তার বিপরীতে শ্রমিকদের প্রতি ব্যবসায়ীরা যে দায়-দায়িত্ব পালন করে তাকে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বলে। সমাজে বসবাসরত অন্যান্যদের চেয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে শ্রমিক-কর্মীদের সন্তুষ্ট ও কর্মচঞ্চল রাখতে ব্যবসায়ীদের উচিত তাদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করা, নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা, ভালো ব্যবহার করা, চাকরির নিরাপত্তা বিধান করা।
উদ্দীপকে জনাব জাহিদ একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করেন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জনাব জাহিদের এমন কার্যক্রম ব্যবসায়ের শ্রমিক-কর্মীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব জাহিদ ব্যবসায়ের শ্রমিক-কর্মচারী পক্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করছেন।
উদ্দীপকে জনাব রুমনের মধ্যে ব্যবসায় নৈতিকতার অভাব রয়েছে বিধায় তাকে আদর্শ ব্যবসায়ী হিসেবে মূল্যায়ন করা যায় না।
ব্যবসায়ে উচিত এবং ন্যায়-নীতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মাপে পণ্য-দ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। এ নৈতিকতার গুণেই একজন ব্যবসায়ী সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে জনাব জাহিদ একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করেন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের মালিক রুমন কম খরচে নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন ও বাজারে কম দামে বিক্রয় করেন। এতে জনাব জাহিদের ব্যবসায় ক্ষতি হতে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব রুমন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য যে কাজটি (অর্থাৎ নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ) করছে তা সমাজের মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমন নিম্নমানের পণ্য খেয়ে মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা সমাজের মানুষের কাছে কখনই কাম্য নয়। তাই, জনাব রুমনকে একজন আদর্শ ব্যবসায়ী হিসেবে মূল্যায়ন করা যায় না।
দুটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য বা সেবার কেনা-বেচা করাকে ব্যবসায় টু ব্যবসায় বলে। চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পণ্য বণ্টনের ক্ষেত্রে উৎপাদক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী- এ তিন পক্ষের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। আর তিনটি পক্ষই ব্যবসায়ী হিসেবে পরিগণিত হয়। এছাড়া বাণিজ্যের বিভিন্ন সহায়ক কার্যাবলি (পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিমা, বিজ্ঞাপন প্রভৃতি) সম্পাদনেও ব্যবসায়ীরা নিয়োজিত থাকে। এক্ষেত্রে বাণিজ্যের যাবতীয় কাজে একজন ব্যবসায়ী আরেকজন ব্যবসায়ীর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাণিজ্যকে ব্যবসায় টু ব্যবসায় বা Business to Business বলা হয়।
যে শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করা হয় তাকে উৎপাদন শিল্প বলে। সাধারণত কয়েকটি স্তরে এ শিল্পের কাজ সংঘটিত হয়। যেমন- চিনি শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, বস্ত্র শিল্প, প্রকৌশল শিল্প, আসবাবপত্র শিল্প প্রভৃতি।
উদ্দীপকের জনাব ফরিদ একটি ইটভাটার মালিক। তিনি যন্ত্র ব্যবহার করে মাটি প্রক্রিয়াজাত করে শ্রমিকের মাধ্যমে ইট তৈরি করেন। মূলত ইট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো মাটি যেটিকে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ইটে রূপান্তর করা হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব ফরিদের ইটভাটার ব্যবসা উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
আইনগত পরিবেশের বেশ কিছু উপাদান বাংলাদেশে আধুনিক ও যুগোপযোগী হলেও অনেকগুলো বেশ পুরাতন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব আইন তৈরি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব ফরিদ একটি ইটভাটার মালিক। তাঁর প্রস্তুতকৃত ইটের গুণগত মান ভালো থাকায় চাহিদা অনেক বেশি। তবে বর্ষার মৌসুমে পরিবেশ প্রতিকূল থাকার 'কারণে তিনি ব্যবসায়ের পাশাপাশি নতুন কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর পরিবেশবাদী ও ভোক্তা আইনে লোকজন আপত্তি জানান। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে এলাকার উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের অর্থ দিতে হয়। এজন্য কিছু শ্রমিক কাজের প্রতি অনীহা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ফলে তিনি ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।
উদ্দীপকের জনাব ফরিদ পরিবেশ আইন মেনে অনুমতি নিয়ে ব্যবসায় চালালে পরিবেশবাদীদের আপত্তি আইনত তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তাছাড়া তাকে ভোক্তা আইনের প্রতি ও লক্ষ্য রেখে ইটভাটা চালাতে হবে যাতে ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়। তাছাড়াও তাকে এলাকার উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের চাঁদাবাজি বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই বলা যায়, জনাব ফরিদ ব্যবসায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ের আইনগত পরিবেশের উপাদানটি বিবেচনায় আনা উচিত ছিল। যেটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
