ধ্বনি ও উচ্চারণ

১. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলজুড়ে এর বাংলাদেশ অংশ অবস্থিত; বনের বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। অসংখ্য নদী, খাল, চর ও জোয়ার-ভাটার জলধারা এ বনকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সুন্দরী গাছের আধিক্য থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা লবণসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও মাছ এ বনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও মৎস্য আহরণ করে বহু বনজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত শোষণ করে উপকূলীয় জনপদকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো রক্ষা করে। এটি কার্বন ধারণ, মাটির ক্ষয়রোধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পর্যটনের মাধ্যমেও পরিবেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, দূষণ, বননিধন ও অবৈধ শিকারে এ বন হুমকির মুখে। তাই বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা, নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ করা জাতীয় কর্তব্য।
২. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

পাবনা ছাত্রাবাস

১৫ই জানুয়ারি ২০২৫

স্নেহের মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা ও বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও সুস্থ আছি এবং নিয়মিত পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমি প্রায়ই আমার ভাবনা জানতে চাও। তাই জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

আমি একজন সৎ ও দক্ষ চিকিৎসক হতে চাই। ছোটবেলা থেকে অসুস্থ মানুষের কষ্ট আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসক, পরীক্ষা ও ওষুধের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা পান না। অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগও অবহেলা ও অসচেতনতায় জটিল হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ও মানবিক সেবার মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই আমার লক্ষ্য। চিকিৎসাকে শুধু উপার্জনের পেশা নয়, মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে চাই।

এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখন থেকেই বাংলা, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করছি। প্রতিদিনের পড়া নিয়মিত শেষ করা, দুর্বল অধ্যায় অনুশীলন এবং সময়মতো পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করি। এসএসসি ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফলের পর যোগ্যতার ভিত্তিতে চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি হতে চাই। ভবিষ্যতে রোগীর কথা সহানুভূতির সঙ্গে শোনা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন জ্ঞান শেখা এবং পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখব। সামর্থ্য হলে নিজ এলাকায় স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম চালু করার ইচ্ছাও আছে। জানি পথটি দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য, কিন্তু অধ্যবসায়, সততা এবং তোমাদের দোয়ায় লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।

তুমি আমার জন্য দোয়া কোরো, যেন সাফল্যের চেয়ে সেবাকে বড় করে দেখতে পারি। বাবাকে সালাম এবং ছোটদের স্নেহ দেবে।

ইতি

তোমার স্নেহের

জাকির

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৪

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।

বিনীত

সুমন

লালপুর, নাটোর।

৩. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

অন্যকে কোনো নীতি বা আদর্শ অনুসরণের উপদেশ দেওয়ার আগে নিজের জীবনে তা পালন করতে হয়। কথার চেয়ে ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত মানুষকে অনেক বেশি প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করে।

উপদেশ দেওয়া সহজ, কিন্তু তা নিজে পালন করা কঠিন। যে ব্যক্তি সততার কথা বলেন অথচ নিজে অসৎ কাজ করেন, কিংবা ধূমপান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েও নিজে ধূমপান করেন, তাঁর কথা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয় না। বিপরীতে শিক্ষক সময়নিষ্ঠ হলে শিক্ষার্থীরা সময়ের মূল্য শেখে; অভিভাবক সত্যবাদী হলে সন্তানও সত্য বলার প্রেরণা পায়। ইতিহাসের মহৎ নেতা ও সমাজসংস্কারকেরা শুধু মুখে আদর্শ প্রচার করেননি, নিজেদের ত্যাগ ও আচরণের মাধ্যমে সেই আদর্শের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। তাঁদের জীবন তাই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য শিক্ষায় পরিণত হয়েছে। নিজের দুর্বলতা সংশোধন না করে অন্যের ত্রুটি নির্দেশ করলে তা ভণ্ডামি বলে মনে হয় এবং ভালো উপদেশও গুরুত্ব হারায়। তাই যে নীতি শেখাতে চাই, প্রথমে আত্মসংযম ও সাধনার মাধ্যমে সেটি নিজের চরিত্রে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। তখন আচরণ ও কথার সামঞ্জস্য উপদেশকে শক্তিশালী করে এবং অন্যকে আন্তরিকভাবে তা অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে।

সুতরাং, আদর্শ প্রচারের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো আদর্শ জীবনযাপন। নিজে যা পালন করি, কেবল তা-ই অন্যকে শেখালে ব্যক্তি ও সমাজে সত্যিকার নৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

৪. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন উপমহাদেশের আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। পদার্থবিজ্ঞান, বেতার তরঙ্গ ও উদ্ভিদ-শারীরবিদ্যায় মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রাখেন। ঔপনিবেশিক বৈষম্য অতিক্রম করে তাঁর সাফল্য বাঙালির আত্মমর্যাদা ও অনুসন্ধিৎসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জন্ম ও পরিবার

জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর তৎকালীন ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা এবং মাতা বামাসুন্দরী দেবী ছিলেন মানবিক গুণসম্পন্ন নারী। পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের রাড়িখালে। পিতা প্রথমে তাঁকে বাংলা বিদ্যালয়ে পাঠান, যাতে তিনি মাতৃভাষা ও সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

শিক্ষাজীবন

প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে প্রথমে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন শুরু করলেও স্বাস্থ্যগত কারণে তা ছেড়ে দেন। পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেখানে সমকালীন খ্যাতিমান বিজ্ঞানীদের সংস্পর্শ তাঁর গবেষণামনস্কতাকে আরও গভীর করে।

অধ্যাপনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান

দেশে ফিরে ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ভারতীয় হওয়ায় ইউরোপীয় শিক্ষকের তুলনায় তাঁকে কম বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি পূর্ণ মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত বেতন গ্রহণ না করেই অধ্যাপনা চালিয়ে যান। তাঁর দক্ষ পাঠদান ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের ফলে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বৈষম্য সংশোধন করতে বাধ্য হয়। সীমিত যন্ত্রপাতির মধ্যেও তিনি নিজ উদ্যোগে গবেষণাগার গড়ে তোলেন।

বেতার তরঙ্গের গবেষণা

অতি ক্ষুদ্র তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ সৃষ্টি, প্রেরণ ও শনাক্তকরণে জগদীশচন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করেন। ১৮৯৫ সালে কলকাতায় দেয়ালের আড়াল দিয়ে বেতার সংকেত প্রেরণ করে ঘণ্টা বাজানো ও বারুদ জ্বালানোর প্রকাশ্য প্রদর্শন তাঁর গবেষণার তাৎপর্য তুলে ধরে। তিনি সূক্ষ্ম তরঙ্গ শনাক্ত করার জন্য উন্নত যন্ত্র নির্মাণ করেন এবং আধুনিক বেতার যোগাযোগ ও অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তির প্রাথমিক বিকাশে মূল্যবান ভিত্তি স্থাপন করেন। ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে জ্ঞানের মুক্ত বিস্তারকে গুরুত্ব দেওয়ায় তিনি বহু আবিষ্কারের পেটেন্ট নিতে আগ্রহী ছিলেন না।

উদ্ভিদের সাড়া ও ক্রেসকোগ্রাফ

পরে তিনি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতি সাড়া নিয়ে গবেষণা করেন। উদ্ভিদ আলো, তাপ, আঘাত, রাসায়নিক পদার্থ ও বৈদ্যুতিক উদ্দীপনায় পরিমাপযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখায়—পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি তা প্রদর্শন করেন। উদ্ভিদের অতি সূক্ষ্ম বৃদ্ধি বহু গুণ বড় করে লিপিবদ্ধ করার জন্য তিনি ‘ক্রেসকোগ্রাফ’ যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। তাঁর কাজ উদ্ভিদ-শারীরবিদ্যা, জীবপদার্থবিদ্যা ও প্রাণ-জড়ের প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন আলোচনার পথ খুলে দেয়।

বসু বিজ্ঞান মন্দির

স্বাধীন গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চার প্রসারের জন্য তিনি ১৯১৭ সালে কলকাতায় ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’ বা Bose Institute প্রতিষ্ঠা করেন। এটি এশিয়ার প্রাচীন বহুবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে জ্ঞান সৃষ্টি ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। গবেষণার পাশাপাশি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচিন্তা ও কল্পবিজ্ঞানধর্মী রচনায়ও তাঁর আগ্রহ ছিল।

ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ

জগদীশচন্দ্র ছিলেন অধ্যবসায়ী, আত্মমর্যাদাবান, উদ্ভাবনী ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। বিদেশি শাসনের বৈষম্যময় পরিবেশে তিনি প্রমাণ করেন যে সুযোগ ও পরিশ্রম পেলে ভারতীয় বিজ্ঞানীরাও বিশ্বমানের গবেষণা করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ সমকালীন মনীষীদের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য অনুসন্ধান করতে উৎসাহিত করতেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বেতারবিজ্ঞান, সূক্ষ্ম যন্ত্র নির্মাণ, উদ্ভিদের সাড়া ও বিজ্ঞানপ্রতিষ্ঠান গঠনে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তাঁর জীবন দেখায়, বিজ্ঞান কেবল পরীক্ষাগারের কাজ নয়; সত্যসন্ধান, আত্মমর্যাদা ও মানবকল্যাণের এক মহান সাধনা।

উপসংহার

জগদীশচন্দ্র বসু জ্ঞান, সাহস ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে উপমহাদেশের বিজ্ঞানকে বিশ্বদরবারে মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর গবেষণা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা, মৌলিক অনুসন্ধান এবং মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ব্যবহারের প্রেরণা জোগায়।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

৫. যে কোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
৬. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৫

নওগাঁ

প্রিয় নয়ন,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে আমরা কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহার দেখতে গিয়েছিলাম। খুব ভোরে নওগাঁ থেকে বাসে রওনা হয়ে সকালে সেখানে পৌঁছাই। লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের সবুজ উঁচু ভূমির মধ্যে অবস্থিত এ প্রত্নস্থল একসময়ের প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ। প্রবেশের পর চারদিকে সারিবদ্ধ ভিক্ষুকক্ষ, মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভিত্তি, ইটের অলংকরণ ও পুরোনো স্থাপনার বিন্যাস দেখে আমরা বিস্মিত হই। একজন পথপ্রদর্শক খননে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ও অন্যান্য নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। পাশের ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত মূর্তি, ধাতব সামগ্রী, মুদ্রা ও টেরাকোটা দেখে সে সময়ের ধর্ম, শিল্প ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাই। পাঠ্যবইয়ে পড়া ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। পরিষ্কার পরিবেশ ও নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করেছে। ফেরার পথে মনে হয়েছে, অতীতের পরিচয় বহনকারী এসব পুরাকীর্তি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সুযোগ পেলে তুমিও স্থানটি দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

নূয়ার

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৫

প্রধান শিক্ষক

যশোর জিলা স্কুল

যশোর

মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, দশম শ্রেণি

বিষয়: অনুপস্থিতির কারণে পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১০ই জুন থেকে ১৪ই জুন ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে যোগ দিয়েছি। অনুপস্থিত সময়ের পাঠ, বাড়ির কাজ ও শ্রেণিকাজ সহপাঠীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার উপস্থিতির রেকর্ডে উল্লিখিত দিনগুলো অনুমোদিত ছুটি হিসেবে গণ্য করার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির উল্লিখিত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

বিনীত

শাহিন

শ্রেণি: দশম

শাখা: ক

রোল: ১২

সংযুক্তি: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি।

৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

অন্যায়কারী এবং অন্যায়ের নীরব সহ্যকারী উভয়েই সমাজের ক্ষতি করে। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সাহস ও বিবেকের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও মানুষের কর্তব্য।

আইন সরাসরি অন্যায়কারীকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দেয়। কিন্তু অন্যায় শুধু একজনের শক্তিতে স্থায়ী হয় না; সহযোগী, উৎসাহদাতা এবং নীরব দর্শকের নিষ্ক্রিয়তাও তাকে সাহস জোগায়। কোনো দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার হতে দেখে সবাই যদি ভয়ে বা স্বার্থে চুপ থাকে, অপরাধী মনে করে তার কাজে বাধা নেই। এভাবে অন্যায় সহ্য করতে করতে তা সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয় এবং একদিন নীরব ব্যক্তিও তার শিকার হতে পারে। প্রতিবাদ মানে অবশ্যই হঠকারী সংঘর্ষ নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ সহায়তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো, সাক্ষ্য দেওয়া এবং আইনসম্মত সম্মিলিত প্রতিরোধই দায়িত্বশীল পথ। নিজের নিরাপত্তা বিবেচনা করে অন্যের সাহায্য নেওয়াও বিচক্ষণতা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস শেখাতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভয় মানুষের বিবেককে নীরব না করে।

অতএব, অন্যায় করা যেমন নিন্দনীয়, সুবিধা বা ভয়ের কারণে তা মেনে নেওয়াও তেমনি বিবেকের অপরাধ। সচেতন, সাহসী ও আইননিষ্ঠ প্রতিবাদই অন্যায়ের বিস্তার রোধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারে।

উত্তর

কর্মের দ্বারাই মানুষ পৃথিবীতে সম্মান ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কার জন্ম কোথায় বা কোন পরিবারে হয়েছে, তা তার নিয়ন্ত্রণে নয়; কিন্তু সৎ ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়া তার সাধ্যের মধ্যে।

জন্মসূত্রে পাওয়া বংশমর্যাদা স্থায়ী গৌরব নিশ্চিত করে না। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও কেউ অসৎ কর্মে নিজের ও পরিবারের সুনাম নষ্ট করতে পারে। আবার দরিদ্র বা সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষ জ্ঞান, সাধনা, সততা ও মানবসেবার দ্বারা পৃথিবীতে অমর হতে পারেন। কাজী নজরুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সাহিত্যকর্ম ও সাম্যের বাণীর জন্য মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয়। মানুষের মৃত্যুর পর তার ধনসম্পদ ও বংশপরিচয় নয়, ভালো-মন্দ কাজই স্মৃতিতে থেকে যায়। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, দেশসেবা কিংবা মানবকল্যাণ—যেকোনো ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে মানুষ নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারে। তাই অন্যের গৌরব নিয়ে অহংকার না করে প্রত্যেকের উচিত নিজ কর্মে যোগ্যতা ও মহত্ত্বের পরিচয় দেওয়া।

