রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
নাবিলা, রংপুর প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো
রংপুর, ৩০শে জানুয়ারি ২০২৩: উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে গতকাল ঠাকুরগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সফলতা কামনা করেন। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের একজন নতুন পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুভূতি জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের হাতে স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশিত হয়। আনন্দ ও বিচ্ছেদের মিশ্র অনুভূতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
দিনাজপুরে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালিত
নয়ন, দিনাজপুর প্রতিনিধি, দৈনিক ভোরের আলো
দিনাজপুর, ২২শে জুলাই ২০২৩: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনসাধারণকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে গত ১৫ থেকে ২১শে জুলাই দিনাজপুরে বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালিত হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রথম দিন জেলা প্রশাসক শহরের একটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলদ চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী আলোচনা সভায় বক্তারা কার্বন শোষণ, অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটিক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ঝড়-বন্যার ক্ষতি কমাতে বৃক্ষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শুধু চারা লাগানো নয়, গাছ বেঁচে থাকা পর্যন্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করাই কর্মসূচির সাফল্যের মাপকাঠি। সপ্তাহজুড়ে শহরের সড়কদ্বীপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নদীতীর ও খালি সরকারি জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, অর্জুন, বকুলসহ দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষবিষয়ক রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা সঠিক স্থানে উপযুক্ত প্রজাতি নির্বাচন, গর্ত প্রস্তুত, পানি দেওয়া ও বেড়া নির্মাণের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে রোপিত চারার তালিকা ও পরিচর্যার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সমাপনী দিনে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা প্রতিবছর অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার অঙ্গীকার করেন।
আয়োজকেরা জানান, সপ্তাহে কয়েক হাজার চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে এ কর্মসূচি জেলার সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশসচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ভূমিকা
উৎসব মানুষের দৈনন্দিন শ্রম ও একঘেয়েমির মধ্যে আনন্দ, মিলন ও নবজাগরণের বার্তা আনে। নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর ও বহু ধর্ম-সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশে জাতীয়, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঋতুভিত্তিক নানা উৎসব পালিত হয়। এসব উৎসব বাঙালির ইতিহাস, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণবন্ত পরিচয় বহন করে।
উৎসবের বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের উৎসবগুলোকে প্রধানত জাতীয়, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও লোকজ উৎসবে ভাগ করা যায়। কোনো উৎসব শোক ও শ্রদ্ধার, কোনোটি বিজয় ও আনন্দের, আবার কোনোটি ফসল, ঋতু বা পারিবারিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ভিন্ন উৎসে জন্ম নিলেও অধিকাংশ উৎসব মানুষকে একত্র করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ায়।
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদদের স্মরণ ও সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন। ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা লাভ করেছে।
স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস
ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ষোলোই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের দুটি প্রধান জাতীয় উৎসব। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এসব দিন নাগরিককে স্বাধীনতার মূল্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
বাংলা নববর্ষ
পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ বৈশাখী শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজনে অংশ নেয়। ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন এবং গ্রামাঞ্চলে নানা খেলাধুলা ও মেলার আয়োজন হয়। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে অংশগ্রহণের কারণে নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙালি পরিচয়ের শক্তিশালী প্রতীক।
ধর্মীয় উৎসব
মুসলমানদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। নামাজ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমাই ও খাবার ভাগ করা, ফিতরা ও কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা ও জন্মাষ্টমী; বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধপূর্ণিমা; খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বড়দিন ও ইস্টার পালন করে। প্রতিবেশীরা পরস্পরের উৎসবে শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দৃঢ় হয়।
কৃষি ও লোকজ উৎসব
অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। নতুন চালের পিঠা, পায়েস, গান ও মেলায় কৃষকের শ্রমের সাফল্য উদযাপিত হয়। পৌষমেলা, পিঠা উৎসব, নৌকাবাইচ, বলীখেলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ মেলা লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু, সাংগ্রাইসহ বর্ষবিদায় ও নববর্ষের উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব
বিবাহ, জন্মদিন, অন্নপ্রাশন, আকিকা এবং নানা পারিবারিক অনুষ্ঠান আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। বিদ্যালয়ের নবীনবরণ, বিদায়-সংবর্ধনা, বইমেলা ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও মানুষের সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ায়।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাদ্য, হস্তশিল্প, পরিবহন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারিগর, কৃষক, শিল্পী ও উদ্যোক্তারা আয়ের সুযোগ পান। লোকগান, নৃত্য, কারুশিল্প ও আঞ্চলিক খাবারের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়। উৎসব তাই আনন্দের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি।
সমস্যা ও করণীয়
অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা, অপচয়, উচ্চ শব্দ, যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিরাপত্তাহীনতা উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে পারে। কখনো গুজব বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তাই আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আড়ম্বরের প্রতিযোগিতা না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া উচিত।
উপসংহার
বাংলাদেশের উৎসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাসের স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষিজীবন ও লোকঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব উৎসব মানুষকে কাছাকাছি আনে। সম্প্রীতি, সংযম, নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালন করলেই তা সত্যিকার অর্থে জাতীয় জীবনকে আনন্দময় ও মানবিক করে তুলবে।
ভূমিকা
ঠিক সময়ে ঠিক কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা। সময় মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সীমিত সম্পদ; হারানো অর্থ বা সম্পদ ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত কখনো ফিরে আসে না। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সাফল্য, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি সময়ানুবর্তিতা।
সময়ের বৈশিষ্ট্য
সময় নদীর স্রোতের মতো নিরন্তর প্রবাহমান। পৃথিবীর কোনো শক্তি তার গতি থামাতে পারে না। নদীর পানি জোয়ারে ফিরে এলেও চলে যাওয়া সময় আর ফেরে না। যথাসময়ে না করা কাজ পরে বহু চেষ্টা করেও একই ফল দেয় না; তাই বলা হয়, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।’
মানবজীবনে সময়ের মূল্য
মানবজীবন সীমিত, অথচ কর্তব্যের পরিধি বিস্তৃত। শিক্ষা, জীবিকা, পরিবার, সমাজসেবা ও আত্মউন্নয়নের সব কাজ এই অল্প সময়ের মধ্যেই করতে হয়। যে ব্যক্তি কাজ ফেলে না রেখে যথাসময়ে সম্পন্ন করেন, তিনি উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পারেন। সময়ের অপচয় আসলে জীবনেরই অপচয়।
সময়নিষ্ঠ ব্যক্তির গুণ
সময়নিষ্ঠ মানুষ পরিকল্পিত, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য হন। তিনি প্রতিশ্রুত সময়ে উপস্থিত হন, কাজের অগ্রাধিকার বোঝেন এবং সময়সীমা মেনে দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে অন্যের আস্থা অর্জন করেন এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়কদের সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠ পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা
ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতিকাল। এ সময়ে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সুষম সময়সূচি তৈরি করা উচিত। প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেষ করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, কাজ জমা দেওয়া এবং ঘুমের নিয়ম মানলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে। শৈশবে গড়া এই অভ্যাস কর্মজীবনেও সফলতা আনে।
জাতীয় জীবনে সময়ের গুরুত্ব
একটি দেশের মানুষ যত সময়নিষ্ঠ, সে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবহন ও উন্নয়নকাজ তত দক্ষ হয়। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হলে ব্যয় বাড়ে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অফিসে বিলম্ব, সভা দেরিতে শুরু করা বা সেবা পেতে অযথা অপেক্ষাকে স্বাভাবিক মনে করলে জাতীয় কর্মঘণ্টার বিপুল অপচয় ঘটে। তাই সময়ানুবর্তিতা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, উন্নত জাতির পরিচয়।
সময় ব্যবস্থাপনার উপায়
সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য প্রথমে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর কাজগুলো গুরুত্ব ও জরুরিতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে প্রতিটির সময়সীমা ঠিক করা দরকার। বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা, নির্দিষ্ট সময়ে একটিমাত্র কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনা কার্যকর অভ্যাস। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিলম্বের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্যও পরিকল্পিত সময় রাখা উচিত, কারণ ক্লান্ত মন দীর্ঘদিন উৎপাদনশীল থাকতে পারে না।
কৃষি ও প্রকৃতিতে সময়ের শিক্ষা
প্রকৃতি সময়ের নিয়মে পরিচালিত। যথাসময়ে বীজ বপন, সেচ ও ফসল সংগ্রহ না করলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। ঋতুচক্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। মানুষের কাজও উপযুক্ত সময়ে সম্পন্ন হলেই সর্বোত্তম ফল দেয়।
বাধা ও প্রতিকার
আলস্য, লক্ষ্যহীনতা, অবাস্তব পরিকল্পনা, কাজ জমিয়ে রাখা এবং মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় সময়ানুবর্তিতার প্রধান বাধা। ছোট সময়সীমা নির্ধারণ, স্মারক ব্যবহার, কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে শুরু করার অভ্যাস এসব বাধা দূর করতে পারে। কোনো কাজে বিলম্ব হলে অজুহাত না দিয়ে কারণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা সংশোধন করা উচিত।
উপসংহার
জীবন ছোট, কিন্তু সৎ ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ অসীম। সময়কে সম্মান করে নিয়মিত পরিশ্রম করলে প্রতিভার বিকাশ, লক্ষ্য অর্জন এবং সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হয়। শৈশব থেকেই সময়ানুবর্তিতা চর্চা করে প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলাই সফল জীবনের পথ।
ভূমিকা
কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।
প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা
দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।
উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা
উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।
মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।
কৃষিযান্ত্রিকীকরণ
পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।
রোগবালাই ও পোকা দমন
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ
উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ
বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
করণীয়
কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উপসংহার
বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।
রাজশাহী ছাত্রাবাস
১৫ই জুন ২০২৩
স্নেহের মা,
আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা ও বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও সুস্থ আছি এবং নিয়মিত পড়াশোনা করছি। আজ তোমাকে আমার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে লিখছি।
শৈশব থেকেই অসুস্থ মানুষের কষ্ট আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসক, ওষুধ ও পরীক্ষার অভাবে কত দুর্ভোগ সহ্য করেন, তা দেখে আমি চিকিৎসক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার লক্ষ্য শুধু একটি পেশা গ্রহণ বা অর্থ উপার্জন নয়; সততা, সহমর্মিতা ও দক্ষতার সঙ্গে মানুষের সেবা করা। ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের কোনো সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে কাজ করতে চাই। দরিদ্র রোগীদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিনা মূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাও আমার স্বপ্ন।
আমি জানি, এ লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ নয়। বিজ্ঞান বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে হবে, নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে এবং ভর্তি পরীক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই প্রতিদিনের সময়সূচি মেনে পড়াশোনা করছি, দুর্বল বিষয়গুলো শিক্ষকের সাহায্যে ঠিক করছি এবং স্বাস্থ্যও ভালো রাখার চেষ্টা করছি। একজন চিকিৎসকের শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; ধৈর্য, নৈতিকতা, মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুণও দরকার। এখন থেকেই এসব গুণ অর্জনের চেষ্টা করব।
তোমাদের ত্যাগ ও আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার জন্য দোয়া কোরো, যেন অধ্যবসায় ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি এবং তোমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি। বাবাকে সালাম ও ছোটদের স্নেহ দেবে।
ইতি
তোমার স্নেহের
জীত
১৫ই জুন ২০২৩
প্রধান শিক্ষক
রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
রংপুর
বিষয়: বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, বিজ্ঞানাগার ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী কোনো পূর্ণাঙ্গ পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, জীবনী, অভিধান ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ সীমিত। শিক্ষার্থীরা তথ্য অনুসন্ধান, বিতর্ক ও রচনা প্রস্তুতি এবং অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অসুবিধায় পড়ে।
একটি সুপরিকল্পিত পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে পাঠাভ্যাস, ভাষাদক্ষতা, সাধারণ জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যালয়ের একটি উপযুক্ত কক্ষকে পাঠাগার হিসেবে নির্ধারণ করে বইয়ের তাক, টেবিল-চেয়ার, আলো-বাতাস ও ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শ্রেণি ও বয়স অনুযায়ী মানসম্মত বই, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী সংগ্রহ এবং একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে পাঠাগার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীরাও বই সংগ্রহ অভিযান ও স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নিতে আগ্রহী।
অতএব, বিদ্যালয়ে যথাশীঘ্র একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় অনুমতি কামনা করছি।
বিনীত
শিমুল
শ্রেণি: দশম
শাখা: ক
রোল: ১০
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষে
বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।
অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।
খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।
সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ময়মনসিংহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
পলাশ, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক, দৈনিক সমকাল
ময়মনসিংহ, ৩০শে জানুয়ারি ২০২৩: উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে গতকাল ঠাকুরগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সফলতা কামনা করেন। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের একজন নতুন পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুভূতি জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের হাতে স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশিত হয়। আনন্দ ও বিচ্ছেদের মিশ্র অনুভূতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
বৃক্ষরোপণ এখন জীবন ও পরিবেশ রক্ষার জরুরি দাবি
সোহান, প্রতিবেদক, প্রথম আলো
ময়মনসিংহ, ১৫ই জুন ২০২৩: জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বর্ষায় চারা লাগালেই হবে না; স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী গাছ নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, ছায়া ও শীতলতা সৃষ্টি করে এবং ধুলা ও শব্দদূষণ কমাতে সাহায্য করে। গাছের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে ক্ষয়, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমায়। উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত প্রশমিত করে। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ মানুষের খাদ্য, কাঠ, ওষুধ ও আয়ের উৎস; একই সঙ্গে পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাস রক্ষা করে। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও স্থাপনা নির্মাণ এবং অবৈধ বননিধনে বহু এলাকার সবুজ আচ্ছাদন কমছে। এতে শহরের তাপমাত্রা বাড়ছে, বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও মাটিক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিবেশকর্মীদের মতে, সরকারি বনায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়, বাড়ির আঙিনা, সড়কের পাশ, বাঁধ, চর ও পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগাতে হবে। বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতির বদলে দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। প্রতিটি চারার জন্য পরিচর্যাকারী নির্ধারণ, পানি ও বেড়ার ব্যবস্থা এবং কতটি গাছ বেঁচে আছে তার নিয়মিত হিসাব রাখতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটার আগে বিকল্প নকশা যাচাই এবং অনিবার্য হলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘একজন মানুষ, অন্তত একটি গাছ’ নীতিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বৃক্ষরোপণ এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; চারা বড় হওয়া পর্যন্ত যত্ন নেওয়াই পরিবেশ রক্ষার প্রকৃত বিনিয়োগ।
ভূমিকা
উৎসব মানুষের দৈনন্দিন শ্রম ও একঘেয়েমির মধ্যে আনন্দ, মিলন ও নবজাগরণের বার্তা আনে। নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর ও বহু ধর্ম-সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশে জাতীয়, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঋতুভিত্তিক নানা উৎসব পালিত হয়। এসব উৎসব বাঙালির ইতিহাস, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণবন্ত পরিচয় বহন করে।
উৎসবের বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের উৎসবগুলোকে প্রধানত জাতীয়, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও লোকজ উৎসবে ভাগ করা যায়। কোনো উৎসব শোক ও শ্রদ্ধার, কোনোটি বিজয় ও আনন্দের, আবার কোনোটি ফসল, ঋতু বা পারিবারিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ভিন্ন উৎসে জন্ম নিলেও অধিকাংশ উৎসব মানুষকে একত্র করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ায়।
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদদের স্মরণ ও সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন। ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা লাভ করেছে।
স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস
ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ষোলোই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের দুটি প্রধান জাতীয় উৎসব। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এসব দিন নাগরিককে স্বাধীনতার মূল্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।
বাংলা নববর্ষ
পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ বৈশাখী শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজনে অংশ নেয়। ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন এবং গ্রামাঞ্চলে নানা খেলাধুলা ও মেলার আয়োজন হয়। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে অংশগ্রহণের কারণে নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙালি পরিচয়ের শক্তিশালী প্রতীক।
ধর্মীয় উৎসব
মুসলমানদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। নামাজ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমাই ও খাবার ভাগ করা, ফিতরা ও কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা ও জন্মাষ্টমী; বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধপূর্ণিমা; খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বড়দিন ও ইস্টার পালন করে। প্রতিবেশীরা পরস্পরের উৎসবে শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দৃঢ় হয়।
কৃষি ও লোকজ উৎসব
অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। নতুন চালের পিঠা, পায়েস, গান ও মেলায় কৃষকের শ্রমের সাফল্য উদযাপিত হয়। পৌষমেলা, পিঠা উৎসব, নৌকাবাইচ, বলীখেলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ মেলা লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু, সাংগ্রাইসহ বর্ষবিদায় ও নববর্ষের উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।
সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব
বিবাহ, জন্মদিন, অন্নপ্রাশন, আকিকা এবং নানা পারিবারিক অনুষ্ঠান আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। বিদ্যালয়ের নবীনবরণ, বিদায়-সংবর্ধনা, বইমেলা ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও মানুষের সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ায়।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাদ্য, হস্তশিল্প, পরিবহন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারিগর, কৃষক, শিল্পী ও উদ্যোক্তারা আয়ের সুযোগ পান। লোকগান, নৃত্য, কারুশিল্প ও আঞ্চলিক খাবারের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়। উৎসব তাই আনন্দের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি।
সমস্যা ও করণীয়
অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা, অপচয়, উচ্চ শব্দ, যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিরাপত্তাহীনতা উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে পারে। কখনো গুজব বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তাই আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আড়ম্বরের প্রতিযোগিতা না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া উচিত।
উপসংহার
বাংলাদেশের উৎসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাসের স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষিজীবন ও লোকঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব উৎসব মানুষকে কাছাকাছি আনে। সম্প্রীতি, সংযম, নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালন করলেই তা সত্যিকার অর্থে জাতীয় জীবনকে আনন্দময় ও মানবিক করে তুলবে।
ভূমিকা
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।
মাদক ও মাদকাসক্তি
যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তির কারণ
কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।
শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।
প্রতিরোধের উপায়
সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা
প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
ভূমিকা
কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।
প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা
দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।
উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা
উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।
মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।
কৃষিযান্ত্রিকীকরণ
পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।
রোগবালাই ও পোকা দমন
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ
উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ
বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
করণীয়
কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উপসংহার
বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।
১৫ই জুন ২০২৩
কুমিল্লা
প্রিয় সোহাগ,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে আমরা কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহার দেখতে গিয়েছিলাম। খুব ভোরে কুমিল্লা থেকে বাসে রওনা হয়ে সকালে সেখানে পৌঁছাই। লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের সবুজ উঁচু ভূমির মধ্যে অবস্থিত এ প্রত্নস্থল একসময়ের প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ। প্রবেশের পর চারদিকে সারিবদ্ধ ভিক্ষুকক্ষ, মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভিত্তি, ইটের অলংকরণ ও পুরোনো স্থাপনার বিন্যাস দেখে আমরা বিস্মিত হই। একজন পথপ্রদর্শক খননে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ও অন্যান্য নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। পাশের ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত মূর্তি, ধাতব সামগ্রী, মুদ্রা ও টেরাকোটা দেখে সে সময়ের ধর্ম, শিল্প ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাই। পাঠ্যবইয়ে পড়া ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। পরিষ্কার পরিবেশ ও নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করেছে। ফেরার পথে মনে হয়েছে, অতীতের পরিচয় বহনকারী এসব পুরাকীর্তি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।
সুযোগ পেলে তুমিও স্থানটি দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
ফরহাদ
১৫ই জুন ২০২৩
বিক্রয় কর্মকর্তা
ঢাকা প্রকাশনী
বাংলাবাজার, ঢাকা–১১০০
বিষয়: ডাকযোগে পুস্তক পাঠানোর আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আপনাদের প্রকাশিত নিচের বইগুলো আমার পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন। বইগুলো স্থানীয় বাজারে না পাওয়ায় প্রতিটির একটি করে কপি ভিপি বা ক্যাশ অন ডেলিভারি হিসেবে ডাকযোগে নিচে দেওয়া ঠিকানায় পাঠানোর অনুরোধ করছি। বইয়ের মূল্য, ডাকমাশুল ও প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ বই গ্রহণের সময় পরিশোধ করব। কোনো বই মজুত না থাকলে তার পরিবর্তে অন্য বই না পাঠিয়ে আমাকে আগে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। বইগুলো যাতে অক্ষত থাকে, সে জন্য নিরাপদ মোড়কে পাঠানোর অনুরোধ রইল।
বইয়ের তালিকা:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি — ১ কপি
২. বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা — ১ কপি
৩. নির্বাচিত বাংলা প্রবন্ধ — ১ কপি
অতএব, উপর্যুক্ত বইগুলো যথাশীঘ্র ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করে বাধিত করবেন।
বিনীত
রাতুল
জিন্দাবাজার, সিলেট।
মুঠোফোন: ০১XXXXXXXXX
বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।
অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।
মানুষের জীবনে সুখ ও দুঃখ কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। দুঃসময়ের অন্ধকারের আড়ালেই সুসময়ের আলো অপেক্ষা করে; তাই বিপদ দেখে ভয় না পেয়ে আশা, সাহস ও ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হয়।
মেঘে ঢেকে গেলে সূর্য বা চাঁদকে সাময়িকভাবে দেখা যায় না, কিন্তু মেঘ তাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে পারে না। কিছুক্ষণ পর মেঘ সরে গেলে আলো আবার পৃথিবীকে উজ্জ্বল করে। মানুষের জীবনেও ব্যর্থতা, রোগ, দারিদ্র্য, শোক ও নানা সংকট কালো মেঘের মতো আসে। তখন দুর্বলচিত্ত মানুষ মনে করে, এই দুঃখ আর শেষ হবে না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে প্রতিকূল অবস্থাও বদলে যায়। যে ব্যক্তি হতাশ না হয়ে সমস্যার কারণ বোঝে, যথাযথ চেষ্টা চালায় এবং প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য গ্রহণ করে, সে ধীরে ধীরে সংকট অতিক্রম করতে পারে। ইতিহাসে বহু মানুষ পরাজয়, কারাবরণ বা অভাবের মধ্যেও আশা হারাননি; অধ্যবসায়ের ফলে তাঁরাই সাফল্য অর্জন করেছেন। তাই বিপদের সময় অবিবেচক সিদ্ধান্ত না নিয়ে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও নৈতিকতা বজায় রাখা দরকার। সুখের সময়েও অহংকারী না হয়ে মনে রাখতে হবে যে জীবনের অবস্থা পরিবর্তনশীল।
অতএব, দুঃসময়কে স্থায়ী ভেবে ভেঙে পড়া উচিত নয়। ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বাধা মোকাবিলা করলে অন্ধকার কেটে যায় এবং জীবনে পুনরায় আশা, সাফল্য ও আনন্দের আলো ফিরে আসে।
ভূমিকা
ঠিক সময়ে ঠিক কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা। সময় মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সীমিত সম্পদ; হারানো অর্থ বা সম্পদ ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত কখনো ফিরে আসে না। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সাফল্য, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি সময়ানুবর্তিতা।
সময়ের বৈশিষ্ট্য
সময় নদীর স্রোতের মতো নিরন্তর প্রবাহমান। পৃথিবীর কোনো শক্তি তার গতি থামাতে পারে না। নদীর পানি জোয়ারে ফিরে এলেও চলে যাওয়া সময় আর ফেরে না। যথাসময়ে না করা কাজ পরে বহু চেষ্টা করেও একই ফল দেয় না; তাই বলা হয়, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।’
মানবজীবনে সময়ের মূল্য
মানবজীবন সীমিত, অথচ কর্তব্যের পরিধি বিস্তৃত। শিক্ষা, জীবিকা, পরিবার, সমাজসেবা ও আত্মউন্নয়নের সব কাজ এই অল্প সময়ের মধ্যেই করতে হয়। যে ব্যক্তি কাজ ফেলে না রেখে যথাসময়ে সম্পন্ন করেন, তিনি উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পারেন। সময়ের অপচয় আসলে জীবনেরই অপচয়।
সময়নিষ্ঠ ব্যক্তির গুণ
সময়নিষ্ঠ মানুষ পরিকল্পিত, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য হন। তিনি প্রতিশ্রুত সময়ে উপস্থিত হন, কাজের অগ্রাধিকার বোঝেন এবং সময়সীমা মেনে দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে অন্যের আস্থা অর্জন করেন এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়কদের সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠ পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা
ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতিকাল। এ সময়ে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সুষম সময়সূচি তৈরি করা উচিত। প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেষ করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, কাজ জমা দেওয়া এবং ঘুমের নিয়ম মানলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে। শৈশবে গড়া এই অভ্যাস কর্মজীবনেও সফলতা আনে।
জাতীয় জীবনে সময়ের গুরুত্ব
একটি দেশের মানুষ যত সময়নিষ্ঠ, সে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবহন ও উন্নয়নকাজ তত দক্ষ হয়। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হলে ব্যয় বাড়ে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অফিসে বিলম্ব, সভা দেরিতে শুরু করা বা সেবা পেতে অযথা অপেক্ষাকে স্বাভাবিক মনে করলে জাতীয় কর্মঘণ্টার বিপুল অপচয় ঘটে। তাই সময়ানুবর্তিতা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, উন্নত জাতির পরিচয়।
সময় ব্যবস্থাপনার উপায়
সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য প্রথমে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর কাজগুলো গুরুত্ব ও জরুরিতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে প্রতিটির সময়সীমা ঠিক করা দরকার। বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা, নির্দিষ্ট সময়ে একটিমাত্র কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনা কার্যকর অভ্যাস। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিলম্বের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্যও পরিকল্পিত সময় রাখা উচিত, কারণ ক্লান্ত মন দীর্ঘদিন উৎপাদনশীল থাকতে পারে না।
কৃষি ও প্রকৃতিতে সময়ের শিক্ষা
প্রকৃতি সময়ের নিয়মে পরিচালিত। যথাসময়ে বীজ বপন, সেচ ও ফসল সংগ্রহ না করলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। ঋতুচক্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। মানুষের কাজও উপযুক্ত সময়ে সম্পন্ন হলেই সর্বোত্তম ফল দেয়।
বাধা ও প্রতিকার
আলস্য, লক্ষ্যহীনতা, অবাস্তব পরিকল্পনা, কাজ জমিয়ে রাখা এবং মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় সময়ানুবর্তিতার প্রধান বাধা। ছোট সময়সীমা নির্ধারণ, স্মারক ব্যবহার, কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে শুরু করার অভ্যাস এসব বাধা দূর করতে পারে। কোনো কাজে বিলম্ব হলে অজুহাত না দিয়ে কারণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা সংশোধন করা উচিত।
উপসংহার
জীবন ছোট, কিন্তু সৎ ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ অসীম। সময়কে সম্মান করে নিয়মিত পরিশ্রম করলে প্রতিভার বিকাশ, লক্ষ্য অর্জন এবং সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হয়। শৈশব থেকেই সময়ানুবর্তিতা চর্চা করে প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলাই সফল জীবনের পথ।
ভূমিকা
কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।
প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা
দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।
উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা
উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।
মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।
কৃষিযান্ত্রিকীকরণ
পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।
রোগবালাই ও পোকা দমন
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ
উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ
বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
করণীয়
কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উপসংহার
বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।
ভূমিকা
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।
মাদক ও মাদকাসক্তি
যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।
মাদকাসক্তির কারণ
কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।
শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি
দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
পরিবার ও সমাজে প্রভাব
আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।
প্রতিরোধের উপায়
সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।
চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা
প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
১৫ই জুন ২০২৩
চেয়ারম্যান
লাকসাম উপজেলা পরিষদ
লাকসাম, কুমিল্লা
বিষয়: এলাকায় একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। একটি সুশৃঙ্খল পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বাড়বে এবং তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।
অতএব, আমাদের এলাকায় উপযুক্ত স্থানে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।
বিনীত
মাহিন
লাকসাম, কুমিল্লা।
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৩
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা
বিষয়: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় কেন্দ্রটির সেবাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; যাঁরা কর্মরত আছেন, তাঁদেরও অনেক সময় নিয়মিত পাওয়া যায় না। ওষুধের মজুত সীমিত, রোগনির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রমও অনিয়মিত। ভবনের দেয়াল ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগীকে দূরের জেলা হাসপাতালে পাঠাতে হয়; সময় ও পরিবহনের অভাবে অনেকের চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালেও দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।
বিনীত
মাহিন
লাকসাম, কুমিল্লা।
বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।
অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।
অন্যায়কারী এবং অন্যায়ের নীরব সহ্যকারী উভয়েই সমাজের ক্ষতি করে। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সাহস ও বিবেকের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও মানুষের কর্তব্য।
