অধ্যায়-১: জীবন পাঠ

১.

চিত্র X-এ একটি ক্রোমোজোম এবং চিত্র Y-তে থ্যালাসেমিয়ার দুই বাহক পিতা-মাতার সংকরায়ণ Rr×Rr দেখানো হয়েছে।

[X ও Y প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর কাণ্ড বা শাখার নির্দিষ্ট অক্ষে এক বা একাধিক ফুলের সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে পুষ্পমঞ্জরি বলে।
উত্তর

লাইসোজোমে শক্তিশালী হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে, যা কোষে প্রবেশকারী জীবাণু ও ক্ষতিকর কণাকে ভেঙে হজম করে।

এটি ফ্যাগোসোমের সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস এবং জীর্ণ অঙ্গাণু অপসারণ করে; তাই লাইসোজোমকে কোষের জীবাণু ভক্ষক বলা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের X হলো ক্রোমোজোম; এটি DNA ও হিস্টোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত ঘনীভূত ক্রোমাটিন কাঠামো।

বিভাজনকালীন একটি প্রতিলিপিকৃত ক্রোমোজোমে সমগঠনবিশিষ্ট দুটি ক্রোমাটিড থাকে, যা সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত; সেন্ট্রোমিয়ারের ওপর কাইনেটোকোর এবং দুই পাশে বাহু ও প্রান্তে টেলোমিয়ার থাকে।

ক্রোমোনেমায় সারিবদ্ধ জিন বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে; সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক হতে পারে।

উত্তর

উদ্দীপকের Y-তে থ্যালাসেমিয়ার দুই বাহক পিতা-মাতার সংকরায়ণ Rr×Rr; প্রতিটি গর্ভধারণে সুস্থ, বাহক ও অসুস্থ সন্তানের সম্ভাবনা যথাক্রমে 25%, 50% ও 25%।

পিতার গ্যামেট R ও r এবং মাতার গ্যামেট R ও r; সম্ভাব্য জিনোটাইপ RR, Rr, Rr ও rr।

RR সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ = 1/4 বা 25%; Rr বাহক কিন্তু সাধারণত রোগলক্ষণহীন = 2/4 বা 50%; rr থ্যালাসেমিয়া রোগী = 1/4 বা 25%।

অতএব দৃশ্যত সুস্থ সন্তান মোট 75% হলেও তার 50% বাহক; প্রতিটি গর্ভধারণে সম্ভাবনা নতুন করে একই থাকে বলে বাহক দম্পতির জিনগত পরামর্শ ও পরীক্ষা জরুরি।

২.

গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) থেকে এক পথে পাইরুভিক এসিড (C₃H₄O₃), তারপর B, C ও D ধাপ অতিক্রম করে পূর্ণ জারণ ঘটে; অন্য পথে ইথানল (C₂H₅OH) উৎপন্ন হয়।

[B, C ও D প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে দেখা দেওয়া বংশগত বা পরিবেশজনিত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে প্রকরণ বলে।
উত্তর

অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হলে আকর্ষণ তন্তু সংকুচিত হয়ে অপত্য ক্রোমাটিডকে বিপরীত মেরুর দিকে টানে।

সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী ও বাহু অনুগামী থাকায় ক্রোমাটিডগুলো V, L, J বা I আকৃতি নিয়ে দুই মেরুতে সমানভাবে পৌঁছে।

উত্তর

উদ্দীপকের C হলো ক্রেবস চক্র; এটি সবাত শ্বসনের তৃতীয় ধাপ এবং মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে সংঘটিত হয়।

দুই অণু acetyl Co-A চক্রে প্রবেশ করে ধাপে ধাপে জারিত হয়ে 4CO₂, 6NADH₂, 2FADH₂ ও 2GTP উৎপন্ন করে।

ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে 6NADH₂ থেকে 18 ATP, 2FADH₂ থেকে 4 ATP এবং 2GTP সমতুল্য 2 ATP—মোট 24 ATP পাওয়া যায়।

উত্তর

উদ্দীপকের গ্লুকোজের পূর্ণ সবাত জারণ ও ইথানল উৎপাদক অবাত শ্বসনে শক্তি উৎপাদন সমান নয়; সবাত শ্বসনে 38 ATP, অবাত শ্বসনে মাত্র 2 ATP পাওয়া যায়।