পণ্য নির্বাচনের পূর্বে বাজারে পণ্যটির চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে নিরূপণ করতে হয়। বাজার জরিপ ও অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে পণ্যের সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে পণ্য নির্বাচন করা গেলে ব্যবসায়ের সাফল্য ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে এটি আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোগ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠাকরণ, মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইত্যাদি।
উদ্দীপকের আরিফ দক্ষতা অর্জনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। উক্ত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেটি আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোগ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাই বলা যায়, আরিফ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
আত্মকর্মসংস্থান পেশায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো বয়সে স্বল্প পুঁজি ও নিজ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর স্বল্প পুঁজি আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা এনজিও কিংবা ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।
উদ্দীপকের আরিফ ও শরীফ দুই বন্ধু। আরিফ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। পক্ষান্তরে, শরীফের পুঁজি এবং প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে বেকার। তবে তিনি ইচ্ছা করলে প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত দক্ষতা ও স্বনির্ভর পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবিকা অর্জনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি। তাই আরিফের উচিত তার বন্ধু শরীফকে আত্মকর্মসংস্থানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তার ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করা।
মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটো মোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ফুলচাষ ও ফুল বাজারজাতকরণ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের অন্তর্গত।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে 'ক্ষুদ্র শিল্প' বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৩১-১২০ জন শ্রমিক কাজ করে।
উদ্দীপকের মি. আশিক ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সিরামিক ও চীনামাটির সামগ্রী তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে ৮০ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছে। মূলধন ও শ্রমিক সংখ্যা বিবেচনায় মি. আশিকের শিল্পটি হলো উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্প।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ শিল্পের সাথে জড়িত।
উদ্দীপকের মি. রফিক ২০ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি মিশ্র সার কারখানা স্থাপন করেন। উক্ত কারখানায় ২০০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। উক্ত শিল্পটির মূলধন ও কর্মীর সংখ্যা বিবেচনায় উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের আওতায় পড়ে। উক্ত শিল্পে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হওয়ায় তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটে।
মি. রফিকের শিল্পটিতে উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করবে। তাছাড়া এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ব্যক্তিগত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। তাই বলা যায়, উক্ত কারখানাটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।
বসবাস ও ব্যবসায়ের জন্য বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় বাধার সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষণ। কারণ বিভিন্ন শিল্পবর্জ্য পদার্থ পানিতে নিক্ষেপের ফলে তা পানি দূষিত করে। আবার যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে। অনেক সময় বসবাসের জন্য নির্বিচারে বন উজাড় করা হয়। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও এ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। আর এ দূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
একজন ব্যবসায়ী সমাজে বসবাসরত ক্রেতা ও ভোক্তাদের নিয়েই ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন। এজন্য ব্যবসায়ীকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি কতিপয় দায়বদ্ধতা পালন করতে হয়। পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, মানসম্মত পণ্য সরবরাহ, পণ্য প্রাপ্তি সহজতর করা ইত্যাদির মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব জামাল তার ডেইরি ফার্মে উৎপাদিত দুধ ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের মাঝে বিক্রি করেন। এছাড়া তিনি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করেন। তার এসব কাজের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনকে নিশ্চিত করছেন। তাই বলা যায়, জনাব জামাল তার ফার্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করছেন।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অভাবে কামালের ফার্মের বিক্রয় জামালের ফার্মের তুলনায় কমে যায়।
মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-বেঠিক, ভালো-মন্দের পার্থক্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক, মঙ্গলময় ও কল্যাণময় দিকের নির্দেশনা দেয়।
উদ্দীপকের জনাব কামাল তার ফার্মে উৎপাদিত, গরুর দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করেন। তিনি অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করেন। তার ফার্মে উৎপাদিত গরুর মাংস খেয়ে মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে জনাব কামাল ব্যবসায়ের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থি কাজ করেছেন; যা অত্যন্ত নেতিবাচক ও ঘৃণিত কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমাদের দেশের কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের জন্য অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হন। এতে ব্যবসায় এবং ভোক্তা উভয়ের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। কেননা কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন তাহলে তা কোনো একদিন প্রকাশ পাবেই। এতে ব্যবসায়টি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ততদিনে ভোক্তাগণের ব্যাপক স্বাস্থ্যহানি ঘটে। তাই একজন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। তেমনিভাবে উদ্দীপকের কামালের ক্ষেত্রেও তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা মেনে চলেনি। তাই তার ফার্মের বিক্রয় তুলনামূলক কমে যায়।
শহর ও গ্রামের মহিলাদের সৃজনশীলতার বিকাশ, আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মহিলা অধিদপ্তর নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুপালন, হস্তশিল্প, বাটিকের কাজ, বুনন শিল্প, সেলাই ইত্যাদি।
সমর্থনমূলক সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপন, পরিচালনা, সম্পদ ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিকরণ, পুঁজির সংস্থান, অবকাঠামোগত সহায়তা, কর অবকাশ, ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি সমর্থনমূলক সহায়তা হিসেবে গণ্য হয়।
উদ্দীপকের মিসেস ফাহমিদা গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। এ শিল্প স্থাপন করতে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হন। অতঃপর তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সহায়তা নেন। উদ্যোগ উন্নয়নে পুঁজির সংস্থান সমর্থনমূলক সহায়তার আওতাভুক্ত। তাই বলা যায়, মিসেস ফাহমিদা তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে সমর্থনমূলক সহায়তা পেয়েছেন।
মিসেস ফাহমিদার মতো 'উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডিবিএল এর ভূমিকা অপরিসীম।
বিডিবিএল এর পূর্ণরূপ হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড। এটি সরকারি ও বেসরকারি শিল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান করে।
উদ্দীপকের মিসেস ফাহমিদা একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি গাজীপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করেছেন। কারখানাটি স্থাপনে তিনি আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হন। পরবর্তীতে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ সহায়তা পান। নারী উদ্যোক্তা হওয়ায় তিনি সহজেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ঋণ সুবিধা পেয়েছেন। মূলত বিডিবিএল নারী উদ্যোক্তাদের এ ধরনের সহায়তা প্রদান করেন।
বিডিবিএল নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। এজন্য মিসেস ফাহমিদার মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। এ ঋণ পেয়ে নারীরা শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হয়। নারীরা উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত হয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় সমাজে তাদের সামাজিক অবস্থান দৃঢ় হয়। এভাবে বিডিবিএল মিসেস ফাহমিদার মতো নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গুদামজাতকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পণ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়। ফলে পণ্যসামগ্রীকে পরিমাণগত ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যায়। অর্থাৎ এক মৌসুমের ফসল অন্য মৌসুমেও ভোগ বা ব্যবহার করা যায়।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব আনিছুর রহমান পশুপালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু অপর্যাপ্ত পুঁজি এবং ব্যাংকিং সুবিধার অভাবে তিনি তার খামারটি ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি তার ব্যবসায়ের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় তা অর্থনৈতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব আনিসুর রহমানের খামার প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান বাধা তৈরি করেছে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নেই এমন কোনো কাজকে ব্যবসায় বলা যায় না। এছাড়াও ব্যবসায় একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলে।
উদ্দীপকে জনাব আনিছুর রহমান পশুপালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু অপর্যাপ্ত পুঁজি এবং ব্যাংকিং সুবিধার অভাবে তিনি তার খামারটি ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তিনি মনে করেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের সবগুলো উপাদানের উন্নয়ন করতে পারলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার হবে। যার ফলে সঞ্চয়, মূলধন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান ত্বরান্বিত হবে।