আইন সরাসরি অন্যায়কারীকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দেয়। কিন্তু অন্যায় শুধু একজনের শক্তিতে স্থায়ী হয় না; সহযোগী, উৎসাহদাতা এবং নীরব দর্শকের নিষ্ক্রিয়তাও তাকে সাহস জোগায়। কোনো দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার হতে দেখে সবাই যদি ভয়ে বা স্বার্থে চুপ থাকে, অপরাধী মনে করে তার কাজে বাধা নেই। এভাবে অন্যায় সহ্য করতে করতে তা সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয় এবং একদিন নীরব ব্যক্তিও তার শিকার হতে পারে। প্রতিবাদ মানে অবশ্যই হঠকারী সংঘর্ষ নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ সহায়তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো, সাক্ষ্য দেওয়া এবং আইনসম্মত সম্মিলিত প্রতিরোধই দায়িত্বশীল পথ। নিজের নিরাপত্তা বিবেচনা করে অন্যের সাহায্য নেওয়াও বিচক্ষণতা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস শেখাতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভয় মানুষের বিবেককে নীরব না করে।
অতএব, অন্যায় করা যেমন নিন্দনীয়, সুবিধা বা ভয়ের কারণে তা মেনে নেওয়াও তেমনি বিবেকের অপরাধ। সচেতন, সাহসী ও আইননিষ্ঠ প্রতিবাদই অন্যায়ের বিস্তার রোধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারে।
ভূমিকা
ঠিক সময়ে ঠিক কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা। সময় মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সীমিত সম্পদ; হারানো অর্থ বা সম্পদ ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত কখনো ফিরে আসে না। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সাফল্য, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি সময়ানুবর্তিতা।
সময়ের বৈশিষ্ট্য
সময় নদীর স্রোতের মতো নিরন্তর প্রবাহমান। পৃথিবীর কোনো শক্তি তার গতি থামাতে পারে না। নদীর পানি জোয়ারে ফিরে এলেও চলে যাওয়া সময় আর ফেরে না। যথাসময়ে না করা কাজ পরে বহু চেষ্টা করেও একই ফল দেয় না; তাই বলা হয়, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।’
মানবজীবনে সময়ের মূল্য
মানবজীবন সীমিত, অথচ কর্তব্যের পরিধি বিস্তৃত। শিক্ষা, জীবিকা, পরিবার, সমাজসেবা ও আত্মউন্নয়নের সব কাজ এই অল্প সময়ের মধ্যেই করতে হয়। যে ব্যক্তি কাজ ফেলে না রেখে যথাসময়ে সম্পন্ন করেন, তিনি উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পারেন। সময়ের অপচয় আসলে জীবনেরই অপচয়।
সময়নিষ্ঠ ব্যক্তির গুণ
সময়নিষ্ঠ মানুষ পরিকল্পিত, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য হন। তিনি প্রতিশ্রুত সময়ে উপস্থিত হন, কাজের অগ্রাধিকার বোঝেন এবং সময়সীমা মেনে দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে অন্যের আস্থা অর্জন করেন এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়কদের সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠ পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা
ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতিকাল। এ সময়ে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সুষম সময়সূচি তৈরি করা উচিত। প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেষ করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, কাজ জমা দেওয়া এবং ঘুমের নিয়ম মানলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে। শৈশবে গড়া এই অভ্যাস কর্মজীবনেও সফলতা আনে।
জাতীয় জীবনে সময়ের গুরুত্ব
একটি দেশের মানুষ যত সময়নিষ্ঠ, সে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবহন ও উন্নয়নকাজ তত দক্ষ হয়। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হলে ব্যয় বাড়ে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অফিসে বিলম্ব, সভা দেরিতে শুরু করা বা সেবা পেতে অযথা অপেক্ষাকে স্বাভাবিক মনে করলে জাতীয় কর্মঘণ্টার বিপুল অপচয় ঘটে। তাই সময়ানুবর্তিতা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, উন্নত জাতির পরিচয়।
সময় ব্যবস্থাপনার উপায়
সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য প্রথমে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর কাজগুলো গুরুত্ব ও জরুরিতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে প্রতিটির সময়সীমা ঠিক করা দরকার। বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা, নির্দিষ্ট সময়ে একটিমাত্র কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনা কার্যকর অভ্যাস। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিলম্বের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্যও পরিকল্পিত সময় রাখা উচিত, কারণ ক্লান্ত মন দীর্ঘদিন উৎপাদনশীল থাকতে পারে না।
কৃষি ও প্রকৃতিতে সময়ের শিক্ষা
প্রকৃতি সময়ের নিয়মে পরিচালিত। যথাসময়ে বীজ বপন, সেচ ও ফসল সংগ্রহ না করলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। ঋতুচক্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। মানুষের কাজও উপযুক্ত সময়ে সম্পন্ন হলেই সর্বোত্তম ফল দেয়।
বাধা ও প্রতিকার
আলস্য, লক্ষ্যহীনতা, অবাস্তব পরিকল্পনা, কাজ জমিয়ে রাখা এবং মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় সময়ানুবর্তিতার প্রধান বাধা। ছোট সময়সীমা নির্ধারণ, স্মারক ব্যবহার, কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে শুরু করার অভ্যাস এসব বাধা দূর করতে পারে। কোনো কাজে বিলম্ব হলে অজুহাত না দিয়ে কারণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা সংশোধন করা উচিত।
উপসংহার
জীবন ছোট, কিন্তু সৎ ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ অসীম। সময়কে সম্মান করে নিয়মিত পরিশ্রম করলে প্রতিভার বিকাশ, লক্ষ্য অর্জন এবং সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হয়। শৈশব থেকেই সময়ানুবর্তিতা চর্চা করে প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলাই সফল জীবনের পথ।
ভূমিকা
কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।
প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা
দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।
উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা
উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।
মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা
মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।
কৃষিযান্ত্রিকীকরণ
পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।
রোগবালাই ও পোকা দমন
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ
উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ
বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
করণীয়
কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
উপসংহার
বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।
ভূমিকা
প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
দুর্যোগপ্রবণতার কারণ
বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বন্যা ও নদীভাঙন
বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।
অন্যান্য দুর্যোগ
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতি
প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
প্রস্তুতি ও প্রতিকার
বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।
উপসংহার
প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
রত্না উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশাল।
বিষয়: প্রশংসাপত্র প্রাপ্তির আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার পিতার কর্মস্থল বরিশাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ায় আমাদের পরিবার শিগগিরই ঢাকায় চলে যাবে। সেখানে একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আমার বিদ্যালয়-প্রদত্ত প্রশংসাপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছি। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নিয়মিত ক্লাস করেছি, পরীক্ষাগুলোতে সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলেছি। আমার কাছে বিদ্যালয়ের কোনো বেতন বা অন্যান্য পাওনা বাকি নেই।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তির সুবিধার্থে চরিত্র ও শিক্ষাজীবনের বিবরণসংবলিত একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
আবির
দশম শ্রেণি, শাখা: ক, রোল: ০৫
রত্না উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশাল।
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা।
বিষয়: ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালন ও সামাজিক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিম্নোক্ত পত্রটি পাঠাচ্ছি।
বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন, ফল, ফুল, কাঠ, ঔষধ ও ছায়া দেয়; মাটি ক্ষয় রোধ করে, বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। অথচ নির্বিচার বৃক্ষনিধন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশ ক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই আনুষ্ঠানিকতা নয়, পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালন জরুরি। এ সময় বিদ্যালয়, সড়কের ধারে, বাঁধ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনায় স্থানোপযোগী ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করা উচিত। শুধু চারা লাগালেই হবে না; পরিচর্যা দল গঠন, বেড়া দেওয়া এবং গাছের বেঁচে থাকার হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার, বন বিভাগ ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিতভাবে যুক্ত করলে কর্মসূচি স্থায়ী ফল দেবে। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনীত
একজন সচেতন নাগরিক
বরিশাল।
বরিশালে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল, ১৭ই ডিসেম্বর ২০২২: গভীর শ্রদ্ধা, আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে গতকাল বরিশালে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, রচনা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নগরের প্রধান সড়ক ও স্থাপনাগুলো লাল-সবুজ পতাকা ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত ছিল।
আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। সুশৃঙ্খল আয়োজনটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচেতনা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
মাদকাসক্তি যুবসমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২২: দেশের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। কৌতূহল, অসৎ সঙ্গ, পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব, হতাশা এবং সহজে মাদক পাওয়ার কারণে অনেকে প্রথমে মাদক গ্রহণ করে; পরে তা সর্বনাশা আসক্তিতে পরিণত হয়। সম্ভাবনাময় যুবসমাজের এই অবক্ষয় পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মাদক সেবনে বিবেক-বুদ্ধি ও বিচারক্ষমতা লোপ পায়, নিদ্রাহীনতা, অপুষ্টি, বিষণ্নতা এবং স্নায়ু, যকৃত ও হৃদ্যন্ত্রের নানা রোগ দেখা দেয়। পড়াশোনা ও কর্মে অনীহা বাড়ে এবং পরিবারে কলহ সৃষ্টি হয়। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে আসক্ত ব্যক্তি চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা ও সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবে একজনের আসক্তি পুরো পরিবার ও সমাজে অশান্তি ছড়ায় এবং দেশের কর্মক্ষম তরুণশক্তি ধ্বংস করে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত ও বিক্রয়স্থলে কঠোর নজরদারি, চোরাচালান ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা ও কাউন্সেলিং, খেলাধুলা-সংস্কৃতির সুযোগ এবং যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি। আসক্ত ব্যক্তিকে ঘৃণা না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিবার, বিদ্যালয়, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধেই যুবসমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম
১৫ই জুন ২০২২
প্রিয় হিমালয়,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত চিঠিতে তুমি বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলে। আজ সে কথাই লিখছি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে বাংলাদেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। কক্সবাজারে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও বিচিত্র বন্য প্রাণী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পাহাড়, ঝরনা ও হ্রদ মনোমুগ্ধকর। সিলেটের চা-বাগান, জাফলং ও রাতারগুল, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং সেন্ট মার্টিনের প্রবালদ্বীপও অপরূপ। ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে বগুড়ার মহাস্থানগড়, নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, কুমিল্লার ময়নামতি ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুযোগ পেলে আমরা ছুটিতে এসব স্থানের কয়েকটি একসঙ্গে ঘুরে দেখতে পারি। ভ্রমণ আমাদের জ্ঞান বাড়ায় এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা গভীর করে।
আজ আর নয়। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে। তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি
তোমার বন্ধু
তমাল
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
