ধ্বনি ও উচ্চারণ

১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান

ভালুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদ

বিষয়: ফুলবাড়ি গ্রামে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি ভালুকগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

একটি সুশৃঙ্খল গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়বে। তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের একটি উপযুক্ত কক্ষ বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।

অতএব, ফুলবাড়ি গ্রামে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

শফি/শাফিনা

ফুলবাড়ি, ভালুকগাছি ইউনিয়ন।

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: আমাদের এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

আমাদের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় কেন্দ্রটির সেবাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; কর্মরতদেরও নিয়মিত পাওয়া যায় না। বিনা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত থাকে না, রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অচল এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রম অনিয়মিত। ভবনের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগীকে দূরের জেলা হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও প্রতিকার পায়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সচল যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

তামিম/তামিমা

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো।

৩. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।

অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।

অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।

৪. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

বরিশাল

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল,

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা নেবেন। সম্প্রতি আপনার লেখা ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ উপন্যাসটি পড়েছি। বইটির একজন কিশোর পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি জানাতেই এই পত্র।

মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল ও বেদনাময় বিষয়কে কিশোরদের সহজ ভাষায় আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। ইবুর চোখ দিয়ে রাশেদের সাহস, দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগ দেখার সময় মনে হয়েছে, ঘটনাগুলো যেন আমার সামনেই ঘটছে। রাশেদ কোনো অতিমানব নয়; সাধারণ এক কিশোর হয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং দেশের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে সে অসাধারণ হয়ে উঠেছে। তার পরিণতি আমাকে ব্যথিত করেছে, কিন্তু সেই বেদনা মুক্তিযুদ্ধের মূল্য ও স্বাধীনতার তাৎপর্য আরও গভীরভাবে বুঝিয়েছে।

বইটির সংলাপ স্বাভাবিক, কাহিনি গতিশীল এবং চরিত্রগুলো জীবন্ত। ভয় ও অনিশ্চয়তার মাঝেও কিশোরদের বন্ধুত্ব এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস পাঠককে আশাবাদী করে। উপন্যাসটি পড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ জন্মেছে এবং দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে ভাবতে শিখেছি। আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ সাহিত্যজীবন কামনা করি।

ইতি

আপনার স্নেহাশিসপ্রার্থী পাঠক

সুলতান/সুলতানা

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬

বরাবর

ব্যবস্থাপক

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

বরিশাল সদর শাখা, বরিশাল

বিষয়: ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপনের জন্য ঋণ মঞ্জুরের আবেদন।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি মালা/মাহিন, বরিশাল সদর উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর স্থানীয় বাজারে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। এ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, মুদ্রণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেওয়া হবে। উদ্যোগটির জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, দোকান সাজানো এবং প্রাথমিক পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৪,০০,০০০ টাকা প্রয়োজন। নিজস্ব সঞ্চয় থেকে ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে পারব; অবশিষ্ট ৩,০০,০০০ টাকা আপনার ব্যাংকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজন।

আমি একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের হিসাব, প্রশিক্ষণ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় জামিনদারের কাগজপত্র সংযুক্ত করেছি। সম্ভাব্য আয় থেকে ব্যাংকের নির্ধারিত কিস্তি ও সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে সক্ষম হব। ব্যাংক চাইলে প্রকল্পস্থল পরিদর্শন ও অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করতে পারে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার কাগজপত্র ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী ৩,০০,০০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক

মালা/মাহিন

বরিশাল সদর, বরিশাল

মোবাইল: ০১৭XXXXXXXX

সংযুক্তি: ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের প্রাক্কলন, প্রশিক্ষণ সনদ, পরিচয়পত্র ও জামিনদারের কাগজপত্র।

৫. যেকোনো একটি বিষয়ে সারাংশ/সারমর্ম লেখো:
উত্তর সমাজের লক্ষ্য শুধু মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা নয়, তার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। অথচ প্রেম ও সৌন্দর্যবোধহীন, অহংকারী ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ অন্যের সার্থকতা বাধাগ্রস্ত করে; তাদের মানবপ্রেমের বুলি আন্তরিক উপলব্ধিহীন।
উত্তর আশাই মানুষকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায় এবং সংসারের কর্মচক্র সচল রাখে। তার মোহময় শক্তিতে মানুষ অনিশ্চয়তা ও দুঃখ উপেক্ষা করে অবিরাম জীবনসংগ্রামে অংশ নেয়; আশা না থাকলে সকল উদ্যোগ ও অগ্রগতি স্তব্ধ হয়ে যেত।
৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো;
উত্তর

আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

আদি/আদিবা, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

আলুটিলা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল আলুটিলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ জীবনে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও দেশসেবার লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ফুল ও স্মারক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতি তুলে ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, উত্তরপত্রের পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ছোট নাটকের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন হয়ে ওঠে।

শেষে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। দোয়া ও সফল ভবিষ্যতের কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সুশৃঙ্খল এ আয়োজন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের আবেগাপ্লুত করার পাশাপাশি আসন্ন পরীক্ষার জন্য নতুন সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

উত্তর

ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মাসুম/মাসুমা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাক

ময়মনসিংহ, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল জেলার ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্‌ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা বিদ্যালয়ের দেয়ালপত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

৭. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো।
উত্তর

ভূমিকা

অর্থ, শ্রম, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বিপণনের উদ্যোগ যিনি গ্রহণ করেন, তিনি কৃষি উদ্যোক্তা। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে শিক্ষিত ও উদ্ভাবনী তরুণদের জন্য এ পেশা আত্মকর্মসংস্থান, নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বড় সুযোগ।

কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা

প্রথাগত কৃষক সাধারণত পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রি করেন। কৃষি উদ্যোক্তা শুরু থেকেই বাজার, ব্যয়, লাভ, ঝুঁকি ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেন। তিনি শুধু ফসল চাষে সীমাবদ্ধ নন; বীজ ও চারা উৎপাদন, মাছ চাষ, দুগ্ধ ও পোলট্রি খামার, মৌচাষ, কৃষিযন্ত্র ভাড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং অনলাইন বিপণনেও উদ্যোগ নিতে পারেন।

উদ্যোগ নির্বাচনের প্রস্তুতি

সফল উদ্যোগের আগে স্থানীয় মাটি, পানি, আবহাওয়া, কাঁচামাল, শ্রম, যোগাযোগ ও বাজারের চাহিদা যাচাই করতে হয়। সম্ভাব্য ক্রেতা, প্রতিযোগী, উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য ও লাভের হিসাবসহ বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরি জরুরি। নিজের দক্ষতা ও পুঁজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট পরিসরে শুরু করে ফলাফল বিশ্লেষণের পর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করলে ঝুঁকি কমে।

উদ্যোক্তার গুণাবলি

কৃষি উদ্যোক্তাকে পরিশ্রমী, সৎ, ধৈর্যশীল, উদ্ভাবনী ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত, হিসাব সংরক্ষণ, শ্রমিক পরিচালনা, দর-কষাকষি এবং ক্রেতার আস্থা অর্জনের দক্ষতা তাঁর দরকার। রোগবালাই, আবহাওয়া ও বাজারদরের পরিবর্তনে বিচলিত না হয়ে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের মানসিকতাও সফলতার শর্ত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার

মানসম্মত বীজ, মাটি পরীক্ষা, সুষম সার, আধুনিক সেচ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিযন্ত্র উৎপাদন ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মোবাইল পরামর্শ, ডিজিটাল হিসাব, অনলাইন বাজার এবং শীতল সংরক্ষণ প্রযুক্তি ঝুঁকি ও অপচয় কমায়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন অতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংকঋণ, সমবায় বা সরকারি সহায়তা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা যায়। ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধক্ষমতা ও নগদ প্রবাহ হিসাব করা জরুরি। একই খামারে উপযোগী একাধিক পণ্য উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ অবকাঠামো, সঠিক নথি এবং সম্ভব হলে ফসল বা খামারবিমা ক্ষতির ঝুঁকি কমায়।

সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ

কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হওয়ায় পরিচ্ছন্ন সংগ্রহ, মানভিত্তিক বাছাই, উপযুক্ত প্যাকেজিং, গুদাম ও শীতল পরিবহনের ব্যবস্থা দরকার। দুধ থেকে দই, ফল থেকে জ্যাম বা আচার এবং শস্য থেকে প্যাকেটজাত খাদ্য তৈরি করলে মূল্য সংযোজন হয়। মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমবায়, কৃষকের বাজার, চুক্তিভিত্তিক বিক্রি ও অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারে।

বাংলাদেশে সম্ভাবনা

দেশের বিপুল জনসংখ্যা কৃষিপণ্যের বড় বাজার। বৈচিত্র্যময় মাটি ও জলবায়ুতে ধান, সবজি, ফল, ফুল, মাছ, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতেও সম্ভাবনা বাড়ছে। নারী ও তরুণেরা বাড়ির আঙিনা বা ক্ষুদ্র জমি থেকে নিরাপদ খাদ্য, নার্সারি, মাশরুম বা অনলাইন বিপণনের উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

জমির স্বল্পতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, পুঁজির অভাব, অস্থিতিশীল বাজারদর, সংরক্ষণঘাটতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব উদ্যোক্তাদের প্রধান বাধা। এসব মোকাবিলায় সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষিত উপকরণ, কৃষি সম্প্রসারণসেবা, কার্যকর শীতাগার, উন্নত পরিবহন এবং স্বচ্ছ বাজারতথ্য নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থার সেবাকে উদ্যোক্তার কাছে সহজে পৌঁছে দিতে হবে।

নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব

খাদ্য মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভুল ওজন বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাভ করা অনৈতিক। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ক্রেতার প্রতি জবাবদিহি একজন কৃষি উদ্যোক্তার মৌলিক দায়িত্ব।

উপসংহার

পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সততা ও বাজারজ্ঞান একত্রিত হলে কৃষি লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। সফল কৃষি উদ্যোক্তা নিজের স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

উত্তর

ভূমিকা

ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। অল্প জায়গা ও সামান্য সরঞ্জামে খেলা যায় বলে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এর ব্যাপক চর্চা রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখা গেলেও দেশের ফুটবলকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফুটবলের ঐতিহ্য

এ দেশের মাঠে ফুটবলের চর্চা বহু পুরোনো। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার ক্লাব ফুটবল, জাতীয় লিগ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট দর্শকদের বিপুল আনন্দ দিয়েছে। একসময় আবাহনী, মোহামেডানসহ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। জাতীয় দলও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

জনপ্রিয়তার কারণ

ফুটবলের নিয়ম তুলনামূলক সহজ এবং একটি বল পেলেই অনেকজন একসঙ্গে খেলতে পারে। দ্রুত গতি, কৌশল, দলগত সমন্বয় এবং মুহূর্তে ফল বদলে যাওয়ার উত্তেজনা দর্শককে আকৃষ্ট করে। গ্রামাঞ্চলের খোলা মাঠ, বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় টুর্নামেন্ট ফুটবলকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি রেখেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিশ্বকাপের সম্প্রচারও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ায়।

জাতীয় ও ক্লাব ফুটবল

জাতীয় দলের মূল ভিত্তি শক্তিশালী ঘরোয়া ফুটবল। পেশাদার লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, জেলা লিগ এবং আন্তবিদ্যালয় টুর্নামেন্ট নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ক্লাবগুলোর নিজস্ব অনুশীলন মাঠ, যুবদল, দক্ষ প্রশিক্ষক, চিকিৎসা ও ফিটনেস ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বচ্ছ দলবদল, সময়মতো পারিশ্রমিক এবং সুষ্ঠু রেফারিং খেলাটির পেশাদার পরিবেশ উন্নত করে।