ব্যবসায় তথা শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও ব্যাপক সুযোগ ঘটে। এতে ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দক্ষ-অদক্ষ, বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমি মনে করি, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটো মোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ফুলচাষ ও ফুল বাজারজাতকরণ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের উদাহরণ।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। এ ধরনের ব্যবসায়ে মালিক একজন থাকে বিধায় তাকে ব্যবসায়ের সমস্ত মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়, ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। তবে ব্যবসায়ের সমস্ত লাভ তিনি একাই ভোগ করেন কিন্তু লোকসান হলে সমস্ত দায়ভার তাকে একাই নিতে হয়।
উদ্দীপকে আরিফ হোসেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সাভারে একটি স্পিনিং মিলে চাকরি করেন। সুতার বিষয়ে তার জ্ঞান অনেক ভালো। তাই তিনি তার এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নানা রং-বেরঙের সুতার ব্যবহার করে নিজ বাড়ির সদস্যদের সহায়তায় সুতার টুপি, ওয়ালম্যাট ও চাদর তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। তার এ ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, আরিফ হোসেনের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়।
যেকোনো ব্যবসায় স্থাপন বা সম্প্রসারণের জন্য অর্থের প্রয়োজন। এ অর্থ সংগ্রহের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট জামানতের বিনিময়ে ব্যাংক হতে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে ব্যাংক ঋণ বলে। ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন ব্যবসায় স্থাপন করা যায় অন্যদিকে ব্যবসায় সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও ব্যাংক ঋণকে কাজে লাগানো যায়।
উদ্দীপকের আরিফ হোসেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সাভারে একটি স্পিনিং মিলে চাকরি করেন। সুতার বিষয়ে তার জ্ঞান অনেক ভালো। তাই তিনি তার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নানা রং-বেরঙের সুতার ব্যবহার করে নিজ বাড়ির সদস্যদের সহায়তায় সুতার টুপি, ওয়ালম্যাট ও চাদর তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। উক্ত কারখানায় উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করে। তাই তিনি সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও শ্রমিক বৃদ্ধি করেন।
অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যদ্রব্যের ব্যবসায় করতে অর্থের প্রয়োজন। আবার ব্যবসায় সম্প্রসারণ করার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় এ অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা ঋণ করে সংগ্রহ' করতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়তা করে। তাই আমি মনে করি, ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে আরিফ হোসেন শিল্পোন্নয়ন করতে পারবে।
প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণে পণ্যের চাহিদাসহ বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। সাধারণত পণ্য বা সেবাসামগ্রীর চাহিদা প্রকল্প ধারণার জন্ম দেয়। পণ্যের ধারণা থেকেই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়। প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করার সময় উদ্যোক্তার নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি দিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
রাব্বী চৌধুরী ব্যবসায়ের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী তৈরি করেন।
যে বিবরণীতে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা হয় তাকে প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী বলে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য ব্যবসায় উদ্যোক্তার নগদান প্রবাহ বিবরণী প্রাক্কলন করা প্রয়োজন। এ বিবরণী দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
উদ্দীপকের রাব্বী চৌধুরী একটি অটোরাইস মিলের মালিক। তার ব্যবসায়ে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসে ও নগদ অর্থ ব্যয় হয় তার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য একটি বিবরণী তৈরি করেন। এসব তথ্য সংবলিত যে বিবরণী তৈরি করতে হয় তা প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, রাব্বী চৌধুরী ব্যবসায়ের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী তৈরি করেন।