বিষয়: বিদ্যালয়ে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালনের অনুমতি প্রার্থনা।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন, ফল, ফুল, কাঠ ও ছায়া দেয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। অথচ নির্বিচার বৃক্ষনিধন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে পরিবেশ ক্রমে বিপন্ন হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ-সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সবুজ করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ১লা থেকে ৭ই জুলাই বিদ্যালয়ে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালন করতে চাই। এ সময় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ, পরিচর্যা দল গঠন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার আয়োজন করা যেতে পারে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, বিদ্যালয়ে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালনের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
সাথী
দশম শ্রেণি, রোল: ০৭
শিক্ষার্থীদের পক্ষে
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
বিদ্যালয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২২: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় ভোরে প্রভাতফেরির মাধ্যমে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে গিয়ে ভাষাশহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় একুশের অমর গান। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, মাতৃভাষার মর্যাদা এবং সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে বই ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক সমাপনী বক্তব্যে ভাষাশহিদদের আদর্শ ধারণ করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে শিক্ষার্থীদের কাজ করার আহ্বান জানান। সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাপ্রেম ও দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলে।
মাদকাসক্তির ভয়াবহতায় বিপন্ন এলাকার তরুণ সমাজ
রূপক, নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম, ১৫ই জুন ২০২২: চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সন্ধ্যার পর কয়েকটি নির্জন স্থান ও পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের আড্ডা বসে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। কৌতূহল, অসৎ সঙ্গ, পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব ও হতাশা থেকে অনেকে প্রথমে মাদক গ্রহণ করে এবং পরে আসক্ত হয়ে পড়ে।
মাদকাসক্তির ফলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, লেখাপড়ায় অনীহা বাড়ছে এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, মাদকের কারণে তাঁর সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে স্নায়ুতন্ত্র, যকৃত ও হৃদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; বিষণ্নতা, সহিংসতা এমনকি অকালমৃত্যুও ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী মাদক বিক্রির স্থান শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান, নিয়মিত নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি পরিবারে সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং আসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এই সর্বনাশা ব্যাধি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।
বাংলার অপার সৌন্দর্য, মমতা ও মহিমায় মুগ্ধ কবি গভীর শ্রদ্ধায় মাতৃভূমিকে বারবার প্রণাম করেছেন। তাঁর কাছে বঙ্গভূমি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, স্নেহময়ী জননী।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ প্রকৃতির অপরূপ দানে সমৃদ্ধ। এ দেশের সবুজ মাঠ, নদ-নদী, ছায়াঘেরা গ্রাম, নীল আকাশ, ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য এবং পাখির কলকাকলি মানুষের হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে দেয়। এই মাটির আলো-বাতাস, ফল-ফসল ও জলেই বাঙালির জীবন লালিত। মায়ের মতো দেশ তার সন্তানদের আশ্রয় দেয়, জীবিকা দেয় এবং ভাষা-সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয় দান করে। তাই দেশের প্রতি মানুষের টান মাতৃস্নেহের বন্ধনের মতোই গভীর ও চিরন্তন। যুগে যুগে এ দেশের মানুষ মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষায় সংগ্রাম করেছে, জীবন দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির আত্মত্যাগ সেই অটুট দেশপ্রেমের উজ্জ্বল প্রমাণ। মাতৃভূমির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়াই যথেষ্ট নয়; এর স্বাধীনতা, সম্পদ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।
অতএব, জননী জন্মভূমির প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধই পঙ্ক্তিটির মূল শিক্ষা। দেশকে সত্যিকার ভালোবাসলে তার কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
অতিরিক্ত প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাই লোভ। লোভ মানুষের বিবেক ও বিচারবোধ নষ্ট করে তাকে অন্যায় ও পাপের পথে পরিচালিত করে; সেই পাপই শেষ পর্যন্ত তার ধ্বংস ডেকে আনে।
মানুষের প্রয়োজন সীমিত, কিন্তু লোভের কোনো সীমা নেই। লোভী ব্যক্তি নিজের অর্জনে সন্তুষ্ট হতে পারে না। অধিক ধন, ক্ষমতা বা ভোগের আশায় সে মিথ্যা, প্রতারণা, ঘুষ, চুরি, বিশ্বাসঘাতকতা এমনকি হত্যার মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যায়ভাবে অর্জিত সাফল্য সাময়িক আনন্দ দিলেও তা স্থায়ী হয় না। একসময় অপরাধ প্রকাশ পায়, সমাজে সম্মান নষ্ট হয় এবং আইন ও বিবেকের শাস্তি ভোগ করতে হয়। অনেক সময় লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ নিজের জীবনও বিপন্ন করে। সোনার ডিম পাওয়ার আশায় হাঁসকে মেরে ফেলা লোভী মালিকের গল্প কিংবা অতিরিক্ত মাংসের আশায় পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে মুখের মাংস হারানো কুকুরের গল্প একই সত্য শেখায়। অপরদিকে সংযমী ও সৎ মানুষ অল্পে তুষ্ট থাকে, অন্যের অধিকার রক্ষা করে এবং শান্তি ও মর্যাদার জীবন লাভ করে।
সুতরাং, লোভ থেকে পাপ এবং পাপ থেকে অবধারিত পতন জন্ম নেয়। আত্মসংযম, সততা ও ন্যায়বোধের চর্চাই মানুষকে লোভের সর্বনাশা পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
কুমিল্লা
১৫ই জুন ২০২২
প্রিয় সজীব,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত চিঠিতে তুমি আমার ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য জানতে চেয়েছিলে। আজ সে কথাই লিখছি।
মানুষের জীবনকে অর্থবহ করতে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা দরকার। আমার লক্ষ্য একজন আদর্শ চিকিৎসক হওয়া। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। অর্থের অভাবে অসহায় রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারে না। তাদের কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চাই। চিকিৎসক হয়ে সততা, সহমর্মিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা করব। দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ারও ইচ্ছা আছে। জানি, এ লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ নয়। তাই এখন থেকেই নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করছি। তোমার দোয়া ও শুভকামনা আমার প্রেরণা হবে।
আজ আর নয়। তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আমাকে জানিয়ো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
প্রান্ত
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
‘ক’ উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।
বিষয়: বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমাদের বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে জ্ঞানচর্চার উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গল্প, উপন্যাস, জীবনী, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলে, ভাষার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং অবসরকে অর্থবহ করে। বিদ্যালয়ে একটি কক্ষকে পাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বই, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী সংগ্রহ করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরাও বই সংগ্রহ ও পাঠাগার পরিচালনায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক মেধা ও মনন বিকাশের স্বার্থে আমাদের বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
রাহাত
দশম শ্রেণি, রোল: ০৫
শিক্ষার্থীদের পক্ষে
‘ক’ উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।
যোগাযোগের দুর্ভোগ দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে সেতু নির্মাণের দাবি
ইশমাম, নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা, ১৫ই জুন ২০২২: কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার শ্যামপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর কোনো সেতু না থাকায় হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো ও ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করে। বর্ষাকালে স্রোত বেড়ে গেলে এ পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে এবং অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে মারাত্মক সমস্যা হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, সেতু না থাকায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় কৃষিপণ্য নষ্ট হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
খালটির ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। জনস্বার্থে দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ
ইলিয়াস খান, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক যুগান্তর
ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২২: রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি, সবজি, মাছ ও মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরিবার খাদ্যতালিকা ছোট করতে এবং প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
আজ সকালে কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও মিরপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, একই পণ্য দোকানভেদে ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহের ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতার অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। ব্যবসায়ীরা অবশ্য পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কেনা এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি, মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। ভোক্তারা প্রতিটি পণ্যের মূল্যতালিকা দৃশ্যমান রাখা ও রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন। বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মানুষের প্রকৃত সম্পদ তার বিলাসের সামর্থ্য নয়, বরং অন্যের কল্যাণ করার ক্ষমতা। যে ধন মানুষের ও সমাজের মঙ্গল সাধনে ব্যবহৃত হয়, সেটিই সার্থক ধন।
ধনসম্পদ জীবনের প্রয়োজন মেটায় এবং কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু কেবল নিজের আরাম-আয়েশ, জাঁকজমক ও ভোগের পেছনে সম্পদ ব্যয় করলে তা ব্যক্তির অহংকার বাড়ালেও সমাজের কোনো স্থায়ী উপকার করে না। বরং অতিরিক্ত বিলাস মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক, অপব্যয়ী ও কর্তব্যবিমুখ করে তোলে। অন্যদিকে যার সামর্থ্যে ক্ষুধার্তের আহার, অসুস্থের চিকিৎসা, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনা কিংবা কর্মহীনের কর্মসংস্থান হয়, তার সম্পদ মানবকল্যাণের শক্তিতে পরিণত হয়। সমাজে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, পাঠাগার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে বহু বিত্তবান ব্যক্তি মৃত্যুর পরও মানুষের শ্রদ্ধায় বেঁচে আছেন। তাঁদের মহত্ত্ব সম্পদের পরিমাণে নয়, সম্পদের সৎ ও কল্যাণকর ব্যবহারে। অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখলে বা বিলাসে উড়িয়ে দিলে তা ক্ষণস্থায়ী সুখ দেয়; কিন্তু মানুষের উপকারে ব্যয় করলে সেই অর্থ সমাজে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ সৃষ্টি করে।
অতএব, ধনের মর্যাদা ভোগের প্রাচুর্যে নয়, জনমঙ্গল সাধনের ক্ষমতায়। মানুষের দুঃখ লাঘব ও সমাজের উন্নয়নে যে সম্পদ কাজে লাগে, সেই সম্পদই প্রকৃত ধন।
মানুষ ভোগ থেকে সাময়িক আনন্দ পেলেও ত্যাগের মধ্যেই লাভ করে স্থায়ী ও প্রকৃত সুখ। নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের কল্যাণে কিছু করতে পারার আনন্দই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ।
