অধ্যায়-১: জীবন পাঠ

১. নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের গঠন, বিভিন্ন অঙ্গের কার্যাবলি ও জৈব প্রক্রিয়াগুলো পদার্থবিজ্ঞানের নীতি ও পদ্ধতির সাহায্যে আলোচনা করা হয়, তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে।
উত্তর ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম সুসংবদ্ধভাবে প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নামকে গণনাম ও প্রজাতিক নাম—এই দুটি ল্যাটিন পদে প্রকাশের নিয়ম প্রবর্তন করেন। তাঁর প্রবর্তিত পদ্ধতিই বিশ্বব্যাপী গৃহীত হওয়ায় তাঁকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।
উত্তর চিত্রের Z হলো শৈবালজাতীয় Protista। এ রাজ্যের জীব প্রকৃতকোষী; অধিকাংশ এককোষী, উপনিবেশিক বা সরল বহুকোষী। নিউক্লিয়াস সুগঠিত ও ঝিল্লিবেষ্টিত এবং মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড প্রভৃতি অঙ্গাণু থাকে। পুষ্টি স্বভোজী, পরভোজী বা উভয়ভাবেই হতে পারে। অযৌন জননের পাশাপাশি কনজুগেশন বা গ্যামেটের মিলনে যৌন জননও ঘটে; তবে ভ্রূণ গঠিত হয় না।
উত্তর চিত্রের X মাশরুমজাতীয় Fungi এবং Y নস্টকজাতীয় Monera। X অধিক উন্নত। কারণ Fungi-এর কোষ প্রকৃতকোষী—সুসংগঠিত ঝিল্লিবেষ্টিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু আছে; দেহ হাইফা ও মাইসেলিয়াম দ্বারা গঠিত এবং জনন তুলনামূলক বৈচিত্র্যময়। বিপরীতে Monera আদিকোষী; প্রকৃত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই। তাই গঠন ও কোষীয় সংগঠনের বিচারে X, Y-এর চেয়ে উন্নত।
২. নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যাবলি আলোচনা করা হয়, তাকে শারীরবিদ্যা বা Physiology বলে।
উত্তর পরিণত নিউরন অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং সাধারণত সেন্ট্রিওল অনুপস্থিত; তার ক্রোমাটিনও বিভাজনের উপযোগী অবস্থায় থাকে না। তাই স্পিন্ডল যন্ত্র গঠন করে মাইটোসিস সম্পন্ন করতে পারে না এবং সাধারণত বিভাজিত হয় না।
উত্তর চিত্রের X এককোষী শৈবালজাতীয় Protista। এ রাজ্যের জীব প্রকৃতকোষী; নিউক্লিয়ার ঝিল্লিবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে। তারা এককোষী, উপনিবেশিক বা সরল বহুকোষী হতে পারে; পুষ্টি স্বভোজী, পরভোজী বা মিশ্র এবং অযৌন ও যৌন উভয়ভাবে জনন ঘটে, কিন্তু ভ্রূণ গঠিত হয় না।
উত্তর Y Plantae ও Z Animalia রাজ্যের জীব। উভয়ই বহুকোষী প্রকৃতকোষী; কিন্তু উদ্ভিদকোষে সেলুলোজ প্রাচীর, প্লাস্টিড ও বড় রসধানী থাকে, প্রাণিকোষে এগুলো থাকে না। উদ্ভিদ ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্বভোজী ও সাধারণত স্থির; প্রাণী পরভোজী, অধিকাংশ সচল এবং স্নায়ু-পেশি টিস্যু সুগঠিত। উদ্ভিদে খাদ্য শ্বেতসাররূপে, প্রাণীতে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চিত হয়। উভয়ের যৌন জননে ভ্রূণ গঠিত হলেও Animalia-র অঙ্গতান্ত্রিক সংগঠন সাধারণত অধিক জটিল।
৩. রাতুলের বয়স ১৮ এবং উচ্চতা ১২৮ সে. মি. এবং ওজন ৭০ কেজি।
উত্তর থাইরয়েড গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গলার সামনের অংশ ফুলে যাওয়ার রোগকে গয়টার বলে; খাদ্যে আয়োডিনের অভাব এর প্রধান কারণ।
উত্তর লাইপেজ চর্বির এস্টার বন্ধনে পানি যুক্ত করে হাইড্রোলাইসিস ঘটায় এবং চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভেঙে দেয়। পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ইমালসিফাই করলে লাইপেজের কাজ আরও সহজ হয়।
উত্তর

রাতুলের উচ্চতা = ১২৮ সেমি = ১.২৮ মিটার এবং ওজন = ৭০ কেজি।

BMI = ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার²)

= ৭০ ÷ (১.২৮)²

= ৭০ ÷ ১.৬৩৮৪

≈ ৪২.৭২ কেজি/মিটার²।

অতএব রাতুলের BMI প্রায় ৪২.৭২, যা অতিরিক্ত স্থূলতার পর্যায়ে পড়ে।

উত্তর রাতুলের BMI প্রায় ৪২.৭২; এটি স্থূলতার উচ্চ ঝুঁকির মাত্রা। তার চিকিৎসক/পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ও নিরাপদে ওজন কমাতে হবে। ক্যালরিবহুল ভাজা, ফাস্টফুড, মিষ্টি ও কোমল পানীয় কমিয়ে শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য ও পরিমিত আমিষসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য নিতে হবে; নিয়মিত উপযোগী ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ওজন পর্যবেক্ষণ জরুরি। রক্তচাপ, রক্তের শর্করা, লিপিড ও হরমোন পরীক্ষা করে প্রয়োজনে চিকিৎসা নিতে হবে; আকস্মিক অনাহার বা নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না।
৪. নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর নিষেকের ফলে পুংগ্যামেট ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে যে ডিপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি হয়, তাকে জাইগোট বলে।
উত্তর পরপরাগায়ণে এক উদ্ভিদের ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য উদ্ভিদের ফুলে যায়। ফলে ভিন্ন জিনসমষ্টির সংমিশ্রণ ও পুনর্সংযোজনে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়; তাই পিতৃ-মাতৃ বৈশিষ্ট্য অবিকল থাকে না এবং প্রজাতির বিশুদ্ধতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়।
উত্তর চিত্রের B হলো ডিম্বক। পরাগায়নের পর পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি তৈরি করে; নালি গর্ভদণ্ড পেরিয়ে মাইক্রোপাইল দিয়ে ভ্রূণথলিতে পৌঁছে দুই পুংগ্যামেট ছাড়ে। একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে 2n জাইগোট এবং অন্যটি দুই মেরুনিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হয়ে 3n প্রাথমিক শস্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। একই ভ্রূণথলিতে এ দুই মিলনকে দ্বিনিষেক বলে। পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হয়।
উত্তর চিত্রের A পরাগধানী ও B ডিম্বক—পুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের প্রধান কাঠামো। পরাগধানীতে মিয়োসিসে পরাগরেণু/পুংগ্যামেট তৈরি হয়; ডিম্বকের ভ্রূণথলিতে ডিম্বাণু থাকে। পরাগায়নের পর পুংগ্যামেট B-তে পৌঁছে দ্বিনিষেক ঘটায়, জাইগোট ও শস্য সৃষ্টি করে। ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। ফলে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়, বৈশিষ্ট্যের পুনর্সংযোজন ও প্রকরণ সৃষ্টি হয় এবং প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষিত থাকে—তাই A ও B অপরিহার্য।
৫. মিতু জীববিজ্ঞান বই পড়ে প্যারামেসিয়াম, ইস্ট এবং সিংহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করলো। এগুলো জীব জগতের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর জবা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus rosa-sinensis
উত্তর Penicillium-এর কোষে নিউক্লিয়ার ঝিল্লিবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস, ক্রোমোজোম এবং মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু প্রভৃতি ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু আছে। তাই এটি প্রকৃতকোষী।
উত্তর প্রথম জীব প্যারামেসিয়াম Protista রাজ্যের এককোষী প্রকৃতকোষী। এর সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু আছে; দেহে সিলিয়া চলন ও খাদ্যগ্রহণে সাহায্য করে। এটি পরভোজী, খাদ্যগহ্বরে অন্তঃকোষীয় পরিপাক করে, দ্বিখণ্ডনে অযৌন এবং কনজুগেশনে যৌন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে; ভ্রূণ গঠিত হয় না।
উত্তর প্যারামেসিয়াম Protista, ইস্ট Fungi এবং সিংহ Animalia রাজ্যের। প্যারামেসিয়াম এককোষী প্রকৃতকোষী ও সিলিয়াযুক্ত; ইস্ট এককোষী ছত্রাক, কাইটিনযুক্ত কোষপ্রাচীরবিশিষ্ট, শোষণপদ্ধতিতে পরভোজী এবং কুঁড়ি সৃষ্টি করে; সিংহ বহুকোষী, কোষপ্রাচীরহীন, টিস্যু-অঙ্গতন্ত্রসমৃদ্ধ, খাদ্য গলাধঃকরণকারী ও সচল প্রাণী। তাই কোষীয় সংগঠন, পুষ্টি, চলন ও জননের বৈশিষ্ট্যে তিনটি জীব তিন ভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
৬. রাতুলের বয়স ১৮, উচ্চতা ১২৮ সে. মি. ও ওজন ৭০ কেজি।
উত্তর থাইরয়েড গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গলার সামনের অংশ ফুলে যাওয়ার রোগকে গয়টার বলে; খাদ্যে আয়োডিনের অভাব এর প্রধান কারণ।
উত্তর লাইপেজ চর্বির এস্টার বন্ধনে পানি যুক্ত করে হাইড্রোলাইসিস ঘটায় এবং চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভেঙে দেয়। পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ইমালসিফাই করলে লাইপেজের কাজ আরও সহজ হয়।
উত্তর

রাতুলের উচ্চতা = ১২৮ সেমি = ১.২৮ মিটার এবং ওজন = ৭০ কেজি।

BMI = ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা² (মিটার²)

= ৭০ ÷ (১.২৮)²

= ৭০ ÷ ১.৬৩৮৪

≈ ৪২.৭২ কেজি/মিটার²।

অতএব রাতুলের BMI প্রায় ৪২.৭২, যা অতিরিক্ত স্থূলতার পর্যায়ে পড়ে।

উত্তর রাতুলের BMI প্রায় ৪২.৭২; এটি স্থূলতার উচ্চ ঝুঁকির মাত্রা। তার চিকিৎসক/পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ও নিরাপদে ওজন কমাতে হবে। ক্যালরিবহুল ভাজা, ফাস্টফুড, মিষ্টি ও কোমল পানীয় কমিয়ে শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য ও পরিমিত আমিষসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য নিতে হবে; নিয়মিত উপযোগী ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ওজন পর্যবেক্ষণ জরুরি। রক্তচাপ, রক্তের শর্করা, লিপিড ও হরমোন পরীক্ষা করে প্রয়োজনে চিকিৎসা নিতে হবে; আকস্মিক অনাহার বা নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না।
৭. নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বিভিন্ন তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই ভৌত জীববিজ্ঞান।
উত্তর

ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় রয়েছে জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রয়োগিক বিষয়গুলো। চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো মানবদেহ, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান যা প্রয়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।

যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রায়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রের P জীবটি হলো মাশরুম। মাশরুম এর বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার রাজ্যগত অবস্থান সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব। নিচে মাশরুমের বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করা হলো- এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।

এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।

হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত, তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না। উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং মাশরুমের অবস্থান জীবজগতের ফানজাই রাজ্যে।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-Q হলো ব্যাকটেরিয়া এবং চিত্র-R হলো ডায়াটম। এরা যথাক্রমে মনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। উপরোক্ত জীব দুটির মধ্যে অ্যামিবা অধিক উন্নত। মনেরা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী, ফিলামেন্টাস (একটির পর একটি কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে) কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নাই।

এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ-পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। ব্যাকটেরিয়া এ রাজ্যের সদস্য।

অন্যদিকে, প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। খাদ্য গ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এইরূপ দুই গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না। অ্যামিবা এ রাজ্যের সদস্য। উপর্যুক্ত রাজ্যদ্বয়ের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মনেরা রাজ্যের জীব ব্যাকটেরিয়া অপেক্ষা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব ডায়াটম বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে অধিক উন্নত।

৮. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কোষ বিভাজনকালে নিউক্লিয়াসের বিভাজনই হচ্ছে ক্যারিওকাইনেসিস।
উত্তর

মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়।

এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে - এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।

উত্তর

উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র 'X' ও 'Y' দ্বারা যথাক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে উল্লেখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াদ্বয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো- মাইটোসিস বিভাজন সাধারণত জীবের দৈহিক কোষে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, মিয়োসিস বিভাজন সাধারণত জীবের জনন কোষে হয়ে থাকে। মাইটোসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। মিয়োসিস বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।

মাইটোসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। কিন্তু মিয়োসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। মাইটোসিস বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। অপরদিকে মিয়োসিস বিভাজনে অপত্য কেষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে।

মাইটোসিস বিভাজনে সাধারণত ক্রসিংওভার হয় না। মিয়োসিস বিভাজনে সাধারণত ক্রসিংওভার হয়। মাইটোসিস বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয়। অপরদিকে মিয়োসিস বিভাজনে অপত্য ক্রোমোজোম মাতৃকোষের ক্রোমোজোম হতে ভিন্নতর গুণসম্পন্ন হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-X এর বিভাজনটি মাইটোসিস, যা কোষের নিয়ন্ত্রিত বিভাজন প্রক্রিয়া। যদি এই বিভাজন নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে থাকে, যার ফলে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার, এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।

প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অর্বুদ সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়।

ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ, তথা ক্যান্সার। ক্যান্সার কোষও নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।

৯. ফল পাকাতে, মাছ সংরক্ষণে এবং সবজিকে পোকামুক্ত রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করেন। এসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে মানুষের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যেমন- কিডনি বিকল।
উত্তর রেনাল ক্যাপসুল: বৃদ্ধ সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্ত্রময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
উত্তর

প্রতিটি বৃক্কে এক বিশেষ ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা - সংগ্রাহী নালিকা এই দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত।

নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।

উত্তর

উদ্দীপকের ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গটি বৃক্ক; সংযুক্ত লম্বচ্ছেদে রেনাল ক্যাপসুল, কর্টেক্স, মেডুলা, পিরামিড, রেনাল পেলভিস, ধমনি-শিরা ও ইউরেটার দেখানো হয়েছে।

বাইরের ক্যাপসুলের নিচে দানাদার কর্টেক্স এবং ভেতরে পিরামিডযুক্ত মেডুলা থাকে; কর্টেক্স ও মেডুলায় নেফ্রনের বিভিন্ন অংশ বিস্তৃত।