জনাব রাব্বী চৌধুরী কর্তৃক ব্যবসায়ের সঠিক মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ের সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ বলতে ব্যবসায়ের এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন ব্যবসায়ের আয় ও ব্যয় সমান হয়। সমআয়-ব্যয় জানা থাকলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের আশায় পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মুনাফা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়। এজন্যই ব্যবসায়ে সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের রাব্বী চৌধুরী একটি অটোরাইস মিলের মালিক। তার ব্যবসায়ে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসে ও নগদ অর্থ ব্যয় হয় তার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য একটি বিবরণী তৈরি করেন। তিনি পণ্যের মোট উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের সমতা বিধান করেন। এ কারণে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের জন্য উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন। উপরিউক্ত কারণে তিনি অল্পদিনে তার ব্যবসায়ে উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হন এবং একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেন।
প্রতিষ্ঠানে বিশেষত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় ও মুনাফার সম্পর্ক নির্দেশ এবং এর মাধ্যমে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে সমআয় বিন্দু একটি অন্যতম নিয়ন্ত্রণ কৌশল। এ বিন্দুতে নির্দেশিত পরিমাণ অপেক্ষা বিক্রয় বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের লাভ হবে এবং কম হলে লোকসান হবে। তাই নিয়মিত সমআয় বিন্দু বিশ্লেষণ করে নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা সম্ভব হয়। তাই, জনাব রাব্বী চৌধুরী ব্যবসায়ের সঠিক মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ের সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ দিকটি তুলে ধরেন।
মান অনুযায়ী পণ্য বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করাকে পর্যায়িতকরণ বলা হয়।
ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত মান অনুসারে একজাতীয় পণ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা পর্যায়িতকরণের প্রধান কাজ। ওজন, আকার ও গুণাগুণ অনুযায়ী পর্যায়িতকরণ করা হয় বলে বিক্রয়ের কাজ সহজ হয়। এর ফলে গুদামজাতকরণ, পরিবহণ এবং মজুদ ব্যবস্থাপনার কাজও সহজতর হয়।
জনাব আজাদের কাজটি আত্মকর্মসংস্থানমূলক।
নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। এর মাধ্যমে নিজেই নিজের কাজের ব্যবস্থা করা যায়। নিজস্ব মেধা কাজে লাগিয়ে স্বল্প পুঁজি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এ কাজে নিয়োজিত হওয়া যায়। এটি একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা।
উদ্দীপকের আরমান চৌধুরী বি.কম পাস করে চাকরি না পেয়ে গ্রামে ফিরে যান। সেখানে তিনি তার বাবার পতিত জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সহযোগিতা নেন। এরপর তিনি তার স্বল্প পুঁজি, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সবজি চাষ শুরু করেন। এভাবে তিনি মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে নিজেই নিজের আয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এসব বৈশিষ্ট্য আত্মকর্মসংস্থানের সাথে সংগতিপূর্ণ। সুতরাং, আরমান চৌধুরীর কাজটি আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ। এক্ষেত্রে তাকে কারও অধীনে কাজ করতে হয় না। তিনি নিজের কাজের ব্যবস্থা নিজেই করেছেন। আর তিনি নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে খামার থেকে আয় করছেন। এসব বৈশিষ্ট্য আত্মকর্মসংস্থানের সাথে সম্পর্কিত। তাই, জনাব আরমানের কাজকে আত্মকর্মসংস্থান বলা যায়।
উদ্দীপকের আলোকে জনাব আরমান একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা বলে মনে করি।
উদ্যোক্তাসুলভ গুণাবলি একজন ব্যক্তিকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তার উদ্যম, সাহস, ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্যোক্তা সফল হওয়ার জন্য তার বিশেষ গুণাবলি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন।
উদ্দীপকের আরমান চৌধুরী বি.কম পাস করার পর চাকরি না পেয়ে তার বাবার জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাহায্য নিলেও সবজি চাষে ভালো করতে পারেননি। কিন্তু তিনি দমে না গিয়ে সাহসিকতার সাথে সামনে এগিয়ে যান। তিনি প্রচুর পরিশ্রম ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হন।
আরমান চৌধুরীর গুণাবলি তাকে তার এলাকার সফল কৃষি উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করেছে। তিনি তার সবজি ফলনের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। তিনি কখনো সাহস ও ধৈর্যহারা হননি। এছাড়া তিনি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, যা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। তিনি ব্যর্থ হয়েও দমে না গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার নতুন করে সবজি চাষ শুরু করেছেন। এভাবে তিনি লাভবান হয়েছেন এবং তার এলাকায় তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তার পদক লাভ করেছেন। তাই আমার মতে, জনাব আরমান চৌধুরী একজন সফল উদ্যোক্তা।
বিমা ব্যবসায়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে জীবন বিমা।
যে বিমাচুক্তির মাধ্যমে বিমাকারী বিমা কিস্তির বিনিময়ে বিমাগ্রহণকারী ব্যক্তি বা তার নির্বাচিত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে একটি বিশেষ সময়ের পরে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে বিমাকৃত অর্থ প্রদান করে থাকে সেই বিমা চুক্তিকেই জীবন বিমা বলে। এ বিমার বিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষের জীবন। যেহেতু মানুষের জীবনের ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, তাই জীবন বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় না।