নারী ফুটবলের অগ্রগতি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দেশের মানুষের আস্থা ও আনন্দ বাড়িয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক কিশোরী শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দলগত নৈপুণ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে নিরাপদ আবাসন, পুষ্টি, শিক্ষা, নিয়মিত লিগ, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও পুরুষ উভয় দলের সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই দেশের ফুটবল বিস্তৃত ভিত্তি পাবে।

বর্তমান সমস্যা

পর্যাপ্ত মাঠের অভাব, অনিয়মিত জেলা লিগ, দুর্বল বয়সভিত্তিক কাঠামো, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের ফুটবলের প্রধান সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত বা দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষকদের আধুনিক জ্ঞান, খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও ক্রীড়াবিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা না থাকলে প্রতিভা বিকশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়।

উন্নয়নের করণীয়

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লিগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমি প্রশিক্ষণ, সুষম খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রশিক্ষক ও রেফারিদের মানোন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, তথ্যভিত্তিক খেলোয়াড় মূল্যায়ন এবং বিদেশি দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি ম্যাচ জরুরি। ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, পৃষ্ঠপোষক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও ফলাফলের জবাবদিহি থাকাও প্রয়োজন।

ফুটবলের সামাজিক গুরুত্ব

ফুটবল শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। কিশোর-তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য দেশের পরিচিতি বাড়ায় এবং নানা শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষকে একই আনন্দে ঐক্যবদ্ধ করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতিভা ও জনসমর্থনের অভাব নেই; প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নয়নব্যবস্থা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সততা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে দেশের ফুটবল আবার গ্যালারিতে প্রাণ ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।

উত্তর

ভূমিকা

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম আনন্দময় মাধ্যম লঞ্চ। নদীর বিস্তার, তীরের জনজীবন, খোলা আকাশ ও চলমান প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায় বলে লঞ্চ ভ্রমণ আমার বিশেষ প্রিয়। গত শীতের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার একটি লঞ্চ ভ্রমণ আমার স্মৃতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে।

যাত্রার প্রস্তুতি

আগেই টিকিট সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে আমরা ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছাই। ঘাটে তখন যাত্রী, কুলি, ফেরিওয়ালা ও নানা গন্তব্যের লঞ্চের ব্যস্ত সমাবেশ। লঞ্চে উঠে প্রথমেই আমাদের কেবিন, জরুরি বহির্গমনপথ ও জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটের অবস্থান দেখে নিই। প্রয়োজনীয় পানি, শুকনা খাবার ও হালকা শীতের পোশাক সঙ্গে ছিল। যাত্রী তালিকা ও টিকিট যাচাই শেষে কর্মীরা নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।

যাত্রার সূচনা

সন্ধ্যার পর বাঁশির শব্দে লঞ্চ ধীরে ধীরে ঘাট ছেড়ে চলতে শুরু করল। সদরঘাটের উজ্জ্বল আলো এবং সারি সারি নৌযান ক্রমে পেছনে মিলিয়ে গেল। বুড়িগঙ্গার ব্যস্ত জলপথ পেরিয়ে লঞ্চ যখন প্রশস্ত নদীতে পৌঁছাল, শহরের কোলাহল কমে চারদিকে শান্ত পরিবেশ নেমে এল। ডেকে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা বাতাসে নদীর গন্ধ এবং ইঞ্জিনের ছন্দময় শব্দ এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করছিল।

নদীর রাত

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই তীরের ঘরবাড়ির আলো দূরের জোনাকির মতো দেখা যাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে মাছ ধরার নৌকা, বালুবাহী জাহাজ ও বিপরীত দিক থেকে আসা লঞ্চের আলো অন্ধকার নদীকে জীবন্ত করে তুলছিল। আকাশ পরিষ্কার থাকায় অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছিল; জলে তাদের প্রতিফলন আরও মনোমুগ্ধকর লাগছিল। মেঘনার বিস্তীর্ণ বুকে পৌঁছে নদী যেন সাগরের রূপ নিল। আমরা রেলিং থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দৃশ্য উপভোগ করলাম এবং অপ্রয়োজনে ভিড় করিনি।

সহযাত্রী ও লঞ্চের জীবন

ডেকে নানা বয়স ও পেশার মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলো। কেউ পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউ ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলেন। একজন প্রবীণ সহযাত্রী নদীপথের পুরোনো দিনের গল্প শোনালেন। বিক্রেতারা চা, ফল ও হালকা খাবার বিক্রি করছিলেন; তবে আমরা পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান দেখে প্রয়োজনমতো কিনলাম। নামাজের স্থান, খাবারঘর এবং কর্মীদের তৎপরতা লঞ্চটিকে যেন জলের ওপর চলমান ছোট জনপদে পরিণত করেছিল।

ভোরের সৌন্দর্য

ভোরে ডেকে উঠে দেখি পূর্ব আকাশ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে। কুয়াশার আবরণ ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো নদীর জলে সোনালি পথ তৈরি করল। তীরের তাল, নারকেল ও সুপারি গাছ, জেলেদের নৌকা, ঘাটে অপেক্ষমাণ মানুষ এবং পাখির ওড়াউড়ি দক্ষিণ বাংলার শান্ত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলছিল। কীর্তনখোলা নদীতে প্রবেশের পর বরিশাল শহরের ভবন ও ঘাট চোখে পড়তেই সবার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল।

নিরাপত্তা ও সচেতনতা

এ আনন্দদায়ক ভ্রমণ আমাকে নদীপথে নিরাপত্তার গুরুত্বও বুঝিয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, আবহাওয়ার সতর্কবার্তা মানা, বৈধ টিকিট ও যাত্রী তালিকা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করা জরুরি। যাত্রীদেরও রেলিংয়ে ঝুঁকে না দাঁড়ানো, শিশুদের নজরে রাখা, নদীতে বর্জ্য না ফেলা এবং কর্মীদের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।

উপসংহার

সকালে নিরাপদে বরিশাল ঘাটে নেমে আমাদের যাত্রা শেষ হয়, কিন্তু নদীর রাত, তারাভরা আকাশ ও সোনালি ভোরের ছবি মনে রয়ে যায়। লঞ্চ ভ্রমণ আমাকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নদী, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের সঙ্গে নতুনভাবে পরিচয় করিয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতা বজায় রেখে এমন ভ্রমণের সুযোগ আবার পেলে আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করব।

৮. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, আদর্শ ও জাতীয় ঐক্যের দৃশ্যমান প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আয়তাকার; এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬। গাঢ় সবুজ জমিনের ওপর রয়েছে একটি রক্তলাল ভরাট বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতি, তারুণ্য ও প্রাণশক্তির পরিচয় বহন করে। লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল; স্বাধীনতার পরে সহজ ও সুস্পষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান নকশা গৃহীত হয়। সরকারি দপ্তর, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় অনুষ্ঠানে ঘরবাড়ি, সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে পতাকা শোভা পায়। রাষ্ট্র ঘোষিত শোকের দিনে নির্ধারিত নিয়মে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা দেশের পরিচয় ও মর্যাদা তুলে ধরে। পতাকা কখনো মাটিতে ফেলা, ছেঁড়া বা মলিন অবস্থায় ব্যবহার, অসম্মানজনক স্থানে টাঙানো কিংবা বাণিজ্যিক সাজসজ্জায় বিকৃত করা উচিত নয়। সঠিক মাপ, রং ও নিয়ম মেনে পতাকা ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পতাকার প্রতি সম্মান শুধু কাপড়ের একটি টুকরোর প্রতি সম্মান নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা।
৯. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

ভোলা

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় তুষার,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি ও তোমাদের বাড়ির সবাই ভালো আছ। গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের সঙ্গে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ভ্রমণ করেছি। সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

খুব সকালে ভোলা থেকে যাত্রা করে দুপুরের আগেই আমরা করতোয়া নদীর তীরবর্তী মহাস্থানগড়ে পৌঁছাই। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, মূর্তি, শিলালিপি, অলংকার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা নিদর্শন দেখে বিস্মিত হয়েছি। পথপ্রদর্শক জানান, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের রাজধানী ছিল এ স্থান এবং এর ইতিহাস আড়াই হাজার বছরেরও পুরোনো। উঁচু দুর্গপ্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ দেখার সময় মনে হচ্ছিল, ইতিহাসের কোনো জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্যে এসে পড়েছি। আমরা গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, জিয়ৎকুণ্ড ও বৈরাগীর ভিটাসহ কয়েকটি প্রত্নস্থানও দেখি।

শিক্ষক প্রাচীন নগর-পরিকল্পনা, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন যুগের সংস্কৃতির পরিচয় ব্যাখ্যা করেন। বইয়ে পড়া ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পেয়ে বিষয়গুলো অনেক স্পষ্ট হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীর ফেলা বর্জ্য দেখে খারাপ লেগেছে। এমন অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানা সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে আবার যেতে চাই।

আজ আর নয়। তোমার পড়াশোনার খবর জানিয়ে চিঠি দিও। কাকু-কাকিমাকে আমার সালাম জানাবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

শিশির

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

প্রধান শিক্ষক

খুলনা জিলা স্কুল

খুলনা

মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, নবম শ্রেণি

বিষয়: অনুপস্থিতির কারণে পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১০ই জুন থেকে ১৪ই জুন ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে যোগ দিয়েছি। অনুপস্থিত সময়ের পাঠ, বাড়ির কাজ ও শ্রেণিকাজ সহপাঠীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার উপস্থিতির রেকর্ডে উল্লিখিত দিনগুলো অনুমোদিত ছুটি হিসেবে গণ্য করার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির উল্লিখিত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

বিনীত

সাজিদ

শ্রেণি: নবম

শাখা: ক

রোল: ১২

সংযুক্তি: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি।

১০. যেকোনো একটি সারাংশ/সারমর্ম লেখো:
উত্তর চরিত্রই মানুষের প্রকৃত মূল্য ও শ্রেষ্ঠ গৌরবের ভিত্তি। শুধু অসচ্চরিত্র না হওয়াই যথেষ্ট নয়; সত্যবাদিতা, বিনয়, জ্ঞানানুরাগ, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়বোধ ও স্বাধীনতাপ্রিয়তার সমন্বয়েই মানুষ যথার্থ চরিত্রবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য হয়।
উত্তর তারুণ্য প্রাণশক্তি, সাহস ও নবসৃষ্টির প্রতীক। নবীনদের দুরন্ত উদ্যম ও বাধাহীন কর্মপ্রেরণাই জড়তা, ভীরুতা ও মৃত্যুচেতনাকে আঘাত করে সমাজে নতুন জীবন জাগাতে পারে; তাই সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে।
১১. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।

খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।

সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

১২. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো
উত্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সাকিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলা বর্ণের নান্দনিক রূপ, শুদ্ধ বানান এবং হাতে লেখার চর্চা উৎসাহিত করতে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়-কলেজের প্রতিযোগী, শিক্ষক, শিল্পী ও দর্শনার্থীরা আয়োজনে অংশ নেন।