ভোগ মানুষের চাহিদা পূরণ করে, কিন্তু চাহিদার কোনো শেষ নেই। একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলে নতুন আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়। ফলে অতিরিক্ত ভোগ মানুষকে লোভী, আত্মকেন্দ্রিক ও অশান্ত করে তোলে। বিপরীতে ত্যাগ মানুষকে স্বার্থের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে এবং হৃদয়কে উদার করে। মা সন্তানের জন্য নিজের আরাম ত্যাগ করেন, দেশপ্রেমিক দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, সমাজসেবী অসহায় মানুষের কল্যাণে শ্রম ও সম্পদ ব্যয় করেন। তাঁদের এ ত্যাগ কষ্টের হলেও এর মধ্যে আছে গভীর আত্মতৃপ্তি ও মহত্ত্ব। পৃথিবীর মহৎ মানুষরা ভোগবিলাসের জন্য স্মরণীয় হননি; মানবতার জন্য ত্যাগের কারণেই তাঁরা মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। ত্যাগ পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে; ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কেই উন্নত করে।
সুতরাং, ভোগের আনন্দ ক্ষণস্থায়ী এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক, কিন্তু ত্যাগের আনন্দ চিরস্থায়ী ও সর্বজনীন। সত্যিকারের সুখ পেতে হলে মানুষকে ভোগের মোহ ছেড়ে সেবা, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের আদর্শ গ্রহণ করতে হবে।
ঢাকা
১৫ই জুন ২০২২
প্রিয় শাওন,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। আজ তোমাকে মোবাইল ফোনের সুফল ও কুফল সম্পর্কে লিখছি।
মোবাইল ফোন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এর সাহায্যে যেকোনো স্থান থেকে মুহূর্তেই দূরের মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদান করা যায়। স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস করা, ই-মেইল পাঠানো, প্রয়োজনীয় তথ্য খোঁজা, সংবাদ জানা, ছবি ও নথি পাঠানো এবং জরুরি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব। দুর্যোগে যোগাযোগ, অপরাধী শনাক্তকরণ, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক কাজেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর অপব্যবহার মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে। অতিরিক্ত গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়, সময় নষ্ট করে এবং চোখ, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। গুজব, প্রতারণা, সাইবার হয়রানি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকিও রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার না করা, অপরিচিত লিংক এড়ানো এবং পড়াশোনার সময় ফোন দূরে রাখা উচিত।
মোবাইল ফোনকে নিয়ন্ত্রিত ও কল্যাণকরভাবে ব্যবহার করলেই এর সুফল পাওয়া যাবে। তোমার মতামত জানিয়ো।
ইতি
তোমার বন্ধু
চয়ন
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
ঢাকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।
বিষয়: বিদ্যালয়ে বিতর্ক ক্লাব গঠনের অনুমতি প্রার্থনা।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণক্ষমতা, শুদ্ধ উচ্চারণ, সাবলীল বক্তব্য ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত বিতর্ক অনুশীলনের জন্য কোনো সংগঠিত ক্লাব নেই। ফলে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আন্তবিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন শিক্ষককে উপদেষ্টা করে ‘বিদ্যালয় বিতর্ক ক্লাব’ গঠন করা হলে সাপ্তাহিক অনুশীলন, বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা, উপস্থিত বক্তৃতা এবং নিয়মিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাবের নিয়মকানুন প্রণয়ন, সদস্য সংগ্রহ ও অনুষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্বশীলভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের স্বার্থে বিদ্যালয়ে একটি বিতর্ক ক্লাব গঠনের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
জাহিন
দশম শ্রেণি, রোল: ০৮
শিক্ষার্থীদের পক্ষে
ঢাকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।
এলাকায় গণপাঠাগারের শুভ উদ্বোধন
মমতাজ, নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২২: রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে গতকাল ‘আলোকিত সমাজ গণপাঠাগার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত একটি কক্ষ সংস্কার করে এলাকাবাসীর উদ্যোগ ও স্বেচ্ছা অনুদানে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পাঠাগারের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন।
পাঠাগারে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জীবনী, শিশুতোষ ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক প্রায় তিন হাজার বই সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকী পড়ার ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক পাঠকক্ষ রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বই মানুষকে জ্ঞানী, মানবিক ও যুক্তিবাদী করে; তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতেও পাঠাগার কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের মধ্যে সদস্যপত্র বিতরণ এবং বই দান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এলাকাবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পাঠাগারটির সংগ্রহ বৃদ্ধি ও নিয়মিত পরিচালনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত
মানিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৭শে মার্চ ২০২২: মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল ঢাকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শিক্ষক ও অতিথিরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, স্বাধীনতার ঘোষণা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের স্কাউট দল মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত নাটক পরিবেশন করে। পরে বিজয়ীদের হাতে বই ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক সমাপনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচেতনা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
সন্তানের জীবনে পুণ্য-পাপ, দুঃখ-সুখ এবং উত্থান-পতন আসবেই। কবির প্রার্থনা—জীবনের সব অবস্থার মধ্য দিয়ে সে যেন মনুষ্যত্ব অর্জন করে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে।
মানুষ হিসেবে জন্ম নিলেই কেউ সত্যিকার মানুষ হয় না। মানবিক গুণ, নৈতিকতা ও বিবেকের বিকাশের মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্ব অর্জিত হয়। জীবন কখনো সুখ ও সাফল্যে উজ্জ্বল, আবার কখনো দুঃখ, ব্যর্থতা ও পতনে বিপর্যস্ত। সুখ ও সাফল্যে মানুষ অহংকারী হতে পারে; দুঃখ ও ব্যর্থতায় সে হতাশ হয়ে অন্যায় পথে যেতে পারে। পুণ্যকর্ম তাকে মর্যাদা দেয়, আর ভুল ও পাপ তাকে অনুশোচনার শিক্ষা দেয়। এসব বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার মধ্যেও যে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, সহমর্মিতা ও আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখে, সেই প্রকৃত মানুষ। আদর্শ অভিভাবক তাই সন্তানের জন্য কেবল ধন, খ্যাতি বা নিরবচ্ছিন্ন সাফল্য চান না; তিনি চান সন্তান প্রতিকূলতায় সাহসী, সমৃদ্ধিতে বিনয়ী, ভুলে অনুতপ্ত এবং মানুষের দুঃখে সহানুভূতিশীল হোক। শিক্ষা ও চরিত্রের সমন্বয়ে সে যেন নিজের ও সমাজের কল্যাণ সাধন করে।
অতএব, জীবনের সব দ্বন্দ্ব ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটানোই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সার্থকতা।
কর্মের দ্বারাই মানুষ পৃথিবীতে সম্মান ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কার জন্ম কোথায় বা কোন পরিবারে হয়েছে, তা তার নিয়ন্ত্রণে নয়; কিন্তু সৎ ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়া তার সাধ্যের মধ্যে।
জন্মসূত্রে পাওয়া বংশমর্যাদা স্থায়ী গৌরব নিশ্চিত করে না। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও কেউ অসৎ কর্মে নিজের ও পরিবারের সুনাম নষ্ট করতে পারে। আবার দরিদ্র বা সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষ জ্ঞান, সাধনা, সততা ও মানবসেবার দ্বারা পৃথিবীতে অমর হতে পারেন। কাজী নজরুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সাহিত্যকর্ম ও সাম্যের বাণীর জন্য মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয়। মানুষের মৃত্যুর পর তার ধনসম্পদ ও বংশপরিচয় নয়, ভালো-মন্দ কাজই স্মৃতিতে থেকে যায়। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, দেশসেবা কিংবা মানবকল্যাণ—যেকোনো ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে মানুষ নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারে। তাই অন্যের গৌরব নিয়ে অহংকার না করে প্রত্যেকের উচিত নিজ কর্মে যোগ্যতা ও মহত্ত্বের পরিচয় দেওয়া।
সুতরাং, জন্ম নয়, কর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও মূল্য নির্ধারণ করে। উত্তম কর্মের মাধ্যমে সাধারণ জন্মকেও গৌরবময় করা যায়।
দিনাজপুর
১৫ই জুন ২০২২
প্রিয় রাকিব,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমার ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য কী, তা জানতে চেয়েছিলে। আজ সে কথাই লিখছি।
আমার লক্ষ্য একজন দক্ষ ও নীতিবান প্রকৌশলী হওয়া। দেশের উন্নয়নে নিরাপদ সেতু, সড়ক, ভবন, পানি সরবরাহ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিকল্পিত যোগাযোগব্যবস্থা ও টেকসই স্থাপনার অভাবে মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক সুযোগ ব্যাহত হয়। তাই উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে গণিত ও বিজ্ঞানে শক্ত ভিত্তি গড়তে চাই। এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরকৌশল অধ্যয়ন করে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশসম্মত নির্মাণকৌশলে দক্ষতা অর্জন করব। কর্মজীবনে সততা বজায় রেখে নির্মাণের মান ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। দরিদ্র ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করার বিশেষ ইচ্ছা আছে। জানি, লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘ অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রম দরকার। তাই এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করছি।
তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানিয়ো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
মাহবুব
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা।
বিষয়: বিদ্যালয়ের দরিদ্র তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যের আবেদন।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আমার পিতা একজন দিনমজুর এবং তিনিই আমাদের ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। গত কয়েক মাস ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি আমার শিক্ষাব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে পাঠ্যসহায়ক বই, খাতা ও পরীক্ষার ফি সংগ্রহ করতে না পারায় আমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমি গত বার্ষিক পরীক্ষায় শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে নিয়মিত পড়াশোনা করি। আর্থিক সহায়তা পেলে আমি নির্বিঘ্নে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারব।
অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের দরিদ্র তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য প্রদান করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক
মাসুম
দশম শ্রেণি, শাখা: ক, রোল: ০৪
কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা।
পরিশ্রমই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রধান উপায়। সৌভাগ্য কোনো আকস্মিক দান নয়; নিরলস শ্রম, অধ্যবসায় ও সঠিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তা সৃষ্টি হয়।
মানুষের জীবনে সাফল্যের পথ কখনোই সম্পূর্ণ বাধাহীন নয়। প্রতিভা, সুযোগ বা অনুকূল পরিবেশ থাকলেও পরিশ্রম ছাড়া এগুলোর যথার্থ বিকাশ ঘটে না। কৃষক শ্রম দিয়ে জমিতে ফসল ফলান, শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়নে জ্ঞান অর্জন করে, বিজ্ঞানী দীর্ঘ গবেষণায় নতুন আবিষ্কার করেন এবং শিল্পী অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা লাভ করেন। ইতিহাসের সফল মানুষরা ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে বারবার চেষ্টা করেছেন বলেই লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন। অলস ব্যক্তি কেবল ভাগ্যের অপেক্ষায় থাকে; ফলে তার সম্ভাবনা নষ্ট হয় এবং দারিদ্র্য ও ব্যর্থতা তাকে গ্রাস করে। অন্যদিকে পরিশ্রমী মানুষ সময়ের সদ্ব্যবহার করে, ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং ধীরে ধীরে প্রতিকূলতাকে জয় করে। অবশ্য শ্রমকে সার্থক করতে সৎ উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তাও প্রয়োজন। অসৎ বা লক্ষ্যহীন পরিশ্রম প্রকৃত কল্যাণ আনে না।
অতএব, নিজের কর্মশক্তির ওপর বিশ্বাস রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেই সৌভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারিগর তার নিজের পরিশ্রম।
