অধ্যায়-১: ব্যবসায় পরিচিতি

১. জনাব রাজিন ও সুরাইম দুই বন্ধু স্নাতক পাসের পর নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের গিফ্ট, জন্মদিনের কেক, রকমারি নাস্তার আইটেম তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করেন। অল্প দিনের মধ্যে তাদের তৈরি পণ্যগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ব্যবসায়টির আকার বৃদ্ধির জন্য অধিক পুঁজির প্রয়োজন দেখা দেয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
উত্তর অদৃশ্যমান কোনো পণ্য বা বস্তুকে দৃশ্যমাণ করার প্রক্রিয়াকে নিষ্কাশন শিল্প বলে।
উত্তর যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরন করে এবং এতে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা হয় তাকে শিল্প বলে।
শিল্প ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখা। প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদগুলো মানুষ সবসময় সরাসরি ভোগ বা ব্যবহার করতে পারে না। এক্ষেত্রে শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদগুলোর রূপ পরিবর্তন করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করে। তাই ব্যবসায়ের উৎপাদনসংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এসব কারণেই বলা হয়- শিল্প মানেই সৃষ্টি।
উত্তর ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মি. রাজিন ও সুরাইম পণ্য বিক্রয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকের জনাব রাজিন ও সুরাইম দুই বন্ধু স্নাতক পাসের পর নিজস্ব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের গিফট, জন্মদিনের কেক, রকমারি নাস্তার আইটেম তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। অনলাইনে বিক্রয় কার্যক্রম প্রযুক্তিগত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মি. ব্রাজিন ও সুরাইম পণ্য বিক্রয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
উত্তর মি. রাজিন ও সুরাইমের ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রভাব লক্ষণীয়।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব‍্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব রাজিন ও সুরাইম দুই বন্ধু স্নাতক পাসের পর নিজস্ব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের গিফট, জন্মদিনের কেক, রকমারি নাস্তার আইটেম তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। অল্প দিনের মধ্যে তাদের তৈরি পণ্যগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ব্যবসায়টির আকার বৃদ্ধির জন্য অধিক পুঁজির প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজনীয় এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা ঋণ করে সংগ্রহ করতে হয়। কেননা যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের দুই বন্ধুও তাই অর্থনৈতিক পরিবেশের মূলধন উপাদানের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেন। এতে তারা ব্যবসায়ে সফলকাম হবে বলে আমি মনে করি।
২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর উৎপাদনকারীর কাছ থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পণ্যসামগ্রী ক্রেতা বা ভোগকারীর নিকট পৌঁছাতে যে সমস্ত কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয় তার সমাহারকে বিপণন বলে।
উত্তর পণ্যের মান রক্ষা ও আকর্ষণীয় করার উপায়কে মোড়কিকরণ বলে।
পণ্যসামগ্রীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা এবং নষ্ট বা ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে কিছু দ্বারা আবৃত করাকে মোড়কিকরণ বলে। এর মাধ্যমে পণ্যের আকর্ষণীয়তা বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানের শিল্পজাত পণ্য যেমন- ফ্রিজ, টেলিভিশন, সাবান আবার কৃষিজাত পণ্য যেমন- পাস্তুরিত দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদির বিক্রয় ও ক্রেতাদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে মোড়কিকরণের ওপর। তাছাড়া পণ্যের খাদ্যমান সুরক্ষায় ও পণ্যের কালগত উপযোগ সৃষ্টিতেও মোড়কিকরণ ভূমিকা রাখে।
উত্তর কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রে (i) নং অর্থাৎ সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় বণ্টনপ্রণালি সুবিধাজনক।
কোনো ধরনের মধ্যস্থ ব্যবসায়ীর সাহায্য ছাড়াই উৎপাদনকারী সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রয় করলে তাকে সরাসরি বিপণন বলে। কিছু কিছু কৃষিজাত পণ্য যেমন- ধান, ফলমূল, সবজি আবার শিল্পজাত পণ্য যেমন- গুড়, চিনি ইত্যাদি সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় করা হয়।
উদ্দীপকে বিপণনের বণ্টনপ্রণালি তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে (i) নং বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তাকে দেখানো হয়েছে। উক্ত বণ্টনপ্রণালিটি বিপণনের সরাসরি বণ্টনপ্রণালির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এমন বণ্টনপ্রণালি অধিক সুবিধাজনক।
উত্তর শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের (ii) নং বণ্টনপ্রণালিটি অর্থাৎ প্রতিনিধি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয় বণ্টনপ্রণালিটি অধিক উপযোগী।
সে প্রক্রিয়ায় পণ্য বা সেবা উৎপাদনকারীদের নিকট থেকে প্রকৃত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীদের নিকট পৌঁছানো হয়, তাকে বণ্টনপ্রণালি বলে। অনেকগুলো বণ্টনপ্রণালির মধ্যে অন্যতম একটি বণ্টনপ্রণালি হলো প্রতিনিধি বা এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রয়।
উদ্দীপকে বিপণনের বৃষ্টনপ্রণালি তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে (i) নং বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তাকে দেখানো হয়েছে, যা বিপণনের সরাসরি বণ্টনপ্রণালির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে (ii) নং বণ্টনপ্রণালিতে উৎপাদনকারী, প্রতিনিধি, খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তাকে দেখানো হয়েছে, যা বিপণনের প্রতিনিধি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয় বণ্টনপ্রণালির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের চিত্র দুটির মধ্যে একটি হচ্ছে সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় বণ্টনপ্রণালি এবং অন্যটি হচ্ছে প্রতিনিধি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বিক্রয় বণ্টনপ্রণালি। উভয় প্রকার বণ্টনপ্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বণ্টন করা হয়। তবে শিল্পজাত পণ্য বণ্টনের ক্ষেত্রে (ii) নং বণ্টনপ্রণালি অধিক উপযোগী। কারণ এসব পণ্য সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রয় করা যায় না।
৩. জনাব লিটন 'রিতু ডাইং ও ওয়াশিং ফ্যাক্টরি'র' স্বত্বাধিকারী। তাঁর ফ্যাক্টরিতে সৃষ্ট বর্জ্য আশেপাশের নদী-নালা ও জলাশয়ে পড়ে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে। এলাকার সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবগত করেন। ফলশ্রুতিতে জনাব লিটন বর্জ্য পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাছাড়া এলাকার মানুষের খাবার পানির সংকট দূরীকরণে নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করলেন।
উত্তর সমাজের মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে তার বিপরীতে সমাজের মানুষের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়ের সৃষ্টি হয় তাকে ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে।
উত্তর "বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা” শিক্ষার্থীর আচরণের নৈতিকতার দিকটিকে নির্দেশ করে।
একজন শিক্ষার্থীর আচরণের মানদণ্ড হলো নৈতিকতা। নৈতিকতা মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে জড়িত। যেমন- একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠু পাঠ দান করা যা নৈতিকতার আওতাভুক্ত। অন্যদিকে, শিক্ষকের ন্যায় ছাত্র-ছাত্রীদেরও কিছু নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- যথাসময়ে স্কুলে যাওয়া, বিদ্যালয়ের নিয়মকানুন মেনে চলা এবং শিক্ষকের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলা।
উত্তর জনাব লিটনের প্রতিষ্ঠান পানি দূষণজনিত সমস্যার সৃষ্টি করছে।
পানিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পানির স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকে পানি দূষণ বলে। শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে পানিকে দূষিত করে। খনিজ পদার্থ, কারখানার বর্জ্য, সালফার, তামা, সীসা, নাইট্রেট, ফসফেট, মানুষের বর্জ্য ও ময়লা পানি নদী ও সমুদ্রের তলদেশ ভরাট প্রভৃতি কারণে পানি দূষিত হয়।
উদ্দীপকে জনাব লিটন 'রিতু ডাইং ও ওয়াশিং ফ্যাক্টরির' স্বত্বাধিকারী। তাঁর ফ্যাক্টরিতে সৃষ্ট বর্জ্য আশেপাশের নদী-নালা ও জলাশয়ে পড়ে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে। এর ফলে মারাত্মকভাবে পানি দূষণ হচ্ছে। অর্থাৎ জনাব লিটনের প্রতিষ্ঠান পানি দূষণজনিত সমস্যার সৃষ্টি করছে।
উত্তর জনাব লিটনের গৃহীত পদক্ষেপ সামাজিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।
সমাজের মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে তার বিপরীতে সমাজের মানুষের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়ের সৃষ্টি হয়, তাকে ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে। এমন দায়বদ্ধতা থেকেই একজন ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে। এর ফলে সমাজের সে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিগণিত হয়।
উদ্দীপকে জনাব লিটন 'রিতু ডাইং ও ওয়াশিং ফ্যাক্টরির' স্বত্বাধিকারী। তাঁর ফ্যাক্টরিতে সৃষ্ট বর্জ্য আশেপাশের নদী-নালা ও জলাশয়ে পড়ে মারাত্মক দূষণ সৃষ্টি করছে। এমতাবস্থায় এলাকার সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করে। ফলশ্রুতিতে জনাব লিটন বর্জ্য পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাছাড়া এলাকার মানুষের খাবার পানির সংকট দূরীকরণে নলকূল স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই সমাজের মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করেই ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় করতে হয়। নচেৎ ব্যবসায় করা যায় না। উদ্দীপকের জনাব লিটনও তাই সমাজের মানুষের কথা চিন্তা করে বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, পাশাপাশি এলাকার মানুষের খাবার পানির সংকট দূরীকরণে নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। এতে সমাজের মানুষ পানি দূষণ থেকে রক্ষা পাবে এবং আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি পান করতে পারবে।
৪. আনিকা ট্রেডার্স একটি ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পরিবেশের ওপর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে তিনি কাগজ, সুতা ও পাটের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ উৎপাদন শুরু করলেন। সচেতন মহলে এই ব্যাগের ব্যাপক চাহিদা দেখে ন্যায্যমূল্যে উৎপাদন সম্প্রসারণ করলেন। তাছাড়া সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা করে মুনাফার একটি অংশ অন্ধ কল্যাণ তহবিলে জমা দেন।
উত্তর কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, কোনটা উচিত কোনটা অনুচিত এ সংক্রান্ত মানুষের বোধ বা উপলব্ধিকেই মূল্যবোধ বলে।
উত্তর "ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন না করা" ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ করে।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। তাই ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী ও সেবা সরবরাহ করতে হয়, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে হয়, ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন থেকে বিরত থাকতে হয়, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং সংরক্ষণ করে সর্বোপরি ক্রেতাদের সর্বোচ্চ তৃপ্তি দানের চেষ্টা করতে হয়।
উত্তর আনিকা ট্রেডার্স পরিবেশের বিরূপ প্রভাবের কথা চিন্তা করে পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করেছিলেন।
যে পারিপার্শ্বিকতায় মানুষ বেঁচে থাকে ও জীবনধারণ করে তাকেই তার পরিবেশ বলে। পরিবেশের অনুকূল পরিস্থিতিতে ব্যবসায় বাণিজ্য উন্নত হয় এবং সমাজের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনধারণ করতে পারে। অন্যদিকে, পরিবেশের প্রতিকূল পরিস্থিেিত ব্যবসায়-বাণিজ্য অনুন্নত হয় এবং সমাজের মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিবেশ রক্ষার্থে সবার এগিয়ে আসা উচিত।
উদ্দীপকে আনিকা ট্রেডার্স একটি ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পরিবেশের ওপর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে কাগজ, সুতা ও পাটের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ উৎপাদন শুরু করলেন। এক্ষেত্রে ক্ষতিকর পলিথিন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। যার কারণে আনিকা ট্রেডার্স পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করে কাগজ, সুতা ও পাটের ব্যাগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।
উত্তর আনিকা ট্রেডার্সের কার্যক্রমে ক্রেতা ও ভোক্তা পক্ষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সমাজের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ে সমাজ ও সমাজের মানুষগুলো যে সহযোগিতা করে থাকে তার বিপরীতে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে।
উদ্দীপকে আনিকা ট্রেডার্স একটি ব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পরিবেশের ওপর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক চিন্তা করে কাগজ, সুতা ও পাটের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ উৎপাদন শুরু করলেন। সচেতন মহলে এই ব্যাগের ব্যাপক চাহিদা দেখে ন্যায্যমূল্যে উৎপাদন সম্প্রসারণ করলেন। তাছাড়া সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা চিন্তা করে মুনাফার একটি অংশ অন্ধ কল্যাণ তহবিলে জমা দেন।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই সমাজের মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করেই ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় করতে হয়। নচেৎ ব্যবসায় করা যায় না। উদ্দীপকের আনিক ট্রেডার্সও তাই সমাজের মানুষের কথা চিন্তা করে ন্যায্যমূল্যে ব্যাগ বিক্রয় করে এবং তাদের মুনাফা একটি অংশ দিয়ে অন্ধ কল্যাণ তহবিল গঠন করে। এতে দুটি পক্ষের প্রতি অর্থাৎ ক্রেতা ও ভোক্তা পক্ষ এবং সমাজ পক্ষের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালিত হবে।
৫. মি. নাঈম পড়ালেখা শেষ করে ঢাকার নবাবপুরে একটি কেমিক্যালের দোকান দেন। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার আমদানিকৃত কেমিক্যালের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ব্যবসায় পরিধি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ভাবছেন।
উত্তর গ্রাহকদের সরাসরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
উত্তর উৎপাদনের বাহন হলো শিল্প।
শিল্প হলো উৎপাদনের বাহন এবং ব্যবসায়ের উৎপাদনকারী শাখা। শিল্প একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সম্পদ বা সেবা প্রাথমিক অবস্থা থেকে চূড়ান্ত অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সম্পদের রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা শিল্পের কাজ। ব্যবসায়ের যাবতীয় পণ্য ও সেবাকর্ম শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। সম্পদের রূপ বা আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্প নতুন উপযোগ সৃষ্টি করে। তাই প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদ সংগ্রহ বা এর ব্যবহার করে বিক্রয়যোগ্য উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকেই শিল্প বলা হয়ে থাকে।
উত্তর মি. নাঈমের কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের বাণিজ্য শ্রেণির আওতাভুক্ত।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানোর যাবতীয় কার্যকে বাণিজ্য বলে। বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্যের স্বত্বগত, স্থানগত, সময়গত, অর্থগত, ঝুঁকিগত এবং তথ্যগত বাধা দূর হয়।
উদ্দীপকের মি. নাঈম পড়ালেখা শেষ করে ঢাকার নবাবপুরে একটি কেমিক্যালের দোকান দেন। এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার আমদানিকৃত কেমিক্যালের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ভাবছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, মি. নাঈম ক্রয়, বিক্রয়, অর্থসংস্থান প্রভৃতি কাজ সম্পাদন করছেন; যা ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার কার্যক্রমের অংশ।
উত্তর মি. নাঈমের ঋণ গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, মূলধন এবং অর্থ ও ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনা করাকে ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। অর্থনৈতিক পরিবেশ অনুকূল থাকলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসার ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের মি. নাঈম বিভিন্ন দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার আমদানিকৃত কেমিক্যালের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ব্যবসায় পরিধি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ভাবছেন। এরূপ ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিদ্যমান ব্যবসায় কার্যক্রমকে সম্প্রসারণ করতে পারবেন; যা তার ব্যবসায়িক সফলতাকে ত্বরান্বিত করবে।
ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদানগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার করতে পারলে ব্যবসায়ে উন্নয়ন করা সম্ভব। উদ্দীপকের মি. নাঈমের ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাড়তি মূলধনের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে উক্ত অর্থসংস্থানের কাজ করতে পারেন। এতে তার ব্যবসায়টি আরও গতিশীল হবে এবং অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হবে। সুতরাং বলা যায়, মি. নাঈমের ঋণ গ্রহণের চিন্তা-ভাবনা তার ব্যবসায়ের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৬. পঞ্চগড় জেলার প্রবাস ফেরত মি. আজম একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থাপন করার চিন্তা-ভাবনা করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরি ও উৎপাদিত ফল বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করার চিন্তাও করেন। তাই তিনি ফলের উৎপাদন খরচ কত হবে, পণ্যের দাম কত হবে, মুনাফা কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবসায়ের লাভজনকতা যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন যে, 'প্রকল্প ধারণা প্রকল্প প্রণয়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।'
উত্তর যে বিবরণীতে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা হয় তাকে প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী বলা হয়।
উত্তর সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ ব্যবসায়ের এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন আয়-ব্যয় সমান হয়।
সমআয়-ব্যয় ব্যবসায়ের এমন একরকম পর্যায় যখন লাভও হয় না, ক্ষতিও হয় না। যে পরিমাণ পণ্য বিক্রয় করলে মোট বিক্রয়মূল্য, 'মোট ব্যয়ের সমপরিমাণ হয় তাকে সমআয়-ব্যয় বলা হয়। যে বিন্দুতে পণ্য বিক্রয় করলে আয়-ব্যয় সমান হয় তাকে সমআয়-ব্যয় বিন্দু (Break Even Point) বলে। সমআয়-ব্যয় বিন্দু জানা থাকলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের আশায় পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মুনাফা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়।
উত্তর মি. আজিম তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের যথার্থতা যাচাই করার ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর অন্তর্গত বাণিজ্যিক দিক মূল্যায়ন করেছেন।
মাইক্রোস্ক্রিনিং হলো বাজার চাহিদা, কারিগরি, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া। প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উক্ত প্রকল্পের বাণিজ্যিক লাভজনকতা নির্ধারণ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের উপাদান, বিক্রয়মূল্য, আনুমানিক লাভ ইত্যাদি বিষয় খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হয়।
উদ্দীপকে পঞ্চগড় জেলার প্ররাস ফেরত মি. আজম একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থাপন করার চিন্তা-ভাবনা করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরি ও উৎপাদিত ফল বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করার চিন্তাও করেন। তাই তিনি ফলের উৎপাদন খরচ কত হবে, পণ্যের দাম কত হবে, মুনাফা কেমন হবে প্রভৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবসায়ের লাভজনকতা যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, মি. আজম তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের যথার্থতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক দিক মূল্যায়ন করছেন; যা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই পদ্ধতি মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর অন্তর্গত।
উত্তর 'প্রকল্প ধারণা প্রকল্প প্রণয়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ'- উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
ব্যবসায়ের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক প্রকল্প নির্বাচনের ওপর। প্রকল্প হচ্ছে কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্ম পদ্ধতি। প্রকল্প একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিসমাপ্ত হয়। একটি প্রকল্প হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অথবা পুরাতন ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ। ব্যবসায় প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হলো ধারণা চিহ্নিতকরণ এবং ধারণাগুলো মূল্যায়ন করে একটিকে নির্বাচন করা।
উদ্দীপকের মি. আজম একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায় স্থাপন করার চিন্তা-ভাবনা করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরি ও উৎপাদিত ফল বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করার চিন্তাও করেন। তিনি মনে করেন, 'প্রকল্প ধারণা প্রকল্প প্রণয়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ' পদক্ষেপ।' উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিতে তার উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার প্রকল্প চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয় তার প্রকল্প ধারণা অনুভব করার সময় থেকেই। তিনি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কোনো পণ্য বা সেবার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। এই চাহিদার ওপর প্রকল্প নির্বাচন নির্ভর করে। সাধারণত পণ্য বা সেবাসামগ্রীর চাহিদা প্রকল্প ধারণার জন্ম দেয়। পণ্যের ধারণা থেকেই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়। প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করার সময় উদ্যোক্তার নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি দিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। এসব বিষয় উদ্দীপকের মি. আজমের দৃষ্টিকোণ এবং কার্যক্রমে পরিলক্ষিত হয়েছে।
৭. দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েকজনের একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র রয়েছে। যারা বেশি পরিমাণে পণ্য মজুদ রেখে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং ভোক্তারা বিপাকে পড়ে যায়। অপরদিকে জনাব মোহন গাজীপুরে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। এই ইটভাটা থেকে সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
উত্তর ব্যবসায়ে নৈতিকতা বলতে একজন ব্যবসায়ীর সততা, ন্যায়-নীতি, আইন-কানুন ইত্যাদি মেনে চলাকে বোঝায়।
উত্তর ব্যবসায়ের পরিচালনাগত বিষয়ে ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মতামত প্রভৃতিকে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ বলে।
ব্যবসায়িক মূল্যবোধে সমাজ ও পরিবেশ উপযোগী পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সততা ও ন্যায়ের সাথে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে ব্যবসায়ীকে ন্যায়, অন্যায়, সত্য-অসত্য প্রভৃতি বিষয় মেনে ব্যবসায় করতে হয়। আর মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজের মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। সুষ্ঠু সমৃদ্ধিশালী ও স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গঠনে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তর উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীরা সমাজের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
একজন ব্যবসায়ী সমাজের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে যেসব দায়িত্ব পালন করেন, তাকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বলে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন জনহিতকর কাজ করা, পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকাকে রক্ষা করা এবং পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েকজনের একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র রয়েছে। যারা বেশি পরিমাণে পণ্য মজুদ রেখে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি: পায় এবং ভোক্তারা বিপাকে পড়ে যায়। এখানে দেখা যাচ্ছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের মজুতদারি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে; যা একজন ব্যবসায়ীর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এরূপ পরিস্থিতিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উত্তর