সবাত পথে গ্লাইকোলাইসিসের পর পাইরুভেট acetyl Co-A, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র অতিক্রম করে O₂-এর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ CO₂ ও H₂O-তে জারিত হয়।

অবাত পথে O₂ না থাকায় পাইরুভেট ইথানল ও CO₂-তে অসম্পূর্ণভাবে বিজারিত হয়; ক্রেবস চক্র ও অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন না চলায় শুধু গ্লাইকোলাইসিসের নিট 2 ATP থাকে।

ইথানলে বিপুল রাসায়নিক শক্তি অবশিষ্ট থাকার কারণে অবাত শ্বসনের ফলন কম; তাই একই গ্লুকোজ থেকে সবাত প্রক্রিয়ার শক্তি উৎপাদন অবাত প্রক্রিয়ার তুলনায় অনেক বেশি।

৩. $X$- পাউরুটিতে ব্যবহৃত অণুজীব
$Y$- এককোষী শৈবাল
$Z$- নতুন প্রজাতির ধান
উত্তর ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় তাই Endocrinology ।
উত্তর অণুজীববিজ্ঞানে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীবের জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। যেহেতু অণুজীববিজ্ঞানে অণুজীবের তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে অণুজীব সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই অণুজীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকের $'Z'$ হলো ধান যার বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এই উদ্ভিদটির নামকরণে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রদত্ত দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করবো। পদ্ধতিটি নিম্নরূপ-

১. ধানের নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করবো।
২. এর Oryza অংশটি গণ নাম এবং sativa অংশটি প্রজাতিক নাম।
৩. এটি অনন্য নাম, এ নামে অন্য আর কোনো জীব নেই এবং সার্বজনীন, সকল ভাষায় এটি এভাবে ব্যবহৃত হবে।

৪. এই নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর অর্থাৎ O এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট হরফের এবং দ্বিতীয় অংশের সবগুলোই ছোট হরফের হবে।
৫. মুদ্রণের সময় নামটিকে ইটালিক অক্ষরে লিখতে হয়। যেমন : Oryza sativa
৬. হাতে লেখার সময় এর গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন– Oryza sativa |
৭. প্রথমে যে বিজ্ঞানী এর বিজ্ঞানসম্মত নাম দিয়েছেন তার নাম অনুযায়ীই এটি গৃহীত এবং এই নামের শেষে উক্ত বিজ্ঞানীর নাম সংক্ষেপে সংযোজিত হবে। যেমন– Oryza sativa $L$. (যেখানে $L$ লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)।

উত্তর

উদ্দীপকের $'X'$ ও $'Y'$ দ্বারা যথাক্রমে ফানজাই ও প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবকে নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ফানজাই রাজ্যের জীব প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব থেকে উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবসমূহ এককোষী বা বহুকোষী একক বা কলোনিয়াল বা ফিলামেন্টাস। এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে এবং কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে। কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন গঠনগতভাবে একই, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন ঘটে। এদের কোনো ভূণ গঠিত হয় না। অন্যদিকে ফানজাই রাজ্যের জীবদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
উপর্যুক্ত রাজ্যদ্বয়ের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ফানজাই রাজ্যের জীবসমূহের কার্যাবলি সম্পাদনের প্রক্রিয়া এবং এর নিমিত্তে অঙ্গসমুহের বিবর্তন ঘটেছে বেশি। কার্যাবলির সাথে সাথে অঙ্গ বিকাশও ঘটেছে বেশি। এসকল কারণে $'Y'$ অর্থাৎ প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব অপেক্ষা $'X'$ অর্থাৎ ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব অধিক উন্নত।