সুতরাং, জন্ম নয়, কর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয় ও মূল্য নির্ধারণ করে। উত্তম কর্মের মাধ্যমে সাধারণ জন্মকেও গৌরবময় করা যায়।

৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা কর:
উত্তর

মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত

অরণ্য, শিক্ষার্থী প্রতিবেদক

মধুপুর, ১৬ই জুলাই ২০২৫: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সবুজ করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় বন বিভাগের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সকালে জাতীয় সংগীতের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি ফলদ চারা রোপণ করে উৎসবের উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভায় বন কর্মকর্তা বলেন, বৃক্ষ অক্সিজেন দেয়, কার্বন শোষণ করে, তাপমাত্রা ও মাটিক্ষয় কমায়, বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাস সৃষ্টি করে। তিনি স্থান, মাটি ও আলো বিবেচনা করে উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতি নির্বাচন এবং শুধু রোপণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দেন।

এরপর শ্রেণিভিত্তিক দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠের সীমানা ও সংযোগ সড়কের পাশে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, নিম, অর্জুন ও বকুলের চারা রোপণ করে। বন বিভাগের কর্মীরা গর্ত প্রস্তুত, সঠিক গভীরতায় চারা বসানো, মাটি চাপা, পানি দেওয়া এবং সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণের কৌশল দেখান। প্রতিটি চারায় প্রজাতির নাম ও রোপণকারী দলের পরিচয়সংবলিত ফলক লাগানো হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারাও বিতরণ করা হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিটি শ্রেণিকে নির্দিষ্ট চারার পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়া মেরামত এবং মৃত চারা প্রতিস্থাপনের দায়িত্ব দিয়েছে। মাসে একবার বেঁচে থাকা গাছের হিসাব প্রকাশের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বছরে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার অঙ্গীকার করে। প্রধান শিক্ষকের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে উৎসব শেষ হয়। পরিকল্পিত পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে এ কর্মসূচি বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উত্তর

সদর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ ও বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

তোহা, নাটোর প্রতিনিধি, দৈনিক সকালের সংবাদ

নাটোর, ৩০শে জানুয়ারি ২০২৫: উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে গতকাল সদর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়-সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক সভাপতির বক্তব্যে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে বিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর সফলতা কামনা করেন। পরে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ফুল ও শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয়। নবীনদের একজন নতুন পরিবেশে সবার সহযোগিতা কামনা করে অনুভূতি জানায়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একজন বিদ্যালয়ে কাটানো দিনের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের হাতে স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও ছোট নাটক পরিবেশিত হয়। আনন্দ ও বিচ্ছেদের মিশ্র অনুভূতিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

৯. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

উৎসব মানুষের দৈনন্দিন শ্রম ও একঘেয়েমির মধ্যে আনন্দ, মিলন ও নবজাগরণের বার্তা আনে। নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর ও বহু ধর্ম-সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশে জাতীয়, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঋতুভিত্তিক নানা উৎসব পালিত হয়। এসব উৎসব বাঙালির ইতিহাস, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণবন্ত পরিচয় বহন করে।

উৎসবের বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের উৎসবগুলোকে প্রধানত জাতীয়, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও লোকজ উৎসবে ভাগ করা যায়। কোনো উৎসব শোক ও শ্রদ্ধার, কোনোটি বিজয় ও আনন্দের, আবার কোনোটি ফসল, ঋতু বা পারিবারিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ভিন্ন উৎসে জন্ম নিলেও অধিকাংশ উৎসব মানুষকে একত্র করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ায়।

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদদের স্মরণ ও সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন। ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা লাভ করেছে।

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস

ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ষোলোই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের দুটি প্রধান জাতীয় উৎসব। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এসব দিন নাগরিককে স্বাধীনতার মূল্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।

বাংলা নববর্ষ

পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ বৈশাখী শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজনে অংশ নেয়। ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন এবং গ্রামাঞ্চলে নানা খেলাধুলা ও মেলার আয়োজন হয়। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে অংশগ্রহণের কারণে নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙালি পরিচয়ের শক্তিশালী প্রতীক।

ধর্মীয় উৎসব

মুসলমানদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। নামাজ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমাই ও খাবার ভাগ করা, ফিতরা ও কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা ও জন্মাষ্টমী; বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধপূর্ণিমা; খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বড়দিন ও ইস্টার পালন করে। প্রতিবেশীরা পরস্পরের উৎসবে শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দৃঢ় হয়।

কৃষি ও লোকজ উৎসব

অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। নতুন চালের পিঠা, পায়েস, গান ও মেলায় কৃষকের শ্রমের সাফল্য উদযাপিত হয়। পৌষমেলা, পিঠা উৎসব, নৌকাবাইচ, বলীখেলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ মেলা লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু, সাংগ্রাইসহ বর্ষবিদায় ও নববর্ষের উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।

সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব

বিবাহ, জন্মদিন, অন্নপ্রাশন, আকিকা এবং নানা পারিবারিক অনুষ্ঠান আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। বিদ্যালয়ের নবীনবরণ, বিদায়-সংবর্ধনা, বইমেলা ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও মানুষের সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ায়।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাদ্য, হস্তশিল্প, পরিবহন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারিগর, কৃষক, শিল্পী ও উদ্যোক্তারা আয়ের সুযোগ পান। লোকগান, নৃত্য, কারুশিল্প ও আঞ্চলিক খাবারের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়। উৎসব তাই আনন্দের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি।

সমস্যা ও করণীয়

অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা, অপচয়, উচ্চ শব্দ, যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিরাপত্তাহীনতা উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে পারে। কখনো গুজব বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তাই আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আড়ম্বরের প্রতিযোগিতা না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া উচিত।

উপসংহার

বাংলাদেশের উৎসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাসের স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষিজীবন ও লোকঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব উৎসব মানুষকে কাছাকাছি আনে। সম্প্রীতি, সংযম, নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালন করলেই তা সত্যিকার অর্থে জাতীয় জীবনকে আনন্দময় ও মানবিক করে তুলবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

১০. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
১১. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৫

চেয়ারম্যান

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ

যশোর

বিষয়: এলাকায় একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি যশোর জেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। একটি সুশৃঙ্খল পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বাড়বে এবং তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।

অতএব, আমাদের এলাকায় উপযুক্ত স্থানে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত

জিসান

কাশিমপুর, যশোর।

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৪

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।

বিনীত

শফিক

খুলনা।

১২. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

মানুষের জীবনের সার্থকতা দীর্ঘ আয়ুতে নয়, মানবকল্যাণমূলক ও মহৎ কর্মে। যে ব্যক্তি নিজের কাজের দ্বারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উপকার করেন, তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন।

মানুষ মরণশীল; তাই কেবল বহু বছর বেঁচে থাকলেই জীবন অর্থবহ হয় না। অনেকে দীর্ঘ জীবন লাভ করেও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। বিপরীতে স্বল্পায়ু বহু মানুষ জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্বাধীনতা ও মানবসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়েছেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁর সৃষ্টির জন্য আজও স্মরণীয়। ভাষাশহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য তরুণ তাঁদের কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়েছেন। মানুষের দেহের জীবন সীমিত, কিন্তু একটি সৎ কাজ সমাজে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জাগায় এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত হয়। তাই অলস দীর্ঘায়ুর চেয়ে অল্প সময়ের কর্মময়, সৎ ও কল্যাণকর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অতএব, বয়সের সংখ্যা নয়, কর্মের গুণ ও কল্যাণকর প্রভাবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহৎ কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্মরণীয় ও চিরজীবী হয়ে থাকে।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

১৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

১৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ‘কম্পিউট’ শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করা। প্রথমদিকে কম্পিউটার কেবল হিসাবের কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সঙ্গী। এর বাহ্যিক যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার এবং কাজ পরিচালনাকারী প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলা হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, যোগাযোগ, প্রকাশনা, বিনোদন ও প্রশাসনসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাহায্যে বিপুল তথ্য অতি দ্রুত সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠ গ্রহণ, তথ্য অনুসন্ধান ও শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরিতে কম্পিউটার ব্যবহার করে। চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ে এবং বিজ্ঞানীরা জটিল গবেষণায় এর সহায়তা নেন। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক সমস্যা ও আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে; সাইবার অপরাধ ও তথ্যচুরির ঝুঁকিও আছে। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা, নৈতিকতা ও নিরাপত্তা-সচেতনতা জরুরি। সুষ্ঠু ও কল্যাণকর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
১৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৫

চেয়ারম্যান

ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ

বরগুনা সদর, বরগুনা

বিষয়: ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের অধিবাসী। আমাদের ইউনিয়নে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষ থাকলেও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য কোনো পাঠাগার নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস, কৃষি, স্বাস্থ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে মানসম্মত বই ও পত্রিকা পড়ার সুযোগ থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়ক বই কেনার সামর্থ্য না থাকায় তাদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। একটি সুপরিচালিত গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, তরুণদের সৃজনশীলতা এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়বে। অবসর সময়ের গঠনমূলক ব্যবহার বাড়লে কিশোর-তরুণেরা মাদক, বাল্যবিবাহ ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকেও দূরে থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি উপযুক্ত কক্ষ প্রাথমিকভাবে পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ করে বইয়ের তাক, আসন, আলো-বাতাস, দৈনিক পত্রিকা এবং একজন দায়িত্বশীল গ্রন্থাগারিকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজসেবী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের বই ও অর্থ সহায়তায় যুক্ত করলে উদ্যোগটি সহজেই বাস্তবায়নযোগ্য হবে।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, ফুলঝুড়ি ইউনিয়নে একটি গণপাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাধিত করবেন।

বিনীত

সাকিব

ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন

বরগুনা সদর, বরগুনা।

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৫

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: কুড়িগ্রামের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

কুড়িগ্রামের আমাদের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় এর সেবাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; কর্মরতদেরও নিয়মিত পাওয়া যায় না। বিনা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত থাকে না, রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অচল এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রম অনিয়মিত। ভবনের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বর্ষা ও বন্যার সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে জরুরি রোগীকে দূরের জেলা হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও স্থায়ী প্রতিকার পায়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সচল যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

বকুল

কুড়িগ্রাম।

১৬. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর চরিত্রই মানুষের প্রকৃত মূল্য ও শ্রেষ্ঠ গৌরবের ভিত্তি। শুধু অসচ্চরিত্র না হওয়াই যথেষ্ট নয়; সত্যবাদিতা, বিনয়, জ্ঞানানুরাগ, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়বোধ ও স্বাধীনতাপ্রিয়তার সমন্বয়েই মানুষ যথার্থ চরিত্রবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য হয়।
উত্তর দারিদ্র্য, নিঃসঙ্গতা বা প্রবল বিপদে আত্মমর্যাদা হারানো উচিত নয়। সুখের সঙ্গীরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ধৈর্য, সাহস ও মাথা উঁচু রেখে প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে পারলেই মানুষের সত্যিকার শক্তি ও মর্যাদা প্রকাশ পায়।
১৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।

অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।

অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।

উত্তর

শুধু প্রাণ ও দৈহিক অস্তিত্ব মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ করে না। বিবেক, অনুভূতি, মানবিকতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ মনই একজন প্রাণীকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে।

সব জীবই খাদ্য গ্রহণ করে, বেড়ে ওঠে, আত্মরক্ষা করে এবং বংশবিস্তার করে। মানুষও এসব জৈব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, কিন্তু তার বিশেষত্ব হলো চিন্তাশীল মন। মন মানুষকে ভালো-মন্দ বিচার, অন্যের দুঃখ অনুভব, সত্য ও সৌন্দর্য উপলব্ধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষমতা দেয়। এই মনের শক্তিতেই মানুষ ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, আইন ও সংস্কৃতি সৃষ্টি করেছে। শুধু বুদ্ধি থাকলেই অবশ্য মনুষ্যত্ব পূর্ণ হয় না; সেই বুদ্ধির সঙ্গে বিবেক, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও সংযম যুক্ত হওয়া চাই। যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থে অন্যকে শোষণ করে, দুর্বলের কষ্টে উদাসীন থাকে বা জ্ঞানকে ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে, সে দৈহিকভাবে মানুষ হলেও মানবিক অর্থে মানুষ নয়। বিপরীতে যে ব্যক্তি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে, সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, ভুল স্বীকার করে এবং সকল জীবের মর্যাদা রক্ষা করে, তার মধ্যেই প্রকৃত মানুষের পরিচয় প্রকাশ পায়। মনকে শিক্ষা, সৎ সঙ্গ, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সেবার মাধ্যমে পরিশীলিত করতে হয়; না হলে লোভ, হিংসা ও অহংকার তার মানবিক শক্তিকে নষ্ট করে।

অতএব, প্রাণ মানুষকে জীবিত রাখে, কিন্তু উদার ও বিবেকবান মন তাকে মনুষ্যত্ব দান করে। মানবিক গুণের চর্চায় মনকে বিকশিত করতে পারলেই মানুষ নামের সত্য মর্যাদা অর্জিত হয়।

১৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা

উৎসব মানুষের একঘেয়ে জীবনে আনন্দ, মিলন ও নবপ্রেরণা এনে দেয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ইতিহাস, ঋতুবৈচিত্র্য, কৃষিনির্ভর জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকসংস্কৃতিকে ঘিরে সারা বছর নানা উৎসব পালিত হয়। এসব আয়োজন বাঙালির প্রাণপ্রাচুর্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উজ্জ্বল প্রকাশ।

নববর্ষ ও সর্বজনীন উৎসব

বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ খেলাধুলার আয়োজন হয়। মানুষ নতুন পোশাক পরে শুভেচ্ছা বিনিময় করে; ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অংশগ্রহণের কারণে নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙালি পরিচয় ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। নবান্ন, বসন্তবরণ এবং পৌষমেলাও ঋতু ও কৃষিজীবনের সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় উৎসব।