সকালে চারুকলা অনুষদের ডিন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগেও পরিচ্ছন্ন, পাঠযোগ্য ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষা ও দৈনন্দিন যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ; তবে সৌন্দর্যের নামে অক্ষরের স্বীকৃত রূপ বিকৃত করা উচিত নয়। বয়স ও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী প্রতিযোগীদের তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে বাংলা গদ্য ও কবিতার নির্বাচিত অংশ লিখতে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা একই মানের কাগজ, কলম ও বসার ব্যবস্থা করেন এবং প্রতিযোগীদের নামের বদলে গোপন কোড ব্যবহার করেন, যাতে বিচার নিরপেক্ষ থাকে।

বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের স্পষ্টতা, সুষম আকার, শব্দের ব্যবধান, পঙ্‌ক্তির সামঞ্জস্য, শুদ্ধ বানান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি বাংলা লিপির বিবর্তন, ক্যালিগ্রাফি ও পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনী ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় শিল্পীরা সঠিক ভঙ্গিতে বসা, কলম ধরা, অক্ষর অনুশীলন এবং দ্রুততার সঙ্গে পাঠযোগ্যতা বজায় রাখার কৌশল দেখান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে তিন বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের হাতে বই, সনদ ও শিল্পসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচিত লেখাগুলো চারুকলা অনুষদের প্রদর্শনীকক্ষে এক সপ্তাহ প্রদর্শনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রতিযোগিতাটি তাদের শুদ্ধ ও যত্নশীল লেখার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আয়োজকেরা এ উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উত্তর

পাবনাের স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ

মিম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আমার দেশ

পাবনা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাবনাের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

১৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো
উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতি কখনো শান্ত ও স্নিগ্ধ, আবার কখনো ভয়ংকর ও বিধ্বংসী। ঝড়ের রাতে তার প্রচণ্ড রূপ মানুষের অসহায়তা, সাহস ও পারস্পরিক নির্ভরতার কথা গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়। আমার জীবনে দেখা একটি ঝড়ের রাত আজও শব্দ, অন্ধকার ও আতঙ্কের জীবন্ত স্মৃতি হয়ে আছে।

ঝড়ের পূর্বাভাস

দিনটি ছিল বৈশাখের শেষ দিকে। সকাল থেকেই বাতাসে অস্বাভাবিক গরম ও ভারী ভাব ছিল। দুপুরে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও পাখিদের চলাচল কমে যায় এবং গাছের পাতাও যেন স্থির হয়ে থাকে। বিকেলের দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় প্রবল কালবৈশাখীর আশঙ্কা জানানো হয়। বাবা উঠানের ঢিলা জিনিস ঘরে তুললেন, জানালার পাল্লা পরীক্ষা করলেন এবং টর্চ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স কাছে রাখলেন। আমরা মোবাইল ফোন চার্জ করে গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে দিই।

আকাশের পরিবর্তন

সন্ধ্যার কিছু আগে পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। দূরে বিদ্যুতের আঁকাবাঁকা ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু তখনো বৃষ্টি নামেনি। হঠাৎ গরম বাতাস থেমে গিয়ে চারদিকে এক অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধুলোর ঘূর্ণি উঠল, গাছের মাথা দুলতে লাগল এবং পাখিরা আতঙ্কে আশ্রয় খুঁজতে ছুটল। আমরা দ্রুত দরজা-জানালা বন্ধ করে বাড়ির সবচেয়ে মজবুত ঘরে জড়ো হলাম।

ঝড়ের তাণ্ডব

রাত নামতেই প্রবল দমকা বাতাস বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল। টিনের চাল কাঁপতে লাগল, জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা ও ছোট ডালপালা সজোরে আঘাত করছিল। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেল। ঘন ঘন বজ্রপাতের আলোয় মুহূর্তের জন্য উঠান ও বাঁকানো গাছগুলো দেখা যাচ্ছিল। কাছেই একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ার বিকট শব্দে ছোট ভাই ভয় পেয়ে কেঁদে উঠল। মা তাকে কাছে টেনে শান্ত করলেন। আমরা জানালা থেকে দূরে, মেঝেতে নিচু হয়ে বসে ছিলাম এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

ভয় ও মানবিকতা

ঝড়ের মাঝেই পাশের বাড়ির বৃদ্ধ দম্পতির কথা মনে পড়ে আমাদের উদ্বেগ বাড়ল। তাঁদের ঘর তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাইরে বের হওয়া তখন বিপজ্জনক বলে বাবা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, প্রতিবেশী যুবকেরা ঝড়ের আগে তাঁদের একটি পাকা বাড়িতে নিয়ে গেছে। খবরটি শুনে স্বস্তি পেলাম। দূরে মানুষের ডাক শোনা গেলেও বিদ্যুৎ-তারের ঝুঁকি ও উড়ন্ত টিনের কারণে কেউ তাড়াহুড়া করে বাইরে যায়নি। জরুরি সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখা হয়।

ঝড় থামার পর

প্রায় এক ঘণ্টা তীব্র তাণ্ডবের পর বাতাস ধীরে ধীরে কমে এল। বৃষ্টি তখনো পড়ছিল, তবে বজ্রপাত দূরে সরে গেছে। পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরেই অপেক্ষা করি। গভীর রাতে বাইরে তাকিয়ে দেখি উঠান পানিতে ভরা, কলাগাছ ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তার ওপর বড় ডাল পড়ে আছে। অন্ধকারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থাকতে পারে বলে বাবা কাউকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেন।

সকালের দৃশ্য ও সহায়তা

পরদিন ভোরে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হলো। অনেক গাছ উপড়ে গেছে, কয়েকটি কাঁচা ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয় মানুষ দল বেঁধে রাস্তার ডাল সরায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে এবং বিপজ্জনক তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেন। সবাই মিলে কাজ করায় বিপর্যয়ের মধ্যেও সাহস ও সহমর্মিতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

অভিজ্ঞতার শিক্ষা

সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে, দুর্যোগকে অবহেলা করা যায় না। আগাম সতর্কবার্তা মানা, মজবুত আশ্রয় নির্বাচন, টর্চ-পানি-ওষুধ প্রস্তুত রাখা, জানালা ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকা এবং ঝড় চলাকালে বাইরে না যাওয়া জীবন রক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিবেশী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সমাজকে আগে থেকেই ভাগ করে নিতে হয়।

উপসংহার

একটি ঝড়ের রাত শুধু ভয় ও ধ্বংসের স্মৃতি নয়; এটি প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যও শেখায়। প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ ক্ষুদ্র হলেও বিজ্ঞানসম্মত সতর্কতা ও সম্মিলিত মানবিকতায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আবার নতুনভাবে দাঁড়াতে পারে।

১৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
১৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

কুমিল্লা

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় জারিফ,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি ও তোমাদের বাড়ির সবাই ভালো আছ। গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের সঙ্গে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ভ্রমণ করেছি। সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

খুব সকালে কুমিল্লা থেকে যাত্রা করে দুপুরের আগেই আমরা করতোয়া নদীর তীরবর্তী মহাস্থানগড়ে পৌঁছাই। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে প্রাচীন মুদ্রা, পোড়ামাটির ফলক, মূর্তি, শিলালিপি, অলংকার ও দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা নিদর্শন দেখে বিস্মিত হয়েছি। পথপ্রদর্শক জানান, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের রাজধানী ছিল এ স্থান এবং এর ইতিহাস আড়াই হাজার বছরেরও পুরোনো। উঁচু দুর্গপ্রাচীরের ওপর দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ দেখার সময় মনে হচ্ছিল, ইতিহাসের কোনো জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্যে এসে পড়েছি। আমরা গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, জিয়ৎকুণ্ড ও বৈরাগীর ভিটাসহ কয়েকটি প্রত্নস্থানও দেখি।

শিক্ষক প্রাচীন নগর-পরিকল্পনা, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিভিন্ন যুগের সংস্কৃতির পরিচয় ব্যাখ্যা করেন। বইয়ে পড়া ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পেয়ে বিষয়গুলো অনেক স্পষ্ট হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীর ফেলা বর্জ্য দেখে খারাপ লেগেছে। এমন অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানা সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে আবার যেতে চাই।

আজ আর নয়। তোমার পড়াশোনার খবর জানিয়ে চিঠি দিও। কাকু-কাকিমাকে আমার সালাম জানাবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

মাসুদ

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, সড়কের ত্রুটি এবং পথচারীর নিরাপদ পারাপারের অভাব এর প্রধান কারণ। পাহাড়ি বাঁক, বন্দরকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের চাপ এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার চট্টগ্রামের ঝুঁকি আরও বাড়ায়। এতে প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং পরিবারে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে। এ অবস্থা রোধে চালকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত, যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা, গতিসীমা ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত সংকেত, আলোকসজ্জা, ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও পদচারী-সেতু নির্মাণ জরুরি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ, স্কুলভিত্তিক সড়কনিরাপত্তা শিক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রতিটি দুর্ঘটনার বিজ্ঞানসম্মত তদন্তও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিলে এ প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুমিছিল অনেকটাই থামানো সম্ভব।

বিনীত

আরিফ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দৈনিক প্রথম আলো।

১৬. যেকোনো একটি বিষয়ে সারাংশ / সারমর্ম লেখো:
উত্তর জীবনের অভাব মানুষকে কর্ম, উদ্যম ও সেবার সুযোগ দেয়। নিজের ও অন্যের অভাব পূরণের প্রচেষ্টাতেই বৈচিত্র্য, অগ্রগতি ও মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে; তাই অভাবই কর্ম ও সেবাধর্মের অন্যতম উৎস।
উত্তর তারুণ্য প্রাণশক্তি, সাহস ও নবসৃষ্টির প্রতীক। নবীনদের দুরন্ত উদ্যম ও বাধাহীন কর্মপ্রেরণাই জড়তা, ভীরুতা ও মৃত্যুচেতনাকে আঘাত করে সমাজে নতুন জীবন জাগাতে পারে; তাই সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে।
১৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

মানুষের মর্যাদা জন্মস্থান, বংশ বা পারিবারিক সম্পদে নির্ধারিত হয় না; তার সৎ, মহৎ ও কল্যাণকর কর্মই প্রকৃত পরিচয় নির্মাণ করে। সাধারণ পরিবেশে জন্ম নিয়েও উত্তম কাজের মাধ্যমে মানুষ সমাজে সম্মান ও অমরত্ব অর্জন করতে পারে।

জন্ম মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। কেউ ধনী পরিবারে, কেউ দরিদ্র ঘরে; কেউ নগরে, কেউ প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মায়। তাই জন্মের জন্য অহংকার বা লজ্জা—দুটিই অযৌক্তিক। বংশগৌরব, পদ বা সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেলেও তা ব্যক্তির নিজস্ব কৃতিত্ব নয়। ইতিহাসে বহু মানুষ প্রতিকূল ও অনাড়ম্বর পরিবেশ থেকে উঠে এসে শিক্ষা, শ্রম, সততা ও মানবসেবার মাধ্যমে বিশ্বকে আলোকিত করেছেন। আবার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও অসৎ কর্মের কারণে অনেকে ঘৃণিত হয়েছেন। কাজের মধ্যেই মানুষের বিবেক, যোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ প্রকাশ পায়। কৃষকের উৎপাদন, শ্রমিকের নির্মাণ, শিক্ষকের জ্ঞানদান, চিকিৎসকের সেবা কিংবা নাগরিকের ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ—প্রত্যেক সৎ কর্ম সমাজকে এগিয়ে নেয়। নিজের উন্নতির সঙ্গে অন্যের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করাই ভালো কর্মের লক্ষণ। তবে সুনামের জন্য লোকদেখানো কাজ নয়; নিষ্ঠা, নৈতিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি উপকারের ভিত্তিতেই কর্মের মূল্য বিচার করতে হয়।

অতএব, কোথায় বা কোন পরিবারে জন্ম হয়েছে তা নয়, জীবনে কী কাজ করা হয়েছে সেটিই মানুষের আসল পরিচয়। সৎ ও কল্যাণকর কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই জন্ম সার্থক এবং মানুষ সত্যিকার অর্থে মহান হয়।

উত্তর

মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। দুর্দিনের অন্ধকারের আড়ালেই সুদিনের আলো অপেক্ষা করে; তাই বিপদে ভয় না পেয়ে ধৈর্য, সাহস ও আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

মেঘ সাময়িকভাবে সূর্য বা চাঁদকে ঢেকে দিলেও তাদের আলো নিভিয়ে দিতে পারে না। বাতাসে মেঘ সরে গেলে আকাশ আবার উজ্জ্বল হয়। মানবজীবনেও রোগ, শোক, অভাব, ব্যর্থতা ও অপমান কখনো কালো মেঘের মতো নেমে আসে। দুর্বলচিত্ত মানুষ তখন মনে করে, এ সংকটের আর শেষ নেই; ফলে সে হতাশ হয়ে কর্মশক্তি হারায়। কিন্তু ইতিহাস ও ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা বলে, চেষ্টা ও সময়ের সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। পরীক্ষায় ব্যর্থ শিক্ষার্থী নতুন পরিকল্পনায় পরিশ্রম করে সফল হতে পারে; বিপর্যস্ত জাতিও ঐক্য ও সংগ্রামের মাধ্যমে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। প্রতিকূলতা মানুষের ধৈর্য, সাহস ও সুপ্ত শক্তিকে পরীক্ষা করে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেয়। তাই দুঃসময়ে আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবতা বুঝে পরিকল্পিতভাবে সংকট মোকাবিলা করা উচিত। অন্ধ আশায় বসে থাকা নয়, আশাবাদকে কর্মের শক্তিতে রূপ দেওয়াই সাফল্যের পথ।

অতএব, রাতের পরে যেমন ভোর আসে, দুঃখের পরেও তেমনি সুখের সম্ভাবনা জাগে। ধৈর্য ও কর্মে অটল মানুষই দুর্দিন পেরিয়ে জীবনের আলো ফিরে পায়।

১৮. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলজুড়ে এর বাংলাদেশ অংশ অবস্থিত; বনের বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। অসংখ্য নদী, খাল, চর ও জোয়ার-ভাটার জলধারা এ বনকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সুন্দরী গাছের আধিক্য থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা লবণসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও মাছ এ বনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও মৎস্য আহরণ করে বহু বনজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত শোষণ করে উপকূলীয় জনপদকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো রক্ষা করে। এটি কার্বন ধারণ, মাটির ক্ষয়রোধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পর্যটনের মাধ্যমেও পরিবেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, দূষণ, বননিধন ও অবৈধ শিকারে এ বন হুমকির মুখে। তাই বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা, নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ করা জাতীয় কর্তব্য।
১৯. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

ঢাকা

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা বলে আমার প্রস্তুতির কথা জানাতে আজ তোমাকে লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন একটি সময়সূচি মেনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করছি। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো শিক্ষকদের কাছে বুঝে নিয়েছি এবং নিয়মিত নমুনা প্রশ্ন ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করছি। সপ্তাহে দুদিন পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লেখা, উপস্থাপন ও ভুল সংশোধনের অনুশীলন করছি। গণিতের সূত্র, ব্যাকরণের নিয়ম এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও চিত্রের জন্য আলাদা খাতা তৈরি করেছি। শিক্ষকরা আমার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও সামান্য ব্যায়ামের দিকেও খেয়াল রাখছি। অযথা বাইরে যাওয়া ও মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার জন্য দোয়া করবে, যেন সুস্থ থেকে মনোযোগসহ পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। পরীক্ষা শেষ হলেই বাড়ি ফিরব।

আজ আর নয়। বাবা ও ছোটদের আমার সালাম ও স্নেহ দিও।

ইতি

তোমার স্নেহের

প্রতীক

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান

চাটখিল ইউনিয়ন পরিষদ

চাটখিল, নোয়াখালী

বিষয়: ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা চাটখিল ইউনিয়নের অধিবাসী। আমাদের ইউনিয়নে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষ থাকলেও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য কোনো পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, কৃষি, স্বাস্থ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে মানসম্মত বই ও পত্রিকা পড়ার সুযোগ থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। একটি সুপরিচালিত গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, তরুণদের সৃজনশীলতা এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়বে। অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহার বাড়লে কিশোর-তরুণেরা মাদক, বাল্যবিবাহ ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকেও দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি উপযুক্ত কক্ষ প্রাথমিকভাবে পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, আসন, আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং একজন দায়িত্বশীল গ্রন্থাগারিকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের বই ও অর্থ সহায়তায় যুক্ত করলে উদ্যোগটি সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, চাটখিল ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

বিনীত

রুমি

চাটখিল ইউনিয়ন

চাটখিল, নোয়াখালী।

২০. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো
উত্তর

শুধু প্রাণ ও দৈহিক অস্তিত্ব মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ করে না। বিবেক, অনুভূতি, মানবিকতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ মনই একজন প্রাণীকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে।

সব জীবই খাদ্য গ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে, আত্মরক্ষা করে এবং বংশবিস্তার করে। মানুষও এসব জৈব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, কিন্তু তার বিশেষত্ব হলো চিন্তাশীল মন। মন মানুষকে ভালো-মন্দ বিচার, অন্যের দুঃখ অনুভব, সত্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষমতা দেয়। এই মনের শক্তিতেই মানুষ ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, আইন ও সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে। শুধু বুদ্ধি থাকলেই অবশ্য মনুষ্যত্ব পূর্ণ হয় না; সেই বুদ্ধির সঙ্গে বিবেক, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও সংযম যুক্ত হওয়া চাই। যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থে অন্যকে শোষণ করে, দুর্বলের কষ্টে উদাসীন থাকে বা জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে, সে দৈহিকভাবে মানুষ হলেও মানবিক অর্থে মানুষ নয়। বিপরীতে যে ব্যক্তি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, ভুল স্বীকার করে এবং সকল জীবের মর্যাদা রক্ষা করে, তার মধ্যেই প্রকৃত মানুষের পরিচয় প্রকাশ পায়। মনকে শিক্ষা, সৎ সঙ্গ, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সেবার মাধ্যমে পরিশীলিত করতে হয়; না হলে লোভ, হিংসা ও অহংকার তার মানবিক শক্তিকে নষ্ট করে।

অতএব, প্রাণ মানুষকে জীবিত রাখে, কিন্তু উদার ও বিবেকবান মন তাকে মনুষ্যত্ব দান করে। মানবিক গুণের চর্চায় মনকে বিকশিত করতে পারলেই মানুষ নামের সত্য মর্যাদা অর্জিত হয়।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সংগত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

২১. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

২২. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
উত্তর বিশ্ববিদ্যালয় হলো উচ্চশিক্ষা, মৌলিক গবেষণা, জ্ঞান সৃষ্টি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে পাঠদান, গবেষণা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ডিগ্রি প্রদান করা হয়। একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মী তৈরি করে না; শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও সমাজবোধও গড়ে তোলে। শিক্ষক ও গবেষকেরা নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন করে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, ভাষা, সাহিত্য ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে অবদান রাখেন। পাঠাগার, গবেষণাগার, সেমিনার, বিতর্ক, সংস্কৃতিচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা ও জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে। তবে মানসম্মত শিক্ষক, গবেষণা-অর্থায়ন, আবাসন, প্রযুক্তিসুবিধা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও জবাবদিহির ঘাটতি উচ্চশিক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় সংকীর্ণতা ও সনদনির্ভরতার বদলে মেধা, স্বাধীন চিন্তা, অন্তর্ভুক্তি এবং দেশের প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সার্থকতা।
২৩. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো।
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

থানা নির্বাহী অফিসার

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

বিষয়: কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমাদের বিদ্যালয়ে বহু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও তাদের ব্যবহারের উপযোগী কোনো পূর্ণাঙ্গ পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, অভিধান, সংবাদপত্র ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধান, রচনা ও বিতর্কের প্রস্তুতি এবং অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট।

বিদ্যালয়ের একটি উপযুক্ত কক্ষকে পাঠাগার হিসেবে নির্ধারণ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শ্রেণি ও বয়স অনুযায়ী মানসম্মত বই, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী সংগ্রহ এবং একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে পাঠাগারটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের বই সংগ্রহ অভিযানে যুক্ত করলে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

বিনীত

রিহান/রিহানা

শ্রেণি: দশম

কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

উত্তর

ছাত্রাবাস

পায়রাবন্দ উচ্চ বিদ্যালয়

রংপুর

১৫ই আগস্ট ২০২৬

শ্রদ্ধেয় মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সামনে নির্বাচনি পরীক্ষা বলে আমার প্রস্তুতির কথা জানাতে আজ তোমাকে লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন একটি সময়সূচি মেনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করছি। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো শিক্ষকদের কাছে বুঝে নিয়েছি এবং নিয়মিত নমুনা প্রশ্ন ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করছি। সপ্তাহে দুদিন পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লেখা, উপস্থাপন ও ভুল সংশোধনের অনুশীলন করছি। গণিতের সূত্র, ব্যাকরণের নিয়ম এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও চিত্রের জন্য আলাদা খাতা তৈরি করেছি। শিক্ষকরা আমার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও সামান্য ব্যায়ামের দিকেও খেয়াল রাখছি। অযথা বাইরে যাওয়া ও মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার জন্য দোয়া করবে, যেন সুস্থ থেকে মনোযোগসহ নির্বাচনি পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। ভালো ফল হলে এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতিও আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিতে পারব।

আজ আর নয়। বাবা ও ছোটদের আমার সালাম ও স্নেহ দিও।

ইতি

তোমার স্নেহের

প্রান্ত/প্রান্তিকা

২৪. সারাংশ সারমর্ম লেখোঃ
উত্তর মানুষ অভ্যাসের দাস; তাই কোনো বদভ্যাস এক দিনে ত্যাগ করা যায় না। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মিথ্যাচার ও কুপ্রবৃত্তি জয় করে সত্যবাদী ও চরিত্রবান হতে হয়।
উত্তর নতুন প্রজন্মের জন্য জঞ্জাল, ব্যর্থতা ও ধ্বংস থেকে মুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করা বর্তমান মানুষের দায়িত্ব। মৃত্যুর আগে সর্বশক্তি দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করাই নবজাতকের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
২৫. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।

খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।

সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

২৬. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত

লাবিব/লাবিবা, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

মানিকছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬: শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল মানিকছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পাঠ্যজ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, অভিনয় ও লোকঐতিহ্যের চর্চা শিক্ষার্থীর মনন, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। এরপর শ্রেণিভিত্তিক দেশাত্মবোধক ও লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, একক অভিনয়, নৃত্য এবং দেয়ালপত্রিকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিভিত্তিক একটি নাটিকা দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে।

বিকেলে অতিথিরা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে বই, সনদ ও স্মারক তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের তৈরি চিত্রকর্ম ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনীও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা ছিল। সমবেত সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা আরও দৃঢ় করেছে।