৪. নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় সে শাখাই হলো হিস্টোলজি।
উত্তর কৃষিবিজ্ঞান হচ্ছে কৃষিবিষয়ক বিজ্ঞান। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিবিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পূর্বের তুলনায় বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ কৃষিবিজ্ঞান আমাদের প্রাত্যহিক জীবন ও জীবন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর আলোকপাত করে যা ফলিত জীববিজ্ঞানের সংজ্ঞাকে সংজ্ঞায়িত করে। এজন্য কৃষিবিজ্ঞানকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত B রাজ্যভুক্ত জীবটি হলো শাপলা। যা প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
২. এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৩. এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
৪. এরা প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে।
৫. এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
৬. এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
৭. এরা সপুষ্পক।
উত্তর উদ্দীপকের চিত্র- A হলো মাশরুম এবং চিত্র- C হলো দোয়েল। মাশরুম ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং দোয়েল অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
এদের অধিকাংশ জীবই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এই রাজ্যের জীবের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
অপরদিকে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
এদের জীবগুলো নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভূণ বিকাশকালীন সময়ে ভূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপরের দুই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ফানজাই রাজ্যের মাশরুম অপেক্ষা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দোয়েল অধিক উন্নত জীব।
৫. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য প্রক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে এমন শক্তিসমৃদ্ধ যৌগই হলো জৈবমুদ্রা।
উত্তর বাতাসের অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসের মতো মিথেন একটি বিষাক্ত গ্যাস। বাতাসে মিথেন গ্যাসের আধিক্য থাকলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। আমরা জানি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। যদি সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটে তখন গ্লুকোজ উৎপন্নেও ব্যাঘাত ঘটে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত $'X'$ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতায় সূর্যালোক, CO2, H2O ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় গ্লুকোজ জাতীয় খাদ্য ও O₂ তৈরি করে। এ O₂ পত্ররন্ধ্র দিয়ে বাইরে বের হয়ে যায় এবং গ্লুকোজ পরিবহণ টিস্যু ফ্লোয়েমের মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। ফ্লোয়েম মূলত সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার নিয়ে গঠিত। সিভকোষ দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত ও জীবিত কোষ। এগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি পরপর সজ্জিত হয়ে সিভনল গঠন করে। এই সিভনলের ভিতর দিয়ে পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যায়। ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা হলো পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত কোষ এবং ফ্লোয়েম ফাইবার হলো স্ক্লেরেনকাইমা জাতীয় দীর্ঘ কোষ যাদের প্রান্তদেশ পরস্পর যুক্ত হয়ে নলের সৃষ্টি করে। এই উভয় ধরনের কোষও পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহণ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহণ করে। এভাবে পরিবহণ টিস্যু ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় তৈরি খাদ্য অর্থাৎ গ্লুকোজ উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।
উত্তর উদ্দীপকের $X$ ও $Y$ প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন।
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে H₂O ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। অর্থাৎ শর্করা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো CO₂ ও H₂O। কাজেই CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। কিন্তু সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত এ CO₂শ্বসনের ফলে তৈরি হয়। সকল সজীব কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় শর্করা তথা গ্লুকোজ অক্সিজেনের মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও CO₂ উৎপন্ন হয়। শ্বসনে ব্যবহৃত এ শর্করা (গ্লুকোজ) ও O2 সালোকসংশ্লেষণই তৈরি হয়ে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সালোকসংশ্লেষণে শর্করা এবং O₂ তৈরি না হলে শ্বসন ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেত। আবার শ্বসন ক্রিয়ার ফলে CO₂ তৈরি না হলে সালোকসংশ্লেষণেও ব্যাঘাত ঘটতো। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতো।
সুতরাং, সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই বলা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন উভয় প্রক্রিয়াই একে অপরের পরিপূরক।
৬. পাটসহ পাঁচ শতাধিক উদ্ভিদের রোগসৃষ্টিকারী ছত্রাকের জীবনরহস্য আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
উত্তর যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল সেসব জীবই হলো হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী।
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। শারীরবিদ্যায় জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি যেমন- শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি আলোচিত হয়। এ প্রক্রিয়াগুলো প্রতিটি জীবের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো সবই শারীরবিদ্যার তত্ত্বীয় বিষয়াবলি। এ কারণে শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্ভিদটি হলো পাট গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Corchorus capsularis। এই উদ্ভিদটির নামকরণের ক্ষেত্রে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রদত্ত এবং ICBN কর্তৃক স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণের পদ্ধতি বা নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। নিচে পাট গাছের (Corchorus capsularis) নামকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-

১. পাট গাছের নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করতে হবে।

২. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন- Corchorus capsularis। এটি পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Corchorus গণ এবং capsularis প্রজাতিক পদ।