জাতীয় উৎসব ও স্মরণদিবস

একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস জাতীয় জীবনের গৌরবময় আয়োজন। শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মানুষ শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের স্মরণ করে। ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং ষোলোই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্মরণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এসব দিন শুধু আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়; ইতিহাস জানা, শহিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশপ্রেমের অঙ্গীকার নবায়নের উপলক্ষ।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরে নামাজ, দান-সদকা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলন ও আনন্দভোজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদুল আজহায় ত্যাগের আদর্শ স্মরণ করে সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি দেন এবং মাংস দরিদ্র ও স্বজনদের মধ্যে ভাগ করেন। শবে বরাত, ঈদে মিলাদুন্নবী ও মহররমও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হয়।

হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উৎসব

হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমী, সরস্বতীপূজা ও কালীপূজায় মন্দির ও পূজামণ্ডপ সজ্জিত হয় এবং ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধপূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ স্মরণ করে প্রার্থনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনে গির্জায় প্রার্থনা, সংগীত, আলোকসজ্জা ও প্রীতিভোজের আয়োজন হয়। প্রতিবেশীরা পরস্পরের উৎসবে অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উৎসব

পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী বৈসাবি, সাংগ্রাই ও বিজু উদ্‌যাপন করে। সমতলের সাঁওতাল, গারো, মণিপুরি ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীরও নিজস্ব ফসল, ঋতু ও ধর্মভিত্তিক উৎসব রয়েছে। তাদের নৃত্য, সংগীত, পোশাক, খাবার ও আচার বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বহুবর্ণ ও সমৃদ্ধ করেছে। এসব উৎসবকে সম্মান ও সংরক্ষণ করা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অংশ।

লোকজ ও গ্রামীণ উৎসব

গ্রামবাংলার মেলা, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, বলীখেলা, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব ও বাউল গানের আসর দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করে। ফসল কাটা, বর্ষা, নদী বা কোনো পীর-সাধকের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে অনেক আঞ্চলিক মেলা বসে। এসব আয়োজনে কুটিরশিল্পী, মৃৎশিল্পী, তাঁতি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রির সুযোগ পান; ফলে উৎসব সংস্কৃতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকেও সচল করে।

উৎসবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

উৎসবে দূরের মানুষ ঘরে ফেরে, আত্মীয়তা নবায়িত হয় এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ে। পোশাক, খাদ্য, পরিবহন, পর্যটন, কারুশিল্প ও বিনোদন খাতে কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সৃষ্টি হয়। শিশু-কিশোরেরা ইতিহাস, লোকজ জ্ঞান ও পারিবারিক মূল্যবোধ শেখে। একই সঙ্গে উৎসব দুঃখ ভুলিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন উদ্যম ও সৃষ্টিশীলতা জাগায়।

সমস্যা ও করণীয়

অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা, অপচয়, উচ্চ শব্দ, যানজট, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং নিরাপত্তাহীনতা উৎসবের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করতে পারে। দরিদ্র মানুষের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টি বা কোনো সম্প্রদায়ের রীতি নিয়ে বিদ্রূপ করাও অনুচিত। তাই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব আয়োজন, স্বচ্ছ মূল্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং নারী-শিশুসহ সবার নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। উৎসবের মূল ইতিহাস ও মানবিক তাৎপর্য শিক্ষায় তুলে ধরে লোকজ শিল্পী ও ঐতিহ্যকে সহায়তা করা প্রয়োজন।

উপসংহার

বাংলাদেশের উৎসবগুলো আনন্দের পাশাপাশি ইতিহাস, বিশ্বাস, প্রকৃতি ও মানুষের মিলনের সেতু। বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, সংযম, নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালন করলে এগুলো জাতীয় ঐক্য, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমৃদ্ধ করবে।

১৯. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলজুড়ে এর বাংলাদেশ অংশ অবস্থিত; বনের বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। অসংখ্য নদী, খাল, চর ও জোয়ার-ভাটার জলধারা এ বনকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সুন্দরী গাছের আধিক্য থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা লবণসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও মাছ এ বনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও মৎস্য আহরণ করে বহু বনজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত শোষণ করে উপকূলীয় জনপদকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো রক্ষা করে। এটি কার্বন ধারণ, মাটির ক্ষয়রোধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পর্যটনের মাধ্যমেও পরিবেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, দূষণ, বননিধন ও অবৈধ শিকারে এ বন হুমকির মুখে। তাই বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা, নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ করা জাতীয় কর্তব্য।
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
২০. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

ময়মনসিংহ

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল,

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা নেবেন। সম্প্রতি আপনার লেখা ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ উপন্যাসটি পড়েছি। বইটির একজন কিশোর পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি জানাতেই এই পত্র।

মুক্তিযুদ্ধের মতো বিশাল ও বেদনাময় বিষয়কে কিশোরদের সহজ ভাষায় আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। ইবুর চোখ দিয়ে রাশেদের সাহস, দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও আত্মত্যাগ দেখার সময় মনে হয়েছে, ঘটনাগুলো যেন আমার সামনেই ঘটছে। রাশেদ কোনো অতিমানব নয়; সাধারণ এক কিশোর হয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং দেশের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে সে অসাধারণ হয়ে উঠেছে। তার পরিণতি আমাকে ব্যথিত করেছে, কিন্তু সেই বেদনা মুক্তিযুদ্ধের মূল্য ও স্বাধীনতার তাৎপর্য আরও গভীরভাবে বুঝিয়েছে।

বইটির সংলাপ স্বাভাবিক, কাহিনি গতিশীল এবং চরিত্রগুলো জীবন্ত। ভয় ও অনিশ্চয়তার মাঝেও কিশোরদের বন্ধুত্ব এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস পাঠককে আশাবাদী করে। উপন্যাসটি পড়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ জন্মেছে এবং দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে ভাবতে শিখেছি। আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে হৃদয়গ্রাহী করে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ সাহিত্যজীবন কামনা করি।

ইতি

আপনার স্নেহাশিসপ্রার্থী পাঠক

নীল

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৫

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

বগুড়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, সড়কের ত্রুটি এবং পথচারীর জন্য নিরাপদ পারাপারের অভাব এর প্রধান কারণ। অনেক চালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন; আবার যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা ও অতিরিক্ত বোঝাইও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ডেকে আনে। এতে প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং পরিবারে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে। এ অবস্থা রোধে চালকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত, যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা, গতিসীমা ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান সংস্কার, পর্যাপ্ত সংকেত, আলোকসজ্জা, ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও পদচারী-সেতু নির্মাণ জরুরি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, স্কুলভিত্তিক সড়কনিরাপত্তা শিক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার বিজ্ঞানসম্মত তদন্তও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিলে এ প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুমিছিল অনেকটাই থামানো সম্ভব।

বিনীত

সাগর

বগুড়া।

২১. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর চরিত্রই মানুষের প্রকৃত মূল্য ও শ্রেষ্ঠ গৌরবের ভিত্তি। শুধু অসচ্চরিত্র না হওয়াই যথেষ্ট নয়; সত্যবাদিতা, বিনয়, জ্ঞানানুরাগ, পরদুঃখকাতরতা, ন্যায়বোধ ও স্বাধীনতাপ্রিয়তার সমন্বয়েই মানুষ যথার্থ চরিত্রবান ও শ্রদ্ধার যোগ্য হয়।
উত্তর শ্রমজীবী মানুষের ঘাম, ত্যাগ ও আত্মদানের ওপরই সভ্যতার অগ্রগতি নির্মিত। দীর্ঘদিনের শোষণ ও অবহেলার ঋণ শোধ করে তাদের ন্যায্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শুভদিন ও নতুন মানবিক সমাজের উত্থান ঘটবে।
২২. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

মানুষের জীবনের সার্থকতা দীর্ঘ আয়ুতে নয়, মানবকল্যাণমূলক ও মহৎ কর্মে। যে ব্যক্তি নিজের কাজের দ্বারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উপকার করেন, তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন।

মানুষ মরণশীল; তাই কেবল বহু বছর বেঁচে থাকলেই জীবন অর্থবহ হয় না। অনেকে দীর্ঘ জীবন লাভ করেও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। বিপরীতে স্বল্পায়ু বহু মানুষ জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্বাধীনতা ও মানবসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়েছেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁর সৃষ্টির জন্য আজও স্মরণীয়। ভাষাশহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য তরুণ তাঁদের কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়েছেন। মানুষের দেহের জীবন সীমিত, কিন্তু একটি সৎ কাজ সমাজে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জাগায় এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত হয়। তাই অলস দীর্ঘায়ুর চেয়ে অল্প সময়ের কর্মময়, সৎ ও কল্যাণকর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অতএব, বয়সের সংখ্যা নয়, কর্মের গুণ ও কল্যাণকর প্রভাবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহৎ কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্মরণীয় ও চিরজীবী হয়ে থাকে।

উত্তর

যে ব্যক্তি অন্যায় করে এবং যে জেনেশুনে তা নীরবে সহ্য করে, উভয়েই নৈতিকভাবে অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অন্যায়কারীকে শক্তি ও সুযোগ জোগায়।

অন্যায়কারী নিজের স্বার্থ, লোভ বা ক্ষমতার জন্য মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। আইন তার শাস্তির বিধান করে, কিন্তু সমাজে অন্যায় টিকে থাকে প্রায়ই নির্লিপ্ত দর্শকের কারণে। কেউ অত্যাচার দেখেও ভয়ে, সুবিধার আশায় বা উদাসীনতায় চুপ থাকলে অপরাধী ধরে নেয় যে তার কাজে বাধা নেই। এ নীরবতা পরোক্ষ সমর্থনে পরিণত হয় এবং ছোট অন্যায় ক্রমে বড় অত্যাচারে রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে দুর্বল সহপাঠীর ওপর নিপীড়ন, কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি কিংবা সমাজে বৈষম্য—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ক্ষতি থামাতে পারে। প্রতিবাদ অবশ্যই সত্যনিষ্ঠ, বিবেকসম্পন্ন ও আইনসম্মত হতে হবে; প্রতিশোধ বা নতুন সহিংসতা সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য নয়। ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, প্রমাণ সংরক্ষণ, কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং জনমত গড়ে তোলা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কার্যকর উপায়। যারা নিজের নিরাপত্তার যুক্তিতে সব অন্যায় মেনে নেয়, তারা শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিস্তার থেকে নিজেরাও রক্ষা পায় না।

অতএব, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে শুধু অন্যায় না করাই যথেষ্ট নয়; অন্যায় প্রতিরোধেও সাহসী হতে হয়। অন্যায়কারী ও তার নীরব সহায়ক উভয়েই বিবেকের বিচারে নিন্দা ও ঘৃণার যোগ্য।

২৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর :
উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

২৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার উপকূলজুড়ে এর বাংলাদেশ অংশ অবস্থিত; বনের বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। অসংখ্য নদী, খাল, চর ও জোয়ার-ভাটার জলধারা এ বনকে অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সুন্দরী গাছের আধিক্য থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা লবণসহিষ্ণু উদ্ভিদ জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ এবং অসংখ্য প্রজাতির পাখি ও মাছ এ বনের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করেছে। বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও মৎস্য আহরণ করে বহু বনজীবী জীবিকা নির্বাহ করেন। সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত শোষণ করে উপকূলীয় জনপদকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো রক্ষা করে। এটি কার্বন ধারণ, মাটির ক্ষয়রোধ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পর্যটনের মাধ্যমেও পরিবেশ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখে। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, দূষণ, বননিধন ও অবৈধ শিকারে এ বন হুমকির মুখে। তাই বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা, নিয়ন্ত্রিত সম্পদ আহরণ, স্থানীয় মানুষের বিকল্প জীবিকা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ করা জাতীয় কর্তব্য।
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
২৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী

১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

প্রিয় লাবিব,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি তুমি ও তোমাদের বাড়ির সবাই ভালো আছ। গত সপ্তাহে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণ করেছি। সেই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের দলের সঙ্গে খুব সকালে আমরা মির্জাগঞ্জ থেকে রওনা হই। বাগেরহাট পৌঁছে সবুজ পরিবেশের মধ্যে বিশাল মসজিদটি দেখেই মুগ্ধ হয়ে যাই। পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী এটি নির্মাণ করেছিলেন। নাম ষাট গম্বুজ হলেও ছাদের ওপর সাতাত্তরটি গম্বুজ রয়েছে বলে পথপ্রদর্শক জানালেন। ভেতরের অসংখ্য পাথরের স্তম্ভ ও খিলান সারিবদ্ধভাবে ছাদকে ধারণ করেছে। মোটা দেয়াল, ছোট প্রবেশপথ, পোড়ামাটির অলংকরণ এবং আলো-বাতাস চলাচলের কৌশল দেখে সেই সময়ের স্থাপত্যজ্ঞান সম্পর্কে বিস্মিত হয়েছি। বিশাল প্রার্থনাকক্ষের শান্ত পরিবেশ অতীতের ইতিহাসকে যেন জীবন্ত করে তুলেছিল।

পরে আমরা খান জাহান আলীর মাজার ও ঠাকুরদিঘিও দেখি। শিক্ষক মসজিদ নগরী বাগেরহাটের ইতিহাস, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ভ্রমণটি আমাকে বইয়ের তথ্যের বাইরে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন বুঝিয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের অসচেতনতায় কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লেগেছে; এমন অমূল্য স্থাপনা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সুযোগ পেলে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে আবার যেতে চাই।

আজ আর নয়। তোমার পড়াশোনার খবর জানিয়ে চিঠি দিও। কাকু-কাকিমাকে আমার সালাম জানাবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

রূপম

উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৫

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, সড়কের ত্রুটি এবং পথচারীর নিরাপদ পারাপারের অভাব এর প্রধান কারণ। পাহাড়ি বাঁক, বন্দরকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনের চাপ এবং যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার চট্টগ্রামের ঝুঁকি আরও বাড়ায়। এতে প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং পরিবারে আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে। এ অবস্থা রোধে চালকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত, যানবাহনের ফিটনেস নিয়মিত পরীক্ষা, গতিসীমা ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সড়ক সংস্কার, পর্যাপ্ত সংকেত, আলোকসজ্জা, ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও পদচারী-সেতু নির্মাণ জরুরি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ, স্কুলভিত্তিক সড়কনিরাপত্তা শিক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রতিটি দুর্ঘটনার বিজ্ঞানসম্মত তদন্তও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিলে এ প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুমিছিল অনেকটাই থামানো সম্ভব।