ধনসম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে প্রয়োজনের সময় তা কাজে লাগে না। একইভাবে জ্ঞান যদি শুধু বইয়ের পাতায় আবদ্ধ থাকে বা মুখস্থ কথায় সীমাবদ্ধ হয়, তবে বাস্তব জীবনে সেই বিদ্যার কোনো কার্যকারিতা থাকে না।
বই মানুষের বহু যুগের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভান্ডার। নিয়মিত বই পড়ে মানুষ সত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও জীবনের নানা বিষয় জানতে পারে। কিন্তু কেবল বই সংগ্রহ করা, না বুঝে মুখস্থ করা বা পরীক্ষার খাতায় লিখে আসাই প্রকৃত শিক্ষা নয়। অর্জিত জ্ঞানকে উপলব্ধি করে সমস্যা সমাধান, সৎ সিদ্ধান্ত, জীবিকা, মানবসেবা ও সমাজের উন্নয়নে প্রয়োগ করতে পারলেই বিদ্যা সার্থক হয়। যে ব্যক্তি সাঁতারের নিয়ম বইয়ে পড়েছে কিন্তু পানিতে তা প্রয়োগ করতে পারে না, বিপদের সময় তার সেই জ্ঞান কোনো উপকারে আসে না। তেমনি অন্যের হাতে রাখা অর্থ নিজের জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। প্রয়োগহীন বিদ্যা ও পরের নিয়ন্ত্রণে থাকা ধন তাই সমানভাবে নিষ্ফল। শিক্ষা মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং তাকে বাস্তবজীবনে যোগ্য করে তুলবে—এটাই শিক্ষার উদ্দেশ্য।
সুতরাং, বইকে শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপকরণ ভাবলে চলবে না। বই থেকে অর্জিত জ্ঞান জীবনে কাজে লাগাতে পারলেই তা প্রকৃত বিদ্যায় পরিণত হয়।
মানবদেহকে সোজা ও সচল রাখে মেরুদণ্ড; তেমনি শিক্ষা একটি জাতিকে সচেতন, দক্ষ ও অগ্রসর করে তার অস্তিত্ব ও উন্নতির ভিত্তি দৃঢ় করে। তাই শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়।
শিক্ষা মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, বিচারবুদ্ধি জাগায় এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখায়। শিক্ষিত নাগরিক নিজের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং আইন, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। শিক্ষা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে; ফলে কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় এবং অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। অশিক্ষা মানুষকে কুসংস্কার, দারিদ্র্য, রোগ ও শোষণের বন্ধনে আবদ্ধ রাখে। অন্যদিকে প্রকৃত শিক্ষা কেবল সনদ বা জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; তা মানুষের নৈতিকতা, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধেরও বিকাশ ঘটায়। যে দেশে মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার ঘটে, সে দেশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতায় দ্রুত এগিয়ে যায়। আর শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হলে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জাতি উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। তাই নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র ও শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবার জন্য বৈষম্যহীন, জীবনমুখী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
অতএব, জাতীয় অগ্রগতি ও মর্যাদার প্রধান ভিত্তি শিক্ষা। শিক্ষার ভিত যত শক্ত হবে, জাতির বর্তমান তত সমৃদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ তত নিরাপদ হবে।
মানুষ একা বাঁচতে পারে না; সমাজে প্রত্যেকে অন্যের শ্রম, জ্ঞান, সেবা ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তাই নিজের কল্যাণের সঙ্গে সকলের কল্যাণ এবং সকলের দায়িত্বের সঙ্গে প্রত্যেকের সেবাবোধ অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতা মানবজীবনকে সচল রাখে। কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, তাঁতি বস্ত্র তৈরি করেন, শ্রমিক ঘর ও সড়ক নির্মাণ করেন, শিক্ষক জ্ঞান দেন এবং চিকিৎসক রোগীর সেবা করেন। প্রত্যেকে নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যের প্রয়োজন পূরণ করেন; আবার নিজের জীবনধারণের জন্য অন্য সবার অবদানের সুবিধা গ্রহণ করেন। সমাজের সুখ-দুঃখও তাই ভাগ করে নিতে হয়। বন্যা, মহামারি বা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষ যখন স্বার্থ ভুলে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তখন মানবতার সত্যিকার মহিমা প্রকাশ পায়। বিপরীতে চরম আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, বৈষম্য ও সংঘাত বাড়ায় এবং সামাজিক বন্ধন দুর্বল করে। পরোপকার মানে নিজের ন্যায্য স্বার্থ সম্পূর্ণ বিসর্জন দেওয়া নয়; বরং ব্যক্তিস্বার্থকে বৃহত্তর কল্যাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্তব্য পালন করা। সামর্থ্য অনুযায়ী সময়, শ্রম, জ্ঞান ও সম্পদ দিয়ে অন্যের উপকার করলে সমাজ যেমন উন্নত হয়, ব্যক্তিও তেমনি ভালোবাসা, সম্মান ও মানসিক তৃপ্তি লাভ করে।
সুতরাং, পারস্পরিক নির্ভরতা ও নিঃস্বার্থ সেবাই মানবসমাজের শক্তি। সকলের জন্য প্রত্যেকে এবং প্রত্যেকের জন্য সকলে কাজ করলেই ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।
বগুড়া
১৫ই জুন ২০২২
প্রিয় তানভীর,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমার ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য জানতে চেয়েছিলে। আজ সে কথাই লিখছি।
আমার লক্ষ্য একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া। একজন যোগ্য শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলেন। আমাদের দেশের অনেক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর অভাব রয়েছে। তাই উচ্চমাধ্যমিক শেষে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শিক্ষকতার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চাই। শিক্ষক হয়ে সহজ ভাষায় পাঠ বোঝাব, দুর্বল ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা করব এবং বই পড়া, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সবাইকে উৎসাহিত করব। শিক্ষার্থীরা যেন মুখস্থনির্ভর না হয়ে প্রশ্ন করতে, চিন্তা করতে এবং ভালো মানুষ হতে শেখে—সেই পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে আমার সাধনা। জানি, এ লক্ষ্য অর্জনে গভীর অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও চরিত্রের দৃঢ়তা দরকার। তাই এখন থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা ও আত্মগঠনে মনোযোগ দিচ্ছি।
তোমার পরিকল্পনাও জানিয়ো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
সোহেল
তারিখ: ১৫ই জুন ২০২২
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক যুগান্তর, ঢাকা।
বিষয়: দেশব্যাপী কার্যকরভাবে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালনের প্রয়োজনীয়তা।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।
বৃক্ষ মানুষের জীবন ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৃক্ষ অক্সিজেন, খাদ্য, ঔষধ, কাঠ ও ছায়া দেয়; কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে। কিন্তু নির্বিচার বৃক্ষনিধন, জনসংখ্যার চাপ ও অপরিকল্পিত উন্নয়নে দেশের বনভূমি ও সবুজ এলাকা কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে তাই ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ পালন অত্যন্ত জরুরি। এ সময় বিদ্যালয়, সড়কের ধারে, উপকূলীয় বাঁধ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনায় পরিবেশোপযোগী ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগাতে হবে। কেবল চারা রোপণ নয়, পরিচর্যা, বেড়া ও বেঁচে থাকার নিয়মিত হিসাব নিশ্চিত করা দরকার। শিক্ষার্থী, বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত অংশগ্রহণেই কর্মসূচি সফল হতে পারে। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।
বিনীত
সৈকত
দশম শ্রেণি, চাঁদপুর জিলা স্কুল
চাঁদপুর।
দেশে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা: কারণ ও প্রতিকারে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
শুভ, কুমিল্লা প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো
কুমিল্লা, ১৫ই জুন ২০২২: দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিনই প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতির খবর আসছে। কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, অপরিকল্পিত ও ভাঙা সড়ক এবং অবৈধ পার্কিং দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পথচারীদের ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা এবং চালক-পথচারী উভয়ের অসচেতনতাও ঝুঁকি বাড়ায়। দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।
প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য ও মাদক পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই, সড়কের ত্রুটি দ্রুত সংস্কার এবং কঠোরভাবে গতিসীমা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতা, নিরাপদ গণপরিবহন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে প্রকৌশলগত সমাধানও জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার জবাবদিহিমূলক সমন্বিত পদক্ষেপই মৃত্যুর এই মিছিল থামাতে পারে।
ময়মনসিংহে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত
আঁখি, নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ, ১৭ই ডিসেম্বর ২০২২: গভীর শ্রদ্ধা, আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে গতকাল ময়মনসিংহে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
স্থানীয় স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, রচনা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গানের প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। বিকেলে প্রীতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নগরের প্রধান সড়ক ও ভবনগুলো জাতীয় পতাকা ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত ছিল।
আলোচনা সভায় বক্তারা ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। সুশৃঙ্খল এই উদ্যাপন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচেতনা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
দুর্নীতি হলো ব্যক্তিগত লাভের জন্য অর্পিত ক্ষমতা, দায়িত্ব বা জনসম্পদের অসৎ ব্যবহার। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নের পথে এক সর্বগ্রাসী বাধা।
ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ, কর ফাঁকি, নিয়োগে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয় হয়, কাজের মান নষ্ট হয় এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জনসেবার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। যোগ্য ব্যক্তি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমে এবং ধনী-দরিদ্র বৈষম্য বাড়ে। আইনের প্রয়োগ দুর্বল হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং জনগণ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা হারায়। আরও ভয়াবহ হলো, দুর্নীতি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে; অসততাকে স্বাভাবিক ও সৎ মানুষকে অসহায় করে তোলে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য স্বচ্ছ প্রশাসন, স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ, ডিজিটাল সেবা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা ও নৈতিকতার চর্চা এবং নাগরিকদের সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অতএব, দুর্নীতি নির্মূল না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সততা ও জবাবদিহিই জাতীয় অগ্রগতির পথ উন্মুক্ত করতে পারে।
আলো ও অন্ধকার পরস্পরবিরোধী হলেও একটির উপস্থিতি অন্যটির পরিচয় স্পষ্ট করে। অন্ধকারের পটভূমিতেই আলোর উজ্জ্বলতা বোঝা যায়; তাই আপাত বিরোধের মধ্যেও তারা পরস্পরনির্ভর।
পৃথিবীর অনেক সত্যই তুলনা ও বৈপরীত্যের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। দুঃখ না থাকলে সুখের মূল্য, মন্দ না থাকলে ভালোর মাহাত্ম্য এবং ব্যর্থতা না থাকলে সাফল্যের আনন্দ সম্পূর্ণ বোঝা যেত না। আলো অন্ধকারকে কালো বলে তার সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে, কিন্তু অন্ধকার বিনয়ের সঙ্গে জানায়—তার কালো অস্তিত্বই আলোকে উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র করেছে। মানবজীবনেও প্রতিকূলতা মানুষের সুপ্ত শক্তি, ধৈর্য ও সাহস প্রকাশের সুযোগ দেয়। দারিদ্র্য, অন্যায় ও অজ্ঞতার অন্ধকারের বিরুদ্ধে যারা জ্ঞান, সত্য ও মানবতার আলো জ্বালায়, তাদের মহত্ত্ব সংকটের কারণেই স্পষ্ট হয়। তাই কাউকে তুচ্ছ না করে তার ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উপলব্ধি করা উচিত। জীবনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে শুধু অভিশাপ মনে না করে শিক্ষা ও আত্মোন্নতির উপায় হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষ আরও পরিণত হয়।
সুতরাং, বৈপরীত্যই জগতের সৌন্দর্য ও সত্যকে দৃশ্যমান করে। অন্ধকার দূর করাই আলোর কাজ, আবার অন্ধকারই আলোর প্রয়োজন ও মহিমা প্রকাশ করে।