উদ্দীপকের জনাব জাকির কর্তৃক খাবার স্যালাইন আবিষ্কারটি হলো মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত পেটেন্ট।
পেটেন্ট হলো এক ধরনের মেধাসম্পদ। আবিষ্কৃত জিনিসের ওপর সরকার কর্তৃক একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার দেওয়াই হলো পেটেন্ট। পেটেন্টের মাধ্যমে আবিষ্কারের জন্য আবিষ্কারককে তার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবিষ্কারককে তার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা প্রদান করা হয়। এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময়ের অন্য কেউ এটি তৈরি, ব্যবহার ও বিক্রয় করতে পারবে না। এর ফলে উদ্ভাবক বা আবিষ্কারকের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব জাকির পেশায় একজন চিকিৎসক। সম্প্রতি তিনি নতুন এক ধরনের খাবার স্যালাইন আবিষ্কার করেছেন, যা সহজেই পানিতে দ্রবণীয় ও দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে। দেশে আগে এমন স্যালাইন আর কেউ আবিষ্কার করেনি। তাই আইনজীবী বন্ধুর সাহায্যে তিনি সরকারের কাছ থেকে তার আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার পান। স্বীকৃতি প্রাপ্তির ফলে এ স্যালাইনটি অন্য কেউ তৈরি, ব্যবহার এবং বিক্রয় করতে পারবে না। এভাবে মূলত পেটেন্টের মাধ্যমেই আবিষ্কৃত জিনিসের ওপর একক মালিকানা পাওয়া যায়। সুতরাং, নতুন স্যালাইন তৈরির জন্য আশরাফুল জাকির স্বীকৃতি পেয়েছেন।
জনাব জাকির তার আবিষ্কারটির জন্য পেটেন্ট আইনের সহায়তা পাবেন।
নতুন আবিষ্কৃত পণ্যের ওপর আবিষ্কারক একক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের সাথে যে চুক্তি করেন তাকে পেটেন্ট বলে। পেটেন্টের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবিষ্কৃত পণ্যের একক মালিকানা আবিষ্কারককে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে অন্য কেউ এটি তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারে না। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী এটি নকল করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
উদ্দীপকের জনাব জাকির নতুন একধরনের খাবার স্যালাইন আবিষ্কার করেন যা সহজে পানিতে দ্রবণীয় ও দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে। এ কাজে তিনি সরকারের সহযোগিতা আশা করেন। যেন কেউ তার পণ্যের নকল বের করতে না পারে। এক্ষেত্রে বাবর সাহেব পেটেন্ট আইনের আওতায় তার পণ্যটি নিবন্ধন করলে আইনগত সুরক্ষা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে পণ্যের উদ্ভাবক হিসেবে তিনি তার কাজের আইনগত স্বীকৃতি পাবেন। ফলে অন্য কেউ এটি নকল বা বিক্রি করতে পারবে না। যদি কেউ তা করে তাহলে তিনি ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
তাই বলা যায়, জনাব জাকির তার আবিষ্কারকৃত পণ্যের পেটেন্ট আইনের আওতায় আইনি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।
অর্থের বিনিময়ে সরাসরি গ্রাহকদের সুবিধা বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে যে ব্যবসায় পরিচালিত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ সেবামূলক ব্যবসায় বলে।
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন। এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন ডাক্তারি ক্লিনিক, আইন চেম্বার, প্রকৌশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইতাদি। এ সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ মূলত তাদের গ্রাহকদের প্রত্যক্ষভাবে সেবা প্রদান করে অর্থ উপার্জন করে থাকে বলে এসকল ব্যবসায়কে প্রত্যক্ষ সেবামূলক ব্যবসায় বলা হয়।
জনাব আকরাম উৎপাদন শিল্পের সাথে জড়িত।
যে শিল্পে শ্রম ও যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করা হয় তাকে উৎপাদন শিল্প বলে। যেমন- বস্ত্র শিল্প, কারণ বস্ত্র শিল্পে তুলাকে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে কাপড় উৎপন্ন বা তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকের জনাব আকরাম বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে। সে কাঠকে প্রক্রিয়াজাত করে আসবাবপত্র তৈরি করে এবং এলাকার বিভিন্ন দোকানে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করেন। জনাব আকরামের এ কাজটি মূলত উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত। কেননা উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রেই কাঁচামালকে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত ভোগ্য পণ্য উৎপাদন করা হয়।
জনাব আকরাম ও তার সংগ্রহকৃত কাঠকে শ্রম ও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে চূড়ান্ত পণ্য অর্থাৎ কাঠের আসবাবপত্রে পরিণত করেন এবং তা স্বল্পমূল্যে বিক্রি করেন। তাই বলা যায়, জনাব আকরামের কাজটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত, অর্থাৎ উৎপাদন শিল্পের সাথে জড়িত।
ব্যবসায় সফল হতে চাইলে জনাব আকরামের ব্যবসায়ের অর্থগত বাধাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