জনাব মোহনের ইটভাটাটি আমাদের পরিবেশের বায়ুদূষণের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যত্রতত্র ময়লা নিক্ষেপ, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া প্রভৃতি বাতাসে মিশে গিয়ে যে দূষণ সৃষ্টি করছে, তাকে বায়ুদূষণ বলে। বায়ুদূষণের প্রভাবে মানুষ এবং জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়।

উদ্দীপকের জনাব মোহন গাজীপুরে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। এই ইটভাটা থেকে সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া বাতাসের সাথে মিশে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে। এতে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণিকুলের নিশ্বাসের সাথে ক্ষতিকর পদার্থ দেহের ভেতরে প্রবেশ করছে; যা নানাবিধ রোগজীবাণু সৃষ্টি করছে।

ইটভাটার কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে গিয়ে বাতাসকে দূষিত করছে। বাতাসের মাধ্যমে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী অক্সিজেন গ্রহণ করে। কিন্তু এই বাতাসে যদি ক্ষতিকর পদার্থ মিশ্রিত হয় তাহলে তা জীবননাশের কারণ হতে পারে। তাই আমি মনে করি, উদ্দীপকে মোহনের ইটভাটাটি আমাদের পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।

৮. জনাব আরিফ একটি শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। শিশুখাদ্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণে সন্তোষজনক হওয়ায় সরকার কর্তৃক একটি সনদপত্র গ্রহণ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠান যাতে অদূর ভবিষ্যতে হুমকির সম্মুখীন না হয় সে জন্য তিনি লোকসান পূরণে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।
উত্তর যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে অনুমোদন নিতে হয় তাকে লাইসেন্স বলে।
উত্তর "স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয়"- উক্তিটি সঠিক।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। এক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্যতাই মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন-ডিভাইস, ব্র্যান্ড, শিরোনাম, লেবেল, নাম, স্বাক্ষর, শব্দ ইত্যাদি।
উত্তর জনাব আরিফ বিএসটিআই (BSTI) এর মাধ্যমে পণ্যের মান যাচাই করেন।
বাংলাদেশে পণ্যমান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের নাম হলো BSTI বা Bangladesh Standards & Testing Institution। উক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
উদ্দীপকের জনাব অ্যরিফ একটি, শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। শিশুখাদ্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের মান নির্ধারণে সন্তোসজনক হওয়ায় সরকার কর্তৃক একটি সনদপত্র গ্রহণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জনাব আরিফ সরকারি মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই থেকে পণ্যের মান যাচাই করে সনদপত্র গ্রহণ করেছেন।
উত্তর উদ্দীপকের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি হলো বিমা কোম্পানি; ব্যবসায় ক্ষেত্রে এরূপ কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঘিরে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান তার বিপক্ষে আর্থিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বিমা বলে। বিমা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন- জীবন বিমা, নৌবিমা, অগ্নিবিমা, দুর্ঘটনা বিমা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ একটি শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তিনি মানসম্মত শিশুখাদ্য প্রস্তুতের বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠান যাতে অদূর ভবিষ্যতে হুমকির সম্মুখীন না হয় সেজন্য তিনি লোকসান পূরণের, লক্ষ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এ রূপ চুক্তিবদ্ধ হওয়া বিমা কোম্পানির সাথেই সম্ভব। কেননা, এখানে লোকসান পূরণের কথা বলা হয়েছে; যা বিমা কোম্পানির সাথে অগ্নি বিমা বা প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো বিমা করা যেতে পারে।
বিমাচুক্তির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বা লোকসান পূরণের জন্য বিমাগ্রহীতা এককালীন বা কিস্তিতে বিমাকারী প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম প্রদান করবেন। পরবর্তীতে ব্যবসায় বা পণ্যের কোনোরূপ ক্ষতি সংঘটিত হলে বিমাগ্রহীতা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পেলে একজন ব্যবসায়ী পুনরায় ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারেন। এতে, দেশের ব্যবসায় বাণিজ্য ও অর্থনীতির কল্যাণ সাধন হয়।
৯. নাটোরের একটি স্বনামধন্য জুস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক মি. জিসান সাহেব। বর্তমানে তার কারখানার মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ও শ্রমিক সংখ্যা ৬০ জন। কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
উত্তর স্বল্প মূলধন ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নিয়ে পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে যে শিল্প গড়ে ওঠে তাকে কুটিরশিল্প বলে।
উত্তর যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে যে সকল সেবামূলক কর্ম সম্পাদিত হয় সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান সেবামূলক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটো মোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের উদাহরণ।
উত্তর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রমিকসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মি. জিসান সাহেব তার বিদ্যমান ক্ষুদ্র শিল্পকে মাঝারি শিল্পে রূপান্তর করতে পারেন।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে 'ক্ষুদ্র শিল্প' বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩১-১২০ জন শ্রমিক কাজ করে। অপরদিকে, উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে 'মাঝারি শিল্প' বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৪ কোটি টাকার অধিক এবং ৫০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১-৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
উদ্দীপকের মি. জিসান সাহেব নাটোরের একটি স্বনামধন্য জুস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক। বর্তমানে তার কারখানার, মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ও শ্রমিকসংখ্যা ৬০ জন। কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এমতাবস্থায় তিনি বিদ্যমান ক্ষুদ্র শিল্প থেকে মাঝারি শিল্পে রূপান্তর করে উৎপাদন বৃদ্ধিজনিত সমস্যা সমাধান করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।
উত্তর 'দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে মি. জিসান সাহেবের শিল্পটির উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্প ভূমিকা অনেক'- উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অধিক উৎপাদন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের মি. জিসান সাহেব নাটোরের একটি স্বনামধন্য জুস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিক। বর্তমানে তার কারখানার মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা ও শ্রমিকসংখ্যা ৬০ জন। কারখানায় শ্রমিকসংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এখানে প্রথমদিকে তার প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে শ্রমিকসংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা মাঝারি শিল্পে রূপান্তর হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নানা দিক থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এমতাবস্থায় মি. জিসানের পরবর্তীতে উন্নীত ব্যবসায়টি হবে মাঝারি শিল্প। মাঝারি শিল্পে ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা মূলধন এবং ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন। এরূপ মূলধন এবং শ্রম বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও ভোগ-ব্যবহার বৃদ্ধি পায়; যা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে। পরিশেষে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মি. জিসান সাহেবের শিল্পটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
১০. বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে জনাব মুহিবুল সাভারে বিসিক শিল্প এলাকায় 'মুহিবুল লেদার' নামে একটি উন্নতমানের ও রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপন করেন। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন। তার কারখানায় চামড়ার তৈরি বিভিন্ন ব্যাগ, বেল্ট ও জুতা ভালো মানের হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় ২০০ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছে।
উত্তর পণ্যের ক্রয়বিক্রয় সহজতর করার জন্য ওজন, গুণাগুণ ও আকার অনুযায়ী পণ্যের মান নির্ধারণ করাকে প্রমিতকরণ বলা হয়।
উত্তর বিসিকের প্রধান কাজ হলো ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগে পরামর্শদান।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থা (বিসিক) দেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উন্নয়ন ও বিকাশে নিয়োজিত সরকারি খাতের প্রধান সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান। এ সংস্থার প্রধান কাজ হলো এ জাতীয় শিল্পখাতের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগে পরামর্শদান।
উত্তর জনাব মুহিবুলের সহায়তা দানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানটি হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর নাম বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।
সহায়তা দানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অন্যতম। এ ব্যাংক সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একত্রিত হয়ে ৩ জানুয়ারি ২০১০ সাল হতে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড নামে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ছাড়াও এ ব্যাংক সরকারি ও বেসরকারি শিল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে জনাব মুহিবুল সাভারে বিসিক শিল্প এলাকায় 'মুহিবুল লেদার' নামে একটি উন্নতমানের ও রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপন করেন। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড; যা উপরের আলোচনায় বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে।
উত্তর 'মুহিবুল লেদার' প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থনমূলক সহায়ক সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নতুন ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপনে একজন উদ্যোক্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়ক সেবার প্রয়োজন হয়। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে উদ্দীপনামূলক সহায়তা, সমর্থনমূলক সহায়তা এবং সংরক্ষণমূলক সহায়তা। এক্ষেত্রে সমর্থনমূলক সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপন, পরিচালনা, সম্পদ ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
উদ্দীপকের জনাব মুহিবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে সাভারে বিসিক শিল্প এলাকায় 'মুহিবুল লেদার' নামে একটি উন্নতমানের ও রপ্তানিমুখী কারখানা স্থাপন করেন। এজন্য তিনি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন। তার কারখানায় চামড়ার তৈরি বিভিন্ন ব্যাগ, বেল্ট ও জুতা ভালো মানের হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই কারখানায় ২০০ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছে। জনাব মুহিবুলের ব্যবসায়ের এমন পরিস্থিতিতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থনমূলক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একজন উদ্যোক্তাকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদানের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সমর্থনমূলক সহায়তা উদ্যোক্তাকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধীকরণ পুঁজির সংস্থান, অবকাঠামোগত সহায়তা, কর অবকাশ, ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি দিয়ে থাকে। এসব সহায়তার সুষ্ঠু প্রাপ্তি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উদ্দীপকের 'মুহিবুল লেদার' দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছি।
১১. মি. সুমন পড়ালেখা শেষ করে ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রীর দোকান দেন। তিনি চীন থেকে স্মার্ট ওয়াচ, ইলেকট্রিক চার্জার ফ্যান, হেড ফোন ইত্যাদি সামগ্রী আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। ফলে তিনি আরও একটি দোকান প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ নেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছেন।
উত্তর পণ্যের বণ্টনকারী শাখাকে বাণিজ্য বলে।
উত্তর চামড়া থেকে জুতা তৈরি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।
শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল ও অর্ধপ্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকেই উৎপাদন শিল্প বলে। তুলা থেকে কাপড় ও বস্ত্র উৎপাদন, গম থেকে আটা ও বিস্কুট তৈরি, খনি থেকে প্রাপ্ত, লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন এর সবই এই শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর মি. সুমনের কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার অন্তর্গত।
শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রকৃত ভোগকারী বা ব্যবহারকারীদের নিকট প্রেরণের ক্ষেত্রে সম্পাদিত কার্যসমষ্টিকে বাণিজ্য বলে। বাণিজ্য ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা এবং ব্যক্তিগত বা স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তরিত হয় বিধায় বাণিজ্যকে ব্যবসায়ের বণ্টনকারী শাখা বলা হয়।
উদ্দীপকের মি. সুমন পড়ালেখা শেষ করে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসামগ্রীর দোকান দেন। তিনি চীন থেকে স্মার্ট ওয়াচ, ইলেক্ট্রিক চার্জার ফ্যান, 'হেড ফোন ইত্যাদি সামগ্রী আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। মি. সুমনের উক্ত বিক্রয় কাজ ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. সুমনের কর্মকাণ্ড ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার অন্তর্গত।
উত্তর মি. সুমনের ঋণ নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে বলে আমি মনে করি।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের মি. সুমন পড়ালেখা শেষ করে ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসামগ্রীর দোকান দেন। তিনি চীন থেকে স্মার্ট ওয়াচ, ইলেক্ট্রিক চার্জার ফ্যান, হেড ফোন ইত্যাদি সামগ্রী আমদানি করে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের মান ভালো হওয়ায় বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মুনাফার পরিমাণও বাড়ে। ফলে তিনি আরও একটি দোকান প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় দোকান প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন।
অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায় গঠন বা পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজনীয় এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা ঋণ করে সংগ্রহ করতে হয়। কেননা যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের মি. সুমনও তাই অর্থনৈতিক পরিবেশের ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তার ব্যবসায়টি গঠন করতে পারবে, যা তার ব্যবসায়কে প্রভাবিত করবে বলে আমি মনে করি।
১২. জনাব মাজহারুল ইসলাম একটি কনফেকশনারির মালিক। তার দোকানের বছর শেষের আয়-ব্যয়ের তথ্য ছিল- পণ্য ক্রয় ৫০,০০০ টাকা; কর্মচারীর বেতন ৩০,০০০ টাকা; মেশিন ক্রয় ৭০,০০০ টাকা; বিদ্যুৎ খরচ ১০,০০০ টাকা; দোকান ভাড়া ১৫,০০০ টাকা; পণ্য বিক্রয় ১,০০,০০০ টাকা; আসবাবপত্র ক্রয় ৩০,০০০ টাকা ও অগ্রিম বেতন ৫,০০০ টাকা।
উত্তর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্ম পদ্ধতিকে প্রকল্প বলে।
উত্তর

যে বিন্দুতের পণ্য বিক্রয় করলে আয়-ব্যয় সমান হয় তাকে সমআয়-ব্যয় বিন্দু বলে।

সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ বলতে ব্যবসায়ের এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন ব্যবসায়ের আয় ও ব্যয় সমান হয়। সমআয়-ব্যয় জানা থাকলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের আশায় পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়ন, ও মুনাফা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়। এজন্যই ব্যবসায়ে সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

উত্তর জনাব মাজহারুল ইসলামের ব্যবসায়ের প্রাক্কলিত লাভ নিরূপণ করা হলো: উত্তরের ছবি
উত্তর বর্তমানে মাজহারুল ইসলামের ব্যবসায়ের অবস্থা সন্তোষজনক নয়।
নগদ প্রবাহ বিবরণী বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানা যায়। প্রাক্কলিত লাভের পরিমাণ কিংবা প্রাক্কলিত ক্ষতির পরিমাণ ব্যবসায়ের ধরন প্রভৃতির মাধ্যমে যেকোনো ব্যবসায়ের বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করা যায়।
উদ্দীপকে মাজহারুল, ইসলামের ব্যবসায়ে অর্জিত প্রাক্কলিত ক্ষতির পরিমাণ ৫,০০০ টাকা এবং প্রাক্কলিত ক্ষতির ব্যয়ের পরিমাণ ১,০৫,০০০ টাকা। সুতরাং ব্যয়ের উপর তার শতকরা হার $\left(\frac{৫,০০০}{৯৫,০০০} \times ১০০\right)$ = ৫.২৬% যা সন্তোষজনক নয়। জনাব মাজহারুল ইসলামের ব্যবসায়ে ক্ষতি হয়েছে, তাই তার ব্যবসায়ের অবস্থা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচনা করা যায়।
১৩. সুজন তার মা-বাবা, ভাই-বোনদের নিয়ে চার লক্ষ টাকা মূলধন খাটিয়ে বেতের ঝুড়ি, চেয়ার, দোলনা, চাটাই, কুলা ইত্যাদি তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করে। তাদের প্রস্তুতকৃত পণ্যের মান ভালো হওয়ায় তার সুনাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার বন্ধু রুমন বত্রিশ কোটি টাকা পুঁজি নিয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তার উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশও রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনশ জনের মতো শ্রমিক কাজ করে।
উত্তর জনশক্তি রপ্তানি সেবা শিল্পের অন্তর্গত।
উত্তর

কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে এমন শিল্পকে বলা হয় শ্রমঘন শিল্প।

যেসব শিল্পে শ্রমের আধিক্যতা বেশি সেগুলোই শ্রমঘন শিল্প। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বেশি সংখ্যক শ্রমিক ব্যবহারের প্রয়োজন বলে এটিকে শ্রমঘন শিল্প বলা হয়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে শ্রমঘন শিল্পের উপস্থিতি বেশি।

উত্তর

উদ্দীপকের সুজনের শিল্পটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত।

স্বল্প মূলধন ও নিজস্ব কারিগরি জ্ঞানের সাহায্যে পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে যে শিল্প গড়ে ওঠে তাকে কুটির শিল্প বলে।

কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫ এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়। তারা পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সময়ে উৎপাদন বা সেবা কাজে জড়িত থাকে।

উদ্দীপকে সুজন বেতের জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করেন। তিনি বেতের ঝুড়ি, চেয়ার, দোলনা, চাটাই, কুলা প্রভৃতি পণ্য তৈরি করেন। এ কাজে তিনি চার লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মাধ্যমে তার নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসবের সাথে কুটির শিল্পের মিল রয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকের সুজনের শিল্পটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে রুমনের মাঝারি শিল্পের অবদান রয়েছে বলে আমি মনে করি।

এসকল শিল্প পণ্যসামগ্রী তৈরি বা প্রক্রিয়াকরণের সাথে জড়িত। উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পে ১৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন হয়। আবার এ শিল্পে ১২১ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে।

উদ্দীপকে রুমন পাট ও পাটজাত পণ্য তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি ৩২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এছাড়া এটিতে ৩০০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বৈশিষ্ট্যানুযায়ী সুমনের শিল্পটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প। এটির মাধ্যমে বৃহদায়তন উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে। এ উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। এছাড়া কারখানাটিতে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। এসব বিষয় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এভাবে রুমনের শিল্পটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অসামান্য ভূমিকা রাখছে।

১৪. জনাব নয়ন ঢাকার সাভার এলাকায় একটি বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠানটিতে শাড়ি, গামছা, বেডশিট ইত্যাদি তৈরি হয়। শিল্পটিকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নেন। সংস্থাটি ব্যবসায় উদোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে। অপরদিকে বাবার মৃত্যুর কারণে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ফারুক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়। তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ও ১ বছর যাবৎ ব্যবসায়টি দেখাশুনা করছে, অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ঋণ না দিয়ে তাকে খালি হাতে নিরাশ করে।
উত্তর নতুন ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপন একটি সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজ।
উত্তর

একজন নারী যদি কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হন তাহলে তিনি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

কোনো নারী, অংশীদারি বা যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ৫১% শেয়ারের মালিক হলে, তাকে বলা হয় নারী উদ্যোক্তা। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নারী কোনো ব্যবসায় স্থাপন করলেই তাকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ধরা হয়। অংশগ্রহণে দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের জনাব নয়ন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (BDBL) হতে ঋণ সুবিধা পায়।

বিডিবিএল হলো সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। নতুন শিল্প প্রকল্প স্থাপন, চালু শিল্প প্রকল্পগুলোর আধুনিকীকরণ, শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ ও পরামর্শদান, কৃষিভিত্তিক শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা প্রভৃতি এর প্রধান কাজ। এছাড়া বিডিবিএল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার, উৎপাদন ও সেবা খাতকে অগ্রাধিকার, নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার এসব সহায়তাগুলো দিয়ে থাকে।

উদ্দীপকের নয়ন ঢাকার সাভার এলাকায় একটি বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠা করে। তার প্রতিষ্ঠানটিতে শাড়ি, গামছা, বেডশিট ইত্যাদি তৈরি হয়।তিনি তার শিল্পটিকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি সংস্থা হতে ঋণ নেন। সংস্থাটি ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সুবিধা দিয়ে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া সংস্থাটি উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। এ ধরনের সহায়তা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) দিয়ে থাকে। সুতরাং জনাব নয়ন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড হতে ঋণ সুবিধা পায়।