৩. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ একই নাম দুই পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।

৪.অনুমতি নেই। পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে।

৫. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন- Corchorus capsularis |

৬. পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন- Corchorus capsularis

৭. বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নামদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) লিখতে হয়। Corchorus capsularis Li. (এখানে Li লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ)।

৮. যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী পাট গাছকে বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লেখিত জীব দুটি হলো যথাক্রমে পাট গাছ (Corchorus, capsularis) এবং ছত্রাক (Fungi)। পাট গাছ হলো প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং ছত্রাক (Fungi) হলো ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্লানটি রাজ্যটি বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

প্লানটি রাজ্যের জীবসমূহ প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এদের যৌনজনন অ্যানাইসোগ্যামাস। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ।

অন্যদিকে, ফানজাই রাজ্যের জীবসমূহের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। ক্লোরোফিল না থাকায় এরা খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
উপরোক্ত রাজ্য দুটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, ফানজাই রাজ্যের সদস্যদের বৈশিষ্ট্যে উন্নত জীবদের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় নি। তাই বলা যায়, প্লানটি (পাট গাছ) রাজ্য ফানজাই (ছত্রাক) রাজ্য থেকে উন্নত।

৭.

চিত্র A-তে মানুষ, চিত্র B-তে একটি বৃক্ষ এবং চিত্র C-তে Paramecium দেখানো হয়েছে।

[A, B ও C প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর গণের নাম ও প্রজাতিক নাম—এই দুটি পদ ব্যবহার করে কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।
উত্তর

ব্যাকটেরিয়ার কোষে সুগঠিত ও পর্দাবেষ্টিত নিউক্লিয়াস এবং ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই; এর DNA নিউক্লিওয়েডে অবস্থান করে।

এরা এককোষী প্রোক্যারিওট এবং দ্বিবিভাজনে বংশবৃদ্ধি করে; এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য ব্যাকটেরিয়াকে মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উত্তর

চিত্র A-এর জীব মানুষ; এর বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens এবং এটি Animalia রাজ্যের উন্নত কর্ডাটা প্রাণী।

এর শ্রেণিবিন্যাস: রাজ্য—Animalia, পর্ব—Chordata, উপপর্ব—Vertebrata, শ্রেণি—Mammalia এবং বর্গ—Primates।

আরও নিম্ন ধাপে পরিবার—Hominidae, গণ—Homo এবং প্রজাতি—Homo sapiens; দ্বিপদ নামে গণের প্রথম অক্ষর বড় ও প্রজাতির নাম ছোট অক্ষরে লেখা হয়।

উত্তর

চিত্র B-এর বৃক্ষ চিত্র C-এর Paramecium-এর তুলনায় অধিক উন্নত, কারণ B-তে বহুকোষিতা ও সুস্পষ্ট টিস্যু-অঙ্গ গঠন রয়েছে।

Paramecium প্রোটিস্টা রাজ্যের এককোষী ইউক্যারিওট; একটি কোষই চলন, পুষ্টি, রেচন, শ্বসন ও প্রজননের সব কাজ সম্পন্ন করে এবং প্রকৃত টিস্যু বা অঙ্গ নেই।

বৃক্ষ Plantae রাজ্যের বহুকোষী জীব; এতে মূল, কাণ্ড, পাতা, পরিবহন টিস্যু, স্থায়ী টিস্যু ও প্রজনন অঙ্গের সুস্পষ্ট কার্যবিভাজন আছে এবং ভ্রূণীয় বিকাশ ঘটে।

কোষের বিশেষায়ন, টিস্যু-অঙ্গতান্ত্রিক সংগঠন ও জটিল জীবনচক্রের জন্য B-এর বৃক্ষ C-এর এককোষী Paramecium-এর চেয়ে অধিক উন্নত।

৮.