পিরামিডের সংগ্রাহী নালির মূত্র ক্যালিক্স হয়ে রেনাল পেলভিসে জমে এবং পেলভিস থেকে ইউরেটার দিয়ে মূত্রাশয়ে যায়।

উত্তরের ছবি
উত্তর

পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের নির্মল পরিবেশের সাথে সাথে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণও অপরিহার্য। বর্তমানে বাজারে খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক দ্রব্য ভেজাল পদার্থ হিসেবে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে মূলত বাণিজ্যিক রং, অ্যান্টিবায়োটিক, কীট ও বালাইনাশক, ফরমালিন, হেভি মেটাল। উল্লেখযোগ্য।

যেসব মাছ, গৃহপালিত পশু ও হাঁস-মুরগি ইত্যাদিকে অননুমোদিত দ্রব্য দিয়ে তৈরি খাদ্য খাওয়ানো হয় তা মানবশরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। বাণিজ্যিক রং যা কাপড় কিংবা রঙের কাজে ব্যবহার করা হয় তা বিভিন্ন খাদ্য যেমন- আইসক্রিম, গোলা আইসক্রিম, লজেন্স, বেগুনি, বড়া ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এসব খাবার ধীরে ধীরে যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট করে নানাবিধ রোগের কারণ হয়। ফরমালিনে ডুবানো মাছ, ফল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে না বলে কয়েকদিন টাটকা দেখা যায়।

মাছের ফরমালিন রান্না করা হলেও থেকে যায় এবং মানবদেহে প্রবেশ। করে। এই বিষাক্ত পদার্থ নানা জটিল রোগের উপসর্গসহ ক্যান্সার পর্যন্ত সৃষ্টি করে। মজুদ খাদ্য ও সবজিতে ব্যবহৃত কীটনাশক খাদ্যের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করে মানব স্বাস্থ্যে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে।

শিশুদের শরীরের বাড়ন্ত কোষে এগুলোর বিষাক্ততা বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে শিশুরা নানারকম অসুস্থতার ভোগে এবং তাদের মনের বিকাশ ব্যাহত হয়। উপরিউক্ত আলোচনায় স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে খাদ্যে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

১০. নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করাই হচ্ছে শ্রেণিবিন্যাস।
উত্তর

জীবপ্রযুক্তিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ এটি জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা ও প্রক্রিয়াগুলোকে ব্যবহার করে মানর ও পরিবেশের কল্যাণে প্রয়োগ করে।

এটি গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জীববিজ্ঞানের জ্ঞানকে কৃষি, চিকিৎসা, শিল্প ও পরিবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র 'P' হলো Penicillum। এটি সুপার কিংডম-২ -এর ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।

দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।

খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।

উত্তর

উদ্দীপকের 'Q' হলো অ্যামিবা এবং 'R' হলো ব্যাকটেরিয়া। এরা যথাক্রমে রাজ্য প্রোটিস্টা ও রাজ্য মনেরার অন্তর্ভুক্ত। রাজ্যগত অবস্থান থেকে 'Q' এবং 'R' এর মধ্যে কোনটি উন্নত প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে।

ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। খাদ্য গ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এইরূপ দুই গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।

কোনো ভূণ গঠিত হয় না। অপরদিকে, মনেরা রাজ্যের সদস্যরা এককোষী, ফিলামেন্টাস (একটির পর একটি কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে) কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নাই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে।

কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। উপর্যুক্ত রাজ্যদ্বয়ের তুলনামূলক আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, প্রোটিস্টা রাজ্যের অ্যামিবা মনেরা রাজ্যের ব্যাকটেরিয়া থেকে উন্নত।

১১. নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর এক্সপ্লান্ট: টিস্যুকালচারের উদ্দেশ্যে উদ্ভিদের যে অংশ পৃথক করে নিয়ে ব্যবহার করা হয় তাকে এক্সপ্ল্যান্ট বলে।
উত্তর

বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক আন্তঃসম্পর্কের ফলে যদি সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাহলে তাকে মিউচুয়ালিজম বলে।

যেমন- শৈবাল ও ছত্রাকের আন্তঃসম্পর্কের ফলে সৃষ্ট লাইকেন মিউচুয়ালিজমের উদাহরণ।

উত্তর

উদ্দীপকে 'P' দ্বারা নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। নিম্নে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- i. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন: উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়। ii . আবাদ মাধ্যম তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যম (semi solid medium) তৈরির জন্য জমাট বাঁধার উপাদান।

iii . জীবাণুমুক্ত আবাদ প্রতিষ্ঠা: আবাদ মাধ্যমকে কাচের পাত্রে (টেস্টটিউব বা কনিক্যাল ফ্লাস্ক) নিয়ে তুলা বা প্লাস্টিকের ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে অটোক্লেভ(Autoclave) যন্ত্রে 121° সে. তাপমাত্রায় রেখে, 15 1b/sq. inch চাপে 20 মি. রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এই পর্যায়ে আবাদে স্থাপিত টিস্যু বরাবর বিভাজনের মাধ্যমে সরাসরি অণুচারা (plantlets) তৈরি হয় বা ক্যালাস (callus) বা অবয়বহীন টিস্যুমণ্ডে পরিণত হয়।

এই টিস্যুমণ্ড থেকে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে একাধিক অণুচারা উৎপন্ন হয়। iv. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর: এ সমস্ত উৎপাদিত চারাগাছে যদি মূল উৎপন্ন না হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা লাভের পর বিটপগুলো বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয় এবং তাদেরকে পুনরায় মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। v. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা মাঠ পর্যায়ে স্থানান্তর: পূর্ণাঙ্গ চারাগুলো সজীব এবং সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে এক পর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে দ্বারা নির্দেশিত প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ সৃষ্টিতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো: i. এই প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। Bacillus thuringiensis (Bt) নামক ব্যাকটেরিয়ার জিন শস্যে প্রবেশ করানোর কারণে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শস্যসমূহকে Bt Corn, Bt Cotton. - বিটি ধান (চীনে) ইত্যাদি উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব ফসল লেপিডোপটেরা এবং কলিওপটেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম।

ii. এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভাইরাস প্রতিরোধ ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেমন- ভাইরাল কোট প্রোটিন (Coat Protein) জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে টমেটো মোজাইক ভাইরাস (ToMV), টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV) এবং টোবাকো মাইল্ড গ্রিন মোজাইক ভাইরাস (TMGMV) প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। রিং স্পট ভাইরাস (PRSV) প্রতিরোধ সক্ষম পেপের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। iii. জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাছানাশক রাসায়নিক পদার্থের বিরুদ্ধে সহনশীলতাসম্পন্ন (Herbicide tolerant) ভুট্টা; তুলা, টমেটো ইত্যাদি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।

iv. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একই উদ্ভিদে একাধিক বৈশিষ্ট্য (Trait) অনুপ্রবেশ করানো যায়। বাণিজ্যিকভাবে এখন এ ধরনের ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সহজলভ্য হয়েছে। যেমন তুলা এবং ভুট্টার মধ্যে একই সাথে আগাছানাশক সহিষ্ণু (Herbicide tolerant) এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী (Insect resistant) বৈশিষ্ট্য অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। v. জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হয়েছে। যেমন, ধানে ভিটামিন এ তথা বিট-ক্যারোটিন জিন স্থনান্তর করা হয়েছে।

এই ধানের চাল থেকে প্রস্তুত ভাত খেলে আলাদা করে আর ভিটামিন। খেতে হবে না। ধানে লৌহ বা আয়রন যোগ করারও প্রচেষ্টা অব্যাহত হয়েছে। লবণাক্ততা এবং খরা সহনশীল জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন (Genetic modification) ঘটিয়ে বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে।

১২. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয় তাই ফটোলাইসিস।
উত্তর

মুথা ঘাসে হ্যাচ–স্ল্যাক পথের প্রথম স্থায়ী উৎপাদ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড হওয়ায় একে C₄ উদ্ভিদ বলা হয়।

এর মেসোফিল কোষে CO₂ প্রথমে চার-কার্বন যৌগে আবদ্ধ হয় এবং বান্ডল শিথ কোষে ক্যালভিন চক্র চলে; তাই উচ্চ আলো ও তাপমাত্রায় এর সালোকসংশ্লেষণ দক্ষ।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র 'Y' দ্বারা সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হলেও কোষের। মাইটোকন্ড্রিয়াতে সবাত শ্বসনের নিম্নলিখিত তিনটি ধাপ সংঘটিত হয়। অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি: গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমে বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বনবিশিষ্ট ১ অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, এক অণু CO₂ এবং এক অণু NADH +H⁺উৎপন্ন করে।

দুই অণু পাইরুভিক এসিড হতে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, দুই অণু CO₂ এবং দুই অণু NADH + H⁺উৎপন্ন হয়। এই ধাপটি সাইটোপ্লাজমে ঘটে বলে এক সময় মনে করা হতো, তবে সর্বশেষ তথ্য উপাত্ত অনুসারে জানা গেছে বিক্রিয়াটি ঘটে মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে। ক্রেবস চক্র: এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়।

এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু NADH +H⁺, এক অণু FADH₂ এবং এক অপু GTP উৎপন্ন হয়। (অর্থাৎ দুই অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে চার অণু CO₂, 6 অণু NADH +H⁺, দুই অণু FADH₂ এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়।) ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র : গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি এবং ক্রেবস চক্রে NADH+H+ (বিজারিত NAD), FADH2 (বিজারিত FAD) উৎপন্ন হয়, এই ধাপে সেগুলো জারিত হয়ে ATP, পানি, উচ্চশক্তির ইলেকট্রন এবং প্রোটন উৎপন্ন হয়। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যে শক্তি প্রদান করে সেই শক্তি ATP তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রের 'X' প্রক্রিয়াটি দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে জীবজগতের বিলুপ্তি ঘটবে। সালোকসংশ্লেষণ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া। এ বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সূর্যালোক এবং জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ করতে পারে। কোনো প্রাণীই তার নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। কাজেই খাদ্যের জন্য সমগ্র প্রাণিকূল সবুজ উদ্ভিদের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল, আর সবুজ উদ্ভিদ এ খাদ্য প্রস্তুত করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়। কাজেই বলা যায়, পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর খাদ্য প্রস্তুত হয় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে।

আমরা জানি, সব জীবেই (উদ্ভিদ ও প্রাণী) সব সময়ের জন্য শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়ায় জীব O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। কেবল শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমণ্ডলে O₂ গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO₂ গ্যাসের আধিক্য দেখা দিত। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে বলে এখনও বাযুমণ্ডলে O₂ ও CO₂ গ্যাসের সঠিক অনুপাত রক্ষিত হচ্ছে।

তাই আমাদেরকে অবশ্যই অধিক হারে গাছ লাগাতে হবে। মানবসভ্যতার অগ্রগতি অনেকাংশে সালোকসংশ্লেষণের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অন্ন, বস্ত্র, শিল্পসামগ্রী, ঔষধ, জ্বালানি কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস প্রভৃতি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। তাই সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হবে, বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ।

১৩. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর এক অণু পাঁচ কার্বণ বিশিষ্ট শর্করা এক অণু নাইট্রোজেন ঘটিত বেস এবং এক অণু এক অণু ফসফেট যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠন করে তাই নিউক্লিওটাইড।
উত্তর

অনুকূল (বা অভিযোজনমূলক) প্রকরণ সমন্বিত জীবেরা অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে। এরা প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যায় বেঁচে থাকে এবং অত্যধিক হারে বংশবিস্তার করে।

অপরদিকে প্রতিকূল প্রকরণসম্পন্ন জীবেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে অবলুপ্ত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্রে P হলো DNA। পলিনিউক্লিওটাইডের দুটি শিকল সিঁড়ির মতো পেঁচিয়ে DNA অণু একটি বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড আবার তিন ধরনের অণু নিয়ে গঠিত। যথা- ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেন বেস। নাইট্রোজেন বেস পিউরিন এবং পাইরিমিডিন ধরনের।

DNA অণুতে পিউরিন বেস দু'প্রকার। - যথা- এডিনিন (A) এবং গুয়ানিন (G)। পাইরিমিডিন বেসও দু'প্রকার। যথা- থায়ামিন (T) এবং সাইটোসিন (C)। এক অণু ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা ও এক অণু নাইট্রোজেন বেস মিলে এক অণু নিউক্লিওসাইড গঠন করে।

এর সাথে একটি অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে একটি নিউক্লিওটাইড গঠিত হয়। এরূপ একাধিক নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে পলিনিউক্লিওটাইড সৃষ্টি হয়। এভাবে দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পাশাপাশি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় DNA অণু। এক্ষেত্রে সূত্র দুটির একটি এডিনিন অন্যটির - থায়ামিনের সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনীর মাধ্যমে যুক্ত থাকে (A = T)। আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অন্য সূত্রের সাইটোসিসের সঙ্গে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে G≡C |

উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র-Q দ্বারা মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম (XX এবং XY) কে বোঝানো হয়েছে। এ ক্রোমোজোম বংশপরম্পরায় সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত।

স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X এবং অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY। X এবং Y 'উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের মতো তবে Y ক্রোমোজোম X ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট।

স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি X ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে X এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের X বা Y ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে।

ফলে জাইগোটটি দুটি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে 'হবে একটি মেয়ে অর্থাৎ XX আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y অর্থাৎ XY নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ক্রোমোজোমই মানবশিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

১৪. নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর নিষেকের পর ধারাবাহিক বিভাজনে গঠিত যে ফাঁপা ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছে জরায়ুপ্রাচীরে স্থাপিত হয় তাকে ব্লাস্টোসিস্ট বলে।
উত্তর

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীব বাঁচতে পারে না। আমরা জানি, প্রোটোপ্লাজম জীবদেহের ভৌত ভিত্তি, এই প্রোটোপ্লাজমের শতকরা ৯০ ভাগই পানি।

পানির পরিমাণ কমে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয়ে মরে পর্যন্ত যেতে পারে। তাছাড়া জীবদেহে যত বিপাকীয় বিক্রিয়া চলে, পানির অভাব হলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই পানিকে ফ্লুইড অব লাইফ বলা হয়ে থাকে।

উত্তর

উদ্দীপকের 'X' দ্বারা সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো পানি শোষণ। উদ্ভিদ যে প্রক্রিয়ায় পানিশোষণ করে তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো: সাধারণভাবে উদ্ভিদ মাটির কৈশিক পানি তার মূলরোমের মাধ্যমে শোষণ করে। প্রস্বেদনের ফলে পাতার কোষে ব্যাপন চাপ ঘাটতির সৃষ্টি হয়। এর ফলে পাশের কোষ থেকে পানি এই কোষের দিকে ধাবিত হয়। একইভাবে ঐ দ্বিতীয় কোষটিতে আবার ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয় এবং তার পাশের বা নিচের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়।