উত্তর

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২৬: বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়লে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে কোনো কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, পরিচ্ছন্নতা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা, উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসাই ডেঙ্গু মোকাবিলার প্রধান উপায়।

চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমিভাব বা ত্বকে ফুসকুড়ি ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ হতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও বিপদের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করতে হবে; অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাত ব্যথানাশক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া সেগুলো গ্রহণ করা বিপজ্জনক।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল ও নির্মাণাধীন ভবনের ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ফ্রিজের ট্রে ও ছাদের নালায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পানির পাত্র ঢেকে রাখতে এবং সপ্তাহে অন্তত একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। দিনে এডিস মশা বেশি সক্রিয় থাকায় পূর্ণ হাতার পোশাক, মশারি, জানালার জালি ও অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার জরুরি। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারকে নিয়মিত নজরদারি, বর্জ্য অপসারণ, প্রজননস্থল ধ্বংস, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার। গুজব ও ভুল চিকিৎসা এড়িয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিপদের লক্ষণ সম্পর্কে সবাইকে জানানোই প্রাণহানি কমাতে পারে।

২৭. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা

ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। অল্প জায়গা ও সামান্য সরঞ্জামে খেলা যায় বলে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এর ব্যাপক চর্চা রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় মানুষের বিপুল আগ্রহ দেখা গেলেও দেশের ফুটবলকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফুটবলের ঐতিহ্য

এ দেশের মাঠে ফুটবলের চর্চা বহু পুরোনো। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। স্বাধীনতার পর ঢাকার ক্লাব ফুটবল, জাতীয় লিগ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট দর্শকদের বিপুল আনন্দ দিয়েছে। একসময় আবাহনী, মোহামেডানসহ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। জাতীয় দলও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

জনপ্রিয়তার কারণ

ফুটবলের নিয়ম তুলনামূলক সহজ এবং একটি বল পেলেই অনেকজন একসঙ্গে খেলতে পারে। দ্রুত গতি, কৌশল, দলগত সমন্বয় এবং মুহূর্তে ফল বদলে যাওয়ার উত্তেজনা দর্শককে আকৃষ্ট করে। গ্রামাঞ্চলের খোলা মাঠ, বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় টুর্নামেন্ট ফুটবলকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি রেখেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বিশ্বকাপের সম্প্রচারও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ায়।

জাতীয় ও ক্লাব ফুটবল

জাতীয় দলের মূল ভিত্তি শক্তিশালী ঘরোয়া ফুটবল। পেশাদার লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা, জেলা লিগ এবং আন্তবিদ্যালয় টুর্নামেন্ট নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলে খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। ক্লাবগুলোর নিজস্ব অনুশীলন মাঠ, যুবদল, দক্ষ প্রশিক্ষক, চিকিৎসা ও ফিটনেস ব্যবস্থা থাকা দরকার। স্বচ্ছ দলবদল, সময়মতো পারিশ্রমিক এবং সুষ্ঠু রেফারিং খেলাটির পেশাদার পরিবেশ উন্নত করে।

নারী ফুটবলের অগ্রগতি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দেশের মানুষের আস্থা ও আনন্দ বাড়িয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক কিশোরী শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দলগত নৈপুণ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে নিরাপদ আবাসন, পুষ্টি, শিক্ষা, নিয়মিত লিগ, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও পুরুষ উভয় দলের সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই দেশের ফুটবল বিস্তৃত ভিত্তি পাবে।

বর্তমান সমস্যা

পর্যাপ্ত মাঠের অভাব, অনিয়মিত জেলা লিগ, দুর্বল বয়সভিত্তিক কাঠামো, স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের ফুটবলের প্রধান সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংকুচিত বা দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশিক্ষকদের আধুনিক জ্ঞান, খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও ক্রীড়াবিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচেরও ঘাটতি রয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা না থাকলে প্রতিভা বিকশিত হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়।

উন্নয়নের করণীয়

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত লিগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমি প্রশিক্ষণ, সুষম খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। প্রশিক্ষক ও রেফারিদের মানোন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, তথ্যভিত্তিক খেলোয়াড় মূল্যায়ন এবং বিদেশি দলের সঙ্গে নিয়মিত প্রস্তুতি ম্যাচ জরুরি। ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, পৃষ্ঠপোষক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আর্থিক ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও ফলাফলের জবাবদিহি থাকাও প্রয়োজন।

ফুটবলের সামাজিক গুরুত্ব

ফুটবল শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। কিশোর-তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য দেশের পরিচিতি বাড়ায় এবং নানা শ্রেণি ও অঞ্চলের মানুষকে একই আনন্দে ঐক্যবদ্ধ করে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতিভা ও জনসমর্থনের অভাব নেই; প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত ধারাবাহিক উন্নয়নব্যবস্থা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, সততা ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে দেশের ফুটবল আবার গ্যালারিতে প্রাণ ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করতে পারবে।

২৮. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

যশোর

১৫ই জুন ২০২৬

প্রিয় রায়হান,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। সম্প্রতি ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ভ্রমণের যে আনন্দময় ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

গত শুক্রবার পরিবারের সঙ্গে সকালে যশোর থেকে রওনা হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে পৌঁছাই। মুঘল আমলের এ অসমাপ্ত দুর্গের নির্মাণকাজ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ মুহাম্মদ আজম শুরু করেন; পরে শায়েস্তা খান এর দায়িত্ব নেন। প্রবেশপথ পেরিয়ে সুবিস্তৃত উদ্যান, জলাধার, প্রাচীর ও স্থাপনার সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখে আমরা মুগ্ধ হই। পরীবিবির সমাধিসৌধের কারুকাজ, দরবার হল ও হাম্মামখানা এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। জাদুঘরে সংরক্ষিত মুদ্রা, অস্ত্র, পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রী দেখে মুঘল বাংলার প্রশাসন, স্থাপত্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাই। একজন পথপ্রদর্শক দুর্গের ইতিহাস ও বিভিন্ন স্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করায় পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে দর্শনার্থীর ভিড়ের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও প্রত্নসম্পদের নিরাপত্তা রক্ষা করা যে জরুরি, তা অনুভব করেছি।

ঐতিহাসিক নিদর্শন শুধু বিনোদনের স্থান নয়; জাতির অতীত ও পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। সুযোগ পেলে তুমিও লালবাগ কেল্লা দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

সাদমান/সাদিকা

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।

বিনীত

আদিব/আদিবা

যশোর।

২৯. যেকোনো একটি সারাংশ/সারমর্ম লেখো:
উত্তর মানুষ অভ্যাসের দাস; তাই কোনো বদভ্যাস এক দিনে ত্যাগ করা যায় না। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মিথ্যাচার ও কুপ্রবৃত্তি জয় করে সত্যবাদী ও চরিত্রবান হতে হয়।
উত্তর নতুন প্রজন্মের জন্য জঞ্জাল, ব্যর্থতা ও ধ্বংস থেকে মুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নির্মাণ করা বর্তমান মানুষের দায়িত্ব। মৃত্যুর আগে সর্বশক্তি দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করাই নবজাতকের প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।
৩০. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

মানুষের মহত্ত্ব কেবল নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগে প্রকাশ পায় না; অন্যের কল্যাণে স্বার্থ, শ্রম ও সম্পদ ত্যাগ করার মধ্যেই মনুষ্যত্বের প্রকৃত বিকাশ ঘটে। সংযম ও ত্যাগ মানুষকে সংকীর্ণ আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর মানবসমাজের সঙ্গে যুক্ত করে।

ভোগের আকাঙ্ক্ষা অসীম। একটি চাহিদা পূরণ হলে আরেকটি জন্ম নেয়; ফলে মানুষ লোভ, প্রতিযোগিতা ও অসন্তোষের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। বিপরীতে ত্যাগের মনোভাব মানুষকে সহমর্মী, উদার ও দায়িত্বশীল করে। মা সন্তানের জন্য নিজের আরাম বিসর্জন দেন, শিক্ষক শিক্ষার্থীর উন্নতির জন্য শ্রম দেন, আর দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরেরা জীবন উৎসর্গ করেন—এসব ত্যাগেই মানবিক মহিমা উজ্জ্বল। সমাজে ধনী ব্যক্তি যদি সম্পদের অংশ অসহায়ের শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করেন, জ্ঞানী ব্যক্তি যদি জ্ঞান ভাগ করেন এবং সক্ষম মানুষ যদি দুর্যোগে বিপন্নের পাশে দাঁড়ান, তবে পারস্পরিক আস্থা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ত্যাগ মানে প্রয়োজনহীন আত্মনিপীড়ন বা সব সম্পদ পরিত্যাগ নয়; ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজন পূরণ করে লোভ সংযত রাখা এবং বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য স্বেচ্ছায় কিছু ছাড় দেওয়াই প্রকৃত ত্যাগ। নিজের কর্তব্য অবহেলা করে লোকদেখানো দানও ত্যাগের আদর্শ নয়।

অতএব, সংযত ভোগ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন হলেও ত্যাগই মানুষকে হৃদয়ের ঐশ্বর্য ও নৈতিক উচ্চতা দেয়। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করলেই মনুষ্যত্ব পূর্ণতা লাভ করে।

উত্তর

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।

খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।

সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৩১. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

বরগুনা জিলা স্কুলে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মুনিম, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

বরগুনা, ৩০শে জানুয়ারি ২০২৬: উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে গতকাল বরগুনা জিলা স্কুলে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সফলতা কামনা করেন। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের একজন নতুন পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুভূতি জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের হাতে স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশিত হয়। আনন্দ ও বিচ্ছেদের মিশ্র অনুভূতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

উত্তর

বরিশালে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নাবিল/নাবিলা, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো

বরিশাল, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্‌ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা একাডেমির প্রদর্শনীতে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

৩২. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, আনন্দ ও জাতীয় গৌরবের অন্যতম উৎস। একসময় সীমিত পরিসরে খেলা হলেও ধারাবাহিক সাফল্য, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং গণমানুষের সমর্থনে ক্রিকেট আজ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জাতীয় দল, নারী দল ও বয়সভিত্তিক দলের অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়িয়েছে।

ক্রিকেটের বিকাশ

বাংলাদেশে ক্রিকেটের চর্চা ঔপনিবেশিক আমলে শুরু হলেও স্বাধীনতার পর খেলাটি নতুনভাবে সংগঠিত হয়। বিদ্যালয়, কলেজ, জেলা ও ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়াড় তৈরি হতে থাকে। বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য হয়। ঘরোয়া অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ফলে দল ধীরে ধীরে শক্তি অর্জন করে।

আইসিসি ট্রফি ও বিশ্বকাপের দ্বার

১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা। এ সাফল্যের মাধ্যমে দেশ প্রথমবার ১৯৯৯ সালের একদিনের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই জয় দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ক্রিকেটকে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ

২০০০ সালের জুনে বাংলাদেশ দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা লাভ করে এবং একই বছরের নভেম্বরে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলে। টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য, কৌশল ও ধারাবাহিকতার কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। শুরুতে নানা ব্যর্থতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে স্মরণীয় টেস্ট জয় অর্জন করেছে। তবু বিদেশের ভিন্ন পরিবেশে দীর্ঘ সময় ভালো খেলা এবং ধারাবাহিক ব্যাটিং এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