উত্তর

উদ্দীপকের ফারুকের ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা নেই বলে বাণিজ্যিক ব্যাংক তাকে ঋণ দেয়নি।

এ ধরনের ব্যাংক থেকে ব্যবসায়িক ঋণ নিতে চাইলে ঋণ প্রার্থীর ২ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাকে সুস্থ, শিক্ষিত এবং বয়স ১৮ থেকে ৬০-এর মধ্যে হতে হবে। ঋণ প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে ঋণ খেলাপি, দেউলিয়া, উন্মাদ কোনো ব্যক্তি ঋণের আবেদন করতে পারবে না এবং মহিলারা অগ্রাধিকার পাবে।

উদ্দীপকের ফারুক তার বাবার মৃত্যুর কারণে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়। তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর। এছাড়া সে ১ বছর যাবৎ তার ব্যবসায়টি দেখাশোনা করছে। তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে সে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এতে সে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাকে ঋণ প্রদান করেনি।

এ ধরনের ব্যাংক উদ্যোক্তাদের কিছু যোগ্যতা যাচাই করে ঋণ প্রদান করে থাকে। এক্ষেত্রে ফারুক বাংলাদেশের নাগরিক ও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ। কিন্তু সে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অন্য শর্তগুলো বয়স ও অভিজ্ঞতা পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। ফারুকের বয়স ১৮ বছরের কম। তাছাড়া তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ২ বছর পূর্ণ হয়নি। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক ফারুককে ঋণ সুবিধা প্রদান করেনি। তাই বলা যায়, ফারুককে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ঋণ না দেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।

১৫. জনাব মনির একজন ঠিকাদার। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক, বাঁধ, ব্রিজ, ভবন ফ্লাইওভার ইত্যাদি তৈরির কাজ করেন। তাঁর এই কাজে প্রতিদিন অনেক ধরনের মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। অনেক মাল মজুদ করে রাখতে হয়। প্রতিদিন কাঁচামাল ও বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়।
উত্তর যেসব প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ব্যবসায়িক সংগঠনের গঠন, কার্যাবলি, উন্নতি ও অবনতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায়িক পরিবেশ বলে।
উত্তর

স্বজনপ্রীতি ও চাঁদাবাজি ব্যবসায়িক পরিবেশের আইনগত উপাদান দ্বারা প্রতিরোধ করা যায়।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ হলো আইনগত পরিবেশ। বাণিজ্য ও শিল্প আইন, শ্রম আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতি প্রভৃতি আইনগত পরিবেশের উপাদান। ব্যবসায় পরিবেশের এ সকল আইনগত উপাদান দ্বারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব আইন তৈরি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।

উত্তর

জনাব মনিরের কাজকে নির্মাণ শিল্প বলা যায়।

যে শিল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, দালানকোঠা, জাহাজ প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়, তাকে নির্মাণ শিল্প বলে। এ শিল্পের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা কোনো স্থাপনা তৈরির প্রক্রিয়া করা হয়। এতে তৈরিকৃত স্থাপনা স্থায়ী প্রকৃতির ও অস্থানান্তরযোগ্য হয়ে থাকে।

উদ্দীপকের মনির একজন ঠিকাদার। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক, বাঁধ, ব্রিজ, ভবন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি তৈরির কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি স্থাপনাসংক্রান্ত কাজের সাথে জড়িত আছেন। এ কাজের মাধ্যমেই তিনি মুনাফা অর্জন করেন। এছাড়া তার এই কাজের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়ে থাকে এবং তার শিল্পে তৈরি এ সকল অবকাঠামো দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ব্যবহার করবে। আর এ সকল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নির্মাণ শিল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, জনাব মনিরের কাজটি নির্মাণ শিল্পের অন্তর্গত।

উত্তর

জনাব মনিরের ব্যবসায়ের কার্যক্রমে বাণিজ্যের উপাদান পরিবহণ, গুদামজাতকরণ ও ব্যাংকিং এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত একজন ব্যবসায়িকে বাণিজ্যের বিবিধ কাজ সম্পাদন করতে হয়। এই কাজগুলো যথার্থভাবে সম্পাদন করার জন্য বাণিজ্যের পণ্য বিনিময়, পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা-এ সকল উপাদানগুলোর সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে।

উদ্দীপকের জনাব মনির বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক, বাঁধ, ব্রিজ, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো তৈরির কাজ করে। এই কাজে তাকে প্রতিদিন অনেক ধরনের মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। অনেক মাল মজুদ করে রাখতে হয়। প্রতিদিন কাঁচা-মাল ও বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। অর্থাৎ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাকে বাণিজ্যের কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য বাণিজ্যের উপাদানগুলোর সাহায্য সহযোগিতা নিতে হয়।

জনাব মনিরের মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে স্থানগত বাধা দূর করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি বাণিজ্যের পরিবহণ উপাদানটিকে ব্যবহার করে মালামল একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর করেছেন। অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরির সময় যেন কাঁচামালের সংকট না হয় তাই তাকে গুদামজাতকরণের মাধ্যমে মাল মজুদ করে রাখতে হয়েছে। যার ফলে তার সময়গত বাধা দূর হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন কাঁচামাল ও বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য তার নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তার ব্যবসায়ের এই অর্থগত বাধা দূর করে। বাণিজ্যের উপাদান ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তিনি তার ব্যবসায়ে সৃষ্টি অর্থগত বাধা যে-কোনো সময় দূর করতে সক্ষম হবেন। জনাব মনিরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পাদন করতে গিয়ে তাকে যেসকল বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা তিনি বাণিজ্যের উপাদানগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে সমাধান করেন। তাই বলা যায়, জনাব মনিরের ব্যবসায়ের কার্যক্রমে বাণিজ্যের উপাদানসমূহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

১৬.

দৃশ্যপট-১: জনাব নাফিস কম্পিউটারের একটি নতুন গেম উদ্ভাবন করে অনেক টাকা উপার্জন করেন। পরবর্তীতে তার উদ্ভাবিত গেমস নকল করে সায়েম নামে এ ব্যক্তি বাজারে ছাড়া শুরু করে। তাই নাফিস ক্ষুব্দ হয়ে সায়েমের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনে মামলা করে। সায়েম সাজাপ্রাপ্ত হয়।

দৃশ্যপট-২: জনাব শাওন চালের কুঁড়া থেকে তেল তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার অনেক জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ভারতের একটি কোম্পানি তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য শাওনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।

উত্তর মনন ও মেধা দ্বারা সৃষ্ট কাজকে মেধাসম্পদ বলে।
উত্তর

বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।

যে চুক্তির মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বিষয় সম্পত্তিসম্পর্কিত কোনো ঘটনাজনিত ক্ষতি বা ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয় তাকে বিমাচুক্তি বলে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিমাকারী বিমা গ্রহীতাকে উদ্ভূত ক্ষতির বিপরীতে আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। তাই বিমাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।

উত্তর

দৃশ্যপট-২ এ ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের কথা বলা হয়েছে।

কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার এবং এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকারকে ফ্রানসাইজিং বলে। এ ধরনের ব্যবসায় উদাহরণ হলো ব্যান্ড বক্স কোম্পানি, পিজ্জাহাট, কেএফসি, ডইম্পি, কেটনাকি ইত্যাদি। ফ্রানসাইজিং ব্যবসার দুটি পক্ষ থাকে, ফ্রানসাইজর ও ফ্রানসাইজি।

দৃশ্যপট-২ এ জনাব শাওন চালের কুঁড়া থেকে তেল তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার অনেক জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ভারতের একটি কোম্পানি তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য শাওনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এক্ষেত্রে ভারতের কোম্পানিটি শাওনের চালের কুঁড়া থেকে তেল আবিষ্কারের পদ্ধতিটি শাওনের সম্মতিতে হুবহু অনুসরণের সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কোম্পানিটিকে শাওনের নির্ধারিত পণ্যের মান ও প্রক্রিয়া মেনে পণ্যটি উৎপাদন করতে হবে। আর এ সকল কার্যক্রম মূলত ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, দৃশ্যপট-২ ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের কথা বলা হয়েছে।

উত্তর

জনাব নাফিসের মেধাসম্পদটির ধরন হলো কপিরাইট।

সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও অন্যান্য শিল্পকলা সৃষ্টিকারীকে তার সৃষ্ট মেধাসম্পদ ব্যবহারের একচ্ছত্র যে আইনগত অধিকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রদান করা হয় তাকে কপিরাইট বলে। গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, কবিতা, সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, সংগীত, ভাস্কর্য, বিভিন্ন কম্পিউটার ভিত্তিক গেইম, সফটওয়‍্যার কপিরাইট দ্বারা সংরক্ষিত হয়।

দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, জনাব নাফিস কম্পিউটারের একটি নতুন গেম উদ্ভাবন করে অনেক টাকা উপার্জন করেন। পরবর্তীতে তার উদ্ভাবিত গেমস নকল করে সায়েম নামে এক ব্যক্তি বাজারে ছাড়ে। তাই নাফিস ক্ষুব্ধ হয়ে সায়েমের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনে মামলা করে। এতে সায়েম সাজাপ্রাপ্ত হয়। মূলত কপিরাইট নিবন্ধন থাকার ফলে নাফিস আইনের কাছে এই প্রতিকার পায়।

নাফিসের উদ্ভাবিত গেমটির কপিরাইট নিবন্ধন থাকায় এর একক স্বত্ব বা মালিকানা কেবল নাফিসের। তাই তার উদ্ভাবিত গেইমটি তিনি ছাড়া আর অন্য কোনো পক্ষ বাজারজাত করতে পারবে না। যদি তিনি তার উদ্ভাবিত গেইমটির কপিরাইট নিবন্ধন না করতো তাহলে অন্য পক্ষ অর্থাৎ সায়েম খুব সহজেই গেইমটি নকল করে লাভবান হতে পারতো। কিন্তু কপিরাইট নিবন্ধন করার ফলে তার গেইমটি আইনগত সুরক্ষা পায়। এক্ষেত্রে প্রকৃত উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক হিসেবে নাফিস যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে তিনি নকলকারীর অর্থাৎ সায়েমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যমান কপিরাইট আইন অনুযায়ী নকলকারী সায়েম গেইমটির বাজারজাত বন্ধ করতে বাধ্য হবে এবং আইনগত সাজা ভোগ করবে। অর্থাৎ নাফিসের করা এই কপিরাইট নিবন্ধনের কারণেই সায়েম সাজাপ্রাপ্ত হয়। তাই বলা যায়, জনাব নাফিজের করা মেধাসম্পদটি হলো কপিরাইট।

১৭. জনাব জাহিদ তার ডেইরি ফার্মে উৎপাদিত দুধ ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের মাঝে বিক্রি করেন। তিনি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করেন। অন্যদিকে, জনাব ফাহিম তার ফার্মে উৎপাদিত গরুর দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করেন। তিনি অস্বস্থ্যকর উপায়ে ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করেন। তার ফার্মে উৎপাদিত গরুর মাংস খেয়ে মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
উত্তর যে জ্ঞানবোধ এবং আচরণ সমাজে মূল্যবান ও অনুকরণীয় মনে করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।
উত্তর

পরিবেশ দূষণরোধে প্রতিটি কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রায় প্রতিটি কারখানা থেকে বর্জ্য বের হয়ে থাকে। যেমন- চামড়াজাত শিল্প, কাপড়ের রং ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই কারখানার বর্জ্য কোনো অবস্থায় প্রবাহমান নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ে ফেলা উচিত নয়, সেক্ষেত্রে কারখানার মালিক বা ব্যবসায়ীদের কারখানা প্রতিষ্ঠা এবং চালু অবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রতি কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

উত্তর

উদ্দীপকে জনাব জাহিদের ব্যবসায়টি ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করে।

ক্রেতা বা ভোক্তা হলো ব্যবসায়ের প্রাণ। তারা পণ্য কিনলেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে। তাই ব্যবসায়ীকে তার ক্রেতা ও ভোক্তার প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব যেমন- পণ্যের স্থিতিশীল বাজার, মানসম্মত পণ্য সরবরাহ, পণ্যসামগ্রী সহজে প্রাপ্তি প্রভৃতি পালন করতে হয়। এতে ব্যবসায়ের প্রতি ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা তৈরি হয়।

উদ্দীপকের জনাব জাহিদ তার ডেইরি ফার্মে উৎপাদিত দুধ ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের মাঝে বিক্রি করেন। তিনি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করেন। ন্যায্যমূল্যে দুধ বিক্রি করায় তা ক্রেতা ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং তারা সহজেই তা ভোগ করতে পারবে। অপরদিকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালনপালন করে বিক্রি করায় ক্রেতা ও ভোক্তারা মানসম্মত পণ্য পাচ্ছে। আর এ সকল বিষয় একজন ব্যবসায়ীর ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, জনাব জাহিদ ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করে থাকেন।

উত্তর

জনাব ফাহিমের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

যে জ্ঞানবোধ এবং আচরণ সমাজ মূল্যবান ও অনুকরণীয় মনে করে তাকেই মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধ মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ঠিক-বেঠিক, ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক, মঙ্গলময় ও কল্যাণময় দিকের নির্দেশনা দেয়।

উদ্দীপকের ফাহিম তার ফার্মে উৎপাদিত গরুর দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করেন। তিনি অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করে বাজারে বিক্রি করেন। তার ফার্মে উৎপাদিত গরুর মাংস খেয়ে মানুষ নানা বিধি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তার এ কাজটি ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবিবর্জিত একটি কাজ, যা সমাজ ও মানুষের ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

জনাব ফাহিম লোভের বশবর্তী হয়ে তার ব্যবসায়ে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় তিনি ক্রেতা ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য নিয়েও ঝুঁকি নেন। কিন্তু কোনো ব্যবসায়ী অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে দীর্ঘদিন ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারে না। কারণ ক্রেতা ও ভোক্তারা একটা সময় পর ব্যবসায়ীর অনৈতিকতা বুঝতে পেরে যায়। তাই এই ক্ষেত্রে মুনাফা সাময়িক সময়ের জন্য বেশি হলেও ব্যবসায়টি ক্ষণস্থায়ী বা স্বল্পমেয়াদি হয়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই ব্যবসায়ীকে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা মেনে চলতে হয়। মূল্যবোধ ও নৈতিকতা মেনে ব্যবসায় করলে ব্যবসায়টি ক্রেতা ও ভোক্তাদের বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয় এবং তারা ব্যবসায়টির স্থায়ী গ্রাহক, ক্রেতা ও ভোক্তায় পরিণত হয়। এতে বিক্রয় ও সুনাম বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, ফাহিমের ব্যবসায়টিকে দীর্ঘস্থায়ী ও সফল করার জন্য তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

১৮.

দৃশ্যপট-১ : খুলনার ব্যবসায়ী শাহীন ১০ প্রকারের চিংড়ি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তিনি চিংড়ি রপ্তানি করেন।

দৃশ্যপট-২: গাজীপুরের শিল্পপতি ইকরাম তাঁর নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত পোশাক বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে Signal-1 নামে শোরুম স্থাপন করেন। বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রত্যেকটি শোরুমে শিক্ষিত স্মার্ট, দক্ষ ও জেন্ডার সচেতন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন। এভাবে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি তাদেরকে স্থায়ী-ক্রেতার পরিণত করে।

উত্তর পণ্যদ্রব্য বা সেবাসামগ্রী উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সকল কাজকে বিপণন বলে।
উত্তর

পণ্য ও পণ্যের যাবতীয় দিক সম্পর্কে অবহিত করতে ক্রেতাকে বিভিন্ন রকম নমুনা প্রদান করা হয়।

নমুনা প্রদান বিজ্ঞাপনের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে ক্রেতাকে পণ্যের বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সাধারণত বিনামূল্যে ক্রেতাদের এটি প্রদান করা হয়। ঔষধ কোম্পানি, পুস্তক বিক্রেতা ও প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসায়ীরা সাধারণ বিজ্ঞাপনের এ মাধ্যমটি ব্যবহার করে তাদের পণ্যের প্রসার ঘটিয়ে থাকে।

উত্তর

শাহীনের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিপণনের পরিবহণ কাজটির প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পরিবহণ পণ্য বা সেবার স্থানগত উপযোগ ও চাহিদা সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে পণ্য একস্থান থেকে অন্যস্থানে পৌঁছানো হয়। এভাবে পণ্য উৎপাদনকারী থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছে।

দৃশ্যপট-১ এর শাহীন একজন চিংড়ি ব্যবসায়ী। তিনি খুলনায় ১০ প্রকারের চিংড়ি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করেন। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তিনি চিংড়ি রপ্তানি করেন। এক্ষেত্রে একস্থানে উৎপাদিত অর্থাৎ খুলনায় উৎপাদিত চিংড়ি দেশের বিভিন্ন স্থান ও ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে শাহীনকে স্থানগত বাধা অতিক্রম করতে হয়। আর এ স্থানগত বাধা দূর হয় বিপণনের কার্যাবলি পরিবহণের মাধ্যমে। তাই বলা যায়, শাহীন ব্যবসাযের ক্ষেত্রে বিপণনের পরিবহণ কাজটি সম্পাদন করেছেন।

উত্তর

ইকরামের ব্যবসায়ে বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য গৃহীত কৌশলটি হলো বিক্রয়িকতা।

বিক্রয়িকতা বলতে বিক্রয়কর্মীর ক্রেতা আকর্ষণ করার কৌশল বা দক্ষতাকে বোঝায় যার মাধ্যমে সে সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট পণ্য বা সেবাসামগ্রী বিক্রয় করতে সক্ষম হয়। বিক্রয়িকতার গুণে বিক্রেতা তার ব্যবসায় ও পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে তাদেরকে স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করে।

দৃশ্যপট-২ এ গাজীপুরের শিল্পপতি ইকরাম তার নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত পোশাক বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে Signal-1 নামে শো-রুম স্থাপন করেন। বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য তিনি প্রত্যেকটি শোরুমে শিক্ষিত, স্মার্ট, দক্ষ ও জেন্ডার সচেতন বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেন। এভাবে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি তাদেরকে স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত করে। বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক্ষেত্রে ইমরান বিক্রয়িকতার কৌশলটি গ্রহণ করেন। ইকরাম তার ব্যবসাযের বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আদর্শ বিক্রয়কর্মী নিয়োগ অর্থাৎ বিক্রয়িকতার ওপর গুরুত্ব দেন। কারণ একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মী বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিক্রয় প্রসার ও সফলতা অর্জনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ের সফলতা ও ব্যর্থতা একজন বিক্রয়কর্মী দ্বারা প্রভাবিত হয়। একজন শিক্ষিত বিক্রয়কর্মী তার জ্ঞানকে ব্যবসায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ব্যবসায়ের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। স্মার্ট ও দক্ষ বিক্রয়কর্মী ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ে আকৃষ্ট করতে পারে ও যে-কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। একজন জেন্ডার সচেতন বিক্রয়কর্মী তার দোকানের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবক-সকল ক্রেতা ও ভোক্তাকে সচেতনতার সাথে দোকানের পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। একজন বিক্রয় কর্মীর মধ্যে উপযুক্ত গুণ থাকলে তারা সহজেই ক্রেতা ও ভোক্তাদের আকৃষ্ট ও প্রভাবিত করে স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করতে পারে। আর এতে দোকানের বিক্রয় বৃদ্ধি পায় ও সুনাম অর্জিত হয়। তাই বলা যায়, ইকরামের ব্যবসায়ের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য গৃহীত কৌশলটি হলো আদর্শ বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে বিক্রয়িকতা।

১৯. প্রতিবছর আমের অনেক অপচয় হতে দেখে রাজশাহীর মি. ইয়ামিন আম থেকে জুস উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করলেন। জুসের নাম দিলেন পিওর 'ইয়ামি জুস'। জুসের বোতলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের লেবেলসংবলিত একটি প্রতীক ব্যবহার করলেন এবং অন্য কেউ যাতে নকল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। এছাড়াও কোনো কারণে কারখানা পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় সেজন্যও এক ধরনের বিমার ব্যবস্থা করলেন।
উত্তর বিমাচুক্তি যে দলিল দ্বারা সম্পাদিত হয় তাকে বিমাপত্র বলে।
উত্তর