চিত্র A-তে অ্যাস্টার রশ্মিসহ এক জোড়া সেন্ট্রিওল, চিত্র B-তে অসমভাবে পুরু প্রাচীরযুক্ত কোলেনকাইমা কোষ এবং চিত্র C-তে আবরণী টিস্যু দেখানো হয়েছে।

[A, B ও C প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উদ্দীপকের ছবি
উত্তর পরপর দুটি নিউরনের একটি নিউরনের অ্যাক্সন প্রান্ত ও অন্যটির ডেনড্রাইট বা কোষদেহের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলে।
উত্তর

বিভিন্ন প্রাণীর চোখের গঠন, আলোকগ্রাহী কোষের ধরন ও সংখ্যা এবং সংবেদনশীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর এক নয়।

মানুষের ত্রিবর্ণদৃষ্টি ও ক্যামেরা-সদৃশ চোখ থাকলেও অনেক প্রাণীর যৌগিক চোখ, রাতের দৃষ্টির উপযোগী রড বা অতিবেগুনি আলো শনাক্তকারী কোষ থাকে; তাই একই দৃশ্যমান বস্তু তাদের কাছে মানুষের মতো দেখা যায় না।

উত্তর

চিত্র A হলো সেন্ট্রোজোম; এটি প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থিত এক জোড়া পরস্পর লম্বভাবে বিন্যস্ত সেন্ট্রিওল ও পার্শ্ববর্তী সেন্ট্রোস্ফিয়ার দিয়ে গঠিত।

প্রতিটি সেন্ট্রিওল ফাঁপা নলাকার এবং নয়টি ত্রয়ী মাইক্রোটিউবিউল দিয়ে গঠিত; বিভাজনের আগে সেন্ট্রিওল জোড়া প্রতিলিপি হয়ে দুই মেরুতে সরে যায়।

কোষ বিভাজনে এটি অ্যাস্টার রশ্মি ও স্পিন্ডল তন্তু গঠন করে ক্রোমোজোমের সুষ্ঠু বণ্টনে সাহায্য করে; সিলিয়া ও ফ্লাজেলার বেসাল বডি গঠনেও অংশ নেয়।

উত্তর

চিত্র B-এর কোলেনকাইমা ও C-এর আবরণী টিস্যু গঠনগতভাবে ভিন্ন হলেও উভয়ই সংশ্লিষ্ট জীবদেহকে সুরক্ষা ও কাঠামোগত সহায়তা দেয়।

কোলেনকাইমা জীবন্ত, লম্বাটে উদ্ভিদকোষে গঠিত; কোষপ্রাচীরের কোণে সেলুলোজ-পেকটিন অসমভাবে পুরু হয়ে কচি কাণ্ড ও পত্রবৃন্তকে নমনীয় দৃঢ়তা দেয়।

আবরণী টিস্যু প্রাণীদেহে ঘনভাবে সজ্জিত এক বা একাধিক স্তরের কোষ দিয়ে গঠিত; এটি দেহপৃষ্ঠ ও অঙ্গের গহ্বর ঢেকে যান্ত্রিক আঘাত, জীবাণু ও পানি হারানো থেকে রক্ষা করে।

অতএব কোষপ্রাচীর, বিন্যাস ও অবস্থান আলাদা হলেও B উদ্ভিদকে নমনীয় সমর্থন-সুরক্ষা এবং C প্রাণীদেহকে আবরণ-সুরক্ষা প্রদান করে—কার্যগত সাদৃশ্য এখানেই।