এভাবে ব্যাপন চাপ ঘাটতি ক্রমশ মূলরোম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং একটি চোষক শক্তির সৃষ্টি হয়। এ চোষক শক্তির টানে মাটির কৈশিক পানি মূলরোমে ঢুকে পড়ে। মাটি থেকে মূলরোমে অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় এ পানি প্রবেশ করে। এভাবে মূলরোম থেকে পানি মূলের কর্টেক্সে প্রবেশ করে। এ কাজটিকে কোষ থেকে কোষান্তরে অভিস্রবণ পদ্ধতি বলে।

একইভাবে পানি অন্তঃত্বক ও পরিচক্র হয়ে পরিবহন কলাগুচ্ছে পৌঁছে যায়। পানি একবার পরিবহন কলায় পৌঁছে গেলে তা জাইলেমের কলার মাধ্যমে উপরের দিকে ও পাশের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এভাবে পানি বিভিন্ন শাখা প্রশাখা হয়ে উদ্ভিদের পাতায় পৌছে যায়। এ কাজে যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া কাজ করে সেগুলো হলো, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন।

উত্তর

উদ্দীপকের 'X1' প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন প্রক্রিয়া। এর উপকারী এবং অপকারী দুই ভূমিকাই রয়েছে। প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার উপরে সজীব উদ্ভিদ কোষের বিপাকীয় কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক শোষিত পানি এবং খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়।

এ টানের ঘাটতি হলে পানি শোষণ কমে যাবে এবং খাদ্য প্রস্তুতসহ অনেক বিপাকীয় কার্যক্রম শ্লথ হয়ে যাবে। প্রস্বেদনের ফলে পাতার মেসোফিলে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যা পানি শোষণে সাহায্য করে। উদ্ভিদ প্রস্বেদনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পত্রফলক দিয়ে শোষিত তাপশক্তি হ্রাস করে পাতার কোষগুলোর তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখে। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বহু ধরনের উপকার করলেও এর কিছু অপকারী ভূমিকাও রয়েছে।

যেমন: পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদের জন্য পানি এবং খনিজের ঘাটতি দেখা দিবে। এর ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যুও হতে পারে। মাটিতে পানির ঘাটতি থাকলে শোষণ কম হবে কিন্তু প্রস্বেদন পূর্বের মতো চলতে থাকবে। এ অবস্থাকে ঠেকাতে প্রকৃতি শীত মৌসুমে বহু উদ্ভিদের পাতা ঝরিয়ে দেয়।

প্রস্বেদনের অভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাপন চাপ ঘাটতি হবে না, ফলে অভিস্রবণ কম হবে। এমতাবস্থায় বলা যায়, প্রস্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি কার্যক্রম। বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় ক্ষতি' নামে অভিহিত করেছেন। তবে সার্বিক বিচারে এটি উদ্ভিদকে টিকে থাকার ক্ষেত্রে সুবিধা দেয় বলে এর অপকারী দিক থাকা সত্ত্বেও প্রস্বেদন প্রক্রিয়া বিবর্তিত হয়েছে।

১৫. M ও N দুটি কলা। M কলাটির গঠন তরল ও N কলাটি Ca জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। N কলাটি M কলার নানা উপাদান তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
উত্তর টেনডন: মাংসপেশির প্রান্তভাগ দড়ি বা রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থির গায়ের সাথে সংযুক্ত হয়; এই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলে।
উত্তর

জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি। এর মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

শ্বসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রে (তৃতীয় ধাপ) অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক এতে উপস্থিত থাকায় এ বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয় এবং ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা শক্তিঘর বলা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত N কলাটি Ca জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। যা স্কেলিটাল যোজক কলা। দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে। এই কলা মূলত যোজক কলা। যোজক কলাতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম থাকে। এই টিস্যু দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন করে।

দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়। অঙ্গ সঞ্চালন এবং চলনে সহায়তা করে। মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে। বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে। গঠনের ভিত্তিতে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু দুধরনের হয়।

যেমন: কোমলাস্থি এবং অস্থি। কোমলাস্থি এক ধরনের নমনীয় স্কেলিটাল যোজক টিস্যু। মানুষের নাক ও কানের পিনা কোমলাস্থি দিয়ে তৈরি। অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর এবং অনমনীয় স্কেলিটাল কানেকটিড টিস্যু। এদের মাতৃকার ক্যালসিয়াম জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।

উত্তর

M কলাটির গঠন তরল যা তরল যোজক কলা। তরল যোজক কলার কোষগুলো নরম প্রকৃতির এবং এদের মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এই টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ করা এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। তরল যোজক কলা দু'ধরনের।

যথা-রক্ত ও লসিকা। রক্ত-রক্তরস ও রক্তকণিকা নিয়ে গঠিত। রক্তের তরল অংশ রক্তরস। এর প্রায় ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভেতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও বর্জ্য পদার্থ থাকে।

ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। লোহিত রক্ত কণিকা দেহের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।

শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল যোজক কলা। লসিকার মধ্যে কিছু রোগ প্রতিরোধী কোষ থাকে, এদের লসিকাকোষ বলে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, তরল যোজক কলা মানবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৬. নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পূর্বে কোষের নিউক্লিয়াসে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়; এ অবস্থাই হচ্ছে ইন্টারফেজ।
উত্তর

টিউমার অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে।

এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয়। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে, যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক প্রোটিন অণুসমূহকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় জরায়ুমুখের টিউমার।

উত্তর

উদ্দীপকের A ধাপটি হলো প্রাণিকোষের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মেটাফেজ পর্যায়। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে মেটাফেজ ধাপের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে অ্যানাফেজ পর্যায়। প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। অপত্য ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে বিকর্ষণ শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে এরা বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে। ক্রোমোজোমের এ মেরুমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়।

অপত্য ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের বিভিন্নতার জন্য এ সময় ক্রোমোজোমগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালার V, L, J ও। অক্ষরের মতো দেখা যায়। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাব-মেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ও টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। এ ধাপের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের প্যাঁচ খুলে এরা দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি দ্বারা মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে বুঝানো হয়েছে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে না ঘটলে জীবদেহে যে ধরনের সমস্যা হতে পারে তা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে।

কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে, টিউমার, এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।

প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অর্বুদ সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়।

ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ, তথা ক্যান্সার। ক্যান্সার কোষও নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।

১৭. চিত্র A-তে একটি ব্যাকটেরিয়া এবং চিত্র B-তে Amoeba দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis।
উত্তর

কোষবিদ্যা বা Cytology জীববিজ্ঞানের ভৌত বা মৌলিক শাখার অন্তর্ভুক্ত।

এ শাখায় কোষের গঠন, অঙ্গাণু, কাজ, বিভাজন ও জীবনক্রিয়া নিয়ে মৌলিক জ্ঞান অনুসন্ধান করা হয়; কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারিক প্রয়োগ এর প্রধান লক্ষ্য নয়।

উত্তর

চিত্র A-এর ব্যাকটেরিয়া মারগুলিসের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসে Monera রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

Monera-এর জীব এককোষী প্রোক্যারিওট; সুগঠিত নিউক্লিয়াস, নিউক্লিয়ার পর্দা ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই এবং DNA নিউক্লিওয়েডে থাকে।

কোষপ্রাচীর থাকে, 70S রাইবোজোমে প্রোটিন তৈরি হয় এবং প্রধানত দ্বিবিভাজনে অযৌন প্রজনন ঘটে; ব্যাকটেরিয়ার এসব বৈশিষ্ট্য A-কে Monera-তে স্থাপন করে।

উত্তর

চিত্র A-এর ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় চিত্র B-এর Amoeba অধিক উন্নত।

A Monera রাজ্যের প্রোক্যারিওট; নিউক্লিয়ার পর্দা ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই এবং কোষীয় সংগঠন অপেক্ষাকৃত সরল।

B Protista রাজ্যের ইউক্যারিওট; সুগঠিত নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, খাদ্যগহ্বর ও সংকোচনশীল গহ্বর আছে এবং ছদ্মপদে চলন-খাদ্যগ্রহণ করে।

প্রকৃত নিউক্লিয়াস, বিশেষায়িত অঙ্গাণু ও অধিক নিয়ন্ত্রিত জীবনক্রিয়ার কারণে এককোষী হলেও B, A-এর চেয়ে সংগঠনগতভাবে উন্নত।

১৮. মি: জামান দীর্ঘদিন ধরে খুসখুসে কাশি ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন। তার কথা বলার সময় ভগ্নম্বর লক্ষ্য করা যায়।
উত্তর স্বরযন্ত্রের প্রবেশমুখে অবস্থিত জিহ্বাকার ঢাকনাকে উপজিহ্বা বা Epiglottis বলে।
উত্তর

রাতে আলো না থাকায় বড় গাছের সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, কিন্তু শ্বসন চলতে থাকায় O₂ ব্যবহৃত ও CO₂ নির্গত হয়।

ঘন পাতার নিচে বায়ু চলাচল কম হলে স্থানীয়ভাবে O₂ কম ও CO₂ বেশি হতে পারে; তাই সেখানে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট অনুভূত হতে পারে।

উত্তর

উদ্দীপকের দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে ব্যথা ও ভগ্নস্বর ফুসফুসের ক্যান্সারের লক্ষণ; আক্রান্ত প্রধান অঙ্গ ফুসফুস।

বক্ষগহ্বরে হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে স্পঞ্জের মতো দুটি ফুসফুস থাকে; ডানটি তিন ও বামটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্রতিটি দ্বিস্তরী প্লুরা পর্দায় আবৃত।

ব্রঙ্কাস ক্রমে ব্রঙ্কিওল ও অণুক্লোমে বিভক্ত হয়ে অসংখ্য পাতলা অ্যালভিওলাসে শেষ হয়; কৈশিকনালিবেষ্টিত অ্যালভিওলাসের পাতলা প্রাচীর দিয়ে O₂ ও CO₂-এর আদান-প্রদান ঘটে।

উত্তর

উদ্দীপকের রোগটি ফুসফুসের ক্যান্সার; দ্রুত রোগনির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং ঝুঁকিকারক পরিহার এর প্রতিকার ও প্রতিরোধের মূলনীতি।

চিকিৎসক রোগের পর্যায় নির্ণয় করে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি বা প্রয়োজনমতো সমন্বিত চিকিৎসা দিতে পারেন; কাশি-ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত পরীক্ষা জরুরি।

ধূমপান ও তামাক সম্পূর্ণ বর্জন, পরোক্ষ ধূমপান এড়ানো, ধুলা-ধোঁয়া ও ক্ষতিকর শিল্পরাসায়ন থেকে সুরক্ষা এবং দূষিত পরিবেশে মাস্ক ব্যবহার ঝুঁকি কমায়।

নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, শাকসবজি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ালে রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।

১৯. মানুষের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা ও মস্তিষ্কের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ুর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী তন্ত্র সম্পর্কে শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা সঞ্চালন কৌশল ব্যাখ্যা করতে বলেন।
উত্তর জীবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহের গঠন নিয়ে আলোচনাকারী জীববিজ্ঞানের শাখাকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বা Anatomy বলে।
উত্তর

অ্যামিবা এককোষী হলেও সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণুযুক্ত ইউক্যারিওট এবং একটি কোষেই সব জীবনক্রিয়া সম্পন্ন করে।

এটি ছদ্মপদে চলন ও খাদ্যগ্রহণ করে, মাইটোসিসে অযৌন প্রজনন করে এবং ভ্রূণ গঠন করে না; এসব বৈশিষ্ট্যে অ্যামিবা Protista রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তর

উদ্দীপকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী তন্ত্রটি স্নায়ুতন্ত্র এবং এর গঠনগত ও কার্যগত একক নিউরন; সংযুক্ত চিত্রে নিউরনের অংশগুলো দেখানো হয়েছে।

নিউরনের কোষদেহে প্লাজমামেমব্রেন, নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ও নিসল দানা থাকে; কোষদেহ থেকে বহু ছোট ডেনড্রন-ডেনড্রাইট এবং একটিমাত্র দীর্ঘ অ্যাক্সন বের হয়।

ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষদেহে আনে, অ্যাক্সন তা দূরে বহন করে এবং অ্যাক্সন টার্মিনাল সিন্যাপসের মাধ্যমে পরবর্তী নিউরন বা কার্যকর অঙ্গে পৌঁছে দেয়।

উত্তরের ছবি
উত্তর

শিক্ষকের কথা শব্দতরঙ্গ হিসেবে শিক্ষার্থীর কানে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং স্নায়ুতন্ত্র তা গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়ায় রূপান্তর করে।

শব্দতরঙ্গে কর্ণপটহ কম্পিত হয়ে অন্তঃকর্ণের সংবেদী কোষ উত্তেজিত করে; সৃষ্ট স্নায়ুতাড়না শ্রবণ স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে পৌঁছে।

মস্তিষ্কের শ্রবণ, স্মৃতি ও চিন্তাকেন্দ্র শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করে; প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়ার নির্দেশ মোটর নিউরন দিয়ে হাত বা বাকযন্ত্রের ঐচ্ছিক পেশিতে যায়।

কার্যকর পেশি সংকুচিত হয়ে লেখা, উত্তর দেওয়া বা অন্য সাড়া সৃষ্টি করে; এভাবেই গ্রাহক → সংবেদী নিউরন → কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র → মোটর নিউরন → কার্যকর অঙ্গ পথে শিক্ষকের কথা সঞ্চালিত হয়।

২০. সালমান বিজ্ঞান মেলায় গিয়ে একটি মডেল দেখল, যা দেখতে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো গঠন। সে জানল যে, “এটি জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক।"
উত্তর কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী যে প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে কোষ বৃদ্ধি ও DNA প্রতিলিপি ঘটে, তাকে ইন্টারফেজ বলে।
উত্তর

কোষ বিভাজনের সময় মেরু থেকে সৃষ্টি হয়ে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত সূক্ষ্ম স্পিন্ডল তন্তুকে traction fibre বা আকর্ষণ তন্তু বলে।

এ তন্তুর সংকোচনে অপত্য ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুর দিকে সরে গিয়ে দুই অপত্যকোষে সমভাবে বণ্টিত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো মডেলটি DNA; সংযুক্ত চিত্রে এর দ্বি-হেলিক্স গঠন দেখানো হয়েছে।

DNA দুটি বিপরীতমুখী পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র নিয়ে ডানদিকে পাকানো দ্বি-হেলিক্স; প্রতিটি নিউক্লিওটাইডে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা, ফসফেট ও A, T, G বা C ক্ষারক থাকে।