যে ব্যক্তি জন্মভূমির কল্যাণে কোনো দায় অনুভব করে না এবং স্বদেশের সুখ-দুঃখে উদাসীন থাকে, সে মানবিক মর্যাদার যোগ্য নয়। স্বদেশপ্রেম ও দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ মানুষের মহৎ পরিচয়ের অপরিহার্য অংশ।
মানুষ জন্মভূমির আলো-বাতাস, মাটি, ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। দেশ তাকে পরিচয়, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জীবন গড়ার সুযোগ দেয়। তাই দেশের প্রতি তার ঋণ রয়েছে। এ ঋণ শুধু আবেগময় কথায় শোধ হয় না; সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন, আইন মান্য করা, কর প্রদান, পরিবেশ রক্ষা, দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং মানুষের সেবা করার মধ্য দিয়ে স্বদেশের উপকার করতে হয়। কৃষক উৎপাদন বাড়িয়ে, শিক্ষক মানুষ গড়ে, চিকিৎসক সেবা দিয়ে, শ্রমিক নির্মাণকাজ করে এবং শিক্ষার্থী জ্ঞান ও চরিত্র অর্জন করে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে স্বদেশকে স্বাধীন করেছেন; দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে বিপন্ন দেশবাসীর পাশে দাঁড়ান। বিপরীতে যে ব্যক্তি দেশের সম্পদ লুটে, কর্তব্য এড়িয়ে চলে বা শুধু নিজের লাভের কথা ভাবে, তার আচরণে বিবেক ও কৃতজ্ঞতার অভাব প্রকাশ পায়। কবিতায় এমন মানুষকে ‘পশু’ বলা হয়েছে তার মানবিক চেতনার অভাব বোঝাতে।
অতএব, প্রকৃত মানুষ নিজের কল্যাণকে স্বদেশের কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে না। প্রত্যেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সৎ ও কল্যাণকর কাজ করলেই দেশ সমৃদ্ধ হয় এবং মানবজীবন সার্থকতা লাভ করে।
মানুষের দেহ নশ্বর, কিন্তু তার মহৎ কর্ম ও সৃষ্টির প্রভাব অমর। যে ব্যক্তি কল্যাণকর কীর্তির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন, শারীরিক মৃত্যুর পরও তিনি স্মৃতি ও আদর্শের মধ্যে জীবিত থাকেন।
পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেককেই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হয়। অনেক মানুষ দীর্ঘ জীবন কাটিয়েও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। আবার কেউ স্বল্পায়ু হয়েও জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, দেশসেবা বা মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হন। তাঁদের রচিত গ্রন্থ, আবিষ্কার, প্রতিষ্ঠান, আদর্শ ও ত্যাগ যুগের পর যুগ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁদের সাহিত্যকর্মে, বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা ও সমাজসংস্কারে এবং ভাষাশহিদেরা মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। সময় তাঁদের দেহকে কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু তাঁদের কীর্তি নতুন প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত প্রেরণা দেয়। বিপরীতে স্বার্থপর ও নিষ্কর্মা মানুষের নাম মৃত্যুর অল্পদিনের মধ্যেই বিস্মৃত হয়ে যায়। তাই জীবনের মূল্য আয়ুর দৈর্ঘ্যে নয়, কর্মের মহত্ত্ব ও কল্যাণকর প্রভাবে নির্ধারিত হয়।
সুতরাং, কীর্তিমান ব্যক্তি মৃত্যুকে অতিক্রম করেন তাঁর কাজের মাধ্যমে। মানুষের কল্যাণে সৎ, সৃজনশীল ও মহৎ কর্ম রেখে যাওয়াই স্মরণীয় জীবন লাভের একমাত্র পথ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস
মাইশা, নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক প্রথম আলো
ঢাকা, ১৫ই জুন ২০২২: চাল, ডাল, তেল, আটা, সবজি, মাছ ও মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খাদ্যতালিকা ছোট করছে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, একই পণ্যের দাম দোকানভেদে ভিন্ন এবং মূল্যতালিকা অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান নয়। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের ঘাটতি না থাকলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে দাম বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়, আমদানি খরচ ও পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের পাশাপাশি দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা, অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী, অসাধু মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটও মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। স্থির আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী ও প্রবীণ নাগরিকেরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য কমে গেলে জনস্বাস্থ্যেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা সহজ করা জরুরি। সরকারি ন্যায্যমূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে হবে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলেই বাজারে স্থিতি ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
দিনাজপুর শহরের সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে নগরবাসী
তামান্না, দিনাজপুর প্রতিনিধি, দৈনিক ইত্তেফাক
দিনাজপুর, ১৫ই জুন ২০২২: দিনাজপুর শহরের প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় নগরবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে সড়ক ও নালার পার্থক্য বোঝা যায় না, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালুতে পথচারী ও দোকানিরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন।
সরেজমিনে বিভিন্ন পাড়া, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কার্পেটিং উঠে পাথর বেরিয়ে এসেছে, কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং অনেক স্থানে সড়কের দুই পাশ দেবে গেছে। অপর্যাপ্ত নালা ও বন্ধ জলনিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। বিভিন্ন সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির পর সড়ক যথাযথভাবে মেরামত না করা এবং ভারী যান চলাচলও ক্ষতি বাড়াচ্ছে। গর্ত এড়াতে যানবাহন হঠাৎ দিক পরিবর্তন করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রিকশা ও ইজিবাইকের যাত্রীরা ঝাঁকুনিতে কষ্ট পাচ্ছেন; শিক্ষার্থী, রোগী ও প্রবীণদের দুর্ভোগ আরও বেশি। ধীরগতির যান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
নগরবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাট করে টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার, কার্যকর নালা নির্মাণ এবং সেবা সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। কাজের মান তদারকি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না হলে সাময়িক মেরামতে জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এটাই শহরবাসীর প্রত্যাশা।
১৫ই জুন ২০২২
সিলেট
প্রিয় রুমন,
আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। সম্প্রতি পড়া একটি বই সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চেয়েছিলে। আজ সে বইটির কথাই লিখছি।
কয়েক দিন আগে জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ পড়ে শেষ করেছি। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে লেখা তাঁর ব্যক্তিগত দিনলিপি। একজন সচেতন মা ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের চোখে অসহযোগ আন্দোলন, ২৫শে মার্চের গণহত্যা, দখলদার বাহিনীর আতঙ্ক, গেরিলা তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ এ বইয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখিকার ছেলে রুমী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলে একটি পরিবারের ভালোবাসা, উদ্বেগ, সাহস ও ত্যাগ বৃহত্তর জাতীয় সংগ্রামের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। দিন-তারিখ অনুসারে ঘটনা বর্ণনার কারণে পাঠক যুদ্ধকালের পরিবর্তিত পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারে। ভাষা সহজ ও সংযত, অথচ প্রতিটি ঘটনার আবেগ গভীর। সবচেয়ে ভালো লেগেছে—লেখিকা ব্যক্তিগত শোককে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; তিনি তা স্বাধীনতাকামী সমগ্র জাতির বেদনা ও গৌরবের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বইটি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে, স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে এবং শহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখিয়েছে। আমার মতে, ইতিহাসচেতনা ও দেশপ্রেম গড়ে তুলতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বইটি পড়া উচিত।
সুযোগ পেলে তুমিও বইটি পড়ো এবং তোমার মতামত জানিয়ো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।
ইতি
তোমার বন্ধু
সুজল
১৫ই জুন ২০২২
প্রধান শিক্ষক
সদরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, দশম শ্রেণি
বিষয়: শিক্ষা সফরে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাঠ্যবইয়ে অর্জিত ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিবিষয়ক জ্ঞানকে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করার জন্য আগামী ২৫শে জুন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শিক্ষা সফরে যেতে আগ্রহী। শ্রেণিশিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক আমাদের তত্ত্বাবধান করতে সদয় সম্মতি দিয়েছেন। যাতায়াত ও খাবারের ব্যয় শিক্ষার্থীরা বহন করবে এবং সফরের সময় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলবে। এ সফর আমাদের জ্ঞান, পর্যবেক্ষণক্ষমতা, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সহযোগিতাবোধ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
অতএব, আমাদের শিক্ষা সফরে যাওয়ার অনুমতি প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন।
বিনীত
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষে
নির্মল
শ্রেণি: দশম
রোল: ৭
মাদককে না বলুন
কাজল, নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট, ১৫ই জুন ২০২২: মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সংকট। কৌতূহল, সঙ্গদোষ, হতাশা, বেকারত্ব, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকের সহজলভ্যতার কারণে অনেক কিশোর-তরুণ এ মরণফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে। সাময়িক উত্তেজনা বা দুঃখ ভুলে থাকার আশায় শুরু হলেও মাদক দ্রুত শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি করে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, যকৃৎ ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়; স্মৃতিশক্তি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতাও কমে যায়। আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মাদকের অর্থ জোগাতে চুরি, ছিনতাই ও সহিংস অপরাধে জড়াতে পারে। এতে পরিবারে অর্থসংকট, অবিশ্বাস ও কলহ সৃষ্টি হয় এবং সমাজের নিরাপত্তা নষ্ট হয়। মাদকাসক্তিকে শুধু অপরাধ হিসেবে দেখলে সমাধান হবে না; আসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, পরামর্শ ও সামাজিক পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিরোধের জন্য সীমান্ত ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম জরুরি। পরিবারকে সন্তানের আচরণ ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখতে পারে। মাদক গ্রহণকে সাহস বা আধুনিকতা নয়, আত্মবিনাশ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রত্যেককে দৃঢ়ভাবে বলতে হবে—মাদককে না বলুন।
সড়কের বেহাল অবস্থা
অহনা, সিলেট প্রতিনিধি
সিলেট, ১৫ই জুন ২০২২: নগরের প্রধান ও সংযোগ সড়কের বহু অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় পথচারী, যাত্রী ও যানচালকেরা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্ষায় গর্তে পানি জমে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ বোঝা যায় না; শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালুতে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়কে কার্পেটিং উঠে ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। কোথাও সড়কের কিনারা দেবে গেছে, কোথাও নালা বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। গর্ত এড়াতে যানবাহন হঠাৎ বাঁক নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। রিকশা ও ছোট যানবাহনের যাত্রীরা তীব্র ঝাঁকুনিতে কষ্ট পাচ্ছেন; রোগী, প্রবীণ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। ধীরগতির যান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় লাগছে। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, দুর্বল জলনিষ্কাশন, ভারী যান চলাচল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে এ অবস্থার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
নগরবাসী জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাট, টেকসই উপকরণে সড়ক সংস্কার, নালা পরিষ্কার এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন। সংস্কারকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার ও নিয়মিত তদারকি না করলে সাময়িক মেরামতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।