৯. $X$- কাইটিন দিয়ে গঠিত কোষপ্রাচীর যুক্ত জীব
$Y$- সপুষ্পক জীব
$Z$- খাদ্য গলাধকরণকারী জীব
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় সে শাখাই হলো Histology ।
উত্তর শ্রেণিবিন্যাস জীবজগতকে জানার একটি সহজ পদ্ধতি। জীবের জাতিজনির বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনিক ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া এই বিশাল জীবজগৎকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবের শ্রেণিবিন্যাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এসব কারণে জীবের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত Z জীবের বৈশিষ্ট্যটি অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের প্রাণীরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বুহকোষী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর থাকে না। প্লাস্টিড না থাকায় এরা পরভোজী। খাদ্য গলাধঃকরণ ও হজম করে। দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে ভূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়। অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যের কারণে উদ্দীপকের Z জীবকে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
উত্তর উদ্দীপকের $X$ জীবটি ফানজাই এবং Y জীবটি প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। রাজ্য দু'টির মধ্যে প্লানটি রাজ্যটি, ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ফানজাই রাজ্যের জীবসমূহ স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এদের দেহ মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। কোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এদের দেহে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। শোষণ পদ্ধতিতে এরা খাদ্য গ্রহণ করে। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে।
অপরদিকে, প্লান্টি রাজ্যের জীবসমূহ প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা সপুষ্পক। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত করে। যৌন জননের মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার ঘটে। এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। রাজ্যদ্বয়ের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্লান্টি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অপরদিকে ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যে উন্নত জীবের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়নি। তাই শ্রেণিবিন্যাসের আলোকে বলা যায়, Y জীবটি $X$ জীবের চেয়ে অধিক উন্নত।
১০. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর যখন দুই ধরনের জননকোষ আলাদা আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন তাকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে।
উত্তর পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো পর-পরাগায়ন। একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। পেঁপে গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে বলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তি সম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। মূলত এভাবেই পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
উত্তর উদ্দীপকের P হলো পুংগ্যামেট বা পুংগ্যামেটোফাইট। নিচে পুংগ্যামেটোফাইট সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
পরাগরেণু পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগরেণু দ্বি-স্তরবিশিষ্ট। বাইরের স্তরটি অমসৃণ এবং ভিতরের স্তরটি মসৃণ। বাইরের স্তরে জার্মপোর বা পরাগরন্দ্র থাকে। পরাগরেণু পরাগধানীতে থাকা অবস্থায়ই নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুইটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। ছোটটিকে জনন নিউক্লিয়াস এবং বড়টিকে নালিকা নিউক্লিয়াস বলে। পরাগরেণু উপযুক্ত গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়ার পর রস শোষণ করে স্ফীত হয়। ভিতরের স্তরটি পরাগরন্ধ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং পরাগনালিকা গঠন করে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি পরাগ নালিকার সামনে থাকে। জনন নিউক্লিয়াসটি পিছনে থাকে। ডিম্বকরন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছালে জনন নিউক্লিয়াস মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুইটি পুংগ্যামেট তৈরি করে। উত্তরের ছবি
উত্তর উদ্দীপকের চিত্রে P ও Q হলো যথাক্রমে পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
নিচে নিষেকের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হলো-
নিষেকের ফলে পরবর্তীতে ফুলের গর্ভাশয় ফলে এবং ডিম্বকসমূহ বীজে পরিণত হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল পরিপক্ব হওয়ার সাথে সাথে বীজও পরিপক্ব হয়। এ পরিপক্ব বীজ হতে পরবর্তীতে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। উদ্ভিদের এই ফল ও বীজ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। অপরদিকে নিষেককালীন সময়ে গৌণ নিউক্লিয়াস সস্য টিস্যু উৎপন্ন করে। এ সস্যগুলো ট্রিপ্লয়েড। এগুলোও খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়। অর্থাৎ সংক্ষেপে বলতে গেলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের ফলে ডিম্বক ও গর্ভাশয় সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে পরবর্তী বংশধরের সূচনা করে।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পূর্ণ প্রাণিজগতকে টিকিয়ে রাখে এবং বিরামহীনভাবে খাদ্যের যোগান দিতে থাকে।
তাই উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে P বা পুংগ্যামেট এবং Q বা স্ত্রীগ্যামেট এর মিলন অর্থাৎ নিষেকের মাধ্যমেই ফল ও বীজের সৃষ্টি হয়।
১১.
রাজ্য জীব
P Penicillium
Q Corchorus
R Copsychus

[P, Q ও R প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত]

উত্তর যে যৌন প্রজননে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির গ্যামিট বা কোষের সাময়িক সংযোগের মাধ্যমে জিনগত উপাদান আদান-প্রদান হয়, তাকে কনজুগেশন বলে।
উত্তর

Nostoc-এর কোষে সুগঠিত ও পর্দাবেষ্টিত নিউক্লিয়াস এবং ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু নেই।

এর DNA নিউক্লীয় পর্দাবিহীন নিউক্লিওয়েডে থাকে এবং 70S রাইবোজোম বিদ্যমান; তাই Nostoc-কে প্রোক্যারিওটা সুপার কিংডমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকের Q রাজ্য হলো Plantae এবং এর জীব পাট; লিনিয়াসের দ্বিপদ নামকরণে এর বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis।

বৈজ্ঞানিক নাম দুটি ল্যাটিন বা ল্যাটিনকৃত শব্দে গঠিত হয়; প্রথমটি গণের নাম Corchorus এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতির নাম capsularis।