লাইসেন্স বলতে ব্যবসায় শুরু করার অনুমতিপত্রকে বোঝায়।

যে-কোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বা নিবন্ধন করতে হয়। আর এই অনুমোদনই হলো লাইসেন্স। অনুমোদন বা নিবন্ধন করার পদ্ধতি বিভিন্ন রকমের। একমালিকানা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যদি এর অবস্থান পৌর এলাকার ভিতরে হয় তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষের এবং পৌর এলাকার বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

উত্তর

মি. ইয়ামিন প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্নিবিমা করেছিলেন।

যেবিমা চুক্তির মাধ্যমে বিমাগ্রহীতা ব্যক্তিকে অগ্নিজনিত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দান করা হয় তাকে অগ্নিবিমা বলে। সাধারণত পণ্য, ঘরবাড়ি, গুদাম, কারখানা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষার জন্য অগ্নিবিমা করা হয়।

উদ্দীপকের মি. ইয়ামিন আম থেকে জুস উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপন করেন। কোনো কারণে কারখানা পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় সেজন্য তিনি এক ধরনের বিমা করলেন। এই বিমাচুক্তির ফলে তিনি তার কারখানায় অগ্নিজনিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিমা কোম্পানি হতে চুক্তি শর্তানুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। আর এই বিষয়টি অগ্নিবিমার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. ইয়ামিন তার প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্নিবিমা করেছেন।

উত্তর

মি. ইয়ামিনের মেধাসম্পদটি হলো পণ্য প্রতীক/ট্রেডমার্ক।

ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। স্বাতন্ত্র্যতাই এই প্রতীকের মূল বিষয়। ডিভাইস, ব্রান্ড, শিরোনাম, লেবেল, টিকেট, নাম, স্বাক্ষর, শব্দ, অক্ষর, প্রতীক, সংখ্যা যুক্ত উপাদান, রঙের সমন্বয় বা এগুলোর যে-কোনো রূপ সমন্বয় প্রতীকের অন্তর্ভুক্ত হবে।

উদ্দীপকের রাজশাহীর মি. ইয়ামিন প্রতিবছর আমের অনেক অপচয় হতে দেখে আম থেকে জুস উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করলেন। জুসের নাম দিলেন 'পিওর ইয়ামি জুস'। জুসের বোতলে তার প্রতিষ্ঠানের লেবেল সংবলিত একটি প্রতীক ব্যবহার করলেন এবং অন্য কেউ যাতে নকল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। অর্থাৎ তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

মি. ইয়ামিন তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত জুসের বোতলে মূলত ট্রেডমার্ক ব্যবহার করেছেন। একটি নিবন্ধিত ট্রেডমার্কের মালিকের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার। রেজিস্টার্ড মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই প্রতীকটি ব্যবহার বা নকল করতে পারবে না। এছাড়াও ট্রেডমার্কটি একবার সুপরিচিত হলে অন্যান্য পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রেও মালিকের এ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আইন দ্বারা এই অধিকার সুরক্ষিত। এ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যাবে।

তাই উদ্দীপকের ইয়ামিনও ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মাধ্যমে এই আইনগত সুরক্ষা লাভ করবে। তাই বলা যায়, ইয়ামিনের মেধাসম্পদটি হলো ট্রেডমার্ক।

২০. জনাব জাকির একটি নতুন পদ্ধতিতে উৎকৃষ্টমানের কাঁঠালের চিপস তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করেন। তিনি সারা বছরব্যাপী এই চিপস উৎপাদনের লক্ষ্যে কাঁঠালের মৌসুমে কাঁঠাল সংরক্ষণ ও অপচয় রোধ করার পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু সহজ শার্তে ঋণ সুবিধা ও কর মওকুফের সুবিধা না থাকায় তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।
উত্তর যেব্যক্তি দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার সাথে ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও ব্যবসায় স্থাপন করেন ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন, তিনি শিল্পোদ্যোক্তা।
উত্তর

ব্যবসায় উদ্যোগের প্রথম ফলাফল একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।

যে-কোনো ব্যবসায় কোনো একজন ব্যক্তি বা কয়েকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। একটি ব্যবসায় স্থাপনার ধারণা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়টি স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনাই ব্যবসায় উদ্যোগ। বিশদভাবে বলতে গেলে, ব্যবসায় উদ্যোগ বলতে বোঝায় লাভবান হওয়ার আশায় লোকসানের সম্ভাবনা জেনেও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা। তাই এই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকেই ব্যবসায় উদ্যোগের প্রথম ফলাফল বলা হয়।

উত্তর

একজন সফল উদ্যোক্তার 'উদ্ভাবনী শক্তি' গুণটি জনাব জাকিরের মধ্যে বিদ্যমান।

উদ্ভাবন হলো বাজারে নতুন এবং কার্যকর কিছু প্রবর্তন। আর নিজের মেধা ও বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নতুন ধারণা বা পদ্ধতি তৈরি করার ক্ষমতা হলো উদ্ভাবনী শক্তি। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা নতুন নতুন পণ্য ও ধারণা তৈরি করেন।

উদ্দীপকের জনাব জাকির একটি নতুন পদ্ধতিতে উৎকৃষ্টমানের কাঁঠালের চিপস তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করেন। এক্ষেত্রে তিনি তার মেধা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েছেন। বাজারে আলু, কলা এসবের চিপস পাওয়া গেলেও কাঁঠালের চিপস বাজারে এক নতুন বিষয়। এক্ষেত্রে তিনি শুধু কল্পনাই করেননি। এই চিপস তৈরির কৌশল তিনি উদ্ভাবনও করেছেন। আর এসকল বিষয় একজন উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী শক্তির গুণটিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, একজন সফল উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী শক্তি গুণটি জনাব জাকিরের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।

উত্তর

জনাব জাকিরের ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার ক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

উন্নত বিশ্বের অগ্রগতির একটি প্রধান কারণ হলো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের অনুকূল পরিবেশ। উন্নত অবকাঠামো, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা, পর্যাপ্ত পুঁজি প্রভৃতি অনুকূল ব্যবসায় পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক।

উদ্দীপকের জাকির তার উদ্ভাবনী শক্তি-এ গুণটি দ্বারা কাঁঠালের চিপস তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করেন। তিনি সারা বছরব্যাপী এই চিপস উৎপাদনের লক্ষ্যে কাঁঠালের মৌসুমে কাঁঠাল সংরক্ষণ ও অপচয় রোধ করার পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও কর মওকুফের সুবিধা না থাকায় তিনি তা করতে পারছেন না।

ব্যবসায়ের পরিবেশ অনুকূল হলেই সহজে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যায়। তাই জাকিরকে এমন স্থানে চিপস তৈরির কারখানাটি স্থাপন করতে হবে যেখানে সহজেই তার চিপসের কাঁচামাল অর্থাৎ কাঁঠাল সংগ্রহ করা যায়। কাঁঠাল উৎপাদন হয় না ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না এমন কোনো জায়গায় কারখানা স্থাপন করলে তাকে কাঁঠাল সংগ্রহে অনেক বেগ পেতে হবে এবং কারখানায় আনতে আনতে তা নষ্টও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ জাকরিকে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন করতে হবে। তার উদ্ভাবিত নতুন ধারার চিপসটি উৎপাদনে তার সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংক বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে তার ব্যবসায়ে অর্থের সংস্থান ঘটাতে পারেন। আর পর্যাপ্ত পুঁজির প্রাপ্যতা তার ব্যবসায় উদ্যোগকে গড়ে উঠায় অন্যতম অবদান রাখবে। এছাড়া কর মওকুফের মতো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা তার ব্যবসায় উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণ ঘটাতে পারে।

তাই বলা যায়, জনাব জাকিরের ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার ক্ষেত্রে উন্নত অবকাঠামোগত উপাদান, পর্যাপ্ত পুঁজির প্রাপ্যতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এ সকল অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন।

২১. রাবেয়া আক্তারের স্বামী ঢাকায় রিকশা চালাতো। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী পঙ্গু হয়ে যায়। যার ফলে তার সংসারের অচলাবস্থা হয়। রাবেয়া এই পরিস্থিতি দেখে শুধুমাত্র অসহায় নারীদের স্বকর্মসংস্থানের জন্য পরিচালিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রাবেয়া আক্তারকে সেলাই কাজের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেয়। ফলে রাবেয়া স্বাবলম্বী হয়। পরবর্তীতে রাবেয়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় পরিসরে ও বাণিজ্যিকভাবে সেলাই কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করছে।
উত্তর কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
উত্তর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোনো বিশেষ কাজ যথার্থভাবে সম্পাদনের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায় বিধায় আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আত্মকর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড়ো মূলধন হলো নিজের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে একটি বিশেষ বিষয়ে দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে পারো। এতে অপচয় হ্রাস পায় এবং আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারে। ফলে তার ব্যর্থতার আশঙ্কা কমে যায়। তাই আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
উত্তর

রাবেয়া আক্তারকে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় মূলত মহিলাদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে গ্রামের দুস্থ, শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া এর মূল উদ্দেশ্য। এটি উদ্যোগী মহিলাদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।

উদ্দীপকের রাবেয়া আক্তারের স্বামী ঢাকায় রিকশা চালাতো। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী পঙ্গু হয়ে যায়। যার ফলে তার সংসারের অচলাবস্থা হয়। রাবেয়া এই পরিস্থিতি দেখে শুধুমাত্র অসহায় নারীদের স্বকর্মসংস্থানের জন্য পরিচালিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেলাই কাজের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নেয়। এক্ষেত্রে রাবেয়াকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি কেবল নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে পরিচালিত। প্রতিষ্ঠানটি নারীদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির এরূপ কার্যক্রম মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তাই বলা যায়, রাবেয়া আক্তারকে সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

উত্তর

রাবেয়া আক্তার প্রথমদিকে একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী হলেও পরবর্তীতে তিনি একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা হয়ে উঠেন।

ব্যবসায় উদ্যোগের সাথে আত্মকর্মসংস্থানের সম্পর্ক খুব নিবিড়। আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি নিজের কর্মসংস্থানের চিন্তা করে কাজে হাত দেন। একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী ব্যক্তি তখনই একজন উদ্যোক্তায় পরিণত হবেন, যখন তিনি নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সমাজের আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থানের চিন্তা নিয়ে কাজ শুরু করেন, ঝুঁকি আছে জেনেও এগিয়ে যান এবং একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

উদ্দীপকের রাবেয়ার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে তাদের সংসারে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাবেয়া মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সেলাই কাজের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ নেয়। ফলে রাবেয়া স্বাবলম্বী হয়। পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বড়ো পরিসরে ও বাণিজ্যিকভাবে সেলাই কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে শতাধিক কর্মী কাজ করে।

রাবেয়া বেগম প্রথমে কেবল নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলেন। অর্থাৎ তিনি একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। যেখানে প্রায় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একজন আত্মকর্মসংস্থানকারী যখন নিজের পাশাপাশি আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন তখন তিনি আর আত্মকর্মসংস্থানকারী থাকেন না। তখন তিনি একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তায় পরিণত হন। দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে থাকেন। তাই বলা যায়, রাবেয়া আক্তার একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা।

২২. 'মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করে অনলাইনে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে যান। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
উত্তর দ্রব্যের পরিবর্তে দ্রব্যের আদান-প্রদানকে বিনিময় প্রথা বলে।
উত্তর যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক ও সহজ করেছে তাকে সেবা শিল্প বলে।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ইত্যাদি সেবা সরবরাহকৃত প্রতিষ্ঠান এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত। এছাড়াও সড়ক, নৌ ও বিমানপথের যাত্রী, পর্যটন, চলচ্চিত্র এবং পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহও এ ধরনের শিল্পের অন্তর্গত। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরামদায়ক ও সহজ হয়। তাই সেবা শিল্প এতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মিস রুহী পণ্য বিক্রয় করেন।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকে মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করেন। অতঃপর উক্ত পণ্যগুলো অনলাইনে বিক্রয় করেন। উক্ত অনলাইন বিক্রয় কার্যক্রম প্রযুক্তিগত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের সহায়তায় মিস রুহী পণ্য বিক্রয় করেন।
উত্তর মিস রুহীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাণিজ্যের বিজ্ঞাপন ও ব্যাংক ঋণের উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যে প্রক্রিয়ায় পণ্য বা সেবাসামগ্রীর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাকে বিজ্ঞাপন বলে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। অন্যদিকে গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট জামানতের বিনিময়ে ব্যাংক হতে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে ব্যাংক ঋণ বলে। ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যায়।
উদ্দীপকে মিস রুহী ব্যক্তিগত দক্ষতায় মাটির তৈরি অলংকার ও অন্যান্য শৌখিন দ্রব্যাদি তৈরি করেন। অতঃপর উক্ত পণ্যগুলো অনলাইনে বিক্রয় করেন। তার পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে যান। এছাড়াও ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য তার আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান করেন।
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুব সহজেই ক্রেতাসাধারণকে পণ্য ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এর মাধ্যমে পণ্যের মান, মূল্য ও ব্যবহারবিধি ক্রেতা বা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়। ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ে। আবার অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। প্রয়োজনীয় এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা ঋণ করে করে সংগ্রহ করতে হয়। তাই উদ্দীপকের মিস রুহী তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বিজ্ঞাপন ও ব্যাংক ঋণের শরণাপন্ন হন, যা তার ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২৩. জনাব মাসুদ তার এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী হওয়ায় নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। কিন্তু দেশি মালটার দাম ও চাহিদা কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি চিন্তিত।
উত্তর কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্ম পদ্ধতিকে প্রকল্প বলে।
উত্তর ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবিকে পরিকল্পনা বলে।
পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের ভিত্তিস্বরূপ। কোনো প্রতিষ্ঠান গঠনের পূর্ব হতে শুরু করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন পর্যন্ত যাবতীয় কার্যাবলি পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। তাই যেকোনো কাজ শুরুর আগেই ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ ঠিক করতে হয়। পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ পালনীয় কর্মপন্থার একটি মানসিক প্রতিচ্ছবি। কী করতে হবে, কীরূপে করতে হবে, কখন করতে হবে এবং কাকে করতে হবে তা পূর্ব হতে নির্ধারণ করা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর জনাব মাসুদ ম্যাক্রোস্ক্রিনিংয়ের প্রাকৃতিক উপাদানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ম্যাক্রোস্ক্রিনিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যা কতকগুলো প্রভাবক বা উপাদানের ভিত্তিতে ব্যবসায়ের ধারণাগুলো মূল্যায়ন করে একটি প্রকল্প ধারণা নির্বাচন করতে সহায়তা করে। এর প্রভাবকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রভাবক হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ। সঠিক ব্যবসায় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাট ভূমিকা পালন করে। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদের এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী। এজন্য তিনি নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। চাষের জন্য অনুকূল জলবায়ু প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। তাই বলা যায়, জনাব মাসুদ ম্যাক্রোস্ক্রিনিংয়ের প্রাকৃতিক উপাদানকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
উত্তর মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক উপাদান বিবেচনা করলে জনাব মাসুদ মালটা ও লটকন বিক্রয়ে লাভবান হতে পারতেন।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন করা হয় তাকে মাইক্রোস্ক্রিনিং বলে। এর মাধ্যমে বাজার চাহিদা, কারিগরি, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। উৎপাদনমুখী ব্যবসায়ের প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমন স্ক্রিনিংয়ের আবশ্যকতা রয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদের এলাকাটি মালটা ও লটকন চাষের উপযোগী। এজন্য তিনি নিজস্ব ২০ একর জমিতে মালটা ও লটকন চাষ শুরু করেন। অনুকূল জলবায়ু ও নিজের পরিচর্যায় ফলন বেড়ে যায়। কিন্তু দেশি মালটার দাম ও চাহিদা কম হওয়ায় তার ব্যবসায়ে লোকসান হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি চিন্তিত।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ প্রকল্প গ্রহণে মাইক্রোস্ক্রিনিং পদ্ধতিটি বিবেচনা করেনি। এর ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ তিনি যদি মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে মালটা ও লটকন বিক্রয় করতেন, তবে তিনি এমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না। তাই পণ্য উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিংয়ের বাজার চাহিদা ও বাণিজ্যিক দিক গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।
২৪. ভ্রমণপ্রেমিক মি. শফিক নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে “শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম” নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তিনি দেশ-বিদেশে ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পাদনের জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। দিন দিন তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তর মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে।
উত্তর যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় ও ব্যবসায়ে কর্মকাণ্ডে ব্যাহত হয়। ফলে সম্ভাব্য উদ্যোক্তাগণ নতুন কিছু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উত্তর মি. শফিকের 'ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' প্রতিষ্ঠার কাজকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
নতুন ব্যবসায় গঠন বা নতুন পণ্য, সেবা, পদ্ধতি বা বাজার সামনে রেখে একজন ব্যবসায়ীর উদ্যোগকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
উদ্দীপকে মি. শফিক একজন ভ্রমণপ্রেমিক মানুষ। তিনি নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে 'শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। মি. শফিকের এমন কার্যক্রম ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবামূলক ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. শফিকের 'ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' প্রতিষ্ঠার কাজকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে।
উত্তর মি. শফিকের মতো ব্যক্তিরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। ব্যবসায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা অর্জন করা। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নেই এমন কোনো কাজকে ব্যবসায় বলা যায় না। এছাড়াও ব্যবসায় একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলে।
উদ্দীপকে মি. শফিক একজন ভ্রমণপ্রেমিক মানুষ। তিনি নিজ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে 'শফিক ট্যুর অ্যান্ড ট্যুরিজম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দেশ-বিদেশের ভ্রমণ ও ওমরা হজ পালনে সহযোগিতা করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পাদনের জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। দিন দিন তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায় তথা শিল্প-বাণিজ্যের অগ্রগতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও ব্যাপক সুযোগ ঘটে। এতে ব্যবসায়ী' তার ব্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষিত, অশিক্ষিত, দক্ষ-অদক্ষ, বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমি মনে করি, মি. শফিকের মতো ব্যক্তিরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২৫. ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মাসেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে তিনি দীর্ঘদিনের ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার বিক্রি কমে যায় এবং ক্ষতির সম্মুখীন হন। রেস্টুরেন্টের অবিক্রীত খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে পর্যটকদের মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা দিচ্ছে।
উত্তর মানব আচরণের মানদণ্ডকে 'ইথস' বলে।
উত্তর শব্দ, বায়ু, পানি, মাটি ইত্যাদির দূষণ থেকে পরিবেশ সুরক্ষাকেই পরিবেশ সংরক্ষণ বলে।
পরিবেশ এবং ব্যবসায় পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। সুষ্ঠু পরিবেশ ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভ করা যায় না। নানা কারণে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। শিল্পের বর্জ্য নদ-নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। ফলে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। শিল্প স্থাপনের জন্য গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষিত করা হচ্ছে। তাছাড়া খাল-বিল ভরাট, নদীভাঙন, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, যানবাহন ও যন্ত্রপাতির বিকট আওয়াজ শব্দ দূষণ বাড়াচ্ছে। এরূপ দূষণের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষা করাকে পরিবেশ সংরক্ষণ বলা যেতে পারে।
উত্তর জনাব নূরুলের মধ্যে ব্যবসায় নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই ব্যবসায়ের নৈতিকতা বলে। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্যদ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মাসেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রাহকদের দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার বিক্রয় কমে যায় এবং তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। জনাব নূরুলের এমন কার্যক্রম ব্যবসায় নৈতিকতার পরিপন্থি। তাই বলা যায়, জনাব নূরুলের মধ্যে ব্যবসায় নৈতিকতার অভাব রয়েছে।
উত্তর উদ্দীপকে পানি দূষণের কথা বলা হয়েছে এবং উদ্দীপকের ব্যবসায়টিকে লাভবান করতে হলে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পানিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পানির স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়াকে পানি দূষণ বলে। অন্যদিকে, ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে অনেকেই পদ্মা সেতু দেখতে মাওয়া ঘাটে যান। এটি দেখে জনাব নূরুল মাওয়া ঘাটে একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি গ্রাহককে দুপুরের খাবারে পদ্মার টাটকা ইলিশ মাছের কথা বলে দীর্ঘদিন ফ্রিজিং করা ইলিশ মাছ রান্না করে বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার বিক্রয় কমে যায় এবং তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হন। এছাড়াও তিনি রেস্টুরেন্টের খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে পানি দূষণ করছে।
উদ্দীপকে জনাব নূরুল তার রেস্টুরেন্টের খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য নদীতে ফেলে পানি দূষণ করছে। এমন দূষণের কারণে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী পানিতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও তিনি ইলিশ মাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে নিজেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় তার ব্যবসায়টিকে আবার লাভবান করার জন্য ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত।
২৬. জনাব মালেক তার এলাকায় দেশি গরুর খামার স্থাপন করেন। তার উৎপাদিত দুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তিনি পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও দুধ সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে তিনি খামারটি সম্প্রসারণ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করার চিন্তা করছেন।
উত্তর পেশাজীবী কর্তৃক বিভিন্ন রকম সেবা অর্থের বিনিময়ে প্রদান করাই হলো প্রত্যক্ষ সেবা।
উত্তর ব্যবসায়ে তথ্য ও প্রচারসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়টি হলো বিজ্ঞাপন।
অর্থের বিনিময়ে উদ্যোক্তা কর্তৃক ধারণা, পণ্য বা সেবার নৈর্ব্যক্তিক উপস্থাপনকে বিজ্ঞাপন বলে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনসাধারণ নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারে। এভাবে বিজ্ঞাপন পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে মুনাফাও বাড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ব্যবসায় ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর জনাব মালেকের ব্যবসায়টি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের প্রক্রিয়াকে প্রজনন শিল্প বলে। এই শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীকে পুনরায় উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের জনাব মালেক তার এলাকায় দেশি গরুর খামার স্থাপন করেন। উক্ত গরুর খামারের গাভীর বাচ্চা পুনরায় প্রজননের মাধ্যমে খামার সম্প্রসারিত হয়। তাই বলা যায়, জনাব মালেকের শিল্পটি প্রজনন শিল্প।
উত্তর জনাব মালেকের ঋণ গ্রহণ করার বিষয়টি অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকের জনাব মালেক তার এলাকায় দেশি গরুর খামার স্থাপন করেন। বর্তমানে তিনি খামারটি সম্প্রসারণ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ 'করার চিন্তা করছেন। এক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণের পুঁজির অভাবের বিষয়টি তার অর্থনৈতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, জনাব মালেকের খামার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান।
২৭. জনাব মামুন একজন পিঁয়াজ আমদানিকারক। তিনি বেশি মুনাফা পাওয়ার আশায় পিঁয়াজ মজুদ করে রাখেন না। তিনি সততার সাথে তার ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং এতে প্রচুর মুনাফা অর্জন হয়।
উত্তর ব্যক্তি বা দলের ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-বিশ্বাসের আলোকে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা ভালো-মন্দ বিচারের মানদণ্ডকেই মূল্যবোধ বলে।
উত্তর

শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে শিল্পবর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। শিল্পবর্জ্য নির্গত তরল পদার্থ নদী-নালায় পড়ে পানি দূষিত করে। বিষাক্ত পানি মাছসহ জলজ প্রাণী বাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণ করে। তাছাড়া কারখানার মেশিন ও জেনারেটরের বিকট আওয়াজে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হচ্ছে। এছাড়া শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার নামে অবাধে গাছ নিধন ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষণ করা হচ্ছে। আবাসনের নামে চাষের জমি হরণ, খালবিল ভরাট করে আবাসন তৈরি, নদীভাঙন, নির্বিচারে অনুপযুক্ত যানবাহন রাস্তায় চালানো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। এতে মানুষের স্বাস্থ্যহানিতো হচ্ছেই তদুপরি জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। তাই - বলা যায়, শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

উত্তর উদ্দীপকের জনাব মামুন সমাজের ক্রেতা ও ভোক্তা পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রেতা ও ভোক্তাদের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ওপর ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে। তাই ব্যবসায়ীদের ক্রেতা-ভোক্তাদের প্রতি কতকগুলো দায়িত্ব পালন করা উচিত। যেমন- পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, মানসম্মত পণ্য ও সেবা সরবরাহ করা, পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজতর করা এবং পণ্য ও বাজারসংক্রান্ত নানাবিধ তথ্য সরবরাহ করা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের জনাব মামুন একজন পিঁয়াজ আমদানিকারক। তিনি বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানি করেন এবং বেশি দাম পাওয়ার আশায় পিঁয়াজ মজুদ করে রাখেন না। ফলে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার দ্বারা জনাব মামুন সমাজের ক্রেতা ও ভোক্তার প্রতি দায়িত্ব পালন করেছেন।
উত্তর নৈতিকতার মানদণ্ডে জনাব মামুনের কর্মকাণ্ড নৈতিক। উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই নৈতিকতা বলে। নৈতিকতা মানুষের 'দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে জড়িত। যেমন- একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ-হলো ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠু পাঠদান করা যা নৈতিকতার আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব মামুন একজন পিঁয়াজ আমদানিকারক। তিনি বিদেশ থেকে পিঁয়াজ আমদানি করেন এবং বেশি দাম পাওয়ার আশায় পিঁয়াজ মজুদ করে রাখেন না। যথাসময়ে বাজারে তা সরবরাহ করেন। ফলে মূল্য স্থিতিশীল থাকে।
উদ্দীপকের জনাব মামুন যথাসময়ে তার আমদানিকৃত পিঁয়াজ ভোক্তার জন্য সরবরাহ করে নৈতিকতার পরিপন্থি কাজ করেছেন। কেননা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করলে সাধারণ জনগণের দুঃখ-দুর্দশা বৃদ্ধি পায় যেটি নৈতিকতা পরিপন্থি কাজ এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতাভুক্ত। এটি স্পষ্ট যে, নৈতিকতার মানদণ্ডে জনাব মামুনের কর্মকাণ্ড নৈতিক।
২৮. শিল্প ক→ মূলধন ১০ লক্ষ টাকার নিচে
শিল্প খ→ মূলধন ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি
উত্তর সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হলো পাথর।
উত্তর যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধা সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে যে সকল সেবামূলক কর্ম সম্পাদিত হয় তাকে সেবা শিল্প বলে। মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটো মোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফ্লোরিকালচার, ফুলচাষ ও ফুল বাজারজাতকরণ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি সেবা শিল্পের অন্তর্গত।
উত্তর উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটি হলো কুটিরশিল্প।
যে শিল্পে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়াও অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার কম তাকে কুটিরশিল্প বলে। এ শিল্পে শ্রমিকসংখ্যা পরিবারের সদস্যসহ সর্বোচ্চ ১৫ জন হয়।
উদ্দীপকের শিল্পটিতে পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করে। এ রকম শিল্পে সাধারণত ১০ লক্ষ টাকার কম মূলধন প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকের শিল্পটির মূলধন ১০ লক্ষ টাকার কম যেটি কুটিরশিল্পের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং আকার, মূলধন ও শ্রমিকসংখ্যা বিবেচনার উদ্দীপকের শিল্পটি হলো কুটিরশিল্প।
উত্তর উদ্দীপকের 'খ' শিল্পটি অর্থাৎ উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যা যথার্থ।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পের অবদান অপরিসীম। মূলধন সাশ্রয়, কর্মসংস্থান, স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষুদ্র শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান আমাদের বিপুলসংখ্যক বেকার ও অর্ধবেকার লোকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ফলে কর্মীদের আয়ের সুযোগ ঘটেছে। ফলে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে।
উদ্দীপকের খ শিল্পটির মূলধন ৭৫ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা। খ শিল্পটির মূলধন বিবেচনায় উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত শিল্পের তৈরিকৃত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও যেতে পারে। ফলশ্রুতিতে ব্যক্তিগত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে উক্ত শিল্পটি দেশের জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তাই আমি মনে করি উৎপাদনমুখী শিল্পটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
২৯. মামুন, মাসুদ ও মাসরুর XYZ নামে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তারা মূলধন অনুপাতে লাভ-লোকসান বণ্টন করে নিবেন। ব্যবসায়টি দ্রুত সফল হওয়ার কারণে তারা আরও কমপক্ষে ৪ জন বন্ধু মিলে ABC. লি. নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সকল কার্যক্রম শেষ হলে এখনও নিবন্ধন করতে পারেনি। যার ফলে প্রতিষ্ঠান তার কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে।
উত্তর ব্যক্তি না হয়েও ব্যক্তির ন্যায় অধিকার ও মর্যাদা লাভ করাকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে।
উত্তর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কেই রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয় না। জনগণের কল্যাণসাধনে এ ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সাধারণত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, জনস্বার্থ রক্ষা করা, একচেটিয়া ব্যবসায় পরিহার করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠন করা হয়। তাই বলা যায়, মুনাফা অর্জন রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মুখ্য উদ্দেশ্য নয় বরং জনকল্যাণই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
উত্তর XYZ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি ব্যবসায়।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয়। চুক্তি ছাড়া অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হতে পারে না।
উদ্দীপকের মামুন, মাসুদ ও মাসরুর XYZ নামে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তারা মূলধন অনুপাতে লাভ-লোকসান বণ্টন করে নিবেন। তাদের ব্যবসায়টি সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয়, যা অংশীদারি ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, XYZ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি ব্যবসায়।
উত্তর

ABC লি. প্রাইভেট লি. কোম্পানি গঠন করতে চাচ্ছে, যে কারণে নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ করতে না পেরে ব্যবসায়ের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন, শেয়ার বিক্রয় করতে পারে না তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর পরই কাজ শুরু করে দিতে পারে। সাধারণত পারিবারিক বা ঘরোয়া পরিবেশে এমন কোম্পানি গড়ে উঠে।
উদ্দীপকের মামুন, মাসুদ ও মাসরুর XYZ নামে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তারা মূলধন অনুপাতে লাভ-লোকসান বণ্টন করে নিবেন। ব্যবসায়টি দ্রুত সফলতা পাওয়ায় তারা আরও ৪ বন্ধু মিলে ABC লি. নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম শেষ হলে এখনও নিবন্ধন করতে পারেনি। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এক্ষেত্রে কোম্পানিটি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর পরই কাজ শুরু করে দিতে পারে এবং তা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে কাজ শুরু করতে পারে না। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি উক্ত নিবন্ধনপত্র এখনও সংগ্রহ করতে পারে নি। তাই আমি মনে করি, নিবন্ধনপত্র না পাওয়ায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না।

৩০. মিসেস, শায়লা একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেন এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক দেন। এছাড়াও তিনি উৎসব বোনাস ও বার্ষিক বনভোজনের ব্যবস্থা করেন। শীতকালে তার একটি নিজস্ব ফাউন্ডেশন থেকে এলাকার দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এছাড়াও স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অনুদানের ব্যবস্থা করেন।
উত্তর ভালোকে গ্রহণ করা এবং মন্দকে বর্জন করাকে নৈতিকতা বলে।
উত্তর শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।
নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে শিল্পবর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। শিল্পবর্জ্য নির্গত তরল পদার্থ নদী-নালায় পড়ে পানি দূষিত করে। বিষাক্ত পানি মাছসহ জলজ প্রাণী বাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবার কারখানার কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করে। তাছাড়া কারখানার মেশিন ও জেনারেটরের বিকট আওয়াজে ভয়াবহ শব্দ দূষণ হচ্ছে। এছাড়া শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার নামে অবাধে গাছ নিধন ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষণ করা হচ্ছে। আবাসনের নামে চাষের জমি হরণ, খালবিল ভরাট করে আবাসন তৈরি, নদীভাঙন, নির্বিচারে অনুপযুক্ত যানবাহন রাস্তায় চালানো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। এতে মানুষের স্বাস্থ্যহানিতো হচ্ছেই তদুপরি জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। তাই বলা যায়, শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।
উত্তর মিসেস শায়লা শ্রমিক-কর্মীদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেন।
ব্যবসায়ে শ্রমিক কর্মচারীরা যে শ্রম দিয়ে থাকে তার বিপরীতে শ্রমিকদের প্রতি ব্যবসায়ীরা যে দায়-দায়িত্ব পালন করে তাকে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বলে। ব্যবসায়ের অন্যতম উপাদান হলো শ্রমিক ও কর্মীবৃন্দ। এদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া ব্যবসায় পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
উদ্দীপকের মিসেস শায়লা একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেন। এছাড়াও তিনি তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেন, বিভিন্ন উৎসবে বোনাস দেন এবং তাদের জন্য বার্ষিক বনভোজনের ব্যবস্থা করেন। মিসেস শায়লার এ কার্যক্রমগুলো ব্যবসায়ীদের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের মধ্যে পড়ে। তাই বলা যায়, মিসেস শায়লা শ্রমিক-কর্মীদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেন।
উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত মিসেস শায়লা সমাজের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ব্যবসায়ে সুফল পেতে পারেন।
ব্যবসায়ে সমাজ ও সমাজের মানুষগুলো যে সহযোগিতা করে থাকে তার বিপরীতে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীরা যে দায়-দায়িত্ব পালন করে তাকে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব বলে। এ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো; এলাকায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা স্থাপন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট সুবিধা প্রদান ইত্যাদি।
উদ্দীপকের মিসেস শায়লা একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করেন। এছাড়াও তিনি তার একটি নিজস্ব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এলাকার দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং স্কুল-কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অনুদানের ব্যবস্থা করেন।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। তাই সমাজের মানুষের বিভিন্ন বস্তুগত ও অবস্তুগত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই ব্যবসায়ীর কাজ। যে ব্যবসায় এরূপ অভাব পূরণে ব্যর্থ হয়, সেই ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমানে মুনাফা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষগুলোর প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হয়। উদ্দীপকের মিসেস শায়লাও তাই মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের মানুষের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে সমাজের নিকট তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবেন।
৩১. জনাব আলম ঢাকা জেলার EPZ এলাকায় সরকারের অনুমোদন নিয়ে 'আলম ট্যানারি লি.' নামে একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করেন। তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা। নদী সংলগ্ন তার কারখানায় ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। পরিবেশের দূষণ না করে এই কারখানার তৈরি ব্যাগ, জুতা ও বেল্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
উত্তর উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবিস্তারের মাধ্যমে উৎপাদন কাজ পরিচালিত হওয়াকে প্রজনন শিল্প বলে।
উত্তর

সাধারণত ব্যাপক মূলধন সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানাতে কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলা হয়।

শিল্প রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে। শিল্পের উৎপাদন সাধারণত কারখানাভিত্তিক হয়। কারখানার উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কারখানার বিভিন্ন সেক্টরে কর্মীর প্রয়োজন হয়। ফলে দেশের অনেক লোকেরই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, কর্মসংস্থানের বড়ো ক্ষেত্র হচ্ছে শিল্প।

উত্তর

উদ্দীপকের জনাব আলমের ব্যবসায়টি হচ্ছে উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত।

যে শিল্পের প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ সকল খরচ ১৫ কোটি টাকার অধিক ও ৫০ কোটি টাকার মধ্যে এবং যেসব শিল্পে ১২১-৩০০ জন শ্রমিক কাজ করে, তাকে উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প বলে। এ শিল্প পণ্য সমগ্রী তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের সাথে জড়িত।

উদ্দীপকে জনাব আলম চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপন করেন যা প্রক্রিয়াকরণের সাথে সংযুক্ত। তিনি কারখানা স্থাপনের জন্য ২০ কোটি অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এবং কারখানাটিতে ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। বিনিয়োগ ও সংখ্যার দিক দিয়ে এর সাথে উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের বৈশিষ্টের মিল আছে। তাই জনাব আলমের ব্যবসায়টি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত।

উত্তর

জনাব আলমের উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পটি দেশের অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পের অবদান সবচেয়ে বেশি কার্যকরি। দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। কর্মসংস্থানের একটি বড়ো ক্ষেত্র হচ্ছে শিল্প। এ ধরনের শিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।

উদ্দীপকে জনাব আলম একটি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করেছেন। কারখানাটি উৎপাদনমুখী। এ ধরনের শিল্পে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ফলে বেকার সমস্যা সমাধান হয়। এছাড়া শিল্পটির উৎপাদিত চামড়া জাতীয় পণ্য দেশের বাহিরে রপ্তানি দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। দেশে শিল্প স্থাপনের দ্বারা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভব হয়। তার স্থাপিত শিল্পটি যেমন-দেশের বেকারত্বের হার হ্রাস করবে, পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তাই বলা যায়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় জনাব আলমের শিল্প স্থাপনের যৌক্তিকতা অপরিসীম।

৩২. জনাব সাজু একজন উদ্ভাবনকারী। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইঞ্জিন চালিত স্পীডবোট তৈরি করেন। এটি অল্প সময়ে কম ব্যয়ে বাজারে দ্রুত প্রসার লাভ করে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অনুরূপ স্পীডবোট নক্স করে কমদামে বাজারজাত করেন। কিন্তু কোনোরূপ লেবেল, স্বাক্ষর, টিকেট ব্যবহার করেননি। উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে জনাব সাজু আইনি সুবিধা ভোগ করেন।
উত্তর ব্যবসায় শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া লিখিত অনুমোদনপত্র হলো লাইসেন্স।
উত্তর

কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার এবং এর পণ্য তৈরি, বিক্রি বা বিতরণ করার অধিকার হলো ফ্রানসাইজিং।

ফ্রানসাইজিং ব্যবসার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ফ্রানসাইজিং চুক্তি, যা ফ্রানসাইজি ও ফ্রানসাইজরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে ফ্রানসাইজি প্রথমে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি এবং পরে বিক্রয়ের ওপর নির্দিষ্ট হারে মাসিক ফি প্রদান করে। প্রতিদান হিসেবে ফ্রানসাইজি ফ্রানসাইজরের পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের অধিকার পায়।

উত্তর

জনাব সাজুর স্পীডবোট আবিষ্কার মেধাসম্পদের অন্তর্গত।

শিল্প বা ব্যবসায় উদ্যোক্তার মেধাসম্পদ বলতে ঐসব মূল্যবান সম্পদকে বোঝায় যা সে দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে উদ্ভাবন করেছে। ব্যবসায় শিল্পে বা বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক, নাম ইত্যাদি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত। সব সৃজনশীল ও উদ্ভাবন কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে মেধাসম্পদ।

উদ্দীপকে জানাব সাজু একজন উদ্ভাবনকারী। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইঞ্জিন চালিত স্পীডবোট তৈরি করেন। জনাব সাজু দীর্ঘদিন ও মেধা ব্যয় করে স্পীডবোটটি তৈরি করেছেন, যা বাজারে দ্রুত প্রসার লাভ করেছে। সুতরাং বলা যায়, জনাব সাজুর আবিষ্কৃত যন্ত্রটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

জনাব সাজুর আইনগত সুবিধা ভোগের কারণ হচ্ছে তার আবিষ্কৃত স্পীডবোট তার নামে পেটেন্ট করা ছিল।

পেটেন্টের মাধ্যমে আবিষ্কারের জন্য আবিষ্কারককে তার স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একচেটিয়া মালিকানা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে পণ্য বা সেবার উদ্ভাবক বা আবিষ্কারক ও সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়। আবিষ্কারকের পেটেন্টটি প্রদানের অর্থ হলো এই নির্দিষ্ট সময়ে অন্য কেউ এটি তৈরি, ব্যবহার ও বিক্রয় করতে পারবে না।

উদ্দীপকে জনাব সাজু একটি সৌরশক্তির সাহায্যে চালিত স্পীডবোট তৈরি করেছেন। যা বাজারে অন্য স্পীডবোট থেকে আলাদা। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নকল করে স্পীডবোট বাজারে ছাড়ে, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে তিনি আইনি সুবিধা ভোগ করেন। কেননা তার আবিষ্কৃত স্পীডবোটটি তার নামে পেটেন্ট করা ছিল।