বিনীত

জিনাত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

দৈনিক প্রথম আলো।

২৬. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর মানুষ অভ্যাসের দাস; তাই কোনো বদভ্যাস এক দিনে ত্যাগ করা যায় না। ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মিথ্যাচার ও কুপ্রবৃত্তি জয় করে সত্যবাদী ও চরিত্রবান হতে হয়।
উত্তর শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ওপর মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও শোষণ সহ্য করলেও তারাই প্রকৃত মানুষ ও সম্মানের যোগ্য; তাদের জাগরণেই ঋণমুক্ত নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক দিনের সূচনা হবে।
২৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

মানুষের জীবনের সার্থকতা দীর্ঘ আয়ুতে নয়, মানবকল্যাণমূলক ও মহৎ কর্মে। যে ব্যক্তি নিজের কাজের দ্বারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উপকার করেন, তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন।

মানুষ মরণশীল; তাই কেবল বহু বছর বেঁচে থাকলেই জীবন অর্থবহ হয় না। অনেকে দীর্ঘ জীবন লাভ করেও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। বিপরীতে স্বল্পায়ু বহু মানুষ জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্বাধীনতা ও মানবসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়েছেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁর সৃষ্টির জন্য আজও স্মরণীয়। ভাষাশহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য তরুণ তাঁদের কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়েছেন। মানুষের দেহের জীবন সীমিত, কিন্তু একটি সৎ কাজ সমাজে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জাগায় এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত হয়। তাই অলস দীর্ঘায়ুর চেয়ে অল্প সময়ের কর্মময়, সৎ ও কল্যাণকর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অতএব, বয়সের সংখ্যা নয়, কর্মের গুণ ও কল্যাণকর প্রভাবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহৎ কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্মরণীয় ও চিরজীবী হয়ে থাকে।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সংগত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

২৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হারানো অর্থ, স্বাস্থ্য বা সুযোগ কখনো আংশিকভাবে ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত আর ফিরে আসে না। নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা, আর সাফল্যময় ও শৃঙ্খলিত জীবনের অন্যতম ভিত্তি এই গুণ।

সময়ের স্বরূপ

সময় নদীর স্রোতের মতো অবিরাম বয়ে চলে; কারও জন্য অপেক্ষা করে না। প্রকৃতিতেও সময়ের শৃঙ্খলা স্পষ্ট—সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, ঋতুপরিবর্তন, জোয়ার-ভাটা এবং ফসলের চক্র নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে। যথাসময়ে বীজ না বুনলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পান না। মানুষের কাজেও উপযুক্ত মুহূর্ত হারালে পরে অধিক শ্রম দিয়েও একই ফল পাওয়া কঠিন হয়।

ব্যক্তিজীবনে গুরুত্ব

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, পরিকল্পনা মেনে চলেন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। ফলে তাঁর কাজের মান বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং অন্যের আস্থা অর্জিত হয়। অফিস, চিকিৎসা, পরিবহন, ব্যবসা কিংবা সভা—সব ক্ষেত্রেই সময়মতো উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান ও দক্ষতার পরিচয়। দেরি করলে শুধু নিজের নয়, অন্যের মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

শিক্ষাজীবনে সময়ানুবর্তিতা

শিক্ষার্থীর সাফল্যে সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষ জরুরি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেখা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য সুষম সময়সূচি তাকে সুস্থ ও প্রস্তুত রাখে। পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া শেষ করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়ায়, অথচ অল্প অল্প করে নিয়মিত পড়লে জ্ঞান স্থায়ী হয়। সময়নিষ্ঠ শিক্ষার্থী সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিকাশের সুযোগ পায়।

জাতীয় জীবনে গুরুত্ব

একটি জাতির মানুষের কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ও সেবার সঙ্গে উন্নয়নের গতি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দপ্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের সময়ক্ষেপণ, যানবাহনের অনিয়ম ও বিচারকার্যের দীর্ঘসূত্রতা অর্থ ও জনবিশ্বাস নষ্ট করে। বিপরীতে সময়মতো সিদ্ধান্ত, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা সম্পন্ন হলে ব্যয় কমে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং নাগরিক জীবন গতিশীল হয়। উন্নত জাতিগুলোর অগ্রগতির পেছনে শ্রমের পাশাপাশি সময়ের প্রতি শ্রদ্ধাও গুরুত্বপূর্ণ।

সময় অপচয়ের ফল

অলসতা, লক্ষ্যহীন আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম এবং অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের অনেক কর্মক্ষম সময় কেড়ে নেয়। কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া, ভুল, ব্যর্থতা ও হতাশার সৃষ্টি করে। যৌবনে সময় নষ্ট করলে পরিণত বয়সে অনুশোচনা করেও হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনা যায় না।

সময়ানুবর্তী হওয়ার উপায়

প্রতিদিনের কাজ লিখে অগ্রাধিকার ঠিক করা, বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বাদ দেওয়া দরকার। ঘড়ি বা স্মারকের সহায়তা নেওয়া যায়, তবে আত্মশৃঙ্খলাই প্রধান। বিশ্রাম ও বিনোদনের সময়ও পরিকল্পনায় রাখতে হবে, কারণ ক্লান্ত শরীর ও মন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। পরিবার ও বিদ্যালয়ে ছোটবেলা থেকেই সময়মতো ঘুম, জাগরণ, পাঠ ও উপস্থিতির অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

উপসংহার

জীবন আসলে সীমিত সময়ের সমষ্টি। যে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে লক্ষ্য, শ্রম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজে লাগায়, সে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজেরও উপকার করে। তাই সময়কে সম্মান করা এবং সময়ের কাজ সময়ে সম্পন্ন করাই সাফল্যের নিশ্চিত পথ।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

২৯. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, আদর্শ ও জাতীয় ঐক্যের দৃশ্যমান প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আয়তাকার; এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬। গাঢ় সবুজ জমিনের ওপর রয়েছে একটি রক্তলাল ভরাট বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতি, তারুণ্য ও প্রাণশক্তির পরিচয় বহন করে। লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল; স্বাধীনতার পরে সহজ ও সুস্পষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান নকশা গৃহীত হয়। সরকারি দপ্তর, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় অনুষ্ঠানে ঘরবাড়ি, সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে পতাকা শোভা পায়। রাষ্ট্র ঘোষিত শোকের দিনে নির্ধারিত নিয়মে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা দেশের পরিচয় ও মর্যাদা তুলে ধরে। পতাকা কখনো মাটিতে ফেলা, ছেঁড়া বা মলিন অবস্থায় ব্যবহার, অসম্মানজনক স্থানে টাঙানো কিংবা বাণিজ্যিক সাজসজ্জায় বিকৃত করা উচিত নয়। সঠিক মাপ, রং ও নিয়ম মেনে পতাকা ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পতাকার প্রতি সম্মান শুধু কাপড়ের একটি টুকরোর প্রতি সম্মান নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা।
৩০. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৫

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা

বিষয়: লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দুর্দশা সম্পর্কে পত্র।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। অথচ দীর্ঘদিনের অবহেলায় এর সেবাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী অপ্রতুল; কর্মরতদেরও অনেক সময় নিয়মিত পাওয়া যায় না। বিনা মূল্যের প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত সীমিত, রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতির কয়েকটি অচল এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রম অনিয়মিত। ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, অপেক্ষাকক্ষ অপরিচ্ছন্ন এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। জরুরি রোগীকে কুমিল্লা শহরে পাঠাতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়; অনেক পরিবারের পক্ষে অতিরিক্ত যাতায়াত ও চিকিৎসাব্যয় বহন করাও কঠিন। এলাকাবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও স্থায়ী প্রতিকার পায়নি। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সচল যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ভবন সংস্কার এবং সেবার মান তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করছি।

বিনীত

ইশরাক

লাকসাম, কুমিল্লা।

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৫

প্রধান শিক্ষক

নোয়াখালী জিলা স্কুল

নোয়াখালী

মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, দশম শ্রেণি

বিষয়: অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। হঠাৎ জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১০ই জুন থেকে ১৪ই জুন ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম। ফলে ওই দিনগুলোতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে যোগ দিয়েছি। অনুপস্থিত সময়ের পাঠ, শ্রেণিকাজ ও বাড়ির কাজ সহপাঠীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার অসুস্থতার প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির উল্লিখিত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

বিনীত

রাফি

শ্রেণি: দশম

শাখা: ক

রোল: ১২

সংযুক্তি: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি।

৩১. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর জীবনের অভাব মানুষকে কর্ম, উদ্যম ও সেবার সুযোগ দেয়। নিজের ও অন্যের অভাব পূরণের প্রচেষ্টাতেই বৈচিত্র্য, অগ্রগতি ও মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে; তাই অভাবই কর্ম ও সেবাধর্মের অন্যতম উৎস।
উত্তর স্বর্গ ও নরক দূরের কোনো স্থান নয়; মানুষের কর্ম ও মানসিক অবস্থাতেই তাদের সৃষ্টি। লোভ ও কুপ্রবৃত্তিতে বিবেক হারালে আত্মগ্লানি জীবনকে নরক করে, আর প্রেম, প্রীতি ও সম্প্রীতি সাধারণ ঘরকেও স্বর্গে পরিণত করে।
৩২. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

অন্যায়কারী এবং অন্যায়ের নীরব সহ্যকারী উভয়েই সমাজের ক্ষতি করে। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সাহস ও বিবেকের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও মানুষের কর্তব্য।

আইন সরাসরি অন্যায়কারীকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দেয়। কিন্তু অন্যায় শুধু একজনের শক্তিতে স্থায়ী হয় না; সহযোগী, উৎসাহদাতা এবং নীরব দর্শকের নিষ্ক্রিয়তাও তাকে সাহস জোগায়। কোনো দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার হতে দেখে সবাই যদি ভয়ে বা স্বার্থে চুপ থাকে, অপরাধী মনে করে তার কাজে বাধা নেই। এভাবে অন্যায় সহ্য করতে করতে তা সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয় এবং একদিন নীরব ব্যক্তিও তার শিকার হতে পারে। প্রতিবাদ মানে অবশ্যই হঠকারী সংঘর্ষ নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ সহায়তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো, সাক্ষ্য দেওয়া এবং আইনসম্মত সম্মিলিত প্রতিরোধই দায়িত্বশীল পথ। নিজের নিরাপত্তা বিবেচনা করে অন্যের সাহায্য নেওয়াও বিচক্ষণতা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস শেখাতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভয় মানুষের বিবেককে নীরব না করে।

অতএব, অন্যায় করা যেমন নিন্দনীয়, সুবিধা বা ভয়ের কারণে তা মেনে নেওয়াও তেমনি বিবেকের অপরাধ। সচেতন, সাহসী ও আইননিষ্ঠ প্রতিবাদই অন্যায়ের বিস্তার রোধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারে।

৩৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

উত্তর

ভূমিকা

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সম্পদস্বল্প বাংলাদেশকে অনেকে সম্ভাবনাহীন মনে করেছিল। কিন্তু মানুষের শ্রম, মেধা, সাহস ও সৃজনশীলতায় দেশ বারবার সংকট অতিক্রম করে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই ধারাবাহিক সাফল্যই বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার পরিচয়।

স্বাধীনতা থেকে উন্নয়নের যাত্রা

১৯৭১ সালে অবকাঠামো, উৎপাদনব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়। সীমিত সম্পদ নিয়েও কৃষি পুনর্গঠন, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের বাধা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ উৎপাদন ও উন্নয়নের চাকা সচল রেখেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বে নতুন আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছে।

কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা

উন্নত বীজ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, গবেষণা ও কৃষকের পরিশ্রমে খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। ধান, সবজি, মাছ, ফল ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অগ্রগতি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা শক্তিশালী করেছে। অল্প জমিতে অধিক উৎপাদন এবং দুর্যোগসহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবন বাংলাদেশের কৃষিকে নতুন সক্ষমতা দিয়েছে।

শিল্প ও অর্থনীতি

তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের প্রধান শক্তিগুলোর একটি। প্রবাসী শ্রমিকের পাঠানো অর্থ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, ওষুধ, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য শিল্প অর্থনীতিকে বহুমুখী করছে। নারীর ব্যাপক কর্মঅংশগ্রহণ পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও যোগাযোগের উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অবকাঠামো ও প্রযুক্তি

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। মেট্রোরেল, মহাসড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু নির্মাণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন সহজ করছে। মোবাইল যোগাযোগ, ইন্টারনেট, অনলাইন শিক্ষা, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল সরকারি সেবা নাগরিক জীবনে গতি এনেছে। মহাকাশে নিজস্ব যোগাযোগ উপগ্রহ পাঠানো প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও প্রতীক।

মানব উন্নয়ন

প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ, নারীশিক্ষা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা, নিরাপদ পানি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনমান উন্নত করেছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও শান্তিরক্ষায় অবদানও বিশ্বে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

অগ্রগতির পাশাপাশি বেকারত্ব, দুর্নীতি, বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি, যানজট, দূষণ, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি ও জলবায়ু পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নকে টেকসই করতে সুশাসন, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন অঞ্চল ও শ্রেণি নির্বিশেষে সবার কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

উপসংহার

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পরিশ্রমী ও সংগ্রামী মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সততা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সম্মিলিত উদ্যোগে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে অদম্য অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে এবং বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

৩৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
৩৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৪

প্রধান শিক্ষক

খুলনা জিলা স্কুল

খুলনা

মাধ্যম: শ্রেণিশিক্ষক, দশম শ্রেণি

বিষয়: অনুপস্থিতির কারণে পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১০ই জুন থেকে ১৪ই জুন ২০২৪ পর্যন্ত পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলাম এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। বর্তমানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আজ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে যোগ দিয়েছি। অনুপস্থিত সময়ের পাঠ, বাড়ির কাজ ও শ্রেণিকাজ সহপাঠীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার উপস্থিতির রেকর্ডে উল্লিখিত দিনগুলো অনুমোদিত ছুটি হিসেবে গণ্য করার জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করছি।