মুদ্রণে দুটি শব্দই বাঁকা হরফে, হাতে লিখলে আলাদাভাবে দাগ দিয়ে লিখতে হয়; গণের প্রথম অক্ষর বড় ও প্রজাতির সব অক্ষর ছোট হয়, প্রয়োজনে শেষে নামদাতা বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত নাম লেখা যায়।

উত্তর

উদ্দীপকের P রাজ্যের Penicillium-এর তুলনায় R রাজ্যের Copsychus বা দোয়েল অধিক উন্নত—এ সিদ্ধান্ত যথার্থ।

Penicillium একটি ইউক্যারিওটিক ছত্রাক; এর দেহ হাইফা ও মাইসেলিয়ামে গঠিত, কাইটিনযুক্ত কোষপ্রাচীর আছে এবং শোষণ পদ্ধতিতে পুষ্টি গ্রহণ করে, কিন্তু প্রকৃত টিস্যু ও অঙ্গতন্ত্র নেই।

Copsychus বহুকোষী কর্ডাটা প্রাণী; এর কোষে কোষপ্রাচীর নেই এবং টিস্যু, অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্রের সুস্পষ্ট বিভাজন, স্নায়ুতন্ত্র, চলন, সংবেদন ও জটিল প্রজনন দেখা যায়।

অঙ্গতান্ত্রিক সংগঠন, কার্যবিভাজন ও পরিবেশে সক্রিয় সাড়াদানের উচ্চমাত্রার জন্য Animalia রাজ্যের Copsychus, Fungi রাজ্যের Penicillium-এর চেয়ে অধিক উন্নত।