শর্করা-ফসফেট কাঠামো বাইরে এবং ক্ষারক ভেতরে থাকে; A–T দুটি ও G–C তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনে পরিপূরক জোড় গঠন করে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

DNA-কে জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক বলা যথার্থ, কারণ এর ক্ষারকের ক্রমে জিনগত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

DNA-এর নির্দিষ্ট অংশ জিন প্রোটিন ও এনজাইম সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে; এসব প্রোটিনই জীবের গঠন, বিপাক ও দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে।

কোষ বিভাজনের আগে DNA অর্ধসংরক্ষণশীলভাবে অনুলিপিত হয় এবং ক্রোমোজোমের মাধ্যমে সমরূপ তথ্য অপত্যকোষে পৌঁছে; জননকোষের DNA সন্তানেও সঞ্চারিত হয়।

মিউটেশনে DNA-এর ক্রম বদলালে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হতে পারে; তথ্য সংরক্ষণ, প্রকাশ, অনুলিপি ও বংশপরম্পরায় সঞ্চারের জন্যই এটি প্রকৃত ধারক ও বাহক।

২১. মনি ও তার বড়ো বোন সানি মাঠে খেলা দেখতে যাওয়ার সময় মনি রাস্তার পাশে আমগাছ ও কাঠের গুঁড়িতে ছাতার মতো এক ধরনের জীব দেখতে পেল। খেলার মাঠে পৌঁছানোর পর সানি অনেক মানুষ দেখে অবাক হলো।
উত্তর আকার, আকৃতি বা শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যে ভিন্ন দুটি গ্যামেটের মিলনকে অ্যানাইসোগ্যামাস যৌন জনন বলে।
উত্তর

ফড়িংয়ের কোষে প্লাস্টিড বা ক্লোরোফিল নেই বলে এটি সালোকসংশ্লেষণে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

এটি উদ্ভিদ বা অন্য জীবের তৈরি জৈব খাদ্য গলাধঃকরণ করে পুষ্টি নেয়, তাই ফড়িংকে হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী বলা হয়।

উত্তর

খেলার মাঠের মানুষকে নেস্টেড হায়ারার্কিতে বৃহৎ দল থেকে ক্রমে ক্ষুদ্র ও অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ দলে সাজিয়ে Homo sapiens প্রজাতিতে স্থাপন করা হয়।

মানুষ Animalia রাজ্যের বহুকোষী পরভোজী, Chordata পর্বের নটোকর্ডধারী, Vertebrata উপপর্বের মেরুদণ্ডী এবং Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী।

এরপর মানুষের বর্গ Primates, পরিবার Hominidae, গণ Homo ও প্রজাতি Homo sapiens; প্রতিটি নিম্ন ধাপ আগের বৃহত্তর দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এটি নেস্টেড হায়ারার্কি।

উত্তর

মনির দেখা আমগাছ ও কাঠের গুঁড়ির ছাতার মতো মাশরুম একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়; আমগাছ Plantae এবং মাশরুম Fungi রাজ্যের জীব।

আমগাছ বহুকোষী সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ; সেলুলোজ প্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট, উন্নত টিস্যুতন্ত্র ও ভ্রূণীয় বিকাশ থাকে।

মাশরুম ক্লোরোপ্লাস্টবিহীন পরভোজী; কাইটিন প্রাচীরযুক্ত হাইফার মাইসেলিয়াম দিয়ে দেহ গঠিত এবং মৃত কাঠ থেকে শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য নেয়।

পুষ্টি, কোষপ্রাচীর, দেহগঠন ও প্রজননের মৌলিক পার্থক্যে তারা পৃথক Plantae ও Fungi রাজ্যের সদস্য—তাই একই রাজ্যের নয়।

২২. কোষে এমন একটি অঙ্গাণু আছে যা কোষের যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে। অপর একটি অঙ্গাণু আছে যেটি উদ্ভিদ কোষে আছে কিন্তু প্রাণী কোষে নাই।
উত্তর পার্শ্ববর্তী উদ্ভিদকোষের প্রোটোপ্লাজমকে কোষপ্রাচীর ভেদ করে যুক্ত রাখা সূক্ষ্ম সাইটোপ্লাজমীয় সূত্রকে প্লাজমোডেজমাটা বলে।
উত্তর

শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতের বিপুল বৈচিত্র্যকে সুশৃঙ্খল দলে সাজিয়ে জীব শনাক্তকরণ ও অধ্যয়ন সহজ করে।

এটি জীবের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিবর্তনীয় ধারা বুঝতে এবং বিশ্বব্যাপী একই জীবকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটি নিউক্লিয়াস, যা কোষের যাবতীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে; সংযুক্ত চিত্রে এর প্রধান অংশগুলো দেখানো হয়েছে।

এটি দ্বিস্তরী নিউক্লিয়ার মেমব্রেনে আবৃত; মেমব্রেনে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র থাকে এবং ভেতরের অর্ধতরল নিউক্লিওপ্লাজমে এক বা একাধিক ঘন নিউক্লিওলাস অবস্থান করে।

নিউক্লিওপ্লাজমে DNA ও প্রোটিনের সূক্ষ্ম ক্রোমাটিন জালিকা থাকে, যা বিভাজনের সময় ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি প্লাস্টিড, বিশেষত ক্লোরোপ্লাস্ট; এর সালোকসংশ্লেষণের উপর প্রাণিকুল প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল।

ক্লোরোপ্লাস্টের ক্লোরোফিল সূর্যালোক শোষণ করে CO₂ ও পানি থেকে শর্করা তৈরি এবং O₂ নির্গত করে; এতে সৌরশক্তি খাদ্যের রাসায়নিক শক্তিতে সঞ্চিত হয়।

তৃণভোজী প্রাণী উদ্ভিদ খায় এবং মাংসাশীরা তৃণভোজীকে খায়, ফলে প্রায় সব খাদ্যশৃঙ্খলের খাদ্য ও শক্তি শেষ পর্যন্ত সবুজ উদ্ভিদ থেকেই আসে; প্রাণীর সবাত শ্বসনের O₂-ও এই প্রক্রিয়া দেয়।

খাদ্য, শক্তি, অক্সিজেন ও O₂–CO₂ ভারসাম্য সরবরাহের কারণে ক্লোরোপ্লাস্টের কার্যাবলি ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীর জীবনধারণ সম্ভব নয়—উক্তিটি তাই যথার্থ।

২৩. প্রতিটি জীবের একটি বৈজ্ঞানিক নাম থাকে যা ICBN এবং ICZN কর্তৃক স্বীকৃত। যেমন: Oryza sativa, Nostoc, Amoeba.
উত্তর ভৌত বিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই বাস্তুবিদ্যা।
উত্তর যেসকল উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে সেগুলো হলো অটোট্রফিক অর্থাৎ স্বভোজী। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য ক্লোরোফিল অত্যাবশ্যক। মানুষের দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এ কারণে মানুষকে হেটারোট্রফিক বা পরভোজী বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম জীবটি হলো Oryza sativa যার সাধারণ নাম ধান। এটি প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-প্লানটি রাজ্যের সদস্যরা' প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ। এরা সপুষ্পক। যেহেতু ধানের সাথে প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়, তাই ধান প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় জীবটি হলো Nostoc এবং তৃতীয় জীবটি হলো Amoeba। জীব দুটি একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
প্লাস্টিড মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু Nostoc এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে রাইবোজোম আছে। এদের কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় ঘটে এবং এরা প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে Nostoc মনেরা রাজ্যের অর্ন্তভুক্ত।
অপরদিকে, Amaeba এককোষী, তবে সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। এদের মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন ও কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্পন্ন করে।
এ বৈশিষ্ট্যসমূহের বিচারে Amoeba প্রোটিস্টা রাজ্যের অর্ন্তভুক্ত। উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে বলা যায় যে, Nostoc এবং Amoeba একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।
২৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয় তাই ফটোলাইসিস।
উত্তর নটে ঘাসকে $\mathrm{C}_4$ উদ্ভিদ বলা হয়। কারণ এই উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্রের পাশাপাশি হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রও পরিচালিত হয়। বিজ্ঞানী হ্যাচ ও স্ল্যাক ১৯৬৬ সালে $\mathrm{CO}_2$ বিজারণের এই গতিপথ আবিষ্কার করেন, যেখানে এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড পাওয়া যায়। নটে ঘাসে এই চক্র সম্পন্ন হয় বিধায় নটে ঘাসকে $\mathrm{C}_4$ উদ্ভিদ বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত (i) নং প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। সবাত শ্বসনের প্রথম ধাপটি হলো গ্লাইকোলাইসিস। নিচে ধাপটি ব্যাখ্যা করা হলো-

গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ $\left(\mathrm{C}_6 \mathrm{H}_{12} \mathrm{O}_6\right)$ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এই ধাপে চার অণু ATP (দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু $\mathrm{NADH}+\mathrm{H}^{+}$উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না ।

তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়। গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে।

উত্তর উদ্দীপকের (ii) নং প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ এবং প্রক্রিয়াতে A হলো আলো। নিচে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর
ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। পানি এবং $\mathrm{CO}_2$ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্দ্র উন্মুক্ত হয়, $\mathrm{CO}_2$ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
২৫. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যে যৌন প্রজনন ঘটে তাই কনজুগেশন।
উত্তর জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। যেহেতু কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়, তাই কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র P হলো মাশরুম। যা ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. মাশরুম অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৮. মিয়োসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।
উপরের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে P তথা মাশরুমকে মারগুলিসের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ইউক্যারিওটা সুপার কিংডমের ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
উত্তর জীবের শ্রেণিবিন্যাসে বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতার কারণে একেকটি জীব একেকটি দলে অবস্থান করে। চিত্র-Q এর সবুজ উদ্ভিদ প্লানটি এবং চিত্র-R এর অ্যামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যে অবস্থিত। প্রোটিস্টা অপেক্ষা প্লানটি-এর জীবগুলো উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ায় অ্যামিবা অপেক্ষা সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
সবুজ উদ্ভিদ (চিত্র-Q) এর বৈশিষ্ট্য হলো:
i. এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
ii. উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
iii. এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
iv. এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস ধরনের।
V. এরা আর্কিগোনিয়েট ও পুষ্পক উদ্ভিদ।
অ্যামিবা (চিত্র-R) এর বৈশিষ্ট্য হলো:
i. এরা এককোষী।
ii. সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট কোষ।
iii. খাদ্যের গ্রহণ ঘটে।
iv. অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কোনো ভূণ গঠিত হয় না।
অতএব উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, গঠন, কোষের সংখ্যা, পুষ্টির প্রকৃতি, জনন প্রভৃতি দিক থেকে অ্যামিবা অপেক্ষা সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তাই বলা যায়, অ্যামিবার চেয়ে সবুজ উদ্ভিদটি অধিক উন্নত।
২৬.
প্রতীক জীব
A Paramecium
B মাশরুম
C আমগাছ
D বাঘ
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ICZN-এর পূর্ণরূপ International Code of Zoological Nomenclature।
উত্তর

শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতের বিপুল বৈচিত্র্যকে সুশৃঙ্খল দলে সাজিয়ে জীব শনাক্তকরণ ও অধ্যয়ন সহজ করে।

এটি জীবের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিবর্তনীয় ধারা বুঝতে এবং বিশ্বব্যাপী একই জীবকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

উত্তর

উদ্দীপকের A Paramecium, যা Protista রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

এই রাজ্যের জীব এককোষী, কলোনিয়াল বা সূত্রাকার এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত ইউক্যারিওট; নিউক্লিয়ার পর্দাবেষ্টিত ক্রোমাটিন ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে।

খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা সালোকসংশ্লেষণে হতে পারে; মাইটোসিসে অযৌন এবং কনজুগেশনে যৌন প্রজনন ঘটে, কিন্তু ভ্রূণ গঠিত হয় না।

উত্তর

উদ্দীপকের B=Fungi, C=Plantae ও D=Animalia-এর মধ্যে D রাজ্য সবচেয়ে উন্নত।

Fungi শোষণকারী পরভোজী এবং অধিকাংশের দেহ মাইসেলিয়াম; Plantae সালোকসংশ্লেষণকারী বহুকোষী জীব, যাদের উন্নত টিস্যুতন্ত্র ও ভ্রূণ গঠিত হয়।

Animalia-এর জীব নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী পরভোজী; কোষপ্রাচীর ও প্লাস্টিড নেই, জটিল টিস্যু-অঙ্গতন্ত্র, স্নায়বিক সমন্বয় এবং ভ্রূণীয় স্তর গঠিত হয়।

অঙ্গতন্ত্রের উচ্চ শ্রমবণ্টন, সক্রিয় চলন, দ্রুত উদ্দীপনা-প্রতিক্রিয়া ও জটিল ভ্রূণীয় বিকাশের জন্য D-এর বাঘ B ও C-এর তুলনায় অধিক উন্নত।