অর্থ হলো ব্যবসায়ের প্রাণ বা জীবনীশক্তি। যে-কোনো ব্যবসায়কে সঠিক ও সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য অর্থের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অর্থের নিরবচ্ছিন্ন আগমন যেমন ব্যবসায়ের দ্রুত বিকাশ ও প্রসার ঘটায়, তেমনি পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে ব্যবসায় বন্ধও হয়ে যায়। তাই একজন ব্যবসায়ীকে সবসময় ব্যবসায়ের অর্থগত বাধাকে গুরুত্ব দিয়ে চলতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব আকরাম বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে আসবাবপত্র তৈরি করে এলাকার বিভিন্ন দোকানে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করেন। তার তৈরিকৃত আসবাবপত্রের চাহিদা থাকায় তিনি ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চান। কিন্তু পুঁজিগত কারণে সমস্যা হলেও সাফল্যের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এক্ষেত্রে জনাব আকরাম পুঁজিগত সমস্যা অর্থাৎ ব্যবসায়ের অর্থগত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি এ বাধা দূর করে সহজেই ব্যবসায়ের প্রসার ঘটাতে পারবেন। তবে এজন্য অবশ্যই তাকে ব্যবসায়ের অর্থগত বাধাকে দূরীকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ব্যবসায় শুরু এবং এর পরিধি বাড়ানোর জন্য মূলধন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা গেলে ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ানো সহজ হয়। ব্যবসায়ে প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব হলে ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ানো অসাধ্য হয়ে পড়ে, আবার অনেক সময় ব্যবসায় বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এজন্য একজন ব্যবসায়ীকে ব্যবসায়ে মূলধনের সংকট যেন না ঘটে অর্থাৎ ব্যবসায়ের অর্থগত বাধা যেন সহজেই নিরসন করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর ব্যবসায়ের অর্থগত বাধা দূরীকরণের উপায় হলো ব্যাংকিং। ব্যাংক ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করে থাকে। এ ঋণের অর্থ দ্বারা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ের কার্যক্রম সচল রাখতে পারে এবং ব্যবসায়ের পরিধিও বাড়াতে পারে। উদ্দীপকের জনাব আকরাম ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধির জন্য যে পুঁজিগত সমস্যার সম্মুখীন হন তা তিনি অনায়াসে যে-কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন এবং তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে এগিয়ে যেতে পারেন।
তাই বলা যায়, ব্যবসায়ে সফল হতে চাইলে জনাব আকরামের ব্যবসায়ের অর্থগত বাধাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এতে সহজেই তিনি সে-ই অর্থগত বাধাকে দ্রুত নিরসনে সক্ষম হবেন।
যেসব সামাজিক কিংবা আইনগত রীতিনীতি অনুসরণ করে ব্যবসায়ীকে তার ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় তাকে ব্যবসায় নৈতিকতা বলে।
ব্যবসায়িক নৈতিকতা বলতে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের মাঝে থেকে সততার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করাকে বোঝায়।ব্যবসায়িক নৈতিকতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার, আদর্শ, সততা, বিশ্বস্ততা, আইনগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করা যায়।
উদ্দীপকে পরিবেশদূষণ ফুটে উঠেছে। শিল্প উন্নয়নের সবচেয়ে বড়ো বাধা হচ্ছে পরিবেশদূষণ। শিল্প কারখানার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্য নির্গত তরল পদার্থ নদী-নালায় পড়ে প্রতিনিয়ত বায়ু ও পানি দূষিত করছে। ফলে বিষাক্ত পানি মাছসহ জলজ প্রাণী বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তাই প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে পয়ঃনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকা উচিত।
উদ্দীপকের আদনান নদীর পাশে একটি সার কারখানা স্থাপন করেন। কিন্তু কারখানার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্য যথাযথভাবে নিষ্কাশন না করে নদীতে ফেলেন। এতে নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে এবং ক্রমেই পানি ব্যবহারের অযোগ্য হচ্ছে। আদনানের কারখানার ধোঁয়া একদিকে যেমন বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। তেমনি তার কারখানার নির্গত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে নদীকে জলজ প্রাণীর বসবাস ও বংশবিস্তারের অনুপযোগী করে তুলছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এভাবে আদনানের স্থাপিত সার কারখানা পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ু ও পানিকে দূষিত করছে, যার ফলে মানুষও এর নেতিবাচক প্রভাবের ভুক্তভোগী হচ্ছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বায়ু ও পানি দূষণের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশদূষণকেই ইঙ্গিত করে।
"নৈতিকতার বিচারে আদনান একজন আদর্শ ব্যবসায়ী"- আমি এ বিষয়ে একমত।
নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি বিষয় বিচারের মাপকাঠি। এটি মানুষকে ভালো ও খারাপ দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে পথ চলতে সাহায্য করে। এটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রেখে সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের আদনান প্রথমে পরিবেশ দূষণের বিষয়ে সচেতন ছিলেন না। তাই তিনি তার কারখানার বর্জ্য কোনোরূপ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করেই নদীর পাশে একটি সার কারখানা স্থাপন করেন। ফলশ্রুতিতে তার কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য বায়ু ও নদীর পানির দূষণ ঘটাচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় পত্রিকায় উক্ত নদী দূষণের ওপর একটি প্রতিবেদন পড়ে তিনি বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। অর্থাৎ প্রথমদিকে তিনি ব্যবসায়ের নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন না থাকলেও পরবর্তীতে পত্রিকায় প্রচারিত প্রতিবেদন তার জ্ঞানচক্ষুর উন্মেষ ঘটায় এবং তিনি তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন। একজন আদর্শ ব্যবসায়ী সবসময় তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট থাকেন। তিনি সর্বদা নিজের মুনাফাকে প্রাধান্য না দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের আদনান তার শিল্প কারখানার বর্জ্যের কারণে পরিবেশের প্রভাব ও পরবর্তী সময়ে শিল্পের ওপর এবং কীরূপ প্রভাব পড়তে পারে তার ওপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে তার ব্যবসায় দ্বারা যে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন এবং পরবর্তীতে তার ভুলটি সংশোধনের ব্যবস্থা করেন। তার মধ্যে নৈতিকতার উপস্থিতি রয়েছে বিধায় সে পূর্বে করা তার ভুলকে বুঝতে পারে এবং ভুল সংশোধনে নিজের লাভকে প্রাধান্য না দিয়ে মানুষ, সমাজ ও পরিবেশকে প্রাধান্য দেন। যা একজন আদর্শ ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে।
তাই বলা যায়, নৈতিকতার বিচারে আদনান একজন আদর্শ ব্যবসায়ী।
দুটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য বা সেবার কেনাবেচা করা হলো 'ব্যবসায় টু ব্যবসায়'।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর সব কার্যাবলি বাণিজ্য সম্পাদন করে থাকে। বাণিজ্য এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে বলে বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিকে 'ব্যবসায় টু ব্যবসায়' বলে অভিহিত করা হয়।
জনাব তোহুরুলের ব্যবসায়ে সামাজিক পরিবেশের অবদান সর্বাধিক।
কোনো দেশের জনসংখ্যা, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি, দেশীয় ঐতিহ্য, রীতিনীতি, প্রথা প্রভৃতির সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে। এসব উপাদান মূলত মানুষের সৃষ্টি ও তাদের কাজের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়।
উদ্দীপকের তোহুরুল 'স্বদেশি পণ্য কিনে হন ধন্য' এর ওপর ভিত্তি করে "মডার্ন সিল্ক শাড়ির ব্যবসায়টি পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চল সিল্ক শাড়ির জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছে। তাই এ শাড়ি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য, এটি যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে জনপ্রিয়, জনাব তোহুরুল নিজের দেশের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই মূলত তার এই ব্যবসায়টি পরিচালনা করেন এবং ক্রেতাসাধারণকে নিজের দেশের পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। অর্থাৎ তার এই ব্যবসায় সামাজিক পরিবেশের উপাদানসমূহের উপস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। তাই বলা যায়, জনাব তোহুরুলের ব্যবসায়ে ব্যবসায়িক সামাজিক পরিবেশের অবদান সর্বাধিক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাড়িগুলো ঢাকায় বাজারজাতকরণের জন্য বাণিজ্যের পরিবহণ ও ব্যাংকিং এ উপাদানগুলো অবদান রাখবে।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। বাণিজ্যের এ ক্রয়-বিক্রয় কার্য যথার্থভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে অর্থগত, ঝুঁকিগত, স্থানগত, কালগত ও তথ্যগত বাধা বা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সকল বাধা দূরীকরণে বাণিজ্যের বিভিন্ন উপাদান যেমন- পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং-বিমা, বিপণন ও বিজ্ঞাপন ইত্যাদির সহযোগিতার প্রয়োজন।
উদ্দীপকের জনাব তোহুরুল গতানুগতিক ডিজাইন পরিহার করে শাড়ির গুণগতমান ও ডিজাইনে নতুনত্ব আনার জন্য যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ব্লক-বাটিকের ওপর কোর্স সমাপ্ত করেন। তিনি তার উৎপাদিত শাড়িগুলো ঢাকায় বাজারজাতকরণ করতে ইচ্ছুক। তবে এ কাজে তার পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। তার উৎপাদিত শাড়িগুলো ঢাকায় বাজারজাতকরণের জন্য তার ব্যবসায়ের স্থানগত ও অর্থগত বাধা দূর করার প্রয়োজন পড়বে। যার জন্য তিনি বাণিজ্যের উপাদান পরিবহণ ও ব্যাংকিং এর সহায়তা নিবেন।
পণ্যদ্রব্য কেবল উৎপাদন করলেই হয় না। উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছানের প্রয়োজন পড়ে। পণ্যের বণ্টন সংক্রান্ত এ কাজ করে বাণিজ্য। বাণিজ্যের পরিবহণ কাজের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য যে-কোনো স্থানে পৌঁছানো যায়। এতে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। যার মাধ্যমে অর্থসংক্রান্ত সকল বাধা দূর হয়। ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থগত উপযোগ সৃষ্টি করে। এগুলো বাণিজ্য শাখার কাজ। এই কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী মুনাফা অর্জন করে লাভবান হতে পারে। উদ্দীপকের তোহুরুলের প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত শাড়ি ঢাকায় বাজারজাতকরণে পরিবহণের প্রয়োজন হবে এবং এ কাজের যে অর্থের প্রয়োজন হবে তা সে ব্যাংকিং বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে অর্থ সংগ্রহ করে যোগান দিতে পারবে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত শাড়িগুলো ঢাকায় বাজারজাতকরণের জন্য বাণিজ্যের পরিবহণ ও ব্যাংকিং উপাদানগুলো অবদান রাখবে।