একদিনের ও টি-টোয়েন্টি অগ্রগতি

একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি সবচেয়ে দৃশ্যমান। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়, ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তরণ এবং ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা দেশের উল্লেখযোগ্য অর্জন। ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ও বাংলাদেশের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। টি-টোয়েন্টিতে প্রতিভা থাকলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত, শক্তিশালী ব্যাটিং ও নিখুঁত ডেথ বোলিংয়ে আরও উন্নতি প্রয়োজন।

যুব ও নারী ক্রিকেটের সাফল্য

২০২০ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে; এটি যেকোনো পর্যায়ে দেশের প্রথম আইসিসি বিশ্বশিরোপা। এ অর্জন পরিকল্পিত বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দেখিয়েছে। নারী ক্রিকেট দলও ২০১৮ সালে এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে। নারী খেলোয়াড়দের নিয়মিত ঘরোয়া লিগ, নিরাপদ প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ বাড়ালে সাফল্যের ভিত্তি আরও শক্ত হবে।

ক্রিকেটের প্রভাব

আন্তর্জাতিক ম্যাচে জাতীয় পতাকা ও সংগীত দেশের মানুষকে এক আবেগে ঐক্যবদ্ধ করে। ক্রিকেট খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, আম্পায়ার, মাঠকর্মী, ধারাভাষ্যকার, ক্রীড়া সাংবাদিক ও সম্প্রচারকসহ নানা পেশায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন পর্যটন, পরিবহন, হোটেল ও বিজ্ঞাপন খাতেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ায়। শিশু-কিশোরেরা খেলোয়াড়দের পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা থেকে অনুপ্রেরণা পায়।

বর্তমান সমস্যা

কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক সুযোগ, মানসম্মত মাঠের অভাব, দুর্বল জেলা লিগ, অনিয়মিত স্কুল ক্রিকেট এবং প্রতিভা নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে। টেস্ট, একদিনের ও টি-টোয়েন্টি—তিন ধরনের ক্রিকেটের জন্য উপযোগী খেলোয়াড় গড়ে তুলতে আলাদা পরিকল্পনা দরকার। অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ, চোট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় মানের ঘাটতিও উদ্বেগের বিষয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশব্যাপী স্কুল, বয়সভিত্তিক ও জেলা ক্রিকেট নিয়মিত করতে হবে। পেস ও স্পিন বোলিং, উইকেটকিপিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ের বিশেষায়িত একাডেমি গড়ে তুলতে হবে। খেলোয়াড়দের পুষ্টি, ক্রীড়াবিজ্ঞান, মানসিক প্রস্তুতি ও চোট পুনর্বাসনে পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট ও প্রতিযোগিতার মান উন্নত, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সফরের আগে পরিবেশভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে। নারী ও প্রতিবন্ধী ক্রিকেটেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

উপসংহার

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথ সংগ্রাম, আশা ও অর্জনে ভরা। আইসিসি ট্রফি থেকে টেস্ট মর্যাদা, বিশ্বকাপের স্মরণীয় জয়, যুব বিশ্বশিরোপা ও নারী দলের এশিয়া কাপ সাফল্য প্রমাণ করে যে পরিকল্পনা ও অধ্যবসায় থাকলে বাংলাদেশ বড় অর্জন করতে পারে। তৃণমূলের শক্ত ভিত্তি, সুশাসন ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হলে বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের অবস্থান আরও মর্যাদাপূর্ণ হবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতি কখনো শান্ত ও স্নিগ্ধ, আবার কখনো ভয়ংকর ও বিধ্বংসী। ঝড়ের রাতে তার প্রচণ্ড রূপ মানুষের অসহায়তা, সাহস ও পারস্পরিক নির্ভরতার কথা গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়। আমার জীবনে দেখা একটি ঝড়ের রাত আজও শব্দ, অন্ধকার ও আতঙ্কের জীবন্ত স্মৃতি হয়ে আছে।

ঝড়ের পূর্বাভাস

দিনটি ছিল বৈশাখের শেষ দিকে। সকাল থেকেই বাতাসে অস্বাভাবিক গরম ও ভারী ভাব ছিল। দুপুরে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও পাখিদের চলাচল কমে যায় এবং গাছের পাতাও যেন স্থির হয়ে থাকে। বিকেলের দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় প্রবল কালবৈশাখীর আশঙ্কা জানানো হয়। বাবা উঠানের ঢিলা জিনিস ঘরে তুললেন, জানালার পাল্লা পরীক্ষা করলেন এবং টর্চ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স কাছে রাখলেন। আমরা মোবাইল ফোন চার্জ করে গবাদিপশুকে নিরাপদ স্থানে বেঁধে দিই।

আকাশের পরিবর্তন

সন্ধ্যার কিছু আগে পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। দূরে বিদ্যুতের আঁকাবাঁকা ঝলকানি দেখা যাচ্ছিল, কিন্তু তখনো বৃষ্টি নামেনি। হঠাৎ গরম বাতাস থেমে গিয়ে চারদিকে এক অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধুলোর ঘূর্ণি উঠল, গাছের মাথা দুলতে লাগল এবং পাখিরা আতঙ্কে আশ্রয় খুঁজতে ছুটল। আমরা দ্রুত দরজা-জানালা বন্ধ করে বাড়ির সবচেয়ে মজবুত ঘরে জড়ো হলাম।

ঝড়ের তাণ্ডব

রাত নামতেই প্রবল দমকা বাতাস বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল। টিনের চাল কাঁপতে লাগল, জানালায় বৃষ্টির ফোঁটা ও ছোট ডালপালা সজোরে আঘাত করছিল। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে গেল। ঘন ঘন বজ্রপাতের আলোয় মুহূর্তের জন্য উঠান ও বাঁকানো গাছগুলো দেখা যাচ্ছিল। কাছেই একটি বড় ডাল ভেঙে পড়ার বিকট শব্দে ছোট ভাই ভয় পেয়ে কেঁদে উঠল। মা তাকে কাছে টেনে শান্ত করলেন। আমরা জানালা থেকে দূরে, মেঝেতে নিচু হয়ে বসে ছিলাম এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

ভয় ও মানবিকতা

ঝড়ের মাঝেই পাশের বাড়ির বৃদ্ধ দম্পতির কথা মনে পড়ে আমাদের উদ্বেগ বাড়ল। তাঁদের ঘর তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাইরে বের হওয়া তখন বিপজ্জনক বলে বাবা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, প্রতিবেশী যুবকেরা ঝড়ের আগে তাঁদের একটি পাকা বাড়িতে নিয়ে গেছে। খবরটি শুনে স্বস্তি পেলাম। দূরে মানুষের ডাক শোনা গেলেও বিদ্যুৎ-তারের ঝুঁকি ও উড়ন্ত টিনের কারণে কেউ তাড়াহুড়া করে বাইরে যায়নি। জরুরি সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখা হয়।

ঝড় থামার পর

প্রায় এক ঘণ্টা তীব্র তাণ্ডবের পর বাতাস ধীরে ধীরে কমে এল। বৃষ্টি তখনো পড়ছিল, তবে বজ্রপাত দূরে সরে গেছে। পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরেই অপেক্ষা করি। গভীর রাতে বাইরে তাকিয়ে দেখি উঠান পানিতে ভরা, কলাগাছ ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তার ওপর বড় ডাল পড়ে আছে। অন্ধকারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থাকতে পারে বলে বাবা কাউকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেন।

সকালের দৃশ্য ও সহায়তা

পরদিন ভোরে ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হলো। অনেক গাছ উপড়ে গেছে, কয়েকটি কাঁচা ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে। ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয় মানুষ দল বেঁধে রাস্তার ডাল সরায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে এবং বিপজ্জনক তারের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানায়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করেন। সবাই মিলে কাজ করায় বিপর্যয়ের মধ্যেও সাহস ও সহমর্মিতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।

অভিজ্ঞতার শিক্ষা

সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে, দুর্যোগকে অবহেলা করা যায় না। আগাম সতর্কবার্তা মানা, মজবুত আশ্রয় নির্বাচন, টর্চ-পানি-ওষুধ প্রস্তুত রাখা, জানালা ও বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকা এবং ঝড় চলাকালে বাইরে না যাওয়া জীবন রক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিবেশী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব সমাজকে আগে থেকেই ভাগ করে নিতে হয়।

উপসংহার

একটি ঝড়ের রাত শুধু ভয় ও ধ্বংসের স্মৃতি নয়; এটি প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার মূল্যও শেখায়। প্রকৃতির শক্তির সামনে মানুষ ক্ষুদ্র হলেও বিজ্ঞানসম্মত সতর্কতা ও সম্মিলিত মানবিকতায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আবার নতুনভাবে দাঁড়াতে পারে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

৩৩. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর মোবাইল ফোন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। তারবিহীন এই যন্ত্র সহজে বহন করা যায় বলে যে কোনো স্থান থেকে দূরের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব। বর্তমানের স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, ই-মেইল, ক্যামেরা, মানচিত্র, ক্যালকুলেটর ও নানা অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ফলে অনলাইন পাঠ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ব্যাংকিং, কেনাকাটা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দুর্যোগের সংবাদ আদান-প্রদান সহজ হয়েছে। অপরাধী শনাক্তকরণ ও উদ্ধারকাজেও মোবাইল ফোন কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি পড়াশোনা ও কর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, সময় নষ্ট করে এবং চোখ, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। গুজব ছড়ানো, সাইবার হয়রানি, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও রয়েছে। পথ চলা বা যানবাহন চালানোর সময় ফোন ব্যবহার দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড রাখা, অপরিচিত লিংক এড়ানো এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা উচিত। শিশু-কিশোরদের ব্যবহারে অভিভাবকের যুক্তিসংগত তত্ত্বাবধানও দরকার। মোবাইল ফোন নিজে ভালো বা মন্দ নয়; সচেতন, সংযত ও কল্যাণকর ব্যবহারই একে মানুষের উন্নতির সহায়ক করে তোলে।
৩৪. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

তারিখ: ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬

বরাবর

ব্যবস্থাপক

সোনালী ব্যাংক পিএলসি

দিনাজপুর সদর শাখা, দিনাজপুর

বিষয়: ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপনের জন্য ঋণ মঞ্জুরের আবেদন।

জনাব,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি শুভ্র/শুভ্রা, দিনাজপুর সদর উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর স্থানীয় বাজারে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। এ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অনলাইন আবেদন, মুদ্রণ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দেওয়া হবে। উদ্যোগটির জন্য কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, দোকান সাজানো এবং প্রাথমিক পরিচালন ব্যয় বাবদ মোট ৪,০০,০০০ টাকা প্রয়োজন। নিজস্ব সঞ্চয় থেকে ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে পারব; অবশিষ্ট ৩,০০,০০০ টাকা আপনার ব্যাংকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজন।

আমি একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের হিসাব, প্রশিক্ষণ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় জামিনদারের কাগজপত্র সংযুক্ত করেছি। সম্ভাব্য আয় থেকে ব্যাংকের নির্ধারিত কিস্তি ও সুদ নিয়মিত পরিশোধ করতে সক্ষম হব। ব্যাংক চাইলে প্রকল্পস্থল পরিদর্শন ও অতিরিক্ত তথ্য যাচাই করতে পারে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার কাগজপত্র ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী ৩,০০,০০০ টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে বাধিত করবেন।

বিনীত নিবেদক

শুভ্র/শুভ্রা

দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর

মোবাইল: ০১৭XXXXXXXX

সংযুক্তি: ব্যবসায় পরিকল্পনা, ব্যয়ের প্রাক্কলন, প্রশিক্ষণ সনদ, পরিচয়পত্র ও জামিনদারের কাগজপত্র।