২৭. A জীব = Homo sapiens
B জীব = Artocarpus heterophyllus
C জীব = Penicillium notatum
উত্তর বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ আলোচনা করা হয় তাকে বিবর্তনবিদ্যা বলে।
উত্তর দুটি পদ অর্থাৎ গণ ও প্রজাতি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণই হলো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ। এক্ষেত্রে প্রথম অংশটি জীবের গণ নাম ও দ্বিতীয় অংশ প্রজাতির নাম হয়। জীবের এ নামকরণের ক্ষেত্রে ICBN ও ICZN এর স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করা হয় যাতে করে সারা বিশ্বে একই নামে জীবটি পরিচিতি পায়।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত A জীবটি হলো Homo sapiens অর্থাৎ মানুষ।
মানুষের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস নিচে দেওয়া হলো-
রাজ্য (Kingdom) : Animalia;
কারণ, সুকেন্দ্রিক কোষবিশিষ্ট, বহুকোষী, পরভোজী এবং জটিল টিস্যুতন্ত্র আছে।
পর্ব (Phylum): Chordata;
কারণ, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নটোকর্ড থাকে।
শ্রেণি (Class) : Mammalia;
কারণ, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায় এবং লোম/চুল আছে।
বর্গ (Order) : Primate;
কারণ, আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত।
গোত্র (Family): Hominidae;
কারণ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বানর প্রভৃতির সাথে সাদৃশ্য আছে।
গণ (Genus): Homo;
কারণ, দেহের অনুপাতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড় এবং খাড়াভাবে দুই পায়ে হাঁটতে পারে।
প্রজাতি (Species): Homo sapiens;
কারণ, চওড়া এবং খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত।
উত্তর উদ্দীপকের B জীবটি হলো Artocarpus Heterophyllus (কাঁঠাল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম), যা প্লান্টি রাজ্যের এবং C জীবটি হলো Penicillium notatum নামক ছাত্রক, যা ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব। রাজ্য দুটির মধ্যে প্লান্টি রাজ্যটি, ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত।
ফানজাই রাজ্যের জীবসমূহ স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এদের দেহ মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। কোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এদের দেহে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। শোষণ পদ্ধতিতে এরা খাদ্য গ্রহণ করে এবং হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে।
অপরদিকে, প্লান্টি রাজ্যের জীবসমূহ প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এর সপুষ্পক। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে। যৌন জননের মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার ঘটে। এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
রাজ্যদ্বয়ের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্লান্টি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় না। তাই বলা যায়, B জীবটি অর্থাৎ Artocarus heterophyllus, C জীব অর্থাৎ, Penicillium notatum থেকে উন্নত।
২৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলের অঙ্কীয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিকাটিকে রেনাল টিউব্যুল বলে।
উত্তর একটি পরিবেশে একই জীবকে টিকে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই সে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হতে হবে। প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করতে হয়। যে প্রাণীগুলো এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, তারা বেঁচে থাকে এবং অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: উত্তর এবং আমেরিকার কোয়েল পাখি প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাত পরিবেশে অভিযোজিত হতে না পারায় তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার মরুজ উদ্ভিদ বেঁচে থাকার তাগিদে পানি সংরক্ষণ কৌশল শিখে নিয়েছে এবং এরাই আগামীতে টিকে থাকবে। কারণ তারা এ পরিবেশের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে।
উত্তর উদ্দীপকে A দ্বারা বৃক্ককে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে বৃক্কের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দু'দিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পৃষ্ঠপ্রাচীর সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে। প্রতিটি বৃক্কের আকৃতি শিমবিচির মতো এবং রং লালচে হয়। বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল ও ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় বেং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে পেলভিস বলে। বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। মেডুলায় সাধারণত ৮-১২টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগ প্রসারিত হয়ে রেনাল প্যাপিলা গঠন করে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এ ধরনের নালিকা থাকে যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত, যথা- নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের রেচন অঙ্গ বৃক্ক। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিযা, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। বৃক্ক, ইউরেটার, মূত্রথলি এবং মূত্রনালি রেচনতন্ত্র গঠন করে। রেচনতন্ত্র দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করে। রেচন পদার্থসহ রক্ত রেনাল ধমনির মাধ্যমে সংবহিত হয়ে রেনাল অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল দিয়ে গ্লোমেরুলাসে প্রবেশ করে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় রক্তের রক্তকণিকা ও প্লাজমা ছাড়া বাকি অংশ পরিস্তুত হয়ে রেনাল ক্যাপসুল গহ্বরে পতিত হয়। সেখান থেকে পতিত তরল নেফ্রনের বিভিন্ন নালিকাতে প্রবাহিত হয়। বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। এ সময় দেহের প্রয়োজনীয় উপাদান ফিলট্রেট থেকে পুনঃশোষিত হয়। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায়। পেলভিস থেকে মূত্র ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে আসে এবং সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি মূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মূত্রত্যাগের ইচ্ছা জাগে এবং মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রপথে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে বৃক্ক মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে।
উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকের অঙ্গ বা বৃক্ক মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২৯. জীববিজ্ঞানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জীবের শ্রেণিবিন্যাস পড়াতে গিয়ে অ্যামিবা ও রুইমাছ এর রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।
উত্তর সাধারণত একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামই হলো দ্বিপদ নাম।
উত্তর শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে একটি জীবের গঠন, জনন, বাসস্থান, খাদ্য গ্রহণ, উৎপত্তি, বিবর্তন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি জীবের মাধ্যমে ঐ প্রজাতির অসংখ্য জীব সম্পর্কে প্রায় পরিপূর্ণ সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। ফলে জীবজগতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে সহজে ও অনায়াসে জানা যায়। তাই জীবের জন্য শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম প্রাণীটি হলো অ্যামিবা (Amoeba), যা সুপার কিংডম-২ এর অন্তর্গত প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য। নিচে প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-

১. এরা এককোষী বা বহুকোষী একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।

২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।

৩. কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।

৪. খাদ্যগ্রহণ শোষণ, গ্রহণ'বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।

৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।

৬. কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না।

উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত জীব দুটি হলো যথাক্রমে অ্যামিবা ও রুই মাছ। এরা একই সুপার কিংডমের প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও দুটি ভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো-
অ্যামিবা সুপার কিংডম-২ প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত। এরা এককোষী এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন তন্তু নিউক্লিয়াস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। খাদ্য গ্রহণ শোষণ বা গ্রহণ পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। কিন্তু কোনো ভূণ গঠিত হয় না।
অপরদিকে, রুই মাছ সুপার কিংডম-২ এর অ্যনিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্গত। এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই। এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। ভূণের বিকাশকালীন সময়ে ভ্রণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের পর্যবেক্ষণে রোঝা যায় যে, জীব দুটি (অ্যামিবা ও রুই মাছ) একই সুপার কিংডমের প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে অনেক বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে এরা ভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
৩০. নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ফুলের বৃত্তশীর্ষে অবস্থিত গোলাকার অংশ যাতে বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
উত্তর পুংস্তবক ফুলের তৃতীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বা পরাগরেণু থলি বলে। পরাগধানীর মধ্যে উৎপন্ন হয় পরাগ বা পরাগরেণু। এই পরাগরেণু অঙ্কুরিত হলে পোলেন টিউব উৎপন্ন হয়। এই পোলেন টিউবে পুংজননকোষ উৎপন্ন হয়। পুংস্তবক না থাকলে পরাগরেণু উৎপন্ন হবে না এবং পরাগরেণু না থাকলে উদ্ভিদের প্রজনন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পুংস্তবক ফুলের একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
উত্তর উদ্দীপকে চিত্র: Q এর 'R' দ্বারা গর্ভাশয়কে বুঝানো হয়েছে। গর্ভাশয়ে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু (n) সৃষ্টি হয়। নিচে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু উৎপত্তির বিভিন্ন ধাপসমূহের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো উত্তরের ছবি
উত্তর

এ উদ্দীপকে উল্লেখিত 'P' হচ্ছে পুংকেশর বা পুংস্তবক এবং 'Q' হচ্ছে গর্ভাশয় বা স্ত্রীস্তবক। ফুলের এ দুটি অংশ থেকে যথাক্রমে পুংজননকোষ ও স্ত্রীজননকোষ উৎপন্ন হয়। উদ্ভিদের বংশবিস্তারে

পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
পুংস্তবকে উৎপন্ন একটি পুংজননকোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। অপর পুংজননকোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য কোষের সৃষ্টি করে। জাইগোট কোষটি হচ্ছে স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষের সৃষ্টি হয়। জাইগোটের বিভাজন অনুপ্রস্থে ঘটে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি একটি ভ্রূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভ্রূণ ধারক গঠিত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভূণসহ বীজে পরিণত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইটের বা নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। যদি পুং গ্যামেট ও ডিম্বাণু এর মিলন না হতো, তবে জাইগোট সৃষ্টি হতো না, ফলস্বরূপ পরবর্তীতে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হতো না। তখন উদ্ভিদের বিলুপ্তি ঘটত এবং এর ফলস্বরূপ জীবজগৎ বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩১. চিত্র P-তে সূত্রাকার Spirogyra, চিত্র Q-তে Amoeba এবং চিত্র R-তে একটি বহুকোষী সবুজ উদ্ভিদ দেখানো হয়েছে।
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবকে বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করাকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
উত্তর

প্রতিটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি পদে লেখার পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।

প্রথম পদটি গণ এবং দ্বিতীয় পদটি প্রজাতি নির্দেশ করে; গণের প্রথম অক্ষর বড় ও প্রজাতির সব অক্ষর ছোট হয় এবং মুদ্রণে নাম দুটি italic লেখা হয়।

উত্তর

চিত্র P-এর Spirogyra পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসে Protista রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

Protista-এর জীব এককোষী, কলোনিয়াল বা সূত্রাকার এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত ইউক্যারিওট; নিউক্লিয়ার পর্দাবেষ্টিত ক্রোমাটিন ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে।

Spirogyra সূত্রাকার বহুকোষী শৈবাল, সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি করে এবং যৌন জননে কনজুগেশন ঘটায়; ভ্রূণ গঠিত হয় না—এসবই Protista-এর রাজ্যগত বৈশিষ্ট্য।

উত্তর

চিত্র Q-এর Amoeba-এর তুলনায় চিত্র R-এর বহুকোষী সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত।

Amoeba Protista রাজ্যের এককোষী ইউক্যারিওট; একটি কোষেই খাদ্যগ্রহণ, চলন, রেচন ও প্রজননসহ সব জীবনক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ভ্রূণ গঠিত হয় না।

R Plantae রাজ্যের জীব; এটি বহুকোষী, সালোকসংশ্লেষণকারী এবং উন্নত টিস্যুতন্ত্রযুক্ত, আর যৌন জননে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।

টিস্যু ও অঙ্গের শ্রমবণ্টন, বহুকোষী দেহ এবং ভ্রূণীয় বিকাশের কারণে R, Q-এর চেয়ে গঠন ও জীবনক্রিয়ায় অধিক উন্নত।

৩২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর উদ্ভিদের স্ত্রীজনন অঙ্গই হলো আর্কিগোনিয়াম।
উত্তর শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে একটি জীবের গঠন, জনন, বাসস্থান, খাদ্য গ্রহণ, উৎপত্তি, বিরর্তন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একই ধরনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি জীবের মাধ্যমে ঐ প্রজাতির অসংখ্য জীব সম্পর্কে প্রায় পরিপূর্ণ সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। ফলে জীবজগতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে সহজে ও অনায়াসে জানা যায়। এ কারণে জীবের শ্রেণিবিন্যাসকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত $'X'$ জীবটি হলো অ্যামিবা (Amoeba)। পাঁচ রাজ্যবিশিষ্ট্য জীবের শ্রেণিবিন্যাসে রাজ্য-২ হলো প্রোটিস্টা। এই প্রোটিস্টা রাজ্যে অ্যামিবার অবস্থান। প্রোটিস্টা রাজের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী-
১. এরা এককোষী বা বহুকোষী একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
৩. কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
৪. খাদ্যগ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে তার এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
৬. কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না।

অ্যামিবার ক্ষেত্রে যেহেতু উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ করা যায় তাই অ্যামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত।

উত্তর

উদ্দীপকের $'Y'$ হলো উন্নত সবুজ উদ্ভিদ, যা প্লানটি রাজ্যের অর্ন্তগত এবং 'Z' হলো নীলাভ সবুজ, শৈবাল যা মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব। এ জীব দুটির মধ্যে $'Y'$ অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

মনেরা রাজ্যের জীবসমূহ এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে। কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা থাকে না। এদের কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্যকোনো অঙ্গাণু থাকে না। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। অন্যদিকে, প্লানটি রাজ্যের জীবসমূহ প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এছাড়াও প্লানটি রাজ্যের উদ্ভিদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস প্রকৃতির। অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ। এরা পুষ্পক।
পরিশেষে বলা যায়, মনেরা রাজ্যের জীব $'Z'$ অর্থাৎ নীলাভ সবুজ শৈবাল স্বভোজী হলেও কোষের সংখ্যা, কোষীয় বৈশিষ্ট্য ও জনন প্রভৃতি দিক থেকে $'Y'$ অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ অধিক উন্নত।

৩৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
উত্তর Primate বর্গের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত হয়। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান আছে বলেই মানুষ Primate বর্গের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর উদ্দীপকে 'C' জীবটি হলো শাপলা। শাপলার নামকরণে লিনিয়াস প্রদত্ত এবং ICZN কর্তৃক স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি নিম্নরূপ-
i. শাপলার নাম হবে দ্বিপদী। প্রথম পদ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় পদ হলো প্রজাতিক নাম।
ii. নামের ভাষা হবে ল্যাটিন।
iii. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতি পদের সব অক্ষরই ছোট হাতের হবে।
iv. প্রতিটি বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য হতে হবে।
V. দ্বিপদ নামকরণ ছাপা অক্ষরে ইটালিক (ডান দিকে একটু বাঁকা) হরফে হবে। যেমন- Nymphaea nouchali, হাতে লিখলে ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং অংশ দুটির নিচে (একটি গণ, অপরটি প্রজাতি পদ) আলাদা আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। যেমন- Nymphaea nouchali
vi. বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নামদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) লিখতে হয়। যেমন- Nymphaea nouchali L. এখানে L. লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ।
vii. যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী একই জীবের বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
উত্তর উদ্দীপকের A ও B জীব হলো যথাক্রমে ডায়াটম ও নীলাভ সবুজ শৈবাল। নীলাভ সবুজ শৈবাল হলো সুপার কিংডম-১ এর মনেরা রাজ্যের এবং এককোষী শৈবাল হলো সুপার কিংডম-২ এর প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে জীব দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
i. নীলাভ সবুজ শৈবাল সাধারণত এককোষী, ফিলামেন্টাস অপরদিকে, এককোষী শৈবাল একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত, একক, কলোনিয়াল বা ফিলামেন্টাস প্রকৃতির।
ii. নীলাভ সবুজ শৈবালের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। অপরদিকে, এককোষী শৈবাল সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
iii. নীলাভ সবুজ শৈবালের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই কিন্তু রাইবোজোম আছে। অপরদিকে, এককোষী শৈবালে সকল ধরনের অঙ্গাণু বিদ্যমান।
iv. নীলাভ সবুজ শৈবালের খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি প্রধানত শোষণ, তবে কেউ কেউ সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য প্রস্তুত করে। অপরদিকে, এককোষী শৈবালের খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
তাই ডায়াটম ও নীলাভ সবুজ শৈবালের রাজ্যদ্বয়ের জীবের কোষের DNA ও RNA এর প্রকারভেদ, জীবদেহের কোষের বৈশিষ্ট্য, কোষের সংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাসের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করে প্রতীয়মান হয় যে, ডায়াটম নীলাভ সবুজ শৈবালের তুলনায় উন্নত।
৩৪. (i) $\mathrm{C_6H_{12}O_6 + 6O_2 \rightarrow 6CO_2 + 6H_2O + E}$
(ii) $\mathrm{6CO_2 + 12H_2O \rightarrow A + 6H_2O + 6O_2}$
উত্তর কোষের সব জৈবিক কাজে সরাসরি শক্তি সরবরাহকারী ATP-কে জৈব মুদ্রা বা শক্তিমুদ্রা বলে।
উত্তর

আখে CO₂ স্থিতিকরণের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড।

মেসোফিল ও বান্ডল শিথ কোষে হ্যাচ–স্ল্যাক ও ক্যালভিন চক্র সমন্বিতভাবে চলায় এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ C₄ হওয়ায় আখকে C₄ উদ্ভিদ বলা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের A হলো গ্লুকোজ; এটি সালোকসংশ্লেষণের প্রথম বা আলোকনির্ভর পর্যায়ে সরাসরি তৈরি না হলেও এ পর্যায়ের ATP ও NADPH পরবর্তী পর্যায়ে A তৈরির শক্তি দেয়।

থাইলাকয়েড ঝিল্লিতে ক্লোরোফিল আলোর ফোটন শোষণ করে উত্তেজিত ইলেকট্রন ছাড়ে; পানির ফটোলাইসিসে H⁺, ইলেকট্রন ও O₂ উৎপন্ন হয়।

ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে ফটোফসফোরাইলেশনে ATP এবং NADP⁺ বিজারণে NADPH তৈরি হয়; এগুলো ক্যালভিন চক্রে CO₂ বিজারিত করে গ্লুকোজ A উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের (i) সবাত শ্বসন ও (ii) সালোকসংশ্লেষণ জীবজগতের অস্তিত্বে পরস্পরনির্ভর শক্তি ও পদার্থচক্র চালায়।

সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তি ব্যবহার করে CO₂ ও H₂O থেকে A বা গ্লুকোজ ও O₂ তৈরি হয়; এটি খাদ্যশৃঙ্খলের জৈব পদার্থ ও শ্বসনের উপাদান দেয়।

শ্বসনে গ্লুকোজ ও O₂ জারিত হয়ে ATP, CO₂ ও H₂O হয়; ATP জীবের সব কাজ চালায় এবং উৎপন্ন CO₂–H₂O আবার সালোকসংশ্লেষণে যায়।

একটি খাদ্য ও O₂ তৈরি করে, অন্যটি খাদ্যের শক্তি মুক্ত ও CO₂ ফিরিয়ে দেয়; তাই O₂–CO₂ ভারসাম্য, কার্বনচক্র ও অবিচ্ছিন্ন শক্তিপ্রবাহে উভয় বিক্রিয়া অপরিহার্য।

৩৫.

পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের ক্রম: Monera → 2 → 3 → 4 → Animalia

এখানে 2=Protista, 3=Fungi এবং 4=Plantae।

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis।
উত্তর

অ্যামিবা Protista রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি এককোষী হলেও সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণুযুক্ত ইউক্যারিওট।

ছদ্মপদে চলন ও খাদ্যগ্রহণ করে এবং একটি কোষেই সব জীবনক্রিয়া সম্পন্ন করে; তাই এটি Monera বা বহুকোষী Animalia নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের 4 নম্বর রাজ্য Plantae; এ রাজ্যের প্রতিটি জীবকে লিনিয়াসের দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতিতে গণ ও প্রজাতির দুটি নামে চিহ্নিত করা হবে।

নামের প্রথম পদ গণ এবং দ্বিতীয় পদ প্রজাতি; উভয়টি ল্যাটিন বা ল্যাটিনকৃত হবে, গণের প্রথম অক্ষর বড় এবং প্রজাতির সব অক্ষর ছোট হবে।

মুদ্রণে নাম দুটি italic, হাতে লিখলে পৃথকভাবে দাগাঙ্কিত হবে; যেমন ধানের নাম Oryza sativa, প্রয়োজনে শেষে নামদাতা বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত নাম যোগ করা যায়।

উত্তর

উদ্দীপকের 2 নম্বর Protista-এর তুলনায় 3 নম্বর Fungi সাধারণ দেহসংগঠন ও বহুকোষিতায় অধিক উন্নত।

Protista-এর অধিকাংশ জীব এককোষী ইউক্যারিওট; একটি কোষেই সব জীবনক্রিয়া চলে, যদিও কোনো কোনোটি কলোনি বা সরল বহুকোষী।

Fungi-এর অধিকাংশ জীব বহু হাইফা দিয়ে গঠিত মাইসেলিয়ামযুক্ত বহুকোষী; কাইটিন প্রাচীর, বিশেষায়িত প্রজনন গঠন ও শোষণমূলক পুষ্টি থাকে, যদিও ইস্ট এককোষী ব্যতিক্রম।

কোষের সমন্বয়, বহুকোষী দেহ ও প্রজনন কাঠামোর বিকাশে Fungi, সাধারণ Protista-এর চেয়ে উন্নত; তবে উভয়ই ইউক্যারিওটা।

৩৬. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পুংস্তবকের পরাগধানীগুলো যখন একগুচ্ছে থাকে, তখন তাকে যুক্তধানী বা সিনজেনেসিয়াস বলে।
উত্তর জবা (Hibiscus rosa-sinensis) ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কারণ- আমরা জানি, একই ফুলে বা একই দেহে যখন দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে। সাধারণত উন্নত উদ্ভিদে এ দু'ধরনের জননকোষ একই দেহে উৎপন্ন হয়। জবা ফুলেও দুই ধরনের জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) একই দেহে উৎপন্ন হয় বলে জবা ফুলকে সহবাসী উদ্ভিদ বলে।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-X হলো ভূণথলি। নিচে ভ্রূণথলির গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
ভূণপোষক কলায় ডিম্বকরন্দ্রের কাছাকাছি একটি কোষ আকারে সামান্য বড় হয়। এর প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি তুলনামূলকভাবে বড়। এ কোষটি বিয়োজন বিভাজনের (মিয়োসিস) মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি করে। সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন এই বড় কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ ভূণথলিতে পরিণত হয়। এ কোষটির নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n)। এই নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ নিউক্লিয়াস দুটি ভূণথলির দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এবার এ দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পরপর দুবার বিভক্ত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
এর পরবর্তী ধাপে দুই মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস ভূণথলির কেন্দ্রস্থলে এসে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। দুই মেরুর নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজম সহকারে কোষের সৃষ্টি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভয়ন্ত্র বলে। এর মাঝের কোষটি বড়। একে. ডিম্বাণু এবং অন্য কোষকে সহকারী কোষ বলা হয়। গর্ভর্যন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটিকে' প্রতিপাদ কোষ বলে। এভাবেই ভ্রূণথলির গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হয়।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত S দ্বারা গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে একটি পুং গ্যামেটের মিলন তথা সস্যটিস্যু এবং T দ্বারা ডিম্বাণুর সাথে অপর পুং গ্যামেটের মিলন তথা জাইগোটকে বোঝানো হয়েছে। ছিনিষেক প্রক্রিয়ায় একই সময়ে দুটি পুং গ্যামেটের একটি গৌণ নিউক্লিয়াস ও অপরটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে জাইগোট ও সস্যটিস্যু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ভূণথলির অভ্যন্তরে একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে এবং অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য কোষ সৃষ্টি করে। জাইগোট হলো স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ সৃষ্টি করে। একই সাথে সস্যের পরিস্ফুটনও ঘটতে শুরু করে। জাইগোটের অনুপ্রস্থ বিভাজন, ঘটে। জাইগোটের অনুপ্রস্থ বিভাজনে সৃষ্ট ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। এ কোষ দুটির একই সাথে বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি ভূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভূণধারক গঠিত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি ট্রিপ্লয়েড সস্য টিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভূণসহ বীজে রূপান্তরিত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদের পরিস্ফুটন ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, জাইগোট ও সস্যটিস্যু উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় তাকে এন্ডোক্রাইনোলজি বলে।
উত্তর জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশ বা পদটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ বা পদটি তার প্রজাতির নাম। এ ধরনের নামকে দ্বিপদ নাম বলে। ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Oryza sativa। এখানে Oryza গণ নাম এবং sativa প্রজাতির নাম বোঝায়। দুটি পদ নিয়ে গঠিত বলে ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে দ্বিপদ নাম বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-G এর জীবটি হলো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। শ্রেণিবিন্যাসে এটি প্লানটি রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের রাজ্যগত অবস্থান ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
২. এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৩. এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
৪. এরা প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে।
৫. এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
৬. এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
৭. এরা সপুষ্পক।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-E হলো Nostoc এবং চিত্র-F হলো ডায়াটম। এই দু'টি জীব যথাক্রমে মনেরা এবং প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব ডায়াটম মনেরা রাজ্যের Nostoc এর তুলনায় অধিক উন্নত। নিচে তা কারণসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
১. Nostoc একাকোষী, ফিলামেন্টাস ও কলোনিয়াল। অন্যদিকে ডায়াটম এককোষী একক বা কলোনিয়াল বা ফিলামেন্টাস।
২. Nostoc-এর কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। অপরদিকে ডায়াটমের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
৩. Nostoc-এর নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। অপরদিকে ডায়াটমের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. Nostoc-এ রাইবোজোম ব্যতীত কোনো কোষীয় অঙ্গাণু নেই। অন্যদিকে ডায়াটমে সকল ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু থাকে।
৫. Nostoc প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। অপরদিকে ডায়াটম শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে।
৬. Nostoc দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটায়। অন্যদিকে ডায়াটম অযৌন প্রজনন এবং কনজগেশনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যায় যে, ডায়াটমের (চিত্র-F) বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা Nostoc (চিত্র-E) এর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় না। সুতরাং, ডায়াটম এবং Nostoc এর মধ্যে ডায়াটম অধিক উন্নত।
৩৮. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর বৃক্কের হাইলাসে অবস্থিত গহ্বরকে পেলভিস বলে।
উত্তর অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়, কারণ এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম এবং কিছু হরমোন নিঃসরণ করে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন গ্লুকাগন ও ইনসুলিন নিঃসরণ করে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-H হচ্ছে বৃক্ক। নিচে বৃক্কের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো-
একজন স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ মিলিলিটার মূত্র ত্যাগ করে। মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত পদার্থ থাকে। এগুলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃক্কস্থিত নেফ্রন একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে মূত্র উৎপন্ন করে। উৎপন্ন মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে বৃক্কের পেলভিসে পৌঁছায় এবং পেলভিস থেকে ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশ বেয়ে ইউরেটারে প্রবেশ করে। ইউরেটার থেকে মূত্র মূত্রথলিতে আসে এবং সাময়িকভাবে জমা থাকে। মূত্রথলি মূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মূত্র ত্যাগের ইচ্ছে জাগে এবং মূত্রথলির নিচের দিকে অবস্থিত ছিদ্রপথে দেহের বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে বৃক্ক মানবদেহ থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে। বৃক্ক মানবদেহে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়াও মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-H হলো মানবদেহের রেচন অঙ্গ বৃক্ক। নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদির কারণে বৃক্ক ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। বৃক্ক বিকলে দু'ধরনের করণীয় দিক রয়েছে। যথা- ডায়ালাইসিস ও বৃক্ক প্রতিস্থাপন।
ডায়ালাইসিস পদ্ধতিতে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এক্ষেত্রে তার এক হাতের ধমনির সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের এক প্রান্ত এবং একই হাতের শিরার সাথে ডায়ালাইসিস টিউবের অপর প্রান্ত সংযুক্ত করা হয়। তারপর ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে শিরার মধ্য দিয়ে পুনরায় দেহে প্রবেশ করানো হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় এর আংশিক বৈষম্যভেদ্য প্রাচীর কর্তৃক রক্তের ক্ষতিকর ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি গৃহীত হয়। এ প্রক্রিযার মাধ্যমে রক্ত পরিশোধন ততটা নিখুঁত হয় না। তাছাড়া এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এটি কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়।
অপরদিকে বৃক্ক প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতি অনেক ফলপ্রসূ, কারণ দুটি বৃক্কের পরিবর্তে একটি বৃক্কও যথেষ্ট দক্ষতার সাথে রক্ত পরিশোধনে সক্ষম। তবে বৃক্ক প্রতিস্থাপনের পূর্বে দাতা ও গ্রহীতার টিস্যু ম্যাচ করে কি না তা দেখে নিতে হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃক্ক বিকল রোগীর দেহে বৃক্ক সংযোজন বা প্রতিস্থাপন করে তাদের সুস্থ করে তোলা হচ্ছে।
তাই বলা যায়, বৃক্ক বিকল স্থায়ী সমাধান হিসেবে বৃক্ক সংযোজন বা প্রতিস্থাপন চিকিৎসা পদ্ধতিটি অধিক গ্রহণযোগ্য।
৩৯. ধারাটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যৌন জননক্ষম উদ্ভিদের স্ত্রীজননাঙ্গকে বলা হয় আর্কিগোনিয়াম বা আর্কিগোনিয়া।
উত্তর প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলোকে ইউক্যারিওট (প্রকৃতকোষ) বলা হয়। কারণ প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলো এককোষী বা বহুকোষী হয়। এরা এককভাবে অথবা কলোনি আকারে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। এরা প্রকৃতকোষী অর্থাৎ নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় অযৌন জনন ঘটে থাকে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলোকে ইউক্যারিওট বলা হয়।
উত্তর

জাই উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' দ্বারা যথাক্রমে রাজ্য ফানজাই এবং রাজ্য অ্যানিমেলিয়াকে বুঝানো হয়েছে। ফানজাই এবং অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবগুলো ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

১. এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।

২. দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।

৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।

৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।

৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।

৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।

৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।

অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের বৈশিষ্ট্য:

১. এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী।

২. এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই।

৩. প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে।

৪. দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।

৫. এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

৬. পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়।

৭. ভ্রূণের বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, ফানজাই ও অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীব ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

উত্তর উদ্দীপকে প্রদত্ত জীবজগতের পাঁচটি রাজ্য হলো যথাক্রমে ১. মনেরা, ২. প্রোটিস্টা, ৩. ফানজাই, ৪. প্লানটি, ৫. অ্যানিমেলিয়া।
উক্ত রাজ্যের জীবগুলোর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, রাজ্য-১ এর জীবগুলো সরল এককোষী, প্রাককেন্দ্রিক এবং আণুবীক্ষণিক। কিন্তু পরবর্তী রাজ্যগুলোতে ক্রমান্বয়ে জীবগুলো জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করেছে। কোষের বৈশিষ্ট্য ও সংখ্যা, দেহের বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাসের প্রকৃতি, চলন ইত্যাদির ভিত্তিতে একটি রাজ্য থেকে তার পরবর্তী রাজ্যে অধিকতর সুগঠিত ও উন্নত জীব রয়েছে। যেমন-রাজ্য-১ এর জীবগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়। রাজ্য-১ ও রাজ্য-২ এ এককোষী জীবের অবস্থান হলেও পরবর্তী রাজ্যগুলোতে বহুকোষী জীব রয়েছে। রাজ্য-২ ও রাজ্য-৩ এর জীবগুলাতে সুগঠিত টিস্যুতন্ত্র না থাকলেও রাজ্য-৪ ও রাজ্য-৫ এর জীবগুলোতে সুগঠিত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। রাজ্য-১ থেকে রাজ্য-৪ পর্যন্ত জীবগুলো খাদ্য গলাধঃকরণ করতে না পারলেও রাজ্য-৫ এর জীব তথা প্রাণীগুলো খাদ্য গলাধঃকরণ করতে পারে। এছাড়া রাজ্য-৫ এর অধিকাংশ জীব চলাফেরা করতে পারে, কিন্তু এর পূর্বের কোনো রাজ্যের জীব সাধারণত চলাফেরা করতে পারে না।
সুতরাং এ সকল যৌক্তিক কারণেই উক্ত রাজ্যসমূহের জীবগুলোকে সরল থেকে জটিল গঠনের ক্রমবিকাশে সাজানো হয়েছে।
৪০. নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পাশাপাশি অবস্থিত কোষসমূহের সাথে সংযোগ সৃষ্টিকারী আণুবীক্ষণিক নালিই হচ্ছে প্লাজমোডেজমাটা।
উত্তর নিউক্লিয়াসকে কোষেল প্রাণকেন্দ্র বা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলা হয়। নিউক্লিয়াস কোষের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন, কোষের গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রণ, RNA ও রাইবোজোম গঠন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, বংশগতির স্থানান্তর, বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক ক্রোমোজোম ধারণ, কোষ বিভাজনে অংশ গ্রহণ সবই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবকোষের সার্বিক কার্য সম্পাদনে জড়িত বলে নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলে।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-