পেটেন্টকৃত কোনো পণ্য কেউ নকল করে বাজারজাত করলে সহজেই এর আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় এবং আইন মোতাবেক ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়। সুতরাং বলা যায় জনাব সাজুর আবিষ্কৃত স্পীডবোটটি পেটেন্ট করা ছিল বিধায় তিনি আইনগত সুবিধা ভোগ করেন।

৩৩. জনাব মাহদি একজন বালি ব্যবসায়ী। বর্ষা মৌসুমে পরিবেশ প্রতিকুল থাকার কারণে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি নতুন কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর পরিবেশ বাদী ও ভোক্তা আইনে লোকজন আপত্তি জানাল। বিভিন্ন সমস্যার কারণে বেশ কিছু শ্রমিক কাজের প্রতি অনীহা ও অসন্তোষ প্রকাশ করল। ফলে তিনি বালি উত্তোলন না করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
উত্তর পরিবহণের মাধ্যমে স্থানগত বাধা দূর করা হয়।
উত্তর

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ হলো আইনগত পরিবেশ।

বাণিজ্য ও শিল্প আইন, শ্রম আইন, আমদানি রপ্তানি নীতি প্রভৃতি আইনগত পরিবেশের উপাদান। ব্যবসায়সংক্রান্ত আইন অনুকূল হলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা ব্যবসায়ে উৎসাহিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও ভোক্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ, শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব আইন তৈরি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা যায়।

উত্তর

জনাব মাহদির বালি উত্তোলন নিষ্কাশন শিল্পের অন্তর্গত।

যে শিল্প প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূগর্ভ, পানি বা বায়ু হতে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হয়, তাকে নিষ্কাশন শিল্প বলে। যেমন- খনি থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলন, নদ-নদী ও সাগর হতে মৎস্য আহরণ, বন হতে কাঠ আহরণ প্রভৃতি নিষ্কাশন শিল্পের অন্তর্গত।

উদ্দীপকের জনাব মাহদি বালি ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ তিনি ভূগর্ভ বা মাটি খনন করে সেখান থেকে মেশিনের সাহায্যে বালি উত্তোলন করে থাকেন। ভূগর্ভস্থ এ বালি হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যা মানুষের নাগালের বাইরের বস্তু। জনাব মাহদি এটি সংগ্রহ করে মানুষের ব্যবহারের আওতায় আনেন। এছাড়া তিনি এ সম্পদ আহরণ করে এর উপযোগিতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। এ সকল বৈশিষ্ট্যসমূহ মূলত নিষ্কাশন শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব মাহদির বালি উত্তোলন নিষ্কাশন শিল্পের অন্তর্গত।

উত্তর

জনাব মাহদির ব্যবসায় চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ের আইনগত পরিবেশের উপাদানটি বিবেচনায় আনা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচলিত বিভিন্ন আইনের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশ হলো আইনগত পরিবেশ। বাণিজ্য ও শিল্প আইন, শ্রম আইন, আমদানি-রপ্তানি নীতি প্রভৃতি আইনগত পরিবেশের উপাদান। ব্যবসায় সংক্রান্ত আইন অনুকূল হলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা ব্যবসায়ে উৎসাহিত হয়।

উদ্দীপকের জনাব মাহদি একজন বালি ব্যবসায়ী। বর্ষা মৌসুমে পরিবেশ প্রতিকূল থাকার কারণে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি নতুন কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। কিছুদিন পর পরিবেশবাদী ও ভোক্তা আইনে লোকজন আপত্তি জানায়। বিভিন্ন সমস্যার কারণে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু শ্রমিক কাজের প্রতি অনীহা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে। ফলশ্রুতিতে সে বালি উত্তোলন না করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

উদ্দীপকের মাহদি পরিবেশ আইন মেনে ব্যবসায় পরিচালনা করলে পরিবেশবাদীদের আপত্তি আইনত তার কোনো ক্ষতি করতে পারতো না। বালি একটি ভূগর্ভস্থ সম্পদ। কোনোরূপ বাধা নিষেধ বা আইন না মেনে বালি উত্তোলন মোটেও পরিবেশবান্ধব কোনো কাজ নয়। সরকারি নির্দেশনা বা ব্যবস্থাপনার বাইরে বালি উত্তোলন করলে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হবার আশঙ্কা থাকে। যত্রতত্র বালি উত্তোলনের ফলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারায়। তাই যত্রতত্র বালি উত্তোলনের ব্যাপারে আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এই আইন বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছেন। জনাব মাহদির উচিত ছিল ব্যবসায়ের আইনগত উপাদানটি বিবেচনা করে ব্যবসায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা। যেহেতু সে এ বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করে তার ব্যবসায়টি পরিচালনা করেছেন, তাই তার বালি উত্তোলন কাজটি অবশেষে বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়।

৩৪. জনাব হাফিজুল সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। শ্রমিক ও মেশিনের সাহায্যে মধুগুলো বোতল ও প্যাকেটজাত করেন। অর্থসংকট হলে স্থানীয় ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করেন।
উত্তর ব্যাংকিং অংশীদারি ব্যবসায় সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ১০ এর বেশি হবে না।
উত্তর

ঝুঁকি কমানোর জন্য বিমাকরণ একটি উত্তম উপায়- উক্তিটি সঠিক।

মানবজীবন ও সম্পদের ঝুঁকির বিপক্ষে আর্থিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো বিমা। মূলত ঝুঁকি থেকেই বিমার সৃষ্টি। বিমার সাথে দুটি পক্ষ জড়িত থাকে, যথা- বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারী। বিমাকারী নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতার জীবন বা অন্যান্য সম্পত্তির আংশিক বা নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকির দায়ভার গ্রহণ করে থাকে। আর এই শর্তানুযায়ী বিমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকে। তাই ঝুঁকি কমানের জন্য বিমাকে একটি উত্তম উপায় বলা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব হাফিজুলের মধু সংগ্রহ ও প্যাকেট জাতকরণের কাজটি উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।

যে শিল্প প্রক্রিয়ায় শ্রম ও যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজত করে চূড়ান্ত পণ্যে রূপান্তর করা হয়, তাকে উৎপাদন শিল্প বলা হয়। এ ধরনের শিল্পে কাঁচামাল ও অর্ধপ্রস্তুত পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করা হয়।

উদ্দীপকের জনাব হাফিজুল সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করে। সংগৃহীত এই মধুকে তিনি শ্রমিক ও মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে বোতল ও প্যাকেটজাত করে চূড়ান্ত ভোক্তা বা ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করেন। এক্ষেত্রে জনাব হাফিজুল শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত মধুকে ভোক্তাদের ভোগের উপযোগী করে তা প্যাকেজিং করে বিক্রয় করেন। আর তার শিল্পের এ সকল বৈশিষ্ট্য উৎপাদন শিল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব হাফিজুলের সম্পাদিত কাজগুলো উৎপাদন শিল্পের অন্তর্গত।

উত্তর

উদ্দীপকে বাণিজ্যের গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং ও পরিবহণের কথা বলা হয়েছে।

ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌঁছানো কিংবা উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানের সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। পণ্য-দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কার্য যথার্থভাবে সমাধানে বাণিজ্য পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, বিপণন ও বিজ্ঞাপন- এ সকল উপাদানের সহযোগিতা নিয়ে থাকে।

উদ্দীপকের জনাব হাফিজুল সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। শ্রমিক ও মেশিনের সাহায্যে মধুগুলো বোতল ও প্যাকেজাত করেন। তার ব্যবসায়ে অর্থের সংকট হলে তিনি স্থানীয় ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করেন। এক্ষেত্রে মধু সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভোক্তাদের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত জনাব হাফিজুলকে বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে হয়। আর এ বাধাগুলোকে দূরীকরণে তিনি বাণিজ্যের বিভিন্ন উপাদানের সাহায্য নেন।

জনাব হাফিজুল তার সংগৃহীত মধুগুলোকে প্রথমে বোতল ও কেটজাত করেন। এর ফলে মধুগুলো তিনি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করে যেতে পারবেন। আর এ বিষয়টি বাণিজ্যের গুদামজাতকরণ উপাদানকে নির্দেশ করে। অর্থ সংকটে স্থানীয় ঋণ প্রদানকারী সংস্থা হতে অর্থ সংগ্রহ করার মাধ্যমে তিনি বাণিজ্যের ব্যাংকিং উপাদানটিকে কাজে লাগিয়েছেন। এ উপাদানের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ের অর্থগত সকল বাধা দূর করতে পারেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাকে মধু সরবরাহ করতে হচ্ছে। এর ফলে তার ব্যবসায়ে স্থানগত বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ ধরনের বাধা দূরীকরণে বাণিজ্যের পরিবহণ উপাদানটি কাজ করে থাকে, যা ব্যবহার করে হাফিজুল ও তার পণ্যটিকে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাণিজ্যের গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং ও পরিবহণ-উপাদানগুলোর কথা বলা হয়েছে।

৩৫. মি. হেলাল বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়ে সিরামিকের ব্যবসা করেন। তিনি কর্মীদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সাথে পরামর্শ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। কর্মীরা বিনয়ের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে কর্মীরা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। হেলাল বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের বেতন বাড়িয়ে দেন এবং দুই ঈদে বোনাসের ব্যবস্থা করেন। ফলে কর্মীরা বর্তমানে আগ্রহ নিয়ে কাজ করছে।
উত্তর আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হেনরি ফেওল।
উত্তর

বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবসায়ের অর্থ সংগ্রহের প্রধান উৎস- উক্তিটি সঠিক।

যে ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত গ্রহণ ও ঋণদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের নিকট পড়ে থাকা অলস অর্থকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে, সেই অর্থকে বিভিন্ন ঋণ পণ্যে পরিণত করে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তা বিতরণ করে। সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে নগদ অর্থ ধার দিয়ে থাকে। তাই বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থ সংগ্রহের প্রধান উৎস।

উত্তর

মি. হেলালের কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রকাশ পায়।

যে নেতৃত্বে নেতা অধস্তনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এ ধরনের নেতৃত্বে সব ক্ষমতা নিজের হাতে না রেখে প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব অধস্তনদের কাছে ছেড়ে দেন। এর ফলে কর্মীরা নেতার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।

উদ্দীপকের মি. হেলাল বেশ কয়েকজন কর্মী নিয়ে সিরামিকের ব্যবসা করেন। তিনি কর্মীদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সাথে পরামর্শ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। আর এ নেতৃত্বের ধরনটির সাথে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সাদৃশ্য রয়েছে। এ ধরনের নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং প্রয়োজনে জবাবদিহিতা করেন। তাই কর্মীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করেন। তাই বলা যায়, মি. হেলাল গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব অনুসরণ করেন।

উত্তর

মি. হেলালের প্রেষণাদান পদক্ষেপের ফলে কর্মীরা আগ্রহসহ দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হয়।

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহী ও উৎসাহী করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষ্যে তাদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হয়। এর মূল্য উদ্দেশ্য হলো মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা।

উদ্দীপকের মি. হেলাল তার প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব অনুসরণ করেন। তিনি কর্মীদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন তাদের সাথে পরামর্শ করেন। তাদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। তাই কর্মীরা বিনয়ের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে কর্মীরা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেললে হেলাল তাদের উৎসাহিত করার জন্য বেতন বাড়িয়ে দেন এবং দুই ঈদে বোনাসের ব্যবস্থা করেন। ফলে বর্তমানে কর্মীরা আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন। কর্মীদের এরূপ আগ্রহ বৃদ্ধির কারণ হলো প্রেষণা।

মি. হেলাল কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি ও বোনাসের ব্যবস্থা করে মূলত তাদের প্রেষণা দিয়েছেন। মূলত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহী ও উৎসাহী করার জন্য প্রেষণা দেওয়া হয়। প্রেষণা কর্মীদের কাজের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

তাই মি. হেলালের প্রেষণা দানের ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে। ফলে কর্মীরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে আগ্রহী হয়। কর্মীদের কাজের প্রতি পুনরায় উৎসাহিত করতে এবং তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা আদায় করতে প্রেষণা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, মি. হেলালের প্রেষণাদানের ফলে কর্মীরা আগ্রহসহকারে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হয়।

৩৬. আসিফ একজন ব্যবসায়ী। নিউ মার্কেটে তার একটি কসমেটিকস এর শো রুম আছে। প্রথমেই তিনি নিম্নমানের পণ্য বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছিলেন। ক্রেতাগণ তা বুঝতে পেরে তার দোকানে আর ভিড় করে না। ক্রেতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করছেন।
উত্তর নৈতিকতা বলতে মানুষের ভালো-মন্দের বিচার বিশ্লেষণ করে সঠিকটি গ্রহণ করাকে বোঝায়।
উত্তর

ক্রেতা আকর্ষণ করার কৌশল বা দক্ষতাকে বিক্রয়িকতা বলে।

এর মাধ্যমে একজন বিক্রয়কর্মী তার দক্ষতা ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে সে সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট পণ্য বা সেবাসামগ্রী বিক্রয় করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও তিনি তার নিজ গুণে ব্যবসায় ও পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করে তাদেরকে স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত করে থাকে।

উত্তর

উদ্দীপকের আসিফ ব্যবসায়ের ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে মেনে চলেননি।

ক্রেতা বা ভোক্তা হলেন ব্যবসায়ের প্রাণ। তারা পণ্য কিনলেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে। তাই ব্যবসায়ীকে তার ভোক্তাদের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব যেমন মানসম্মত পণ্য সরবরাহ, পণ্যের স্থিতিশীল বাজার, পণ্যসামগ্রী প্রাপ্তি সহজতর প্রভৃতি পালন করতে হয়। এতে ব্যবসায়ের প্রতি ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা তৈরি হয়।

উদ্দীপকের আসিফ একজন ব্যবসায়ী। নিউ মার্কেটে তার একটি কসমেটিকস এর শো-রুম আছে। ব্যবসায়ের শুরুতেই তিনি নিম্নমানের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করেন। যার মাধ্যমে তিনি প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছিলেন। একজন ব্যবসায়ী হয়ে ক্রেতা বা ভোক্তাদের মানসম্মত পণ্য সরবরাহ না করে তিনি তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তাছাড়া নিম্নমানের কসমেটিকসে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে যা ব্যবহারে মানুষের চামড়ার তো ক্ষতি হয়-ই এর সাথে এসব ব্যবহারে মানুষের ক্যান্সারের মতো রোগও হতে পারে। আসিফের নিম্নমানের কসমেটিকস তার দোকানের ক্রেতা বা ভোক্তাদের ক্ষতি সাধান করছে, যা আসিফের ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে মেনে না চলার বিষয়টিকে ফুটিয়ে তুলেছে। তাই বলা যায়, আসিফ ক্রেতা ও ভোক্তাদের দায়বদ্ধতাকে মেনে চলেননি।

উত্তর

ব্যবসায়ে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে আসিফ একজন যথার্থ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি বিষয় বিচারের মাপকাঠি। এটি মানুষকে ভালো ও খারাপ দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে পথ চলতে সাহায্য করে। আর সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো মুনাফা অর্জনের সাথে সমাজের কিছু মঙ্গলময় বা কল্যাণমূলক কাজ করা।

উদ্দীপকের আসিফ একজন ব্যবসায়ী। তার একটি কসমেটিকসের শো-রুম আছে। প্রথমেই তিনি নিম্নমানের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে অবহেলা করেছেন। পরবর্তীতে ক্রেতারা তার অনৈতিক কাজটি বুঝতে পেরে তার দোকানে আর ভিড় করে না। ক্রেতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করছেন।

আসিফ নৈতিকতা না মেনে তার ব্যবসায়টি পরিচালনা করছেন। যার ফলে ক্রেতা ও ভোক্তারা তার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আসিফকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা ও বিশ্বাস পুনরায় অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রথমেই তাকে তার দোকানের নিম্নমানের পণ্যগুলোকে নষ্ট করে সে স্থানকে মানসম্মত পণ্য দ্বারা সাজাতে হবে। পূর্বের ন্যায় অধিক দামের পরিবর্তে পণ্যের মূল্য যেন ক্রেতা ও ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পূর্বের মতো ভুল যেন আর কখনোই না ঘটে সে বিষয়ে তাকে সতর্কতার সাথে অবস্থান করতে হবে। ব্যবসায়ের সকল কাজ তাকে নৈতিকতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাকে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন আদর্শ ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়ের সকল কাজ নৈতিকতার সাথে সম্পাদন করে এবং মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নেও যাবতীয় কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, উপর্যুক্ত কাজগুলো করার মাধ্যমেই আসিফ নিজেকে একজন যথার্থ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