উত্তর

দিনাজপুর

১৫ই জুন ২০২৬

প্রিয় রাকিব,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি সিলেটে ভালো আছ। সম্প্রতি ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ভ্রমণের যে আনন্দময় ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

গত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সকালে দিনাজপুর থেকে রওনা হয়ে পুরান ঢাকার লালবাগে পৌঁছাই। মুঘল আমলের এ অসমাপ্ত দুর্গের নির্মাণকাজ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ মুহাম্মদ আজম শুরু করেন; পরে শায়েস্তা খান এর দায়িত্ব নেন। প্রবেশপথ পেরিয়ে সুবিস্তৃত উদ্যান, জলাধার, প্রাচীর ও স্থাপনার সুশৃঙ্খল বিন্যাস দেখে আমরা মুগ্ধ হই। পরীবিবির সমাধিসৌধের কারুকাজ, দরবার হল ও হাম্মামখানা এবং তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। জাদুঘরে সংরক্ষিত মুদ্রা, অস্ত্র, পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রী দেখে মুঘল বাংলার প্রশাসন, স্থাপত্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাই। একজন পথপ্রদর্শক দুর্গের ইতিহাস ও বিভিন্ন স্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করায় পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে দর্শনার্থীর ভিড়ের মধ্যেও পরিচ্ছন্নতা ও প্রত্নসম্পদের নিরাপত্তা রক্ষা করা যে জরুরি, তা অনুভব করেছি।

ঐতিহাসিক নিদর্শন শুধু বিনোদনের স্থান নয়; জাতির অতীত ও পরিচয়ের মূল্যবান দলিল। সুযোগ পেলে তুমিও লালবাগ কেল্লা দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

মিঠুন

৩৫. যেকোনো একটি সারাংশ/সারমর্ম করো :
উত্তর সুবিধাবাদী মানুষ কেবল সুখ ও সমৃদ্ধির সময় বন্ধুত্ব ও সান্নিধ্য দেখায়; দুঃখ, অভাব বা বিপদে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই সুসময়ের এমন বন্ধুর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত সহমর্মীকে চিনতে হয়।
উত্তর দারিদ্র্য, দুঃখ ও বিপদে লজ্জিত বা ভীত না হয়ে আত্মমর্যাদা, ধৈর্য ও সাহস বজায় রাখতে হয়। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সংগ্রাম করলেই জীবনের কঠিন পথ অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
৩৬. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো :
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।

অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।

অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।

৩৭. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো:
উত্তর

হাজী মুহাম্মদ মহসীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আকিব, বগুড়া প্রতিনিধি, দৈনিক জনকণ্ঠ

বগুড়া, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল জেলার হাজী মুহাম্মদ মহসীন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শুদ্ধ লিখিত রূপ, পরিচ্ছন্ন উপস্থাপন এবং নান্দনিক হস্তলিপির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ আয়োজন করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল নয়টায় জাতীয় সংগীত এবং ভাষাশহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম এবং নবম-দশম—দুটি বিভাগে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের জন্য ভাষা আন্দোলন, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধবিষয়ক পৃথক গদ্যাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং লেখার জন্য চল্লিশ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বিচারকমণ্ডলী অক্ষরের গঠন ও সমতা, শুদ্ধ বানান, শব্দ ও পঙ্‌ক্তির ব্যবধান, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার ভিত্তিতে লেখা মূল্যায়ন করেন। প্রতিযোগিতা চলাকালে বাংলা লিপির সৌন্দর্য ও হাতের লেখা উন্নয়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল যুগেও স্পষ্ট ও শুদ্ধ হাতের লেখা শিক্ষার্থীর মনোযোগ, ভাষাজ্ঞান, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। দুই বিভাগের প্রথম তিনজনকে বই, সনদ ও স্মারক দেওয়া হয়; সব অংশগ্রহণকারী প্রশংসাপত্র পায়। বিজয়ীদের নির্বাচিত লেখা বিদ্যালয়ের দেয়ালপত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এ ধরনের শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

উত্তর

খুলনার স্থানীয় সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ

সৌরভ/সুরভি, খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা, ১৫ই জুন ২০২৬: দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা পিচ, অসংখ্য গর্ত, জলাবদ্ধতা ও ধুলায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটার সড়কের বহু স্থানে পিচ উঠে ইট ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বড় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়; গভীরতা বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পড়ে। সড়কের পাশের নালা ভরাট ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। শুকনা মৌসুমে যানবাহন চললে ধুলায় পাশের বাড়ি, দোকান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষিত হয়। কৃষকেরা ধান, সবজি ও দুধ সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম হারাচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ির চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকবার সাময়িকভাবে ইট ও বালু ফেলা হলেও স্থায়ী সংস্কার হয়নি; অল্পদিনেই আগের অবস্থা ফিরে আসে। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন ও নির্মাণকাজের নিম্নমানও ক্ষতি বাড়িয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গর্ত ভরাট নয়, সঠিক নকশায় টেকসই ভিত্তি, মানসম্মত পিচ, কার্যকর জলনিষ্কাশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান প্রকাশ্যভাবে তদারক এবং অতিরিক্ত বোঝাই যান নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কসংকেত ও অস্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

৩৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও সাহিত্যিক। নারী যখন শিক্ষা, কর্ম ও সামাজিক অধিকার থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, তখন তিনি লেখনী, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্তি ও মর্যাদার পথ নির্মাণ করেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিবেশ

রোকেয়া ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ আবু আলী সাবের এবং মাতা রাহাতুল্লোসা সাবেরা চৌধুরানী। রক্ষণশীল ও কঠোর পর্দাপ্রথার পরিবারে মেয়েদের বাংলা ও ইংরেজি শেখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু জ্ঞানপিপাসু রোকেয়া বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বোন করিমুল্লোসার সহযোগিতায় গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন।

বিবাহ ও সাহিত্যচর্চার প্রেরণা

১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। উদারমনস্ক স্বামী রোকেয়াকে বাংলা ও ইংরেজি চর্চা এবং সমাজসেবায় উৎসাহ দেন। স্বামীর সহযোগিতায় তাঁর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে স্বামীর মৃত্যুর পরও রোকেয়া তাঁর আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।

নারীশিক্ষা বিস্তারে অবদান

স্বামীর স্মৃতিতে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে ভাগলপুরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিকূলতার কারণে পরে কলকাতায় গিয়ে ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করেন। রক্ষণশীল পরিবারের অভিভাবকদের বোঝাতে তিনি ঘরে ঘরে গিয়েছেন এবং ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি ক্রমে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। নারীশিক্ষা যে কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়, বরং আত্মমর্যাদা, অধিকারবোধ ও স্বনির্ভরতার পথ—এ বিশ্বাসই তাঁর কাজের ভিত্তি ছিল।

সাহিত্যিক জীবন

১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে ‘নবপ্রভা’ পত্রিকায় ‘পিপাসা’ প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে ‘মতিচুর’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড, ইংরেজি রচনা Sultana’s Dream বা ‘সুলতানার স্বপ্ন’, উপন্যাস ‘পদ্মরাগ’ এবং ‘অবরোধবাসিনী’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যঙ্গ, যুক্তি ও কল্পনার সাহায্যে তিনি নারীর অবরুদ্ধ জীবন, পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং মানসিক দাসত্বের সমালোচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্য একই সঙ্গে শিল্পসফল ও সমাজজাগরণমূলক।

সংগঠন ও সমাজসংস্কার

নারীদের সংগঠিত ও সহায়তা করতে রোকেয়া ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে দরিদ্র নারীর শিক্ষা, কর্মদক্ষতা ও কল্যাণে কাজ করা হয়। তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, একতরফা তালাক, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং নারীর প্রতি সব ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাঁর লক্ষ্য পুরুষের বিরোধিতা নয়; নারী ও পুরুষের সমঅধিকার ও সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

চিন্তাদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতা

রোকেয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি এগোতে পারে না। শিক্ষা নারীর বিচারবুদ্ধি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। আজ নারীরা শিক্ষা, প্রশাসন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, সাহিত্য ও রাজনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে; এর পেছনে রোকেয়ার সংগ্রাম এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। তবে বাল্যবিবাহ, সহিংসতা, বৈষম্য ও শিক্ষাবঞ্চনা পুরোপুরি দূর হয়নি বলে তাঁর চিন্তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

মৃত্যু ও স্মৃতি

১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর কলকাতায় রোকেয়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন ৯ই ডিসেম্বর বাংলাদেশে ‘রোকেয়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। তাঁর জীবন নারীমুক্তি, শিক্ষা ও মানবমর্যাদার সংগ্রামের উজ্জ্বল প্রতীক।

উপসংহার

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি নারীকে আত্মসচেতনতার পথে আহ্বান জানিয়েছেন। সাহস, যুক্তিবোধ ও মানবিকতার এই উত্তরাধিকার তাঁকে শুধু নারী জাগরণের অগ্রদূত নয়, সমগ্র বাঙালি সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শকে পরিণত করেছে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

৩৯.

যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:

১. বইমেলা/একুশের বইমেলা

২. কম্পিউটার

উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
৪০. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখো:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

যশোর

প্রিয় আবিদ,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে আমরা কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহার দেখতে গিয়েছিলাম। খুব ভোরে যশোর থেকে বাসে রওনা হয়ে সকালে সেখানে পৌঁছাই। লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের সবুজ উঁচু ভূমির মধ্যে অবস্থিত এ প্রত্নস্থল একসময়ের প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ। প্রবেশের পর চারদিকে সারিবদ্ধ ভিক্ষুকক্ষ, মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভিত্তি, ইটের অলংকরণ ও পুরোনো স্থাপনার বিন্যাস দেখে আমরা বিস্মিত হই। একজন পথপ্রদর্শক খননে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ও অন্যান্য নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। পাশের ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত মূর্তি, ধাতব সামগ্রী, মুদ্রা ও টেরাকোটা দেখে সে সময়ের ধর্ম, শিল্প ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাই। পাঠ্যবইয়ে পড়া ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। পরিষ্কার পরিবেশ ও নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করেছে। ফেরার পথে মনে হয়েছে, অতীতের পরিচয় বহনকারী এসব পুরাকীর্তি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সুযোগ পেলে তুমিও স্থানটি দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

আয়ান

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৬

চেয়ারম্যান

নজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ

নজিরপুর, নওগাঁ

বিষয়: এলাকায় একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নওগাঁ জেলার নজিরপুর ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

একটি সুশৃঙ্খল গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়বে। তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের একটি উপযুক্ত কক্ষ বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।

অতএব, নজিরপুরে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

রাকিব

নজিরপুর, নওগাঁ।

৪১. যেকোনো একটি সারাংশ/সারমর্ম লেখো
উত্তর চরিত্রই মানুষের প্রকৃত মূল্য ও শ্রেষ্ঠ গৌরবের ভিত্তি। শুধু অসচ্চরিত্র না হওয়াই যথেষ্ট নয়; সত্যবাদিতা, বিনয়, জ্ঞানানুরাগ, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়বোধ ও স্বাধীনতাপ্রিয়তার সমন্বয়েই মানুষ যথার্থ চরিত্রবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য হয়।
উত্তর শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ওপর মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও শোষণ সহ্য করলেও তারাই প্রকৃত মানুষ ও সম্মানের যোগ্য; তাদের জাগরণেই ঋণমুক্ত নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক দিনের সূচনা হবে।
৪২. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

