প্রত্যুপকার

১. চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।
উত্তর ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ হলো উপকারীর উপকার করা।
উত্তর খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মুখে তাঁর প্রাণরক্ষাকারী দামেস্কের অধিবাসীর মহানুভবতার কথা শুনে অভিভূত হয়ে কিছুক্ষণ মৌন বা নীরব হয়ে ছিলেন। পাঠ্যাংশে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আলী ইবনে আব্বাসকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিই বন্দি হয়ে খলিফার দরবারে উপস্থিত হলে, আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রাণভিক্ষা চেয়ে খলিফার কাছে ঘটনাটি খুলে বলেন। খলিফা মহামতি ও অতি উন্নতচিত্ত পুরুষ ছিলেন বলে এই নিঃস্বার্থ উপকারের কথা শুনে তাঁর হৃদয় গভীরভাবে প্রভাবিত হয় এবং তিনি কিছুক্ষণের জন্য মৌনাবলম্বন করেন।
উত্তর উদ্দীপকের বন্দির ঘটনাটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসকে দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি কর্তৃক আশ্রয় প্রদান করে জীবন বাঁচানোর ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাঠ্য গল্পে দেখা যায়, খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক তাড়া খেয়ে পদচ্যুত শাসনকর্তা আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কের এক অপরিচিত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই ব্যক্তি নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও আলী ইবনে আব্বাসকে পরম যত্নে আশ্রয় দেন এবং পরে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেন। এখানে ওই অপরিচিত ব্যক্তির নিঃস্বার্থ পরোপকারের দিকটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের বন্দি ব্যক্তিটিও ঠিক একইভাবে দশ বছর আগে চৌকিদার আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল এবং নিজের বাড়িতে নিয়ে তার সেবা-যত্ন করে জীবন রক্ষা করেছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বন্দি ব্যক্তির নিঃস্বার্থভাবে প্রাণ বাঁচানোর এই ঘটনাটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অধিবাসীর দ্বারা আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষার মহৎ ঘটনাটির সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্তর আমি মনে করি, উদ্দীপকের আমজাদ ও 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও মানসিকতা ও কৃতজ্ঞতাবোধের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ আলাদা, অর্থাৎ তারা একরকম নয়। পাঠ্যাংশে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস তাঁর জীবন রক্ষাকারী দামেস্কের অধিবাসীকে যখন বন্দি অবস্থায় পান, তখন তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তাঁর উপকারের প্রতিদান বা প্রত্যুপকার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি খলিফার ক্রোধের শিকার হওয়ার ভয় না করে স্পষ্ট ভাষায় তাঁর প্রাণরক্ষাকারীর পক্ষে সুপারিশ করেন এবং তাঁকে মুক্ত করেন। এর মাধ্যমে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা, মহানুভবতা ও সাহসিকতার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে উদ্দীপকেও আমজাদ দশ বছর আগে বর্তমান বন্দির দ্বারা তার সন্তানের জীবন রক্ষার মতো বিশাল উপকার পেয়েছিল। কিন্তু যখন সেই উপকারী ব্যক্তিটি আজ বন্দি অবস্থায় তার সামনে উপস্থিত, তখন আমজাদ নিজের চাকরির ক্ষতি বা বিপদের কথা ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে থাকে। এখানে আমজাদের চরম স্বার্থপরতা ও অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তাই বলা যায়, পাঠ্যাংশ ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের বিষয়টি থাকলেও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। আলী ইবনে আব্বাস যেখানে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে উপকারীর প্রত্যুপকার করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, সেখানে আমজাদ সামান্য ক্ষতির ভয়ে উপকারীর প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা দেখিয়েছে। এদিক থেকে বিচার করলে প্রশ্নের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ—তারা দুজনে মোটেই একরকম নয়।
২.

অংশ-(i) :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

অংশ-(ii): আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

উত্তর 'প্রত্যুপকার' গল্পে বন্দি লোকটির জন্মস্থান ছিল দামেস্ক নগর।
উত্তর

খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও তাঁর পরম উপকারীর প্রতি নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই বন্দি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।

খলিফা জানতে পারেন যে দামেস্কের এই বন্দি ব্যক্তিটিই একসময় আলীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আজ আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে খলিফার ক্রোধ থেকে সেই ব্যক্তির জীবনভিক্ষা চাইলেন। আলীর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাকুলতা খলিফার মন গলিয়ে দেয় এবং তিনি বন্দিকে মুক্তি দেন। তাই আলীর উদ্যোগের কারণেই বস্তুত বন্দির জীবন রক্ষা পেয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ নিজের স্বার্থ ও জীবন বিসর্জন দিয়ে পরের উপকারে আত্মনিয়োগ করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অজ্ঞাত মহানুভব ব্যক্তির পরোপকারী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।