৩৭. এ বছর আলু ও পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় জনাব শাহিন তার নিজ উদ্যোগে একটি হিমাগার স্থাপন করেন। যেখানে বিভিন্ন এলাকার কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। এতে তিনি ও আলু উৎপাদনকারীরা লাভবান হলেও সংরক্ষিত পেঁয়াজের প্রায় ৫০% নষ্ট হয়ে যায়। এতে জনাব শাহিন আর্থিক সংকটে পড়েন।
উত্তর ‘বস্ত্র কল’ উৎপাদন শিল্প।
উত্তর কোনো দেশের বাণিজ্যিক আইন, শিল্প আইন, পরিবেশসংক্রান্ত আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি ওপর ভিত্তি করে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে আইনগত পরিবেশ বলে।
আইনগত পরিবেশ ব্যবসাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। কেননা সাধারণ মানুষের মতো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকেও রাষ্ট্রের তৈরি আইনের বিধিমালা মেনে ব্যবসায় করতে হয়। তাই আইনগত বিধিনিষেধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন- আবাসিক এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠায় বাধার মুখ্য কারণ হলো আইনগত পরিবেশ।
উত্তর জনাব শাফিনের কার্যক্রমটি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবা শাখার অন্তর্গত।
উৎপাদন ও ভোগের মধ্যবর্তী সময়ে বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবসায়িগণ পণ্য সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা গড়ে তোলে তাকে গুদামজাতকরণ বলে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ এই পদ্ধতির মাধ্যমে এক মৌসুমের ফসল অন্য মৌসুমেও ভোগ করা যায়।
উদ্দীপকে জনাব শাফিন আলু ও পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় তার নিজ উদ্যোগে একটি হিমাগার স্থাপন করেন। যেখানে বিভিন্ন এলাকার কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। উক্ত সংরক্ষণের কাজটি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবা শাখার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব শাফিনের কার্যক্রমটি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবা শাখার অন্তর্গত।
উত্তর উদ্দীপকের জনাব শাফিন তার আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায় পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের সহায়তা গ্রহণ করতে পারতেন।
কোনো দেশের জনগণের আয় ও সঞ্চয়, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, মূলধন ও জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যে দেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে জনাব শাফিন আলু ও পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় তার নিজ উদ্যোগে একটি হিমাগার স্থাপন করেন। যেখানে বিভিন্ন এলাকার কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। এতে তিনি ও আলু উৎপাদনকারীরা লাভবান হলেও সংরক্ষিত পেঁয়াজের প্রায় ৫০% নষ্ট হয়ে যায়। এতে জনাব শাফিন আর্থিক সংকটে পড়েন।
অর্থ ছাড়া কোনো ব্যবসায়ই পরিচালনা করা যায় না। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবেশের অর্থনৈতিক উপাদানের অনুকূল উপস্থিতি দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নত এবং অনুপস্থিতি পেছনে ফেলে দিতে পারে। উদ্দীপকের জনাব শাফিন তাই অর্থনৈতিক পরিবেশের অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তার আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন।
৩৮. আকন্দ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী জনাব আমিনুল ইসলাম একাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেন। কিন্তু প্রতিযোগী বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের আয়তন বাড়ানোর জন্য মূলধন বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ পর্যায়ে তিনি ৫ লক্ষ টাকা মূলধন গ্রহণের বিনিময়ে সারা মনিকে ব্যবসায়ের ৫০% মালিকানা হস্তান্তর করেন এবং ব্যবসায় পরিচালনার জন্য সারা মনির সাথে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন।
উত্তর অর্থের বিনিময়ে যে অংশীদার নামের সুনাম বিক্রয় করে তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে।
উত্তর ব্যবসায় শুরু করার জন্য সরকারি অনুমতিপত্রই হলো ট্রেড লাইসেন্স।
যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বা নিবন্ধন করতে হয়। আর এই অনুমোদন বা নিবন্ধন করাই হলো ট্রেড লাইসেন্স। একমালিকানা ব্যবসায়ের অবস্থান পৌর এলাকায় হলে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। আবার এর অবস্থান যদি পৌর এলাকার বাইরে হয় তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
উত্তর উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো এক মালিকানা ব্যবসায়।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে এক মালিকানা ব্যবসায় বলে। এই ধরনের ব্যবসায়ে মালিক একজন থাকে বিধায় তাকে ব্যবসায়ের সমস্ত মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়, ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। তবে ব্যবসায়ের সমস্ত লাভ তিনি একাই ভোগ করেন কিন্তু লোকসান হলে সমস্ত দায়ভার তাকে একাই নিতে হয়।
উদ্দীপকে জনাব আমিনুল ইসলাম আকন্দ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী। তিনি একাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেন। তার এই ব্যবসায়টি এক মালিকানা ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হলো এক মালিকানা ব্যবসায়।
উত্তর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশীদারি ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যে কোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যত ভুল বুঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম।
উদ্দীপকে জনাব আমিনুল ইসলাম আকন্দ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী। তিনি একাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেন। কিন্তু প্রতিযোগী বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের আয়তন বাড়ানোর জন্য মূলধন বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দেয়। এ পর্যায়ে তিনি ৫ লক্ষ টাকা মূলধন গ্রহণের বিনিময়ে সারা মনিকে ব্যবসায়ের ৫০% মালিকানা হস্তান্তর করেন এবং ব্যবসায় পরিচালনার জন্য সারা মনিরের সাথে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন।
উদ্দীপকের প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি হচ্ছে একমালিকানা ব্যবসায়। এতে মালিক একজন থাকায় মালিককে সমস্ত ঝুঁকি একাই বহন করতে হয়। আবার মূলধন স্বল্পতার জন্য ব্যবসায় সম্প্রসারণও করা যায় না। অন্যদিকে অংশীদারি ব্যবসায়ে মূলধনের পরিমাণ বেশি হয় বিধায় ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যায়। এছাড়াও এরূপ ব্যবসায়ে ঝুঁকি বন্টনের সুযোগ রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশীদারি ব্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
৩৯. জনাব মুরাদ খান একজন ব্যবসায়ী। এ বছর বন্যার সময় তিনি বন্যাকবলিত মানুষকে সহায়তা করেন। অধিকন্তু বন্যায় বেকার হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ জন যুবককে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন কর্মী মাপে কম দেয়ায় তিনি তাকে শাস্তি দিতে চান। পরবর্তীতে উক্ত কর্মী তার ভুল বুঝতে পারলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।
উত্তর কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, কোনটা উচিত কোনটা অনুচিত এ সংক্রান্ত মানুষের বোধ বা উপলব্ধিকেই মূল্যবোধ বলে।
উত্তর বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়াকে পরিবেশ দূষণ বলে।
সুস্থতার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারের ফলে বিভিন্ন ভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। ব্যবসায়িক কারণে বিভিন্ন উপায়ে পরিবেশের বায়ু, পানি, শব্দ ও মাটি দূষিত হয়। গ্রামের বাজারে হাটের দিন মানুষের কোলাহল, ধুলা-বালিসহ নানানভাবে সেখানে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শিল্প কারখানার কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করছে।
উত্তর উদ্দীপকে কর্মীর মাপে কম দেওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়ের ব্যবসায় নৈতিকতার দিকটি উপেক্ষিত হয়েছে।
ব্যবসায়ে উচিত এবং ন্যায়-নীতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্য-দ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি মেনে চলাই ব্যবসায় নৈতিকতা। এ নৈতিকতার গুণেই একজন ব্যবসায়ী সৎ ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন।
উদ্দীপকে জনাব মুরাদ খান একজন ব্যবসায়ী। এ বছর বন্যায় বেকার হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ জন যুবককে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। তার প্রতিষ্ঠানের কর্মরত একজন কর্মী মাপে কম দেওয়ায় তিনি তাকে শাস্তি দিতে চান। মাপে কম দেওয়ার বিষয়টি ব্যবসায় নৈতিকতার পরিপন্থি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কর্মীর মাপে কম দেওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়ের ব্যবসায় নৈতিকতার দিকটি উপেক্ষিত হয়েছে।
উত্তর উদ্দীপকে জনাব মুরাদ খানের ভেতর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা লক্ষ করা যায়।
ব্যবসায়ে সমাজ ও সমাজের মানুষগুলো যে সহযোগিতা করে থাকে তার বিপরীতে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়-দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। এমন দায়বদ্ধতা থেকেই একজন ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। যেমন- জাতীয় দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো, এলাকায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কল্যাণধর্মী কাজে অংশগ্রহণ করা।
উদ্দীপকে জনাব মুরাদ খান একজন ব্যবসায়ী। এ বছর বন্যার সময় তিনি বন্যাকবলিত মানুষদের সহায়তা করেন। অধিকন্তু বন্যায় বেকার হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ জন যুবককে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন। তার প্রতিষ্ঠানের কর্মরত একজন কর্মী মাপে কম দেওয়ায় তিনি তাকে শাস্তি দিতে চান। পরবর্তীতে উক্ত কর্মী তার ভুল বুঝতে পারলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।
সমাজ ও সমাজের মানুষদের ঘিরেই ব্যবসায় ও এর কার্যাবলি আবর্তিত হয়। এই সমাজ হতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেই ব্যবসায় সমৃদ্ধি লাভ করে। তাই সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে, এলাকার পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সেদিকে নজর রাখে, জাতীয় দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ায়। উদ্দীপকের জনাব মুরাদ খানও এমন দায়বদ্ধতা থেকে বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
৪০. মিস. সেজা বরিশালের এক জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি নার্সারি স্থাপন করেন। তিনি তার নার্সারিতে দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় গাছের চারা উৎপাদন করেন এবং তা সুলভ মূল্যে বিক্রয় করেন। সম্প্রতি জনাব তাওসিফ সেজার নার্সারিটি পরিদর্শন করেন এবং তিনি সেজাকে গাছের চারা বিক্রয়ের জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে তিনি মিস. সেজাকে মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে কারিগরি সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন।
উত্তর মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত কাজকে পণ্য বিনিময় বলে।
উত্তর মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে।
ব্যবসায়ের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্য সব পেশা থেকে আলাদা করেছে। এমন বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। হচ্ছে ব্যবসায়ের সাথে জড়িত পণ্য বা সেবার অবশ্যই আর্থিক মূল্য থাকতে হবে। কারণ ব্যবসায় একটি অর্থনৈতিক কাজ। অর্থ দ্বারা ব্যবসায়ের প্রতিটি কাজের মূল্য নিরূপণ করা হয়। অর্থের মাপকাঠিতে যেসব কাজের মূল্য নিরূপণ করা যায় না, সেগুলো ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত নয়।
উত্তর মিস. সেজার কার্যক্রমটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশ বিস্তারের প্রক্রিয়াকে প্রজনন শিল্প বলে। এই শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীকে পুনরায় উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন-নার্সারিতে সৃষ্ট চারা পরবর্তীতে গাছ বা ফলমূল উৎপাদন করে, পোলট্রি ফার্মে ডিম বা বাচ্চা উৎপাদিত হয়, হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদিত হয় যার সবকিছুই পরবর্তী উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের-প্রয়োজন পূরণ করে থাকে।
উদ্দীপকের মিস. সেজা বরিশালের এক জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি নার্সারি স্থাপন করেন। তিনি তার নার্সারিতে দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় গাছের চারা উৎপাদন করেন এবং তা সুলভ মূল্যে বিক্রয় করেন। উক্ত নার্সারিটি প্রজনন শিল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মিস. সেজার কার্যক্রমটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
উত্তর উদ্দীপকে জনাব তাওসিফের পরামর্শটি ব্যবসায়ের প্রযুক্তিগত পরিবেশের অন্তর্গত, যা ব্যবসায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো দেশের বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, এতদসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ইত্যাদি মিলিয়ে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয় তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে। বর্তমানকালে ব্যবসায়ের ওপর প্রযুক্তিগত পরিবেশের ব্যাপক প্রভাব লক্ষণীয়। শিল্প-বাণিজ্য সব কর্মকাণ্ডই প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে চলছে।
উদ্দীপকে মিস, সেজা বরিশালের এক জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি নার্সারি স্থাপন করেন। সম্প্রতি জনাব তাওসিফ সেজার নার্সারিটি পরিদর্শন করেন এবং তিনি সেজাকে গাছের চারা বিক্রয়ের জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে তিনি মিস, সেজাকে মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে কারিগরি সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনলাইন প্লাটফর্মের ব্যবহার, মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবসায় করলে ব্যবসায়ে নতুনত্ব আনা যায়। ফলে গ্রাহকের নিকট ব্যবসায়ের প্রতি সুধারণা সৃষ্টি হয়। এর ফলে ব্যবসায়ে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে জনাব তাওসিফও তাই মিস. সেজাকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসায়ের নির্দেশ দেন। এতে তিনি ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে আমি মনে করি।
৪১. জনাব নয়ন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি মৌসুমে বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে পিঁয়াজ, রসুন ও আলু সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ে বেশ লাভবান হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি লাভবান হওয়ার জন্য অধিক পরিমাণে পণ্য হিমাগারে সংরক্ষণ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।
উত্তর ব্যবসায়ের বণ্টনসংক্রান্ত কাজের সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে।
উত্তর গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণে সমর্থ এমন কোনো কাজ বা তৃপ্তিকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবীরা বিভিন্ন রকম সেবাকর্ম অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন। এ সকল সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন: ডাক্তারি ক্লিনিক, আইন চেম্বার, প্রকোশলী ফার্ম, অডিট ফার্ম ইত্যাদি। প্রত্যক্ষ সেবা আধুনিক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
উত্তর জনাব নয়নের কাজটি ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার অন্তর্গত।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের নিকট পৌছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বা সেবাসামগ্রী ভোক্তাদের নিকট পৌছানোর সকল কার্যাবলিকে বাণিজ্য বলে। বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্যের স্বত্বগত, স্থানগত, সময়গত, অর্থগত ও ঝুঁকিগত বাধা দূর হয়।
উদ্দীপকের জনাব নয়ন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি মৌসুমে বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে পিঁয়াজ, রসুন ও আলু সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ে বেশ লাভবান হয়েছেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব নয়ন ক্রয়-বিক্রয় ও গুদামজাতকরণের কাজ সম্পন্ন করেছেন; যা ব্যবসায়ের বাণিজ্য শাখার বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
উত্তর জনাব নয়নের ঋণ নেওয়া প্রক্রিয়াটি অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান।
অর্থনৈতিক পরিবেশ বলতে দেশে বিরাজমান অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পের অবদান, জনগণের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মানসিকতা, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রভৃতিকে বোঝায়।
উদ্দীপকের জনাব নয়ন একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তিনি মৌসুমে বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে পিঁয়াজ, রসুন ও আলু সংগ্রহ করে হিমাগারে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ে বেশ লাভবান হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি লাভবান হওয়ার জন্য অধিক পরিমাণে পণ্য হিমাগারে সংরক্ষণ করার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছেন। জনাব নয়নের এরূপ চিন্তা-ভাবনা ব্যবসায়ের অর্থনৈতিক পরিবেশের অন্তর্গত অর্থ ও ব্যাংকিং উপাদানকে প্রভাবিত করবে।
অর্থনৈতিক পরিবেশের অন্তর্গত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, মূলধন এবং অর্থ ও ব্যাংকিং উপাদান ব্যবসায়ের কার্যক্রমকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে থাকে। উদ্দীপকের জনাব নয়ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তার ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারবেন এবং কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে সক্ষম হবেন বলে আশা করা যায়।
৪২. জনাব রিফাত উচ্চশিক্ষা শেষে তার জমানো ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ঋণ নিয়ে একটি হলুদ, মরিচ গুঁড়া করার ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। তিনি উৎপাদিত পণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করেন। ভেজালমুক্ত মানসম্মত পণ্য হওয়ায় তার ব্যবসায়টি দ্রুত উন্নতি লাভ করে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
উত্তর ঝুঁকি হলো লাভ বা লোকসানের অনিশ্চয়তা। কোনো বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা প্রকৃত আয় কম হওয়ার সম্ভাবনাই ঝুঁকি।
উত্তর যে শিল্প প্রচেষ্টায় শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে কাঁচামাল বা অর্ধ প্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে প্রস্তুত করা হয় ঐ শিল্পকে উৎপাদন শিল্প বলে। যেমন: তুলা থেকে কাপড় ও বস্ত্র উৎপাদন, খনি থেকে প্রাপ্ত লৌহ আকরিক ব্যবহার করে লৌহ ও ইস্পাত সামগ্রী উৎপাদন। এছাড়াও চিনি' শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, প্রকৌশল শিল্প, আসবাবপত্র শিল্প ইত্যাদি এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত।
উত্তর উদ্দীপকে জনাব রিফাতকে ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে অভিহিত করা যায়।
লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করাকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে। আর যে ব্যক্তি ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাকে ব্যবসায় উদ্যোক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকের জনাব রিফাত উচ্চশিক্ষা শেষে তার জমানো ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ঋণ নিয়ে একটি হলুদ, মরিচ গুঁড়া করার ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। তিনি উৎপাদিত পণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করেন। ভেজালমুক্ত মানসম্মত পণ্য হওয়ায় তার ব্যবসায়টি দ্রুত উন্নতি লাভ করে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সুতরাং জনাব রিফাতের কার্যক্রমের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় তাকে একজন ব্যবসায় উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য করা যায়।
উত্তর দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জনাব রিফাতের উদ্যোগটি অনুকরণীয় হতে পারে'- উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
ব্যবসায় উদ্যোগ নিজের এবং ব্যাপক সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ে এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব রিফাত উচ্চশিক্ষা শেষে তার জমানো ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ঋণ নিয়ে একটি হলুদ, মরিচ গুঁড়া করার ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। তিনি উৎপাদিত পণ্য প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করেন। ভেজালমুক্ত মানসম্মত পণ্য হওয়ায় তার ব্যবসায়টি দ্রুত উন্নতি লাভ করে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৩০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরূপ কর্মসংস্থানের ফলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।
ব্যবসায় উদ্যোগ যেকোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা ব্যবসায় উদ্যোগের ফলে ব্যক্তির কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সমাজের ব‍্যাপক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি পায়, আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের জনাব রিফাতের, ব্যবসায় উদ্যোগটি অনুরূপভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, যা দেশের তরুণ যুবক ও উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
৪৩. জনাব ইমন একজন ব্যবসায়ী। তিনি প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে ব্যবসায়ের কার্যক্রম শুরু করেন। তার কারখানায় অনেক শ্রমিক কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত সরকারকে আয়কর প্রদান করে থাকেন।
উত্তর শিল্পোন্নয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা পরিবেশ দূষণ।
উত্তর মানুষের ভালো-মন্দের বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিকটি গ্রহণ করাই নৈতিকতা।
ব্যবসায়িক নৈতিকতা বলতে সত্য, ন্যায় ও আদর্শের মাঝে থেকে সততার ভিত্তিতে ব্যবসায়ের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করাকে বোঝায়। ব্যবসায়িক নৈতিকতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার, আদর্শ, সততা, বিশ্বস্ততা, আইনগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করা যায়। কারণ ব্যবসায়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ সচেতন নয়। এক্ষেত্রে নৈতিকতা হলো ন্যায়নীতির পথপ্রদর্শক। যা ব্যবসায়ীকে অন্যায়, অবৈধ ও নীতি বর্জিত কাজ থেকে বিরত রাখে।
উত্তর জনাব ইমন সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন।
একজন ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে যেসব কাজ করেন, তাকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বলে। মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জনহিতকর কাজ, জাতীয় দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকা রক্ষা করা, পণ্যের মজুতদারি না করা প্রভৃতি কাজগুলো একজন ব্যবসায়ীর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ।
উদ্দীপকের জনাব ইমন একজন ব্যবসায়ী। তিনি প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে ব্যবসায়ের কার্যক্রম শুরু করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে, জনাব ইমন এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন; যা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কাজ করছে।
উত্তর জনাব ইমন রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
একজন ব্যবসায়ী যখন জনগণের স্বার্থরক্ষা করে ব্যবসায় পরিচালনা করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন এবং সরকারকে নিয়মিত কর প্রদান করেন, তাকে রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকের জনাব ইমন একজন ব্যবসায়ী। তিনি প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। পরিবেশ দূষণ থেকে এলাকা রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে ব্যবসায়ের কার্যক্রম শুরু করেন। তার কারখানায় অনেক শ্রমিক কর্মরত আছেন। তিনি নিয়মিত সরকারকে আয়কর প্রদান করে থাকেন। এরূপ কাজের মাধ্যমে জনাব ইমনের রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়।
জনগণের স্বার্থরক্ষা করে ব্যবসায় পরিচালিত হোক এটাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য। ব্যবসায় স্থাপন ও অগ্রগতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জনগণের চাহিদা মেটানো হলে অর্থাৎ পণ্য বা সেবা প্রদানের পাশাপাশি নিয়মিত কর প্রদান করা হলে সরকার খুশি থাকে। এতে ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন হয়। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের জনাব ইমন যথাযথভাবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন; যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
৪৪. জনাব রাকিব সরিষা থেকে ভোজ্যতেল তৈরি করার একটি কারখানা স্থাপন করেন। উৎপাদিত ভোজ্যতেল বোতলজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়। তার পণ্য অন্যদের পণ্য থেকে স্বতন্ত্র এবং একচেটিয়া মালিকানা পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। তার উৎপাদিত বোতলজাত সরিষার তেল সহজেই চেনার উপায় হিসেবে প্রতিটি মোড়কের গায়ে 'U' অক্ষরটি ব্যবহার করা হয়।
উত্তর পণ্যের মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানটি হলো বিএসটিআই।
উত্তর মানুষের জীবন ও সম্পদকে ঘিরে যে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান তার বিপক্ষে আর্থিক প্রতিরক্ষামলুক ব্যবস্থাকে বিমা বলে।
ঝুঁকি থেকেই মূলত বিমার উৎপত্তি হয়েছে। বিমাতে দুটি পক্ষ থাকে- একপক্ষ হলো বিমাকারী এবং অপরপক্ষ হলো বিমাগ্রহীতা। সুতরাং বিমা হলো বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত এক ধরনের চুক্তি। এ চুক্তির শর্তানুযায়ী এক বা একাধিক ঝুঁকি বহনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম বা চাঁদার বিনিময়ে সমুদয় বা আংশিক বা নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকির দায়ভার বিমাগ্রহীতা বিমাকারীর নিকট অর্পণ করে। বিমাচুক্তির শর্তানুযায়ী বিমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকে।
উত্তর উদ্দীপকে জনাব রাকিবের উৎপাদিত পণ্যের একচেটিয়া মালিকানা পাওয়ার মাধ্যমটি হলো ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। এক্ষেত্রে ট্রেডমার্কের রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে উক্ত পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে প্রতীকটি ব্যবহারের বিষয়ে রেজিস্টার্ড মালিককে একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার প্রদান করে।
উদ্দীপকের জনাব রাকিব সরিষা থেকে ভোজ্যতেল তৈরি করার একটি কারখানা স্থাপন করেন। উৎপাদিত ভোজ্যতেল বোতলজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়। তার পণ্য অন্যদের পণ্য থেকে স্বতন্ত্র এবং একচেটিয়া মালিকানা পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন; যা ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। তাই বলা যায়, জনাব রাকিবের উৎপাদিত পণ্যের একচেটিয়া মালিকানা পাওয়ার মাধ্যমটি হলো ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন।
উত্তর জনাব রাকিব উৎপাদিত পণ্যের গায়ে 'U' চিহ্ন ব্যবহারের ফলে প্রতীকটি ব্যবহারে একচ্ছত্র অধিকারের পাশাপাশি নানাবিধ সুবিধা পাবেন।
ব্যবসায় ক্ষেত্রে কোনো পণ্যকে অন্যের অনুরূপ বা অভিন্ন পণ্য হতে স্বতন্ত্র করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত চিহ্ন বা প্রতীককে ট্রেডমার্ক বলে। স্বাতন্ত্র্যতাই চিহ্ন, মার্ক বা প্রতীকের মূল বিষয়।
উদ্দীপকের জনাব রাকিব সরিষা থেকে ভোজ্যতেল তৈরি করার একটি কারখানা স্থাপন করেন। উৎপাদিত ভোজ্যতেল বোতলজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়। তার পণ্য অন্যদের পণ্য থেকে স্বতন্ত্র এবং একচেটিয়া মালিকানা পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন। তার উৎপাদিত বোতলজাত সরিষার তেল সহজেই চেনার উপায় হিসেবে প্রতিটি মোড়কের গায়ে 'U' অক্ষরটি ব্যবহার করা হয়; যা ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রতীকের স্বত্বাধিকারী একাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।
পণ্যে ব্যবহৃত প্রতীক, অক্ষর বা শব্দ রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে, সেখান থেকে এর স্বত্বাধিকারী একটি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে জনাব রাকিব 'U' চিহ্ন ব্যবহারে একচ্ছত্র স্বত্ব বা অধিকার লাভ করবেন। এছাড়াও তার অনুমতি ব্যতীত কেউ উক্ত চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যান্য পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রেও এরূপ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। উক্ত অধিকার আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত অধিকার লঙ্ঘন করতে আদালতে মামলা করে আইনগত প্রতিকার পাওয়া যাবে। মূলত 'U' চিহ্নটির ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমেই জনাব রাকিব উল্লিখিত সুবিধাদি প্রাপ্ত হবেন।
৪৫. রহিমা একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুলা আর চালুন তৈরি করে হাটের দিন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বেশ ভালোই মুনাফা অর্জন করেছেন। তার কাজটি দেখে প্রতিবেশী লামিয়াও উদ্বুদ্ধ হয়ে অনুরূপ আর একটি কারখানা স্থাপন করেন।
উত্তর যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সেবামূলক কর্ম সম্পাদিত হয় সেসব শিল্পকে সেবাশিল্প বলে।
উত্তর যে সকল অঞ্চলে আর্থসামাজিক অবকাঠামো অনুন্নত তাকে অনুন্নত এলাকা বলা হয়।
দেশের সকল এলাকা সমানভাবে উন্নত নয়। ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলাতে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কতিপয় সমস্যা ও বাধার কারণে বাংলাদেশে উন্নয়নের গতিও মন্থর। প্রধানত অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো যেমন- অনুন্নত রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগা ব্যবস্থা যে সকল এলাকায় পরিলক্ষিত হয় সেটিকে অনুন্নত এলাকা বলা হয়।
উত্তর রহিমার কাজটি কুটিরশিল্পের অন্তর্গত।
কুটিরশিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১৫-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটিরশিল্প পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের রহিমা একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুলা আর চালুন তৈরি করে হাটের দিন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বেশ ভালোই মুনাফা অর্জন করেছেন। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রহিমা নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিল্পটি গড়ে তুলেছেন; যা কুটিরশিল্পের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
উত্তর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রহিমা ও লামিয়ার গঠিত কুটির শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
কুটিরশিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যবিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটিরশিল্প পরিচালিত হয়। তারা পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সময়ে উৎপাদন বা সেবা কাজে জড়িত থাকে।
উদ্দীপকে রহিমা একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুলা আর চালুন তৈরি করে হাটের দিন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বেশ ভালোই মুনাফা অর্জন করেছেন। তার কাজটি দেখে প্রতিবেশী লামিয়াও উদ্বুদ্ধ হয়ে অনুরূপ আর একটি কারখানা স্থাপন করেন। এতে দেশে উৎপাদন ও ভোগ-ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে; যা জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সাধারণত ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে কুটির শিল্প গড়ে উঠে। নানারকম কুটিরশিল্প আমাদের দেশকে করেছে সমৃদ্ধ। স্থানীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা কুটিরশিল্প ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথকে সুগম করেছে। উদ্দীপকের রহিমা বেগমের সফলতা দেখে প্রতিবেশী লামিয়াও অনুরূপ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছে এবং সফলতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তথা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের উক্ত কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
৪৬. মিস সায়মা আক্তার পড়াশুনা শেষ করে চাকরির চিন্তা না করে স্থানীর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার নিজের জমানো টাকা ও স্থানীয় এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে 'নকশি কাঁথা' নামে একটি শপ গড়ে তোলেন এবং ৫ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করায় তিনি ব্যবসায় সফলতা লাভ করেন।
উত্তর সরকার নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যে সময় পর্যন্ত করের আওতার বহির্ভূত থাকার সুযোগ দেয়, ঐ সময়কালকে কর অবকাশ বলে।
উত্তর

দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিটাক (BITAC) প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিটাক (BITAC) দেশের শিল্পায়ন ও শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে কার্যাবলি সম্পাদন করে তার মধ্যে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ দান, নতুন ডিজাইন ও যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিত করা, যন্ত্রপাতি স্থাপনে উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে উপদেশ প্রদান, বিভিন্ন প্রকাশনা, সেমিনার, প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র ইত্যাদির মাধ্যমে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানদান প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উত্তর মিস সায়মা আক্তার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে উদ্দীপনামূলক সহায়ক সেবা পেয়েছেন।
বিভিন্ন প্রকার অনুপ্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিতকরণ, শিল্প স্থাপনে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার, কারিগরি ও অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহ এবং পরামর্শ দানকে উদ্দীপনামূলক সহায়তা বলে।
উদ্দীপকের মিস সায়মা আক্তার পড়াশুনা শেষ করে চাকরির চিন্তা না করে স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার নিজের জমানো টাকা ও স্থানীয় এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে 'নকশি কাঁথা' নামে একটি শপ গড়ে তোলেন এবং ৫ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে, মিস সায়মা স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে একটি বুটিক শপ গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে উক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ উদ্দীপনামূলক সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।
উত্তর

মিস সায়মা আক্তারকে একজন নারী উদ্যোক্তা বলা যায়।
যদি কোনো নারী ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারী হন কিংবা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে অন্যূন ৫১% (শতকরা একান্ন ভাগ) অংশের মালিক হন, তাহলে তিনি নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিগণিত হবেন।
উদ্দীপকের মিস সায়মা আক্তার পড়াশুনা শেষ করে চাকরির চিন্তা না করে স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার নিজের জমানো টাকা ও স্থানীয় এনজিও থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে 'নকশি কাঁথা' নামে একটি শপ গড়ে তোলেন এবং ৫ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করায় তিনি ব্যবসায় সফলতা লাভ করেন। এখানে তিনি নিজেই বুটিক শপের মালিক হওয়ায়, তাকে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য করা যায়।

আমাদের দেশের নারী সমাজের নিষ্ঠা, আগ্রহ, উদ্ভাবনশক্তি ও নিপুণতা রয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রো ক্রেডিট কার্যক্রম ও পোশাক শিল্পে নারীদের অব্যাহত অংশগ্রহণ শিল্পায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের মিস সায়মা আক্তারও হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেই একটি বুটিক শপ প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠানের ৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এভাবে তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে পরিচিতি পেতে থাকেন।

৪৭. "স্বদেশী পণ্য গ্রহণ কর আর বিদেশি পণ্য বর্জন কর” এই শ্লোগানের উপর ভিত্তি করে জনাব হাসনাইন কুমিল্লা জেলার বাহাদুরপুর গ্রামে খাদি কাপড় তৈরি করতে আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি কিছু দক্ষ তাঁতি দিয়ে হাতে চালানো তাঁতের দ্বারা খাদি পোশাক তৈরি করেন। বর্তমানে দক্ষ তাঁতিদের অনেকে মারা যাওয়ায় তিনি তাঁতের পরিবর্তে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নতুন মেশিন ক্রয়ের মাধ্যমে খাদি পোশাক তৈরি করেন। এতে উৎপাদন ও পোশাকের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
উত্তর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে।
উত্তর

সেবা শিল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আরামদায়ক হয়।

যে শিল্প মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়োজিত থাকে, তাকে সেবা পরিবেশন শিল্প বলে। যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও পানি সরবরাহ সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

জনাব হাসনাইনের ব্যবসায়টির ধরন হলো শিল্প।
প্রকৃতিপ্রদত্ত সম্পদ সংগ্রহ বা ব্যবহার করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য ও সেবা উৎপাদনের সামগ্রিক কর্মপ্রচেষ্টাকে শিল্প বলে। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সম্পদের রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা শিল্পের কাজ।

উদ্দীপকের জনাব হাসনাইন কিছু দক্ষ তাঁতি দিয়ে হাতে চালানো তাঁতের দ্বারা খাদি পোশাক তৈরি করেন। পরবর্তীতে দক্ষ তাঁতির অভাব দেখা দেওয়ায় হাতে খাদি পোশাক তৈরি বদলে মেশিনে খাদি পোশাক তৈরি করেন। তার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উপকরণসমূহ ব্যবহার করে খাদি পোশাক তৈরি করেন। তাই তার পোশাক উৎপাদন শিল্পের আওতাভুক্ত।

উত্তর জনাব হাসনাইনের ব্যবসায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের ভূমিকা অপরিসীম।
ব্যবসায় পরিবেশের উপাদানগুলো ব্যবসায়-বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে থাকে। আর এ সকল উপাদানের ওপরই মূলত কোনো অঞ্চলের ব্যবসায়ের উন্নতি বা অবনতি নির্ভর করে।
উদ্দীপকের জনাব হাসনাইন দক্ষ তাঁতির সাহায্যে হাতে চালানো তাঁতের দ্বারা খাদি পোশাক তৈরি করেন। দক্ষ তাঁতি সামাজিক পরিবেশের আওতাভুক্ত। মূলত তিনি ব্যবসায়ের শুরুর সময় অনুকূল সামাজিক পরিবেশের সাহায্যে খাদি পোশাক উৎপাদন করতে সক্ষম হন। তাছাড়াও তিনি নতুন মেশিন ক্রয়ের জন্য ব্যাংক ঋণ সহায়তা পেয়েছেন।
জনাব হাসনাইন অনুকূল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছেন। মূলত অনুকূল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশ অনুকূলে থাকায় তিনি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই বলা যায়, জনাব হাসনাইনের ব্যবসায় উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পরিবেশের উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।
৪৮. নিম্নে জনাব আরমানের কার্যাবলি 'ক' ও 'খ' নামে দুটি ছকে দেওয়া হলো:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যেকোনো সময় পণ্য অথবা সেবার চাহিদা কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্জিত মুনাফা কমে যেতে পারে। এই সম্ভাবনাই ব্যবসায়িক ঝুঁকি।
উত্তর দেশ ও জনগণের কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ঐ দেশের সরকার কর্তৃক যে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয় তাকেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বলা হয়।
সাধারণত সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোনো সৎ প্রচেষ্টা, উদ্যোগ বা কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করার জন্য প্রদত্ত সাহায্যকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সরকার মূলত কর মওকুফ, ভর্তুকি প্রদান, কর অবকাশ, বিনা সুদে মূলধন সরবরাহ প্রভৃতি উপায়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণ সম্ভব।
উত্তর উদ্দীপকে ছক 'ক'-এর কর্মকাণ্ডকে উদ্যোগ বলে।
সাধারণ অর্থে যেকোনো কাজের কর্মপ্রচেষ্টাই উদ্যোগ। অতএর. উদ্যোগ ব্যবসায় কিংবা, জনহিতকর উভয়ই হতে পারে। ব্যবসায় উদ্যোগের উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন আর অন্যান্য উদ্যোগের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ। মূলত ব্যবসায় মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হলেও জনহিতকর কাজ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয় না।
উদ্দীপকের 'ক' ছকের রয়েছে (১) নিজ গ্রামে পাঠাগার স্থাপন (২) বাড়িতে ছাদ বাগান করার চেষ্টা (৩) আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং (৪) শিক্ষা সফরের আয়োজন; এক্ষেত্রে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য নেই এবং লোকসানের ঝুঁকিও নেই। তাই 'ক' ছকের বিষয়গুলো শুধুই উদ্যোগ।
উত্তর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জনাব আরমানের ছক 'খ'-এর কার্যাবলির গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক।
একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপন নির্ভর করে ঐ দেশের উদ্যোক্তাদের ওপর। বাংলাদেশ একটি স্বল্পায়তনের জনবহুল দেশ। এদেশে এখনও অর্থনৈতিকভাবে আশানুরূপ উন্নয়ন সাধিত হয়নি। এদেশে বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠার মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যথেষ্ট প্রাচুর্য রয়েছে। শুধু ব্যবসায়ের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।
উদ্দীপকে ছক 'খ'-তে উল্লিখিত (১) ফটোকপির দোকান স্থাপন (২) শোপিস তৈরি ও বিক্রয় (৩) খাদ্যজাত দ্রব্যাদি উৎপাদন (৪) কাঠের আসবাবপত্র তৈরির ব্যবসায় স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। তাই এসব বিষয় ব্যবসায় উদ্যোগ। উদ্যোক্তাগণ ব্যবসায় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যবসায় স্থাপন এবং দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম। আর এ অবদানের প্রেক্ষিতে বিশেষ করে সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, স্বাবলম্বিতা অর্জন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিসহ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। ফলে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়। ফলশ্রুতিতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তিনি তথা তার প্রতিষ্ঠান অবদান রাখার সুযোগ পাবে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক।
৪৯. মেহেদী ২০২০ সালে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে, কয়েকজন বন্ধুসহ 'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' নামে একটি গাড়ি কোম্পানি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্প গ্রহণের সময় তারা পুরো কর্মকান্ডের দীর্ঘমেয়াদি একটি আর্থিক বিবরণী ছক প্রণয়ন করেন। বাজার জরিপ করে পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট মূলধন নিজেদের না থাকায় মূলধন সংগ্রহের বিকল্প উৎসও নির্ধারণ করেন। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনীতিতে কীভাবে অবদান রাখতে পারবে তারও একটি ছক নির্ধারণ করেন।
উত্তর সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ ব্যবসায়ের এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যখন আয়-ব্যয় সমান হয়।
উত্তর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
সঠিক ব্যবসায় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাট ভূমিকা পালন করে। শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে। যেমন তুলা থেকে সুতা তৈরি হয়। অতঃপর সুতা থেকে বস্ত্র তৈরি করা হয়।
উত্তর 'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.' এর প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী মূলধন ও চলতি মূলধন প্রয়োজন।
স্থায়ী খরচ সাধারণত ব্যবসায়ের শুরুর সময় একবারই করতে হয়। যেমন- দোকান ভাড়া অগ্রিম, আসবাবপত্র ও সাজসজ্জা ব্যয় ইত্যাদি। আর স্থায়ী মূলধন দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে সংগ্রহ করাই উত্তম।
পক্ষান্তরে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন খরচ চালিয়ে রাখার জন্য চলতি মূলধন প্রয়োজন। যেমন- কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ খরচ, দোকান ভাড়া ইত্যাদি। আর চলতি মূলধনের জন্য স্বল্পমেয়াদি উৎসই উত্তম।
উত্তর 'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ' প্রকল্পটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর উপাদানসমূহ বিবেচনা করায় প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমি মনে করি।
মাইক্রোস্ক্রিনিং হলো বাজার চাহিদা, কারিগরি, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিস্তারিত প্রক্রিয়া। চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচনের জন্য প্রকল্পটির যথার্থতা আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকের জনাব মেহেদী ২০২০ সালে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে কয়েকজন বন্ধুসহ 'রায়না অটোমোবাইলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ' নামে একটি গাড়ি কোম্পানি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেন। তিনি উক্ত প্রকল্প গ্রহণের সময় বাজার জরিপ করেন যা মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর বাজার চাহিদার আওতাভুক্ত। তাছাড়াও তিনি প্রকল্পটির জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করেন যা মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর আওতাভুক্ত।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর কারিগরি দিক যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সহজসাধ্যতা ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে উক্ত প্রকল্পের বাণিজ্যিক লাভজনকতা নির্ধারণ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য, আনুমানিক লাভ ইত্যাদি বিষয় খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হয়। তাছাড়াও প্রকল্পটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় নিরূপণ, অর্থায়নের উপায়, মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য লাভ ইত্যাদি হিসেব করে প্রকল্প বাছাই করতে হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রকল্পটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর উপাদানসমূহ বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান।
৫০. জনাব নাবিলের কুষ্টিয়ায় কাপড় তৈরির একটি কারখানা রয়েছে। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সময়মতো বেতন ও মজুরি প্রদান করেন। তিনি ন্যায্য ও সঠিক মূল্যে কাপড় বিক্রি করেন। এতে তার ব্যবসায়ে প্রচুর মুনাফা অর্জিত হয়। কিন্তু তিনি নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করেন না। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে যেখানে সেখানে ফেলেন। এ কারণে স্থানীয় লোকজন তার উপর ক্ষুব্ধ।
উত্তর ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে মুনাফা অর্জনের সাথে সমাজের কিছু মঙ্গলময় বা কল্যাণমূলক কাজ করাকে বোঝায়।
উত্তর ব্যবসায়ের পরিচালনাগত বিষয়ে ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মতামত প্রভৃতিকে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ বলে।
ব্যবসায়িক মূল্যবোধে সমাজ ও পরিবেশ উপযোগী পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সততা ও ন্যায়ের সাথে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে ব্যবসায়ীকে ন্যায়, অন্যায়, সত্য-অসত্য প্রভৃতি বিষয় মেনে ব্যবসায় করতে হয়। আর মূল্যবোধ মেনে চললে সমাজের মানুষ ন্যায্য অধিকার পায়। সুষ্ঠু সমৃদ্ধিশালী ও স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা গঠনে ব্যবসায়িক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উত্তর জনাব নাবিলের ব্যবসায়টি পরিবেশের বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ করে।
বিভিন্ন ধরনের শিল্পবর্জ্য ও আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার ফলে পরিবেশে যে দূষণের সৃষ্টি হয় তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।
বসবাস ও ব্যবসায়ের জন্য বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় বাধার সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষণ। কারণ বিভিন্ন শিল্পবর্জ্য পদার্থ পানিতে নিক্ষেপের ফলে তা পানি দূষিত করে। আবার যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে। অনেক সময় বসবাসের জন্য নির্বিচারে বন উজাড় করা হয়। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও এ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। আর এ দূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
উদ্দীপকের জনাব নাবিল একটি কাপড় কারখানার মালিক। তিনি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে যেখানে সেখানে ফেলেন। ফলে ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধ বাতাসের সাথে মিশে উক্ত এলাকার বায়ু দূষণ ঘটে। তাছাড়া যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলায় ক্ষতিকারক পলিথিন মাটির সাথে মিশে ফলে মাটি দূষিত হয় এবং মাটির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। তাছাড়া ময়লা আবর্জনার সাথে কারখানার বিষাক্ত পদার্থ যত্রতত্র ফেলার কারণে উক্ত এলাকার পানির সাথে মিশে পানিকেও দূষিত করে।
উত্তর জনাব নাবিলের ব্যবসায়টি শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতি এবং ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেছে বলে আমি মনে করি।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে নিজের মুনাফা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয় রাষ্ট্র, সমাজ, ক্রেতা ও কর্মচারী।
উদ্দীপকের জনাব নাবিল একটি কাপড়' কারখানার মালিক। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সময়মতো বেতন ও মজুরি প্রদান করেন। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীরা উপকৃত হয়। এতে স্পষ্ট যে, তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
তাছাড়াও তিনি ন্যায্য ও সঠিক মূল্যে কাপড় বিক্রির মধ্য দিয়ে ক্রেতা ও ভোক্তার প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করেছেন। সুতরাং জনাব নাবিল শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি এবং ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেছেন।
১৪৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টি দেখানো হচ্ছে