অতএব, মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন, আমার অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির উল্লিখিত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করবেন।

বিনীত

তামিম

শ্রেণি: দশম

শাখা: ক

রোল: ১২

সংযুক্তি: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের অনুলিপি।

উত্তর

মানপত্র

শ্রদ্ধেয় বিদায়ী ভাই ও বোনেরা,

আজ মাগুরা জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে তোমাদের বিদায়বেলায় আমাদের হৃদয় আনন্দ, গর্ব ও বেদনার মিশ্র অনুভূতিতে পূর্ণ। দীর্ঘ বিদ্যালয়জীবনের পাঠ শেষ করে তোমরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছ। এ মুহূর্তে বিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে তোমাদের পদচারণা আমাদের বহু স্মৃতির অংশ। পড়াশোনায় নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা, বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তোমাদের সাফল্য বিদ্যালয়ের মর্যাদা বাড়িয়েছে। কঠিন পাঠ বুঝিয়ে দেওয়া, নতুন পরিবেশে সাহস জোগানো এবং নানা আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তোমরা আমাদের আপনজন হয়ে উঠেছ। তোমাদের স্নেহ ও সহযোগিতার কথা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব। কখনো অনিচ্ছাকৃত আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকলে ছোট ভাই-বোন হিসেবে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।

প্রিয় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা, সামনে তোমাদের গুরুত্বপূর্ণ এসএসসি পরীক্ষা। নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, সময়ের সঠিক ব্যবহার, সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে পরীক্ষায় অংশ নেবে। শুধু ভালো ফল নয়, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে বিদ্যালয় ও পরিবারের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে যে পথই বেছে নাও, দেশ ও মানুষের কল্যাণে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করবে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেও প্রিয় বিদ্যালয়, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং অনুজদের ভুলে যেয়ো না। তোমাদের সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

পরিশেষে, তোমাদের সুস্বাস্থ্য, পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি। বিদায় কেবল দূরত্বের; হৃদয়ের বন্ধন অটুট থাকুক।

ইতি

তোমাদের স্নেহধন্য অনুজবৃন্দ

মাগুরা জিলা স্কুল

১৫ই জানুয়ারি ২০২৪

৩৬. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর জীবনের অভাব মানুষকে কর্ম, উদ্যম ও সেবার সুযোগ দেয়। নিজের ও অন্যের অভাব পূরণের প্রচেষ্টাতেই বৈচিত্র্য, অগ্রগতি ও মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে; তাই অভাবই কর্ম ও সেবাধর্মের অন্যতম উৎস।
উত্তর পরিশ্রম ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা বা সত্যিকারের গৌরব অর্জিত হয় না। প্রকৃতি সহজে শস্য না দিয়ে মানুষকে শ্রমের সুযোগ দেয়, কারণ নিজের ঘাম ও সাধনায় অর্জিত সাফল্যই মানুষকে মহিমান্বিত করে।
৩৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

বই কেনার অর্থ অপচয় নয়; এটি জ্ঞান, রুচি ও মানবিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। বইয়ের মূল্য ব্যয় হলেও তার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও আনন্দ মানুষের জীবনকে যে সম্পদ দেয়, তার তুলনায় সেই অর্থ অতি সামান্য।

বই মানুষের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয়, কুসংস্কার দূর করে এবং পৃথিবীর নানা মানুষ, দেশ, যুগ ও ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করায়। একটি ভালো বই পাঠককে প্রশ্ন করতে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে শেখায়। পাঠ্যবই পেশাগত যোগ্যতা বাড়ায়, সাহিত্য অনুভূতি ও কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে, আর ইতিহাস ও জীবনী মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা দেয়। বস্তুগত জিনিস ব্যবহারে ক্ষয় হয়, কিন্তু বই বহুবার পড়া যায়, অন্যকে ধার দেওয়া যায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম জ্ঞান ছড়ায়। অপ্রয়োজনীয় বিলাস, ক্ষণস্থায়ী বিনোদন বা বদভ্যাসে যে অর্থ নষ্ট হয়, তার একটি অংশ বইয়ে ব্যয় করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই লাভবান হয়। তবে শুধু বই কিনে তাক সাজালেই সুফল আসে না; বয়স, আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত বই নির্বাচন করে মনোযোগ দিয়ে পড়তে এবং অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে হয়। সামর্থ্য সীমিত হলে পাঠাগার, পুরোনো বইয়ের দোকান, বই বিনিময় বা যৌথ সংগ্রহের মাধ্যমেও পাঠাভ্যাস গড়া সম্ভব।

অতএব, বই কেনায় সামান্য অর্থ কমলেও মানুষ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানসিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ হয়। সত্যিকার অর্থে বই মানুষকে দেউলিয়া করে না; বরং অজ্ঞতার দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে।

উত্তর

অন্যায়কারী এবং অন্যায়ের নীরব সহ্যকারী উভয়েই সমাজের ক্ষতি করে। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সাহস ও বিবেকের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও মানুষের কর্তব্য।

আইন সরাসরি অন্যায়কারীকে অপরাধী হিসেবে শাস্তি দেয়। কিন্তু অন্যায় শুধু একজনের শক্তিতে স্থায়ী হয় না; সহযোগী, উৎসাহদাতা এবং নীরব দর্শকের নিষ্ক্রিয়তাও তাকে সাহস জোগায়। কোনো দুর্বল মানুষের ওপর অত্যাচার হতে দেখে সবাই যদি ভয়ে বা স্বার্থে চুপ থাকে, অপরাধী মনে করে তার কাজে বাধা নেই। এভাবে অন্যায় সহ্য করতে করতে তা সমাজের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয় এবং একদিন নীরব ব্যক্তিও তার শিকার হতে পারে। প্রতিবাদ মানে অবশ্যই হঠকারী সংঘর্ষ নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ সহায়তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো, সাক্ষ্য দেওয়া এবং আইনসম্মত সম্মিলিত প্রতিরোধই দায়িত্বশীল পথ। নিজের নিরাপত্তা বিবেচনা করে অন্যের সাহায্য নেওয়াও বিচক্ষণতা। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস শেখাতে হবে। রাষ্ট্রকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভয় মানুষের বিবেককে নীরব না করে।

অতএব, অন্যায় করা যেমন নিন্দনীয়, সুবিধা বা ভয়ের কারণে তা মেনে নেওয়াও তেমনি বিবেকের অপরাধ। সচেতন, সাহসী ও আইননিষ্ঠ প্রতিবাদই অন্যায়ের বিস্তার রোধ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারে।

৩৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:
উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

মানুষ জ্ঞান, আনন্দ, বিশ্রাম বা নতুন অভিজ্ঞতার জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। পর্যটকের যাতায়াত, আবাসন, খাদ্য, বিনোদন, পথনির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট সেবাকে কেন্দ্র করে যে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলা হয়। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বহুমাত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে এ শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক আকর্ষণ

বাংলাদেশের দক্ষিণে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, অসংখ্য নদী, হাওর, বন, পাহাড় ও দ্বীপ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কক্সবাজারের বিস্তৃত বালুকাবেলা, কুয়াকাটার সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ও বন্য প্রাণী, সেন্ট মার্টিনের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ, সিলেটের চা-বাগান ও হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্ষা, শরৎ, শীত ও বসন্তে প্রকৃতির ভিন্ন রূপ দেশীয় পর্যটনকে সারা বছর প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ

পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরী, মহাস্থানগড়, ময়নামতি, সোনারগাঁ, লালবাগ কেল্লা এবং আহসান মঞ্জিল দেশের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থান ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি করে। বাঙালির নববর্ষ, নবান্ন, লোকসংগীত, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, আঞ্চলিক খাবার এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবন ও উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

পর্যটন শিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, বিনোদন ও পথনির্দেশক সেবায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পর্যটকের ব্যয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, চালক ও উদ্যোক্তার আয় বাড়ায় এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ও সেবার উন্নয়ন ঘটায়। বিদেশি পর্যটক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন। পরিকল্পিত পর্যটন গ্রামীণ নারী ও তরুণদের হোমস্টে, খাবার, নৌভ্রমণ, স্থানীয় পণ্য ও গাইডসেবায় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

বর্তমান সমস্যা

অনেক পর্যটনস্থলে নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, মানসম্মত আবাসন, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জরুরি চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া, হয়রানি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সমন্বয়হীন প্রচারণা পর্যটকের আস্থা কমায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, পাহাড় কাটা, প্রবাল ও বন্য প্রাণীর ক্ষতি, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় পরিবেশ ও স্থানীয় জীবনে চাপ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ দুর্বল হলে অপূরণীয় ঐতিহ্যও নষ্ট হয়।

উন্নয়নের করণীয়

দেশের পর্যটন সম্পদের সমন্বিত তালিকা ও দীর্ঘমেয়াদি অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগ, নিরাপদ আবাসন, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল বুকিং সুবিধা উন্নত করতে হবে। পর্যটনকর্মীদের ভাষা, আতিথেয়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য সত্যনিষ্ঠ বহুভাষিক প্রচারণা, সহজ তথ্য এবং স্বচ্ছ মূল্যতালিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্নস্থল রক্ষায় বিশেষজ্ঞ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন

পর্যটনের উন্নয়ন যেন প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। সংবেদনশীল বন, দ্বীপ ও পাহাড়ে দর্শনার্থীর ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বন্য প্রাণী বিরক্ত করা বন্ধ করতে হবে। পর্যটককে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, স্থানীয় রীতি সম্মান এবং প্রত্নসম্পদ স্পর্শ বা ক্ষতি না করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আয়ের ন্যায্য অংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছালে তারাই সম্পদ সংরক্ষণের অংশীদার হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ-ঐতিহ্য সংরক্ষণ একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে এ সম্ভাবনা টেকসই জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

উত্তর

ভূমিকা

মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক সর্বনাশা সমস্যা। যে তরুণ সমাজ দেশের ভবিষ্যৎ, মাদকের করাল গ্রাস তাদের স্বাস্থ্য, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস করে জাতীয় উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদক সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

মাদক ও মাদকাসক্তি

যেসব প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণে সাময়িক উত্তেজনা, অবসাদ বা চেতনার পরিবর্তন ঘটে এবং বারবার গ্রহণের তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়, সেগুলো মাদক। চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে কিছু মাদকজাত উপাদান ওষুধ হিসেবে কাজে লাগলেও অপব্যবহার দেহ ও মনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতার অবস্থাই মাদকাসক্তি।

মাদকাসক্তির কারণ

কৌতূহল, সঙ্গদোষ, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, বেকারত্ব, ব্যর্থতা ও নিঃসঙ্গতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে। কেউ ভুলভাবে একে আধুনিকতা বা সাহসের পরিচয় মনে করে। পরিবারে নজরদারি ও স্নেহের অভাব, সুস্থ বিনোদনের স্বল্পতা এবং মাদকের সহজলভ্যতা ঝুঁকি বাড়ায়। অসাধু ব্যবসায়ীচক্র তরুণদের লক্ষ্য করে মাদক ছড়িয়ে বিপুল অবৈধ মুনাফা অর্জন করে।

শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি

দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষুধা, ঘুম, স্মৃতি, বিচারবোধ ও কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়; উদ্বেগ, বিষণ্নতা, সন্দেহপ্রবণতা ও সহিংস আচরণ দেখা দিতে পারে। একই মাদক থেকে আগের অনুভূতি পেতে ক্রমে বেশি মাত্রা দরকার হয় এবং হঠাৎ বন্ধ করলে তীব্র প্রত্যাহারজনিত সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মাত্রা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

পরিবার ও সমাজে প্রভাব

আসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনা বা কর্মক্ষেত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ও মাদক কেনার ব্যয়ে পরিবার অর্থসংকটে পড়ে। অর্থ জোগাতে কেউ চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা বা সহিংস অপরাধে জড়ায়। পরিবারে অবিশ্বাস, কলহ ও নির্যাতন বাড়ে; শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যাহত হয়। মাদক ব্যবসা দুর্নীতি, চোরাচালান ও সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করে সমাজের শান্তি নষ্ট করে।

প্রতিরোধের উপায়

সীমান্ত, পরিবহন ও বিপণনচক্রে কঠোর নজরদারি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, জীবনদক্ষতা শিক্ষা ও পরামর্শসেবা চালু করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের আচরণ, মানসিক পরিবর্তন ও বন্ধুবৃত্তের প্রতি যত্নশীল হতে হবে; তবে সন্দেহ বা অপমান নয়, আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ গড়তে হবে। খেলাধুলা, পাঠাগার, সংস্কৃতিচর্চা, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান তরুণদের সুস্থ জীবনে যুক্ত রাখে। গণমাধ্যমকে মাদকের ক্ষতি তুলে ধরতে হবে, কিন্তু মাদক গ্রহণকে আকর্ষণীয় করে এমন উপস্থাপনা এড়াতে হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

মাদকাসক্তি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা; শুধু শাস্তি বা ঘৃণায় এর সমাধান হয় না। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শারীরিক চিকিৎসা, মনোসামাজিক পরামর্শ, প্রয়োজনে ওষুধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন দরকার। চিকিৎসার পর পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, শিক্ষা বা কর্মে পুনঃসংযোগ এবং নিয়মিত অনুসরণ আসক্তিকে ফিরে আসা থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। অননুমোদিত বা নির্যাতনমূলক কেন্দ্রের বদলে মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের ভূমিকা

প্রথম প্রস্তাবেই দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা, মাদকাসক্ত বন্ধুকে গোপনে উৎসাহ না দিয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া এবং মাদকবিরোধী সচেতনতায় অংশ নেওয়া তরুণদের কর্তব্য। আত্মমর্যাদা, সঠিক বন্ধু নির্বাচন ও জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্য মাদকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করে।

উপসংহার

মাদক নির্মূল কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ নয়; পরিবার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত দায়িত্ব। সরবরাহ বন্ধ, ঝুঁকির কারণ দূর, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