ক্লোরোপ্লাস্ট দুই স্তর বিশিষ্ট। বাইরের দিকের স্তরটিকে বহিঃস্তর এবং ভেতরের দিকের স্তরটিকে অন্তঃস্তর বলা হয়। ক্লোরোপ্লাস্টে গ্রানাম চাকতি নামক এক প্রকার স্তরীভূত অঙ্গ থাকে যেখানে সূর্যের আলো আবদ্ধ হয়। গ্রানা সংখ্যায় একের অধিক এবং এরা পরস্পর গ্রানাম ল্যামেলি নামক নালিকা দিয়ে সংযুক্ত।

এছাড়াও ভেতরে ম্যাট্রিক্স থাকে। ম্যাট্রিক্সে স্ট্রোমা ছড়ানো অবস্থায় থাকে। স্ট্রোমা থেকে সালোকসংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় উৎসেচক নিঃসৃত হয়।

উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' ও 'Y' হলো যথাক্রমে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়া-এর কাজ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-

ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে এবং বায়ুস্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড ও কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি যোগায়।

অন্যদিকে, জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপাদিত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে জারণের মাধ্যমে কোষের বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি অর্থাৎ ATP উৎপাদনে মাইটোকন্ড্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পর্যায় ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। কারণ, ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়াতে উপস্থিত থাকে। আর এই ক্রেবস চক্রেই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্যই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।
অর্থাৎ মাইটোকন্ড্রিয়ার যাবতীয় কার্যক্রম ক্লোরোপ্লাস্টে উৎপন্ন শর্করার উপর নির্ভর করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা ও অক্সিজেন তৈরি না হলে শ্বসন ঘটবে না। ফলে উদ্ভিদ যাবতীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। অর্থাৎ এরা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।

৪১.

চিত্র P-তে বাঘ, Q-তে একটি সবুজ উদ্ভিদ এবং R-তে Amoeba দেখানো হয়েছে।

[P, Q ও R প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীবদেহের টিস্যুর গঠন, বিন্যাস ও কাজসংক্রান্ত জীববিজ্ঞানের শাখাকে হিস্টোলজি বলে।
উত্তর

ব্যাকটেরিয়া প্রোক্যারিওটা সুপার কিংডমের জীব, কারণ এর কোষে পর্দাবেষ্টিত সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই।

এর DNA নিউক্লিওয়েডে উন্মুক্ত থাকে, 70S রাইবোজোম থাকে এবং কোষ বিভাজন সরল দ্বিবিভাজনে হয়; তাই এটি ইউক্যারিওটা নয়।

উত্তর

উদ্দীপকের P হলো বাঘ; এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটি Animalia রাজ্যের কর্ডাটা প্রাণী।

বাঘ বহুকোষী, ইউক্যারিওটিক, কোষপ্রাচীরহীন, পরভোজী ও চলনক্ষম; ভ্রূণে নটোকর্ড এবং পরিণত অবস্থায় মেরুদণ্ড থাকে।

শ্রেণি পর্যন্ত বিন্যাস: সুপার কিংডম—Eukaryota, রাজ্য—Animalia, পর্ব—Chordata, উপপর্ব—Vertebrata এবং শ্রেণি—Mammalia; এটি লোম, স্তনগ্রন্থি ও উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট।

উত্তর

উদ্দীপকের Q-এর সবুজ উদ্ভিদ R-এর Amoeba-এর তুলনায় রাজ্যগত সংগঠনে অধিক উন্নত।

Amoeba প্রোটিস্টা রাজ্যের এককোষী ইউক্যারিওট; একটি কোষই পুষ্টি, চলন, রেচন, শ্বসন ও প্রজননের সব কাজ করে এবং প্রকৃত টিস্যু-অঙ্গ নেই।

Q Plantae রাজ্যের বহুকোষী জীব; ক্লোরোফিলযুক্ত কোষে স্বভোজী পুষ্টি, সেলুলোজ প্রাচীর, টিস্যু, মূল-কাণ্ড-পাতা ও পরিবহন ব্যবস্থার কার্যবিভাজন থাকে।

বহুকোষিতা, বিশেষায়িত টিস্যু-অঙ্গ এবং জটিল জীবনচক্রের জন্য Q, এককোষী ও অঙ্গহীন R-এর চেয়ে অধিক উন্নত।

৪২.

ফুলের অত্যাবশ্যকীয় স্তবকের P হলো পুংস্তবক এবং Q হলো ফুলের কেন্দ্রে অবস্থিত স্ত্রীস্তবক। P থেকে M পুং জননকোষ ও Q থেকে N স্ত্রী জননকোষ সৃষ্টি হয়।

[P, Q, M ও N প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যে পুষ্পমঞ্জরির প্রধান অক্ষ ফুলে পরিণত বা বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ায় ফুলগুলো কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে ক্রমে কনিষ্ঠ হয়, তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে।
উত্তর

নিষেকের পর ফুলের ডিম্বাশয় বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত হয়ে ফলে পরিণত হয়।

ডিম্বাশয়ের প্রাচীর ফলত্বক এবং ডিম্বক বীজে রূপান্তরিত হয়; কখনো পুষ্পাধার বা অন্য পুষ্পাংশ যুক্ত হলে অপ্রকৃত ফল সৃষ্টি হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের P পুংস্তবক থেকে M পুংগ্যামেট এবং Q স্ত্রীস্তবকের ডিম্বকে N ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়; M ও N-এর মিলনে জাইগোট গঠিত হয়।

পরাগায়নের পর পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালি গঠন করে এবং একটি পুংগ্যামেট ভ্রূণথলির ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে 2n জাইগোট সৃষ্টি করে।

জাইগোট মাইটোসিসে ভ্রূণ, ডিম্বক বীজ ও ডিম্বাশয় ফল হয়; বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন 2n স্পোরোফাইট উদ্ভিদ গঠন করে।

উত্তর

পরিবর্তিত পরিবেশে অভিযোজনের জন্য P পুংস্তবক ও Q স্ত্রীস্তবক একই প্রজাতির ভিন্ন উদ্ভিদে থাকা সুবিধাজনক, কারণ এতে পরপরাগায়ন বাধ্যতামূলক হয়।

ভিন্ন উদ্ভিদের পুং ও স্ত্রী গ্যামেট মিললে জিনের নতুন সমন্বয় তৈরি হয়; মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার ও স্বাধীন বিন্যাসের বৈচিত্র্য নিষেকে একত্রিত হয়।

বৈচিত্র্যময় অপত্যের মধ্যে রোগ, তাপ, খরা বা অন্য পরিবর্তনের উপযোগী বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা বাড়ে এবং ক্ষতিকর প্রচ্ছন্ন জিনের প্রকাশ কমতে পারে।

পরাগ অপচয় ও বাহকনির্ভরতা বাড়লেও অভিযোজন, প্রাকৃতিক নির্বাচন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রজাতি-টিকে থাকার দিক থেকে পৃথক উদ্ভিদে P ও Q থাকা অধিক লাভজনক।

৪৩. নিচের চিত্রগুলো লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর গণ ও প্রজাতি নামক দুইটি পদের সমন্বয়ে জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।
উত্তর মানুষের কপাল চওড়া এবং খাড়া, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য মানুষের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ বলে মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-A হলো নীলাভ-সবুজ শৈবাল। মারগুলিস-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুসারে এটি প্রোক্যারিওটা নামক সুপার কিংডমের এবং মনেরা কিংডম বা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে নীলাভ-সবুজ শৈবালের গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
প্রোক্যারিওটা সুপার কিংডমের সদস্য হিসেবে নীলাভ সবুজ শৈবাল আদিকোষী জীব, অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াস প্রাককেন্দ্রিক ধরনের (নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়)। আবার এরা মনেরা কিংডমের সদস্য বলে ফিলামেন্টাস জীব। এছাড়া এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ন, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই কিন্তু রাইবোজোম আছে। এদের কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এরা প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র-B হলো মাশরুম বা ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব এবং চিত্র-C হলো পাখি বা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব। উদ্দীপকে B ও C তথা মাশরুম ও পাখির মধ্যে পাখি উন্নত। নিম্নে এদের রাজ্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হলো-
ফানজাই রাজ্যের অধিকাংশ জীবই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এই রাজ্যের জীবের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। এরা হ্যাপ্লয়েট স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। অপরদিকে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবগুলো নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
সুতরাং উল্লিখিত সকল তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় যে, ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মাশরুম থেকে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত পাখি বেশি উন্নত।
৪৪. জীববিজ্ঞান পড়ানোর সময় শিক্ষক বললেন, পাউরুটিতে এক ধরনের জৈব উপাদান ব্যবহার করা হয়, যে কারণে পাউরুটি ফুলে ওঠে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বললেন যে, "প্রাণিজগতে মানুষ সবচেয়ে উন্নততর জীব।"
উত্তর গণের নাম ও প্রজাতিক নাম—এই দুটি পদ ব্যবহার করে কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।
উত্তর

শ্রেণিবিন্যাস জীবের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য অনুযায়ী বিপুল জীববৈচিত্র্যকে সুশৃঙ্খল দলে সাজিয়ে শনাক্তকরণ ও অধ্যয়ন সহজ করে।

এটি জীবদের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিবর্তনীয় ইতিহাস ও নতুন জীবের অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে এবং বিশ্বব্যাপী একই বৈজ্ঞানিক পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

উত্তর

পাউরুটি ফুলাতে ব্যবহৃত জৈব উপাদানটি ইস্ট; এটি Fungi রাজ্যের Saccharomyces গণের এককোষী ছত্রাক।

ইস্ট ইউক্যারিওটিক, ক্লোরোফিলহীন ও পরভোজী; এর কাইটিনযুক্ত কোষপ্রাচীর, সুগঠিত নিউক্লিয়াস, ভ্যাকুওল ও অন্যান্য অঙ্গাণু থাকে এবং সাধারণত কুঁড়ি সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

অক্সিজেনের অভাবে ইস্ট শর্করাকে গাঁজন করে ইথানল ও CO₂ উৎপন্ন করে; আটার মধ্যে আটকে থাকা CO₂ বুদ্‌বুদ সৃষ্টি করায় পাউরুটি ফুলে ওঠে।

উত্তর

প্রাণিজগতে মানুষকে সবচেয়ে উন্নত জীব বলা যুক্তিসংগত, কারণ মানুষের দেহে উচ্চমাত্রার অঙ্গতান্ত্রিক সংগঠন এবং অসাধারণ মস্তিষ্কনির্ভর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা রয়েছে।

মানুষ কর্ডাটা ও স্তন্যপায়ী প্রাণী; দেহে বিশেষায়িত টিস্যু-অঙ্গতন্ত্র, উন্নত স্নায়ুতন্ত্র, দ্বিপদ চলন, বিপরীতমুখী বৃদ্ধাঙ্গুলি ও সূক্ষ্ম কাজের উপযোগী হাত আছে।

বৃহৎ সেরিব্রাম মানুষকে বিমূর্ত চিন্তা, ভাষা, স্মৃতি, বিচার, পরিকল্পনা, শিক্ষা, প্রযুক্তি নির্মাণ ও সামাজিক সংস্কৃতি প্রজন্মান্তরে সঞ্চারের ক্ষমতা দেয়।

শুধু দেহগঠন নয়, আত্মসচেতনতা, জ্ঞান সঞ্চয় ও পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তনের সম্মিলিত সক্ষমতায় মানুষ অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় সর্বাধিক উন্নত।

৪৫. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর স্নায়ুকোষ নিঃসৃত একপ্রকার নির্যাসকে ডোপামিন বলে।
উত্তর শরীরের কোনো অংশের মাংশপেশির কার্যাবলি বা নাড়াতে পারার যে ক্ষমতা তা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে। সাধারণত মস্তিষ্কের স্ট্রোক হলো প্যারালাইসিসের প্রধান কারণ। মেরুদণ্ড বা ঘাড়ের সুষুম্নাদণ্ডে আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণেও প্যারালাইসিস হতে পারে। এছাড়া স্নায়ুরোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও এ রোগের কারণ হতে পারে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত A অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকা দুটি অংশে বিভক্ত যথা নেফ্রন ও সংগ্রাহী নালিকা। অর্থাৎ B দ্বারা নেফ্রনকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে নেফ্রনের সার্বিক বর্ণনা দেওয়া হলো-
মানবদেহে প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। প্রতিটি নেফ্রন একটি রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং রেনাল টিউব্যুল নিয়ে গঠিত। প্রতিটি রেনাল করপাসল আবার গ্লোমেরুলাস এবং বোম্যান্স ক্যাপসুল এ দুটি অংশে বিভক্ত। বোম্যান্স ক্যাপসুল গ্লোমেরুলাসকে বেষ্টন করে থাকে। বোম্যান্স ক্যাপসুল দ্বিস্তর বিশিষ্ট পেয়ালার মতো প্রসারিত একটি অংশ। গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট অ্যার্টারিওল ক্যাপসুলের ভিতরে ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিকনালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালিগুলো মিলিত হয়ে অ্যাফারেন্ট অ্যার্টারিওল সৃষ্টি করে এবং ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে। বোম্যান্স ক্যাপসুলের অঙ্কীয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিকাটিকে রেনাল টিউব্যুল বলে। দুই বৃক্কে মোট ২০ লক্ষ রেনাল টিউব্যুল থাকে। প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩টি অংশে বিভক্ত, যথা: গোড়াদেশীয় প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ, প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা। উত্তরের ছবি
উত্তর উদ্দীপকের উল্লিখিত A হলো বৃক্ক। বৃক্ক ঠিকমতো কাজ না করলে বা বিকল হলে এর প্রতিকার ব্যবস্থা হিসেবে নিচের দুটি পদ্ধতির মধ্যে যেকোনো একটি গ্রহণ করে সমস্যাটি সমাধান করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। পদ্ধতি দুটি হলো-
ডায়ালাইসিস : বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনটির ডায়ালাইসি টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে টিউবের মধ্য দিয়ে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয়।
প্রতিস্থাপন : যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায় তখন তাকে কিডনি সংযোজন বলে। কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়- কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি একজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে এটি করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাইবোন, মামা, খালাকে বুঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরণোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন কিডনি বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভম্বপর হতে পারে। মানুষের সব সময় একটি কিডনি কার্যকর থাকে। তাই একটি সুস্থ কিডনি প্রতিস্থাপন করে রোগের চিকিৎসা করা যায়। তবে দেখতে হবে যে টিস্যু ম্যাচ করে কি-না। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের কিডনির টিস্যু ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তাই বলা যায়, বৃক্ক বিকল বা অকেজো হলে উল্লিখিত ডায়ালাইসিস অথবা বৃক্ক প্রতিস্থাপন পদক্ষেপের যেকোনো একটি গ্রহণ করা যায়।
৪৬. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ক্ষমতা ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
উত্তর ডায়াবেটিস রোগ অনিরাময়যোগ্য কিন্তু এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শমতো খাদ্য গ্রহণ করলে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে, রোগীর দেহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নিলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই বলা হয় সুশৃঙ্খল জীবন ব্যবস্থা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মহৌষধস্বরূপ।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত $'X'$ তথা স্পঞ্জ সদৃশ অঙ্গটি হলো ফুসফুস। নিচে চিত্রসহ এর গঠন ব্যাখ্যা করা হলো :

