অংশ-(i) :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
অংশ-(ii): আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও তাঁর পরম উপকারীর প্রতি নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই বন্দি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।
খলিফা জানতে পারেন যে দামেস্কের এই বন্দি ব্যক্তিটিই একসময় আলীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আজ আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে খলিফার ক্রোধ থেকে সেই ব্যক্তির জীবনভিক্ষা চাইলেন। আলীর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাকুলতা খলিফার মন গলিয়ে দেয় এবং তিনি বন্দিকে মুক্তি দেন। তাই আলীর উদ্যোগের কারণেই বস্তুত বন্দির জীবন রক্ষা পেয়েছিল।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ নিজের স্বার্থ ও জীবন বিসর্জন দিয়ে পরের উপকারে আত্মনিয়োগ করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অজ্ঞাত মহানুভব ব্যক্তির পরোপকারী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং রাজরোষের চরম ঝুঁকি নিয়ে আলীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা একটুও ভাবেননি।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কামিনী রায়ের 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি' চরণেও অন্যের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের কথা বলা হয়েছে, যা দামেস্কের আশ্রয়দাতার মহৎ চরিত্রের সাথেই সরাসরি মেলে।
মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। অংশ-(ii)-এর মূলভাব হলো অপকারীর অপকার ভুলে তাকেও ভালোবাসা ও তার ঘর বাঁধা (শত্রুকে ক্ষমা ও প্রতিদান), পক্ষান্তরে আলী ইবনে আব্বাসের বৈশিষ্ট্য হলো উপকারীর ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতার সাথে তার জীবন রক্ষা করা।
'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রটি হলো উপকারের যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার অর্থাৎ 'কৃতজ্ঞতাবোধের' এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দামেস্কের ব্যক্তি আলীর উপকার করেছিলেন, তাই আলী তাঁর ঋণ শোধ করতে জীবন বাজি রেখেছেন। এখানে কোনো শত্রুতা বা অপকারের বিষয় ছিল না।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতার চরণে যিনি ঘর ভেঙেছেন বা ক্ষতি করেছেন, তার প্রতিও প্রেম ও ক্ষমা প্রদর্শনের এক মহত্তর সাধনার কথা বলা হয়েছে।
উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীর অপকার সহ্য করে তাকে ভালোবাসা— এই দুইয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, অংশ-(ii)-এর ভাববস্তুর সাথে আলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি এক নয়।
অংশ-(i) :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
অংশ-(ii): আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও তাঁর পরম উপকারীর প্রতি নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই বন্দি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।
খলিফা জানতে পারেন যে দামেস্কের এই বন্দি ব্যক্তিটিই একসময় আলীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আজ আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে খলিফার ক্রোধ থেকে সেই ব্যক্তির জীবনভিক্ষা চাইলেন। আলীর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাকুলতা খলিফার মন গলিয়ে দেয় এবং তিনি বন্দিকে মুক্তি দেন। তাই আলীর উদ্যোগের কারণেই বস্তুত বন্দির জীবন রক্ষা পেয়েছিল।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ নিজের স্বার্থ ও জীবন বিসর্জন দিয়ে পরের উপকারে আত্মনিয়োগ করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অজ্ঞাত মহানুভব ব্যক্তির পরোপকারী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং রাজরোষের চরম ঝুঁকি নিয়ে আলীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা একটুও ভাবেননি।
উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কামিনী রায়ের 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি' চরণেও অন্যের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের কথা বলা হয়েছে, যা দামেস্কের আশ্রয়দাতার মহৎ চরিত্রের সাথেই সরাসরি মেলে।
মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। অংশ-(ii)-এর মূলভাব হলো অপকারীর অপকার ভুলে তাকেও ভালোবাসা ও তার ঘর বাঁধা (শত্রুকে ক্ষমা ও প্রতিদান), পক্ষান্তরে আলী ইবনে আব্বাসের বৈশিষ্ট্য হলো উপকারীর ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতার সাথে তার জীবন রক্ষা করা।
'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রটি হলো উপকারের যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার অর্থাৎ 'কৃতজ্ঞতাবোধের' এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দামেস্কের ব্যক্তি আলীর উপকার করেছিলেন, তাই আলী তাঁর ঋণ শোধ করতে জীবন বাজি রেখেছেন। এখানে কোনো শত্রুতা বা অপকারের বিষয় ছিল না।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতার চরণে যিনি ঘর ভেঙেছেন বা ক্ষতি করেছেন, তার প্রতিও প্রেম ও ক্ষমা প্রদর্শনের এক মহত্তর সাধনার কথা বলা হয়েছে।
উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীর অপকার সহ্য করে তাকে ভালোবাসা— এই দুইয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, অংশ-(ii)-এর ভাববস্তুর সাথে আলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি এক নয়।