'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং রাজরোষের চরম ঝুঁকি নিয়ে আলীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা একটুও ভাবেননি।

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কামিনী রায়ের 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি' চরণেও অন্যের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের কথা বলা হয়েছে, যা দামেস্কের আশ্রয়দাতার মহৎ চরিত্রের সাথেই সরাসরি মেলে।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। অংশ-(ii)-এর মূলভাব হলো অপকারীর অপকার ভুলে তাকেও ভালোবাসা ও তার ঘর বাঁধা (শত্রুকে ক্ষমা ও প্রতিদান), পক্ষান্তরে আলী ইবনে আব্বাসের বৈশিষ্ট্য হলো উপকারীর ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতার সাথে তার জীবন রক্ষা করা।

'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রটি হলো উপকারের যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার অর্থাৎ 'কৃতজ্ঞতাবোধের' এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দামেস্কের ব্যক্তি আলীর উপকার করেছিলেন, তাই আলী তাঁর ঋণ শোধ করতে জীবন বাজি রেখেছেন। এখানে কোনো শত্রুতা বা অপকারের বিষয় ছিল না।

অন্যদিকে, উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতার চরণে যিনি ঘর ভেঙেছেন বা ক্ষতি করেছেন, তার প্রতিও প্রেম ও ক্ষমা প্রদর্শনের এক মহত্তর সাধনার কথা বলা হয়েছে।

উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীর অপকার সহ্য করে তাকে ভালোবাসা— এই দুইয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, অংশ-(ii)-এর ভাববস্তুর সাথে আলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি এক নয়।

৩.

অংশ-(i) :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

অংশ-(ii): আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

উত্তর 'প্রত্যুপকার' গল্পে বন্দি লোকটির জন্মস্থান ছিল দামেস্ক নগর।
উত্তর

খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের মহানুভবতা ও তাঁর পরম উপকারীর প্রতি নিখাদ কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই বন্দি ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে ক্ষমা করে মুক্তি দিয়েছিলেন বোঝাতে এ কথা বলেছেন।

খলিফা জানতে পারেন যে দামেস্কের এই বন্দি ব্যক্তিটিই একসময় আলীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আজ আলী নিজের জীবন বিপন্ন করে খলিফার ক্রোধ থেকে সেই ব্যক্তির জীবনভিক্ষা চাইলেন। আলীর এই ঋণ পরিশোধের ব্যাকুলতা খলিফার মন গলিয়ে দেয় এবং তিনি বন্দিকে মুক্তি দেন। তাই আলীর উদ্যোগের কারণেই বস্তুত বন্দির জীবন রক্ষা পেয়েছিল।

উত্তর

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ নিজের স্বার্থ ও জীবন বিসর্জন দিয়ে পরের উপকারে আত্মনিয়োগ করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'প্রত্যুপকার' গল্পের দামেস্কের অজ্ঞাত মহানুভব ব্যক্তির পরোপকারী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।

'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের সেই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে সম্পূর্ণ অপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং রাজরোষের চরম ঝুঁকি নিয়ে আলীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি নিজের স্বার্থের কথা একটুও ভাবেননি।

উদ্দীপকের অংশ-(i)-এ কামিনী রায়ের 'পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি' চরণেও অন্যের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের কথা বলা হয়েছে, যা দামেস্কের আশ্রয়দাতার মহৎ চরিত্রের সাথেই সরাসরি মেলে।

উত্তর

মূল্যায়ন অনুযায়ী মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। অংশ-(ii)-এর মূলভাব হলো অপকারীর অপকার ভুলে তাকেও ভালোবাসা ও তার ঘর বাঁধা (শত্রুকে ক্ষমা ও প্রতিদান), পক্ষান্তরে আলী ইবনে আব্বাসের বৈশিষ্ট্য হলো উপকারীর ঋণ স্বীকার ও কৃতজ্ঞতার সাথে তার জীবন রক্ষা করা।

'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রটি হলো উপকারের যথোপযুক্ত প্রতিদান দেওয়ার অর্থাৎ 'কৃতজ্ঞতাবোধের' এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দামেস্কের ব্যক্তি আলীর উপকার করেছিলেন, তাই আলী তাঁর ঋণ শোধ করতে জীবন বাজি রেখেছেন। এখানে কোনো শত্রুতা বা অপকারের বিষয় ছিল না।

অন্যদিকে, উদ্দীপকের অংশ-(ii)-এ কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কবিতার চরণে যিনি ঘর ভেঙেছেন বা ক্ষতি করেছেন, তার প্রতিও প্রেম ও ক্ষমা প্রদর্শনের এক মহত্তর সাধনার কথা বলা হয়েছে।

উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং অনিষ্টকারীর অপকার সহ্য করে তাকে ভালোবাসা— এই দুইয়ের মনস্তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, অংশ-(ii)-এর ভাববস্তুর সাথে আলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি এক নয়।