৩৯. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে যে ঐতিহ্যবাহী লোকমেলা বসে, তাকে বৈশাখী মেলা বলে। পহেলা বৈশাখে শহর ও গ্রামের মাঠ, হাট, নদীতীর কিংবা খোলা প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কোথাও মেলা এক দিন, আবার কোথাও কয়েক দিন বা সপ্তাহব্যাপী চলে। নতুন পোশাকে নানা বয়সের মানুষ মেলায় এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেয়। মেলার দোকানে মাটির পুতুল ও বাসন, বাঁশ-বেতের সামগ্রী, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, খেলনা, অলংকার ও নানা কুটিরশিল্পের পণ্য বিক্রি হয়। মুড়ি-মুড়কি, খই, বাতাসা, জিলাপি ও দেশীয় মিষ্টির দোকান শিশু-কিশোরদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। নাগরদোলা, পুতুলনাচ, যাত্রাপালা, লোকগান, লাঠিখেলা ও গ্রামীণ ক্রীড়া মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বৈশাখী মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশীয় কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ মেলায় বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে। তবে ভিড়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসম্মত পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। অপসংস্কৃতি ও অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা থেকে মুক্ত রেখে বৈশাখী মেলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করলেই নতুন প্রজন্ম বাংলার শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
উত্তর ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ দিনের জন্ম। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অগণিত মানুষের ত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করে। এ দিন শুধু আনন্দের নয়; স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নবায়নের দিন। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।
৪০. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

১৫ই জুন ২০২৩

শেরপুর

প্রিয় মিতা,

আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। গত সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের যে আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তোমাকে জানাতে আজ লিখছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে আমরা কুমিল্লার ময়নামতি শালবন বিহার দেখতে গিয়েছিলাম। খুব ভোরে শেরপুর থেকে বাসে রওনা হয়ে সকালে সেখানে পৌঁছাই। লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের সবুজ উঁচু ভূমির মধ্যে অবস্থিত এ প্রত্নস্থল একসময়ের প্রাচীন বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ। প্রবেশের পর চারদিকে সারিবদ্ধ ভিক্ষুকক্ষ, মাঝখানে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভিত্তি, ইটের অলংকরণ ও পুরোনো স্থাপনার বিন্যাস দেখে আমরা বিস্মিত হই। একজন পথপ্রদর্শক খননে পাওয়া পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, শিলালিপি ও অন্যান্য নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন। পাশের ময়নামতি জাদুঘরে সংরক্ষিত মূর্তি, ধাতব সামগ্রী, মুদ্রা ও টেরাকোটা দেখে সে সময়ের ধর্ম, শিল্প ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাই। পাঠ্যবইয়ে পড়া ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার অনুভূতি ছিল অসাধারণ। পরিষ্কার পরিবেশ ও নীরব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করেছে। ফেরার পথে মনে হয়েছে, অতীতের পরিচয় বহনকারী এসব পুরাকীর্তি রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সুযোগ পেলে তুমিও স্থানটি দেখে এসো। তোমার মা-বাবাকে আমার সালাম দেবে।

ইতি

তোমার বন্ধু

মারিয়া

উত্তর

১৫ই জুন ২০২৩

চেয়ারম্যান

পটিয়া উপজেলা পরিষদ

পটিয়া, চট্টগ্রাম

বিষয়: এলাকায় একটি পাঠাগার স্থাপনের আবেদন।

মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এলাকায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও আগ্রহী পাঠক থাকলেও সবার ব্যবহারের উপযোগী কোনো পাঠাগার নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরের সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও তথ্যবিষয়ক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষও পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে পারছেন না। একটি সুশৃঙ্খল পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বাড়বে এবং তরুণেরা অবসর সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দারা বই সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবায় সহযোগিতা করতেও আগ্রহী।

অতএব, আমাদের এলাকায় উপযুক্ত স্থানে একটি গণপাঠাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় বই, আসবাব ও পাঠকক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত

প্রত্যয়

পটিয়া, চট্টগ্রাম।

৪১. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর সুবিধাবাদী মানুষ কেবল সুখ ও সমৃদ্ধির সময় বন্ধুত্ব ও সান্নিধ্য দেখায়; দুঃখ, অভাব বা বিপদে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই সুসময়ের এমন বন্ধুর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত সহমর্মীকে চিনতে হয়।
উত্তর শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ওপর মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও শোষণ সহ্য করলেও তারাই প্রকৃত মানুষ ও সম্মানের যোগ্য; তাদের জাগরণেই ঋণমুক্ত নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক দিনের সূচনা হবে।
৪২. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ করো:
উত্তর

মানুষের জীবনের সার্থকতা দীর্ঘ আয়ুতে নয়, মানবকল্যাণমূলক ও মহৎ কর্মে। যে ব্যক্তি নিজের কাজের দ্বারা দেশ, সমাজ ও মানুষের উপকার করেন, তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসায় বেঁচে থাকেন।

মানুষ মরণশীল; তাই কেবল বহু বছর বেঁচে থাকলেই জীবন অর্থবহ হয় না। অনেকে দীর্ঘ জীবন লাভ করেও এমন কোনো কাজ করেন না, যার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের স্মরণ করবে। বিপরীতে স্বল্পায়ু বহু মানুষ জ্ঞান, সাহিত্য, বিজ্ঞান, স্বাধীনতা ও মানবসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়েছেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করেও তাঁর সৃষ্টির জন্য আজও স্মরণীয়। ভাষাশহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অসংখ্য তরুণ তাঁদের কর্ম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অমর হয়েছেন। মানুষের দেহের জীবন সীমিত, কিন্তু একটি সৎ কাজ সমাজে নতুন কাজের অনুপ্রেরণা জাগায় এবং তার প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তৃত হয়। তাই অলস দীর্ঘায়ুর চেয়ে অল্প সময়ের কর্মময়, সৎ ও কল্যাণকর জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।

অতএব, বয়সের সংখ্যা নয়, কর্মের গুণ ও কল্যাণকর প্রভাবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহৎ কর্মে জীবনকে পূর্ণ করতে পারলেই মানুষ মৃত্যুকে অতিক্রম করে স্মরণীয় ও চিরজীবী হয়ে থাকে।

উত্তর

বইয়ের পাতায় আবদ্ধ জ্ঞান এবং অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ প্রয়োজনের সময় কোনো কাজে আসে না। বিদ্যাকে বুঝে আত্মস্থ ও প্রয়োগ করতে হয়, আর ধনকে নিজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও ব্যবস্থাপনায় রাখতে হয়।

মানুষের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও সৃজনশীল চিন্তা বইয়ে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু কেবল বই কেনা, তাক সাজানো বা পরীক্ষার জন্য কিছু কথা মুখস্থ করাকে প্রকৃত শিক্ষা বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমস্যা সমাধান, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানবকল্যাণ এবং নিজের আচরণ উন্নত করতে না পারলে সে বিদ্যা নিষ্ক্রিয় থেকে যায়। একজন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম মুখস্থ করেও রোগীর ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে না জানলে যেমন চিকিৎসক হতে পারেন না, তেমনি নৈতিকতার কথা পড়ে আচরণে অসততা রাখলে তার শিক্ষা অর্থহীন। ধনের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। নিজের নামে বিপুল সম্পদ থাকলেও যদি তা অন্যের হাতে এমনভাবে থাকে যে জরুরি সময়ে ব্যবহার করা যায় না, তবে সেই সম্পদ কার্যত নিজের নয়। তবে জ্ঞান ভাগ করলে কমে না, বরং বাড়ে; আর সম্পদ বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনায় অন্যের কাছে রাখা দোষ নয়। মূল কথা হলো প্রয়োজনের সময় জ্ঞান ও সম্পদের ওপর সচেতন অধিকার, সঠিক বোঝাপড়া এবং কার্যকর ব্যবহারের ক্ষমতা থাকতে হবে।

অতএব, গ্রন্থপাঠের সার্থকতা জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগে এবং সম্পদের সার্থকতা যথাসময়ে কল্যাণকর ব্যবহারে। আত্মস্থ বিদ্যা ও নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন ধনই মানুষের প্রকৃত সহায়।

৪৩. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

ঠিক সময়ে ঠিক কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাসই সময়ানুবর্তিতা। সময় মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান অথচ সীমিত সম্পদ; হারানো অর্থ বা সম্পদ ফিরে পাওয়া গেলেও অতিবাহিত একটি মুহূর্ত কখনো ফিরে আসে না। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সাফল্য, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার অন্যতম ভিত্তি সময়ানুবর্তিতা।

সময়ের বৈশিষ্ট্য

সময় নদীর স্রোতের মতো নিরন্তর প্রবাহমান। পৃথিবীর কোনো শক্তি তার গতি থামাতে পারে না। নদীর পানি জোয়ারে ফিরে এলেও চলে যাওয়া সময় আর ফেরে না। যথাসময়ে না করা কাজ পরে বহু চেষ্টা করেও একই ফল দেয় না; তাই বলা হয়, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়।’

মানবজীবনে সময়ের মূল্য

মানবজীবন সীমিত, অথচ কর্তব্যের পরিধি বিস্তৃত। শিক্ষা, জীবিকা, পরিবার, সমাজসেবা ও আত্মউন্নয়নের সব কাজ এই অল্প সময়ের মধ্যেই করতে হয়। যে ব্যক্তি কাজ ফেলে না রেখে যথাসময়ে সম্পন্ন করেন, তিনি উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পারেন। সময়ের অপচয় আসলে জীবনেরই অপচয়।

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তির গুণ

সময়নিষ্ঠ মানুষ পরিকল্পিত, দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য হন। তিনি প্রতিশ্রুত সময়ে উপস্থিত হন, কাজের অগ্রাধিকার বোঝেন এবং সময়সীমা মেনে দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে অন্যের আস্থা অর্জন করেন এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়কদের সাফল্যের পেছনে প্রতিভার পাশাপাশি নিয়মিত ও সময়নিষ্ঠ পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতা

ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতিকাল। এ সময়ে পড়াশোনা, পুনরাবৃত্তি, খেলাধুলা, বিশ্রাম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সুষম সময়সূচি তৈরি করা উচিত। প্রতিদিনের পাঠ প্রতিদিন শেষ করলে পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, কাজ জমা দেওয়া এবং ঘুমের নিয়ম মানলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকে। শৈশবে গড়া এই অভ্যাস কর্মজীবনেও সফলতা আনে।

জাতীয় জীবনে সময়ের গুরুত্ব

একটি দেশের মানুষ যত সময়নিষ্ঠ, সে দেশের প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবহন ও উন্নয়নকাজ তত দক্ষ হয়। প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হলে ব্যয় বাড়ে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। অফিসে বিলম্ব, সভা দেরিতে শুরু করা বা সেবা পেতে অযথা অপেক্ষাকে স্বাভাবিক মনে করলে জাতীয় কর্মঘণ্টার বিপুল অপচয় ঘটে। তাই সময়ানুবর্তিতা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, উন্নত জাতির পরিচয়।

সময় ব্যবস্থাপনার উপায়

সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্য প্রথমে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর কাজগুলো গুরুত্ব ও জরুরিতা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে প্রতিটির সময়সীমা ঠিক করা দরকার। বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করা, নির্দিষ্ট সময়ে একটিমাত্র কাজে মনোযোগ দেওয়া এবং দিনের শেষে অগ্রগতি পর্যালোচনা কার্যকর অভ্যাস। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিলম্বের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্যও পরিকল্পিত সময় রাখা উচিত, কারণ ক্লান্ত মন দীর্ঘদিন উৎপাদনশীল থাকতে পারে না।

কৃষি ও প্রকৃতিতে সময়ের শিক্ষা

প্রকৃতি সময়ের নিয়মে পরিচালিত। যথাসময়ে বীজ বপন, সেচ ও ফসল সংগ্রহ না করলে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। ঋতুচক্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। মানুষের কাজও উপযুক্ত সময়ে সম্পন্ন হলেই সর্বোত্তম ফল দেয়।

বাধা ও প্রতিকার

আলস্য, লক্ষ্যহীনতা, অবাস্তব পরিকল্পনা, কাজ জমিয়ে রাখা এবং মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় ব্যয় সময়ানুবর্তিতার প্রধান বাধা। ছোট সময়সীমা নির্ধারণ, স্মারক ব্যবহার, কাজের পরিবেশ গুছিয়ে রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে শুরু করার অভ্যাস এসব বাধা দূর করতে পারে। কোনো কাজে বিলম্ব হলে অজুহাত না দিয়ে কারণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরিকল্পনা সংশোধন করা উচিত।

উপসংহার

জীবন ছোট, কিন্তু সৎ ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ অসীম। সময়কে সম্মান করে নিয়মিত পরিশ্রম করলে প্রতিভার বিকাশ, লক্ষ্য অর্জন এবং সমাজের উন্নয়ন সম্ভব হয়। শৈশব থেকেই সময়ানুবর্তিতা চর্চা করে প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলাই সফল জীবনের পথ।

উত্তর

ভূমিকা

কৃষি মানুষের খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ জীবিকার প্রধান ভিত্তি। একসময় কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি, কায়িক শ্রম ও প্রথাগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে এখন অধিক উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী, ঝুঁকিসহনীয় ও বাজারমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করছে।

প্রথাগত কৃষির সীমাবদ্ধতা

দেশি বীজ, কাঠের লাঙল, অনিয়ন্ত্রিত সেচ এবং অনুমাননির্ভর সার ব্যবহারে উৎপাদন কম ও অনিশ্চিত ছিল। খরা, বন্যা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত। ফসল কাটা, মাড়াই, সংরক্ষণ ও পরিবহনে বেশি সময় ও শ্রম লাগত এবং অপচয়ও হতো প্রচুর।

উন্নত বীজ ও কৃষি গবেষণা

উদ্ভিদ প্রজনন ও গবেষণার মাধ্যমে উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি, লবণাক্ততা-, খরা- ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। মানসম্মত বীজ একই জমিতে বেশি ও নির্ভরযোগ্য ফলন দিতে পারে। রোগ শনাক্তকরণ, টিস্যু কালচার, নিরাপদ চারা উৎপাদন এবং স্থানীয় জাতের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণেও বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন জাত ব্যবহারের আগে অঞ্চল, মাটি ও ঋতুর উপযোগিতা যাচাই করা দরকার।