মানুষের জীবনের সার্থকতা দীর্ঘ আয়ুতে নয়, মানবকল্যাণমূলক ও মহৎ কর্মে। যে ব্যক্তি নিজের কাজের দ্বারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উপকার করেন, তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন।

মানুষ মরণশীল; তাই কেবল বহু বছর বেঁচে থাকলেই জীবন অর্থবহ হয় না। অনেকে দীর্ঘ জীবন লাভ করেও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। বিপরীতে স্বল্পায়ু বহু মানুষ জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্বাধীনতা ও মানবসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়েছেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁর সৃষ্টির জন্য আজও স্মরণীয়। ভাষাশহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য তরুণ তাঁদের কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়েছেন। মানুষের দেহের জীবন সীমিত, কিন্তু একটি সৎ কাজ সমাজে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জাগায় এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত হয়। তাই অলস দীর্ঘায়ুর চেয়ে অল্প সময়ের কর্মময়, সৎ ও কল্যাণকর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অতএব, বয়সের সংখ্যা নয়, কর্মের গুণ ও কল্যাণকর প্রভাবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহৎ কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্মরণীয় ও চিরজীবী হয়ে থাকে।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

৪৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করোঃ
উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

৪৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
৪৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

ছাত্রাবাস

বরিশাল জিলা স্কুল

বরিশাল

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

শ্রদ্ধেয় মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা এবং বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা বলে আমার প্রস্তুতির কথা জানাতে আজ তোমাকে লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এখন প্রতিদিন একটি সময়সূচি মেনে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করছি। যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো শিক্ষকদের কাছে বুঝে নিয়েছি এবং নিয়মিত নমুনা প্রশ্ন ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করছি। সপ্তাহে দুদিন পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষা দিয়ে নির্ধারিত সময়ে উত্তর লেখা, উপস্থাপন ও ভুল সংশোধনের অনুশীলন করছি। গণিতের সূত্র, ব্যাকরণের নিয়ম এবং বিজ্ঞানের সংজ্ঞা ও চিত্রের জন্য আলাদা খাতা তৈরি করেছি। শিক্ষকরা আমার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং মনোযোগ ধরে রাখতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম ও সামান্য ব্যায়ামের দিকেও খেয়াল রাখছি। অযথা বাইরে যাওয়া ও মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার জন্য দোয়া করবে, যেন সুস্থ থেকে মনোযোগসহ পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল অর্জন করতে পারি। পরীক্ষা শেষ হলেই বাড়ি ফিরব।

আজ আর নয়। বাবা ও ছোটদের আমার সালাম ও স্নেহ দিও।

ইতি

তোমার স্নেহের

রতন

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৫

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: আমাদের এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

আমাদের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় কেন্দ্রটির সেবাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; কর্মরতদেরও নিয়মিত পাওয়া যায় না। বিনা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত থাকে না, রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অচল এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রম অনিয়মিত। ভবনের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগীকে দূরের জেলা হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও প্রতিকার পায়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সচল যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

রাফি

বরিশাল সদর, বরিশাল।

৪৬. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর চরিত্রই মানুষের প্রকৃত মূল্য ও শ্রেষ্ঠ গৌরবের ভিত্তি। শুধু অসচ্চরিত্র না হওয়াই যথেষ্ট নয়; সত্যবাদিতা, বিনয়, জ্ঞানানুরাগ, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়বোধ ও স্বাধীনতাপ্রিয়তার সমন্বয়েই মানুষ যথার্থ চরিত্রবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য হয়।
উত্তর তারুণ্য প্রাণশক্তি, সাহস ও নবসৃষ্টির প্রতীক। নবীনদের দুরন্ত উদ্যম ও বাধাহীন কর্মপ্রেরণাই জড়তা, ভীরুতা ও মৃত্যুচেতনাকে আঘাত করে সমাজে নতুন জীবন জাগাতে পারে; তাই সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের মাথা উঁচু করে এগিয়ে যেতে হবে।
৪৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

বই কেনার অর্থ অপচয় নয়; এটি জ্ঞান, রুচি ও মানবিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। বইয়ের মূল্য ব্যয় হলেও তার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও আনন্দ মানুষের জীবনকে যে সম্পদ দেয়, তার তুলনায় সেই অর্থ অতি সামান্য।

বই মানুষের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয়, কুসংস্কার দূর করে এবং পৃথিবীর নানা মানুষ, দেশ, যুগ ও ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করায়। একটি ভালো বই পাঠককে প্রশ্ন করতে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে শেখায়। পাঠ্যবই পেশাগত যোগ্যতা বাড়ায়, সাহিত্য অনুভূতি ও কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে, আর ইতিহাস ও জীবনী মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা দেয়। বস্তুগত জিনিস ব্যবহারে ক্ষয় হয়, কিন্তু বই বহুবার পড়া যায়, অন্যকে ধার দেওয়া যায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম জ্ঞান ছড়ায়। অপ্রয়োজনীয় বিলাস, ক্ষণস্থায়ী বিনোদন বা বদভ্যাসে যে অর্থ নষ্ট হয়, তার একটি অংশ বইয়ে ব্যয় করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই লাভবান হয়। তবে শুধু বই কিনে তাক সাজালেই সুফল আসে না; বয়স, আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত বই নির্বাচন করে মনোযোগ দিয়ে পড়তে এবং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে হয়। সামর্থ্য সীমিত হলে পাঠাগার, পুরোনো বইয়ের দোকান, বই বিনিময় বা যৌথ সংগ্রহের মাধ্যমেও পাঠাভ্যাস গড়া সম্ভব।

অতএব, বই কেনায় সামান্য অর্থ কমলেও মানুষ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানসিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ হয়। সত্যিকার অর্থে বই মানুষকে দেউলিয়া করে না; বরং অজ্ঞতার দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে।

উত্তর

মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। দুর্দিনের অন্ধকারের আড়ালেই সুদিনের আলো অপেক্ষা করে; তাই বিপদে ভয় না পেয়ে ধৈর্য, সাহস ও আশাবাদ নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।

মেঘ সাময়িকভাবে সূর্য বা চাঁদকে ঢেকে দিলেও তাদের আলো নিভিয়ে দিতে পারে না। বাতাসে মেঘ সরে গেলে আকাশ আবার উজ্জ্বল হয়। মানবজীবনেও রোগ, শোক, অভাব, ব্যর্থতা ও অপমান কখনো কালো মেঘের মতো নেমে আসে। দুর্বলচিত্ত মানুষ তখন মনে করে, এ সংকটের আর শেষ নেই; ফলে সে হতাশ হয়ে কর্মশক্তি হারায়। কিন্তু ইতিহাস ও ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা বলে, চেষ্টা ও সময়ের সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। পরীক্ষায় ব্যর্থ শিক্ষার্থী নতুন পরিকল্পনায় পরিশ্রম করে সফল হতে পারে; বিপর্যস্ত জাতিও ঐক্য ও সংগ্রামের মাধ্যমে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। প্রতিকূলতা মানুষের ধৈর্য, সাহস ও সুপ্ত শক্তিকে পরীক্ষা করে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেয়। তাই দুঃসময়ে আতঙ্কিত না হয়ে বাস্তবতা বুঝে পরিকল্পিতভাবে সংকট মোকাবিলা করা উচিত। অন্ধ আশায় বসে থাকা নয়, আশাবাদকে কর্মের শক্তিতে রূপ দেওয়াই সাফল্যের পথ।

অতএব, রাতের পরে যেমন ভোর আসে, দুঃখের পরেও তেমনি সুখের সম্ভাবনা জাগে। ধৈর্য ও কর্মে অটল মানুষই দুর্দিন পেরিয়ে জীবনের আলো ফিরে পায়।

৪৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

৪৯. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
উত্তর প্রত্যেক মানুষের জীবনে জন্মদিন একটি বিশেষ দিন। প্রতিবছর দিনটি ফিরে এলে মানুষ অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের আনন্দ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে নতুন করে অনুভব করে। জন্মদিনের সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনেরা ঘর সাজিয়ে ছোট-বড় আয়োজন করেন। অতিথিরা একে একে এসে শুভেচ্ছা জানান এবং স্মারক হিসেবে বই, ফুল বা অন্য উপহার তুলে দেন। নির্ধারিত সময়ে জন্মদিনের গান ও করতালির মধ্যে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটা হয়। পরে সবাই গল্প, গান, আবৃত্তি ও আনন্দে সময় কাটায় এবং খাবার ভাগ করে নেয়। তবে জন্মদিনের আনন্দ আয়োজনের ব্যয় বা উপহারের মূল্যের ওপর নির্ভর করে না; আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আপনজনের উপস্থিতিই এর প্রধান সম্পদ। সব পরিবারের পক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়, তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে সামর্থ্য অনুযায়ী দিনটি পালন করা উচিত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গাছ লাগানো বা বই উপহার দেওয়ার মতো কল্যাণকর কাজ জন্মদিনকে আরও অর্থবহ করতে পারে। এই সন্ধ্যা কেবল আনন্দের নয়, আত্মসমালোচনারও সময়। জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল—আমি কী শিখলাম, কী ভুল করলাম এবং আগামী বছরে কীভাবে আরও ভালো মানুষ হব—এসব ভাবার সুযোগ আসে। তাই জন্মদিনের সন্ধ্যা আনন্দ, কৃতজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ ও নতুন সংকল্পের এক সুন্দর মিলনমুহূর্ত।
৫০. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। দুঃসময়ের অন্ধকারের আড়ালেই সুসময়ের আলো অপেক্ষা করে; তাই বিপদ দেখে ভয় না পেয়ে আশা, সাহস ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয়।

মেঘে ঢেকে গেলে সূর্য বা চাঁদকে সাময়িকভাবে দেখা যায় না, কিন্তু মেঘ তাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে পারে না। কিছুক্ষণ পর মেঘ সরে গেলে আলো আবার পৃথিবীকে উজ্জ্বল করে। মানুষের জীবনেও ব্যর্থতা, রোগ, দারিদ্র্য, শোক ও নানা সংকট কালো মেঘের মতো আসে। তখন দুর্বলচিত্ত মানুষ মনে করে, এই দুঃখ আর শেষ হবে না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে প্রতিকূল অবস্থাও বদলে যায়। যে ব্যক্তি হতাশ না হয়ে সমস্যার কারণ বোঝে, যথাযথ চেষ্টা চালায় এবং প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য গ্রহণ করে, সে ধীরে ধীরে সংকট অতিক্রম করতে পারে। ইতিহাসে বহু মানুষ পরাজয়, কারাবরণ বা অভাবের মধ্যেও আশা হারাননি; অধ্যবসায়ের ফলে তাঁরাই সাফল্য অর্জন করেছেন। তাই বিপদের সময় অবিবেচক সিদ্ধান্ত না নিয়ে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও নৈতিকতা বজায় রাখা দরকার। সুখের সময়েও অহংকারী না হয়ে মনে রাখতে হবে যে জীবনের অবস্থা পরিবর্তনশীল।

অতএব, দুঃসময়কে স্থায়ী ভেবে ভেঙে পড়া উচিত নয়। ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বাধা মোকাবিলা করলে অন্ধকার কেটে যায় এবং জীবনে পুনরায় আশা, সাফল্য ও আনন্দের আলো ফিরে আসে।

১৯৫টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টি দেখানো হচ্ছে