বক্ষগহ্বরের ভেতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুইটি ফুসফুস অবস্থিত। এটা স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। ডান ফুসফুস তিন খণ্ড এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজ বিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাস ক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ু প্রকোষ্ঠ, সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও ধমনি থাকে। সব সময় বাতাসে পূর্ণ থাকা বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা প্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ুথলির শাখা নালি দিয়ে সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করে। বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিক নালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। বায়ুথলির গঠন এরূপ যে এতে বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে উঠে ও পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। আবার বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এতই পাতলা যে, এর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।

উত্তরের ছবি
উত্তর মানবদেহে 'O2' ও 'CO₂' এর ভারসাম্য রক্ষায় শ্বসনতন্ত্র এবং রক্তসংবহনতন্ত্র উভয় প্রক্রিয়াই ঘনিষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ফুসফুস ও রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে। নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো-
শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে বাতাস তথা O₂ ফুসফুসের অ্যালভিওলিতে পৌঁছায়। অ্যালভিওলি থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O₂ ফুসফুসীয় শিরার রক্তে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এই O₂ হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সাথে মিলিত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিনরূপে বাহিত হয় এবং হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছায়। এক্ষেত্রে O₂ যুক্ত রক্ত হেপাটিক ধমনির মাধ্যমে যকৃতে, মেসেনটেরিক ধমনির মাধ্যমে পাকস্থলীতে, বৃক্কীয় ধমনির মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছে থাকে। এ সকল অঙ্গে পৌঁছার পর অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে O₂ মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দেহের কোষকলায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে এ সকল অঙ্গের কোষকলায় শ্বসন প্রক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন CO₂ রক্তের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন শিরার মাধ্যমে যেমন- বৃক্কীয় শিরা, হেপাটিক শিরা এবং শেষ পর্যায়ে মহাশিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। আর এখান থেকে CO₂ যুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায়। এখানেই রক্ত পরিশোধিত হয়।
তাই, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, মানবদেহে 'O2' ও 'CO₂' এর ভারসাম্য রক্ষায় উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
৪৭. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।
উত্তর সাপ ও ব্যাঙের মধ্যে আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম বিদ্যমান। এই ধরনের জীবসমূহের মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের যে সংগ্রাম গড়ে ওঠে তাকে আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম বলে। এই সংগ্রামের ফলেই সাপ ব্যাঙদের খায়। এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই সাপ ও ব্যাঙের মধ্যে নিষ্ঠুর আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম গড়ে ওঠে।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত $'X'$ প্রযুক্তিটি হচ্ছে টিস্যু কালচার। নিচে এর ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
i. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন: উন্নত গুণসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান এবং রোগমুক্ত উদ্ভিদকে এক্সপ্ল্যান্টের জন্য নির্বাচন করা হয়।
ii. আবাদ মাধ্যম তৈরি: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন, সুক্রোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যমে তৈরির জন্য জমাট বাঁধার উপাদান যেমন অ্যাগার সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে আবাদ মাধ্যম তৈরি করা হয়।

iii . জীবাণুমুক্ত আবাদ প্রতিষ্ঠা: আবাদ মাধ্যমকে কাচের পাত্রে নিয়ে তুলা বা প্লাস্টিকের ঢাকনা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে অটোক্লেভ যন্ত্রে ১২১° সে. তাপমাত্রায় ১৫ /b/sq.inch চাপে ২০ মি. রেখে জীবাণুমুক্ত করা হয়। জীবাণুমুক্ত তরল আবাদকে ঠান্ডা ও জমাট বাঁধার পর এক্সপ্ল্যান্টগুলোকে নির্দিষ্ট আলো ও তাপমাত্রা (২৫ + ২° সে.) সম্পন্ন নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বর্ধনের জন্য রাখা হয়। এ পর্যায়ে আবাদে স্থাপিত টিস্যু বারবার বিভাজনের মাধ্যমে সরাসরি অণুচারা তৈরি হয় বা অবয়বহীন টিস্যুমণ্ডে পরিণত হয়। এ টিস্যুমণ্ড হতে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে একাধিক অণুচারা উৎপন্ন হয়।
iv. মূল উৎপাদক মাধ্যমে স্থানান্তর: এ সমস্ত উৎপাদিত চারাগাছে যদি মূল উৎপন্ন হয় তবে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা লাভের পর বিটপগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয় এবং তাদেরকে পুনরায় মূল উৎপাদনকারী আবাদ মাধ্যমে স্থাপন করা হয়।
v . প্রাকৃতিক পরিবেশে তথা মাঠপর্যায়ে স্থানান্তর: মূলযুক্ত চারাগুলোকে পানিতে ধুয়ে অ্যাগারমুক্ত অবস্থায় ল্যাবরেটরিতে মাটি ভরা ছোট ছোট পাত্রে স্থানান্তর করা যায়। পাত্রে লাগানো চারাগুলো কক্ষের বাইরে রেখে মাঝে মাঝে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। পূর্ণাঙ্গ চারাগুলো সজীব ও সবল হয়ে উঠলে সেগুলোকে একপর্যায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে মাটিতে লাগানো হয়।

উত্তরের ছবি
উত্তর উদ্দীপকের প্রদর্শিত চিত্র-$'X'$ প্রক্রিয়াটি টিস্যু কালচার আর $'Y'$ চিত্রটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি দুটির মধ্যে শস্য উন্নয়নে রিকম্বিনেন্ট এ প্রযুক্তি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বাধুনিক জীবপ্রযুক্তি। বর্তমানে শস্য উন্নয়নে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো :
রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেমন- বিটি ভুট্টা, বিটি তুলা। এসব ফসল লেপিডোপটেরা এবং কলিওপটেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত ক্ষতির কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম। আবার, এর সাহায্যে ভাইরাস প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেমন- ভাইরাস, টোবাকো মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়াও জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাছানাশক প্রতিরোধী ভুট্টা, তুলা ইত্যাদি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একই উদ্ভিদে একাধিক বৈশিষ্ট্যের জিন অনুপ্রবেশ করিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি করা হয়েছে। জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে উদ্ভিদের পুষ্টিমান উন্নত করা হয়েছে। যেমন-ধানে ভিটামিন-এ তথা বিটা-ক্যারোটিন জিন স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে লেট ব্লাইট ছত্রাক প্রতিরোধী জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে লেট ব্লাইট প্রতিরোধী গোল আলুর জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা চলছে।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, শস্য উন্নয়নে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
৪৮. নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর ADP এর সঙ্গে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরি করার প্রক্রিয়াই হলো ফসফোরাইলেশন।
উত্তর মুথা ঘাসকে C4উদ্ভিদ বলা হয়। কারণ এই উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্রের পাশাপাশি হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রও পরিচালিত হয়। বিজ্ঞানী হ্যাচ ও স্ল্যাক ১৯৬৬ সালে CO₂ বিজারণের এই গতিপথ আবিষ্কার করেন, যেখানে এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড পাওয়া যায়। মুথা ঘাসে এই চক্র সম্পন্ন হয় বিধায় মুথা ঘাসকে C4উদ্ভিদ বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র 'F' তে দেখানো প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া। নিচে সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে উৎপন্ন শক্তির প্রবাহচিত্র দেখানো হলো উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকের চিত্র 'E' ও 'F' দ্বারা যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দুটি একে অপরের পরিপূরক। নিচে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হলো-

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে H₂O ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো CO₂ ও H₂O। কাজেই CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO₂ শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও CO2 উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও O₂ সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং O₂ তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতো। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে CO₂ তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেষণেও ব্যাঘাত ঘটতো।
পরিশেষে বলা যায় যে. প্রক্রিয়া দুটি অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন একে অপরের পরিপূরক।

৪৯. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পরিবৃত্তি: পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই ধরনের হয় না। যতই কম হোক এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকে। জীব দুটির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায় তাকে পরিবৃত্তি বলে বলে।
উত্তর মেয়েদের যেহেতু দুটি X ক্রোমোজোম থাকে, সেহেতু একটি X ক্রেমোজোমে মিউটেশন থাকলেও আরেকটি X ক্রোমোজোম স্বাভাবিক থাকার কারণে রোগলক্ষণ প্রকাশ পায় না। দুটি X ক্রোমোজোমেই একই সাথে একই অসুখের মিউটেশন থাকার সম্ভাবনা খুব কম বলে মেয়েরা সাধারণত সেক্স-লিংকড রোগে আক্রান্ত হয় না, বড়জোর বাহক (carrier) হিসেবে কাজ করে, (যে নিজে অসুস্থ নয় কিন্তু অসুস্থতার জিন বহন করে, তাকে বাহক বলে)।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র 'L' দ্বারা বুঝানো হৃৎপেশীকে। হৃৎপেশী এক ধরনের অনৈচ্ছিক পেশী যা দিয়ে মেরুদন্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ড গঠিত। নিচে হৃৎপিণ্ডের চিহ্নিত চিত্র অংকন করা হলো: উত্তরের ছবি
উত্তর

উদ্দীপকে চিত্র 'M' হলো রক্তকণিকাসমূহ এবং চিত্র 'N' হলো কোলেস্টেরল।
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের মাধ্যমে মানবদেহে এই রক্তকণিকাসমূহের চলাচলের উপর কোলেস্টেরলের বিশেষ প্রভাব বিদ্যমান। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। তিন প্রকার লিপোপ্রোটিনের মধ্যে একটিকে LDL বলে যা খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে আখ্যায়িত। রক্তে LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে রক্তনালির অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর সংকুচিত হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনিগাত্রে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমা হলে ধমনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং খাদ্যসার না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে অ্যানজিনা বলা হয়। এছাড়া ধমনির গায়ে বেশি চর্বি জমা হলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে করোনারি হৃদ্রোগের আশঙ্কা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

এছাড়াও কোলেস্টেরল প্রতিটি কোষের ভেদ্যতা নির্ণয় করে বিভিন্ন দ্রব্যাদির কোষে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে চামড়ার কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। স্নায়ুকোষের কার্যকারিতার জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। কোলেস্টেরল পিত্তরসের অন্যতম উপাদান হলেও এটি একটি বর্জ্য পদার্থ এবং যকৃতের মাধ্যমে দেহ থেকে অপসারিত হয়। পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা তলানির মত পিত্তথলিতে জমা হয়। কোলেস্টেরলের এ তলানিই শক্ত হয়ে পিত্তথলির পাথর নামে পরিচিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে কোলেস্টেরল ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকলেও রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ড এবং রক্ত সংবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

৫০.

X: 23 জোড়া ক্রোমোজোমবিশিষ্ট মানুষ।

Y: ফুলের পরাগধানীতে উৎপন্ন পরাগমাতৃকোষ/পরাগরেণু।

[X ও Y প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পাটের বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis।
উত্তর

সকালবেলায় আলো ক্রমে অনুকূল হয়, তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং পাতার পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় CO₂ সহজে প্রবেশ করে।

রাতে সঞ্চিত পানি ও সকালের কম বাষ্পীভবনে পাতার পানির ঘাটতি থাকে না; তাই মধ্যাহ্নের অতিরিক্ত তাপ ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়ার আগেই সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি থাকে।

উত্তর

উদ্দীপকের X হলো 23 জোড়া ক্রোমোজোমবিশিষ্ট মানুষ; এর বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens এবং এটি Animalia রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

মানুষ বহুকোষী, ইউক্যারিওটিক, কোষপ্রাচীরহীন, পরভোজী ও চলনক্ষম; ভ্রূণে নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং পরিণত অবস্থায় মেরুদণ্ড থাকে।

শ্রেণিবিন্যাস: রাজ্য—Animalia, পর্ব—Chordata, উপপর্ব—Vertebrata, শ্রেণি—Mammalia, বর্গ—Primates, পরিবার—Hominidae, গণ—Homo ও প্রজাতি—Homo sapiens।

উত্তর

উদ্দীপকের Y-এর পরাগমাতৃকোষে মিয়োসিস ঘটে; এ বিভাজন জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি ও প্রজাতির টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়োসিসে একটি 2n পরাগমাতৃকোষ থেকে চারটি n মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়; ফলে নিষেকে n পুংগ্যামেট ও n স্ত্রীগ্যামেট মিলেও প্রজাতির 2n ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে।

প্রোফেজ-I-এ ক্রসিং ওভার এবং মেটাফেজ-I-এ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের স্বাধীন বিন্যাসে নতুন জিনসমন্বয়যুক্ত পরাগরেণু তৈরি হয়; দৈব নিষেক বৈচিত্র্য আরও বাড়ায়।

এই বৈচিত্র্য পরিবর্তিত পরিবেশ, রোগ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক নির্বাচনের উপাদান দেয়; তাই কিছু সদস্য অনুকূল বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে থেকে প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

৬৪টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টি দেখানো হচ্ছে