১২. মি. সজল ফ্যাক্টরিতে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যে তার ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবং মুখমণ্ডল লাল হয়ে যায়। তার ভাই রবিন জর্দা দিয়ে পান খায় এবং কিছুক্ষণ পর পর জর্দাসহ পান না খেলে কাজে মনোযোগ হারায়।
উত্তর শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াই হলো ভার্নালাইজেশন।
উত্তর থাইরয়েডকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয়। কারণ, এই গ্রন্থি নালিকাবিহীন। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোন সরাসরি রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে বাহিত হয়ে দূরবর্তী সুনির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।
উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত লক্ষণগুলো থেকে বোঝা যায় মি. সজলের স্ট্রোক হয়েছে। নিচে স্ট্রোকের কারণ ও লক্ষণ বর্ণনা করা হলো-
কারণ : সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ তথা স্ট্রোক হয়ে থাকে। অনেক সময় অত্যধিক স্নায়বিক চাপ যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
লক্ষণগুলো হলো : বমি হয়, প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারায়, ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে, মাংসপেশি শিথিল হয়ে যায়, শ্বসন এবং নাড়ির স্পন্দন কমে যায়, মুখমণ্ডল লাল বর্ণ ধারণ করে। অনেক সময় অবশ্য খুব মারাত্মক উপসর্গ ছাড়াই শুধু মুখ বেঁকে যাওয়া বা অল্প সময়ের জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়ে আবার জ্ঞান ফিরে আসা।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত রবিনের লক্ষণ থেকে বোঝা যায় রবিন মাদকাসক্ত। রবিনের গৃহীত উপাদানটির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে চাইলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। নিচে যুক্তিসহ আমার মতামত উল্লেখ করা হলো-
i. সুসম্পর্ক বজায় রাখা : মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
ii. নৈতিক শিক্ষার প্রসার : নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রসার ঘটাতে হবে। প্রয়োজনে কিশোর-কিশোরীদের এই শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
iii. বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বেকারত্ব থেকে অনেকেই হতাশায় ভোগে। পরবর্তীতে হতাশা কাটাতে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে শুরু করে। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
iv. বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হওয়া : অসৎ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে অনেকে মাদকদ্রব্য গ্রহণে আকৃষ্ট হয়ে উঠে। তাই অসৎ বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে থাকতে হবে এবং তাদেরকে মাদকদ্রব্য গ্রহণে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
V. সচেতনতা বৃদ্ধি : মাদকদ্রব্য আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতিসাধন করে। এর কুফল সম্পর্কে সমাজের সকলকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি বিতরণ করা যেতে পারে।
এছাড়াও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহায়তায় মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এমনকি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সহানুভূতির সাথে ধৈর্য সহকারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারলেও এর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
১৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য প্রক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে এমন শক্তিসমৃদ্ধ যৌগই হলো জৈবমুদ্রা।
উত্তর ভুট্টাকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়, কারণ ভুট্টা উদ্ভিদে C4 গতিপথ সংঘটিত হয়। সালোকসংশ্লেষনের ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ 4 কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড হওয়ায় ক্যালভিন চক্রকে C4 গতিপথ বলা হয়। তাই C4 গতিপথখ যে উদ্ভিদে সংঘটিত হয় সেই উদ্ভিদকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়ে থাকে।
উত্তর উদ্দীপকে চিত্র-E এ সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তির প্রবাহচিত্র নিচে দেওয়া হলো উত্তরের ছবি
উত্তর উদ্দীপকের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা সবাত শ্বসনকে বোঝানো হয়েছে। সবাত শ্বসন পরোক্ষভাবে সৌরশক্তির উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সবাত শ্বসনের শ্বসনিক বস্তু হলো গ্লুকোজ। গ্লুকোজ ০২-এর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO₂, পানি এবং ATP তথা শক্তি (E) উৎপন্ন করে। সবাত শ্বসন চারটি ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথা- গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র। সবাত শ্বসনের উল্লিখিত ধাপগুলো তখনই সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে যখন শ্বসনিক বস্তু গ্লুকোজ ঠিকভাবে তৈরি হবে। গ্লুকোজ তৈরি না হলে উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ সবাত শ্বসন সম্ভব নয়। আবার উদ্ভিদ কেবলমাত্র সৌরশক্তির উপস্থিতিতেই CO₂ ও পানির রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ তৈরি করতে পারে। সালোকসংশ্লেষণের সময় সৌরশক্তি গ্লুকোজের মধ্যে স্থৈতিক শক্তিরূপে আবদ্ধ থাকে যা শ্বসনের সময়
তাপশক্তিরূপে উদ্ভূত হয়ে রাসায়নিক শক্তিরূপে (ATP) মুক্ত হয়।
এ আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সৌরশক্তির অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজ তৈরি সম্ভব নয়। আবার গ্লুকোজ তৈরি না হলে উদ্দীপকের সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটিও অসম্ভব। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ সবাত শ্বসন পরোক্ষভাবে সৌরশক্তির উপরই নির্ভরশীল।
১৪. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর জীববিজ্ঞানের যে সকল শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়সমূহ আলোচিত হয় তাকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে।
উত্তর যে সকল কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত হয় তাদেরকে প্রকৃত কোষ বলে। এ ধরনের কোষে রাইবোজোমসহ সকল কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। পেঁয়াজের কোষেও প্রকৃত কোষের ন্যায় সুগঠিত নিউক্লিয়াস, কোষীয় অঙ্গাণু ইত্যাদি থাকে। তাই পেঁয়াজ কোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয়।
উত্তর উদ্দীপকে রাজ্য-৫ তথা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যে বানরের অবস্থান।
নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী।
২. এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই।
৩. প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৪. এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
৫. ডিপ্লয়েড স্ত্রী-পুরুষ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
৬. ভূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উল্লেখিত সকল বৈশিষ্ট্য বানরের মধ্যে বিদ্যমান। তাই বানর অ্যানিমেলিয়া রাজ্যে অবস্থান করে।
উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩ নম্বর রাজ্যটি হলো ফানজাই এবং ৪ নম্বর রাজ্যটি হলো প্লানটি। রাজ্য দুটির মধ্যে প্লানটি রাজ্যটি ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
ফানজাই রাজ্য : অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এই রাজ্যের জীবের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
প্লানটি রাজ্য : প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ স্ত্রীজনন অঙ্গ বিশিষ্ট এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ।
উপরোক্ত আলোচ্য রাজ্য দুটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অপরদিকে ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যে উন্নত জীবদের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়নি। তাই বলা যায়, প্লানটি রাজ্য ফানজাই রাজ্য অপেক্ষা উন্নত।
৬৪টি প্রশ্নের মধ্যে ১৪টি দেখানো হচ্ছে
আর কোনো প্রশ্ন নেই