মাটি, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে অম্লতা, পুষ্টি ও জৈব পদার্থের অবস্থা জানা যায়; সে অনুযায়ী সুষম সার দিলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে। কম্পোস্ট, সবুজ সার ও জীবাণুসারের সঙ্গে পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। গভীর ও অগভীর নলকূপ, সেচপাম্প, সৌরচালিত পাম্প, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার প্রযুক্তি প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করে। পানি ধরে রাখা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণ জলসম্পদের অপচয় কমায়।

কৃষিযান্ত্রিকীকরণ

পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, বীজবপন যন্ত্র, ধান রোপণযন্ত্র, রিপার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাড়াইযন্ত্র অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে সাহায্য করে। শ্রমিকের সংকটকালে দ্রুত ফসল কেটে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ঘরে তোলা যায়। ছোট ও খণ্ডিত জমির উপযোগী যন্ত্র, সমবায়ভিত্তিক ব্যবহার ও ভাড়াকেন্দ্র কৃষকের ব্যয় কমাতে পারে।

রোগবালাই ও পোকা দমন

বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় উপকারী পোকা রক্ষা করে জৈব, যান্ত্রিক ও সীমিত রাসায়নিক পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রোগসহিষ্ণু জাত, পরিচ্ছন্ন বীজ, ফসল পর্যায়ক্রম এবং ফেরোমন ফাঁদ কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমায়। নির্বিচার কীটনাশক মানুষ, মাটি, পানি ও পরাগবাহী পোকাকে ক্ষতি করে; তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও নিরাপদ বিরতি মেনে ব্যবহার জরুরি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষককে বপন, সেচ, সার ও ফসল কাটার সময় নির্ধারণে সহায়তা করে। মোবাইল ফোন, কৃষি কলসেন্টার ও অনলাইন সেবায় রোগের ছবি পাঠিয়ে পরামর্শ, বাজারদর এবং দুর্যোগের সতর্কতা পাওয়া যায়। উপগ্রহচিত্র, ড্রোন ও ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা বড় এলাকায় ফসলের স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

উন্নত গুদাম, শীতাগার, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং শীতল পরিবহন ফসল কাটার পরের অপচয় কমায়। দুধ শীতলীকরণ, মাছ ও মাংসের কোল্ড চেইন এবং ফল-সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৃষিপণ্যের মূল্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ডিজিটাল বাজারতথ্য কৃষককে ন্যায্য দাম বুঝতে এবং সরাসরি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে সুফল ও চ্যালেঞ্জ

বৈজ্ঞানিক কৃষিতে ধান, সবজি, ফল, মাছ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বেড়েছে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র জমি, যন্ত্রের উচ্চমূল্য, মানসম্মত বীজের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং ঋণ ও বাজারের সীমাবদ্ধতা প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।

করণীয়

কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের সংযোগ শক্তিশালী করে উদ্ভাবন সহজ ভাষায় কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ, যন্ত্র ভাড়া, মানসম্মত উপকরণ, ফসলবিমা, সংরক্ষণাগার এবং ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা দরকার। নারী ও তরুণ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ভূমি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষাকারী টেকসই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

উপসংহার

বিজ্ঞান কৃষকের অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়; বরং সেই অভিজ্ঞতাকে তথ্য, যন্ত্র ও গবেষণার শক্তিতে সমৃদ্ধ করে। বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কৃষি সবার নাগালে পৌঁছাতে পারলে বাংলাদেশ খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের মর্যাদা ও টেকসই অর্থনীতিতে আরও এগিয়ে যাবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

৪৪. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা করো:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, আদর্শ ও জাতীয় ঐক্যের দৃশ্যমান প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আয়তাকার; এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬। গাঢ় সবুজ জমিনের ওপর রয়েছে একটি রক্তলাল ভরাট বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতি, তারুণ্য ও প্রাণশক্তির পরিচয় বহন করে। লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল; স্বাধীনতার পরে সহজ ও সুস্পষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান নকশা গৃহীত হয়। সরকারি দপ্তর, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় অনুষ্ঠানে ঘরবাড়ি, সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে পতাকা শোভা পায়। রাষ্ট্র ঘোষিত শোকের দিনে নির্ধারিত নিয়মে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা দেশের পরিচয় ও মর্যাদা তুলে ধরে। পতাকা কখনো মাটিতে ফেলা, ছেঁড়া বা মলিন অবস্থায় ব্যবহার, অসম্মানজনক স্থানে টাঙানো কিংবা বাণিজ্যিক সাজসজ্জায় বিকৃত করা উচিত নয়। সঠিক মাপ, রং ও নিয়ম মেনে পতাকা ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পতাকার প্রতি সম্মান শুধু কাপড়ের একটি টুকরোর প্রতি সম্মান নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা।
৪৫. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৪

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।

বিনীত

স্বাগত

শেরপুর।

উত্তর

১০ই জুন ২০২৪

প্রধান শিক্ষক

আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয়

আয়নাপুর, কুমিল্লা

বিষয়: বাংলা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের আবেদন।

মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ৫ই জুন ২০২৪ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, আপনার বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে একজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদের একজন আগ্রহী প্রার্থী। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠদানের আগ্রহ বিবেচনা করে আবেদনটি পেশ করছি।

ব্যক্তিগত তথ্য

নাম: সুমাইয়া আক্তার

পিতার নাম: মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ

মাতার নাম: রওশন আরা বেগম

বর্তমান ঠিকানা: ১২ কলেজ রোড, কুমিল্লা

স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম—আয়নাপুর, ডাকঘর—আয়নাপুর, কুমিল্লা

জন্মতারিখ: ১২ই মার্চ ১৯৯৯

জাতীয়তা: বাংলাদেশি

শিক্ষাগত যোগ্যতা

পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় পাসের বছর ফলাফল
এসএসসি আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা ২০১৫ জিপিএ ৫.০০
এইচএসসি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কুমিল্লা ২০১৭ জিপিএ ৪.৮৩
বিএ (সম্মান), বাংলা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সিজিপিএ ৩.৪৮
এমএ, বাংলা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২২ সিজিপিএ ৩.৫৫

আমি তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার, সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং পাঠপরিকল্পনা তৈরিতে দক্ষ। শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ ভাষাচর্চা, সাহিত্যপাঠ ও সৃজনশীল লেখায় আগ্রহী করে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। সুযোগ পেলে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

অতএব, আমাকে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণের অনুমতি প্রদানের জন্য আপনার সদয় বিবেচনা কামনা করছি।

বিনীত

সুমাইয়া আক্তার

মুঠোফোন: ০১XXXXXXXXX

ই-মেইল: [email protected]

সংযুক্তি

১. জীবনবৃত্তান্ত

২. শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি

৩. জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি

৪. দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি

৪৬. যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর লেখ:
উত্তর চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি। সত্যবাদিতা, বিনয়, ন্যায়বোধ, পরোপকারিতা ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধায় চরিত্র গড়ে ওঠে; চরিত্রের শক্তিতেই মানুষ অন্যের শ্রদ্ধা ও স্থায়ী গৌরব অর্জন করে।
উত্তর শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ওপর মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও শোষণ সহ্য করলেও তারাই প্রকৃত মানুষ ও সম্মানের যোগ্য; তাদের জাগরণেই ঋণমুক্ত নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক দিনের সূচনা হবে।
৪৭. যেকোনো একটি ভাব-সম্প্রসারণ কর:
উত্তর

বিদ্যা মানুষের জ্ঞান বাড়ায়, কিন্তু চরিত্রহীন মানুষের হাতে সেই জ্ঞান কল্যাণের বদলে ক্ষতির অস্ত্র হতে পারে। তাই দুর্জন ব্যক্তি যত বিদ্বানই হোক, তার সঙ্গ ও প্রভাব থেকে দূরে থাকা উচিত।

সত্যবাদিতা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও সংযমহীন মানুষই দুর্জন। উচ্চশিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তা তার অসৎ প্রবৃত্তিকে সব সময় সংশোধন করে না; বরং কখনো সে জ্ঞানকে প্রতারণা, শোষণ ও অন্যায়কে আরও কৌশলী করতে ব্যবহার করে। বিষধর সাপের মাথায় মূল্যবান মণি আছে বলে কেউ তার সান্নিধ্য গ্রহণ করে না, কারণ মণির লোভে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। তেমনি দুর্জনের কাছ থেকে কিছু জ্ঞান বা সুবিধা পাওয়া গেলেও তার সঙ্গ মানুষের চরিত্র, সুনাম ও নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে। সঙ্গ মানুষের চিন্তা ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলে; অসৎ সঙ্গী ধীরে ধীরে অন্যকেও মিথ্যা, লোভ ও অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত করে তোলে। বিপরীতে অল্পশিক্ষিত কিন্তু সৎ মানুষের সাহচর্য বিশ্বাস, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। তবে দুর্জনকে ঘৃণা করে অবিচার করা নয়; তার অন্যায় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, প্রয়োজনে আইনসম্মত প্রতিবাদ করা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই বিবেচকের কাজ।

অতএব, মানুষের মূল্য শুধু বিদ্যায় নয়, সেই বিদ্যার নৈতিক ব্যবহারে। চরিত্রহীন বিদ্বানের ক্ষতিকর সঙ্গ পরিত্যাগ করে সৎ ও কল্যাণপ্রবণ মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের পথ।

উত্তর

ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সৌন্দর্য, কাব্য ও কল্পনার চেয়ে খাদ্যের প্রয়োজনই প্রধান হয়ে ওঠে। জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা অপূর্ণ থাকলে পূর্ণিমার মনোরম চাঁদও তার চোখে খাবারের রুটির মতো প্রতিভাত হয়।

খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক প্রয়োজন। ক্ষুধা শরীরকে দুর্বল করে, চিন্তাকে সংকুচিত করে এবং মানুষের সমস্ত মনোযোগ আহারের সন্ধানে কেন্দ্রীভূত করে। পেট ভরা মানুষের কাছে চাঁদের আলো, ফুলের সৌন্দর্য বা কবিতার ছন্দ আনন্দের উৎস; কিন্তু দীর্ঘদিন অনাহারে থাকা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এসব বিলাসিতা। সে পূর্ণিমার গোল চাঁদে রোমান্টিক সৌন্দর্য নয়, ঝলসানো রুটির আকৃতি দেখে, কারণ তার চেতনা ক্ষুধার যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন। দারিদ্র্য যখন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নেয়, তখন জীবন হয়ে ওঠে কঠিন বাস্তবতার গদ্য; কাব্যের কোমলতা সেখানে স্থান পায় না। এর অর্থ সৌন্দর্যের মূল্য নেই নয়, বরং সৌন্দর্য উপলব্ধির আগে মানুষের ন্যূনতম জীবনধারণের নিশ্চয়তা দরকার। ক্ষুধার্তকে কেবল সৌন্দর্যের কথা শোনানো নিষ্ঠুরতা; আগে তার খাদ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করা মানবিক কর্তব্য।

সুতরাং, ক্ষুধা মানুষের নান্দনিক অনুভূতিকে বাস্তব প্রয়োজনের অধীন করে। সমাজে সাহিত্য-সংস্কৃতির সত্যিকারের বিকাশ চাইলে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৪৮. যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:
উত্তর

ভূমিকা

অর্থ, শ্রম, জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা বিপণনের উদ্যোগ যিনি গ্রহণ করেন, তিনি কৃষি উদ্যোক্তা। কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে শিক্ষিত ও উদ্ভাবনী তরুণদের জন্য এ পেশা আত্মকর্মসংস্থান, নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বড় সুযোগ।

কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা

প্রথাগত কৃষক সাধারণত পরিবারের খাদ্যচাহিদা মেটানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রি করেন। কৃষি উদ্যোক্তা শুরু থেকেই বাজার, ব্যয়, লাভ, ঝুঁকি ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেন। তিনি শুধু ফসল চাষে সীমাবদ্ধ নন; বীজ ও চারা উৎপাদন, মাছ চাষ, দুগ্ধ ও পোলট্রি খামার, মৌচাষ, কৃষিযন্ত্র ভাড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং অনলাইন বিপণনেও উদ্যোগ নিতে পারেন।

উদ্যোগ নির্বাচনের প্রস্তুতি

সফল উদ্যোগের আগে স্থানীয় মাটি, পানি, আবহাওয়া, কাঁচামাল, শ্রম, যোগাযোগ ও বাজারের চাহিদা যাচাই করতে হয়। সম্ভাব্য ক্রেতা, প্রতিযোগী, উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য ও লাভের হিসাবসহ বাস্তবসম্মত ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরি জরুরি। নিজের দক্ষতা ও পুঁজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট পরিসরে শুরু করে ফলাফল বিশ্লেষণের পর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করলে ঝুঁকি কমে।

উদ্যোক্তার গুণাবলি

কৃষি উদ্যোক্তাকে পরিশ্রমী, সৎ, ধৈর্যশীল, উদ্ভাবনী ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে হয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত, হিসাব সংরক্ষণ, শ্রমিক পরিচালনা, দর-কষাকষি এবং ক্রেতার আস্থা অর্জনের দক্ষতা তাঁর দরকার। রোগবালাই, আবহাওয়া ও বাজারদরের পরিবর্তনে বিচলিত না হয়ে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের মানসিকতাও সফলতার শর্ত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার

মানসম্মত বীজ, মাটি পরীক্ষা, সুষম সার, আধুনিক সেচ, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিযন্ত্র উৎপাদন ও খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মোবাইল পরামর্শ, ডিজিটাল হিসাব, অনলাইন বাজার এবং শীতল সংরক্ষণ প্রযুক্তি ঝুঁকি ও অপচয় কমায়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন অতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংকঋণ, সমবায় বা সরকারি সহায়তা থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা যায়। ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধক্ষমতা ও নগদ প্রবাহ হিসাব করা জরুরি। একই খামারে উপযোগী একাধিক পণ্য উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ অবকাঠামো, সঠিক নথি এবং সম্ভব হলে ফসল বা খামারবিমা ক্ষতির ঝুঁকি কমায়।

সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ

কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হওয়ায় পরিচ্ছন্ন সংগ্রহ, মানভিত্তিক বাছাই, উপযুক্ত প্যাকেজিং, গুদাম ও শীতল পরিবহনের ব্যবস্থা দরকার। দুধ থেকে দই, ফল থেকে জ্যাম বা আচার এবং শস্য থেকে প্যাকেটজাত খাদ্য তৈরি করলে মূল্য সংযোজন হয়। মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমবায়, কৃষকের বাজার, চুক্তিভিত্তিক বিক্রি ও অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারে।

বাংলাদেশে সম্ভাবনা

দেশের বিপুল জনসংখ্যা কৃষিপণ্যের বড় বাজার। বৈচিত্র্যময় মাটি ও জলবায়ুতে ধান, সবজি, ফল, ফুল, মাছ, দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতেও সম্ভাবনা বাড়ছে। নারী ও তরুণেরা বাড়ির আঙিনা বা ক্ষুদ্র জমি থেকে নিরাপদ খাদ্য, নার্সারি, মাশরুম বা অনলাইন বিপণনের উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

জমির স্বল্পতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগবালাই, পুঁজির অভাব, অস্থিতিশীল বাজারদর, সংরক্ষণঘাটতি ও মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব উদ্যোক্তাদের প্রধান বাধা। এসব মোকাবিলায় সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, পরীক্ষিত উপকরণ, কৃষি সম্প্রসারণসেবা, কার্যকর শীতাগার, উন্নত পরিবহন এবং স্বচ্ছ বাজারতথ্য নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থার সেবাকে উদ্যোক্তার কাছে সহজে পৌঁছে দিতে হবে।

নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব

খাদ্য মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ভেজাল, ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভুল ওজন বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাভ করা অনৈতিক। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ক্রেতার প্রতি জবাবদিহি একজন কৃষি উদ্যোক্তার মৌলিক দায়িত্ব।

উপসংহার

পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সততা ও বাজারজ্ঞান একত্রিত হলে কৃষি লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। সফল কৃষি উদ্যোক্তা নিজের স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

উত্তর

ভূমিকা

উৎসব মানুষের দৈনন্দিন শ্রম ও একঘেয়েমির মধ্যে আনন্দ, মিলন ও নবজাগরণের বার্তা আনে। নদীমাতৃক, কৃষিনির্ভর ও বহু ধর্ম-সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশে জাতীয়, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঋতুভিত্তিক নানা উৎসব পালিত হয়। এসব উৎসব বাঙালির ইতিহাস, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রাণবন্ত পরিচয় বহন করে।

উৎসবের বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের উৎসবগুলোকে প্রধানত জাতীয়, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও লোকজ উৎসবে ভাগ করা যায়। কোনো উৎসব শোক ও শ্রদ্ধার, কোনোটি বিজয় ও আনন্দের, আবার কোনোটি ফসল, ঋতু বা পারিবারিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ভিন্ন উৎসে জন্ম নিলেও অধিকাংশ উৎসব মানুষকে একত্র করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ায়।

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদদের স্মরণ ও সব মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দিন। ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী মর্যাদা লাভ করেছে।

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস

ছাব্বিশে মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ষোলোই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের দুটি প্রধান জাতীয় উৎসব। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এসব দিন নাগরিককে স্বাধীনতার মূল্য, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়।

বাংলা নববর্ষ

পয়লা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ বৈশাখী শোভাযাত্রা, মেলা, গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজনে অংশ নেয়। ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন এবং গ্রামাঞ্চলে নানা খেলাধুলা ও মেলার আয়োজন হয়। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে অংশগ্রহণের কারণে নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক বাঙালি পরিচয়ের শক্তিশালী প্রতীক।

ধর্মীয় উৎসব

মুসলমানদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। নামাজ, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সেমাই ও খাবার ভাগ করা, ফিতরা ও কোরবানির মাংস বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ ও সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজা, সরস্বতীপূজা ও জন্মাষ্টমী; বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধপূর্ণিমা; খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বড়দিন ও ইস্টার পালন করে। প্রতিবেশীরা পরস্পরের উৎসবে শুভেচ্ছা ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দৃঢ় হয়।

কৃষি ও লোকজ উৎসব

অগ্রহায়ণে নতুন ধান ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। নতুন চালের পিঠা, পায়েস, গান ও মেলায় কৃষকের শ্রমের সাফল্য উদযাপিত হয়। পৌষমেলা, পিঠা উৎসব, নৌকাবাইচ, বলীখেলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ মেলা লোকসংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে। পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু, সাংগ্রাইসহ বর্ষবিদায় ও নববর্ষের উৎসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।

সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব

বিবাহ, জন্মদিন, অন্নপ্রাশন, আকিকা এবং নানা পারিবারিক অনুষ্ঠান আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। বিদ্যালয়ের নবীনবরণ, বিদায়-সংবর্ধনা, বইমেলা ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও মানুষের সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ায়।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাদ্য, হস্তশিল্প, পরিবহন, পর্যটন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কারিগর, কৃষক, শিল্পী ও উদ্যোক্তারা আয়ের সুযোগ পান। লোকগান, নৃত্য, কারুশিল্প ও আঞ্চলিক খাবারের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়। উৎসব তাই আনন্দের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অর্থনীতিরও চালিকাশক্তি।

সমস্যা ও করণীয়

অতিরিক্ত বাণিজ্যিকতা, অপচয়, উচ্চ শব্দ, যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্লাস্টিক বর্জ্য ও নিরাপত্তাহীনতা উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে পারে। কখনো গুজব বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষও সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। তাই আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আড়ম্বরের প্রতিযোগিতা না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া উচিত।

উপসংহার

বাংলাদেশের উৎসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উজ্জ্বল প্রকাশ। ইতিহাসের স্মৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, কৃষিজীবন ও লোকঐতিহ্যকে ধারণ করে এসব উৎসব মানুষকে কাছাকাছি আনে। সম্প্রীতি, সংযম, নিরাপত্তা ও পরিবেশসচেতনতার সঙ্গে উৎসব পালন করলেই তা সত্যিকার অর্থে জাতীয় জীবনকে আনন্দময় ও মানবিক করে তুলবে।

উত্তর

ভূমিকা

প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, বজ্রপাত, পাহাড়ধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

দুর্যোগপ্রবণতার কারণ

বাংলাদেশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্ন বদ্বীপে অবস্থিত। অসংখ্য নদী, নিচু সমতল ভূমি, বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপকূল এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রাখে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন উজাড়, নদী-খাল দখল, দুর্বল জলনিষ্কাশন এবং পাহাড় কাটা মানুষের তৈরি ঝুঁকি বাড়ায়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বন্যা ও নদীভাঙন

বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক বন্যা জমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়ালেও দীর্ঘস্থায়ী বা আকস্মিক বন্যা ফসল, ঘরবাড়ি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি করে। নদীভাঙনে প্রতিবছর বহু মানুষ জমি ও বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়। হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা পাকা ধান নষ্ট করে কৃষকের সারা বছরের জীবিকা বিপন্ন করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানি, লবণাক্ততা, বাঁধভাঙা, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি ঘটে। উপকূলীয় বন ও ম্যানগ্রোভ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও নির্বিচার বৃক্ষনিধন সুরক্ষা দুর্বল করে।

অন্যান্য দুর্যোগ

উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা কৃষি ও পানির সংকট সৃষ্টি করে। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ঘটে; বজ্রপাতে মাঠে কর্মরত মানুষ প্রাণ হারায়। অপরিকল্পিত ও বিধিবহির্ভূত ভবনের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো ভূমিকম্পে বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে। অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা ও তাপপ্রবাহও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নগর দুর্যোগে পরিণত হচ্ছে।

ক্ষয়ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু মানুষ ও সম্পদ নষ্ট হয় না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে রোগ ছড়ায়, নারী ও শিশু নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এবং দরিদ্র মানুষ আরও দারিদ্র্যের মধ্যে চলে যায়। দুর্যোগের মানসিক আঘাতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

প্রস্তুতি ও প্রতিকার

বাংলাদেশ আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবক, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। তবু ঝুঁকিভিত্তিক ভূমি ব্যবহার, টেকসই বাঁধ ও সড়ক, নদী-খাল রক্ষা, নগরের কার্যকর নালা, ভূমিকম্পসহনীয় ভবন এবং উপকূলীয় বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক মহড়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, শুকনা খাবার ও নিরাপদ পানির প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়। সরকার, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগসহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ার পথ।

৪৯. যেকোনো একটি বিষয়ে অনুচ্ছেদ রচনা কর:
উত্তর বইকে কেন্দ্র করে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়, তাকে বইমেলা বলে। নানা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান নতুন ও পুরোনো বই দিয়ে সুসজ্জিত বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে এবং পাঠক একই স্থানে পছন্দের বই দেখার ও কেনার সুযোগ পান। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষাশহিদদের স্মৃতিবাহী এ মেলায় প্রতিদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ, আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা প্রাঙ্গণ ও উপযোগী বই তাদের পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। মেলায় গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও অনুবাদসহ নানা বিষয়ের বই পাওয়া যায়। পাঠক সরাসরি লেখকের স্বাক্ষর নিতে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে বই সম্পর্কে জানতে পারেন। নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ও মানসম্মত পাণ্ডুলিপি প্রকাশের ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ। বই বিক্রির মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্প, মুদ্রণশিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন। তবে অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের বই, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হয়। বইমেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও ভাষা-সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত উৎসব।
উত্তর জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, আদর্শ ও জাতীয় ঐক্যের দৃশ্যমান প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আয়তাকার; এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬। গাঢ় সবুজ জমিনের ওপর রয়েছে একটি রক্তলাল ভরাট বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতি, তারুণ্য ও প্রাণশক্তির পরিচয় বহন করে। লাল বৃত্ত উদীয়মান সূর্য এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল; স্বাধীনতার পরে সহজ ও সুস্পষ্ট রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান নকশা গৃহীত হয়। সরকারি দপ্তর, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় অনুষ্ঠানে ঘরবাড়ি, সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে পতাকা শোভা পায়। রাষ্ট্র ঘোষিত শোকের দিনে নির্ধারিত নিয়মে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা দেশের পরিচয় ও মর্যাদা তুলে ধরে। পতাকা কখনো মাটিতে ফেলা, ছেঁড়া বা মলিন অবস্থায় ব্যবহার, অসম্মানজনক স্থানে টাঙানো কিংবা বাণিজ্যিক সাজসজ্জায় বিকৃত করা উচিত নয়। সঠিক মাপ, রং ও নিয়ম মেনে পতাকা ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পতাকার প্রতি সম্মান শুধু কাপড়ের একটি টুকরোর প্রতি সম্মান নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের সম্মিলিত মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা।
৫০. যেকোনো একটি বিষয়ে পত্র লেখ:
উত্তর

তারিখ: ১৫ই জুন ২০২৪

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা

বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য নিচের পত্রটি পাঠাচ্ছি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মূল্যবান প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও সম্পদের ক্ষতি ঘটছে। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অদক্ষ ও ক্লান্ত চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ভাঙা বা অপরিকল্পিত সড়ক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা এর প্রধান কারণ। চালকের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মাদকাসক্তি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়ক দখলও ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক পথচারী ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি দুর্ঘটনায় পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে পুরো পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। প্রতিকারে চালকের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স যাচাই, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, গতিসীমার কঠোর প্রয়োগ এবং সড়কের প্রকৌশলগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা, নিরাপদ গণপরিবহন গড়ে তোলা এবং চালক-পথচারী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পত্রটি প্রকাশের অনুরোধ করছি।

বিনীত

সাদি

ঢাকা।

উত্তর

ঢাকা ছাত্রাবাস

১৫ই জানুয়ারি ২০২৪

স্নেহের মা,

আমার সালাম নিও। আশা করি তুমি, বাবা ও বাড়ির সবাই ভালো আছ। আমিও সুস্থ আছি। সামনে এসএসসি পরীক্ষা বলে পড়াশোনায় খুব ব্যস্ত সময় কাটছে। আমার প্রস্তুতি সম্পর্কে তোমাকে জানিয়ে নিশ্চিন্ত করতেই আজ লিখছি।

বিদ্যালয়ের নির্বাচনি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে প্রতিটি বিষয়ের শক্ত ও দুর্বল অধ্যায়ের তালিকা করেছি। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য প্রতিদিনের সময়সূচি তৈরি করে পড়ছি। সকালে নতুন পাঠ ও সূত্র অনুশীলন করি, বিদ্যালয় থেকে ফিরে সেদিনের পাঠ পুনরাবৃত্তি করি এবং রাতে লিখিত প্রশ্নের উত্তর ও নমুনা পরীক্ষা দিই। গণিত ও ইংরেজির যেসব অংশে ভুল বেশি হতো, সেগুলো বিষয়শিক্ষকের কাছে বুঝে নিয়েছি। গত কয়েক বছরের বোর্ড প্রশ্ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান করছি এবং ভুলগুলো আলাদা খাতায় লিখে আবার অনুশীলন করছি। সব বিষয়ের প্রথম পুনরাবৃত্তি শেষ হয়েছে; এখন দ্বিতীয় পুনরাবৃত্তি ও পূর্ণাঙ্গ মডেল পরীক্ষার পর্যায় চলছে।

শুধু দীর্ঘ সময় পড়া নয়, মনোযোগ ও সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছি। নিয়মিত ঘুম, পরিমিত খাবার ও অল্প ব্যায়ামের অভ্যাস রাখছি এবং অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করেছি। পরীক্ষার আগে কোনো নতুন চাপ না নিয়ে সংক্ষিপ্ত নোট, সূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঝালাই করব। প্রবেশপত্র, কলম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগেই গুছিয়ে রাখব। তোমরা আমার জন্য চিন্তা কোরো না; সৎভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তোমার দোয়া ও আশীর্বাদ পেলে নিশ্চয়ই ভালো ফল করতে পারব।

বাবাকে সালাম এবং ছোটদের স্নেহ দেবে। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।

ইতি

তোমার স্নেহের

নিখিল

১৯৫টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টি দেখানো হচ্ছে