অধ্যায়-১: ভূগোল ও পরিবেশ

১. দৃশ্যকল্প-১: পরিবেশে মাটি, বায়ু, পানি, পশুপাখি প্রভৃতি বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-২: পৃথিবীর ভূমিরূপ, মৃত্তিকা, প্রাণিজগৎ, জলবায়ু ইত্যাদি বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-৩: জনসংখ্যা, নগর পরিবেশ ও রাজনৈতিক বিবর্তন এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
উত্তর সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে যে জগৎ গঠিত হয়, তাকে সৌরজগৎ বলে।
উত্তর আহ্নিক গতির কারণে দিন-রাত সংঘটিত হয়। পৃথিবী গতিশীল। পৃথিবী তার নিজস্ব মেরুদণ্ডের বা অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। পৃথিবীর এই আবর্তন গতিকে আহ্নিক গতি বলে। পৃথিবীর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ফলে আলোকিত দিকটি যে অংশে থাকে সেখানে দিন এবং বাকি অংশে রাত হয়। আবার গতির কারণে অন্ধকার দিক আলোতে পড়ে তখন সেখানে দিন এবং দিনের সে অংশ সূর্যের আড়ালে যায় ফলে সেখানে রাত হয়।
উত্তর

দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত বিষয় (মাটি, পানি, বায়ু, পশুপাখি) যা প্রাকৃতিক পরিবেশকে নির্দেশ করে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

প্রাকৃতিক পরিবেশ হলো প্রকৃতির নিজস্ব সৃষ্ট উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু, গাছপালা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত সামগ্রিক অবস্থা, যেখানে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। এটি জৈব ও অজৈব উপাদানের মিথস্ক্রিয়ায় গঠিত, যা মানুষের বেঁচে থাকা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি। এটি প্রকৃতিতে নিজে নিজেই তৈরি হয়, মানুষ এটি তৈরি করে না।

উত্তর

এ দৃশ্যকল্প-২ দ্বারা প্রাকৃতিক ভূগোল ও দৃশ্যকল্প-৩ দ্বারা মানবিক ভূগোলকে বোঝানো হয়েছে। দুটি ভূগোল ভিন্ন রকম। নিম্নে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-

প্রাকৃতিক ভূগোল মূলত প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর ভৌত পরিবেশ যেমন- ভূমি, জলবায়ু, মাটি, উদ্ভিদ ও পানি (অশ্মমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জীবমণ্ডল) নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, মানবিক ভূগোল মানুষের তৈরি এবং মানুষের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এটি পৃথিবীর মানুষের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং বলা যায়, যদিও তারা ভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে, তবুও তারা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে তেমনি মানুষও তার প্রয়োজনে প্রাকৃতিক পরিবেশকে পরিবর্তন করে।

২. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর স্থান ও সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবেশ ও মানুষের মিথস্ক্রিয়া অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করাই ভূগোল।
উত্তর

পরিবেশের যেসব উপাদানের জীবন আছে, সেগুলোকে জীব উপাদান বলে। উদ্ভিদ, প্রাণী, মানুষ ও অণুজীবের সমন্বয়ে পরিবেশের জীব উপাদান গঠিত হয়।

বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদ উৎপাদক, প্রাণী ও মানুষ ভোক্তা এবং ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বিয়োজক হিসেবে কাজ করে। এদের খাদ্যগ্রহণ, শ্বসন, বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধির মতো জীবনক্রিয়া রয়েছে এবং পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে।

উত্তর

কলাম-A উপাদানগুলো মানব ভূগোলের আওতাভুক্ত অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বিকাশ, বিস্তার ও স্থানিক বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে অর্থনৈতিক ভূগোল। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের অর্থনৈতিক ত্রিয়াকলাপের পারস্পরিক সম্পর্কের বিচার-বিশ্লেষণ করে। সহজে বলা যায়, কোথায় কী উৎপন্ন হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে তা জানাই অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- কৃষিকাজ, পশুপালন, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজগুলো মানুষ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিচালনা করছে যা উদ্দীপকের উপাদানগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব কিছুই অর্থনৈতিক ভূগোল বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকে।

উত্তর

কলাম-B-এর মানুষ, মাটি, পানি ও বায়ু পরিবেশের উপাদান। তবে এগুলো একই শ্রেণির নয়। মানুষ জীব উপাদান; কারণ তার জীবন, বৃদ্ধি, শ্বসন ও বংশবৃদ্ধি আছে। অন্যদিকে মাটি, পানি ও বায়ু জড় বা অজীব উপাদান; এদের জীবনক্রিয়া নেই।

জীব ও জড় উপাদান পরস্পর নির্ভরশীল। মানুষ শ্বাসের জন্য বায়ু, পান করার জন্য পানি এবং খাদ্য উৎপাদনের জন্য মাটির ওপর নির্ভর করে। আবার মানুষের কর্মকাণ্ড এসব জড় উপাদানের গুণগত অবস্থাকে পরিবর্তন করে। তাই কলাম-B পরিবেশের জীব ও জড়—উভয় ধরনের উপাদানের সমন্বয় নির্দেশ করে।

৩. উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপকের ছবি
উত্তর গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বলে।
উত্তর বাংলাদেশের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির, যা উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়। প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গরম ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল, প্রচুর বৃষ্টিযুক্ত বর্ষাকাল এবং মৃদু শুষ্ক শীতকাল। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা শীত ও গ্রীষ্মে চরম পর্যায়ে সাধারণত যায় না।
উত্তর

মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত অঞ্চল বলতে বাংলাদেশের পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। এ অঞ্চলটির ভূমিরূপ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহকে বোঝানো হয়েছে। নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-

রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উত্তর

চিত্রে 'B' বলতে সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি এবং 'C' বলতে বরেন্দ্র ভূমিকে বোঝানো হয়েছে। উভয় অঞ্চলের ভূমিরূপ একরকম নয়। নিচে তা উপস্থাপন করা হলো-

'B' অর্থাৎ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে নদী বিধৌত পলি দ্বারা। বাংলাদেশের অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী জালের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। সমতল ভূমির ওপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার সময় বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে 'C' অর্থাৎ বরেন্দ্রভূমি প্লাইস্টোসিনকালে অর্থাৎ আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্রভূমি দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত। প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। সুতরাং উপরে উল্লিখিত দুটি ভূমিরূপ পর্যবেক্ষণ করে বলা যায় যে, 'C' বরেন্দ্রভূমি বহু পুরাতন। এর মৃত্তিকার গঠনশৈলী ভিন্ন। অন্যদিকে 'B' প্লাবন সমভূমি সাম্প্রতিককালে নদীবিধৌত পলি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এর মৃত্তিকা সাধারণত পলি, দোঁআশ ও কর্দম প্রকৃতির। তবে এই মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত।